ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত

ইরান তাদের সামরিক অভিযানে এক বিধ্বংসী ও নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ৩৪তম দফার এই বিশাল হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আঘাত মূলত ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এই দফার হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের অতি গোপনীয় ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে ইরানের এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া হাইপারসনিক ও অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে। বর্তমানে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। তবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও ক্ষমতার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যুহ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
/আশিক
৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তালিকায় থাকা দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে সরকারি সহায়তা বা কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের হার অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।
তারা যেন আমেরিকান অর্থনীতির ওপর কোনোভাবেই বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই সব স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ নীতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে না পারে, সেটিই এই স্থগিতাদেশের মূল উদ্দেশ্য।
অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হলেও সাধারণ যাত্রী, পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ পর্যটক (Visitor Visa) এবং শিক্ষার্থী (Student Visa) সহ সব ধরনের অনভিবাসী ভিসার (Non-Immigrant Visa) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, যারা পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া আগের মতোই চলমান থাকবে।
২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশ রয়েছে। তালিকায় আরও আছে রাশিয়া, ইরান, ইরাক, মিশর, মিয়ানমার, ব্রাজিল ও লিবিয়ার মতো দেশগুলো। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ফাইলগুলো নতুন নীতি অনুযায়ী যাচাই করছে।
/আশিক
৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে ইরান থেকে আসা হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে ব্যাপক আতিথেয়তার প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হাজিদের ইবাদত ও যাতায়াত যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইরানের হজ সংক্রান্ত সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ইরানি হাজিরা মদিনায় পৌঁছাবেন। এরপর সেখান থেকে মক্কায় গিয়ে তারা হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, মসজিদ আল-হারামের অতিথিদের সর্বোচ্চ সম্মান ও আতিথেয়তার সঙ্গে সেবা দিতে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজিদের জন্য আবাসন, মানসম্মত খাদ্য এবং স্থল, রেল ও আকাশপথে যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে আসা হাজিদের জন্য এবার সৌদির আতিথেয়তা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩০ হাজার ইরানি নাগরিক হজে অংশ নিতে যাচ্ছেন এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই তাদের বড় বহর যাত্রা শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের অনুমোদনে পরিচালিত হচ্ছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি হাজিরা এক মাসের বেশি সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে অন্তত ৬ রাত ৭ দিন তারা মদিনার পবিত্র মসজিদে অবস্থান করবেন। যদিও তারা আকাশপথ নাকি স্থলপথ ব্যবহার করে সৌদি পৌঁছাবেন, সে সম্পর্কে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে তেহরান ও রিয়াদের এই সমন্বয়কে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন।
/আশিক
একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?
ইসলামাবাদে এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছানোর পরপরই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে এক সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার গুঞ্জন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার রাতে ইরানের প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদে অবতরণ করলে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে চায়।
তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মধ্যস্থতাকারী’ দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
একদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত ও জামাতার উপস্থিতি এবং অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ এখন এক ঐতিহাসিক চুক্তির সাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায়।
সূত্র: বিবিসি ও দ্য ডন
মাঝ সমুদ্রে নৌযান উড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র! ট্রাম্পের নির্দেশে রক্তক্ষয়ী অভিযান
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি নৌযানে চালানো হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, শুক্রবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি পরিচিত মাদক পাচার রুটে সন্দেহভাজন একটি নৌযান শনাক্ত করা হয়। তাদের দাবি, নৌযানটি একটি ‘নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনের’ নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত ছিল।
সাউদার্ন কমান্ডের প্রকাশিত ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাঝ সমুদ্রে থাকা ওই নৌযানটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হচ্ছে। এ অভিযানে মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি। তবে নিহতদের ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে মাদক চোরাচালান রুখতে গত সেপ্টেম্বর থেকে এই ধরনের কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত এসব হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই এভাবে মাঝ সমুদ্রে মানুষ হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হয় এমন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এমন একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের দিকে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং ওয়াশিংটন সেটি মূল্যায়ন করবে। তবে প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন চায়, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তাও দিতে হবে তেহরানকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন পুরো আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের নেতৃত্বের ভেতরে মতপার্থক্য ও বিভক্তি রয়েছে। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বর্তমানে একক অবস্থানে নেই এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে নীতিগত টানাপোড়েন চলছে।
শুক্রবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইরানের কোন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চান না। তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে বলে জানান তিনি।
-রফিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা জানাল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি ইস্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ অবস্থান তুলে ধরেছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাই জানান, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পাকিস্তান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
ইরানি মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজে বের করা। তিনি দাবি করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মূলত “যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের” অংশ, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এই উচ্চপর্যায়ের অভ্যর্থনাকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে আরাগচি দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
-রাফসান
"মিত্রদের" জন্য হরমুজে ফি মওকুফ, মধ্যপ্রাচ্যে আরো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: কী বার্তা দিচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারও এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা একই সুতোয় গাঁথা হয়ে পড়েছে। একদিকে ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে মিত্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি পদক্ষেপ শুধু আলাদা কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নতুন কৌশলগত শক্তিপরীক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
সম্প্রতি মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে “বন্ধুপ্রতিম” রাষ্ট্রগুলোর জন্য ট্রানজিট ফি মওকুফ করা হয়েছে। বিশেষভাবে রাশিয়া-এর নাম উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তেহরান এখন কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল দিয়েও তার মিত্রজোটকে শক্তিশালী করতে চাইছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাবু নিশ্চিত করেন যে, ইরান প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফি আদায় শুরু করেছে এবং সেই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই ইরানের “সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা” হিসেবে দেখছেন। কারণ হরমুজ প্রণালি শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়; এটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কিংবা অর্থনৈতিক শর্ত আরোপের সক্ষমতা দেখিয়ে ইরান আসলে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতিতে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
তবে এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তার পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দ্রুত দৃশ্যমান হয়েছে। US Central Command নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS George H.W. Bush ভারত মহাসাগর পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েনকৃত বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। এর আগে USS Gerald R. Ford লোহিত সাগরে এবং USS Abraham Lincoln আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থান করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম নৌ সামরিক সমাবেশ। সেন্টকম এই অবস্থানকে “মাল্টি-ক্যারিয়ার স্ট্রাইক পোস্টার” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার অর্থ যেকোনো সামরিক পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সমন্বিত হামলা চালানোর প্রস্তুতি। বাস্তবে এটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নয়; বরং ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যে, হরমুজ প্রণালি বা আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে কোনো ধরনের একক নিয়ন্ত্রণ বা অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ওয়াশিংটন সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
এখনকার পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কৌশলগত বার্তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইরান বলতে চাইছে, “আমরা এই সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করি এবং আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।” বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, “বিশ্ব বাণিজ্য ও আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সামরিক শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত।” অর্থাৎ, একপক্ষ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ভাষা ব্যবহার করছে, অন্যপক্ষ সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে চাইছে।
এই উত্তেজনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সরাসরি এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোকে চাপে ফেলবে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি নতুন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য ভুল হিসাব, ভুল সংকেত কিংবা সীমিত সামরিক উসকানিও বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অর্থনৈতিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রদর্শন মূলত একই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে: মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে কে—সমুদ্রপথের ভৌগোলিক মালিক, নাকি বৈশ্বিক সামরিক শক্তির অধিপতি?
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে পেন্টাগন একাধিক হামলার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বর্তমানে এমন কয়েকটি পরিকল্পনা মূল্যায়ন করছে, যার আওতায় হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই খবর সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামো তৈরি করতে ইরানের আরও সময় প্রয়োজন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান এবং মাইন পাতা সক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এই সামরিক সম্পদগুলোই ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট ও মূল্য অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কেউ মাইন পাতার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের “গুলি করে হত্যা করবে”। এই মন্তব্যকে অনেকেই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইআরজিসির দ্রুতগতির হামলাকারী নৌকাগুলো এখনো বড় ধরনের মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাধারণত এসব নৌযানে ভারী মেশিনগান স্থাপন করা থাকে এবং এগুলো দ্রুতগতিতে হামলা বা মাইন স্থাপনে ব্যবহার করা যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না যে ইরান বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে কি না। তা সত্ত্বেও পেন্টাগন সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা আরও একটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। সেই পরিকল্পনায় এমন ইরানি সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা রয়েছে, যাদেরকে ওয়াশিংটন স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বাধা হিসেবে মনে করছে।
একইসঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ, উৎক্ষেপণ ঘাঁটি এবং অবশিষ্ট সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানের নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং দেশটি কার্যকরভাবে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সাড়া দিতে পারছে না।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান নিজেরাই বুঝতে পারছে না তাদের নেতা কে। তারা সত্যিই জানে না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং তথাকথিত মধ্যপন্থীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে।
সূত্র- সিএনএন
ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার
ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে সংরক্ষিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এখন এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ডে থাকা অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি অংশ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে অন্যান্য কৌশলগত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নির্ভুল হামলা পরিচালনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক মোট ব্যয় প্রকাশ না করলেও দুটি স্বতন্ত্র গবেষণা সংস্থা হিসাব দিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। সেই হিসাবে সংঘাতের মোট ব্যয় ইতোমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের ব্যয় শুধু সামরিক বাজেটেই চাপ সৃষ্টি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের উত্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একসঙ্গে সামাল দিতে গিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এই অস্ত্রগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
পাঠকের মতামত:
- গরমে নীরব ঘাতক হিট স্ট্রোক, জানুন সতর্কতা
- ঢাকার যে ১১ পাম্পে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ফুয়েল পাস
- জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার নতুন যুগে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
- টাকার মান কি বাড়ল না কমল? দেখে নিন আজকের সর্বশেষ মুদ্রার রেট
- তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকার মহৌষধ: কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন?
- ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
- জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন হবেই: প্রধানমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্রে মেধাবী ছাত্র লিমনের করুণ পরিণতি! এখনো নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস! এক ধাক্কায় অনেকটা কমল স্বর্ণ ও রুপার দাম
- ৩০ হাজার ইরানি হাজির অপেক্ষায় সৌদি আরব: সম্পর্কের নয়া অধ্যায়
- সকালে খালি পেটে মেথি পানি: আপনার শরীরের জন্য কেন এটি অমৃত?
- ভাড়া বাড়ানো হয়নি, সাথে ‘সমন্বয়’ করা হয়েছে: সড়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
- প্রয়োজনে সংসদ ও রাজপথ একাকার হবে! সরকারকে নাহিদ ইসলামের চরম হুঁশিয়ারি
- কবে শেষ হবে লোডশেডিং? সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী!
- একই শহরে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধিরা! ইসলামাবাদে কি তবে শান্তি চুক্তি?
- মাঝ সমুদ্রে নৌযান উড়িয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র! ট্রাম্পের নির্দেশে রক্তক্ষয়ী অভিযান
- শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে
- যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ হয় এমন প্রস্তাব পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
- বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচসহ আজকের ক্রীড়া সূচি
- তাপপ্রবাহের মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টির নতুন সতর্কতা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা জানাল ইরান
- আজ নামাজের সময়সূচি দেখে নিন
- দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলে জ্বালানি তেলের দাম: বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?
- "মিত্রদের" জন্য হরমুজে ফি মওকুফ, মধ্যপ্রাচ্যে আরো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: কী বার্তা দিচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
- ত্বক ও চুলে অ্যালোভেরার অবিশ্বাস্য উপকারিতা
- কেন জুমায় সূরা কাহফ পড়তে বলা হয়েছে
- হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার
- তাপদাহের পর এবার ঝড়-বৃষ্টির বড় পূর্বাভাস
- রেকর্ড পতন স্বর্ণের দামে, বাজুসের নতুন ঘোষণা
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় কোন মার্কেট বন্ধ
- আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টকে ছুঁয়ে ফেললেন মোস্তাফিজ! সাগরিকায় ইতিহাস
- শাহবাগে টানটান উত্তেজনা: ছাত্রদল-শিবির মুখোমুখি
- পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা: মোজতবা খামেনির ক্ষমতা নিয়ে বিবিসির চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
- ট্রেলারেই বাজিমাত! মুক্তির পর কি সব রেকর্ড ভাঙবে বায়োপিক ‘মাইকেল’?
- সূচকের সুবাতাস ও লেনদেনের জোয়ার: ডিএসইতে কি তবে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
- সংসদ থেকেও বিদ্যুৎ কাটুন! সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার অভাবনীয় প্রস্তাব
- কুমিল্লার লালমাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করলো বাবা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী কুমিল্লায়! ইতিহাসের পাতায় ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি
- যুদ্ধ কি অনিবার্য? মাইন স্থাপনকারী জাহাজের ওপর সরাসরি হামলার ডাক ট্রাম্পের
- চোট কাটিয়ে ফিরেই ফিজের তাণ্ডব! নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল টাইগাররা
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে বাসের নতুন ভাড়া! কোন রুটে কত টাকা বাড়ল?
- জ্বালানি সংকট রুখতে ১০ সদস্যের মহাপরিকল্পনা! প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের ঐক্য
- ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে টোল আদায় শুরু: সাগরে ইরানের নয়া আধিপত্য
- ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট: ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ আখ্যা
- ডলারের দাপটে কোণঠাসা স্বর্ণ! বিশ্ববাজারে কেন কমছে দামী এই ধাতুর দাম?
- ছাত্রলীগের বদলে এখন হামলা করছে শিবির: রাশেদ খাঁন
- ২৩ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- সব রেকর্ড চুরমার: স্বর্ণের দাম বাড়াল বাজুস, আজকের রেট জেনে নিন
- ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিপাকে স্বর্ণের বাজার! বাড়ছে দুশ্চিন্তা
- দেশে স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ: নতুন উচ্চতায় মূল্যবান এই ধাতু
- কালিগঞ্জ ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়! আদালতের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি
- স্বপ্ন না কি দুঃস্বপ্ন? সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এক ভরি স্বর্ণ
- সোনার সাথে রুপার দামেও আগুন! আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- রেকর্ড দামের পর অবশেষে স্বস্তি: সোনার ভরিতে বড় ছাড় দিল বাজুস
- ২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- পৃথিবী: প্রাণ, পানি আর রহস্যের গল্প
- ২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
- বিশ্ববাজারে কমছে তেলের দাম
- ধান-চালের নতুন দাম ঘোষণা সরকারের








