ঈদের টিকিটে প্রতারণা এড়াতে জরুরি নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৩ ১১:৫০:৫৭
ঈদের টিকিটে প্রতারণা এড়াতে জরুরি নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এলে দেশের বড় শহরগুলোতে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়। রাজধানী ঢাকা কিংবা অন্যান্য মহানগরে কর্মসূত্রে বা শিক্ষার কারণে থাকা লাখো মানুষ পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেন।

তবে এই আনন্দঘন যাত্রার শুরুতেই অনেক সময় টিকিট সংগ্রহ নিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। প্রতি বছরই দেখা যায়, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন ও বাসের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে অসাধু দালাল চক্র।

অনেক যাত্রী অনলাইনে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন না। আবার বাস কাউন্টারের আশপাশে দালালদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে টিকিট কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ উপলক্ষে টিকিটের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতারক চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই টিকিট কেনার সময় সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ঢ়ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অথবা অনুমোদিত বিক্রয় কাউন্টার ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিট কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অনেক সময় একই টিকিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা বা ভুয়া টিকিট সরবরাহ করার মতো প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে।

টিকিট না পেয়ে অনেকেই অতিরিক্ত মূল্যে ব্ল্যাক মার্কেট থেকে টিকিট কিনে থাকেন। তবে এতে প্রতারণার সম্ভাবনা যেমন থাকে, তেমনি এটি আইনগতভাবেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্ল্যাক মার্কেটের মাধ্যমে টিকিট কেনাবেচা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঈদের সময় বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার এলাকাগুলোতে দালালদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। দ্রুত টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা অনেক সময় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরাসরি নির্ধারিত কাউন্টারের বিক্রয়কর্মীর কাছ থেকেই টিকিট সংগ্রহ করা সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

টিকিট সংগ্রহের পর যাত্রার তারিখ, সময়, আসন নম্বর এবং যানবাহনের তথ্য ঠিক আছে কি না তা ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

অনলাইনে টিকিট কিনলে এসএমএস বা ই-মেইলে পাঠানো তথ্যের সঙ্গে টিকিটের তথ্য মিলিয়ে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অনুমোদিত পরিবহন কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। কোনো কাউন্টার যদি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে পরিকল্পনা করে টিকিট সংগ্রহ করলে অনেক ধরনের ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে অপরিচিত উৎস থেকে টিকিট না কিনে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ব্যবহার করলে প্রতারণা থেকেও নিরাপদ থাকা যায়।

-রাফসান


ঐতিহাসিক গৌরবময় অর্জনের জন্য ক্রিকেটার, কোচ ও বিসিবিকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ২১:৩৪:০৬
ঐতিহাসিক গৌরবময় অর্জনের জন্য ক্রিকেটার, কোচ ও বিসিবিকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
ছবি : সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস রচনা করে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) রাতে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। এর আগে একই মাঠে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও দুর্দান্ত পারফর্ম করে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ে অজিদের বিপক্ষে সিরিজ নিজেদের করে নিলো চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় বাংলাদেশের সাফল্যের এই ঈর্ষণীয় ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই ঐতিহাসিক বিজয় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, দলগত ঐক্য, কঠোর শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে আগামী দিনে আরও বড় বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম সিরিজ জয়ের মহাগৌরবময় অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

/আশিক


২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ব্যাংকে টাকা রাখায় কমছে সাধারণ মানুষের করের বোঝা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৮:৩৯:৪৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ব্যাংকে টাকা রাখায় কমছে সাধারণ মানুষের করের বোঝা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেট। ব্যাংকে জমা রাখা টাকার ওপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) অব্যাহতির বিদ্যমান সীমা একলাফে আরও বাড়াচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে এখন থেকে যেকোনো একটি লোন বা ঋণ হিসাবের বিপরীতে বছরে বারবার নয়, বরং শুধুমাত্র একবারই আবগারি শুল্ক কাটার ঐতিহাসিক নতুন বিধান চালু করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই জনবান্ধব ও যুগান্তকারী ঘোষণা দেন।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "বর্তমানে ব্যাংকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতির (Balance) ওপর কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হয় না, অর্থাৎ এটি অব্যাহতি রয়েছে। দেশের মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সরাসরি আর্থিক স্বস্তি প্রদানের স্বার্থে এই অব্যাহতির সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করছি।" এর ফলে এখন থেকে ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রাখলে গ্রাহকদের কোনো আবগারি শুল্ক বা বাড়তি কর গুনতে হবে না।

ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের জন্য নিয়ম সহজ করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, "ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে এখন থেকে একটি লোন অ্যাকাউন্টের (Loan Account) বিপরীতে শুধুমাত্র একবারই আবগারি শুল্ক কর্তন করার নতুন আইনি বিধান প্রণয়নের প্রস্তাব করছি।" আগে বিভিন্ন ব্যাংক লোন হিসাবের বিপরীতে একাধিকবার বা ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে আবগারি শুল্ক কেটে রাখত, যা নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে এক ধরনের অসন্তোষ ছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ আমানতকারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং খরচ অনেকাংশে কমে আসবে, যা ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

/আশিক


বাজেটে মেগা ঘোষণা: নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৮:৩১:৫৫
বাজেটে মেগা ঘোষণা: নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতু
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে দেশের তিনটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের বিশাল মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরে ‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু’, ‘তৃতীয় মেঘনা সেতু’ এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশকালে এই যুগান্তকারী তথ্য নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুগুণ বাড়ানো, আঞ্চলিক ও জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশ্বমানে রূপান্তর এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি সর্বজনীন ও সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সম্পূর্ণ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার ও বড় ধরনের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মহাসড়কগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় মহাসড়কগুলোর টেকসই উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন যাতায়াত মাধ্যমের সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর আওতায় দেশে একটি শক্তিশালী ‘মাল্টিমোডাল হাব’ গড়ে তোলার মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে মোট ৯৪টি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে অকাল প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’-এর স্থগিত হয়ে যাওয়া মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমও নতুন করে পুনরায় পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

/আশিক


স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৮:২৩:৩৩
স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি সরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও কার্যকর করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশকালে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত একটি মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

নতুন অর্থবছরে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে সরকারি অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্প ও বিনিয়োগের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা। অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করে রাষ্ট্রীয় এই নতুন প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের টাকার সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বিশেষভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

/আশিক


আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৮:০১:৪২
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল 
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’-এর লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)। হাসপাতালটির এক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) বিপরীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় এই চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

এই লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি আদেশে বলা হয়েছে—গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের একটি বিশেষ ওয়ার্ডে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই লোমহর্ষক ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, সেন্ট্রাল অক্সিজেনের তীব্র স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাই ছিল সেই নিষ্পাপ শিশুদের মৃত্যুর মূল কারণ। এই গুরুতর অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল।

সরকারি আদেশে আরও বলা হয়, শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রথমে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও তারা অতিরিক্ত আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শোকজের জবাব জমা দেয়। কিন্তু আজ ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় তাদের দেওয়া সেই আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যাটি সম্পূর্ণ অসন্তোষজনক এবং দায়সারা বলে প্রমাণিত হয়।

এর ফলে প্রচলিত ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে আইনের একই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আদেশ জারির তারিখ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা আবেদন করার একটি শেষ আইনি সুযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে মারা যায়। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দীর্ঘ তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত চরম অব্যবস্থাপনা এবং ওই রাতে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক অকাট্য দিক উঠে আসে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, যে ওয়ার্ডটিতে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল, সেটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সংবেদনশীল রোগীদের রাখার জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না; সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল ও অনিয়মিত।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো—ঘটনার মূল সময়ে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং শিশুদের অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরও তাঁদের সময়মতো জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তাও ছিল না। মূলত হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আকস্মিক অক্সিজেন সংকট, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং চরম প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই এই অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

/আশিক


৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৩:১৭:৩৪
৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের আগে চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত হলো। বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম জাতীয় বাজেট, একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুরও প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বিশাল বাজেট কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলা করতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

বাজেট নথি অনুযায়ী, ঘাটতি অর্থায়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র, বন্ড এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে এমন একটি বড় বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ আগামী অর্থবছরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হবে।

এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্যও কিছু বিশেষ উদ্যোগ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আনুষ্ঠানিক সম্মতির মাধ্যমে এটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। পরবর্তীতে সংসদীয় আলোচনার পর বাজেট পাস হলে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

-রফিক


বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১১:০৪:৩২
বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রথম বাজেট হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় নতুন বাজেটের আকার প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই বৃহৎ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যয় ও আয়ের ব্যবধানের কারণে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণ, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছু স্বস্তির খবরও থাকতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যে কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা কিংবা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সব খাতে স্বস্তি মিলছে না। নির্মাণ খাতের জন্য নতুন বাজেট কিছুটা চাপের কারণ হতে পারে। আবাসন শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল এমএস রড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে রডের দাম বাড়বে এবং নতুন বাড়ি বা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে সরকার। সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে কিউআর কোড সংযোজন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি লিটার অ্যালকোহলের ওপর ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের সুপারিশ রয়েছে। ফলে মদের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।

আমদানি নির্ভর বিলাসী খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন করনীতি আসতে পারে। উচ্চমূল্যের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং নতুন করে ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে কাজুবাদাম আমদানির ওপর শুল্কও বড় ধরনের বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা একলাফে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার আলোচনা চলছে। সরকারের ধারণা, এতে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবেন এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। করছাড়, নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব সংস্কারের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে চায়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টাও অব্যাহত রাখবে।

-রাফসান


ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৯:৩৯:৪৯
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষার নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। দুপুর ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট শুধু দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটই নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলগত ভিত্তি তৈরির উদ্যোগও এতে প্রতিফলিত হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা সরকারের জন্য বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ধীরগতির মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে না। ফলে বাজেটে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাজস্ব আহরণেও রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে এই উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণ ছাড়া রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ২২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ খাত, ফলে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও এবারের বাজেট গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান ভাতা ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতা এবং বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করাও এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার। লাইসেন্স, অনুমোদন, নিবন্ধন ও করসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একটি একক অনলাইন সেবা কেন্দ্র থেকে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মতো আধুনিক সেবা চালুর প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে।

তবে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধও সরকারের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠছে। বাজেটে সম্ভাব্য ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ব্যাংকিং খাত, সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকেই ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিনিয়োগের স্থবিরতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, শিল্প খাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সব মিলিয়ে জটিল বাস্তবতায় এবারের বাজেট ঘোষণা হচ্ছে। ফলে সরকারের জন্য একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই লক্ষ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি মনে করেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে বাজেটের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ০৯:১৫:২৮
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কয়েক বছর ধরে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছিল। এখন সেই আলোচনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যেতে পারে চলতি মাসেই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু করা। এজন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রায় সব গ্রেডেই মূল বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি আনার সুপারিশ করা হয়েছে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করার চিন্তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

সরকারি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সবাই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কিছুটা লাঘব হতে পারে।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার চিন্তা রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে পেনশনভোগীদের অন্তর্ভুক্তি। প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলক কম পেনশন পান, তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ধারণায় সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং শিক্ষাখরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি এক ধাপেই কার্যকর করা প্রয়োজন। তাদের মতে, আংশিক বাস্তবায়ন করলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খুচরা বাজার, আবাসন, শিক্ষা ও সেবাখাতে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয়ভারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি হয়ে উঠবে।

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের আলোচনায় এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: