রাষ্ট্রীয় মদদে যেভাবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ভারত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ২০:৫২:১১
রাষ্ট্রীয় মদদে যেভাবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ভারত
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে মুসলিম খ্রিস্টান এবং কাশ্মীরিরা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্র সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গোঁড়ামির শিকার হচ্ছেন যার ফলে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিও পুরোদস্তুর হুমকির মুখে পড়েছে। বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী বাগ্মিতা ভারতের ২২ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজস্থানের বিকার শহরে প্রায় ২০০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী গির্জার প্রার্থনাসভায় হামলা চালায় এবং লোহার রড দিয়ে উপাসনাকারীদের মারধর করে। বর্তমানে ভারতে মুসলমান খ্রিস্টান এবং কাশ্মীরিদের জন্য ভয় নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। মুসলিম মহল্লাগুলিতে উচ্ছেদ পুলিশি অভিযান আটক এবং হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে। একইভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও চার্চে হামলা এবং প্রার্থনা সভার সময় হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের বা আইএইচএলের তথ্য অনুসারে ২০২৪ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনা ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি বলছে এই উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এবং বৃহত্তর হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আদর্শগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও মুসলমানরা বৃহত্তম সংখ্যালঘু যাদের সংখ্যা ১৪ শতাংশ এবং খ্রিস্টানরা ২ শতাংশের সামান্য বেশি।

নয়াদিল্লি ভিত্তিক খ্রিস্টান অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম বা ইউসিএফ জানিয়েছে ভারতে প্রতিদিন গড়ে দুইজনেরও বেশি খ্রিস্টান আক্রান্ত হচ্ছেন। গত এক দশকে এই হামলা বহুগুণ বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০২৪ সালে ৮৩৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল যেখানে ২০১৪ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১২৭। ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং খ্রিস্টানরা দাবি করছেন হিন্দু উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলি তাদের আক্রমণ করার জন্য এই আইন ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রধানত মুসলিম এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে যাকে প্রায়শই বুলডোজার ন্যায়বিচার বলা হয়। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সারা ভারতে ৭ হাজার ৪০০টিরও বেশি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে যার ফলে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। এই ধ্বংসের শিকার হওয়াদের প্রায় ৩৭ শতাংশই মুসলিম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অজয় গুদাবর্থী মনে করেন হিন্দু জাতীয়তাবাদ এখন কাঠামোগত রূপ নিয়েছে। অধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করেছে হিন্দু জনতা কর্তৃক মুসলিমদের লক্ষ্য করে নজরদারিমূলক সহিংসতা বেড়েছে যেমন গবাদি পশুর পরিবহন বা গো মাংস খাওয়ার সন্দেহে হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন রাষ্ট্রীয় নীতি যখন হিন্দুত্বের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তখন ভারতের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টিআরটি


মার্কিন চাপের মধ্যেই দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ২১:৩৯:৩৮
মার্কিন চাপের মধ্যেই দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ রাতেই দুই নেতা নৈশভোজে মিলিত হবেন আর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। শীর্ষ বৈঠকের আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে দেওয়া হবে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। পরে তিনি দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন এবং সেখানেই অবস্থান করবেন।

২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ভারতে সফরে এলেন পুতিন। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মস্কোয় গিয়ে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান সময়টি দুই দেশের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জের। পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন চাপের মুখে আছেন অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে নানা নিষেধাজ্ঞা সব মিলিয়ে ভারতের জন্যও বছরটি কঠিন যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পুতিন দিল্লি সফরে এসেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এনডিটিভি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয় শুক্রবার সকালে পুতিন মহাত্মা গান্ধীর সমাধি ও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাটে যাবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার গণমাধ্যম আরটি ইন্ডিয়ার উদ্বোধন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশগ্রহণ। শুক্রবার প্রায় রাত ৯টার দিকে পুতিনের ভারত ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই পুতিনের প্রথম ভারত সফর। স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। বিশ্লেষকরা বলছেন দুই দেশই বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি ও বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় খুঁজছে। ক্ষুদ্র মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরও সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পুতিনের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া সামলেই ভারতকে এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে: ফরাসি প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ২০:২৬:৩৫
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে: ফরাসি প্রেসিডেন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে বলে ইউরোপীয় নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন নিরাপত্তার গ্যারান্টি সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট না করেই আমেরিকা ইউক্রেনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। জার্মান ম্যাগাজিন ডের স্পিগেল ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক একটি ফাঁস হওয়া গ্রুপ ফোনালাপের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায় তারা কলটির সারসংক্ষেপসহ একটি ইংরেজি নোট পেয়েছে যা ইউরোপীয় রাজনীতির অন্দরমহলের উদ্বেগ সামনে এনেছে।

স্পিগেল জানিয়েছে ফোনালাপে ম্যাক্রোঁ আলোচনার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তটিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্য একটি বড় বিপদ বলে উল্লেখ করেছেন। ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস প্রতিউত্তরে বলেছেন ইউক্রেনীয় নেতাকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে মের্ৎস মন্তব্য করেন তারা আপনার এবং আমাদের সবার সাথেই খেলা খেলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারাও এই আলাপে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফিনল্যান্ডের আলেকজান্ডার স্টাব বলেন আমাদের ইউক্রেন এবং ভলোদিমিরকে এই লোকদের সাথে একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এমনকি ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট যিনি জনসমক্ষে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনিও বলেছেন আলেকজান্ডারের সাথে তিনি একমত যে আমাদের ভলোদিমিরকে রক্ষা করতে হবে।

এই ফাঁস হওয়া তথ্যের বিষয়ে জেলেনস্কির একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়া জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎসের অফিস এবং ফ্রান্সের এলিসি প্যালেস ম্যাক্রোঁর উদ্ধৃতিগুলোর বিরোধিতা করেছে। কিন্তু ডের স্পিগেল তাদের প্রতিবেদনে অনড় থেকে জানিয়েছে তারা ফোনকলের বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর সাথে কথা বলেছে এবং তারা ফোনকলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পলিটিকো, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে


ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উদারভাবে দেখতে হবে: রিয়াজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ১৫:২১:৫০
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক উদারভাবে দেখতে হবে: রিয়াজ
ছবি: সংগৃহীত

ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উদার ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিতে রয়েছে আত্মিক বন্ধন, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশ একটি যৌথ সমৃদ্ধির পথনকশায় অগ্রসর হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুধবার কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সভায় উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করতে হবে এবং স্পর্শকাতর কিছু ইস্যু থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব। দুই দেশের মধ্যে যে বাস্তবিক সহযোগিতা চলছে, তা আগামী দিনের যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাইকমিশনার জানান, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত–বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন বর্তমানে ২৫ থেকে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণে দুই দেশের সরকারি সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, আগামী বছর দিল্লিতে বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়লে শিল্পীরা আরও সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যৌথভাবে কাজ করতে পারবেন, যা দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও জোরদার করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানানো হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহসভাপতি মনীষ ঝানজরিয়া। পুরো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, যারা ভারত–বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

-রফিক


পুতিনের হঠাৎ ভারত সফরের কারণ বেরিয়ে এল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ১৪:৫৫:০১
পুতিনের হঠাৎ ভারত সফরের কারণ বেরিয়ে এল
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার টানাপোড়েন যখন আরও বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মূলত ভারতের বিশাল জ্বালানি বাজার, সামরিক সহযোগিতা এবং নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি পুতিনের এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু।

পুতিন দিল্লিতে পা রাখার আগেই মস্কোর পার্লামেন্ট ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক লজিস্টিক সুবিধা, ঘাঁটি ও পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। এটি দুই শক্তির প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই সফর শুধুই কূটনৈতিক সৌজন্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতের ১.৪ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের বাজার, আঞ্চলিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা রাশিয়ার জন্য নতুন কৌশলগত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের মাঝে মস্কোর জন্য ভারত এখন জ্বালানি ও অস্ত্র বাণিজ্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাজার।

দুই দেশের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে পুতিন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে নতুন চুক্তি সই করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাস ধরেই মস্কো থেকে ভারতের তেল আমদানি কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মাত্র ২.৫ শতাংশ তেল আসত রাশিয়া থেকে। নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ছাড়মূল্যে তেল পেয়ে ভারতের আমদানি বেড়ে গিয়ে ৩৫ শতাংশে পৌঁছায়। এতে ভারত অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই অসন্তোষ দেখায়।

অক্টোবর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা প্রকট হয়। ফলে ভারতের রুশ তেল ক্রয় কমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন সফরে তেল রপ্তানি বাড়ানোই মস্কোর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী যুগ থেকেই ভারত রাশিয়ার বড় অস্ত্র ক্রেতা। এবারও পুতিনের সফর ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে দিল্লি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহে আগ্রহী।

এ ছাড়া, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধজনিত শ্রম সংকটে ভুগছে। মস্কোর দৃষ্টি এখন ভারতীয় দক্ষ শ্রমিক ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের দিকে। দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতার আলোচনা এই সফরে আরও জোরদার হতে পারে।

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় ছিন্নপ্রায় অবস্থায়। পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে; আর রাশিয়া চাইছে এশিয়ার মাধ্যমে তার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থান পুনর্গঠন করতে। পুতিনের দিল্লি সফর সেই কৌশলগত পুনর্গঠনেরই ইঙ্গিত বলে বিবিসির বিশ্লেষণ।

কয়েক মাস আগে পুতিন চীনে গিয়ে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ ছবি তুলেছিলেন। বিশেষজ্ঞ আন্দ্রি কোলেসনিকভ মনে করেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক হারানো রাশিয়ার বড় ক্ষতি হলেও এশিয়ার দুই শক্তি চীন ও ভারত রাশিয়ার নতুন কূটনৈতিক ভরসা হয়ে উঠছে।

এই সফরে দুই দেশের নেতারা তেল, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও মানবসম্পদ খাতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

-রফিক


গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলছে ইসরায়েলি হামলা, ঝরছে রক্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ০৯:২১:১১
গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও চলছে ইসরায়েলি হামলা, ঝরছে রক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার কথা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ৩ ডিসেম্বর চালানো এসব হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার আল মাওয়াসি ক্যাম্পে বোমা হামলায় আগুন লেগে বেশ কয়েকটি তাঁবু পুড়ে যায় এবং সেখানেই পাঁচজন নিহত হন। চিকিৎসকরা জানান নিহত শিশুদের বয়স আট ও দশ বছর। এছাড়া উত্তর গাজার জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি বন্দুকধারীদের গুলিতে আরও দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি দক্ষিণ রাফায় হামাস তাদের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়ে চার সেনাকে আহত করার পরই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। হামাস আল মাওয়াসিতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মধ্যস্থতাকারী মিশর কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লাগাম টানার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল তবে সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কঠিন শর্ত। তেল আবিব জানিয়েছে এই ক্রসিং দিয়ে কেবল গাজার বাসিন্দারা উপত্যকা ত্যাগ করতে পারবেন কিন্তু কোনো ত্রাণ বা সহায়তা প্রবেশ করতে পারবে না। তবে মিশর এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনার পরিপন্থী ও একতরফা আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। মার্কিন পরিকল্পনায় ছিল রাফাহ সীমান্ত উভয় দিকের চলাচলের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে।

এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আরও এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। স্থানীয় সময় বুধবার বেইত লাহিয়ায় সংগঠনটির সদস্যরা রেডক্রসের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে যা পরে ইসরায়েলে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ৫৯১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে যার ফলে কমপক্ষে ৩৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯২২ জন আহত হয়েছেন।


গাজায় অব্যাহত রক্তপাত: ৫০ দিনে আরও ৩৫৭ মৃত্যু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ১৪:৫৮:০৬
গাজায় অব্যাহত রক্তপাত: ৫০ দিনে আরও ৩৫৭ মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সহিংসতা থামছে না। যুদ্ধবিরতির প্রথম ৫০ দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৩৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সরকারি মিডিয়া অফিস। এসময়ে আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, গতকাল হামাস যে তথ্য-মালিকানা ও অবশিষ্ট বন্দিদের দেহাবশেষ নিয়ে একটি প্রতিবেদনের কথা জানিয়েছিল, তা গাজায় এখনও থাকা কোনো বন্দির দেহের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বন্দি বিনিময় ও অনুসন্ধান ইস্যুকে ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মঙ্গলবার “ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান” নিয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবে গাজায় নির্বিচার হামলা বন্ধ, মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা একইভাবে অব্যাহত। মঙ্গলবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গাড়িচাপা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনি কিশোরকে তারা হত্যা করেছে। স্থানীয় অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, আদালত বা তদন্ত ছাড়াই সেনাবাহিনীর এ ধরনের তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ড ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর থেকে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭০ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৫ জন। বহু পরিবার সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে; হাজারো মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটক পড়ে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত।

ইসরায়েলি পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় মোট ১,১৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন এবং প্রায় ২০০ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সংঘাতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবিলম্বে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা


যে শর্তে মিলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ১৪:২৩:৫১
যে শর্তে মিলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের সুযোগ আরও উন্মুক্ত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক, বিশেষ প্রতিভাবান বা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত গোল্ডেন ভিসার আওতায় এবার যুক্ত হলেন মানবাধিকারকর্মী ও নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরাও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মানবকল্যাণমূলক কাজ, দুর্যোগ প্রতিকারে ভূমিকা, আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী অভিজ্ঞতা এবং সমাজসেবামূলক অবদান এখন থেকে গোল্ডেন ভিসা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। যোগ্য আবেদনকারীরা ন্যূনতম পাঁচ বছরের রেসিডেন্সি পারমিট পাবেন, যা পরবর্তীতে নবায়নযোগ্য।

যেসব শর্তে পাওয়া যাবে গোল্ডেন ভিসা

আমিরাত সরকার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বেশ কয়েকটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে-

● আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: পাঁচ বছর ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা মানবিক উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজের প্রমাণ থাকতে হবে।

● সংস্থার সক্রিয় সদস্যপদ: সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান বা অলাভজনক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় পাঁচ বছরের সম্পৃক্ততা থাকলে আবেদন করা যাবে।

● সম্মাননা ও পুরস্কার: মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা পুরস্কারপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মিলবে।

● বৃহদাকার দান: মানবকল্যাণে কমপক্ষে ৫ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ আর্থিক অবদান রাখার স্বীকৃত রেকর্ড থাকলেও গোল্ডেন ভিসার যোগ্যতা মিলবে।

● বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান: শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নিরলস কাজ করা ব্যক্তিরা বিশেষ গুরুত্ব পাবেন।

এই নীতিগত পরিবর্তন আমিরাতের বৈশ্বিক মানবিক নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমাজসেবা, মানবিক প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য এটি স্থায়ী বাসস্থান, নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনের সুযোগ এনে দেবে।

-রফিক


মানুষ ফেলে গেলেও ফেলেনি কুকুর, পরিত্যক্ত শিশুকে রক্ষার কুকুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ১১:৪৫:৪১
মানুষ ফেলে গেলেও ফেলেনি কুকুর, পরিত্যক্ত শিশুকে রক্ষার কুকুর
রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতককে শীতের সারা রাত পাহারা দিল একদল কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো ফোটার আগে শীতের রাতের শেষ প্রহরে নিস্তব্ধ এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপ শহরে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঠিক সেই সময় রেলওয়ে কর্মীদের কলোনির বাথরুমের বাইরের ঠান্ডা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেল এক নবজাতককে। তবে শিশুটি একা ছিল না বরং তাকে ঘিরে নিখুঁত এক বৃত্ত তৈরি করে পাহারায় ছিল কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই রোমহর্ষক ঘটনা। গত সোমবার ভোরবেলা নবদ্বীপের একটি বাড়ির টয়লেটের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই নবজাতককে কোনো হিংস্রতা ছাড়াই পাহারা দিয়ে রক্ষা করেছে একদল কুকুর। কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ বা ছোটাছুটি না করে কেবল নীরব প্রহরায় শিশুটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। স্থানীয় এক নারী ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যাওয়ার পরই কুকুরগুলো শান্তভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা শুক্লা মণ্ডল সবার আগে কুকুরবেষ্টিত শিশুটিকে দেখেন। তিনি বলেন ঘুম ভেঙে আমরা যা দেখেছিলাম তাতে এখনও শরীর শিউরে ওঠে। কুকুরগুলো রাগী ছিল না বরং তারা যেন একধরনের সতর্কতায় দাঁড়িয়ে ছিল এবং তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল তারা বুঝতে পারছিল এই বাচ্চাটা বাঁচার জন্য লড়ছে। আরেক বাসিন্দা সুভাষ পাল ভোরের একটু আগে শোনা ক্ষীণ কান্নার কথা স্মরণ করে বলেন ভেবেছিলাম আশপাশের কোনো বাড়িতে অসুস্থ বাচ্চা আছে। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে বাইরে মাটিতে এক নবজাতক পড়ে আছে আর তার চারপাশে কুকুরেরা প্রহরীর মতো পাহারা দিচ্ছে।

শুক্লা জানান অবশেষে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে কুকুরগুলো নীরবে তাদের পাহারার বৃত্ত শিথিল করে দেয়। তিনি নিজের ওড়না দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রতিবেশীদের ডাকেন। তড়িঘড়ি করে শিশুটিকে প্রথমে মহেশগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে সেখান থেকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা জানান শিশুটির শরীরে কোনো আঘাত নেই। তাঁদের মতে জন্মের পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা কলোনিরই কেউ রাতের আঁধারে শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে।

নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও চাইল্ড হেল্প কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য প্রক্রিয়া চালু করেছে। তবু প্রশাসনিক তৎপরতার আড়ালেও শহরের মানুষের চোখে লেগে আছে সেই রাতের দৃশ্য। প্রশিক্ষণহীন ও অবহেলিত সেই কুকুরগুলো অদ্ভুত এক মানবিকতা দেখিয়েছে। স্থানীয় এক রেলকর্মী মন্তব্য করেন এরা সেই কুকুর যাদের নিয়ে আমরা অভিযোগ করি কিন্তু তারা সেই মানুষের চেয়ে বেশি মানবতা দেখিয়েছে যে এই শিশুটিকে ফেলে গেছে।


ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন পুতিন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ০৯:৪১:০৮
ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন পুতিন
ছবি : সংগৃহীত

রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বন্দর ও জাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দেশটিকে সমুদ্র থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। মঙ্গলবার ২ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৭৩ বছর বয়সী পুতিন এসব কথা বলেন।

রুশ জাহাজে হামলাকে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর দস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করে পুতিন বলেন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী এখন যা করছে সেগুলো দস্যুতা। রাশিয়া প্রথমে ইউক্রেনের বন্দর এবং সেখানে আসা জাহাজে হামলা চালাবে। তিনি দ্বিতীয় ধাপে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন যদি এসব দস্যুতা চলতে থাকে তবে আমরা সম্ভাব্যতা যাচাই করব। তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি এখনই হামলার কথা বলছেন না তবে যেসব দেশ ইউক্রেনকে সহায়তা করছে তাদের জাহাজের ওপর হামলা চালানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

পুতিন হুমকি দিয়ে বলেন যদি এগুলো না করা হয় তাহলে সবচেয়ে বড় বিকল্প হলো ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। তখন দস্যুতা করা আর সম্ভব হবে না। তিনি ইউক্রেনের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সতর্ক করে বলেন আমি আশা করব তারা ভাববে এগুলো করে কোনো লাভ আছে কি না। উল্লেখ্য গত দুই দিনে রাশিয়ার অন্তত তিনটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে এবং সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে এসব জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তিচুক্তি করতে মস্কোতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জের্ড ক্রুসনার। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তারা আলোচনা করেন। তবে এই দীর্ঘ আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইউরি উসাকোভ। কূটনৈতিক এই ব্যর্থতার পরই পুতিনের এমন কঠোর অবস্থান সামনে এলো।

সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট, আলজাজিরা

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত