জুলাই সনদ জট রাজনৈতিক দলগুলো অটল অবস্থানে অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারের শেষ চেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১১ ১০:০১:৫০
জুলাই সনদ জট রাজনৈতিক দলগুলো অটল অবস্থানে অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকারের শেষ চেষ্টা
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে দলগুলোকে সাত দিনের যে সময় দেওয়া হয়েছিল, গতকাল সোমবার সে সময় শেষ হলেও বড় দুই দলই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময় নিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে অটল। এ বিষয়ে সৃষ্ট জট খুলতে সরকারের শেষ চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশয় রয়ে গেছে।

সরকারের পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত

সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সাত দিনের সময় দিয়েছিল। এখন ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকে ভিত্তি ধরে একটি সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। দলগুলোও সরকারের এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

উপদেষ্টাদের বৈঠক: সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে উপদেষ্টারা নিজেরা নিয়মিত আলোচনা করছেন। আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করতে পারেন।

খসড়া চূড়ান্তের চেষ্টা: সূত্রমতে, সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে একটি খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা। সরকার ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে চায়।

সমন্বয়ের উদ্যোগ: রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিদাওয়ার মধ্যে কিছুটা সমন্বয় করে সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একই দিনে করা এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে চায় সরকার।

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ

৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর অন্তত ৩৬টিতে কোনো না কোনো দলের ভিন্নমত রয়েছে।

ঐকমত্য কমিশন গত ২৭ অক্টোবর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দুটি বিকল্প সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। সুপারিশে বলা হয়েছে:

প্রথমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হবে।

এরপর ওই আদেশ ও ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হবে গণভোট।

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।

বিকল্প সুপারিশে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে সংসদ সংবিধান সংস্কারে ব্যর্থ হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে।

বিএনপির অনমনীয় অবস্থান

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনসহ যেসব সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত আছে, সেগুলো নিয়ে নতুন করে আর আলোচনার সুযোগ আছে বলেও মনে করে না দলটি। বিএনপির সূত্র জানায়, তারা মনে করে, সংস্কার বা সনদ নিয়ে আলোচনার ‘চ্যাপ্টার ক্লোজড’।

গণভোট ও নির্বাচন: বিএনপির পূর্ণ মনোযোগ এখন ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের দিকে। তারা জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের দাবিতে অনড়। তারা মনে করে, এটি হলে আগামী সংসদকে আলাদা কোনো ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে।

ভিন্নমত: সনদে ভিন্নমতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বিএনপি মনে করে, কোনো দল বা জোট নির্বাচনী ইশতেহারে ভিন্নমত উল্লেখ করে ম্যান্ডেট পেলে তারা সেইমতো ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই অবস্থান থেকে তারা সরছে না।

আদেশ জারি নিয়ে আপত্তি: সনদ বাস্তবায়নে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আদেশ জারি নিয়ে বিএনপির আপত্তি আছে। তারা ক্ষমতায় গেলে নিজেদের ভিন্নমত অনুসারে সংবিধান সংস্কার করতে চায়।

জামায়াতের রাজপথের কর্মসূচি

ঐকমত্য কমিশন যেভাবে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, তার সঙ্গে একমত জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট করার দাবিতে অটল।

রাজপথে আন্দোলন: আদেশ জারি, আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছে জামায়াতসহ আট দল। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে বড় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ এই আট দল।

মৌলিক পরিবর্তন: জামায়াতে ইসলামী চায়, ঐকমত্য কমিশন যেভাবে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে দলগুলোর ভিন্নমত গুরুত্ব পাবে না। তারা পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন ও সাংবিধানিক পদগুলোয় নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার মতো মৌলিক পরিবর্তনে ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলাই সনদে হাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে সনদের বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকট উত্তরণের রাস্তা বের করে আনা উচিত।

এনসিপি-এর আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সহ আরও কিছু দল মনে করে, সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সাহসী সিদ্ধান্ত: এনসিপি-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার সংস্কারের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা তাদের কর্তব্য। তিনি মনে করেন, সরকার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে রাজনৈতিক সংকট এবং নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।

কমিশনের সুপারিশ: এনসিপি কমিশনের সুপারিশ ইতিবাচকভাবে নিলেও দলগুলোকে আলোচনার আহ্বানে সরকারের গা বাঁচানোর মনোভাব দেখছে তারা। তারা গণভোটের সময় নিয়ে কঠোর অবস্থানে নেই।

সূত্র: প্রথম আলো


ইতিহাসে প্রথম শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:০৪:৪৪
ইতিহাসে প্রথম শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই অবস্থান করে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দ্রুত শহীদ মিনার ত্যাগ করেন। তবে এবার সেই রীতি থেকে সরে এসে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারেই দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করে।

দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা নাজির মাহমুদ, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম ও খতিব। মোনাজাতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা কামনা করা হয়।

এর আগে রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দোয়া শেষে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভা, দলীয় নেতাকর্মী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

-রফিক


দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার শত্রু: টিআইবি প্রধান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১১:৩৮:০২
দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার শত্রু: টিআইবি প্রধান
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতাকে একুশের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যারা বৈষম্য তৈরি করে এবং মানুষের সমান অধিকার হরণ করে, তারা মূলত একুশের অবিনাশী আদর্শেরই বিরোধিতা করে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল ভাষা আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি একুশের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একুশের চেতনা কেবল ভাষার অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি শোষণহীন ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের অনুপ্রেরণা।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে টিআইবি প্রধান বলেন, নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের অধিকার যারা খর্ব করে, তারা একুশের চেতনাকে ধারণ করে না। এ ধরনের অপশক্তিকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি মনে করেন, প্রকৃত দেশপ্রেম তখনই সার্থক হবে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। সাম্য ও ন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলাই একুশের মূল শিক্ষা।’ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার—এমনটাই ব্যক্ত করেন এই বিশিষ্ট নাগরিক।

/আশিক


গণভোটের হ্যাঁঅটোমেটিক কার্যকর হবে, এটাই জুলাই সনদ: এ্যানি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১১:১৬:১২
গণভোটের হ্যাঁঅটোমেটিক কার্যকর হবে, এটাই জুলাই সনদ: এ্যানি
ছবি: যুগান্তর

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ হয়েছে। আমরা শপথ নিয়েছি। হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই পার্লামেন্টে বিলটা রেইজ হবে। ‘হ্যাঁ’-এর শপথের কোন প্রয়োজন নাই। ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে। এটাই জুলাই সনদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, যারা মব করছেন এখান থেকে সরে আসাটাই উচিত। মব মানে একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা। মব কালচার বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। সুতরাং মব কালচার থেকে ফিরে এসে সবাইকে দায়-দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। এ্যানি বলেন, সরকার এবং দেশকে সহযোগিতা করার জন্যই কাজ করতে হবে। কেউ যদি এর বাইরে কিছু করতে চান, সেটার দায়-দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে।

তিনি বলেন, যেখানে ‘না’ ভোট হয়েছে, সেখানে ‘না’ ভোট অনুযায়ী পার্লামেন্টে রেইজ হবে, আলোচনা হবে। যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেটা সেখানে নির্ধারিত হবে। এ ব্যাপারে যারা আইনবিদ রয়েছেন, তারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। জানা দরকার, সুন্দরভাবে বলা দরকার। তিনি আরও বলেন, সরকারকে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন, দেশটাকে কীভাবে আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিবেন, সেই বিষয়ে কথা বলা দরকার। মতপথ ভিন্ন থাকতে পারে, সব ইস্যুতে বিরোধীতা করতে হবে, এমন অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসে আমার মনে হয় দেশটা গড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজে মনযোগী হওয়া দরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

/আশিক


একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ০৯:১৩:৪৭
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সাথে সাথেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তাঁরা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া হাজারো সাধারণ মানুষ। মোনাজাতে শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

মোনাজাত শেষে মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা সম্মিলিতভাবে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একুশের প্রথম প্রহরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৯:৩০:৪৬
প্রধানমন্ত্রীর  উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আটজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি মোট ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদায় তিনজনকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর–কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এছাড়া মাহদী আমিনকে একযোগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তদারকি করবেন।

অন্যদিকে রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোয় এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রফিক


যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৫:০০:১০
যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছাড়বেন এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোথায় তার সরকারি আবাস স্থাপন করবেন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন নোবেলজয়ী ড. ইউনূস। সে সময় গণভবন বসবাসের অনুপযোগী থাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ‘যমুনা’ ভবনকে তার অস্থায়ী সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান।

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গুলশানে তার নিজ বাসভবনে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় তিনি পরিবারসহ সাময়িকভাবে যমুনায় অবস্থান করছেন। সংস্কার শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ বাসায় ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে পছন্দ করেছেন। তবে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে ভবনটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিন্যাস সম্পন্ন করা হবে। রমনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংস্কার কার্যক্রম শেষ হতে আনুমানিক দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভবনটি খালি হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে তা ব্যবহারের উপযোগী করা হবে এবং প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নকশা ও নিরাপত্তা কাঠামোয় সমন্বয় আনা হবে।

দায়িত্ব ছাড়লেও অধ্যাপক ইউনূস দেশেই অবস্থান করবেন বলে নিশ্চিত করেছে তার ঘনিষ্ঠ মহল। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনূস সেন্টার’-এ নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরবেন। সেখানে তিনি তার বহুল আলোচিত ‘থ্রি জিরো’ ধারণা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ নিয়ে গবেষণা ও কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।

এছাড়া, পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন–এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সফরে টোকিও যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে নির্ধারিত বক্তৃতা ও বৈঠক শেষে তিনি পুনরায় দেশে ফিরবেন।

-রাফসান


শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৩:৫১:০৮
শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঠামোগত রূপান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামী বাজেট হবে প্রচলিত ধারা থেকে ভিন্ন এবং এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণের স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে ‘উত্তোলনের পথে’ নিতে হবে এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে সামনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা যাবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার এখনই উপযুক্ত সময়। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্দর কার্যক্রমের আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করা হলে বৈদেশিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মসংস্থানকে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনগণ যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি পায়, সে ধরনের নীতি প্রণয়নে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত ও গতিশীল করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বাজারে আস্থা ফিরতে পারে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়তে পারে।

মন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে বলেন, সরকারের হাতে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সামনের বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

-রফিক


ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২১:৫৯:৫০
ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে আরও ১৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে।

সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এ ছাড়া কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

এর আগে বিএনপি ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রথমেই হতদরিদ্র পরিবার পাবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বেশ কিছু জেলা ও উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারকে এই সুবিধা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা বাড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নগদ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হতদরিদ্র পরিবারের নারীদের নগদ টাকা তাদের পরিবারের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে। দু-এক দিনের মধ্যে ঠিক করা হবে প্রাথমিকভাবে কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন।

/আশিক


সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:৫০:৫১
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদার পর্যায়ে পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়। মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তুলে মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় সেটা নিয়ে হয়ত বিতর্ক আছে। কিন্তু, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে এ কাজটা করেন।

রবিউল আলম আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে (টাকা তোলে)। সেখানে আবার প্রাধান্য পায় যখন যার প্রভাব থাকে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা আধিপত্য থাকে। কিন্তু, এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ, তারা সমঝোতা ভিত্তিতে এটা করছে। তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব জায়গা আছে সেখানে বাইরে থেকে কেউ চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা নেবে বা সুবিধা নেবে সে সুযোগ নেই। কিন্তু মালিকরা যদি সমঝোতার ভিত্তিতে সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখব যে, সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না।

এরপর সড়কে যানজটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কের ওপরই অনেক জায়গায় বাজার বসে গেছে। সেখানে যানজট হচ্ছে। এগুলোকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার বিষয়ে রবিউল আলম বলেন, ছুটি ছোট হয়ে গেলে চাপ নেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। গতবার ছুটি বড় ছিল। এতে একটা সুবিধা পাওয়া গেছে। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব। পাশাপাশি নতুন করে আর কী প্রক্রিয়া গ্রহণ করলে ভোগান্তি কমবে, সেটা ঠিক করা হবে।

আশা করছি, আপনাদের নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে আমরা সক্ষম হব। তবে, ছুটির ব্যাপারটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রেও কোনো কিছু করা যায় কি না, আরও ৫-৭-১০ দিন গেলে আমরা বিস্তারিতভাবে বলতে পারব।

/আশিক

পাঠকের মতামত: