ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:১০:০০
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক অস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বহুস্তরবিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দ্রুত পুনরায় সরবরাহ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আশিক/২০২৬/২৩৪৩


মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশ খালি করার পরামর্শ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৫:০৭:২৯
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার আশপাশ খালি করার পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক কড়া সতর্কবার্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চল থেকে তাদের শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কারখানা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আমেরিকান বিনিয়োগ বা অংশীদারত্ব রয়েছে, সেসব স্থাপনার আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সংঘাতের ফলে যেন সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে কারণেই আগাম এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটার পরই তেহরান এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলার মধ্যে কয়েকটি অসামরিক কারখানায় চালানো হয়েছে এবং এতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলোর জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি ইরানের জ্বালানি খাত বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আইআরজিসির সাম্প্রতিক এই সতর্কবার্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, ইরান এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বরং আমেরিকান বিনিয়োগ রয়েছে এমন বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনাও হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন


মার্কিন সামরিক বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিবে না সুইজারল্যান্ড

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৪:৫৬:১৭
মার্কিন সামরিক বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিবে না সুইজারল্যান্ড

ইউরোপের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের কিছু আকাশপথ ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও সরকারি বিমানের মোট পাঁচটি উড্ডয়ন অনুরোধ পর্যালোচনা করে এর মধ্যে দুটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তিনটি অনুমোদন দিয়েছে।

সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশটির কঠোর নিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে। সুইস সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান সশস্ত্র সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সামরিক উদ্দেশ্যে যুক্ত কোনো উড্ডয়ন তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে না।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা বিষয়ক আইন অনুযায়ী সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে সামরিক সহায়তা প্রদান বা যুদ্ধসংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করা থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক। তাই সংঘাতের সঙ্গে সামরিকভাবে সংশ্লিষ্ট উড্ডয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তবে মানবিক বা চিকিৎসা সহায়তা সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন আহত ব্যক্তিদের পরিবহন বা সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কহীন আকাশপথ ব্যবহারের আবেদন এলে তা অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সুইস সরকার।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের কিছু দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনার সময় সুইজারল্যান্ডের এই অবস্থান তাদের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতার নীতির ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে।


‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ০৪:৫০:১৯
‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এই অভিযানকে তাদের ‘৫০তম বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এতে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, এই হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ও ফুজাইরা ঘাঁটি, বাহরাইনের জুফায়ার ঘাঁটি ও মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতের আলী সালেম ঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে যে হামলার সময় তারা এই অঞ্চলে স্থাপিত কিছু প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানকারী রাডার ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাদের মতে, এই রাডারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছিল এবং আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

তবে এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা সামরিক প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই হামলার দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

-রাফসান


অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ভয়াবহ তণ্ডব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:৩৩:২৯
অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ভয়াবহ তণ্ডব
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র নৌ শাখা। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ৪৯তম পর্যায় হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিমান ও হেলিকপ্টার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসির তথ্যমতে, হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাহাফরা বিমান ঘাঁটি, যেখানে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, কন্ট্রোল টাওয়ার এবং বিমান বিধ্বংসী হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটির আগাম সতর্কবার্তা প্রদানকারী রাডার এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কেও আঘাত হানা হয়েছে। কুয়েতের আল-উদেইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে হামলার ফলে সেখানকার সামরিক সরঞ্জামের ডিপো এবং হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই অভিযানের সাফল্যের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এই হামলার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথা ঘোষণা করেছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, শত্রু রাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না; অন্যথায় সেগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: ডব্লিএএনএ


ইসরায়েলকে ১ সপ্তাহের সময়সীমা দিল যুক্তরাষ্ট্র: বন্ধ হচ্ছে কি ইরান যুদ্ধ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:১৮:৫৩
ইসরায়েলকে ১ সপ্তাহের সময়সীমা দিল যুক্তরাষ্ট্র: বন্ধ হচ্ছে কি ইরান যুদ্ধ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলকে বড় ধরনের আল্টিমেটাম দিল বাইডেন প্রশাসন। একটি প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত বন্ধ করতে তেল আবিবকে মাত্র এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন মনে করছে অদূর ভবিষ্যতে তেহরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কারণ, তেমন কিছু ঘটাতে হলে হয় সরাসরি স্থলপথে সামরিক অভিযান চালাতে হবে, নয়তো দেশজুড়ে বিশাল গণঅভ্যুত্থান প্রয়োজন—যার কোনো লক্ষণই বর্তমানে ইরানে দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রমতে, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযানে ‘বিশাল সাফল্য’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র মূলত তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে। এর আগে বিখ্যাত সাময়িকী ‘পলিটিকো’ জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত শুরু করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে খুব একটা গভীরভাবে ভাবেনি। এর চরম খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে; যুক্তরাষ্ট্রে তেলের উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও মাত্র দুই সপ্তাহে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতির এই ধাক্কা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ’ স্লোগানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বাজারের অস্থিরতা কমাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার কৌশলগত মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের নানা আশ্বাস সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা এখনো আশ্বস্ত হতে পারছেন না, যা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর


মহা-উত্তেজনার মাঝে বড় ঘোষণা: ইরানের দুর্দিনে পাশে দাঁড়াল পরাশক্তি চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৭:১৯:৫৬
মহা-উত্তেজনার মাঝে বড় ঘোষণা: ইরানের দুর্দিনে পাশে দাঁড়াল পরাশক্তি চীন
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে ইরানের প্রতি সরাসরি সংহতি প্রকাশ করেছে চীন। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে দেশটিকে ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার (১৩ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে এই সহায়তার কথা নিশ্চিত করেন।

চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এবং আহতদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সব পক্ষকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান। বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই সংকটে দেশটির জনগণের পাশে থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী নিহত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনিসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে চীনের এই আর্থিক ও নৈতিক সমর্থনকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: চ্যানেলস


যখন ভেতর থেকে অনুভব করব, যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় মন্তব্য!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৬:৪৮:০৬
যখন ভেতর থেকে অনুভব করব, যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় মন্তব্য!
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে এবার এক রহস্যময় এবং চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে— সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা রূপরেখা না দিয়ে বলেন, ‘যখন আমি এটি আমার ভেতর থেকে অনুভব করব (When I feel it in my gut)।’

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ট্রাম্পের কাছে চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি এই উত্তর দেন। কোনো দেশের সাথে যুদ্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন ব্যক্তিগত ‘অনুভূতির’ ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের মতো একটি জটিল বিষয়কে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব খেয়ালখুশি বা ইনটুইশন (সহজাত বোধ)-এর ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত ১৫ দিন ধরে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা এই বিধ্বংসী যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এমন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই অস্পষ্ট মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

/আশিক


বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:১৮:৫৯
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হানা: ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন গ্রিন জোনে যুদ্ধের আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের কৌশলগত বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫টি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিফুয়েলিং বিমানগুলো যুদ্ধবিমানের দীর্ঘপাল্লার অপারেশনের জন্য অপরিহার্য, তাই এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আজ শনিবার সকালেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এএফপি এবং আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, হামলার পরপরই দূতাবাস চত্বরের হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডের কাছ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এই হামলায় দূতাবাসের সি-র‍্যাম (C-RAM) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে হামলার পর পুরো বাগদাদজুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনা ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরান আগেই হুশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের স্থাপনায় আঘাত করা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানে আক্রমণ চালাবে।

সোর্স: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


বড় সংকটে ইরান: সর্বোচ্চ নেতার ছবি দিয়ে পুরস্কারের ঘোষণা মার্কিন প্রশাসনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:০১:২১
বড় সংকটে ইরান: সর্বোচ্চ নেতার ছবি দিয়ে পুরস্কারের ঘোষণা মার্কিন প্রশাসনের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির মাথার দাম নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম’-এর পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণাটি দেওয়া হয়। মোজতবা খামেনির পাশাপাশি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্যও বড় অঙ্কের পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস’ এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে। তাদের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনিসহ আইআরজিসির উচ্চপদস্থ নেতারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন এবং সরাসরি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। মার্কিন প্রশাসন এই নেতাদের বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

পুরস্কারের ঘোষণা সম্বলিত সেই বিবৃতিতে মোজতবা খামেনিসহ অভিযুক্ত নেতাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, এই নেতাদের অবস্থান বা তাঁদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনে নিরাপদ পুনর্বাসনের সুযোগও দেওয়া হবে। মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন আগুনের স্ফুলিঙ্গ যোগ করল।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, এনডিটিভি

পাঠকের মতামত: