সড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে:  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১৩:৫৫:১১
সড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে:  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন সড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি এদিন তিনি দেশের কৃষি খাত ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণের সার মজুত রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য সার মজুত করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এখন থেকে সারের ডিলারশিপ আর রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হবে না বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

সবজির বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি আশ্বস্ত করেন যে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। পেঁয়াজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই এবং দামও কমে গেছে। তিনি জানান কিছু ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানির জন্য চাপ দিচ্ছিল কিন্তু কৃষকদের স্বার্থে সরকার তা করেনি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে তাই আমাদের কৃষকবান্ধব হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলুর দাম ও সংরক্ষণ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন আলুর দাম আগে কৃষক পায়নি তবে এখন কিছুটা দাম বাড়ছে। কৃষকদের সুবিধার্থে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এসপি বা পুলিশ সুপার নিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান এসপি নিয়োগে এ বি সি তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ১৮ জনকে আগে নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েনি বলে তিনি দাবি করেন।


১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৭:১৭:৫১
১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সংলাপে আসিফ নজরুল তাঁর ব্যক্তিগত সততা এবং পরিবারের বিরুদ্ধে চলা মিথ্যে প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা সত্ত্বেও কেউ আমেরিকায় তাঁর কথিত বাড়ির সন্ধান দিতে পারেনি, অথচ এখনও এক ধরণের ‘বদমাইশ’ চক্র এই গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। ড. নজরুলের মতে, তাঁর নামে কুৎসা রটালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভিউ’ বেশি পাওয়া যায় এবং আর্থিক মুনাফা বা মনিটাইজেশন সহজ হয় দেখেই একটি শ্রেণি এই হীন কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি একে নিছক সমালোচনা নয় বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।

জুলাই বিপ্লবের ঘটনাগুলোতে আসামিদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল তাঁর সীমাবদ্ধতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন যে এই মামলাগুলোতে ৯০ শতাংশ জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে, যেখানে আইন উপদেষ্টার সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিচারক নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতির অধীনে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন এই দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে। ড. নজরুল আক্ষেপ করে বলেন যে কোনো ভুল হলে বিচারকের সমালোচনা না করে দায়ভার কেবল তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা এক ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতা বা পেশাদারী বিদ্বেষের শামিল।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল সরকারের সমালোচকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে সরকার যদি দশটির মধ্যে চারটি কাজও করে তবে সেটির স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ঢালাওভাবে ‘কিছুই হয়নি’ বলার প্রবণতা সমালোচনাকে একটি পেশা বা স্রেফ আত্মতৃপ্তির বিষয়ে পরিণত করে যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী সকলকে আত্মসমালোচনার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং সংবাদমাধ্যম—সবাইকে আগে নিজেদের ভেতর সংস্কার আনতে হবে। নিয়ত পরিষ্কার রেখে সবাই যদি সৎভাবে কাজ করে, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।


ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:২১:২১
ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এর সপক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংবিধান সংস্কারের এই প্রশ্নে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন একই মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী এই গণভোট পরিচালিত হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই গণভোটে ‘না’ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারের যেসব প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট হতে যাচ্ছে, তার অধিকাংশই বিএনপি অনেক আগে ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিল। সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

সম্প্রতি বিএনপির কোনো কোনো স্তরের নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালে রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এমনকি শেরপুরের এক বিএনপি নেতার বক্তব্য ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চের অস্তিত্ব থাকবে না। তবে বিএনপি নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা দলগতভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে নয় এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সাথে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফাইড পেজ থেকেও মহাসচিবের বক্তব্য প্রচার করার মাধ্যমে দলটির ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারের প্রচার কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তন

শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা কেবল গণভোটের আয়োজন করবে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রচারণা চালাবে না। তবে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সরকার এখন সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে প্রচার শুরু করেছে। এই প্রচারণায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর এবং এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে। প্রচারপত্র ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে এবং জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সংস্কারের রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নেই ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদের ইমাম-খতিবরা মুসল্লিদের গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। একই সাথে মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চ থেকেও এই প্রচারণা চালানো হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীদের মাধ্যমেও এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী সমঝোতা জোট শুরু থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিয়মিতভাবে এই সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন করছেন। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মতো আর কোনো স্বৈরাচার যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তাঁরা জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইছেন। এ ছাড়া বিএনপির জোট শরিক গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদও সরাসরি সংস্কারের সপক্ষে প্রচারণায় নেমেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ রঙিন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত দেবেন। মূলত গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং এর অধীনে প্রস্তাবিত ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করেই এই ভোট হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তবে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এসব প্রস্তাবনা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


তিতাসের গ্যাস সরবরাহে গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৯:৪৭:১০
তিতাসের গ্যাস সরবরাহে গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ 
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে চলমান শীতকালীন গ্যাস সংকটের মধ্যেই নতুন করে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন নৌযানের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামতকাজ চলাকালে পাইপলাইনে পানি প্রবেশ করায় গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকার আমিনবাজার সংলগ্ন তুরাগ নদীর নিচে অবস্থিত বিতরণ লাইনে একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙর আটকে যাওয়ায় পাইপলাইনে ফাটল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাইপলাইনে পানি ঢুকে পড়ায় মেরামত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করে সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

কোন কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

পাইপলাইন ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে গাবতলী থেকে আসাদগেট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় বুধবার থেকেই গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ছুটির দিনে রান্না ও গৃহস্থালি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, রাতে অল্প সময়ের জন্য কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বালানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।

ধানমন্ডির বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন জানান, গ্যাস কার্যত নেই বললেই চলে। রান্নার কোনো উপায় না থাকায় বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে হয়েছে, যা বিদ্যুৎ খরচও বাড়াচ্ছে।

তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনের ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে গ্যাস চাপ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।

-রাফসান


পাবনার দুই আসনে ভোট বন্ধের খবর ভুল: নির্বাচন কমিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৯:৪১:৪৮
পাবনার দুই আসনে ভোট বন্ধের খবর ভুল: নির্বাচন কমিশন
ছবি: সংগৃহীত

পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন সীমানা জটিলতার কারণে স্থগিত করা হয়েছে এমন প্রচারিত সংবাদের সত্যতা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সংক্রান্ত সংবাদটি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস নোটে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন নেয়নি। কমিশনের বরাত দিয়ে যেসব সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস নোটে আরও জানানো হয়, নির্বাচন স্থগিত হয়েছে এমন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে এবং ইতোমধ্যে প্রকাশিত ভুল সংবাদ প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা পুনর্বহাল সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির একটি অংশ আপাতত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও একজন প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

এই আদেশের ফলে নির্বাচনী সীমানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও নির্বাচন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এ বিষয়টি নিয়েই মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ–এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে নির্বাচন কমিশন জানায়, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শুধু সংশ্লিষ্ট দুটি আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি নির্বাচন বাতিল বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নয়; বরং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে মাত্র। আদালতের পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী কমিশন পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

নির্বাচন কমিশন মনে করছে, চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ভুল ব্যাখ্যা ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ কারণে কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা ভুল ধারণা না ছড়ায়।

-রাফসান


পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ফি নতুন নীতিমালা কার্যকর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৩:০৫:৪৩
পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ফি নতুন নীতিমালা কার্যকর
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে ফি আদায়ে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা এখন থেকে এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি ফি আদায় করতে পারবে না, এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ যত বেশি বা কমই হোক না কেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার আলোকে মানি চেঞ্জারদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বা গোপন ফি আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, জিএফইটি ২০১৮ অনুসারে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ভ্রমণ ভাতার আওতায় বিদেশি নোট, কয়েন এবং ট্রাভেলার্স চেক বিক্রি করতে পারবেন। এই লেনদেনের সময় যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে এনডোর্সমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, মানি চেঞ্জারদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে স্পষ্টভাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার এনডোর্সমেন্ট ফি প্রদর্শন করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা আগে থেকেই ফি সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন। একই সঙ্গে গ্রাহকের কাছ থেকে ফি আদায়ের পর অবশ্যই রসিদ দিতে হবে এবং আদায়কৃত ফি সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এর আগে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্যান্য সার্কুলার ও নীতিমালা বহাল থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত মূলত যাত্রী হয়রানি কমানো, ফি আদায়ে একরূপতা নিশ্চিত করা এবং মানি চেঞ্জার খাতে জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নির্দেশনা দেশের সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার ও অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা ডিলারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

-রাফসান


ঢাকার প্রেস থেকে ভোটকেন্দ্র: কীভাবে যাবে ব্যালট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১১:২০:৪৫
ঢাকার প্রেস থেকে ভোটকেন্দ্র: কীভাবে যাবে ব্যালট
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬কে সামনে রেখে ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন ও বিতরণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ঢাকা থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করা এক পরিপত্রে নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকা অনুযায়ী ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হবে। এরই মধ্যে ডাকভোটে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় পোস্টাল ব্যালট, ওসিভি ও আইসিপিভি ব্যালট মুদ্রণ ও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হবে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিজি প্রেস, গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে।

পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনী আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের পক্ষে একজন সিনিয়র সহকারী কমিশনার অথবা সহকারী কমিশনার এবং জেলা নির্বাচন অফিসারের পক্ষে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠাতে হবে ব্যালট পেপার গ্রহণের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত লিখিত ক্ষমতাপত্র এবং প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকতে হবে। ব্যালট গ্রহণের সময় প্রতিনিধিদের অবশ্যই প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ চূড়ান্ত তালিকা (ফরম-৫) যাচাই করতে হবে এবং কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসি জানায়, ভোটগ্রহণের আগের দিন সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচন সামগ্রী গ্রহণ করবেন। ভোটকেন্দ্রে সামগ্রী পৌঁছানোর পর ভোটগ্রহণের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ব্যতীত এক-দুজন সহকারী ছাড়া অন্য কর্মকর্তা কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্বাচনী সামগ্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরিপত্রে স্থানীয়ভাবে ক্রয়যোগ্য কিছু মনিহারি দ্রব্যের তালিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বলপয়েন্ট কলম, সাদা ও কার্বন কাগজ, ছুরি, সুতা, মোমবাতি, দিয়াশলাই, গামপট, স্ট্যাম্প, প্যাডের কালি এবং বিভিন্ন নির্দেশনামূলক প্ল্যাকার্ড। এসব সামগ্রী স্থানীয়ভাবে ক্রয় বা মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সব ফরম, প্যাকেট, ম্যানুয়েল, পোস্টার ও লিফলেট গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্প প্যাড, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, অমোচনীয় কালির কলম এবং হেসিয়ান ব্যাগ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানায় কমিশন। পাশাপাশি চার্জার লাইট, ক্যালকুলেটর ও স্ট্যাপলার মেশিন কেনার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলায় সব নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানোর পর তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ঘাটতি, অতিরিক্ত সরঞ্জাম বা অসংগতি পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।

-শরিফুল


ফ্যাসিবাদ রুখতে গণভোট কেন জরুরি? যা বললেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২১:২৮:২৩
ফ্যাসিবাদ রুখতে গণভোট কেন জরুরি? যা বললেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা আসীন হবেন, তারা যেন আর কখনোই স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করতেই আসন্ন গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। অধ্যাপক রীয়াজ যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু মৌলিক ত্রুটি রয়েছে, যা শাসকদের ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে উৎসাহিত করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করার মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে রুদ্ধ করতে হবে। তিনি মনে করেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশের আপামর জনগণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন যে আগামীতে বাংলাদেশ ঠিক কোন আদর্শ ও পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কার্যকর করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যালট পেপার ও ভোট প্রদানের নতুন পদ্ধতি আসন্ন নির্বাচনের দিন ভোটারদের জন্য ভোট প্রদানের প্রক্রিয়াটি কেমন হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি জানান, নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোটার দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার পাবেন। এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রথাগত সাদা ব্যালট এবং গণভোটের মতামতের জন্য ব্যবহার করা হবে বিশেষ রঙিন ব্যালট। কর্মশালায় উপস্থিত দেশের প্রায় সাড়ে চারশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এনজিওদের সক্রিয় ও নিবিড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশে একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যথায় দেশ আবারও ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অস্থিতিশীল ও স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার গণভোটের কারিগরি জটিলতা এবং তাত্ত্বিক দিকগুলো বিশদভাবে অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করেন।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া তাঁর বক্তব্যে মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এনজিওগুলোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে তাঁরা নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই হবে এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।


ভারতের ৩ শহরে বাংলাদেশি পর্যটক ভিসা সীমিত ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২০:৪৯:১৬
ভারতের ৩ শহরে বাংলাদেশি পর্যটক ভিসা সীমিত ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধান শহরগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা, মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনগুলো এখন থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটক ভিসা ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র থেকে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া সংকুচিত করার ফলে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে এল।

এর আগে রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান হাইকমিশন থেকে অনুরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ত্রিপুরার আগরতলা এবং আসামের গোহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনগুলো থেকেও ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা সীমিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে ভারতের প্রায় সবকটি প্রধান কূটনৈতিক পয়েন্ট থেকেই বাংলাদেশ ভ্রমণের আবেদন গ্রহণ ও পর্যটন ভিসা ইস্যু করার বিষয়টি এখন নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে চলে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোর পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে আসা এই ঘোষণাগুলো ভারতের সব প্রান্তের পর্যটকদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতা ও চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যটনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। দিল্লি থেকে শুরু হয়ে আগরতলা, গোহাটি এবং সর্বশেষ মুম্বাইসহ দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের মিশনগুলোতে এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার পর্যটন যাতায়াতে এক ধরণের স্থবিরতা বা মন্থর গতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


বেতন নিয়ে বড় খবর! নবম পে স্কেলের সর্বনিম্ন দরের ৩ প্রস্তাব এল সামনে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৯:২৩:১০
বেতন নিয়ে বড় খবর! নবম পে স্কেলের সর্বনিম্ন দরের ৩ প্রস্তাব এল সামনে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে জাতীয় পে কমিশন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পে কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ সভায় এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। সভায় এই তিনটি বিকল্প প্রস্তাবের যেকোনো একটিকে চূড়ান্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও, সামগ্রিক বেতন কাঠামো নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিশন।

পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে নবম পে স্কেলের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। তবে বেতন কাঠামোর নিম্নবর্গের অঙ্কগুলো নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হলেও অন্যান্য ভাতার জটিলতায় আজ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই সভার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের সরকারি চাকুরিজীবীদের আর্থিক ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিনটি ভিন্ন প্রস্তাবের গাণিতিক সমীকরণ সভার আলোচনার বিষয়ে পে কমিশনের একজন শীর্ষ সদস্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সর্বনিম্ন বেতন স্কেল নির্ধারণে তিনটি সুনির্দিষ্ট অঙ্কের প্রস্তাব কমিশনের সামনে রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রথম ও সর্বোচ্চ প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে এই অঙ্কটি ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় তথা সর্বশেষ প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করেই এই তিনটি ভিন্ন অঙ্কের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ স্কেল ও অন্যান্য ভাতার জটিলতা সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব আসলেও, নবম পে স্কেলের সর্বোচ্চ বেতন ঠিক কত হতে পারে—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এ বিষয়ে কমিশন সদস্য জানান যে, সর্বোচ্চ বেতনের অঙ্কটি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। এই অতিরিক্ত ভাতাসমূহ ঠিক কোন হারে প্রদান করা হবে, তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ বেতন স্কেলের অঙ্কটি নির্ধারিত করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বেতন কাঠামো ঠিক কেমন হবে, তা জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সদস্য সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিক। এ ছাড়াও সভার গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকজন খণ্ডকালীন সদস্যও অংশগ্রহণ করেন। কমিশন এখন এই তিনটি প্রস্তাবের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখবে, যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত