পানির তীব্র সংকটে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৫ ২১:৪২:১৮
পানির তীব্র সংকটে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে ফায়ার সার্ভিসের জন্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তীব্র যানজট পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর পানির তীব্র ঘাটতির কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান ঘটনাস্থলে পানির সংকট রয়েছে। তাই পানিবাহী আরও কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং সব মিলিয়ে মোট ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে আগুন নেভাতে কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বস্তির বাসিন্দারা জানান আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা দাউ দাউ করে টিনের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত মানুষজন নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। বাতাসের কারণে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

এদিকে উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা বস্তির ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে। স্থানীয়দের আগুনের এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুনের উৎস বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি তবে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।


টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১৩:৪২:৫১
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় জেলার চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামুসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বন্যা ও পাহাড়ধস মিলিয়ে গত চার দিনে ২২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

দুর্যোগে হাজার হাজার বসতঘর, কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত এবং চিংড়ির ঘের পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় প্রধান সড়ক ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে রয়েছেন। অধিকাংশ মৃত্যুই পাহাড়ধস ও দুর্যোগজনিত দুর্ঘটনার কারণে ঘটেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে প্রাণ হারায় দুই শিশু—দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি আক্তার (১৫) এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বিশেষ করে মাতামুহুরী ও পেকুয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। কোনাখালীর পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে।

রামু উপজেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে অনেক এলাকার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই কয়েক দিন ধরে রান্না করতে না পেরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং মাছ ও চিংড়ির ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও মৎস্যচাষিদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত বেশি। পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পরিমাপে বাঁকখালী নদীর পানি ৫.৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬.৫৪ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উভয় নদীর নির্ধারিত বিপৎসীমার চেয়ে বেশি। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে কক্সবাজারে ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে টানা সাত দিন ধরে টেকনাফ–সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার–মহেশখালী এবং পেকুয়া–কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা জেলার সামগ্রিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

-রফিক


শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ০৯:৫২:২৭
শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটা, ব্যবসায়িক কাজ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিদিনই হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকায় যাতায়াত করেন। তবে নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে প্রতি সপ্তাহেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ থাকে। ফলে আগাম তথ্য না থাকলে গন্তব্যে গিয়ে অনেককেই অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ঢাকার পুরান ঢাকা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা এবং পাইকারি বাজারে সাপ্তাহিক ছুটি পালিত হবে। তাই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্ধের তালিকা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিন বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির এলাকা, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারীবাজার, চাঁনখারপুল এবং গুলিস্তানের দক্ষিণাংশের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

এছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স ও পাইকারি মার্কেটও শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি বাজার, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের বাজার, ছোট কাঁটারা, বড় কাঁটারা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট এবং সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

বিশেষ করে ইসলামপুর, শ্যামবাজার, নবাবপুর, তাঁতীবাজার, কাপ্তানবাজার ও চকবাজার দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। এসব এলাকায় প্রতিদিন ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা কেনাকাটার জন্য আসেন। তাই শুক্রবার এসব মার্কেট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কেনাকাটার পরিকল্পনা আগেই করে নেওয়া উচিত।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে সাপ্তাহিক ছুটির দিন একেক রকম হওয়ায় ক্রেতাদের আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মার্কেটের বন্ধের সময়সূচি জেনে বের হওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সময়, যাতায়াত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি সবই এড়ানো সম্ভব হবে।

যদি শুক্রবার পুরান ঢাকা, সদরঘাট, গুলিস্তান বা ইসলামপুর এলাকার কোনো মার্কেটে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে বিকল্প দিন নির্ধারণ করাই হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত।

-রাফসান


প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৫০:৫০
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক ভূমিধসের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুরু করে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পৃথক ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মুখে ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী ২৬ হাজার ১১৯ জন শরণার্থী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রাণ বাঁচাতে ৪ হাজার৩০৭ জন রোহিঙ্গা সাময়িকভাবে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর দুর্যোগকালীন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত মারাত্মক দুর্ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড় কাটার কারণে ৯টি স্থানে বড় ধরনের ভূমিধস, ১৫৬টি পয়েন্টে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি স্থানে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। অবিরাম বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত ২ হাজার ৮০৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ঘর আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বাসস্থানের পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির উৎস এবং স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক স্থাপনাও পানির তোড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় সাধন করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবিক সংস্থাগুলো উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন ত্রিপল ও বাঁশসহ জরুরি অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী সরবরাহের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়; বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া পরবর্তী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে আরও ভয়াবহ ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

/আশিক


দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৩৭:১৭
দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

সরকারি আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলসহ মোট ১৯টি সুনির্দিষ্ট এলাকার ওপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই অঞ্চলগুলোর তালিকায় রয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।

এসব অঞ্চলের আকাশসীমা দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী এই ঝড়ের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা প্রবল বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই সম্ভাব্য ঝোড়ো পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব নদীবন্দরকে অনতিবিলম্বে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত ও দৈনিক বুলেটিনে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই ৮টি প্রশাসনিক বিভাগের অধিকাংশ স্থানেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং গরমের তীব্রতায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।

/আশিক


সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:২৮:১৩
সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে সাতজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমানার ১২৫১ নম্বর প্রধান পিলারের ৩৩ নম্বর সাব-পিলারের সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল বিএসএফ। সে সময় সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত অবস্থান নেন এবং পুশইনের তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবির কড়া পাহারার মুখে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে তারা সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওই সাতজন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কালাইরাগ সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে প্রায় ২০-২৫ গজ ভেতরে বাংলাদেশের সীমানার দিকে ওই সাতজনকে নিয়ে এসে পুশইনের একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু বিজিবির কড়া সতর্কতার কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া বার্তা দিয়ে জরুরি পতাকা বৈঠকের (ফ্ল্যাগ মিটিং) আহ্বান জানানো হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও সার্বিক সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

/আশিক


দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১২:৫৫:২৮
দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর আন্তর্জাতিক মানের একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেবিদ্বার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেও আধুনিক ক্রীড়া মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। ফলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বড় একটি অংশ নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার মতে, প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ হলে যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জু সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

দেবিদ্বার পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক বি.পি. মাহফুজ বলেন, দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণের নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তরুণদের মানসিক চাপ কমাতে এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সহায়ক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশে গড়ে তোলার একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেবল দেবিদ্বার নয়, কুমিল্লা উত্তর জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই ভবিষ্যতে একই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ নির্মিত হবে।

দলীয় নেতারা আরও বলেন, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এসব মাঠ থেকেই জাতীয় দলে খেলার মতো যোগ্য ক্রীড়াবিদ উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি খেলাধুলা সামাজিক সম্প্রীতি, দলগত চেতনা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্থানীয় নেতাদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমকে কিশোর-তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং অপরাধপ্রবণতা কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি সামাজিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিকাশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দেবিদ্বারের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে দেবিদ্বারে ক্রীড়াচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও প্রতিভাবান তরুণ সমাজ গড়ে ওঠার পথ আরও সুগম হবে।


মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৪৮:০৫
মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লায় ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচে মেসির পেনাল্টি মিস করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শরিফুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাঙ্গা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঠপুস্করনী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতে একটি চায়ের দোকানে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করার পর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বাবু ও *মাইন উদ্দিন মালু নামে দুজন শরিফুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকরাম উল্যাহ বলেন, "ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু উন্মাদ যুবক প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শংকর কুমার দাস বলেন, "রাতে ফুটবল খেলা দেখার সময় দুই সমর্থক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমরা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছি।"

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"


কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৪৪:২১
কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার কদমতলী এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা ডিবির এসআই পবিত্র সরকার এবং এসআই অর্ণব বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স তাদেরকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মো. ইসমাইল (৩৫) - চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এলাকার মৃত আছা মিয়ার ছেলে।

মো. কামাল সিকদার (৪০) - খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার দেওড়া গ্রামের মৃত মনু সিকদারের ছেলে। মো. নোমান (৪০) - লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরপাগলা গ্রামের মৃত শহীদুল্লাহর ছেলে।

রাসেল আলী (৩৫) - বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার কেদারপুর গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে।

মো. রুবেল (৪২) - কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার ডলানগর গ্রামের মো. আলিল উল্লাহর ছেলে।

সাখাওয়াত হোসেন (৩৮) - নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার জয়াগপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।

মো. জুয়েল রানা (৩৫) - কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার সংরাইশ এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত প্রত্যেক ডাকাত সর্দারের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা রয়েছে। এ ব্যাপারে কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, "সম্প্রতি ডাকাতি করে লাকসাম থানার ওসি এবং পুলিশের দুটি গাড়িচাপা দিয়ে খাদে ফেলে এসব ডাকাত পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদেরকে গ্রেফতারে আমরা অভিযান পরিচালনা শুরু করি। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে শনাক্ত করে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।"


জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:৩৮:৩৬
জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া জেলা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অতি জরুরি কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্যাস কমিশনিং প্রক্রিয়ার কারণে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সাময়িক পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক, ভারী শিল্পকারখানা এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ সব শ্রেণির গ্রাহক সাময়িকভাবে গ্যাস সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) কর্তৃক প্রকাশিত এক জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে পরবর্তী দিন অর্থাৎ শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো বগুড়া জেলা জুড়ে সব ধরনের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।

পিজিসিএল সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বর্তমানে সাসেক-২ (SASEC-II) মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে বনানী মোড় থেকে তিনমাথা রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত বিদ্যমান গ্যাস পাইপলাইনটি স্থানান্তর ও অপসারণের কাজ চলছে। এই উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতায় বগুড়া ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস) এবং মূল পাইপলাইনের দুই প্রান্তে টাই-ইনসহ নতুন করে গ্যাস কমিশনিংয়ের জটিল কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত টাই-ইনের মূল কাজটি সরাসরি বগুড়া ডিআরএসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বগুড়া গ্যাস নেটওয়ার্কের মূল সঞ্চালন লাইনটি নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এই বৃহৎ কারিগরি কার্যক্রমের কারণে শহরের সাধারণ বাসাবাড়ির রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি বাণিজ্যিক হোটেল-রেস্তোরাঁ, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশন ইউনিটগুলোতেও জ্বালানি সরবরাহ মিলবে না।

উন্নয়ন কাজের পরিধি বিবেচনায় বনানী মোড়, তিনমাথা রেলগেট, শাকপালা বাসস্ট্যান্ড, মিলেনিয়াম স্কুল, জাহাঙ্গীরনাবাদ সেনানিবাস, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং অতিথি সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় ১২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টে একযোগে এই টাই-ইনের কাজ পরিচালনা করবেন প্রকৌশলীরা।

পিজিসিএল প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, নির্ধারিত কারিগরি ও প্রকৌশলগত কাজ সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনে পুনরায় গ্যাস সচল করা হবে। এই সাময়িক ও অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হবে, তার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সবার সহযোগিতা চেয়েছেন পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম তারিকুল ইসলাম।

/আশিক

পাঠকের মতামত: