রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:৫২:৩৮
রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
ছবি : সংগৃহীত

আজ রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মুদ্রাবাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

আজকের বাজারে প্রতি মার্কিন ডলার কেনা হচ্ছে ১২২ টাকা ২৯ পয়সায় এবং বিক্রি করা হচ্ছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সায়।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী, যেখানে প্রতিটি ইউরো কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১৪৩ টাকা ৩১ পয়সা এবং বিক্রি হচ্ছে ১৪৩ টাকা ৩৫ পয়সায়।

যুক্তরাজ্যের মুদ্রা ব্রিটিশ পাউন্ডের দর আজ বেশ চড়া; এর কেনা দাম ১৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৪ টাকা ৬৬ পয়সা।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রার ক্ষেত্রে আজ কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতিটি ভারতীয় রুপি আজ ১ টাকা ৩৬ পয়সায় কেনা ও ১ টাকা ৩৬ পয়সাতেই বিক্রি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রার মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের কেনা দাম ৯৫ টাকা ০৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার আজ কেনা হচ্ছে ৮১ টাকা ৮৫ পয়সায় এবং বিক্রি করা হচ্ছে ৮১ টাকা ৮৭ পয়সায়। প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে এই মুদ্রার দরগুলোর দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।

পূর্ব এশিয়ার মুদ্রাবাজারে আজ চীনা ইউয়ান কেনা হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৪ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৫ পয়সায়।

জাপানি ইয়েন আজ ০ টাকা ৭৮ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মুদ্রার এই বিনিময় হার ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনার হিসাবটি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুদ্রাবাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


আজকের স্বর্ণের দাম: ১১ জানুয়ারি ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৯:২৭:২১
আজকের স্বর্ণের দাম: ১১ জানুয়ারি ২০২৬

স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হবে। এর ফলে আজ ১১ জানুয়ারি থেকে সব থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। বর্তমান এই দামটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ দরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বর্ণের দাম বাড়লেও স্বস্তির খবর হলো রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজুসের নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের প্রতি ভরির জন্য ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। উল্লেখ্য যে, স্বর্ণের এই বিক্রয়মূল্যের সাথে জুয়েলার্সদের নির্ধারিত মজুরি এবং সরকারি ভ্যাট যুক্ত হবে, যা চূড়ান্ত ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ববাজারে সোনার সরবরাহ এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন না আসায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন সাধারণ ক্রেতারা। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯২৫ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৬৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিয়ের মৌসুম চলায় স্বর্ণের এমন উচ্চমূল্য মধ্যবিত্ত পরিবারের গয়না কেনার বাজেটে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেজাবি স্বর্ণের মজুতের ওপর।


বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:৫০:৫৩
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় আবার তা বাড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বাজুসের নতুন মূল্য তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায়। বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে গহনা বিক্রির সময় এই মূল্যের সঙ্গে সরকারকে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সংগঠন কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির এই হার ভিন্ন হতে পারে যা ক্রেতাদের মাথায় রাখা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়েছিল যা ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ৪৮ ঘণ্টাও স্থায়ী হয়নি। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সংকটের কারণে বাজুস ফের দাম বাড়ানোর পথে হেঁটেছে। বিয়ে বা অন্যান্য উৎসবের এই মৌসুমে স্বর্ণের এমন ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গহনা কেনাকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৪:০৯:৩৪
অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২.৭ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একাধিক অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হার এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩.২ শতাংশ, যা বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ঝুঁকিও তীব্র করছে।

তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করেছে, কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। তবে অঞ্চলভেদে প্রবৃদ্ধির গতি ভিন্ন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ১.৯ শতাংশে নেমে আসে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ থাকলেও আবাসন এবং বাণিজ্যিক নির্মাণ খাতে দুর্বলতা দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করেছে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাপানের অর্থনীতি চলতি বছরে ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ১.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে জাপানের গাড়ি রপ্তানি বিশেষভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ১.৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা আবার বেড়ে ১.৬ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ এসব অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালে এসব দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্ব এশিয়ায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগের বছরের ৪.৯ শতাংশের চেয়ে কম। চীনের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে থাকবে।

আফ্রিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও উচ্চ ঋণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে থাকছে। অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশ থেকে ২০২৭ সালে ৪.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ২০২৭ সালে তা আবার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।

-রফিক


রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১২:৩৪:২৯
রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অর্থবাজারের চলমান ওঠানামা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুদ্রার দরে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক ডলার প্রবাহ, সুদের হার, আমদানি ব্যয় এবং রেমিট্যান্স প্রবণতা মিলিয়ে বিনিময় হারে স্বল্পমেয়াদি তারতম্য তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত।

আজকের হালনাগাদ বিনিময় হার (বাংলাদেশি টাকায়)

শনিবারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো-

মার্কিন ডলার (USD): ১২২ টাকা ৩১ পয়সা

ইউরো (EUR): ১৪২ টাকা ৭৯ পয়সা

ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP): ১৬৪ টাকা ৬১ পয়সা

ভারতীয় রুপি (INR): ১ টাকা ৩৬ পয়সা

মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): ৩০ টাকা

সিঙ্গাপুরি ডলার (SGD): ৯৫ টাকা ৪২ পয়সা

সৌদি রিয়াল (SAR): ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা

কুয়েতি দিনার (KWD): ৩৯৭ টাকা ৪৮ পয়সা

অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): ৮২ টাকা ৭১ পয়সা

এই হারগুলো মূলত বৈদেশিক লেনদেন, রেমিট্যান্স হিসাব এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


স্বর্ণের পর রুপার দামেও বড় ছাড়! আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য 

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:১৪:৩৭
স্বর্ণের পর রুপার দামেও বড় ছাড়! আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য 
ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে সারা দেশে সংশোধিত মূল্যে স্বর্ণ ও রুপা কেনাবেচা হবে। সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে এই দরপতন কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মানভেদে প্রতিটি ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামই কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা। এছাড়া যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাঁদের জন্য প্রতি ভরির দাম পড়বে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।

ভ্যাট ও মজুরির নতুন সমীকরণ বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঘোষিত মূল্যের সাথে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি গয়না তৈরির জন্য নূন্যতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে, তবে অলংকারের নকশা ও কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সাথে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি ক্রেতাদের আগেভাগেই মনে করিয়ে দিয়েছে।

রুপার দামে বড় পতন ও বাজার বিশ্লেষণ স্বর্ণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রুপার দামেও বড় ধরণের সমন্বয় সাধন করেছে বাজুস। প্রতি ভরিতে ৩৮৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা ভরিতে বিক্রি হবে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ দিনেই রুপার দাম তিনবার সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে দুইবারই দাম কমানোর ঘটনা ঘটল।

উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালটি ছিল জুয়েলারি বাজারের জন্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ওই বছর মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বারই দাম বৃদ্ধির খবর শুনতে হয়েছিল ক্রেতাদের। বিপরীতে দাম কমার ঘটনা ঘটেছিল মাত্র তিনবার। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুতেই স্বর্ণ ও রুপার এই দরপতন বাজার স্থিতিশীল হওয়ার একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।


আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১১:৪২:৩২
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার হালনাগাদ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত এই তালিকায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে মুদ্রাবাজারে কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কার্যদিবসে লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার যে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ব্যাংকিং লেনদেন ও বৈদেশিক বাণিজ্যে দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, প্রবাসী আয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে এই হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বিনিময় হারে প্রতি মার্কিন ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২২ টাকা ৩৬ পয়সা দরে। ইউরোর বিপরীতে টাকার দর দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ৮১ পয়সা, আর ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে তা বেড়ে হয়েছে ১৬৪ টাকা ৬২ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩২ টাকা ৬৩ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই দেরহাম ৩৩ টাকা ৩২ পয়সা, কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৬১ পয়সা, ওমানি রিয়াল ৩১৭ টাকা ৯৩ পয়সা এবং বাহরাইন দিনার ৩২৫ টাকা ১৭ পয়সা। কুয়েতি দিনার সর্বোচ্চ দরের মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে ৩৯৮ টাকা ১৪ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে।

এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যে মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিনিময় হার ৩০ টাকা ১১ পয়সা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৫ টাকা ২১ পয়সা, ব্রুনাই ডলার ৯৫ টাকা ২০ পয়সা, চীনা রেনমিনবি ১৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং ভারতীয় রুপি ১ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপানি ইয়েন ও দক্ষিণ কোরিয়ান ওনের মতো অপেক্ষাকৃত নিম্নমূল্যের মুদ্রার ক্ষেত্রে যথাক্রমে ০ টাকা ৭৯ পয়সা ও ০ টাকা ০৮ পয়সা হার নির্ধারিত হয়েছে।

ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মুদ্রার মধ্যে কানাডিয়ান ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকা ৫২ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮২ টাকা ০৮ পয়সা, দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড ৭ টাকা ৪৭ পয়সা, তুরস্কের লিরা ২ টাকা ৮৪ পয়সা, লিবিয়ান দিনার ২২ টাকা ৫৪ পয়সা এবং মালদ্বীপিয়ান রুপি ৭ টাকা ৯১ পয়সা দরে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের অবস্থা, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈশ্বিক সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব মুদ্রার বিনিময় হারে সময়ভেদে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে হালনাগাদ দর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রফিক


স্বর্ণের দামে ফের পতন, কমল রূপার দামও

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১০:৪৯:১৯
স্বর্ণের দামে ফের পতন, কমল রূপার দামও
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যহ্রাসের ঘোষণা এসেছে। ভরিতে এক হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ঘোষণায় বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে সারাদেশে স্বর্ণের নতুন এ দর কার্যকর হবে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ মূল্যহ্রাস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা। একই সঙ্গে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা, কারুকাজ ও মানের ভেদে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে, ফলে চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই স্বর্ণের দামে একাধিকবার সমন্বয় দেখা গেছে। এর আগে ৫ জানুয়ারি ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস, যা ৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। সর্বশেষ ঘোষণায় সেই বৃদ্ধির একটি অংশ কার্যত প্রত্যাহার করা হলো।

স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার দামেও হ্রাস আনা হয়েছে। বাজুসের তথ্যমতে, ভরিতে ৩৮৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রূপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট রূপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

-রফিক


ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও বড় চমক! ৭ দিনেই রেমিট্যান্সের নতুন ইতিহাস

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২১:২১:১১
ডিসেম্বরের পর জানুয়ারিতেও বড় চমক! ৭ দিনেই রেমিট্যান্সের নতুন ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে বইতে শুরু করেছে দারুণ হাওয়া। ২০২৬ সালের প্রথম সাত দিনেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এক অভাবনীয় গতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই প্রবাসীরা বৈধ পথে প্রায় ৯০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সাত দিনে দেশে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক। ২০২৫ সালের জানুয়ারির প্রথম সাত দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে এই খাতের আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত ৭ জানুয়ারি কেবল এক দিনেই প্রবাসীরা ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দৈনিক রেকর্ড।

চলতি অর্থবছরের পরিসংখ্যান ও প্রবৃদ্ধির চিত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ গত জুলাই থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭১৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। মূলত সরকারের বিভিন্ন উৎসাহমূলক পদক্ষেপ এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর এই হার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

অতীতের রেকর্ড ও ধারাবাহিক সাফল্য সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসেও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্য দেখা গিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে প্রবাসীরা মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন, যা চলতি অর্থবছরের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের কোনো নির্দিষ্ট মাসে প্রাপ্ত প্রবাসী আয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। গত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি মাসেই আয়ের পরিমাণ ছিল আড়াইশ কোটি ডলারের ওপরে। জুলাই ও আগস্ট মাসেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল ২৪০ কোটি ডলারের বেশি।

উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরটি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ইতিহাসের জন্য ছিল মাইলফলক। সেই পুরো অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। নতুন বছরের শুরুতেই ৯০ কোটি ডলারের এই ইতিবাচক ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালটিও হতে পারে রেমিট্যান্সের জন্য আরও একটি রেকর্ড গড়ার বছর।


বিশ্ববাজারে কেন কমল স্বর্ণের দাম? মার্কিন ডলারের দাপটে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা

অর্থনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৮:৫৩:০৩
বিশ্ববাজারে কেন কমল স্বর্ণের দাম? মার্কিন ডলারের দাপটে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আজ নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত মার্কিন ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৫টা ৩৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২৩ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। বিশ্ববাজারের এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটেও।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার মূল্য আজ শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলার যখন শক্তিশালী হয়, তখন অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক চাহিদার ওপর। উল্লেখ্য যে, এই পতনের ধারা কেবল আজই নয়, এর আগের দিন বুধবারও স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। এই প্রতিবেদনটি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগের গতিপথ ঠিক করে দেবে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এমন বড় ধরণের তথ্য প্রকাশের আগে নতুন করে বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চান না, যা বাজারে এক ধরণের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। ডলারের এই একচ্ছত্র দাপটের সামনে স্বর্ণের নিরাপদ বিনিয়োগের তকমা কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে নানা অস্থিরতা এবং বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও, স্বর্ণের বাজারে এর প্রভাব বর্তমানে খুবই সামান্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়েও মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থানই বর্তমান স্বর্ণবাজারকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী গতি ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের অপেক্ষায় থাকা বড় বিনিয়োগকারীদের সাবধানী পদক্ষেপই স্বর্ণের দামকে নিম্নমুখী করে রেখেছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত