৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি

শীতের সকাল মানেই বাঙালির পাতে মটরশুঁটির কচুরি আর ঝাল ঝাল আলুর দম। খাবারের স্বাদ বাড়াতে মটরশুঁটির জুড়ি নেই। তা সে মাছের ঝোল হোক, ফুলকপির ডালনা, মুগের ডাল কিংবা পাঁচমিশালি সবজি— শীতকালীন যেকোনো রান্নাতেই মটরশুঁটি থাকা চাই-ই চাই। তবে এই সুস্বাদু সবজির খোসা ছাড়ানোর ঝক্কি সামলাতে গিয়ে অনেকেরই নাজেহাল অবস্থা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় কেবল খোসা ছাড়াতেই। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিটেই প্রায় ৫ কেজি মটরশুঁটির খোসা ছাড়িয়ে ফেলা সম্ভব।
মটরশুঁটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর রয়েছে অসামান্য স্বাস্থ্যগুণ। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই সবজি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকর। তবে উপকারিতা থাকলেও এর খোসা ছাড়ানোর ভয়ে অনেকেই বাজার থেকে এটি খুব একটা কিনতে চান না।
দ্রুত খোসা ছাড়ানোর ৩টি সহজ ধাপ
প্রথমেই একটি বড় পাত্রে পানি গরম করে নিন। পানি ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। এবার পাত্রে মটরশুঁটিগুলো ফেলে দিয়ে একটি ঢাকনা দিয়ে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। মনে রাখবেন, খুব বেশি সময় ধরে গরম পানিতে রাখা যাবে না।
গরম পানি থেকে তুলে মটরশুঁটিগুলো সরাসরি বরফ-ঠান্ডা পানিতে ফেলে দিন। তাপমাত্রার এই হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে মটরশুঁটির খোসাগুলো মুহূর্তের মধ্যে আলগা হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়াটি খোসাগুলোকে মটরশুঁটি থেকে আলাদা করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে।
এবার ঠান্ডা পানি থেকে মটরশুঁটি তুলে নিন। একটি কাঁচি দিয়ে মটরশুঁটির মাথার দিকের অংশটি সামান্য কেটে দিন। এরপর পেছনের দিক থেকে আলতো করে চাপ দিলেই ভেতরের দানাগুলো অনায়াসেই বেরিয়ে আসবে।
এই সহজ উপায় অনুসরণ করলে শীতের রান্নায় মটরশুঁটি ব্যবহার হবে আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী।
পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন
সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ফলমূল খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ফল কেনার সময় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পেঁপের মতো জনপ্রিয় ফল দ্রুত পাকানোর জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে মারাত্মক সব ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাসায়নিকের ভয়ংকর প্রভাব বাজারে প্রদর্শিত উজ্জ্বল রঙের এবং নিখুঁত আকৃতির পেঁপেগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে বিপজ্জনক রাসায়নিক। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেঁপে দ্রুত পাকাতে অনেক সময় ‘ক্যালসিয়াম কার্বাইড’ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক ফলকে বাইরে থেকে পাকা দেখালেও ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এসব ফল নিয়মিত খেলে পেটের সমস্যা, বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো তাৎক্ষণিক সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাসায়নিকমুক্ত পেঁপে চেনার উপায় ভেজাল ও রাসায়নিকযুক্ত ফলের ভিড়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে চেনার জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কৌশলের কথা জানিয়েছেন
রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপে সাধারণত খুব উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং এর গঠন প্রায় নিখুঁত লাগে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা পেঁপেতে হালকা হলুদ, সবুজ ও কমলার মিশ্রণ থাকে এবং ফলের গায়ে কোথাও কোথাও স্বাভাবিক দাগ থাকতে পারে।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে সতেজ ও মিষ্টি একটি সুগন্ধ থাকে। কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ফলে অনেক সময় কোনো গন্ধই পাওয়া যায় না, অথবা অস্বাভাবিক রাসায়নিকের গন্ধ অনুভূত হয়। স্বাদের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায়; কেমিক্যালযুক্ত পেঁপে খাওয়ার সময় জিভে অস্বস্তি লাগতে পারে কিংবা এটি স্বাদে তেতো হতে পারে।
পেঁপে হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিলে এর অবস্থা বোঝা যায়। রাসায়নিকযুক্ত পেঁপে বাইরে থেকে অতিরিক্ত নরম হয় এবং চাপ দিলে আঙুলের দাগ বসে যায়। বিপরীতে, স্বাভাবিকভাবে পাকা পেঁপে কিছুটা শক্ত থাকে এবং চাপ দিলে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল ফল এখন একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই কেবল ফলের উজ্জ্বল রং বা দাম দেখে আকৃষ্ট না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। তারা সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি মৌসুমি ফল কেনা, অতিরিক্ত চকচকে ও নিখুঁত ফল এড়িয়ে চলা এবং খাওয়ার আগে ফল খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে সচেতনতাই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
শীতের তীব্রতায় ঘর ঠান্ডা হয়ে পড়লে বয়স্করা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যা শ্বাসকষ্ট বা ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু সাধারণ কৌশল অবলম্বন করলে হিটার ছাড়াই আপনার ঘরকে আরামদায়ক ও উষ্ণ রাখা সম্ভব।
প্রাকৃতিকভাবে ঘর গরম রাখার সবথেকে বড় উৎস হলো সূর্যের আলো। সকালে রোদ উঠলেই জানালার পর্দা সরিয়ে দিন যাতে সরাসরি আলো ঘরে ঢোকে। এতে ঘরের দেয়াল ও মেঝে তাপ শোষণ করে উষ্ণ হয়ে ওঠে। দুপুরের পর রোদ কমে গেলে দ্রুত জানালা-পর্দা বন্ধ করে দিন যাতে ভেতরের তাপ বাইরে যেতে না পারে। এছাড়া দরজার নিচে বা জানালার পাশে ছোট ছোট ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে। এই ফাঁকগুলোতে পুরোনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় গুঁজে দিলে ঘরের তাপমাত্রা বজায় থাকে।
শীতকালে মেঝে থেকে সবথেকে বেশি ঠান্ডা উঠে আসে। তাই খালি মেঝেতে পা না রেখে মোটা গালিচা বা পাটের মাদুর ব্যবহার করা উচিত। এটি আপনার পায়ের তলা উষ্ণ রাখার পাশাপাশি ঘরের সামগ্রিক তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে বিছানা উষ্ণ রাখতে মোটা চাদর বা কম্বলের স্তর তৈরি করুন। অনেকগুলো পাতলা স্তরের চেয়ে একটি মোটা স্তর শরীরের উষ্ণতা বাইরে যেতে বাধা দেয় এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে না।
রান্না করার সময় যে গ্যাস বা আগুনের উষ্ণতা তৈরি হয়, তা দিয়ে পুরো বাড়ি কিছুটা গরম রাখা সম্ভব। রান্নার সময় রান্নাঘরের জানালা বন্ধ রেখে ঘরের দরজা খুলে দিলে সেই উষ্ণতা সহজেই শোবার ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছোট ছোট কৌশলগুলো শুধু খরচই বাঁচায় না, বরং প্রাকৃতিকভাবে ঘরকে উষ্ণ রেখে বয়স্কদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। ২০২৬ সালের এই হাড়কাঁপানো শীতে হিটারের বিকল্প হিসেবে এই পদ্ধতিগুলোই হতে পারে সবথেকে নিরাপদ সমাধান।
পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
অনেকেই ভাজাপোড়া খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলছেন কিন্তু ওজন কমার বদলে মেদ বাড়ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিশাল খুরানার মতে এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে উচ্চমাত্রার কর্টিসল হরমোন। অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই হরমোন মূলত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় সক্রিয় হয় বলে একে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। যদি আপনার কর্টিসলের মাত্রা প্রতিনিয়ত বেশি থাকে তবে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি মেজাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মন শান্ত না রাখলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না এবং পেটে বাড়তি মেদ জমার প্রবণতা অনেক গুণ বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস যেমন দুর্ঘটনার নেতিবাচক খবর পড়া অথবা ঘুমের অভাব নিঃশব্দে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি সম্পর্কের টানাপোড়েন অথবা অতিরিক্ত শরীরচর্চাও এই হরমোনের ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কর্টিসল যখন বেড়ে যায় তখন এটি পেশির ক্ষতি করতে শুরু করে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদী চর্বি জমার প্রক্রিয়া সহজ করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে ডায়েটে প্রোটিন ও ফাইবারের সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। ওটস ও ব্রাউন রাইসের মতো আঁশযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়তা করে।
তাটকা সবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল দুশ্চিন্তা কমাতে এবং হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পেশির ক্ষয় রোধে ডাল এবং পনির বা ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। এছাড়া আখরোট ও কাঠবাদামের মতো বাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে যা পরোক্ষভাবে কর্টিসলের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফিন বা চিনি এড়িয়ে চললে হরমোনের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ডায়েটের সাথে মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে পারলে মেদ কমানোর যাত্রা সফল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
আজকের ব্যস্ত জীবনে বায়ুদূষণ এবং ভেজাল প্রসাধনীর ভিড়ে ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরোয়া উপাদানের সঠিক ব্যবহার এই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হতে পারে। বিশেষ করে উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য বেসন এবং হলুদের মিশ্রণ প্রাচীনকাল থেকেই কার্যকর প্রমাণিত। দুই চা চামচ বেসন এবং সামান্য হলুদের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে তৈরি ঘন পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখলে ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়। এটি শুধু ত্বককে উজ্জ্বলই করে না বরং ব্রণের পুরনো দাগ হালকা করতেও সাহায্য করে। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়ার পর ত্বকের পরিবর্তনটি স্পষ্ট বোঝা যায়।
যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং মাঝেমধ্যেই ব্রণের উপদ্রব দেখা দেয় তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি একটি অপরিহার্য উপাদান। দুই চা চামচ মুলতানি মাটির সাথে প্রয়োজনমতো গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। এই প্যাকটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং মুখকে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও সতেজ করে তোলে। এছাড়া চন্দন ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণটি রুক্ষ ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আধা চা চামচ চন্দন গুঁড়োর সাথে দুই চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক নরম ও মসৃণ হয় যা ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ব্রণের স্থায়ী সমাধান এবং পরিষ্কার ত্বক পেতে নিম পাতার বিকল্প নেই। নিম পাতা পিষে তার সাথে টক দই মিশিয়ে তৈরি প্যাকটি মুখে লাগালে ত্বকের জীবাণু ধ্বংস হয় এবং ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায়। নিয়মিত এই ভেষজ প্যাকগুলো ব্যবহারে ত্বক শুধু প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর হয় না বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতাও নিশ্চিত করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া এই সমাধানগুলো ব্যবহার করলে দামী পার্লারের খরচ যেমন বাঁচে তেমনি রাসায়নিকের ভয় থেকেও নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
শীতকালে ঠোঁটের চামড়া অত্যন্ত পাতলা হয়ে যায়, ফলে খুব দ্রুত তা ফেটে যায় এবং উজ্জ্বলতা হারায়। সাধারণ লিপবাম অনেক সময় ঠোঁটের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছাতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, নারকেল তেলের প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ঠোঁটকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। তবে ভালো ফল পেতে নারকেল তেলের সঙ্গে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১. শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। নারকেল তেলের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস অথবা ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে হালকা মালিশ করুন। এটি ঠোঁটের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঠোঁটকে রাখে সজীব ও কোমল।
২.বাজারের কেমিক্যালযুক্ত লিপবাম ছেড়ে ঘরেই তৈরি করতে পারেন প্রাকৃতিক লিপবাম। এক চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে দুই চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে একটি ছোট পাত্রে ভরে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এটি জমার পর চমৎকার লিপবাম হিসেবে কাজ করবে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে শুধু ঠোঁট ফাটা রোধ হয় না, বরং ঠোঁটের জন্মগত কালচে ভাব দূর হয়ে যায়।
৩.যাঁদের ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক এবং চামড়া ওঠার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য শিয়া বাটার ও নারকেল তেলের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর। এক চামচ শিয়া বাটারের সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে অল্প আঁচে হালকা গরম করে মিশ্রণটি গলিয়ে নিন। এটি ঠোঁট ও তার আশেপাশের চামড়ায় নিয়মিত মাখলে দ্রুত কোমলতা ফিরে আসে।
বিশেষ টিপস
যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার ত্বক সেটির প্রতি সংবেদনশীল নয়। নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার আপনার ঠোঁটকে রাখবে নরম ও আকর্ষণীয়।
লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
লিংকডইন প্রোফাইলকে বর্তমান সময়ে আপনার ব্যক্তিত্বের ডিজিটাল প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি পরিষ্কার ও হাসিখুশি প্রোফাইল ছবি এবং কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ব্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে শুরুতেই নিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোফাইলের হেডলাইন অংশটি। সেখানে শুধু বর্তমান পদবি না লিখে আপনি ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষ যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং বা পাবলিক স্পিকিং—সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। সামারি বা ‘অ্যাবাউট’ অংশে আপনার অভিজ্ঞতা ও বড় অর্জনগুলোকে একটি ছোট গল্পের মতো করে তুলে ধরলে তা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আপনাকে আলাদা করবে। এছাড়াও প্রোফাইলে আপনার কাজ সম্পর্কিত অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্কিল যোগ করা প্রয়োজন যা অ্যালগরিদমের নজরে আসতে সাহায্য করে।
সঠিক চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য লিংকডইনের অ্যাডভান্সড জব ফিল্টার ও অ্যালার্ট অপশনটি ব্যবহার করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। লোকেশন, বেতন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি আপনার পছন্দের পদের জন্য জব অ্যালার্ট চালু রাখতে পারেন। এতে নতুন কোনো সার্কুলার আসার সাথে সাথেই আপনার কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। তবে মনে রাখা জরুরি যে সরাসরি আবেদনের চেয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই বেশি থাকে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের সাথে আগে থেকেই যুক্ত হওয়া এবং কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় একটি ছোট ও মার্জিত বার্তা পাঠানো একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
লিংকডইনে শুধু যুক্ত থাকলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকা এবং নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা প্রয়োজন। অন্যদের পোস্টে গঠনমূলক মন্তব্য করলে লিংকডইনের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইলটি নিয়োগকারীদের ফিডে বেশি প্রদর্শন করবে। এছাড়াও পুরোনো চাকরির তথ্যের খোঁজ রাখা আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে বিগত বছরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ধরন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন তারা বছরের কোন সময়ে বা কী ধরণের যোগ্যতায় কর্মী নিয়োগ দেয়। অনেকের নিয়োগের অভিজ্ঞতা পড়ে আপনি ইন্টারভিউ সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ‘ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে। তবে আবেদনের সময় আপনার কাজ অনুযায়ী অন্তত চার ধরণের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি তৈরি করে রাখা উচিত যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক সিভিটি আপলোড করা যায়। আবেদনকৃত চাকরিগুলোর একটি স্প্রেডশিট বা তালিকা করে রাখলে আপনি আপনার প্রগতির ওপর নজর রাখতে পারবেন। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে লিংকডইনকে কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং একটি পেশাদার নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আপনার সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার।
সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
সুস্থ থাকার জন্য কেবল বিশুদ্ধ পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই পানি যে পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেটিও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য স্টিলের বোতল সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সাধারণত পানির সাথে কোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না এবং পানির স্বাভাবিক স্বাদ বা গন্ধও পরিবর্তন করে না। এটি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি এতে চা বা কফির মতো গরম পানীয় রাখা যায় বিধায় অফিস বা ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ। স্টিলের বোতল সহজে পরিষ্কার করা যায় বলে এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।
অন্যদিকে হালকা ও সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই অ্যালুমিনিয়ামের বোতল ব্যবহার করেন যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে অ্যালুমিনিয়াম বিশেষ করে গরম বা ঠান্ডা তরলের সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে পানি পান করলে এই ধাতুর কণা শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা তৈরি করার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়ামের বোতল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সংস্কৃতিতে তামা বা মাটির পাত্রে পানি রাখার প্রচলন ছিল এবং বর্তমানে চিকিৎসকরাও তামার বোতলে পানি রাখার কিছু চমৎকার উপকারিতার কথা বলছেন। তামার প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পানিকে প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তবে তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা হলো এতে কেবল সাধারণ পানি রাখা উচিত। লেবু পানি বা অন্য কোনো অ্যাসিডযুক্ত পানীয় তামার সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পানির বোতল কেনার সময় সেটি অবশ্যই ‘ফুড গ্রেড’ কি না তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ধাতব বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি কারণ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে বোতলের ভেতরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার স্তর জমে যেতে পারে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যে প্রতিদিনের ব্যবহারের পর বোতলটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া উচিত যাতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সঠিক পাত্রে পানি পান করা কেবল তৃষ্ণা মেটানো নয় বরং এটি রোগমুক্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ শরীর নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার।
ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
শীতের শুরু থেকেই কমবেশি সবাই খুকখুকে কাশির সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ওষুধ খেয়েও স্বস্তি মেলে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে কাশি কেবল ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় না। বর্তমানের ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ এই শুষ্ক কাশির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন পরিবেশের বিষাক্ত ধূলিকণা ও ধোঁয়া সরাসরি নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তা শ্বাসনালিতে তীব্র জ্বালা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসনালির লিগামেন্ট ও টিস্যুগুলোতে প্রদাহ দেখা দেয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হলো দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক কাশি। এই ধরণের কাশিতে সচরাচর কফ থাকে না, তবে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকে জ্বালাপোড়া করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ভাইরাসজনিত কাশি অর্থাৎ সর্দি বা ফ্লুর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ভাইরাসের সংক্রমণে কাশির পাশাপাশি সাধারণত গলাব্যথা, জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শারীরিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। এই ধরণের কাশিতে প্রায়ই কফ বা শ্লেষ্মা জমতে দেখা যায়। ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি শুরুতে হালকা থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সংক্রমণ কমে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই তা উপশম হয়। তবে বিপত্তি ঘটে তখন, যখন পরিবেশে দূষণের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত থাকে। কারণ দূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং যতক্ষণ পরিবেশে বিষাক্ত বাতাস থাকবে ততক্ষণ এই কাশি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে।
"বায়ুদূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি নিরাময়ে কেবল ওষুধ যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশের সুরক্ষা ও মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব অনেক বেশি।" — বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
কাশি কত দিন স্থায়ী হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদি আপনার কাশি টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে কাশি থাকলে তা নিমোনিয়ার লক্ষণও হতে পারে। ২০২৬ সালের এই বৈরি জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে বাইরে বের হওয়ার সময় নিয়মিত উন্নতমানের মাস্ক ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা আপনার ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলেই বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
পুষ্টিবিদদের মতে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন মূলত তাঁর শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ নিয়মে প্রতি কেজি ওজনের জন্য শূন্য দশমিক আট গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির ওজন যদি সত্তর কেজি হয়, তবে তাঁর জন্য দিনে পঞ্চান্ন থেকে ছাপ্পান্ন গ্রাম প্রোটিনই পর্যাপ্ত। অথচ অনেকে ফিটনেসের দোহাই দিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। এই বাড়তি প্রোটিন শরীর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, ফলে তা কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে খাবারের পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন কারণ তাদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। চার থেকে আট বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন বিশ থেকে পঁচিশ গ্রাম এবং নয় থেকে তেরো বছর বয়সীদের জন্য ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। কৈশোরে অর্থাৎ চৌদ্দ থেকে আঠারো বছর বয়সে ছেলেদের জন্য পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন গ্রাম এবং মেয়েদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের বদলে ডিম, দুধ, ডাল ও মাছের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত যা হাড় ও পেশির গঠনে সঠিক ভূমিকা রাখে।
২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষদের ক্ষেত্রে কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারিত হয়। সাধারণত পুরুষদের জন্য দিনে গড়ে পঞ্চান্ন থেকে ষাট গ্রাম এবং নারীদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। তবে যারা নিয়মিত ভারি ব্যায়াম বা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চাহিদা কিছুটা বেশি হতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের গঠন ও শিশুর পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখা আবশ্যক। বয়স ষাট পেরোনোর পর শরীরের পেশি ক্ষয় হতে শুরু করে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের প্রতি কেজিতে এক থেকে এক দশমিক দুই গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন যাতে তাঁরা শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে কর্মক্ষম থাকতে পারেন।
প্রোটিনের আদর্শ উৎস হিসেবে ডিম, মাছ, মুরগির মাংসের পাশাপাশি উদ্ভিদজাত উৎস যেমন ডাল, ছোলা, সয়াবিন ও বিভিন্ন ধরণের বাদাম অত্যন্ত কার্যকর। আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে মনে রাখা প্রয়োজন যে 'বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা'—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব বিপাকীয় ক্ষমতা ও চাহিদা ভিন্ন। তাই নিজের বয়স, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরণ বুঝে পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিত প্রোটিন গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার চাবিকাঠি।
পাঠকের মতামত:
- ৫ কেজি মটরশুঁটি ছাড়ানো যাবে মাত্র ৫ মিনিটে! জেনে নিন কার্যকরী পদ্ধতি
- মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বিটিআরসির বিশেষ সতর্কবার্তা
- বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
- অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
- নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান করেছে নানিয়ারচর জোন
- গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম
- ভালুকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
- বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা
- শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- ডিএসই মেইন বোর্ডে ভারসাম্যপূর্ণ টার্নওভার
- ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজকের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ডিএসইতে আজকের দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
- সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
- সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
- স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি
- ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
- ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
- পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন
- রেস্তোরাঁ স্টাইলে মিষ্টি আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির সহজ নিয়ম
- শীতে পিঠার স্বাদে ভিন্নতা আনতে পাতে রাখুন ‘বাঁধাকপির পিঠা’: জেনে নিন রেসিপি
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
- উচ্চ সুদের চাপে বিনিয়োগহীন বেসরকারি খাত, স্থবিরতা কাটছে না
- তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এর ক্রেডিট রেটিং এ চমক
- ডিএসই পরিদর্শনে পাঁচ কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
- কনকনে শীতে বিপর্যস্ত তেঁতুলিয়া: শৈত্যপ্রবাহের কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত
- কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান
- আসিফ নজরুল বনাম আইসিসি: বিশ্বকাপে কি তবে অনিশ্চিত বাংলাদেশ?
- ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক গুনবে বিশ্ব
- আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্বর্ণের দামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনা
- শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
- পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
- আইসিসির ‘বার্তা’ নিয়ে বিভ্রান্তি: উপদেষ্টা ও উপ-প্রেস সচিবের ভিন্ন সুর
- রেমিট্যান্সে একের পর এক ম্যাজিক: গত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল জানুয়ারি
- স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
- যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে
- পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
- ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
- বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








