আজ টিভিতে যত খেলা: বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১০:৫৮:৫৪
আজ টিভিতে যত খেলা: বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা
ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ক্রীড়াঙ্গণে রয়েছে জমজমাট আয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং ইউরোপিয়ান ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আজ টেলিভিশনের পর্দায় উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দিনটি বেশ ব্যস্ত সময়সূচিতে ভরপুর।

ক্রিকেট

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আজ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ২টায়, সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।

দিনের দ্বিতীয় বিপিএল ম্যাচে সন্ধ্যায় লড়বে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রংপুর রাইডার্স। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়, সম্প্রচার থাকবে একই চ্যানেলে।

আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও আজ রয়েছে উত্তেজনা। বিগ ব্যাশ লিগ–এ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মুখোমুখি হবে হোবার্ট হারিকেন্স ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। ম্যাচটি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস ২–এ।

আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে, সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ২০–এ রাতে ৯টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে ডারবান জায়ান্টস ও ইস্টার্ন কেপ। ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১–এ।

ফুটবল

ফুটবলেও আজ রয়েছে ইউরোপিয়ান লিগের আকর্ষণীয় ম্যাচ। জার্মানির শীর্ষ লিগ বুন্দেসলিগা–এ বরুসিয়া ডর্টমুন্ড মুখোমুখি হবে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট–এর। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে, সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস ১।

একাধিক ম্যাচের সময় কাছাকাছি হওয়ায় প্রিয় খেলা মিস না করতে আগেভাগেই সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

-শরিফুল


ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৪২:৪০
ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে পরাশক্তি দেশগুলোর মধ্যকার দ্বৈরথ মানেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে অন্যরকম এক উন্মাদনা। মাঠের এই তীব্র রোমাঞ্চকে টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে এবং শীর্ষ দলগুলোকে প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশলগত কাঠামো চালু করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ফিফা কর্তৃক প্রণীত সেই বিশেষ নিয়মের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও কার্যকারিতা এখন স্পষ্ট রূপ পেয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের সময় এমন একটি বিশেষ বিন্যাসে সাজানো হয়, যাতে তারা সেমিফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানোর আগে কোনোভাবেই মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি না হতে পারে। এই নিয়মের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলে ফেভারিট দলগুলোর জন্য টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথ অনেকটাই কণ্টকমুক্ত ও সহজ হয়ে যায়। ড্রয়ের গাণিতিক বিন্যাস অনুসারে, র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়। সে সময়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা স্পেন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনাকে ড্রয়ের বিপরীত দুই ভাগে রাখা হয়েছিল। অনুরূপভাবে, র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও বিপরীত অংশে স্থাপন করা হয়।

তবে ফিফার তৈরি করা এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করার পেছনে দলগুলোর জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল; চার দলকেই বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বা গ্রুপসেরা হতে হতো। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—চারটি দলই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখায় ফিফার সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি শতভাগ সফল ও কার্যকর হয়েছে। এর ফলে চলমান কোয়ার্টার ফাইনালে এই চার পরাশক্তির কেউই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং প্রত্যেকেই পেয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষ। শেষ আটের সমীকরণে এখন স্পেনের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, ফ্রান্সের সামনে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামবে নরওয়ে।

টুর্নামেন্টের একদম শুরুর দিকেই বড় দলগুলোর পারস্পরিক বিদায় বা ছিটকে যাওয়া এড়ানো এবং শেষ দিকে দর্শকদের আরও আকর্ষণীয় ও হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত সিডিংয়ের এই আধুনিক পদ্ধতিটি ফুটবলে যুক্ত করেছে ফিফা। ফুটবলের জন্য এটি নতুন মনে হলেও, একই ধরনের ‘সিডিং’ বা বাছাই পদ্ধতি লন টেনিসের উইম্বলডনসহ বিভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটের ড্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও এই র‌্যাঙ্কিংভিত্তিক কাঠামোটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যে আসরের ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) পরাস্ত করে শিরোপা জিতেছিল চেলসি।

বর্তমান ফুটবলীয় পরিসংখ্যান ও মাঠের শক্তিমত্তার বিচারে কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচেই স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সুপারকম্পিউটারের গাণিতিক হিসাব এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমান সত্যি করে এই চার দল যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হতে পারে, তবে সেমিফাইনালের মঞ্চে ফুটবলপ্রেমীরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুটি পরাশক্তি লড়াই উপভোগ করতে পারবেন; যার এক পাশে থাকবে স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং অন্য পাশে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে ফুটবলের আকর্ষণ বাড়ানোর এই নিয়মের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম হয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী ও বড় দলগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ফিফা সবসময় অতিরিক্ত পক্ষপাতিত্ব করে—এমন পুরোনো অভিযোগ এই নিয়মের কারণে আরও জোরালো হয়েছে। আর সেই চলমান বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার মাঠের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও রেফারিং বিতর্ক।

/আশিক


অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:২৩:৫৫
অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চ এখন সেমিফাইনালে ওঠার জমজমাট শেষ আটের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবলভিত্তিক নামী পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’ তাদের শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের সর্বশেষ গাণিতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন ফুটবলীয় চলক ও ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরিকৃত এই মডেলে টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠার দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের চার পরাশক্তি—ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাসে ইউরোপের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেষ আটের আটটি দলগুলোর মধ্যে ছয়টিই এসেছে ইউরোপ মহাদেশ থেকে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। বাকি দুটি টিকিটের একটি ধরে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা এবং অপরটি রয়েছে আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসের গৌরব ও একমাত্র প্রতিনিধি মরক্কোর পকেটে।

বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা জানিয়েছে, তাদের সুপারকম্পিউটারটি প্রায় ১০ হাজার পৃথক সিমুলেশন বা কৃত্রিম ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের এই সম্ভাব্য ফলাফল ও পরিসংখ্যান নির্ধারণ করেছে। এই গাণিতিক পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে দলগুলোর সাম্প্রতিক মাঠের পারফর্ম্যান্স, স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্ম ও পরিসংখ্যান এবং দলগুলোর অতীত ঐতিহাসিক রেকর্ডকে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সুপারকম্পিউটারের এই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে আফ্রিকান দল মরক্কোর জয় পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। ফরাসিদের সেমিফাইনালের টিকিট কাটার সম্ভাবনা যেখানে আকাশচুম্বী ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ ধরা হয়েছে, সেখানে মরক্কোর শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা আটকে রয়েছে মাত্র ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশে। একইভাবে স্পেন বনাম বেলজিয়ামের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচেও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে স্পষ্ট ও ফেভারিট দল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হিসাবে স্পেনের সেমিফাইনালে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর বিপরীতে বেলজিয়ামের ভাগ্য অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ২৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অপর দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যানের পাল্লা হেলে রয়েছে ফেভারিটদের দিকেই। ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের মধ্যকার দ্বৈরথে থ্রি-লায়ন্সদের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ৬১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার শেষ আটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিদের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, যার বিপরীতে সুইসদের জয়ের গাণিতিক সম্ভাবনা কেবল ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, এর আগে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর বা নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের পূর্বাভাস প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সফলতার পরিচয় দিয়েছিল অপ্টার এই বিশেষ প্রযুক্তি। নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডের ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচেরই সম্ভাব্য বিজয়ী দল কে হতে যাচ্ছে, তা নিখুঁত ও সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি ম্যাচের অবিকল ম্যাচের ফলাফলও তাদের পূর্বের পূর্বাভাসের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল।

অপ্টার এই জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ব্রাজিলের জনপ্রিয় ও প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-এর ফুটবল বিশ্লেষণভিত্তিক বিখ্যাত টুল ‘ক্রিস্টাল বল’-ও কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাব্য ফল নিয়ে নিজস্ব মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ব্রাজিলীয় এই কৃত্রিম টুলের মূল্যায়নেও দেখা গেছে যে, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা নিজ নিজ ম্যাচে প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে এই দুই পরাশক্তি পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাকেও তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ক্রিস্টাল বলের নিখুঁত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের মেগা ফাইনালেও ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার আবারও দেখা হওয়ার একটি গাণিতিক সম্ভাবনা রয়েছে, যার হার প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যানের বাইরে মাঠের পারফর্ম্যান্সেও চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ও আক্রমণাত্মক ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা দল। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলের মধ্যে এই দুটি দলই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪টি করে গোল করার গৌরব অর্জন করেছে। পাশাপাশি চলতি আসরের ব্যক্তিগত গোলদাতার তালিকায় ৮টি গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টিনার জাদুকর লিওনেল মেসি। গোল্ডেন বুটের এই লড়াইয়ে তাঁর ঠিক পেছনেই ৭টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড।

/আশিক


বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১১:৩৬:৩৬
বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ হিসেবেই নয়, বিনোদনের দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহে এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোলের আদলে বিশেষ হাফটাইম শো। ফিফার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীত তারকা একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে নির্ধারিত ১১ মিনিটের বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস-এর। ফুটবল ও সংগীত—দুই ভুবনের সবচেয়ে বড় তারকাদের একত্রে দেখা যাবে বলে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ফিফা জানিয়েছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কেবল দর্শকদের বিনোদন দেওয়া নয়; বরং ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন শিক্ষা তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাফটাইম শোকে আরও বর্ণাঢ্য করে তুলতে থাকছেন আফ্রিকার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়, ভেনেজুয়েলার বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল, ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে-এর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত পিএস বাইশ কোরাস এবং শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান সিসেমি স্ট্রিট-এর বহুল পরিচিত মাপেট চরিত্রগুলো। ফলে এই পরিবেশনা সব বয়সী দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ এই আয়োজনের সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন কোল্ডপ্লে-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরি করতে কাজ করছেন, যেখানে ফুটবল, সংগীত এবং মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে মিলিত হবে।

এ আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার। তিনি বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন, যা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে একই আবেগে একত্রিত করতে পারে। খুব কম বৈশ্বিক আয়োজনেরই এমন শক্তি রয়েছে।”

স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে ‘Justice World Tour’ বাতিল করার পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে মঞ্চে ফেরেন বিবার। গত চার বছরে সেটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় লাইভ পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও বৈশ্বিক দর্শকের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দর্শকদের মাতিয়েছিলেন শাকিরা ও বার্না বয়। তাদের পরিবেশিত অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়মিত বাজানো হচ্ছে। ফাইনালের মঞ্চেও তারা নতুন চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে মাঠের লড়াইও এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো, স্পেন ও বেলজিয়াম, নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। চারটি ম্যাচ থেকেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শেষ ষোলোর পর গোলদাতার তালিকার শীর্ষে থাকা এই মহাতারকার গোলসংখ্যা এখন ৮। তার ঠিক পেছনে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড, দুজনেরই গোল ৭টি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন করেছেন ৬ গোল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে শুধু ফুটবলের নয়, বৈশ্বিক বিনোদন জগতেরও অন্যতম বড় আয়োজন। বিশ্বসেরা ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি শাকিরা, ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, বিটিএস এবং আরও অনেক তারকার অংশগ্রহণে এই হাফটাইম শো বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। ফুটবল, সংগীত ও মানবিক উদ্যোগের এই অনন্য সমন্বয় কোটি কোটি দর্শকের জন্য স্মরণীয় এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।

-রফিক


ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১০:৫০:১৬
ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির জন্য আরেকটি অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে নতুন নতুন কীর্তি গড়ে চলা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এবার চোখ রেখেছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলোর একটির দিকে। শেষ ষোলো পর্ব শেষে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসা মেসির সামনে এখন ১৯৫৮ সাল থেকে অক্ষত থাকা ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে দুর্দান্ত এক ভলি থেকে গোল করে এবারের আসরে নিজের গোলসংখ্যা আটে উন্নীত করেছেন মেসি। সেই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এখন ফন্টেইনের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও পাঁচ গোল। আর্জেন্টিনা যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—এই তিন ম্যাচেই সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ থাকবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ১৩ গোল করার রেকর্ডটি এখনও জাস্ট ফন্টেইনের দখলে। ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে মাত্র ছয় ম্যাচে এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি। প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেননি বিশ্বের কোনো ফুটবলার। এবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন মেসি।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচেই শুরু থেকে খেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এবং প্রতিবারই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচসেরা। গোলের পাশাপাশি তার নেতৃত্ব, অ্যাসিস্ট এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তার আর্জেন্টিনাকে শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। গোলদাতাদের তালিকায় তার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের এরলিং হালান্ড, দুজনেরই গোল সাতটি করে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ঝুলিতে রয়েছে ছয় গোল। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইও এখন তুঙ্গে।

তবে মেসির গোলসংখ্যা আরও বড় হতে পারত। এবারের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। সেই দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তার গোলসংখ্যা এখনই ১০-এ পৌঁছে যেত এবং ফন্টেইনের রেকর্ড থেকে দূরত্ব কমে আসত মাত্র তিন গোলে। এরপরও আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডান, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে একটি করে গোল করে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন এলএম১০।

এই বিশ্বকাপে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করার পর এবার আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিপক্ষেও গোল করে সেই ধারাবাহিকতা অটুট রেখেছেন।

শুধু চলতি আসর নয়, বিশ্বকাপের সর্বকালের পরিসংখ্যানেও নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ৩১টি ম্যাচ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ২১ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও ধরে রেখেছেন তিনি। যদিও মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই ১৯ ম্যাচে ১৯ গোল করে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এখন ফুটবল বিশ্বের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি। আর্জেন্টিনা যদি শিরোপার পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং অধিনায়ক নিজের গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, তাহলে ৬৮ বছর ধরে অক্ষত থাকা জাস্ট ফন্টেইনের কিংবদন্তিতুল্য রেকর্ডও ইতিহাসের পাতায় নতুন মালিক পেতে পারে। আর সেটি হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্যক্তিগত অর্জনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ই নিজের নামে লিখে ফেলবেন লিওনেল মেসি।

-রাফসান


এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২০:২৪:৩০
এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের তদন্তে নেমেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’-এর একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে এএফএ-এর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এফবিআই। সংস্থাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে ব্যবহার করে কীভাবে কোটি কোটি ডলার লেনদেন করেছে এবং এই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো ধরনের বড় অপরাধ বা আর্থিক জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন মার্কিন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত ও রোমাঞ্চকর জয়ের পর যখন বিশ্বজুড়ে রেফারিং নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই মূহূর্তেই দেশটির ফুটবল প্রশাসনের এমন দুর্নীতির খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

অনুসন্ধানের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’ নামক একটি বেসরকারি কোম্পানি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এএফএ-এর যাবতীয় আর্থিক দায়বদ্ধতা ও তহবিল পরিচালনা করে আসছিল, যা বর্তমানে এফবিআইয়ের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক মাসে লা নাসিওনের সংগ্রহ করা ২০২৫ সালের শেষভাগ ও চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকের বিভিন্ন গোপন নথিপত্র ও ব্যাংক রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জিলেট এবং রিনিউয়াল ফ্রন্টের বুয়েনস আইরেসের সাবেক বিধায়ক ফারোনি যুক্তরাষ্ট্রের মোট পাঁচটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট খুলে কয়েকশ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। এই তালিকায় থাকা শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলো হলো—সিটিব্যাংক, সিনোভ্যাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান এবং পিএনসি ব্যাংক।

প্রাপ্ত ব্যাংকিং নথির তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবগুলোর মাধ্যমে ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত ২৬ কোটি (২৬০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের বিশাল রাজস্ব বা ফান্ড হ্যান্ডেল করেছে। তবে সবচেয়ে বড় অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে এই ফান্ডের ব্যবহার নিয়ে।

লা নাসিওনের করা আর্থিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ তহবিলের অত্যন্ত সামান্য ও নগণ্য একটি অংশ সরাসরি তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন ফুটবল সংস্থার চেনা বা বৈধ পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অন্যদিকে, বাকি প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ (৫৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিভিন্ন বেনামী কোম্পানি ও নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে বণ্টন করা হয়েছে, যার কোনো স্পষ্ট কিংবা আইনসম্মত অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা সরকারি নথিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নথিপত্রে আরও দেখা গেছে, এই লেনদেনের বড় একটি অংশ এমন কিছু ভুঁইফোড় কোম্পানির কাছে আন্তর্জাতিক ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, যারা বাস্তবে ফুটবল বা ক্রীড়া সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সেবাই প্রদান করে না। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার সরকারি রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানিগুলো এমন কিছু সাধারণ মানুষের নামে ও নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধিত ছিল, যারা নিজেরা জীবিকার তাগিদে রাষ্ট্রীয় সমাজকল্যাণমূলক ভাতা গ্রহণ করতেন এবং বারিলোচে কিংবা বুয়েনস আইরেসের সাধারণ এলাকায় বসবাস করেন।

মূলত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অনিয়ম তদন্ত এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের নীতি নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সঙ্গে আগে থেকেই তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। এর ফলে তিনি নিয়মিতই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক শিরোনামে আসছিলেন। এর আগে গত মার্চ মাসেও তাপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিল আর্জেন্টিনার জাতীয় রাজস্ব কর্তৃপক্ষ, যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের জালে জড়াল তাঁর প্রশাসন।

/আশিক


আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২০:১৬:৪০
আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের বিরুদ্ধে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ৩-২ ব্যবধানের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর মাঠের খেলা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

এই ম্যাচ শেষে মিশরের জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, আর্জেন্টিনা এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই ম্যাচটিতে সুনির্দিষ্ট কারচুপি করা হয়েছে। মিশরের কোচের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে, যা নিয়ে মুখ খুলেছেন ফুটবলের সাবেক কয়েকজন কিংবদন্তি তারকাও।

বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকাদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য সবার ক্ষেত্রে এক রকম ছিল না। ফ্রান্স ও আর্সেনালের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি মিশরের এই চরম হতাশা ও ক্ষোভের কারণ বুঝতে পারলেও, ম্যাচটিতে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে সরাসরি সমর্থন করেননি। তিনি বিষয়টিকে শান্তভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠের উত্তেজনায় সবাই হয়তো চিৎকার করছে, তবে প্রত্যেকে ঘটনাটিকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না।

তিনি নিজে কয়েকবার ভিডিও রিপ্লে পর্যবেক্ষণ করেছেন জানিয়ে উল্লেখ করেন, এখানে যেমন মিশরের হতাশ হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে, ঠিক একইভাবে আর্জেন্টিনার কেন মনে হচ্ছে যে সিদ্ধান্তগুলো তাদের পক্ষেই সঠিক ছিল, সেই অবস্থানটিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।

থিয়েরি অঁরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল সমস্যাটি সিদ্ধান্তের সঠিকতা বা ভুল নিয়ে নয়, বরং ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার স্পষ্ট অভাবই এই বড় প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, প্রথমার্ধে মিশরের গোলটি বাতিল করার সময় ভিএআর যেভাবে সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছিল, পরবর্তী সময়ে পেনাল্টির আবেদনের ক্ষেত্রে সেই একই ধরনের নিখুঁত ও দীর্ঘ বিশ্লেষণ মাঠে দেখা যায়নি। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই মূলত সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে।

ফুটবল মাঠে ভিএআর চালুর মূল উদ্দেশ্যই ছিল সব দলের জন্য সমান ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, কারণ সমর্থকরা কেবল নিখুঁত সিদ্ধান্ত চায় না, তারা চায় সবার জন্য যেন একই নিয়মের সুষম প্রয়োগ ঘটে। তবে এই প্রযুক্তিগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনার যেভাবে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতেছে, সেই অদম্য মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন সাবেক এই ফরাসি তারকা।

অপরদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক ও কড়া সমালোচক রয় কিন মিশরের কোচের তোলা কারচুপির অভিযোগটি একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর সাধারণ সমর্থকরা আবেগের বশে এমন মন্তব্য করতেই পারে, কিন্তু জাতীয় দলের একজন প্রধান কোচের কাছ থেকে এই ধরনের অপেশাদার বক্তব্য কোনোভাবেই আশা করা যায় না।

ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে স্পষ্ট এগিয়ে থাকার পরও যদি কোনো দল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়ে, তবে অন্য কারো ওপর দায় চাপানোর আগে নিজেদের মাঠের ভুলগুলোর দিকে তাকানো উচিত। রয় কিন আরও যোগ করেন, লিওনেল মেসি কোনো ম্যাচ জিতলেই একশ্রেণির মানুষ ফুটবলের মূল সৌন্দর্য বাদ দিয়ে সব জায়গায় কৃত্রিম ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজতে শুরু করে, যা মূলত পরাজয় আড়াল করার একটি সহজ অজুহাত মাত্র। হারের পর সেটি মেনে নিয়ে নিজেদের ভুল বিশ্লেষণ করাই প্রকৃত ফুটবলীয় আচরণ।

সুইডেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও এই বিষয়ে প্রায় একই সুর মিলিয়ে কথা বলেছেন। লিওনেল মেসির অতি জনপ্রিয়তার কারণে আর্জেন্টিনা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে রেফারি বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে—এমন বহুল প্রচলিত ধারণাকে তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

ইব্রাহিমোভিচের মতে, মেসি বিশ্বমঞ্চে জয়ী হলেই প্রতিবার ষড়যন্ত্রের একটি মনগড়া গল্প সাজানো শুরু হয়, যা অত্যন্ত পুরোনো ও সস্তা একটি অজুহাত। কোনো দল যদি ম্যাচের দুই গোলের লিড ধরে রাখতে না পারে, তবে রেফারি কিংবা টুর্নামেন্ট কমিটিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে নিজেদের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর দেওয়া দরকার।

বিশ্বকাপে ভুলের মাশুল অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন জাতীয় দলের কোচের মূল দায়িত্ব হলো হারের পর অজুহাত না দেখিয়ে নিজের কাঁধে দায় নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণ তৈরি করা। আর্জেন্টিনা মাঠে লড়াই করেই এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে, তাই পরাজয়কে মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই তুমুল তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করলেও, মাঠের সেই রেফারিং বিতর্ক এখনো বিশ্ব ফুটবলের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

/আশিক


মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:৫৫:৪৯
মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে মিশরের বিরুদ্ধে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা তৈরি করে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মাঝে মাঠের খেলা ছাড়িয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রেফারির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করার জোরালো অভিযোগ তুলেছেন। এই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং নিজের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

রেফারিং নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা ও অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে লিওনেল মেসি বলেন, মাঠের রেফারিং অত্যন্ত চমৎকার ও উচ্চমানের ছিল। তাঁর মতে, ম্যাচের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই রেফারি সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে নিয়েছেন। তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কেউ কি সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতে পারবে যে রেফারি কোন সিদ্ধান্তটি ভুল নিয়েছেন? নিজের বক্তব্যে রেফারিদের ওপর পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এই তারকা।

মূলত ম্যাচের জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগের একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দাবি ছিল, বক্সের ভেতরে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে ভিডিও রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পা সালাহর পায়ে লাগার আগেই তিনি বল স্পর্শ করেছিলেন। এর পাশাপাশি ম্যাচের শুরুর দিকে মিশরের একটি গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তও রেফারি সঠিক নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মেলে, কারণ ওই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন।

ম্যাচে নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং একটি পেনাল্টি মিস করার চরম হতাশার কথাও অকপটে স্বীকার করেন মেসি। তিনি জানান, ম্যাচ জয়ের পর এক ধরনের স্বস্তি পেলেও পেনাল্টি মিস করার ঠিক পরপরই নিজের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ও রাগ তৈরি হয়েছিল। যেভাবে তিনি শটটি নিয়েছিলেন, তা মোটেও সঠিক ছিল না এবং তাঁর মনে হচ্ছিল যে দলের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি সতীর্থদের হতাশ করেছেন।

তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল এবং দলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করতে পেরে তিনি যে আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি পেয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মেসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্জেন্টিনা জয়ের যোগ্য দাবিদার ছিল। পেনাল্টি থেকে গোলটি হলে ম্যাচের চিত্র অনেক আগেই বদলে যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়ার পরও দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছিল। ম্যাচজুড়ে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজ বেশ কিছু চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করায় ব্যবধান বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় পাওয়ায় দলের এই সাফল্যে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

/আশিক


আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:৩৩:১৭
আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম নাটকীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত। শেষ বাঁশি বাজার পর মিশর শিবির থেকে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসে। দলের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো সরাসরি দাবি করেন, ম্যাচ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ছিল না এবং পুরো লড়াইটি যেন আগেই আর্জেন্টিনার অনুকূলে চলে গিয়েছিল।

ম্যাচের প্রায় ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। সেই অবস্থায় উত্তর আফ্রিকার দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে পরপর তিনটি গোল করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করে আলবিসেলেস্তেরা। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

মিশরের দাবি, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। প্রথমার্ধে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল ভিএআরের পর বাতিল করা হয়। রেফারির ব্যাখ্যায় বিল্ড-আপে ফাউলের অভিযোগ থাকলেও মিশরীয় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং বিতর্কিত।

আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয় ম্যাচের শেষ দিকে। মিশরের অভিযোগ, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাচ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

হারের পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়ায় মোস্তফা জিকো ফরাসি রেফারিকে ‘জালিম’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল’ তেলাওয়াত করে বলেন, আল্লাহই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। এরপর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনায় শুরু থেকেই তাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি।

জিকোর ভাষ্য, যদি আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবল দক্ষতায় জয় পেত, তাহলে মিশরের কোনো আপত্তি থাকত না। তবে তিনি দাবি করেন, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার বক্তব্য, এসব সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচের শেষ ১০-১৫ মিনিটে মিশরের রক্ষণভাগের ভাঙনই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে না পারা এবং চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা শেষ পর্যন্ত বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করেছে দলটিকে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে আক্রমণের ছন্দ ধরে রেখে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক চললেও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল বহাল রয়েছে এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, আর মিশরের জন্য রয়ে গেল বিতর্ক, আক্ষেপ এবং শেষ মুহূর্তের এক হৃদয়ভাঙা বিদায়।

-রাফসান


বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১১:০৯:৫৭
বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানটান উত্তেজনার রাউন্ড অব ১৬ শেষ হয়েছে। নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ এবং কয়েকটি হাইভোল্টেজ লড়াই শেষে নির্ধারিত হয়েছে টুর্নামেন্টের শেষ আট দল। এখন শিরোপার পথে আর মাত্র তিন ধাপ দূরে আটটি দল, আর সেই লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ।

শেষ দিনের দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপের শেষ আটের লাইনআপ এখন সম্পূর্ণ।

মিশরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল মেসির দল। অধিনায়কের নেতৃত্বে দলটির এই জয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন জেগেছে।

অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল ব্যবধান গড়তে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করে সুইসরা।

এবার কোয়ার্টার ফাইনালে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত ফুটবলের জন্য পরিচিত সুইজারল্যান্ড কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, তা নিয়েই এখন ফুটবলবিশ্বে চলছে আলোচনা।

অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালের উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কোর ধারাবাহিক উন্নতি এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বেলজিয়াম। দুই দলেরই আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠ শক্তিশালী হওয়ায় ম্যাচটি কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে নরওয়ের আক্রমণ এবং ইংল্যান্ডের ভারসাম্যপূর্ণ দল দুইয়ের সংঘর্ষে জমজমাট একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল কিংবা একটি মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো গুরুত্ব বহন করবে।

কোয়ার্টার ফাইনালের পূর্ণ সূচি

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই), রাত ২টা

ফ্রান্স বনাম মরক্কো — বোস্টন স্টেডিয়াম

শুক্রবার (১০ জুলাই), রাত ১টা

স্পেন বনাম বেলজিয়াম — লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম

শনিবার (১১ জুলাই), রাত ৩টা

নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড — মায়ামি স্টেডিয়াম

রোববার (১২ জুলাই), সকাল ৭টা

আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড — কানসাস স্টেডিয়াম

-রাফসান

পাঠকের মতামত: