বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি

ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যেকোনো ধরনের ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ এড়াতে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল বা মাধ্যম সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ভারতের জন্য কোনো ‘হুমকি’ কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতায় কোন ধরনের সরকার রয়েছে, তা বোঝা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে আমাদের দেখতে হবে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য নাকি কেবল আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে— এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কি না।”
ভারতীয় সেনাপ্রধান জানান যে, বর্তমানে ভারতের তিন বাহিনীই (সেনা, নৌ ও বিমান) বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছে। জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছি।”
সেনাপ্রধান আরও তথ্য দেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও তাদের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যোগাযোগের এই সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ধরনের ‘যোগাযোগের বিভ্রাট’ বা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ যেন তৈরি না হয়। জেনারেল দ্বিবেদী আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।”
সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভারত যেমন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দেশগুলোও তা করছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষসহ নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের সংখ্যা ও দায়ভার রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভে যে প্রাণহানি ঘটেছে তার জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয় পক্ষের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। তবে মোট নিহতের মধ্যে কতজন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি। এর আগে মানবাধিকার সংস্থাগুলো শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর দিলেও সরকারি পর্যায়ে ২ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য এই প্রথম সামনে এল।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও কারণ ইরানের এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। মূলত মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে ছোট পরিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই ছোট ছোট প্রতিবাদই দ্রুত দেশজুড়ে বিশাল গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। বিশেষ করে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে লাগাতার রাস্তায় অবস্থান নিতে শুরু করে।
পরিস্থিতির অবনতি ও রেজা পাহলভির ডাক গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। দেশটির নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পরপরই তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সময় থেকেই বড় ধরনের প্রাণহানি ও সহিংসতার খবর প্রচার করতে থাকে। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর ও গ্রাম এই বিক্ষোভে উত্তাল।
সরকারের অবস্থান ও তথ্যের সংকট ইরান সরকার এই সামগ্রিক অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বরাবরই চিরশত্রু দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে। তেহরানের দাবি, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’ এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে হাইজ্যাক বা দখল করে নিয়েছে এবং তারাই সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে নিহতের পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছানোর খবর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে চায়, তবে তার দেশ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের হুমকির জবাবে আরাগচি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আলোচনা বনাম যুদ্ধ প্রস্তুতি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি ‘বড় এবং ব্যাপক’।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, “যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়—যেটি তারা আগেও করেছে—আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তবে আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনার টেবিলকেই বেছে নেবে।” এসময় তিনি ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন।
চলমান অস্থিরতা ও তেহরানের অভিযোগ ইরানের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাগচির দাবি, চলমান এই আন্দোলনে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা’ ঢুকে পড়েছে, যারা বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইরান শুরু থেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং এর মধ্যে শত শত সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
বিক্ষোভের নেপথ্যে অর্থনৈতিক সংকট ইরানের এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই অর্থনৈতিক ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক গুনবে বিশ্ব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ এক আকস্মিক ও বিতর্কিত ঘোষণায় জানিয়েছেন যে যেসব দেশের ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
গত সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং এটি ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে বলেও ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে চীন, যারা বর্তমানে ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
এছাড়া ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারতের মতো দেশগুলোও এই নতুন শুল্কের কবলে পড়ে মার্কিন বাজারের সাথে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই শুল্ক আরোপের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য না দেওয়া হলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ছাড় দেবে না।
এই নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রাম্প কেবল অর্থনৈতিক চাপেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়ে রেখেছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট গতকাল নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের ওপর বিমান হামলাসহ সম্ভাব্য সব ধরণের সামরিক বিকল্প বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের ‘টেবিলে রয়েছে’। গত বছরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈধতা নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রিয়ালের মান রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে তেহরানের সাধারণ দোকানিরা রাস্তায় নেমে এসেছেন যা এখন গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
ইরানের ভেতরে চলমান এই সহিংসতার বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর খবর যাচাই করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আশঙ্কা প্রকাশ করছে কারণ বর্তমানে ইরানের ভেতর থেকে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করলেও কোনো বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। বর্তমানে ৪০ শতাংশেরও বেশি মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানে মাংস ও রান্নার তেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে যা বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে।
ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যুদ্ধের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আরাঘচি বলেন, তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রেখেছে, তবে সেই আলোচনা হতে হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তবে আরাঘচি সেই দাবিকে মার্কিন কৌশল হিসেবেই ইঙ্গিত করেছেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন 'সহিংস ও রক্তক্ষয়ী' রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সহিংসতার নেপথ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির সুযোগ নিয়ে 'সন্ত্রাসীরা' নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ উভয়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও প্রকাশ করা হবে।
বিক্ষোভের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিহত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্যের স্মরণে ইরান সরকার আজ থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে দেশজুড়ে চলমান ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং ভেতরের চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আব্বাস আরাঘচি এই ব্ল্যাকআউটকে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করার যে হুমকি দিয়েছে, তা পুরো অঞ্চলকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মহলে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ওই ছবির নিচে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি এই নতুন পদে আসীন হয়েছেন। এই ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা ও রক্তক্ষয়ী অভিযান চালিয়ে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মার্কিন আদালতে বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছে। মাদুরোকে আটকের সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার পেছনে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি করবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ সরকার সংস্কারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। রুবিও আরও যোগ করেছেন যে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উপযুক্ত সময়ে তেলের মালিকানা পুনরায় ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মূলত তেল সমৃদ্ধ এই দেশটির ওপর মার্কিন আধিপত্য পুরোপুরি নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদুরো অপহৃত হওয়ার পরপরই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন জানিয়েছে। রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্পের বর্তমান ঘোষণা সেই প্রস্তাবকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এখন ভেনেজুয়েলায় একই সঙ্গে ডেলসি রদ্রিগেজ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করছেন যা দেশটির সার্বভৌমত্বকে এক চরম আইনি ও প্রশাসনিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না তা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল এবং রয়টার্স।
লাশ আর গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিবেকের দরজায় ইরান
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা এখন ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৫৩৮ জনে। এর মধ্যে ৪৯০ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ২০২২ সালের ঐতিহাসিক বিক্ষোভের পর ইরান শাসনগোষ্ঠী এখন পর্যন্ত সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে তেহরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন হামলা হলে তার ‘শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে।
বিক্ষোভের ভয়াবহতা কেবল প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এইচআরএএনএ জানিয়েছে যে, গত কয়েক দিনে সারা দেশ থেকে ১০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ কারাগারগুলো এখন ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানের ভেতরে আসলে কী ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে, তার প্রকৃত চিত্র পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’-এর আড়ালে সরকার বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
ইরানের বর্তমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি। গত ২৮ ডিসেম্বর ছোট পরিসরে প্রতিবাদ শুরু হলেও তা দ্রুতই রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। তবে ইরান সরকার এই আন্দোলনের জন্য নিজেদের ব্যর্থতাকে দায়ী না করে উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তাদের অভিযোগ, এই দুই দেশ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অভ্যন্তরীণ সংকট এখন কেবল একটি দেশের গণ্ডির মধ্যে নেই, বরং এটি বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। ২০২৬ সালের এই জানুয়ারি মাস ইরানের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে আবির্ভূত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। যে ব্যবসায়ীরা এক সময় ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন এবং চার দশক ধরে বর্তমান শাসনের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই এখন রাজপথে নেমে এসেছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাজারের ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, এটি তারই চরম বহিঃপ্রকাশ।
বিক্ষোভের মূল কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে ‘বেসরকারিকরণের’ নামে ইরানের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং বিভিন্ন বড় বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে আমদানি লাইসেন্স থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রার সুবিধা—সবকিছুই এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর কুক্ষিগত হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়লেও আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, যা এই বিশাল ব্যবসায়ী শ্রেণির মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান সংকটে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ দরপতন। নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা না পারছেন মাল কিনতে, না পারছেন বিক্রি করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদ নয়, এটি ইরানের শাসনকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফল। খামেনি শাসনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী শ্রেণির সাথে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিদ্রোহ দমনে সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট: বক্সিং থেকে নাচ—সবই করছে রোবট!
লাস ভেগাসের চার দিনব্যাপী প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এবার চীনের জয়জয়কার ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় অংশগ্রহণকারী এক হাজারের বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ৫৫ শতাংশ ছিল মানবাকৃতি রোবট বা ‘হিউম্যানয়েড রোবট’ নির্মাতা। লাস ভেগাস কনভেনশন সেন্টারের বিশাল প্রাঙ্গণে টিসিএল (TCL) তাদের ইতিহাসের সবথেকে বড় বুথ স্থাপন করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। তবে এবারের প্রদর্শনীর প্রকৃত নায়ক ছিল ‘ফিজিক্যাল এআই’। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এই সময়টিকে রোবট প্রযুক্তির ‘চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এআই এখন কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিন থেকে বেরিয়ে সরাসরি গাড়ি, রোবট এবং ভারী যন্ত্রপাতিতে যুক্ত হয়ে বাস্তব কাজ শুরু করেছে।
চীনের বিখ্যাত রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি, ইঞ্জিনএআই এবং এক্স-হিউম্যানয়েড তাদের তৈরি আধুনিক রোবট দিয়ে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয়। কোনো রোবট নিখুঁতভাবে বক্সিং দেখাচ্ছে, কেউ আবার মানুষের মতো ছন্দ মিলিয়ে নাচছে কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়াতে পারছে। বিশেষ করে ইউনিট্রির তৈরি ‘জি১’ মডেলের রোবটটি তার চমৎকার ভারসাম্য এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে সবার আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রোবটের হার্ডওয়্যার বা অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে তারা এখন বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট দৌড়ে চীন হার্ডওয়্যারে শীর্ষে থাকলেও বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ বা সফটওয়্যারের দিক থেকে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা এবারের মেলা পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে, চীন খুব দ্রুত এই ব্যবধান কমিয়ে আনছে এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দশকে বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করে দেবে এই ‘ফিজিক্যাল এআই’ এবং রোবট তৈরির সক্ষমতা। সিইএস ২০২৬ স্পষ্ট করে দিল যে, রোবট বিপ্লবের এই লড়াইয়ে চীন ইতিমধ্যেই একটি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে ইতিমধেই অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই উত্তেজনার রেশ ধরে গত শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিশেষ টেলিফোন আলাপে অংশ নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, তাঁদের আলোচনায় ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের কলাকৌশল এবং পরবর্তী নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রাধান্য পেয়েছে। ইসরায়েল বর্তমানে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
মার্কিন এই হুমকির বিপরীতে ইরানও তাদের রণকৌশল পরিষ্কার করেছে। রোববার ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরণের হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত আসলে তারা বসে থাকবে না। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কোনো বিদেশী শক্তির চাপে বা দেশীয় বিক্ষোভের মুখে তাঁরা এক চুলও পিছু হটবেন না।
বর্তমান এই সংকট মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আলটিমেটাম এবং খামেনির অনড় অবস্থান—দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তিধর দুই পক্ষের এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি সত্যি সামরিক লড়াইয়ে রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের ওপর। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই আসন্ন সংঘাত ঠেকাতে কোনো কার্যকরী মধ্যস্থতা করতে পারে কি না, নাকি ২০২৬ সালের এই শীত নতুন কোনো মহাযুদ্ধের সাক্ষী হয়।
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি
- অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজপথের জনসমুদ্র: ইরানে কেন থামছে না বিক্ষোভ?
- নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান করেছে নানিয়ারচর জোন
- গণভোটে ‘না’ ভোট মানেই গণ-অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা: নাহিদ ইসলাম
- ভালুকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
- বিসিবি ও আইসিসি বৈঠক: বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কাটছে না জটিলতা
- শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
- ডিএসই মেইন বোর্ডে ভারসাম্যপূর্ণ টার্নওভার
- ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজকের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ডিএসইতে আজকের দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
- সময় বদলেছে, নাগরিক প্রত্যাশাও বেড়েছে: আমীর খসরু
- সাবেক এমপি মমতাজ বেগমের বিপুল সম্পদ জব্দের আদেশ
- স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- ভারতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে আইসিসির উদ্বেগ, পাঠানো হলো চিঠি
- ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: আব্বাস আরাগচি
- ওজন হাতের মুঠোয় রাখতে চান? ডিনার শেষে পান করুন এই পানীয়
- পেঁপে কিনছেন? রাসায়নিকযুক্ত ফল চেনার সহজ কিছু উপায় জেনে নিন
- রেস্তোরাঁ স্টাইলে মিষ্টি আলুর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির সহজ নিয়ম
- শীতে পিঠার স্বাদে ভিন্নতা আনতে পাতে রাখুন ‘বাঁধাকপির পিঠা’: জেনে নিন রেসিপি
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- ডিএসই–৩০ শেয়ারে মিশ্র সূচনা, ব্যাংক খাতে ইতিবাচক ধারা
- উচ্চ সুদের চাপে বিনিয়োগহীন বেসরকারি খাত, স্থবিরতা কাটছে না
- তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স এর ক্রেডিট রেটিং এ চমক
- ডিএসই পরিদর্শনে পাঁচ কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
- কনকনে শীতে বিপর্যস্ত তেঁতুলিয়া: শৈত্যপ্রবাহের কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত
- কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না: ডা. শফিকুর রহমান
- আসিফ নজরুল বনাম আইসিসি: বিশ্বকাপে কি তবে অনিশ্চিত বাংলাদেশ?
- ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই ২৫% শুল্ক গুনবে বিশ্ব
- আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্বর্ণের দামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনা
- শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
- পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
- আইসিসির ‘বার্তা’ নিয়ে বিভ্রান্তি: উপদেষ্টা ও উপ-প্রেস সচিবের ভিন্ন সুর
- রেমিট্যান্সে একের পর এক ম্যাজিক: গত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল জানুয়ারি
- স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
- যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে
- পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
- ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
- বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
- মুস্তাফিজকে দলে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ? আইসিসির অদ্ভুত শর্তে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাউশির চিঠি, নেপথ্যে কী
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- আজকের আবহাওয়া আপডেট: কোথায় কতটা শীত








