বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষায় অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ইরানি জনগণের রক্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত রঞ্জিত।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক কঠোর ভাষণে খামেনি দাবি করেন, তথাকথিত ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এ এক হাজারের বেশি ইরানির প্রাণহানির জন্য ট্রাম্প প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বরং সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন।
খামেনি ট্রাম্পের আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সংঘাত চলাকালে তিনি নিজেই ‘আদেশ দেওয়ার’ কথা স্বীকার করেছেন, যা কার্যত দায় স্বীকারের সমান। খামেনির ভাষায়, ট্রাম্প একদিকে নিজেকে ইরানি জনগণের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করেন, অন্যদিকে তার নীতির ফলেই ইরানিদের প্রাণ ঝরে এই দ্বিচারিতা তিনি প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন।
ভাষণে খামেনি দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুর নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসম্পত্তি ধ্বংসের পেছনে কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছে।
তার অভিযোগ, কেউ কেউ বিদেশি শক্তির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যা ইরানি জাতির মর্যাদার পরিপন্থী। খামেনির ভাষায়, ইরানি জনগণ কখনোই ভাড়াটে মানসিকতা বা বিদেশি এজেন্ডা মেনে নেয় না এবং এ ধরনের তৎপরতা জাতি প্রত্যাখ্যান করবে।
ইরানের তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি সম্বোধন করে খামেনি জাতীয় ঐক্য ও সতর্কতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো বহির্শত্রুকে মোকাবিলা করতে সক্ষম। তার মতে, লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অস্থিরতা বা চাপের মুখে এই ব্যবস্থা কখনো পিছু হটবে না।
খামেনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট ও সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ভাষণের একপর্যায়ে খামেনি ইতিহাসের বিভিন্ন উদ্ধত শাসকের পতনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি ফেরাউন ও নমরুদের পাশাপাশি ইরানের সাবেক শাসক রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের নাম উল্লেখ করেন। তার ইঙ্গিত, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা যারা অহংকারে অন্ধ হয়ে ওঠে, শেষ পর্যন্ত তারাও পতনের মুখোমুখি হয়। খামেনির মন্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পও সেই পরিণতি থেকে ব্যতিক্রম নন।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে তার বৈঠক করা এই মুহূর্তে উপযুক্ত হবে না। এতে স্পষ্ট হয়, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে ওয়াশিংটন আপাতত অনিচ্ছুক। যদিও ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী নেতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেননি।
-রফিক
রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশে উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। উড্ডয়নকালে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই ড্রোনটির সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ নজরদারি মিশন শেষে ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নৌঘাঁটিতে ফিরছিল।
ফেরার পথে ড্রোনটি থেকে জরুরি অবস্থা নির্দেশক ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়। এরপর ড্রোনটি হঠাৎ ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি রাডার থেকে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ইরানের পক্ষ থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই দিন আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা যখন কার্যকর হওয়ার কথা, ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রোন নিখোঁজের এই ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়া এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দামি নজরদারি সরঞ্জাম, যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা) বেশি।
এটি সাধারণত ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন করতে সক্ষম এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারির জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত।
সুইডেনভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক এই সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।
প্রতিদিনের হিসেবে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান ও নৌ অভিযানে। ড্রোন নিখোঁজের এই নতুন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের বোঝাকে আরও ভারী করতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, এনডিটিভি
যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ, যা অঞ্চলটিকে একটি গভীর মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দুটি প্রধান হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলমান হামলার ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গত কয়েক সপ্তাহে লেবাননে শত শত শিশু হতাহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত ইতোমধ্যেই লেবাননে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, লেবাননে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একাধিক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সামরিক অভিযান সাময়িক কৌশলগত সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কাতার ও যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তারা একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তেহরানের সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে। দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণ ও হামলার পর শহরজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেকেই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তারা আশঙ্কা করছে, এই শান্তি হয়তো স্থায়ী হবে না।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বিমুখী বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বই মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজ থেকে ‘ফি’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই ধরনের কার্যক্রম ‘এখনই বন্ধ করতে হবে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুদিন আগে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও উত্তেজনার কালো মেঘ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ইরান ফি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যদি এই পথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখে তবেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরান এখন জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও দাবি করেন যে, তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, খুব শিগগিরই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আচরণের ওপর। একদিকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘এখনই বন্ধ করো’ আল্টিমেটাম পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জ্বালানি বাজারের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ইরান এই টোল বা ফি আদায় বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্পের নির্দেশে আবারও মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের আকাশে গর্জে উঠতে পারে। আপাতত সবার নজর এখন ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাব এবং হরমুজ প্রণালির বাস্তব পরিস্থিতির দিকে।
/আশিক
যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা এই মামলার শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে আগামী রবিবার থেকে।
ইসরাইলি আদালতের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় এখন থেকে মামলার শুনানি নিয়মিতভাবে চলবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আদালতের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ফলে রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল, অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীকে ফৌজদারি মামলায় বিচারাধীন হতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়, যদিও তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তা বারবার বিলম্বিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর কাছে তাকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইসরাইলে নতুন করে কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়, যা সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে ইরান, যা বৈশ্বিক তেল ও বাণিজ্য বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে তেল সরবরাহ হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করত। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত এই পথ অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল শুধু সীমিতই নয়, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি জাহাজের চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে এবং নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলতে হবে।
এই নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারকি করবে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে।
এই প্রণালি শুধু তেলের জন্য নয়, সার, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহনের জন্যও অপরিহার্য। ফলে এর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে, যেখানে দুই পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
-রফিক
পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ-এর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। এক বার্তায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর কার্যালয় জানায়, ইসরাইলকে নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, যখন সংশ্লিষ্ট দেশ নিজেকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। তাদের মতে, শান্তি প্রক্রিয়ার সময় এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ ইসরাইলকে ‘অশুভ শক্তি’ এবং ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও লেবাননে ইসরাইল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে লেবাননে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তান ও ইসরাইলের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
-রফিক
শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে, যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিফোনে আলোচনায় অংশ নেন। এই সংলাপকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক বর্তমান পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন এবং সংঘাত-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন।
তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কীভাবে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা যায়। বিশেষ করে উত্তেজনা কমিয়ে আনার কৌশল এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই যোগাযোগের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট, যেখানে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হয়ে ওঠে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
মধ্যপ্রাচ্যে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরপরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই হামলাকে ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যা পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের এই আক্রমণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ চলতে থাকলে শান্তি আলোচনার অর্থই হারিয়ে যাবে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়বে।
তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, লেবাননের জনগণের পাশে ইরান সবসময় থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, লেবানন এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ ইরানের কৌশলগত অংশীদার এবং এই সমীকরণকে উপেক্ষা করে কোনো যুদ্ধবিরতি টেকসই হতে পারে না।
তিনি আরও সতর্ক করে দেন যে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের প্রতিটি ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন, যখন ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রয়োজন হলে যেকোনো স্থানে সামরিক অভিযান চালানো হবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরায়েল সংঘাতের পরিসর সীমিত রাখতে আগ্রহী নয়।
সূত্র:আল-জাজিরা
ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তবে এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরে ইরানবিরোধী অবস্থান এবং কঠোর সামরিক কৌশল গ্রহণের পরও শেষ পর্যন্ত একটি অস্পষ্ট ও নাজুক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো তার পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা মহল শুরু থেকেই ইসরাইলের ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন’ সংক্রান্ত ধারণাকে বাস্তবতাবিবর্জিত হিসেবে দেখেছিল। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক পরিকল্পনা ছিল স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের মাধ্যমে দ্রুত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে এক মাসব্যাপী সংঘাতে রূপ নেয়, যা তাদের হিসাব-নিকাশকে সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণ করে। এমনকি যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে পর্যন্ত নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে চুক্তিতে সম্মত না হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসন নিজস্ব কৌশলগত বিবেচনায় অবস্থান পরিবর্তন করে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে ইসরাইল কার্যত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ইসরাইল আলোচনার টেবিলে কার্যকর উপস্থিতি রাখতে পারেনি, যা সরকারের কৌশলগত ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে।
একই ধরনের সমালোচনা এসেছে বামপন্থি রাজনীতিক ইয়ার গোলান-এর কাছ থেকেও। তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার বিচ্ছিন্ন মূল্যায়ন ইসরাইলকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
নেতানিয়াহুর ঘোষিত মূল লক্ষ্যগুলো যেমন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন, ইউরেনিয়াম মজুদ দখল কিংবা রাষ্ট্র কাঠামো দুর্বল করা কোনোটিই অর্জিত হয়নি। বরং দীর্ঘস্থায়ী হামলার পরও টিকে গিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে কিছু কৌশলগত সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে হিজবুল্লাহর মতো সুসংগঠিত বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির ভাবমূর্তি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এই নতুন ব্যর্থতা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরার পরও বাস্তবে সেই সংকটের সমাধান না হওয়ায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- ১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
- ঢাকাসহ ৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা
- বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
- রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
- আওয়ামী প্রশ্ন: নিষিদ্ধের রাজনীতি নাকি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ?
- যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
- নানিয়ারচর জোন কমান্ডার কর্তৃক বিদায়ী সংবর্ধনা ও ক্রীড়া পুরুস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
- দেবিদ্বারে ইমামকে মারধর ও হেনস্তা: বিচারের দাবিতে ইউএনও’কে স্মারকলিপি
- বদলে যাবে কুমিল্লা নগরীর চিত্র: ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প
- কানেক্ট বাংলাদেশ ইউকে'র উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
- টানা দুই দিন ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দুপুরের মধ্যে ৪ জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবের শঙ্কা: ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- ফি আদায় বন্ধ না করলে যুদ্ধের হুমকি: ইরানের ওপর চটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- জ্বালানি সংকটে স্বস্তি: ৫ দিনে ৫ জাহাজ ভর্তি এলএনজি-এলপিজি আসছে দেশে
- যুদ্ধের পর আদালতে নেতানিয়াহু, শুরু দুর্নীতি বিচার
- হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- চার অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, বৃষ্টি সম্ভাবনা
- পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
- আজকের টিভি খেলা: কোন ম্যাচ কখন
- ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা, আবেগে ভাসলেন মুসল্লিরা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন বিস্তারিত
- আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- হাম হলে কী করবেন? জরুরি নির্দেশনা জানুন
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- যুদ্ধবিরতির পর প্রথম ইরান-সৌদি কূটনৈতিক যোগাযোগ
- গণবিরোধী বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে সেরা ১০ গেইনার শেয়ার তালিকা
- শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত
- যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
- ৯ এপ্রিলের নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- রাতে ইউরোপ মাতাবে হাইভোল্টেজ ফুটবল, জানুন আজকের খেলাধুলা সূচি
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- ইরানকে অস্ত্র দিলে ৫০% শুল্ক, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- ডলারে নয়, ইউয়ানে টোল! হরমুজ প্রণালিতে ইরান-চীনের বড় চাল
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
- রাতভর ৮ বিভাগে কালবৈশাখীর তাণ্ডবের শঙ্কা: ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানি তেল শোধনাগারে হামলা: জ্বলছে লাভান দ্বীপ
- তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়
- আগামীকাল ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- লেবাননজুড়ে ইতিহাসের বড় হামলা চালাল ইসরায়েল
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- যুদ্ধ এখন ইরানি ভূখণ্ডে! মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশে চরমে উত্তেজনা
- আজকের শেয়ারবাজারে বেশি লোকসানে যেসব কোম্পানি
- আজ বের হওয়ার আগে সাবধান! দেখে নিন ঢাকার কোথায় কোথায় দোকান বন্ধ
- ইরান যুদ্ধে কৌশলগত ব্যর্থতায় ইসরাইল, প্রশ্ন নেতৃত্বে
- তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক! উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
- যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য








