তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে

দেশের ৪৪ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) ও রোববার (১১ জানুয়ারি) দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই দুই দিন চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে।
গবেষক পলাশ তাঁর পূর্বাভাসে উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। বুধবার সকালেই রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে ৭ ডিগ্রি এবং রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইতিমধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ৫টির ওপর দিয়েই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের এই প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালেও রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রির ঘরে থাকতে পারে। তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ছিন্নমূল জনগণের জন্য এই আবহাওয়া চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেতন নিয়ে বড় খবর! নবম পে স্কেলের সর্বনিম্ন দরের ৩ প্রস্তাব এল সামনে
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে জাতীয় পে কমিশন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পে কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ সভায় এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। সভায় এই তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের যেকোনো একটিকে চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও, সামগ্রিক বেতন কাঠামো নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিশন।
পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। তবে বেতন কাঠামোর নিম্নবর্গের অঙ্কগুলো নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হলেও অন্যান্য ভাতার জটিলতায় আজ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই সভার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের সরকারি চাকুরিজীবীদের আর্থিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তিনটি ভিন্ন প্রস্তাবের গাণিতিক সমীকরণ সভার আলোচনার বিষয়ে পে কমিশনের একজন শীর্ষ সদস্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বনিম্ন বেতন স্কেল নির্ধারণে তিনটি সুনির্দিষ্ট অঙ্কের প্রস্তাব কমিশনের সামনে রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রথম ও সর্বোচ্চ প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে এই অঙ্কটি ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় তথা সর্বশেষ প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করেই এই তিনটি ভিন্ন অঙ্কের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ স্কেল ও অন্যান্য ভাতার জটিলতা সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব আসলেও, নবম পে স্কেলের সর্বোচ্চ বেতন ঠিক কত হতে পারে—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এ বিষয়ে কমিশন সদস্য জানান যে, সর্বোচ্চ বেতনের অঙ্কটি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। এই অতিরিক্ত ভাতাসমূহ ঠিক কোন হারে প্রদান করা হবে, তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ বেতন স্কেলের অঙ্কটি নির্ধারিত করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন কাঠামো ঠিক কেমন হবে, তা জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সদস্য সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিক। এ ছাড়াও সভার গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকজন খণ্ডকালীন সদস্যও অংশগ্রহণ করেন। কমিশন এখন এই তিনটি প্রস্তাবের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখবে, যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।
মার্কিন ভিসা বন্ড দুঃখজনক তবে অস্বাভাবিক নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন করে ‘ভিসা বন্ড’ বা আর্থিক জামানত আরোপের বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভিবাসন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তকে তিনি খুব একটা ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন না। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন কড়াকড়ি এবং এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রাথমিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য একক কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং বিশ্বের আরও অনেকগুলো দেশ এই বন্ডের তালিকায় রয়েছে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের নিয়ে অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, তাদের ওপরেই এই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে বলেন যে, মার্কিন সোশ্যাল সিস্টেম বা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থেকে যারা আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বর্তমানে সর্বাধিক। এই বিশেষ বাস্তবতায় মার্কিন প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এমন কঠোর শর্ত আরোপ করা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত নয়।
দায়ভার ও নীতিগত অবস্থান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বর্তমান সরকারকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যদি এটি গত এক বছরের ঘটনার ফল হতো তবে বর্তমান প্রশাসন দায় নিত, কিন্তু এই অভিবাসন সমস্যাটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। তাঁর মতে, এই অবস্থার জন্য যদি কোনো নীতিগত দায়ভার থেকে থাকে, তবে তা পূর্ববর্তী সকল সরকারের ওপরই সমানভাবে বর্তায়। ভিসা বন্ডের এই শর্ত বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, প্রচলিত কূটনৈতিক পন্থায় বাংলাদেশ এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশ যাতে এই কঠিন শর্ত থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ভিসা বন্ডের বিস্তারিত ও কার্যকর হওয়ার তারিখ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হবে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশের নাম এই তালিকায় যুক্ত করা হলেও, সর্বশেষ দফায় বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি রাষ্ট্রকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বন্ডের শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এই তালিকায় আলজেরিয়া, ভুটান, নেপাল, নাইজেরিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশের নাম থাকলেও বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলী পদক্ষেপ মূলত অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষা খাতের ওপর চাপ কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই শর্তের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যেসব জেলায় হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে এলো নতুন দুঃসংবাদ
জানুয়ারির কনকনে ঠাণ্ডা আর হাড়কাঁপানো বাতাসের যৌথ দাপটে বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের স্বাভাবিক জনজীবন। দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন মৃদু থেকে মাঝারি ধরণের শৈত্যপ্রবাহের কবলে, যা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি বয়ে আনছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সবকটি জেলাসহ দেশের অন্তত ২৪টি জেলায় এই হাড়কাঁপানো শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুয়াশার দাপট এতটাই বেশি যে, দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় শৈত্যপ্রবাহের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই এবং দেশের আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকবে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকা অঞ্চলে ঘন কুয়াশা পড়ার কারণে নৌযান ও সড়কপথে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে তা দৃষ্টিসীমা কমিয়ে আনছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ বর্তমানে আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর অভিমুখ এখন পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি সম্ভবত শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করবে। এই নিম্নচাপের একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি অংশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যার ফলেই উত্তর থেকে আসা শীতল বাতাস সরাসরি ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে।
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিসংখ্যান তাপমাত্রার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজ রেকর্ড করা হয়েছে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে, মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সাগরের কোল ঘেঁষে থাকা টেকনাফে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এই বিশাল ব্যবধান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুগত বৈচিত্র্যকে তুলে ধরছে। রাজধানীতে আজ সকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ, যা ভোরের দিকে শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাড়কাঁপানো শীতের এই তীব্রতায় বিশেষ করে প্রবীণ ও শিশুরা ব্যাপকভাবে শ্বাসকষ্ট ও শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শৈত্যপ্রবাহের এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। আগামী কয়েকদিন কুয়াশার দাপট ও শৈত্যপ্রবাহের এমন পরিস্থিতি বহাল থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন।
ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় লাঘব এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এক বড় ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) উপদেষ্টা পরিষদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন করে ১৩৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ বা এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের এই বিশেষ তালিকায় মোট ওষুধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টিতে।
এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান দিক হলো মূল্য নিয়ন্ত্রণ। তালিকায় থাকা ২৯৫টি ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার এখন থেকে সুনির্দিষ্ট দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ওষুধের বাজারে অস্থিরতা রোধ এবং সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই প্রশাসন এই সরাসরি মূল্য নির্ধারণের পথে হেঁটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান।
ব্রিফিংকালে সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নতুন করে আরও এক-দুটি ড্রাগ অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ এসেছে, যার ফলে চূড়ান্ত তালিকায় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫ বা ২৯৬টি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী তালিকার তুলনায় এবারের সংশোধিত তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে ১৩৫ থেকে ১৩৬টি নতুন ওষুধকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এই বর্ধিত তালিকাটি মূলত দেশের মানুষের চিকিৎসা সেবার মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সায়েদুর রহমান আরও স্পষ্ট করেন যে, এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, বিক্রেতারা চাইলেই ইচ্ছেমতো দামে এসব ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন না; বরং সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেবে, সেই মূল্যেই তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। মানুষের চিকিৎসা ও ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নতুন এই মূল্য ব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ওষুধ বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ওষুধের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আসিফ নজরুলের বড় সিদ্ধান্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন এবং খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন, তাদের আইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই আইনের মূল লক্ষ্য।
ড. আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “জুলাই যোদ্ধারা জীবন-বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট সরকারের খুনিদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল, তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। উপদেষ্টা মনে করেন, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর নজির রয়েছে। বিশেষ করে ‘আরব বসন্ত’ বা সমসাময়িক কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনধিকৃত সরকারের পতনের পর এ ধরনের দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সরকারকে দায়মুক্তি সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায় একই ধরণের দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইন উপদেষ্টার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিরাপদ রাখা বর্তমান সরকারের একটি পবিত্র দায়িত্ব। এই অধ্যাদেশ জারি হলে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী কারো বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই উদ্যোগকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে স্থায়ী আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোক্তা ব্যয় কমবে কি,এলপিজি গ্যাস ভ্যাট নিয়ে পর্যালোচনা
চলমান বাজার সংকট নিরসনে এলপিজি গ্যাসের কর কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স অব্যাহতি বজায় রেখে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।
‘এলপিজি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে এলপিজি গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর। শিল্পখাতের পাশাপাশি গৃহস্থালি ব্যবহারে এই জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দেশীয় পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপিজি গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি গ্যাস সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি গ্যাসকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের কার্যবিবরণীর একটি অংশ চিঠিতে উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এলপিজি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব সময়োপযোগী। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের ক্রয়মূল্য কতটা কমবে, তা সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার পর গৃহীত অবস্থান এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে অপারেটররা আমদানি পর্যায়ে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানান। যদিও নীতিগতভাবে তারা উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাজারে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে তা ১০ শতাংশের নিচে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।
-রফিক
এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আগের মতো এবার কোনো ‘পাতানো’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী এবং প্রতিটি প্রার্থী কমিশনের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সবার জন্য একটি সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং আইনি ভিত্তির ওপরই প্রতিটি আপিলের সমাধান করা হবে।
মনোনয়নপত্রের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল আবেদনের আজ চতুর্থ দিন চলছে। সিইসি আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সামনে আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করছেন, আবার কেউ কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জমা দিচ্ছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত আপিল আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এরপর আগামী ১০ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক আপিল শুনানি, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি (রোববার) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলছে এবং এই আপিল শুনানিই ঠিক করে দেবে চূড়ান্ত ভোটের ময়দানে কারা থাকছেন।
রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ
২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের জাতীয়তার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থা দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি যে জাতীয়তার মানুষদের অনিয়মিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা বাংলাদেশি। বাংলাদেশিদের পর এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন মিসরীয় এবং আফগান নাগরিকরা। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের এই অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়নি, বরং তা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করছেন, যেখানে লিবিয়া একটি অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লিবিয়াভিত্তিক শক্তিশালী মানবপাচার নেটওয়ার্কের সহায়তায় বাংলাদেশিরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ছোট নৌকায় করে ইতালি এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ফ্রন্টেক্সের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ইউরোপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে। নজরদারি ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও এই সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশিদের এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে ফ্রন্টেক্স। দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা অনেক যুবককে অনিয়মিত পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে ২০২৫ সালে এসে এটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মিসরীয় ও আফগান নাগরিকরাও একইভাবে ল্যান্ড ও সি-রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তালিকার এক নম্বরে থাকা বাংলাদেশিদের সংখ্যা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চার জোনে বিভক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং দ্বীপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে চার স্তরের একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, এখন থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটন হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক এবং তা অবশ্যই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি বলেন, “দ্বীপ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এই মহাপরিকল্পনায় সেন্ট মার্টিনকে চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
জোনগুলো হলো
১. জেনারেল ইউজ জোন (যেখানে পর্যটন ও হোটেল-রিসোর্ট থাকবে),
২. ম্যানেজড রিসোর্স জোন (কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে রাতে থাকা নিষিদ্ধ),
৩. সাসটেইনেবল ইউজ জোন (স্থানীয়রা টেকসই সম্পদ ব্যবহার করবেন, পর্যটকরা রাতে থাকতে পারবেন না) এবং
৪. রেস্ট্রিক্টেড জোন (যেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আরও জানান, মাত্র ৮ হাজার মানুষের এই ক্ষুদ্র দ্বীপে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটকের সমাগম স্থানীয়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই পর্যটনকে সীমিত করে দ্বীপবাসীর জন্য মৎস্য, হস্তশিল্প ও কৃষিভিত্তিক বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামানও দ্বীপে প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন তার হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুনরায় ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
- স্বাধীনতার নামে পতন, স্বপ্নের নামে ধ্বংস: গাদ্দাফি–পরবর্তী লিবিয়া কী পেল?
- বেতন নিয়ে বড় খবর! নবম পে স্কেলের সর্বনিম্ন দরের ৩ প্রস্তাব এল সামনে
- মার্কিন ভিসা বন্ড দুঃখজনক তবে অস্বাভাবিক নয়:পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- বিশ্ববাজারে কেন কমল স্বর্ণের দাম? মার্কিন ডলারের দাপটে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধা
- যেসব জেলায় হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে এলো নতুন দুঃসংবাদ
- কেন বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করছে বিএনপি? সালাহউদ্দিন আহমদের সোজাসাপ্টা জবাব
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আসিফ নজরুলের বড় সিদ্ধান্ত
- ভোক্তা ব্যয় কমবে কি,এলপিজি গ্যাস ভ্যাট নিয়ে পর্যালোচনা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ডিএসইর আজকের বাজার সারসংক্ষেপ কী বলছে
- ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষে আর্থিক খাতের শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারগুলোর চিত্র
- আওয়ামী লীগ ছাড়লেন ৬১ ইউপি সদস্য, বিএনপিতে যোগদান
- পিএসএলে ১০ বাংলাদেশি ক্রিকেটার, আলোচনায় মোস্তাফিজ
- ভেনেজুয়েলাকে শুধু মার্কিন পণ্য কেনার নির্দেশ ট্রাম্পের
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- রেকর্ড ডেটের আগে ও দিনে বন্ধ যে বন্ড
- রেকর্ড ডেট শেষে ফের লেনদেনে ফিরছে দুই সরকারি বন্ড
- সমতা লেদারের বার্ষিক নিরীক্ষায় উদ্বেগের বিষয়গুলো
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ব্যবসায়ীদের টাকা নয়, সততার রাজনীতিতে জনগণের সহায়তা চান হান্নান মাসউদ
- কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ ইসুবগুল, পেট পরিষ্কার রাখার জাদুকরী উপায় জানুন
- রোজ সকালে যে পানি খেলে ওজন কমবে ঝড়ের গতিতে
- হাড়কাঁপানো শীতে গরম পিঠার স্বাদ: ঘরেই তৈরি করুন মজাদার দুধপুলি
- স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, সফল হতে এই ৫টি অভ্যাস আজই শুরু করুন
- এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি
- ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
- ভোররাতে বিকট শব্দে কাঁপল শরীয়তপুর: আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল যুবকের
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার
- কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর
- চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
- ব্যালটে সিল মারা পুলিশের কাজ নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়
- শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?
- সদরপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার
- ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে
- তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- ম্যাচ জয়ের পুরস্কার, রিপন পেলেন যত টাকার বোনাস








