সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রথম অধিবেশন ঘিরে বড় পরিকল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে আজ বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠেয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কৌশল নির্ধারণ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর গঠনপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে এই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া সংসদের অন্যান্য কার্যপ্রণালী ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির জন্য এই বৈঠকটি তাদের সংসদীয় মেয়াদের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
এর আগে গত ৯ মার্চ জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির আমন্ত্রণে তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ওই বৈঠকে মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. আবুল হাসনাতসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আগামীকাল বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহবানে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। আজকের সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে জানা যাবে কে বসছেন স্পিকারের মর্যাদাপূর্ণ চেয়ারে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনীত করছে। সব মিলিয়ে নতুন সংসদের প্রথম যাত্রাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা তথা সারা দেশে এক উৎসবমুখর এবং কৌতূহলপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
/আশিক
অর্থনীতিতে নতুন গতি? একনেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট একাধিক বড় প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজন মাহমুদ জানিয়েছেন, বৈঠকে কয়েকটি কৌশলগত ও উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প।
সরকারি সূত্র বলছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর মোহনা সংলগ্ন প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এই নতুন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ আসবে চীনের আর্থিক সহায়তা থেকে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে চীন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই শিল্পাঞ্চল চালু হলে প্রায় এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের শিল্প খাত ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ায় বাংলাদেশ নতুন সুযোগের মুখোমুখি হয়েছে। সেই বাস্তবতায় চট্টগ্রামের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হলে আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৯০০ একর জমিতে ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি বাতিল করে।
সেই প্রেক্ষাপটে আনোয়ারার নতুন চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলকে দেশের শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একনেকে অনুমোদন মিললে এটি হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্যতম বৃহৎ বিদেশি অংশীদারিত্বভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন উদ্যোগ।
-রাফসান
মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা জোরদারে ব্যাপক কর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাবে কর অব্যাহতির পাশাপাশি ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে উল্লেখযোগ্য ছাড়ের আভাস মিলেছে, যা দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাত। স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে বেশ কয়েকটি খাতে কর সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
কমতে পারে টিভি, ফ্রিজ, এসি ও ওয়াশিং মেশিনের দাম
দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন এবং অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্যের ওপর বর্তমানে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। একই সঙ্গে এসব শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ক রেয়াত দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন।
দেশীয় কম্পিউটার ও মোবাইল উৎপাদনে বাড়তি সুবিধা
দেশে তৈরি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও কয়েক বছর বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় মোবাইল শিল্পে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
ফলে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বাজারে মূল্যও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে নতুন প্রণোদনা হিসেবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ইউটিউবার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আয়কারীদের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই খাতের আয় থেকে ভ্যাট ও কর কেটে নেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে হাজারো ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা সরাসরি উপকৃত হবেন।
ওষুধ ও চিকিৎসা খাতে স্বস্তির আভাস
জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮ ধরনের কাঁচামালের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হৃদরোগে ব্যবহৃত স্টেন্ট (হার্টের রিং), চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের ওপর কর রেয়াত দেওয়ার চিন্তাও চলছে।
এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নিত্যপণ্যে কমতে পারে করের চাপ
খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরবরাহ চেইনে করের চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
সৌর বিদ্যুৎ ও সবুজ জ্বালানিতে বিশেষ সুবিধা
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সৌর বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে করমুক্ত সুবিধা আরও দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।
এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিলেও বিশেষ রেয়াত দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে নিবন্ধন সংক্রান্ত করও কমানো হতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের বাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
স্বর্ণালঙ্কারের দামেও আসতে পারে স্বস্তি
স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে বর্তমান শতকরা ভ্যাট পদ্ধতির পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে অলঙ্কার খাতে করের চাপ কমবে এবং ভোক্তারাও কিছুটা সুবিধা পাবেন।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
দেশীয় শিল্প সুরক্ষার অংশ হিসেবে কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
আমদানি করা কাজুবাদাম
উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ
বিদেশি প্রসাধনী
সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য
নিকোটিন পাউচ
বিদেশি মদ
কিছু বিলাসী ইলেকট্রনিক পণ্য
আমদানি করা কম্পিউটার ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম
এছাড়া এমএস রডসহ কিছু নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় নির্মাণ ব্যয়ও প্রভাবিত হতে পারে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন বার্তা
সামগ্রিকভাবে সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার একদিকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে। যদি এসব প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে, পাশাপাশি অনেক পণ্যের বাজারমূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-রফিক
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২০ জুলাই সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। ফলে লাখো পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অপেক্ষার দিন এখন গণনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের সময়সূচি ঘোষণা করেন। জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষাখাতের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা প্রশাসন।
ফল প্রকাশের ঘোষণার পাশাপাশি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন তিনি। মন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকার আগামী বছর থেকেই পাঠ্যক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি। যদিও নতুন বিষয়গুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সেগুলো হবে সময়োপযোগী এবং ভবিষ্যৎমুখী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এজন্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, অতীতের অনিয়ম, দুর্বলতা এবং দুর্নীতির চিত্র পর্যালোচনা করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা খাতের বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্রম সংস্কার ও নতুন বিষয় সংযোজনের পরিকল্পনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-রফিক
বাজেটে করছাড়ের মহাপ্যাকেজ, কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্প, প্রযুক্তি খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উৎপাদনমুখী বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে ব্যাপক কর, ভ্যাট ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার এবার শিল্পখাতের জন্য অন্যতম বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাজেট সংশ্লিষ্ট আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাত। সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর এবং মোবাইল ফোন উৎপাদনে কর ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ আরও দীর্ঘ করা হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমে বাজারমূল্যও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র বলছে, দেশীয়ভাবে তৈরি ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
শুধু ইলেকট্রনিকস নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতও পাচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি এবং অন্যান্য উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধে বিশেষ রেয়াত সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে ইলেকট্রিক গাড়ি ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধন ফিতেও বড় পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে বর্তমান উচ্চ কর কাঠামোর পরিবর্তে গাড়ির সক্ষমতার ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত কম কর আরোপ করা হয়।
ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও আসতে পারে স্বস্তির খবর। ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ক্যানসারের কয়েক ধরনের ওষুধে কর সুবিধা এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহারের মতো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ভ্যাট কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপরও কর ছাড় বাড়ানো হতে পারে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, বীজসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় কমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তি খাতের বিকাশে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মনিটর, ডাটা প্রসেসিং ডিভাইস এবং ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে আগাম কর কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল ফোনের ভ্যাট অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্প নতুন গতি পেতে পারে।
ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর আরোপিত কর ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে ইউটিউবার, ডিজিটাল নির্মাতা এবং অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বর্তমানে স্বর্ণ বিক্রির ওপর শতাংশভিত্তিক ভ্যাট আরোপ থাকলেও তা পরিবর্তন করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহার, বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে শুল্ক কমানো, প্রসাধনী আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, প্যাকেজিং খাতে উৎসে কর কমানো এবং মেট্রোরেল প্রকল্পে ভ্যাট অব্যাহতির মতো একাধিক প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এসব কর ও শুল্ক সুবিধা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় শিল্পায়ন, প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমে গেলে অনেক পণ্যের বাজারদামও ধীরে ধীরে কমতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সুবিধাগুলো কার্যকর করবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাই শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের নজর এখন আসন্ন বাজেট ঘোষণার দিকে।
-রফিক
বাজেটে আসছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের কর সুবিধা ঘোষণার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করার উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিভিত্তিক আয়ের খাতকে আরও উৎসাহিত করতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্য থেকেই ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাব কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের আয় আয়করের আওতার বাইরে চলে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইউটিউব, ফেসবুক, শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল মিডিয়া এবং অন্যান্য অনলাইন কনটেন্টভিত্তিক উৎস থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রেও কর অব্যাহতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের লক্ষাধিক তরুণ ফ্রিল্যান্সার, ডিজিটাল মার্কেটার, ভিডিও নির্মাতা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সরাসরি উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স খাতে ফ্রিল্যান্সিং একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরা বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসছেন। ফলে এই খাতে কর ছাড় দিলে ডিজিটাল সেবার রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কর নীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় থাকা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোর জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ স্টার্টআপ লাভের চেয়ে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। এ অবস্থায় টার্নওভার ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হলে নতুন উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাও সহজ হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত টার্নওভার আয় করমুক্ত রাখার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা এবং প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাকারী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দেশের শিল্পায়নকে রাজধানীকেন্দ্রিক অবস্থা থেকে বের করে আনতেও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাইরে উৎপাদনমুখী শিল্প, প্রযুক্তি খাত এবং পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অবচয় সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোরও চেষ্টা করা হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত করা, স্টার্টআপে কর অবকাশ দেওয়া এবং প্রযুক্তিখাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ আরও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কোন প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে, সেটিই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ফলে ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের এখন নজর বাজেট ঘোষণার দিকেই।
-রফিক
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা: মেঘালয়ে ভারতীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রথাগত কাঁটাতারের বেড়ার নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মেঘালয়ের খাসি পাহাড়ের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পিনুরসলা উপ-বিভাগের লিংখং নামক সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে বর্তমান নকশা অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে তারা ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, অরুদ্ধ এবং অরক্ষিত হয়ে পড়বেন। এই চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীরা অবিলম্বে চলমান বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি জরুরি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুই দেশের শূন্য রেখা বা জিরো লাইন (Zero Line) থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিক জটিলতার কারণে লিংখং গ্রামটি একেবারে জিরো লাইনের ওপর অবস্থিত এবং এখানকার স্থানীয় খাসি সম্প্রদায়ের বাড়িঘরগুলো বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে রয়েছে।
গ্রামবাসীদের মূল আপত্তি ও ভয় এখানেই—বর্তমান ১৫০ গজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে তাদের পুরো গ্রামটিই ভারতের মূল নিরাপত্তা বলয় তথা কাঁটাতারের বাইরে (বাংলাদেশের দিকে) পড়ে যাবে, যা তাদের জানমালের নিরাপত্তা ও মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। উল্লেখ্য, বিগত কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুপ্রবেশ রুখতে গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের বেড়া দিয়ে এলাকাটি সাময়িকভাবে আলাদা করে রেখেছিলেন, যা এখনো প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে।
লিংখং গ্রামের প্রধান রামু ভারতের জাতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে জানিয়েছেন, তারা সীমান্তে স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরোধী নন। তবে তাদের দাবি—এই বেড়া যেন সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশেষ বিবেচনায় একদম ‘জিরো লাইনে’ নির্মাণ করা হয়, যাতে তাদের পুরো গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং বিএসএফের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। অন্যথায় তাদের ভবিষ্যৎ ও ভারতের নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিমা খংসদির নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি এই বিষয়ে মেঘালয় রাজ্য সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার এবং নয়া দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই বেড়া নির্মাণের কাজ বছরের পর বছর ধরে চললেও স্থানীয় জমির মালিকানা জটিলতা ও দুর্গম পাহাড়-নদীর কারণে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার মধ্যে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশ সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়ে গেছে। এদিকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিংখং গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ইতোমধ্যে একটি আউটপোস্ট বা বিশেষ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে এবং বিএসএফ জওয়ানরা স্থানীয়দের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মেঘালয়ের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় জিরো লাইনের জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক নিয়ম শিথিল করে জিরো লাইনেই একক সারির (সিঙ্গেল-রো) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন ঝুলে আছে এই গ্রামের শত শত মানুষের ভাগ্য।
সূত্র: দ্য হিন্দু।
স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি বন্ধ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোশ্যাল মিডিয়া ও সাইবার স্পেসে ডিপফেক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত কনটেন্টের বিস্তার রুখতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। ইন্টারনেটে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর প্রচারণার রাশ টানতে বিতর্কিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ সংশোধনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ভিআইপি বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেভাবে সাইবার বুলিং ও চরিত্রহনন করা হচ্ছে, তা আদৌ কোনো স্বাধীনতার আওতায় পড়ে কি না, তার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
আজকের সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক জরুরি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সমস্ত ভার্চুয়াল মাধ্যমকে আওতাভুক্ত করে ‘সাইবার স্পেস’-এর একটি আধুনিক আইনি রূপরেখা তৈরির খসড়া চলছে।
নতুন এই সংশোধিত আইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি ও বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে। শুধু তা-ই নয়, মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান) বা গুগলের মতো বৈশ্বিক টেক জায়ান্টরা যেন বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেয়, সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণের আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে। এই কনটেন্ট ব্লক বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিটিআরসি ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হবে।
সাইবার দুনিয়ার পাশাপাশি অপরাধ দমনে অফলাইনেও বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক আমলের প্রাচীন জুয়া প্রতিরোধ আইনকে সমূলে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই নতুন এই আইনটি পাস করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টো জুয়া এবং অফলাইন ক্যাসিনোকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড, সর্বাধুনিক ল্যাব ও নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতা দিয়ে আরও শক্তিশালী করতে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সামাজিক অনাচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে এই ত্রিমুখী আইনি সংস্কার দেশের অবক্ষয় রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ জানান মন্ত্রী।
/আশিক
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!
২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও নবম পে স্কেল নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি ও তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়তে থাকায় তীব্র উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ চাকুরিজীবী।
আসন্ন ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকর হওয়ার জোর সম্ভাবনা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা থাকলেও চলতি জুন মাসের মধ্যেই যদি এর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তবে আগামীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থ ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ফলে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশার পারদ যেমন চড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠাও। তাদের সব দৃষ্টি এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপনের ডেডলাইনের দিকে।
সরকারি চাকুরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ একটি নতুন পে স্কেল চালুর দাবি জানিয়ে রাজপথে ও টেবিলে তদবির করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা করার জোরালো সুপারিশসহ নানা খসড়া প্রস্তাবনার খবর সামনে এলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো উচ্চপর্যায় থেকে এর আনুষ্ঠানিক বা আইনি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই বেতন কাঠামো একযোগে পুরোটা বাস্তবায়নের পরিবর্তে কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার একটি বিকল্প পরিকল্পনা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তবে এই 'ধাপে ধাপে' বেতন বৃদ্ধির ফর্মুলা বা প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী ও সচিবালয় কর্মকর্তা সংগঠনের নেতারা।
কর্মচারী নেতাদের স্পষ্ট দাবি—দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষার পর যখন নতুন পে স্কেল চালুর দ্বারপ্রান্তে দেশ, তখন তা আংশিকভাবে বা কিস্তিতে নয়, বরং একযোগেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, বাজারে বর্তমানের লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তার বিপরীতে ধাপে ধাপে সামান্য বেতন বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের আর্থিক চাপ এবং সংসার চালানোর কষ্ট কমাতে বিন্দুমাত্র যথেষ্ট হবে না।
সরকারি চাকুরিজীবীদের একাংশের মতে, নতুন পে স্কেল অবিলম্বে কার্যকর হলে তা সাধারণ কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্যের সাথে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এর ফাইল নিয়ে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারের শীর্ষপর্যায়ের অস্পষ্টতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কাজের স্পৃহা কমিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
/আশিক
বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববাজারের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সংসদীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদে দেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। নুরুল হক নুর জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত—অর্থাৎ গত ১১ মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী নতুন করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল অদক্ষ শ্রমিক নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে দক্ষ, আধাদক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিধি আরও বড় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম বড় উৎস হওয়া সত্ত্বেও যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত আকারে রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় পুরোদমে উন্মুক্ত এবং সম্প্রসারণের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই এই দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বড় বাজার তৈরি হবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- অর্থনীতিতে নতুন গতি? একনেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজ কোথায় শপিং করবেন, কোথায় নয়? নিন বন্ধের মার্কেট তালিকা
- এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা
- সোনার বড় মূল্যহ্রাস, জানুন আজকের দর
- বাজেটে করছাড়ের মহাপ্যাকেজ, কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
- বাজেটে আসছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
- আজকের নামাজের সময়সূচি, কখন কোন ওয়াক্ত?
- ১৬ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় আবহাওয়া থাকবে যেমন
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা: মেঘালয়ে ভারতীয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ
- আমূল বদলাচ্ছে কারিকুলাম: বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছর ব্যাপক পরিবর্তন
- ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল
- স্বাধীনতার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় নোংরামি বন্ধ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে আবারও অনিশ্চয়তা!
- বিশ্বের বুকে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠাতে নিরলস কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
- ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান
- রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী: অপচয় রোধে কঠোর প্রশাসন
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১১ জুন শুরু ফুটবল ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপ; জেনেনিন ৫টি মূল বৈশিষ্ট্য
- প্রধানমন্ত্রীকে আ. লীগ নেতার চিঠি: কী আছে সেই ভাইরাল চিঠিতে?
- ১ বছরের আইনি লড়াই শেষে ক্যামেরার সামনে ফিরছেন কোরিয়ান সুপারস্টার কিম সু-হিউন
- দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প: ধসে পড়েছে বহু ভবন
- বাপের দোয়া থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না দেখি: তামিম
- ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধাক্কায় কাঁপছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল
- শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
- ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের ফের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- আজ সোমবার ঢাকার যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ
- আজ সোমবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিলের বড় ক্ষতি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ট্রাম্পের অনুরোধ উড়িয়ে এবার ইরানের বুকে পাল্টা হামলা চালাল ইসরায়েল
- বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরিতে জর্জরিত আর্জেন্টিনা
- ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ১৮ জেলায় রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বাজেট অধিবেশনে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
- মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে 'সেকেলে কল্পনা' বলে উড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
- বিজিবি-বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থান; সীমান্তজুড়ে ৩ দিন ধরে ধুঁকছে মানবতা
- ১ বছরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ: রোনালদো কি এখনও পর্তুগাল দলের ‘অটো-চয়েজ’?
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব তুঙ্গে: ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও বৈরুতে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইসরায়েল
- কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- ৭ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








