সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রথম অধিবেশন ঘিরে বড় পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১১:৫৮:৫৭
সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রথম অধিবেশন ঘিরে বড় পরিকল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠেয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কৌশল নির্ধারণ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠনপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে এই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া সংসদের অন্যান্য কার্যপ্রণালী ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির জন্য এই বৈঠকটি তাদের সংসদীয় মেয়াদের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।

এর আগে গত ৯ মার্চ জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির আমন্ত্রণে তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ওই বৈঠকে মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. আবুল হাসনাতসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আগামীকাল বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহবানে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। আজকের সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে জানা যাবে কে বসছেন স্পিকারের মর্যাদাপূর্ণ চেয়ারে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনীত করছে। সব মিলিয়ে নতুন সংসদের প্রথম যাত্রাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা তথা সারা দেশে এক উৎসবমুখর এবং কৌতূহলপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

/আশিক


গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম সংসদ অধিবেশন: নতুন স্পিকার নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১১:৫২:০৩
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম সংসদ অধিবেশন: নতুন স্পিকার নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল
ছবি : সংগৃহীত

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তবে তার আগে আজ বুধবার বিকেলে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরকারি দলের (বিএনপি) সংসদীয় সভা। সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আজকের এই বৈঠকে স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সাধারণত সংখ্যাধিক্য থাকায় সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াত এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, তা আজ তাদের দলীয় বৈঠকে নির্ধারিত হবে।

বিএনপির দলীয় সূত্রমতে, স্পিকার পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির দুই অভিজ্ঞ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিএনপি চাইছে সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে এমন ব্যক্তিদের বসাতে যারা রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল ১২ মার্চ সকাল ১১টায় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রথম এই অধিবেশনটি দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর সঠিক সময়কাল নির্ধারিত হবে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে।

/আশিক


তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বনাম আর্থিক সংকট: কোন পথে হাঁটছে পে স্কেল?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১০:৩৯:৩৪
তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বনাম আর্থিক সংকট: কোন পথে হাঁটছে পে স্কেল?
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাস পেরোনোর আগেই শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জ্বালানি সংকট এবং ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ানো রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকার বর্তমানে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রস্তাবিত পে স্কেল রিভিউ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ইচ্ছা থাকলেও, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন এটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হতে পারে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে পিকেএসএফ ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বর্তমান ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও এবং সার্বিক আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ট্যাক্স রেভিনিউ পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে, তাই সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের নেতিবাচক প্রভাব বাস্তবায়নের পথকে জটিল করে তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের পে কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশ জমা দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে ড. ইউনূসের সরকার তা কার্যকর করে যেতে পারেনি। তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদনটিকে বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করে নির্বাচিত সরকারের ওপর দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে চাচ্ছে, তবে রাজস্ব ঘাটতি ও যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনে পে স্কেল রিভিউ করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে। নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমান যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন


একই ছকে দুই বলি! হাদির সঙ্গে ইউটিউবার কাফিকেও শেষ করতে চেয়েছিল বিপ্লব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ০৯:১৩:১৫
একই ছকে দুই বলি! হাদির সঙ্গে ইউটিউবার কাফিকেও শেষ করতে চেয়েছিল বিপ্লব
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লব। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি এক ফেসবুক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

জুলকারনাইন সায়ের জানান, রুবেল আহমেদ গত বছরের ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্ক হোটেলের একটি বহুল আলোচিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আত্মগোপনে থেকে ঢাকা-সহ বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাতে বছিলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

জামিনে বের হওয়ার পর গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাতে রুবেল আহমেদকে আবারও কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, কারণ তিনি ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হন।

এরপর ২২ জানুয়ারি আদালতে হাজির করে ৬ দিনের রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রুবেল। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর রুবেলের উপস্থিতিতেই বিপ্লব (নানকের পিএস) কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করে ছাত্রনেতা হাদি এবং ইউটিউবার কাফিকে হত্যার নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার কারণে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের দুজনকে ‘সরিয়ে দেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কামরুজ্জামান রুবেল এই কাজটির দায়িত্ব দেন ফয়সালকে, কারণ ফয়সাল কাজ খুঁজছিল এবং কামরুজ্জামানের কিছু পাওনা টাকাও সে দিচ্ছিল না।

জুলকারনাইন সায়ের তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, এই জবানবন্দি থেকে এটি নিশ্চিত যে আওয়ামী লীগ নেতা নানকের পিএস বিপ্লবের নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি বিপ্লবকে দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এই অর্থের যোগানদাতা কারা ছিল তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রুবেলের জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি ৩ নভেম্বরই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন এবং সে সময় জামিনে মুক্ত থাকলেও তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রদান করেননি। সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পোস্টের লিংকে ১৬৪ ধারায় দেওয়া রুবেলের জবানবন্দির কপি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লিংকও সংযুক্ত করেছেন।

/আশিক


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ২১:৫৮:২৭
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের মাধ্যমে আসা জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে জাতীয় সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে গেলে আগে সংসদে যেতে হবে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনবোধে নতুন করে শপথ নেওয়ার বিষয়টিও একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।'

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, 'যারা মনে করেন চক্রান্ত করে তাঁদের নির্বাচনে হারানো হয়েছে, তাঁদের সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখা নীতিগতভাবে সঠিক নয়। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং যারা এর সমালোচনা করেছিলেন, তাঁরাও নির্বাচনের পর এতে স্বাক্ষর করেছেন।'

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং উপরাষ্ট্রপতির পদের ক্ষেত্রেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলকে 'অধ্যাদেশ জারির সরকার' হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সেই সময়ে জারি করা ১০০টিরও বেশি অধ্যাদেশ নিয়ম অনুযায়ী উত্থাপন করা হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, 'আগে সংসদে আসুন, তারপর গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবং যতটুকু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, সেটুকুই বাস্তবায়ন করা হবে।' সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ২০:০০:০৭
খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের খাল পুনখনন কার্যক্রমে যান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে অধিক শ্রমনির্ভর পদ্ধতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে খাল খনন প্রকল্পে মেশিনের ব্যবহার কমিয়ে বেশি জনবল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল পুনখনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও কর্মসংস্থানমুখী করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে অনেক খাল দখল, ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দেয়। এসব সমস্যার সমাধানে খাল পুনখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় প্রস্তাব করা হয় যে, খাল খনন প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত যান্ত্রিক নির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো যেতে পারে। এতে একদিকে খাল পুনখনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় বলেন, খাল খনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প নয়; এটি দেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে প্রকল্পের সুফল আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।

সভায় আরও আলোচনা হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল ও জলপথ পুনরুদ্ধার করা গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি শহরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনেও এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় খাল ও জলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালের অনেকগুলোই ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে খাল পুনখনন কার্যক্রম এখন দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খাল পুনখনন কার্যক্রমে শ্রমনির্ভর পদ্ধতির সম্ভাব্য সুবিধা, ব্যয় কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

-রফিক


ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৪:০৬:১১
ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে নির্ধারিত সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, এই সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে এবং ভাড়া নৈরাজ্যের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের জেলা থেকে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন। তার মতে, শুধু ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকেই প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর বাইরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের সংখ্যা বিবেচনা করলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা তিন থেকে চার কোটি মানুষেরও বেশি হতে পারে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত গণপরিবহন অবকাঠামো বর্তমানে দেশে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে ব্যাপক যাত্রাচাপ তৈরি হবে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং হিউম্যান হলারে প্রায় ৮০ লাখ ট্রিপ পরিচালিত হতে পারে।

এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রেও যাতায়াতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগঠনটির হিসাবে কার ও মাইক্রোবাসে প্রায় ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসে প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ, এবং ঢাকার সিটি বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ হতে পারে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলেও প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ ট্রিপে যাত্রী পরিবহন হতে পারে বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিটি পরিবহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে সিলিং পদ্ধতি চালু থাকলে অনেক পরিবহন তাদের নির্ধারিত ট্রিপ পরিচালনা করতে পারবে না।

তার মতে, জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকলে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বে এবং পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঈদকে ঘিরে সড়কপথে যানজট এমনিতেই বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে পরিবহনগুলোকে যদি বারবার জ্বালানি সংগ্রহের জন্য থামতে হয়, তাহলে যাত্রার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহন খাতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সিলিং বা রেশনিং পদ্ধতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

-রাফসান


ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৪৬:০৫
ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী সময়ে ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে রোববার (৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত এই বিশেষ ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পরিষেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বেশ কিছু খাতকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা খাতগুলো এই ছুটির অন্তর্ভুক্ত হবে না। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সমুদ্র ও স্থলবন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডাক ও যোগাযোগ সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু থাকবে।

এছাড়া টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোও ছুটির আওতামুক্ত থাকবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন থাকে। সরকার মনে করছে, এই সেবাগুলো বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতকেও এই বিশেষ ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম নিয়েও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে সুপ্রিম কোর্ট।

বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের বিধান অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণত দেশে সরকারি ছুটির বিষয়টি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত এই ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব নীতিমালা এবং শ্রম আইনের আলোকে এই ধরনের ছুটি অনুসরণ করে থাকে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঈদের আগে টানা ছুটির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা সহজে করতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

-রাফসান


আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৩:৩৮:০৩
আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাস্টমস হাউসগুলোর কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সময়ও নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম চলমান থাকবে, তবে ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

সোমবার জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস হাউস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম সচল রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও সীমিত আকারে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনবিআর মনে করছে, ঈদের সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে যদি কাস্টমস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তাহলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস, শিপমেন্ট এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই বাণিজ্য প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনা দেশের প্রধান কাস্টমস হাউসগুলোর কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, বেনাপোল কাস্টম হাউস, আইসিডি কমলাপুর, মোংলা কাস্টম হাউস এবং পানগাঁও কাস্টম হাউস।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোকেও একই ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (পশ্চিম), ঢাকা (পূর্ব), ঢাকা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট, রংপুর ও কুমিল্লা কমিশনারেট উল্লেখযোগ্য।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত বন্দর ও কাস্টমস হাউসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দীর্ঘ ছুটির সময় এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকলে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। এনবিআরের এই উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

-রাফসান


বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১২:৫০:০২
বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরকার তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, যেসব পরিকল্পনা জনগণের ভাগ্য বদলে দেবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, তবে সরকার তার লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই বিশেষ কর্মসূচি চালু হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয়েছে এক আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ‘দারিদ্র্য সূচক’ বা প্রক্সি মিনস টেস্ট করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, শিক্ষার হার, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের অবস্থা এমনকি রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ডাবল ডিপিং বা দ্বৈত ভাতা গ্রহণ রোধ এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই পদ্ধতির ফলে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোই রাষ্ট্রের এই সুবিধা সরাসরি ভোগ করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সারাদেশে বিস্তৃত করার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: