চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ০৫:২০:৩৯
চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বর্ষপঞ্জি বা হিজরি ক্যালেন্ডার একটি চন্দ্রনির্ভর সময় গণনা পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি মাসের শুরু ও সমাপ্তি নির্ধারিত হয় আকাশে নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসমূহ—বিশেষ করে রমজানের রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো বড় ধর্মীয় আয়োজন—সবকিছুই এই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

এই কারণেই ইসলাম ধর্মে চাঁদ দেখার মুহূর্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেও নতুন চাঁদ দেখা গেলে আল্লাহর কাছে কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ঈমানের জন্য বিশেষ দোয়া করতেন। এটি কেবল একটি আচার নয়, বরং মানবজীবনের সার্বিক শান্তি ও সাফল্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।

নতুন চাঁদ দেখার সময় তিনি যে দোয়া পাঠ করতেন, তা হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে—

আরবি দোয়া:اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ

উচ্চারণ:আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ:হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের জন্য উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের কল্যাণসহ। (হে চাঁদ) আমার এবং তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহাবি তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) যখনই নতুন চাঁদ দেখতেন, তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন। এই দোয়ার মধ্যে শুধু আধ্যাত্মিক আবেদনই নয়, বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের শান্তি, নিরাপত্তা এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য একটি গভীর বার্তা নিহিত রয়েছে।


আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখুন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১০:৩৩:৫১
আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখুন বিস্তারিত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য প্রতিদিনের নামাজের সময় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিটি ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। এ কারণে প্রতিদিনের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নামাজের সময়সূচিতেও সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৩ মিনিটে। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝামাঝি সময়ে এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসল্লিরা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ইবাদতের সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে শুরু হবে আসরের নামাজের সময়। ইসলামে আসরের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। অনেক হাদিসে সময়মতো আসরের নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে শুরু হবে মাগরিবের ওয়াক্ত। সূর্যাস্তের পরপরই এই নামাজ আদায় করতে হয়। তাই মাগরিবের সময় নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।

এরপর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে শুরু হবে এশার নামাজের সময়। দিনের শেষ ফরজ নামাজ হিসেবে এশা মুসল্লিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনেকেই এশার নামাজের পর অতিরিক্ত নফল ইবাদত ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় ব্যয় করেন।

আগামী দিনের প্রস্তুতির জন্য আগামী শুক্রবারের ফজরের সময়ও জানানো হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে।

ইসলামি গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে বর্ষাকাল চলায় দিনের দৈর্ঘ্য ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে সময়সূচিতে নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন। কারণ কয়েক মিনিটের ব্যবধানও নামাজের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম শুরু হওয়ায় ইবাদতের গুরুত্বও বেড়েছে। ইসলামে মহররমকে চারটি সম্মানিত ও পবিত্র মাসের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং রোজা পালনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।


আজ ১ মহররম, জেনে নিন আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১০:৩৭:১৭
আজ ১ মহররম, জেনে নিন আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন হিজরি বছরের প্রথম দিন আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬)। আজ ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৩ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে।

এদিকে, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে। রাত ৮টা ১৭ মিনিটে শুরু হবে ইশার নামাজের সময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১০ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। একই দিনে সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহররম ইসলামের চারটি সম্মানিত ও পবিত্র মাসের অন্যতম। নতুন হিজরি বছরের শুরুতে মুসল্লিরা বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া, জিকির এবং আত্মশুদ্ধিমূলক আমলের প্রতি গুরুত্ব দিতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভাগীয় শহরগুলোতে ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামান্য সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তাই নিজ নিজ এলাকার মুসল্লিদের নির্ধারিত সময় সমন্বয় করে নামাজ আদায় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নামাজের সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা দৈনন্দিন ইবাদতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন হিজরি বছরের শুরুতে সময়মতো নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে।


মহররমের গুরুত্ব কী? জানুন আশুরার ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১০:৪৭:১২
মহররমের গুরুত্ব কী? জানুন আশুরার ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় একটি মাস। আল্লাহ তাআলা নিজেই এই মাসকে বিশেষ সম্মানের মর্যাদা দিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাস, কোরআনের নির্দেশনা এবং হাদিসের বর্ণনায় মহররম মাসের গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বছরে মোট বারো মাসের মধ্যে চারটি মাসকে বিশেষভাবে পবিত্র বা সম্মানিত মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মহররম সেই চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম। মুসলমানদের জন্য এই মাস ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

পবিত্র কোরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই মাসের সংখ্যা বারোটি এবং এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষভাবে সম্মানিত ও পবিত্র।

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এই পবিত্র মাসগুলোতে গুনাহ থেকে বিরত থাকা, নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা এবং আত্মসংযম চর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ১০ মহররম, যা ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। ‘আশুরা’ শব্দটির অর্থ দশম। অর্থাৎ, মহররম মাসের দশম দিনকেই আশুরা বলা হয়।

হাদিসবিশারদ ও ইসলামী গবেষকদের মতে, আশুরার আগের দিন অর্থাৎ ৯ মহররমকে ‘তাসুয়া’ বলা হয়। ইসলামের ইতিহাসে এই দুটি দিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা মুসলমানদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। পরবর্তীতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা ঐচ্ছিক বা নফল ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত হয়, তবে এর ফজিলত অপরিসীম।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও তা পালন করতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি এই রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদের তা পালনের নির্দেশ দেন।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

তখন মহানবী (সা.) বলেন, “মুসা (আ.)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চেয়ে বেশি।” এরপর তিনি নিজেও রোজা পালন করেন এবং মুসলমানদের তা পালনের নির্দেশ দেন।

আশুরার রোজার অন্যতম বড় ফজিলত হলো, এটি পূর্ববর্তী এক বছরের ছোটখাটো গুনাহের কাফফারা হিসেবে বিবেচিত হয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনি আল্লাহর কাছে আশা করেন যে আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হবে।

তবে ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইহুদি ও নাসারাদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়িয়ে চলা। এ কারণে শুধুমাত্র ১০ মহররম নয়, বরং ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম একসঙ্গে রোজা রাখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, সাহাবিরা যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন যে ইহুদি ও খ্রিস্টানরাও আশুরার দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়, তখন তিনি বলেন, “আগামী বছর ইনশাআল্লাহ আমরা নবম দিনেও রোজা রাখব।”

তবে পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করেন। এরপর থেকেই মুসলিম উম্মাহ ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখাকে সুন্নত হিসেবে অনুসরণ করে আসছে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা শুধু রোজা পালনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মসংযম, তাকওয়া, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার মধ্যেও এর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।

তারা বলছেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে এই পবিত্র দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে মুসলমানদের উচিত বেশি বেশি ইবাদত করা, নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, দান-সদকা বৃদ্ধি করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আশুরার রোজাকে কোনো উৎসব বা লোকাচারের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা উচিত নয়। বরং হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই ইবাদত সম্পন্ন করা উচিত।

মুসলিম উম্মাহর জন্য এই দিনটি আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মূল্যবান সুযোগ। তাই যথাযথ নিয়ত ও আন্তরিকতার সঙ্গে আশুরার রোজা পালন করলে তা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে মহররম মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করার, আশুরার রোজা যথাযথভাবে পালনের এবং এই পবিত্র দিনের ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।


আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:৫৮:৩৫
আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত
ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি। প্রতিদিনের মতো রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সময়মতো নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে আগেভাগেই সময় জেনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত এবং একজন মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই ব্যস্ত কর্মজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্য কাজের ফাঁকেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত সময় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

আজ রাজধানী ঢাকায় জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৩ মিনিটে। এরপর বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে শুরু হবে আসরের নামাজের ওয়াক্ত। সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে শুরু হবে মাগরিবের নামাজ এবং রাত ৮টা ১৭ মিনিটে শুরু হবে এশার নামাজের সময়।

অন্যদিকে আগামীকাল বুধবারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে। তাই যারা তাহাজ্জুদ, ফজরের নামাজ ও সকালের ইবাদতের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একজন মানুষের আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। নিয়মিত ও সময়মতো নামাজ আদায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মোবাইল রিমাইন্ডার, আজানের অ্যাপ বা দৈনিক নামাজের সময়সূচি অনুসরণ করলে সময়মতো ইবাদত পালন করা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য আগাম সময় জেনে রাখা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, মুসল্লিদের দুপুর ১২টা ০৩ মিনিটে জোহর, বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে আসর, সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে মাগরিব এবং রাত ৮টা ১৭ মিনিটে এশার নামাজ আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী দিনের প্রস্তুতির জন্য আগামীকালের ফজরের সময় ভোর ৩টা ৪৬ মিনিট এবং সূর্যোদয়ের সময় সকাল ৫টা ১১ মিনিট মনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।


পবিত্র আশুরা কবে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:৩৯:১০
পবিত্র আশুরা কবে
ছবি: সংগৃহীত

হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র আশুরার তারিখ নির্ধারণে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেই নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাসের সূচনা এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন পবিত্র আশুরার তারিখ চূড়ান্ত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা দ্রুত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে অবহিত করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত কয়েকটি টেলিফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কেও বিষয়টি জানানো যাবে।

চাঁদ দেখার তথ্য জানানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন তিনটি হটলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে। নম্বরগুলো হলো—০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭।

মহররম ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সময়। এই মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবে পালিত হয়। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি গভীর ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ ইবাদত, দোয়া, রোজা ও ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।


আজ ১৫ জুন নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:০৬:০৬
আজ ১৫ জুন নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন এক নজরে
ছবি: সংগৃহীত

নতুন সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার (১৫ জুন ২০২৬)। দিনটি বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৮ জিলহজ ১৪৪৭। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দিনের শুরুতেই নামাজের নির্ধারিত সময় জেনে রাখা প্রয়োজন।

ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সময় অনুসারে সোমবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। মৌসুমি পরিবর্তন ও সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী প্রতিদিন নামাজের সময় কয়েক মিনিট করে পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আজ ভোরে ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৩টা ৪৩ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় নামাজ জোহরের সময় দুপুর ১২টা ০০ মিনিট।

বিকেলের আসরের নামাজ আদায় করতে হবে বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।

দিনের শেষ ফরজ নামাজ এশার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ৮টা ১৪ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়; বরং এটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও সময়মতো নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং ভ্রমণকারীদের আগেভাগে নামাজের সময় জেনে পরিকল্পনা করে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) ঢাকার নামাজের সময়সূচি

ফজর: সকাল ৩:৪৩ মিনিট

জোহর: দুপুর ১২:০০ মিনিট

আসর: বিকেল ৪:৩৯ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬:৫০ মিনিট

এশা: রাত ৮:১৪ মিনিট

উল্লেখ্য, স্থানভেদে নামাজের সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য হতে পারে। তাই ঢাকা মহানগরীর বাইরে অবস্থানকারীদের নিজ নিজ এলাকার নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১২ ১০:৪৭:৪৬
শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। আর শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এদিন সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।

ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। তাই ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত জীবন কিংবা দৈনন্দিন নানা দায়িত্বের মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে জুমার দিনে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং দরুদ শরিফ পাঠের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আজ শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি। জুমার দিনের ইবাদতের প্রস্তুতি নিতে অনেকেই দিনের শুরুতেই নামাজের সময়সূচি জেনে নিতে চান। মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজকের গুরুত্বপূর্ণ নামাজের সময় নিচে তুলে ধরা হলো।

আজ রাজধানী ঢাকায় জুমার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা ০২ মিনিটে। জুমার খুতবা ও জামাতের সময় মসজিদভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে এই সময় থেকে।

বিকেলের আসরের নামাজের সময় হবে ৪টা ৩৮ মিনিট। দিনের শেষ ভাগে আল্লাহর স্মরণে এই নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামী শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।

সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৫০ মিনিটে। রোজকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে স্বল্প সময়ের ওয়াক্ত হওয়ায় মুসল্লিদের সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাতের এশার নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ৮টা ১৬ মিনিটে। অনেক মুসল্লি এশার নামাজের সঙ্গে বিতরের নামাজও আদায় করে থাকেন।

অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার (১৩ জুন) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। একই দিনে সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১০ মিনিটে।

আজকের সূর্যাস্তের সময় ধরা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট। সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে এবং মুসল্লিরা জামাতে অংশ নেবেন।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, জুমার দিনে আগে থেকেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এছাড়া এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।


আজকের নামাজের সময়সূচি: ফজর থেকে এশা একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৮:৩০:০৪
আজকের নামাজের সময়সূচি: ফজর থেকে এশা একনজরে
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো সালাত বা নামাজ। একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে নামাজ শুধু ইবাদতই নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার সময়মতো নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ। তাই ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত জীবন কিংবা পার্থিব নানা দায়িত্বের মাঝেও ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ।

আজ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৪ জিলহজ ১৪৪৭। দিনব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার জন্য আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। দুপুর ১২টা ২ মিনিটে জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করবে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে। রাত ৮টা ১৫ মিনিটে এশার নামাজের সময় শুরু হবে।

আজ সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে। ইসলামী শরিয়তে নামাজের সময় নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও মুসল্লিদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান এবং দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে নামাজের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই ঢাকার সময়সূচির সঙ্গে সামান্য সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মুসল্লিরা নিজ নিজ এলাকার নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের মুসল্লিদের জন্য ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগের জন্য ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শুধু নামাজ আদায় করাই নয়, বরং প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়া অধিক ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও এশার জামাতে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি ফজর ও এশার নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে উপস্থিত হতো।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


একজন নারী কি একসঙ্গে দুই স্বামী রাখতে পারেন? জানুন ইসলামের নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ০৮:২৩:৪৮
একজন নারী কি একসঙ্গে দুই স্বামী রাখতে পারেন? জানুন ইসলামের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী শরিয়তে বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি, যার মাধ্যমে পরিবার, বংশধারা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে বিবাহ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিধান কোরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন নারী একই সময়ে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারেন না। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন সম্পর্ক বৈধ নয় এবং এটি ইসলামী পারিবারিক বিধানের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে বিবাহের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আইনবিদরা এ আয়াত ও সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ ব্যাখ্যার আলোকে একমত যে, একজন বিবাহিত নারী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তার পূর্ববর্তী বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই বিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো বংশপরিচয়ের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সময়ে একাধিক স্বামী থাকলে সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যা পরিবার, উত্তরাধিকার এবং সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইসলাম বংশধারা সংরক্ষণকে মানবসমাজের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে।

এছাড়া পারিবারিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা, উত্তরাধিকার বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও এ বিধানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী গবেষকরা। ইসলামে পরিবারকে সমাজের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়, তাই পরিবারকেন্দ্রিক আইনগুলোও অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসলামে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষকে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও তা কঠোর ন্যায়বিচার, দায়িত্ব পালন এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে একজন নারীর একাধিক স্বামী গ্রহণের কোনো বিধান ইসলামী শরিয়তে নেই।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিবাহ, তালাক এবং পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনির্ভরযোগ্য সূত্রের পরিবর্তে কোরআন, হাদিস এবং স্বীকৃত ইসলামী আলেমদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিষয়গুলো জানা উচিত।

ইসলামী শিক্ষার মূল লক্ষ্য পরিবার, সমাজ ও মানবিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রেক্ষাপটে বিবাহসংক্রান্ত বিধানগুলোও মুসলিম সমাজে স্থিতিশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং বংশপরিচয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে।

পাঠকের মতামত: