১২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৫:১০:১৫
১২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) লেনদেনে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের বাজারসারসংক্ষেপ অনুযায়ী অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যা বাজারে ক্রয়চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩০৮টির দর বেড়েছে, ৩২টির দর কমেছে এবং ৫০টি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ক্যাটাগরিতে বড় উত্থান

বাজারের প্রধান কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত এ ক্যাটাগরিতে মোট ২০২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৩টির দর কমেছে এবং ৩৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় এই ক্যাটাগরিতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বি ক্যাটাগরিতেও ইতিবাচক প্রবণতা

বি ক্যাটাগরিতে মোট ৮০টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭২টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, মাত্র ৪টির দর কমেছে, এবং ৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। মধ্যম মানের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ফলে এই ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে।

জেড ক্যাটাগরিতে উত্থান

অন্যদিকে তুলনামূলক দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত জেড ক্যাটাগরিতেও দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৮টি কোম্পানির মধ্যে ৮১টির দর বেড়েছে, ১৫টির দর কমেছে এবং ১২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড বাজার

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও লেনদেন ইতিবাচক ছিল। মোট ৩৪টি ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে, ২১টি অপরিবর্তিত রয়েছে, এবং কোনো ফান্ডের দর কমেনি।

করপোরেট বন্ড খাতে ২টি সিকিউরিটির লেনদেন হয়েছে, যেগুলোর দাম অপরিবর্তিত ছিল। অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজে ১টি ইস্যুর দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারমূলধন

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৮টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৩ কোটি ২৫ লাখ ৪ হাজার ৮৫৪টি।

দিন শেষে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি।

বাজার মূলধনের দিক থেকেও পুঁজিবাজারের আকার উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ইকুইটির বাজারমূলধন প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূলধন প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা, এবং ঋণ সিকিউরিটিজসহ মোট বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

এদিন ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৫১টি ট্রেডে প্রায় ৬৯ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৪৪১ কোটি টাকার বেশি।

ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, উত্তরা ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, লাভেলো আইসক্রিম এবং পদ্মা অয়েল।

বিশেষ করে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে প্রায় ২১০ কোটি টাকার বড় ব্লক ট্রান্স্যাকশন হয়েছে, যা দিনের সবচেয়ে বড় লেনদেন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক, বীমা, ভোগ্যপণ্য এবং ওষুধ খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

-রাফসান


১১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৫:০০:১২
১১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিসংখ্যান নেতিবাচক বাজার প্রবণতারই ইঙ্গিত দিয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য, তবুও দরপতনের সংখ্যা দরবৃদ্ধিকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৫৮টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৮৯টির দর কমেছে এবং ৪৪টির মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার চাপই ছিল বেশি, যা সার্বিক বাজার মনোভাবকে নেতিবাচক করেছে।

দিনজুড়ে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ১২০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি ৫৯ লাখ শেয়ার ও ইউনিট। আর্থিক মূল্যমানের হিসাবে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও বাজারের বিস্তৃত অংশে বিক্রির চাপ বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। এই ক্যাটাগরিতে ১৯৭টি কোম্পানির মধ্যে ১০৩টির শেয়ারদর কমেছে, যেখানে বেড়েছে মাত্র ৭৭টির। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৮টি কোম্পানির দর কমেছে, বেড়েছে ৩২টির। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও দরপতনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বেশি।

লেনদেন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ১১ বিলিয়ন টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি বা সাধারণ শেয়ারের বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় বাজার মূলধনে কয়েক হাজার কোটি টাকার সংকোচন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বড় মূলধনী শেয়ারের ধারাবাহিক দরপতন বাজারকে চাপে ফেলছে। বিশেষ করে বেক্সিমকোসহ কয়েকটি আলোচিত কোম্পানির মূল্যহ্রাস সার্বিক বাজারের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং নির্বাচিত খাতে বিক্রির চাপও বাজারের নিম্নমুখী ধারা ত্বরান্বিত করছে।

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে ৫৯টি কোম্পানির শেয়ারে। মোট ১০১টি ব্লক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে। কোম্পানিটির প্রায় ১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া ডোমিনেজ স্টিল, ইস্টার্ন ব্যাংক, বিডি থাই ফুড, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস এবং কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন দেখা গেছে।

ব্লক মার্কেটে আলোচনায় ছিল আইপিডিসি, এপেক্স স্পিনিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, ডেল্টা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস। বিশেষ করে আইপিডিসি ও ডেল্টা জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষণীয় ছিল।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। এদিন ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৫টির দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র ৭টির। অপরদিকে করপোরেট বন্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল, যেখানে লেনদেন হওয়া দুটি বন্ডেরই মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিনে দরপতনকারী কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যদিও কিছু খাতভিত্তিক শেয়ারে ক্রয়চাপ রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে শক্তিশালী ইতিবাচক গতি এখনো তৈরি হয়নি।

তাদের মতে, আগামী সপ্তাহে বাজারের দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতিগত ঘোষণার ওপর। আপাতত ডিএসইতে বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা বাজারে খাতভিত্তিক বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

-রাফসান


১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৪:৫৫:৩০
১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি আলোচিত কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। লেনদেন শেষে প্রকাশিত শীর্ষ দরহ্রাসকারী বা লুজার তালিকায় সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়েছে বেক্সিমকো। পাশাপাশি খাদ্য, আর্থিক সেবা, বীমা এবং জ্বালানি খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

দিনের লেনদেন শেষে বেক্সিমকোর শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৮০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে কোম্পানিটির সমাপনী দর ছিল ৮৯ টাকা ২০ পয়সা। সাম্প্রতিক কয়েকটি সেশনে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে শেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ৩৯ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে। দিনের সর্বোচ্চ দর ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রির চাপের কারণে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসে দিন শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ২ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বল অবস্থান এবং সীমিত ক্রয়চাহিদা এ ধরনের শেয়ারগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স ও পিএলএফএসএল উভয় কোম্পানির শেয়ারদর ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ করে কমেছে। দুটি শেয়ারই দিন শেষে ১ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান করেছে। স্বল্পমূল্যের এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে।

তালিকার ষষ্ঠ ও সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ফাস ফাইন্যান্স এবং আইএলএফএসএল। উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ১ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছে। আর্থিক খাতের কয়েকটি দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে একযোগে দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জ্বালানি খাতের আলোচিত কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারও উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে ছিল। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ৮১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দিনজুড়ে উচ্চ অস্থিরতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রেতারাই বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করেন।

বীমা খাতের প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে ৬৫ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে। আগের কয়েকটি সেশনে মূল্যবৃদ্ধির পর এদিন শেয়ারটিতে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লুজার তালিকার দশম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিএনআইসিএল)। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ১০৫ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে। বীমা খাতের কিছু কোম্পানিতে ক্রয়চাপ থাকলেও বিএনআইসিএলের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

-রাফসান


১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১১ ১৪:৪৯:৪৩
১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে উৎপাদন, আর্থিক সেবা, বীমা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লেনদেন শেষে প্রকাশিত দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ।

বাজার তথ্য অনুযায়ী, বিডি থাইয়ের শেয়ারদর একদিনে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৬ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে। আগের কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৫ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে ক্রেতাদের শক্তিশালী উপস্থিতি এ শেয়ারকে প্রায় সার্কিট ব্রেকারের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ২৩ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক খাতের কিছু শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা আইপিডিসির দরবৃদ্ধিতেও প্রতিফলিত হয়েছে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফেকডিল নিটিং অ্যান্ড ডাইং। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছেছে। টেক্সটাইল খাতের এ কোম্পানির শেয়ারে ধারাবাহিক চাহিদা বাজারে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

বীমা খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। ডেল্টা জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (ডিজিআইসি) ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন বাজার বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

পঞ্চম স্থানে থাকা সাপোর্ট লজিস্টিকসের শেয়ারদর বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। কোম্পানিটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৮০ পয়সা। পরিবহন ও লজিস্টিকস সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা গেছে এ শেয়ারের লেনদেনে।

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে টিলিল ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫৬ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছেছে। উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম আলোচিত শেয়ার হিসেবে দিনটি শেষ করেছে।

আর্থিক খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফাইন্যান্সও দিন শেষে ভালো অবস্থানে ছিল। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে গেইনার তালিকায় সপ্তম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কম্পিউটারস ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ১৪২ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় সম্ভাবনার কারণে এ খাতের শেয়ারগুলোতে আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

নবম স্থানে রয়েছে জীবন বীমা খাতের পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৬৪ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। বীমা খাতের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এই উত্থানকে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাক সিরামিক ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ দশের তালিকা সম্পন্ন করেছে। সিরামিক ও নির্মাণসামগ্রী খাতের এ কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ২৮ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে। অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতের সম্ভাব্য সম্প্রসারণের সঙ্গে কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধিকে অনেকেই সম্পর্কিত হিসেবে দেখছেন।

-রাফসান


১০ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৬:২৬:০৮
১০ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বাজারজুড়ে কিছুটা সতর্কতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের তুলনায় পতনশীল কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবারের লেনদেন শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটদর বৃদ্ধি পেলেও ১৭৮টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টির দাম। ফলে সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশেষ করে বাজারের প্রধান ‘এ’ ক্যাটাগরিতে বিক্রিচাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। এই ক্যাটাগরির ১৯৬টি কোম্পানির মধ্যে ১০৪টির দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৭০টির। বড় মূলধনী এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক বেশি গ্রহণযোগ্য কোম্পানিগুলোর দরপতন বাজারের সামগ্রিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

‘বি’ ক্যাটাগরিতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এই ক্যাটাগরির ৭৫টি কোম্পানির মধ্যে ৩৮টির শেয়ারদর কমেছে, যেখানে বেড়েছে ৩০টির। অপরদিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯টির দর বৃদ্ধি পেলেও ৩৬টির দর কমেছে এবং ৩৫টি প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত অবস্থায় লেনদেন শেষ করেছে।

দিনজুড়ে মোট ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে প্রায় ৩৯ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১০ কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারমূলধনে। দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকায়। আগের দিনের তুলনায় বাজারমূলধন কমেছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। বিশেষ করে ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজারমূলধন কমে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি কার্যদিবসে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি হওয়া অনেক শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ার পথে হাঁটছেন। এর ফলে বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা এবং কিছু বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারের সূচক ও মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে সামগ্রিক বাজার দুর্বল থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মোট ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২১টির দর বেড়েছে। মাত্র ২টির দর কমেছে এবং ১১টি অপরিবর্তিত ছিল। এটি ইঙ্গিত করে যে, ঝুঁকি তুলনামূলক কম হওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী এখন মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে ঝুঁকছেন।

করপোরেট বন্ড খাতেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। চারটি করপোরেট বন্ডের মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে এবং একটির দর অপরিবর্তিত ছিল। একইভাবে সরকারি সিকিউরিটিজ বা জি-সেক খাতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে ব্লক মার্কেটে দিনভর বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। মোট ৫৯টি কোম্পানির ১৩৪ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি শেয়ার ব্লক মার্কেটে হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৬৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা।

ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে। কোম্পানিটির প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের ৬৬ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫০ কোটি টাকা, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের ৪৫ কোটি টাকা এবং নর্থার্ন ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ৩৭ কোটি টাকার শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে।

একই সঙ্গে বিডি থাই ফুডস, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাসিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, অ্যাপেক্স স্পিনিং এবং গিকিউ বলপেনের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সাম্প্রতিক উত্থানের পর এটি একটি স্বাভাবিক বাজার সংশোধন। অনেক কোম্পানির মৌলভিত্তি এখনও শক্তিশালী রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য সেগুলো আকর্ষণীয় অবস্থানে আছে।

তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মূল্য ওঠানামার কারণে আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, মুনাফা প্রবৃদ্ধি, লভ্যাংশ ইতিহাস এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ দীর্ঘমেয়াদে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিই বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্য সৃষ্টি করে থাকে।

বাজারে বর্তমানে যে সংশোধনমূলক ধারা দেখা যাচ্ছে, তা কতদিন স্থায়ী হবে, সেটি অনেকাংশে নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের বাজার-সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করলে আবারও নির্বাচিত শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

-রাফসান


১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৪:৫২:১৬
১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে কয়েকটি আলোচিত কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। দিনের শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের একাধিক শেয়ার বিক্রিচাপের মুখে পড়ে শীর্ষ লুজারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে বেক্সিমকো এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন বাজারে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে ৮৯ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে। লেনদেন চলাকালে শেয়ারটির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য একই পর্যায়ে অবস্থান করায় বাজারে শক্তিশালী বিক্রিচাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারদরও প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। আগের দিনের ২৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে নেমে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। ব্যাংক খাতের এই বড় প্রতিষ্ঠানের দরপতন পুরো খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সতর্কতা তৈরি করেছে।

আর্থিক খাতের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (PLFSL), ফার্স্ট লিজ ফাইন্যান্স (FASFIN) এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ILFSL)-এর শেয়ারদরে। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ৬ থেকে প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মৌলভিত্তিক দুর্বলতা ও বিনিয়োগকারীদের সীমিত আস্থা এই দরপতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

বীমা খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ৭৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমেছে। একইভাবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (BNICL) এবং কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। বীমা খাতের কয়েকটি শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই সংশোধনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

শিল্প খাতের জিয়াল বাংলা সুগার মিলসও (ZEALBANGLA) শীর্ষ লুজারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৪ শতাংশ কমে ১৪৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে এসেছে। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রাফসান


১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১০ ১৪:৪৭:০৬
১০ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের মাঝামাঝি লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। বুধবার (১০ জুন) লেনদেন শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাজারের শীর্ষ গেইনারের তালিকায় উঠে এসেছে বিভিন্ন খাতের কোম্পানি, যেখানে উৎপাদন, বীমা, খাদ্য ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

দিনের সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হয়েছে বিডি থাইয়ের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১৫ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এই উত্থান দেখা গেছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৩ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের আরও কয়েকটি ইউনিটের দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস। কোম্পানিটির শেয়ারদর একদিনে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ৩৬৪ টাকা ১০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। টেক্সটাইল খাতের এই কোম্পানির শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন এবং ক্রয়চাপ বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড উভয়ই ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১ এর ইউনিটদরও ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

শিল্প খাতের মধ্যে আরএকে সিরামিকস উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ২৭ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছেছে। নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশা এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতের আরডি ফুডের শেয়ারদরও ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে বীমা খাতের পিপলস ইন্স্যুরেন্স এবং বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের সাউথ এশিয়া পোর্টস লিমিটেড (SAPORTL) শীর্ষ গেইনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং সাউথ এশিয়া পোর্টের শেয়ারদর ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচিত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কম মূল্যমানের শেয়ার, বীমা কোম্পানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে ক্রয়চাপ দেখা যাচ্ছে। ফলে বাজারে লেনদেনের গতি এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

-রাফসান


৯ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৫:০৩:২৮
৯ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে। দিনশেষে ৩৯৭টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নিলেও এর মধ্যে ২৪৬টির দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১০০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দাম।

বাজারের সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরির ২০৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৩৩টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ৪৭টি কোম্পানির দর কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল। একইভাবে বি ক্যাটাগরিতেও শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৭৫টি কোম্পানির মধ্যে ৬০টির দাম বেড়েছে।

জেড ক্যাটাগরিতেও ক্রয়চাপ তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ছিল। এ শ্রেণির ১১৯টি কোম্পানির মধ্যে ৫৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, যদিও ৪০টির দর কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৩০৮টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯ কোটি ১ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধনেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ২২০ কোটি টাকা।

এদিন ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা। মোট ৬২টি কোম্পানির শেয়ারে ব্লক মার্কেটে প্রায় ৬১৭ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ ব্লক লেনদেন হয়েছে এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারে, যেখানে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা এবং বেক্সিমকোতে প্রায় ৮০ কোটি টাকার ব্লক লেনদেন হয়েছে।

বীমা খাত দিনভর বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল। সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, পায়োনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ও বিভিন্ন সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা গেছে। এর ফলে খাতটি বাজারের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে উৎপাদন, টেক্সটাইল ও শিল্প খাতের কয়েকটি কোম্পানিও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। এপেক্স স্পিনিং, সামাটা লেদার, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়ান পোর্ট এবং কয়েকটি মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বীমা, উৎপাদন ও নির্বাচিত শিল্প খাতের শেয়ারে ধারাবাহিক আগ্রহ বাজারের সামগ্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে স্পষ্ট হয়েছে, বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বিক্রেতাদের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিএসই আবারও একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক দিনের সাক্ষী হয়েছে।

-রাফসান


৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৪:৫৯:১১
৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে বেশ কয়েকটি বহুল আলোচিত কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের কয়েকটি শেয়ার বিক্রির চাপে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের মুখে পড়ে। দিনের লেনদেন শেষে শীর্ষ লুজার তালিকার প্রথম দুটি অবস্থান দখল করে নেয় দেশের অন্যতম আলোচিত কোম্পানি বেক্সিমকো এবং ইসলামী ব্যাংক।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বেক্সিমকো। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে ৯৯ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ১১০ টাকা ১০ পয়সা। একদিনে প্রায় ১১ টাকার এই পতন বাজারজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ২৯ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের ৩২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে এই পতন ব্যাংক খাতে বিক্রির চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ২ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে। একই সময়ে আর্থিক খাতের দুটি প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ফাইন্যান্স এবং পিএলএফএসএল উভয়েই ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ করে মূল্য হারিয়েছে।

ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারও বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপে পড়ে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে একযোগে পতন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ক্যাপিএমবিডিবিএলএমএফের ইউনিটদর ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ১০ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আগের দিন শীর্ষ গেইনারদের মধ্যে থাকা ক্রাউন সিমেন্ট মঙ্গলবার সংশোধনের মুখে পড়ে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারদর ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৪১ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে প্রাইম টেক্সটাইলও ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ দর হারিয়ে শীর্ষ লুজার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক কার্যদিবসে কিছু শেয়ারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়ে দরপতন দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু উচ্চমূল্যের শেয়ারে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাজারে স্বাভাবিক উত্থান-পতনের অংশ হিসেবেই এ ধরনের সংশোধন দেখা যায়। তবে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি মূল্য পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি, লভ্যাংশ ইতিহাস এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থান বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।

-রাফসান


৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৪:৫৪:৫৫
৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে বেশ কয়েকটি বীমা, টেক্সটাইল ও শিল্প খাতভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজারজুড়ে নির্বাচিত কিছু শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপের কারণে শীর্ষ গেইনার তালিকায় নতুন কিছু নাম উঠে এসেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে শীর্ষ গেইনারের অবস্থান দখল করে নেয় পিপলস ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে ৫৮ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছায়। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ৫৩ টাকা ১০ পয়সা। মূল্যসীমার কাছাকাছি এই উত্থান বীমা খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৩৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়ায়। একই খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে একযোগে ক্রয়চাপ দেখা যাওয়ায় বীমা খাত দিনভর আলোচনায় ছিল।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস। শেয়ারটির মূল্য ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৩৩৬ টাকা ৭০ পয়সায় উন্নীত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সটাইল খাতের কিছু কোম্পানির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

চতুর্থ স্থানে থাকা সাউথ এশিয়ান পোর্ট লিমিটেড (SAPORTL) এর শেয়ারদর ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫১ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে। অবকাঠামো ও লজিস্টিকস-সংশ্লিষ্ট এই কোম্পানির শেয়ারে দিনের বেশিরভাগ সময়ই শক্তিশালী ক্রয়চাপ ছিল।

এদিকে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪৫ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে গেইনার তালিকার শীর্ষ পাঁচে বীমা খাতের তিনটি কোম্পানি জায়গা করে নেয়, যা খাতটির প্রতি বাজারের ইতিবাচক মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

সামাটা লেদার কমপ্লেক্সের শেয়ারদর ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ১১৬ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছায়। চামড়া খাতের এই কোম্পানির শেয়ারে সাম্প্রতিক সময়ে লেনদেন ও আগ্রহ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তালিকার সপ্তম স্থানে থাকা তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। একইসঙ্গে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ৬৭ টাকা ৪০ পয়সায় উন্নীত হয়ে শীর্ষ গেইনার তালিকায় অষ্টম অবস্থান দখল করে।

নিটল ইন্স্যুরেন্স এবং সিভিও পেট্রোকেমিক্যালসও দিনের ইতিবাচক প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। নিটল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সায় এবং সিভিও পেট্রোকেমিক্যালসের শেয়ারদর ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ১৭১ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচিত খাতভিত্তিক শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বীমা, টেক্সটাইল ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে ধারাবাহিক ক্রয়চাপ বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: