ডিএসই মিউচুয়াল ফান্ডে এনএভি হালনাগাদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক ক্লোজ এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের নেট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনএভি হালনাগাদ করেছে ট্রাস্টি ও অ্যাসেট ম্যানেজাররা। ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দিনশেষে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ফান্ডই এখনো কস্ট প্রাইসের তুলনায় কম দামে লেনদেন হচ্ছে, ফলে ইউনিটপ্রতি এনএভি কস্ট প্রাইসের চেয়ে কম হলেও ফান্ডভিত্তিক মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য অঙ্কে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী এনসিসিবিএল এমএফ ওয়ান ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি বর্তমান বাজারদর ভিত্তিক এনএভি দেখিয়েছে ৯ দশমিক ১৯ টাকা এবং কস্ট প্রাইস ভিত্তিক এনএভি ১১ দশমিক ০৮ টাকা, যার বিপরীতে মোট নেট সম্পদ দাঁড়িয়েছে বাজারদরে প্রায় ৯৯৬ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। অপরদিকে এলআর গ্লোবাল এমএফ ওয়ান ফান্ডের ইউনিটপ্রতি এনএভি বাজারদরে ৮ দশমিক ৫৫ টাকা এবং কস্ট প্রাইসে ১০ দশমিক ৯৯ টাকা হলেও এই ফান্ডের মোট নেট সম্পদ বাজারদরে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬৫৯ দশমিক ৮০ কোটি টাকা, যা এ ক্যাটাগরির বড় ফান্ডগুলোর একটি শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে।
ক্যাপিএম আইবিবিএল এমএফ, এমবিএল ফার্স্ট এমএফ, এআইবিএল ফার্স্ট আইএমএফ এবং ক্যাপিএম বিডিবিএল এমএফসহ ইসলামী এবং প্রচলিত উভয় ধরনের ফান্ডের এনএভি প্রতিবেদনেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ক্যাপিএম আইবিবিএল এমএফ ইউনিটপ্রতি বর্তমান এনএভি দেখিয়েছে ৭ দশমিক ৮১ টাকা, কস্ট প্রাইস ভিত্তিক এনএভি ১১ দশমিক ৩৮ টাকা এবং মোট নেট সম্পদ প্রায় ৫২২ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এমবিএল ফার্স্ট এমএফ এর বাজারদর ভিত্তিক এনএভি ৮ দশমিক ৫৩ টাকা এবং কস্ট ভিত্তিক এনএভি ১১ দশমিক ০৯ টাকা, মোট নেট সম্পদ বাজারদরে ৮৫৩ দশমিক ২৭ কোটি টাকার বেশি।
গ্রিন ডেল্টা এমএফ এবং ডিবিএইচ ফার্স্ট এমএফ উভয় ফান্ডই আকারে বড় এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল পোর্টফোলিও নির্দেশ করছে। গ্রিন ডেল্টা এমএফ এর ইউনিটপ্রতি এনএভি বাজারদরে ৮ দশমিক ৭৫ টাকা ও কস্ট প্রাইসে ১১ দশমিক ১০ টাকা, মোট নেট সম্পদ বাজারদরে প্রায় ১৩১২ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। ডিবিএইচ ফার্স্ট এমএফ এর ইউনিটপ্রতি এনএভি বাজারদরে ৮ দশমিক ৪৭ টাকা, কস্ট প্রাইসে ১০ দশমিক ৯৫ টাকা এবং মোট নেট সম্পদ বাজারদরে ১০১৬ দশমিক ৪৮ কোটি টাকারও বেশি।
শরিয়াভিত্তিক ফান্ডগুলোর মধ্যে এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়া ফান্ড এবং এসইএমএল এলইসি এমএফ উল্লেখযোগ্য। এসইএমএল এফবিএসএল জিএফ ইউনিটপ্রতি এনএভি বাজারদরে ৯ দশমিক ৩৭ টাকা এবং কস্ট প্রাইসে ১১ দশমিক ২৪ টাকা, মোট নেট সম্পদ প্রায় ৬৮৩ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা। এসইএমএল আইবিবিএল এসএফ এর বাজারদর ভিত্তিক এনএভি ৯ দশমিক ৬৭ টাকা এবং কস্ট ভিত্তিক এনএভি ১১ দশমিক ৭৩ টাকা, মোট নেট সম্পদ প্রায় ৯৬৬ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা। এসইএমএল এলইসি এমএফ ইউনিটপ্রতি বাজার এনএভি ৯ দশমিক ৮০ টাকা, কস্ট প্রাইসে ১১ দশমিক ৭২ টাকা এবং মোট নেট সম্পদ প্রায় ৪৯০ দশমিক ১৭ কোটি টাকা।
বিভিন্ন ব্যাংক এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন সংশ্লিষ্ট ফান্ড যেমন ট্রাস্ট ব্যাংক ওয়ান এমএফ, পপুলার ওয়ান এমএফ, পিএইচপি এমএফ ওয়ান, ক্যাপিটেক জিবি ফান্ড, আইএফআইসি ফার্স্ট এমএফ, এফবিএফআইএফ, এক্সইএম ফার্স্ট এমএফ, ইবিএল এনআরবিএমএফ, ভিএএমএল আরবিবিএফ, ইবিএল ফার্স্ট এমএফ এবং এবিবি ফার্স্ট এমএফ সবগুলোর ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ ট্রাস্ট ব্যাংক ওয়ান এমএফ ইউনিটপ্রতি বাজার এনএভি ৬ দশমিক ৫৩ টাকা, কস্ট এনএভি ১১ দশমিক ৪৩ টাকা এবং মোট নেট সম্পদ বাজারদরে প্রায় ১৯৮১ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা। পপুলার ওয়ান এমএফ এর বাজার এনএভি ৭ দশমিক ০২ টাকা, কস্ট এনএভি ১১ দশমিক ৪১ টাকা, মোট নেট সম্পদ বাজারদরে ২১০০ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ওয়ান জনতা এমএফ, প্রাইম ভিএএমএল আইসিবিএ ফান্ড, ভিএএমএল বিডি এমএফ ওয়ান, রিলায়েন্স ওয়ান, গ্রামীণ দ্বিতীয় ফান্ডসহ অন্যান্য পুরনো ও পরিচিত ফান্ডগুলোও তুলনামূলক ভালো আকারে পোর্টফোলিও ধরে রেখেছে। ওয়ান জনতা এমএফ এর ইউনিটপ্রতি বাজার এনএভি ৬ দশমিক ০৯ টাকা হলেও মোট নেট সম্পদ বাজারদরে ১৭৬৫ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা। ভিএএএমএল বিডি এমএফ ওয়ান ইউনিটপ্রতি এনএভি বাজারদরে ৮ দশমিক ৯৫ টাকা, কস্ট প্রাইসে ১০ দশমিক ০১ টাকা এবং মোট নেট সম্পদ প্রায় ৯৩৪ দশমিক ১৩ কোটি টাকা। রিলায়েন্স ওয়ান ইউনিটপ্রতি বাজার এনএভি ১০ দশমিক ৬৩ টাকা এবং গ্রামীণ দ্বিতীয় ফান্ডের ইউনিটপ্রতি বাজার এনএভি ১৫ দশমিক ৬৭ টাকা, যা তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এনএভিগুলোর একটি।
-রফিক
৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের লেনদেন শেষে বাজারে ব্যাপক দরপতনের চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনশেষে মোট লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭০টির শেয়ারদাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৬টির দর কমেছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাজারে বিক্রির চাপ প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে এ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ১৫৩টি কোম্পানির শেয়ারদাম কমেছে এবং মাত্র ৪২টি বেড়েছে। একইভাবে বি ক্যাটাগরিতে ৬১টি শেয়ার পতনের মুখে পড়ে, যা বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
জেড ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রবণতা বজায় ছিল, যেখানে ৯২টি কোম্পানির দর কমেছে এবং মাত্র ১২টি শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ২৭টি ফান্ডের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা প্রতিফলিত হয়েছে।
দিনের মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৭৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি, যা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়। তবে উচ্চ লেনদেন সত্ত্বেও দরপতনের আধিক্য বাজারে নেতিবাচক মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি, এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ইউনিট।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। ইক্যুইটি সেক্টরে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, আর মোট বাজার মূলধন ৬৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি অতিক্রম করেছে, যা বাজারের আকার ও গভীরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
এদিকে ব্লক ট্রানজেকশন বা বড় অংকের লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা গেছে। মোট ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারে ব্লক ট্রেড হয়েছে, যেখানে প্রায় ৬২ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং এর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮১ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে লাভেলো, ফাইন ফুডস, গিকিউ বলপেন এবং আল-হাজ টেক্সটাইলসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বড় অংকের লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের ব্যাপক দরপতনের পেছনে তারল্য সংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চাপ অব্যাহত থাকায় বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা নেতিবাচক দিকে ঝুঁকছে।
তারা আরও বলেন, লেনদেনের পরিমাণ বেশি থাকা সত্ত্বেও যদি অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমে যায়, তবে তা বাজারে ‘ডিস্ট্রিবিউশন ফেজ’ বা বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক হয়ে মৌলিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সার্বিকভাবে, ৯ এপ্রিলের বাজার চিত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা বহন করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নীতিগত সহায়তা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
-রাফসান
৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
দেশের পুঁজিবাজারে আজকের লেনদেন শেষে শীর্ষ লুজার তালিকায় ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর আধিপত্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। দিনজুড়ে বিক্রির চাপ বাড়ায় একাধিক শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে, যা বাজারে এক ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডিএসইতে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় তৈরি তালিকায় সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ারদাম ৯.০৯ শতাংশ কমে ৩ টাকায় নেমে আসে, যা দিনের সর্বোচ্চ পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের শেয়ারদাম কমেছে প্রায় ৮.৮৯ শতাংশ, যা আর্থিক খাতের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে বিআইএফসি এবং ফ্যামিলি টেক্সটাইলস উভয়ই ৮.৩৩ শতাংশ হারে দর হারিয়ে তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করেছে।
পরবর্তী অবস্থানে থাকা জেননেক্স ইনফোটেক প্রায় ৮.১১ শতাংশ পতনের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে এটলাস বাংলাদেশ, ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স এবং পিএলএফএসএল-এর শেয়ারদামও প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা আর্থিক ও শিল্প খাতের বিস্তৃত দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
তালিকার শেষদিকে থাকা রিং শাইন টেক্সটাইলসের শেয়ারদামও প্রায় ৭.৯ শতাংশ কমেছে, যা টেক্সটাইল খাতে চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই লুজার তালিকায় আর্থিক খাতের আধিক্য বাজারের তারল্য সংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের দুর্বল মৌলিক অবস্থার প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে টানা দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
-রাফসান
৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারে সেরা ১০ গেইনার শেয়ার তালিকা
দেশের পুঁজিবাজারে আজকের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতের কোম্পানির শেয়ারদামে উত্থান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। দিনশেষে মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে এগিয়ে থাকা শেয়ারগুলো বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডিএসইতে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইস (YCP) তুলনায় তৈরি করা তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বেঙ্গল ডব্লিউটিএল। কোম্পানিটির শেয়ারদাম ৮.৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১.৮ টাকায় লেনদেন শেষ করে, যা দিনের সর্বোচ্চ গেইন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এসিএমই পিএলসি’র শেয়ারদাম বেড়েছে প্রায় ৬.৮৪ শতাংশ, দিনশেষে যার ক্লোজিং মূল্য দাঁড়ায় ২৫ টাকায়। একইভাবে মনোস্পুল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৬.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা শিল্পখাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া বিডি ল্যাম্পস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার এবং এপেক্স ট্যানারি যথাক্রমে ৪ থেকে ৪.৪ শতাংশের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই কোম্পানিগুলোর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাজারে স্থিতিশীল প্রবণতা তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তালিকার পরবর্তী অংশে রয়েছে আরামিট, ওয়াটা কেমিক্যাল, বিএনআইসিএল এবং এসআইপিএলসি, যেগুলোর শেয়ারদাম প্রায় ৩.৭ থেকে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্যময় খাত যেমন কেমিক্যাল, বীমা ও উৎপাদন খাতের উপস্থিতি বাজারের বিস্তৃত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ারবাজারে এই ধরনের গেইনার তালিকা বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র দৈনিক মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সার্বিকভাবে, আজকের বাজারে শেয়ারদামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতিগত সহায়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-রাফসান
৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারজুড়ে একধরনের শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের (rebound) চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ৩৬৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে মাত্র ১৫টির দর কমেছে এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে, যা বাজারে ক্রেতাদের সুস্পষ্ট আধিপত্য নির্দেশ করে।
বিভিন্ন ক্যাটাগরির পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৯১টির দর বেড়েছে, যা ব্লু-চিপ ও শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারগুলোর ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১০২টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের প্রায় সব স্তরে ইতিবাচক সাড়া প্রতিফলিত করছে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এ খাতে লেনদেন হওয়া ৩৪টির মধ্যে ৩০টির দর বেড়েছে এবং কোনো পতন হয়নি, যা দীর্ঘদিন পর বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনের মোট লেনদেন মূল্য প্রায় ৯,৯১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একইসঙ্গে মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩৪৩ মিলিয়ন ইউনিট, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার মূলধনও এদিন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকায়, যা পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে।
ব্লক মার্কেটেও বড় আকারের লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, জিকিউ বলপেন, ফাইন ফুডস এবং লাভেলো আইসক্রিমসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর এই ধরনের শক্তিশালী উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা মনে করছেন, ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে এবং সামগ্রিকভাবে একটি স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড গড়ে উঠতে পারে।
-রাফসান
৮ এপ্রিল: দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ দরপতনকারী কোম্পানিগুলোর তালিকায় তুলনামূলকভাবে সীমিত মাত্রার পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বড় ধরনের ধসের পরিবর্তে একটি স্বাভাবিক সংশোধনী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনশেষে ড্যাকাডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড শীর্ষ লুজার হিসেবে অবস্থান নিয়েছে, যার শেয়ারদর প্রায় ১.২১ শতাংশ কমে ১৬.৩ টাকায় নেমে এসেছে।
এরপরের অবস্থানে থাকা টেকনোড্রাগ লিমিটেডের শেয়ারদর প্রায় ১.০৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩৬.৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড এবং অ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড যথাক্রমে প্রায় ০.৯৫ শতাংশ ও ০.৭৯ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল সংশ্লিষ্ট খাতে কিছুটা বিক্রয়চাপের প্রতিফলন।
খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতেও মৃদু দরপতন দেখা গেছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ফাইন ফুডস এবং বাটা শু কোম্পানির শেয়ারদর সামান্য কমেছে, যদিও পতনের হার তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ ধরনের প্রবণতা সাধারণত স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার (profit booking) কারণে ঘটে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বীমা খাতের জনতা ইন্স্যুরেন্স এবং সাপোর্টালসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারেও সামান্য নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে সামগ্রিকভাবে সতর্ক বিনিয়োগ আচরণের প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সীমিত পতন বাজারের জন্য নেতিবাচক নয়; বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর সংশোধন (healthy correction) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ ধারাবাহিক উত্থানের পর কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়া স্বাভাবিক এবং এটি বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বড় পতনের পরিবর্তে ক্ষুদ্র পরিসরের এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পুনঃপ্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী।
-রাফসান
৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দিনশেষে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলদেশ গ্যাস (বাংগ্যাস), যার শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৪.২ টাকায় পৌঁছেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিডি ল্যাম্পস, যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৯৭ শতাংশ বেড়ে ১৫৭.৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে কেবিপিপি ওয়াটার বিল, কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ এবং এবিব্যাংকের শেয়ারদর যথাক্রমে প্রায় ৯.৯৪ শতাংশ, ৯.৮১ শতাংশ এবং ৮.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে এদিন উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এবিব্যাংক ও আইএফআইসি—উভয় ব্যাংকের শেয়ারদর যথাক্রমে ৮.৯৩ শতাংশ এবং ৭.৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। এক্সিম ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং প্রাইম আইসিবিএ ফান্ড উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অটোমোবাইল খাতের কোম্পানি বিডিএ অটোকারও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যার শেয়ারদর প্রায় ৮.৭৪ শতাংশ বেড়ে ২১৮.৯ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স খাতের পিপলস ইন্স্যুরেন্সও প্রায় ৭.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কার্যক্রম এবং খাতভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতার পরিবর্তনের কারণে এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা তা নির্ভর করবে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। তাই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-রাফসান
ইরান যুদ্ধে বিরতির জাদুকরী প্রভাব: শেয়ারবাজারে সূচকের বিশাল উল্লম্ফন
ইরান যুদ্ধ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে যে স্বস্তির হাওয়া বইছে, তার ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও। আজ বুধবার লেনদেন শুরুর প্রথম মুহূর্ত থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই এক শক্তিশালী উল্লম্ফন ঘটেছে।
মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৫২৯১ পয়েন্টে উন্নীত হয়। লেনদেন শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় সূচক প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্ট অতিক্রম করে। বাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫৫টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৫টিরই শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সেরা বাজার পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
লেনদেনের গতিতেও আজ এক অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত মঙ্গলবার প্রথম ঘণ্টায় যেখানে ১৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, আজ একই সময়ে লেনদেনের পরিমাণ ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির খবর এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে তেহরানের সম্মতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় স্বস্তি দিয়েছে।
এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। এই ইতিবাচক ঢেউ শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন—জাপানের নিক্কি (৫ শতাংশ বৃদ্ধি), ভারতের সেনসেক্স (সাড়ে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং হংকংয়ের সূচকেও বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। আপাতত বড় ধরনের যুদ্ধের অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আবারও শেয়ারবাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
/আশিক
৭ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে অধিকাংশ শেয়ার ইতিবাচক প্রবণতা প্রদর্শন করেছে। দিনের শেষে মোট ৩৯৩টি লেনদেনযোগ্য কোম্পানির মধ্যে ২৭৫টির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে ব্যাপক আশাবাদের ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে দরপতন হয়েছে মাত্র ৭০টি শেয়ারের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টি।
এ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে ১২৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, যেখানে পতন হয়েছে ৪৪টির। একইভাবে বি ক্যাটাগরিতে ৬৯টি কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেড ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ৮০টি শেয়ার বাড়ার বিপরীতে কমেছে মাত্র ১৯টি। এটি নির্দেশ করে যে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলোতেও সাময়িক ক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে।
লেনদেনের পরিসংখ্যানও বাজারের গতি বৃদ্ধির প্রমাণ দিয়েছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫,৯৭০ কোটি টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ২৪ কোটিরও বেশি ইউনিট অতিক্রম করেছে।
বাজার মূলধনেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৮২ লাখ কোটি টাকার বেশি, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের শক্তিশালী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
ব্লক ট্রেড সেগমেন্টেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম দেখা গেছে। এপেক্স স্পিনিং, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে ১১০ মিলিয়ন টাকার বেশি ব্লক ট্রেড হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা এবং নির্দিষ্ট খাতে আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র মূলধনের শেয়ারগুলোতে ক্রয়চাপ বেশি থাকায় বাজারে দ্রুত ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই উত্থান দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না তা নির্ভর করবে কোম্পানির মৌলভিত্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত আবেগের পরিবর্তে বিশ্লেষণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
-রাফসান
শেয়ারবাজারে কমেছে ১০ কোম্পানির দর
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনে কিছু শেয়ারে দরপতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে শীর্ষ লুজার তালিকায় উঠে এসেছে ব্যাংক, বিমা এবং আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। দিনের শেষে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানি হিসেবে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৫.০৬ শতাংশ কমে ১৫ টাকায় নেমে এসেছে।
এরপরের অবস্থানে রয়েছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ারদর ৩.৫১ শতাংশ কমে ১৬.৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে উত্তরা ফাইন্যান্স ৩.০৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২.৭ টাকায় লেনদেন শেষ করেছে, যা আর্থিক খাতে দুর্বল প্রবণতার প্রতিফলন।
বিমা খাতের আরেকটি কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ২.৫৬ শতাংশ কমে ৬০.৯ টাকায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ২.৫৪ শতাংশ এবং আইএফআইসি শরিয়াহভিত্তিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২.৫০ শতাংশ দর হারিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের শেয়ারদরও ২.৪৮ শতাংশ কমে ২ হাজার ১০৯.৯ টাকায় নেমে এসেছে। বড় মূলধনী এই শেয়ারের পতন বাজারে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়া এসিএফএল, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ আরও কয়েকটি শেয়ার ২ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে শীর্ষ লুজার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বাজারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা, খাতভিত্তিক সংশোধন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এই দরপতন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চাপ বেশি থাকায় এ খাতের শেয়ারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না যাওয়ায় এটিকে স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের উচিত কোম্পানির মৌলভিত্তি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- সাধারণ দর্শকের বেশে বেইলি রোডে প্রধানমন্ত্রী! সপরিবারে দেখলেন শিশুদের নাটক
- মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পিছু নিল ইরান! হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি
- এক দিনে ২০০ হামলা! লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডবে থমকে যেতে পারে শান্তি আলোচনা
- যুক্তরাষ্ট্রে ওপেনএআই সিইওর বাসায় হামলা
- তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু, রাজি হলেন কেবল ট্রাম্প!
- ইমামকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি আটক
- সেই আলোচিত তরুণীর নতুন রাজনৈতিক যাত্রা! বিএনপির মনোনয়ন নিলেন
- বিশ্বজুড়ে এখন ‘থ্যাংক ইউ পাকিস্তান’! পাল্টে গেল শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তি
- সৌদিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের বহর: বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি না কি শান্তি রক্ষা?
- ১১ উপজেলায় একযোগে যাত্রা শুরু! কৃষক কার্ড নিয়ে বড় ঘোষণা
- শিগগিরই খুলছে হরমুজ প্রণালি! বিশ্বকে বড় বার্তা দিলেন ট্রাম্প
- গুরুতর আহত হয়েও ইরান চালাচ্ছেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- শান্তি আলোচনার মাঝে অর্থের প্যাঁচ! ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে লুকোচুরি
- কফিশপ নয়, ডেটিংয়ের জন্য এখন কবরস্থানই পছন্দ জেন-জিদের!
- তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির
- সাবধান! ফোনের এই অ্যাপগুলো এখনই মুছে ফেলুন, না হলে সব শেষ
- সড়কে রক্তক্ষয়ী মাস! লাশের মিছিলে যোগ হলো ৫৩২ প্রাণ
- নিউজিল্যান্ড সিরিজে পূর্ণ শক্তির টাইগার দল! অধিনায়ক মিরাজ
- বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানে: অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ!
- পাকিস্তানগামী বিমানে শিশুদের ছবি! কী বোঝাতে চাইলেন গালিবাফ?
- কিডনিতে পাথর কেন হয়? খাবারের এই ভুলগুলো আজই শুধরে নিন
- ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, শুরু হচ্ছে মূল পর্ব
- যুদ্ধবিরতি হলেও কাটবে না জ্বালানিসংকট: ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ওয়াশিংটনে মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েল-লেবানন: শান্তির পথে বড় মোড়
- আজকের মুদ্রার রেট: জেনে নিন কোন দেশের কত টাকা
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন সমীকরণ: ইরানকে অত্যাধুনিক মিসাইল দিচ্ছে চীন!
- আজ শনিবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ থাকবে
- পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে ইরানের সাথে চুক্তি: ট্রাম্প
- চাঁদ জয় করে ফিরল ‘আর্টেমিস-২’: প্রশান্ত মহাসাগরে নাসার ঐতিহাসিক অবতরণ
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত
- আজকের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- ক্রেতাদের জন্য সুখবর, কমলো স্বর্ণের দর
- আজকের লাইভ খেলা, কখন কোথায় দেখবেন
- শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ, জানুন এলাকা
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক বগাছড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্টে পুরস্কার ও আর্থিক অনুদান
- পর্দার আড়ালে চীনের মাস্টারস্ট্রোক: রক্ষা পেল যুদ্ধবিরতি
- বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সৌদি লিগে ‘রোনালদো-পক্ষপাত’! রেফারিদের নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড
- ইরান না কি ইসরায়েল, কে জিতল? ইসরায়েলিদের জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- যুদ্ধ না কি শান্তি? যেকোনো একটি বেছে নাও: ইরান
- চলতি অধিবেশনে চতুর্থবার ওয়াকআউট: বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তুঙ্গে
- কালো সোনার মহাকাব্য: যেভাবে ‘তেল’ হয়ে উঠল বিশ্ব শাসনের মূল চাবিকাঠি
- শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চলবে: হিজবুল্লাহ প্রধান
- ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি: লেবানন ইস্যুতে আলোচনার শুরুতেই হোঁচট
- ১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
- ঢাকাসহ ৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা
- বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
- রাডার থেকে উধাও যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন: নেপথ্যে কি ইরান?
- আওয়ামী প্রশ্ন: নিষিদ্ধের রাজনীতি নাকি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ?
- যুদ্ধবিরতির আড়ালে আগুন: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- শান্তির খোঁজে ইরানের সঙ্গে সৌদির যোগাযোগ
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে বেশি লোকসানে যেসব কোম্পানি
- শেয়ারবাজারে চাঙ্গা দিন, লাভের শীর্ষে ১০ কোম্পানি
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার
- শেয়ারবাজারে কমেছে ১০ কোম্পানির দর
- আজকের শেয়ারবাজারে কারা সবচেয়ে বেশি লোকসানে
- সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নাটকীয়তা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ইসরায়েলের হামলা








