এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আমরণ অনশনে সংহতি জানালেন এ্যানি

তিন দফা দাবিতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা ও সংহতি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সংহতি প্রকাশ করেন।
আন্দোলনের পরিস্থিতি ও দাবি
শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফেরত যাবেন না।
দাবিসমূহ: মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলনে আছেন।
সরকারের ঘোষণা: রোববার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (কমপক্ষে ২ হাজার টাকা) দেওয়ার আদেশ জারি করলেও, শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শিক্ষক নেতাদের আহ্বান
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, শিক্ষকরা গত রোববার ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচি পালন করতে গেলে হাইকোর্টের মাজার গেট এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির বাধার মুখে পড়েন এবং পরে শহীদ মিনারে ফিরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও তেজস্বী বক্তব্য প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুবকদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে।” তিনি মনে করেন, কেবল একটি শাসনের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে হলে যুবকদের সেই অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে ময়দানে টিকে থাকতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের সামনে অনেক বড় বড় আশা ও সম্ভাবনা জেগেছে এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নতুন রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব।
দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে জামায়াত আমির এক নতুন ধারণার অবতারণা করেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কেবল আর্থিক রেমিট্যান্সই নয়, বরং দেশের কল্যাণে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স’ বা মেধা ও মেধা-ভিত্তিক সহযোগিতাও প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যদি সামগ্রিকভাবে ভালো না থাকে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এককভাবে ভালো থাকতে পারবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি দেশের ভেতর ও বাইরে থাকা সকল মেধাবীদের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ও আর্থিক অংশগ্রহণকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন।
তরুণ প্রজন্মের সফল গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের কাজ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তারা স্বৈরাচারী শাসককে সরাতে সফল হলেও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা ‘স্বৈরাচারী মানসিকতা’ এখনো বিদায় নেয়নি। এই মানসিকতা দূর করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে যখন দেশের প্রতিটি স্তরে স্বৈরাচারী চিন্তাচেতনার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এজন্য তিনি যুবকদের আদর্শিক ও নৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত সুস্পষ্ট এক শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠনের সুযোগ পায়, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে শিক্ষা হবে ‘নৈতিকতাভিত্তিক’ এবং একই সাথে অত্যন্ত ‘প্রফেশনাল’ বা পেশাদার। তিনি মনে করেন, শিক্ষার লক্ষ্য যদি সঠিক না থাকে, তবে সত্যিকারের শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা অসম্ভব। বিচার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “এমন এক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে যেখানে কোনো ব্যক্তির সামাজিক প্রভাব বা অবস্থান দেখে বিচার হবে না।” ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের সব ধরণের অন্যায় ও অবিচার এমনিতেই দূর হয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পলিসি সামিটের এই সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমান মূলত একটি আদর্শিক, মেধাবী ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নই দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরলেন।
বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
রাজধানীর বৃহত্তম শ্রমজীবী মানুষের আবাসস্থল কড়াইল বস্তিবাসীদের যেকোনো আপদ-বিপদে পাশে থাকার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২০ জানুয়ারি) মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কড়াইলবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। এই বিশেষ মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও। দীর্ঘ সময় ধরে কড়াইলবাসীর আবাসন ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের এই সফর ও ঘোষণা বস্তিবাসীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বিএনপি যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পায়, তবে কড়াইলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
দোয়া ও মোনাজাতের পূর্বে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তারেক রহমান তাঁর দলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যেই মা-বোনদের ফ্রি শিক্ষার ব্যবস্থা বেগম খালেদা জিয়া করে দিয়েছিলেন, সেই মা-বোনদের আমরা এবার অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে চাই।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি কড়াইলবাসীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে রাজনৈতিক এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণ আস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, সবকিছুই রব্বুল আলামিনের রহমতের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যদি তৌফিক দান করেন এবং দয়া করেন, তবেই জনসেবার এই কাজে সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল কড়াইলবাসীর আবাসন সমস্যা সমাধান নিয়ে তাঁর সাহসী ঘোষণা। তারেক রহমান বস্তিবাসীদের বর্তমান মানবেতর জীবনযাপনের কষ্ট স্বীকার করে বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আল্লাহ সুযোগ দিলে আপনাদের যে থাকার কষ্ট করছেন, সেই কষ্ট ধীরে ধীরে সমাধান করতে চাই।” তিনি এই জনপদে ঘিঞ্জি ঝুপড়ি ঘরের বদলে সুউচ্চ বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি ছিল ফ্ল্যাটের মালিকানা সংক্রান্ত; তারেক রহমান ঘোষণা করেন যে, নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো এখানকার বসবাসরত মানুষের নামেই সরাসরি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে নয়, বরং ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিক হিসেবে কড়াইলবাসী সেখানে বসবাসের অধিকার পাবেন।
আবাসন ও অর্থনীতির পাশাপাশি বস্তিবাসীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা তাঁর দলের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের এই আধুনিক সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বস্তিবাসীদের নাগরিক মর্যাদা সুসংহত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের এই দীর্ঘমেয়াদী এবং জনকল্যাণমূলক ঘোষণাগুলো ঢাকার ছিন্নমূল মানুষের কল্যাণে একটি নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল ও সরকার গঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ এর বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি নারী প্রার্থী না থাকা এবং দল ক্ষমতায় গেলে শাসনব্যবস্থা কেমন হবে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি কোনো নারী প্রার্থী মনোনীত না করলেও তাঁদের রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সরাসরি নির্বাচনে নারীদের জন্য ৫ থেকে ১৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণের একটি প্রস্তাব এসেছে, যার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়, তবে আমরা সরাসরি নারী প্রার্থী দিতে সম্মত আছি এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমরা তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকব।” জামায়াতের এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, ভবিষ্যতে নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন এলে দলটি নারী নেতৃত্বের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।
নির্বাচনী প্রচারণার আধুনিকায়ন নিয়েও কথা বলেছেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে অনলাইন কার্যক্রম একটি শক্তিশালী কৌশলে পরিণত হয়েছে, যা আগে সেভাবে ছিল না। জামায়াতে ইসলামী এবার ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, তবে তা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি বা আরপিও (RPO) অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অনলাইন বিলবোর্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা থাকলেও জামায়াতের মূল নজর থাকবে সনাতন ও কার্যকরী কৌশলের দিকে। তাহেরের মতে, তাঁদের দল ‘ওয়ান টু ওয়ান কন্টাক্ট’ বা সরাসরি ব্যক্তিগত যোগাযোগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য জামায়াতের কর্মীরা প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে গিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জনসংযোগ করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি এসেছে দলের সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে তাঁরা মন্ত্রিসভা গঠনে কেবল দলীয় পরিচয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন না। বরং দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে অর্থমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষের অভাব নেই। তাই যোগ্যতা অনুযায়ী কেবল দলের ভেতর থেকেই নয়, বরং পুরো দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠীকে বিবেচনা করে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধি নেওয়া হবে। এই ‘টেকনোক্যাট’ বা বিশেষজ্ঞ নির্ভর শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি একটি পেশাদার সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে কোন কোন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। নির্বাচন কমিশন বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেও, তার আগেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনভিত্তিক মুখোমুখি লড়াই।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি এবং জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি অবস্থান নির্বাচনকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনেক আসনেই একাধিক জাতীয় পর্যায়ের নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বহুমুখী লড়াই
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার বগুড়া ৬ ও ঢাকা ১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা ১৭ আসনে তাঁর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়া সদরের আসনে একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন, যা এই আসনকে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে পরিণত করেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও ১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা ৮ আসনে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখোমুখি লড়াই, কুমিল্লা ১ এ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিপক্ষে জামায়াত প্রার্থী, চট্টগ্রাম ১১ এ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী সব মিলিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রায় সব অঞ্চলেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন।
নোয়াখালী, কক্সবাজার, ভোলা, দিনাজপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিপরীতে জামায়াত ও জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সমীকরণকে জটিল করে তুলছেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠে
জামায়াতে ইসলামীর আমির, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার সরাসরি ভোটের মাঠে নেমেছেন। ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে তারা বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মুখোমুখি হচ্ছেন।
ঢাকা ১৫, ঢাকা ১৪, ঢাকা ১, কুমিল্লা ১১, রাজশাহী ১ ও খুলনা ৫ আসনের মতো এলাকাগুলোতে জামায়াত ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে অতীতে গুমের শিকার নেতাদের প্রার্থিতা এই নির্বাচনকে নৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরও আলোচনায় এনেছে।
এনসিপির নতুন রাজনীতির পরীক্ষা
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও মুখ্য সংগঠকরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজধানীর ঢাকা ১১, ঢাকা ৮, ঢাকা ১০, কুমিল্লা ৪, রংপুর ৪ ও পঞ্চগড় ১ আসনে এনসিপির প্রার্থীরা বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির এই অংশগ্রহণ ভোটের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও, অভিজ্ঞ ও সংগঠিত দলগুলোর সঙ্গে লড়াই তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জোট ও আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রভাব
এই নির্বাচনে জোটভুক্ত দল, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনেক আসনেই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু আসনে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।
বিশেষ করে ঢাকা, বগুড়া, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের কিছু আসনে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে ভোটের হিসাব আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সামনে কী
নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলে প্রার্থিতা ও জোটগত সমীকরণ পুরোপুরি স্পষ্ট হবে। তবে এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বহু আসনে হেভিওয়েট বনাম হেভিওয়েট লড়াইয়ের নির্বাচন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটের মাঠে উত্তেজনা বাড়াবে এবং নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: যুগান্তর
ধর্মের নামে রাজনীতি নয়, ভোটে বেহেস্তের লোভ দেখানো মুনাফিকি: মির্জা ফখরুল
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ পথে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, বরং জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রকাশ্যে দাবি করছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে নাকি মানুষ জান্নাতে যাবে। এ ধরনের বক্তব্য ধর্মের মৌলিক দর্শনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি ইবাদত, ঈমান ও নৈতিক জীবনযাপনের কোনো মূল্য নেই? তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে ‘মুনাফিকি রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা আজ সবচেয়ে বেশি ধর্মীয় ভাষায় দৃষ্টিকটু রাজনীতি করছে, অতীতে তারাই বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা জাতি কখনো ভুলে যায়নি। নির্যাতিত মা-বোনদের স্মৃতি আজও ইতিহাসের পাতায় অমলিন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, যা মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি অনেক আগেই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কার আলোচনাকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, সংস্কারের ধারণা বিএনপির রাজনীতি থেকেই এসেছে। যদিও কিছু বিষয় নিয়ে দ্বিমত ছিল, তারপরও বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে।
ফখরুল আরও বলেন, একটি সংগঠিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে বিএনপির সম্ভাব্য নির্বাচনী বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। যারা আজ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ছড়াচ্ছে, বাস্তবে তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, এটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোবে নাকি উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হবে। বিএনপি জনগণের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
-রফিক
নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করবে জামায়াত: ডা. শফিক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে জয়ী হলে অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকায় দলটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সামিটে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, নারীরা দেশের মোট আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং তাঁদের এই অংশগ্রহণকে আরও সুসংহত করতে তাঁর দল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এছাড়া দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি তাঁদের মেধা ও শ্রমকে সঠিক পথে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুযোগ তৈরির আশ্বাস দেন।
ড. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সারা বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, গত বছরের আগস্টে অর্জিত এই স্বাধীনতার জন্য প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অগণিত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই ত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে, তাকে একটি মানবিক ও শান্তিময় রাষ্ট্রে পরিণত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য তিনি সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। জামায়াত আমিরের মতে, এটি একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ যার যাত্রা শুরু হয়েছে এক নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ আগামীতে বিশ্বের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে এবং তাঁর দলও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিক বলেন যে, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে দেশের জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশে কেবল স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি কায়েম করা হয়েছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে এমন সব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে চায় যারা মূলত দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করবে। তিনি মনে করেন, এই শর্তগুলোর ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সব অংশের মানুষকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং একে অপরের সহযোগী হওয়ার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ‘পলিসি সামিট–২০২৬’-এ যোগ দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। কূটনৈতিক মহলের এই সরব উপস্থিতি জামায়াতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনুষ্ঠানের শেষভাগে জামায়াত আমির পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, দলমত নির্বিশেষে দেশের উন্নয়নই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্যে তাঁরা সব মহলের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ড. ইউনূসের সঙ্গে নাহিদ-আসিফের সাক্ষাৎ; নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যে আজ বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে প্রবেশ করে এবং এর পরপরই নির্ধারিত আলোচনা শুরু হয়। প্রতিনিধিদলে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, দলের সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। মূলত দেশের চলমান নির্বাচন পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠক শুরুর আগে এনসিপি’র পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডে নিরপেক্ষতার অভাব লক্ষ্য করছে। আজকের এই সাক্ষাতে কমিশনের সেইসব পক্ষপাতমূলক আচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরার কথা ছিল দলটির নেতাদের। এনসিপি মনে করছে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনের পুনর্গঠন বা আচরণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, প্রতিনিধিদলটি বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের মনে তৈরি হওয়া আস্থার সংকটের বিষয়টি ড. ইউনূসকে অবহিত করেছেন। তারা দাবি করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না।
বৈঠক শেষে যমুনার গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক নাটকীয় তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা এবং সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনে পদত্যাগ করার মতো চিন্তাভাবনাও তাঁর মাথায় এসেছিল। তবে এনসিপি’র পক্ষ থেকে তাঁকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে অনড় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেছে যে, দেশের সাধারণ ছাত্র-জনতা তাঁর ওপর আস্থা রাখে এবং সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া উচিত। তারা আরও দাবি করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারি করা জরুরি হয়ে পড়েছে যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সৃষ্টি না হয়।
উল্লেখ্য যে, এনসিপি’র এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারাও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে পক্ষপাতের অভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন। গত কয়েক দিনে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আসন্ন গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘মরণপণ লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব মিলিয়ে যমুনায় এনসিপি’র এই বৈঠকটি বাংলাদেশের আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যমুনা থেকে প্রতিনিধিদলটি বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান উপদেষ্টার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং জাতির উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য ভাষণের দিকে সবার নজর রয়েছে।
আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে: তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামীর রাজনীতি কেবল স্লোগান, মিছিল-মিটিং আর একে অপরকে দোষারোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না তাঁর দল। বরং রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি সরাসরি মানুষের জন্য কাজ করাই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের এক বিশেষ মানবিক কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘অ্যালবেনিজম’ নামক বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ‘অতি ফর্সা’ গায়ের রঙের কারণে বাবার কাছে পরিত্যক্ত হওয়া শিশু আফিয়াকে দেওয়া প্রতিশ্রুত ‘নতুন ঘর হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে, একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে আগামী দিনের রাজনীতির প্রধান মাপকাঠি।
জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর এক বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, গ্রামীণ মানুষকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ঐতিহাসিক ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হবে, যার মাধ্যমে গ্রাম বাংলার পানির কষ্ট দূর করা সম্ভব হবে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তারেক রহমান জানান, মানুষ যাতে নিজ বাড়িতে বসেই মৌলিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারে, সেজন্য দেশজুড়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষিত নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি অবহেলিত মসজিদের ইমাম, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী ভাতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
যশোরের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। এছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর দলের আদর্শ এবং শিশু আফিয়ার এই ঘটনাটি সেই মানবিক দায়বদ্ধতারই একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
শিশু আফিয়ার জীবনের গল্পটি ছিল অত্যন্ত ট্র্যাজিক, যা পরবর্তীতে তারেক রহমানের নজরে আসে। যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া চাঁদপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে ২০২০ সালে বিয়ে হয় কুয়াদা বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের মনিরা খাতুনের। ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় শিশু আফিয়া। কিন্তু জন্মগতভাবে অ্যালবেনিজম আক্রান্ত হওয়ায় শিশুটির গায়ের রঙ ‘অতি ফর্সা’ হয়, যা মেনে নিতে পারেননি তার বাবা মোজাফফর হোসেন। তিনি নিজ সন্তানকে অস্বীকার করার পাশাপাশি স্ত্রী মনিরাকে ফেলে চলে যান এবং পরবর্তীতে তালাক দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় ধরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটানো এই মা ও সন্তানের অসহায়ত্ব নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তারেক রহমান তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ প্রতিশ্রুত সেই নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মনিরা খাতুন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তারেক রহমানের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, ওটা ছিল প্রতিবাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর বিরুদ্ধে আনা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দপ্তর একটি দাপ্তরিক চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে না কিংবা ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়, সেই দপ্তর কীভাবে একটি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের অভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে দাবি করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। সরাইল উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পেশকৃত লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা গত ১৭ জানুয়ারি সরাইলের ইসলামাবাদ এলাকায় সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, উক্ত ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ধারার মধ্যে পড়ে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী মাঠে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরা নিয়মিতভাবে এবং প্রকাশ্য দিবালোকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলছেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এই আইন অমান্য করার প্রবণতার বিপরীতে তিনি কেবল মৃদু প্রতিবাদস্বরূপ ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন’ করেছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি মনে করেন, এটি কোনোভাবেই এমন কোনো গুরুতর অপরাধ নয় যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বা রিটার্নিং অফিসার তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার মতো চিঠি ইস্যু করতে পারেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আরও বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে তাঁর সম্মানহানি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই ধরণের প্রশাসনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসকের প্রেরিত এই ধরণের চিঠির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে এবং এটি তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার একটি চেষ্টা মাত্র। সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন, যাদের সামনে রুমিন ফারহানা নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ না করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট হবে।
পাঠকের মতামত:
- ভালুকায় পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত
- ছুটি বাড়ল মাদ্রাসায়, কমল স্কুলে: ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জিতে বড় পরিবর্তন
- গ্যাস সংকটে ত্রাতা ইলেকট্রিক চুলা; ইনডাকশন না ইনফ্রারেড, কোনটি সেরা?
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিউটি পার্লার থেকে যুবতীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
- মিরপুরে বিএনপি জামাত সংঘর্ষ
- নীরব ঘাতক কোলেস্টেরল; শরীরে যে ৫টি সংকেত দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন
- পুরো দেশই অনিশ্চয়তায়: বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে লিটনের বিস্ফোরক বয়ান
- রমজান ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করল ইফা
- আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমির
- ২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
- ৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
- বস্তিবাসীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখালেন তারেক রহমান
- পে-স্কেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান: সরকারি চাকুরেদের ভাগ্যবদল কি আসন্ন?
- ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
- সরাসরি নারী প্রার্থী নেই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির
- কুমিল্লায় বাসে তল্লাশি, বিদেশি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী আটক
- প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে হেভিওয়েটদের মুখোমুখি লড়াই
- ডিএসই মূল বোর্ডে আজকের লেনদেনের পূর্ণ চিত্র
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজকের বাজারচিত্র বিশ্লেষণ
- শেয়ারবাজারে দরপতনের চাপ, শীর্ষ দশ লোকসানি শেয়ার প্রকাশ
- ডিএসইতে আজকের টপ গেইনার তালিকায় কারা
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা জারি
- পে কমিশনের রিপোর্ট জমার সময় জানাল অর্থ উপদেষ্টা
- ধর্মের নামে রাজনীতি নয়, ভোটে বেহেস্তের লোভ দেখানো মুনাফিকি: মির্জা ফখরুল
- সাভারে ছদ্মবেশী ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাট; ৭ মাসে ৬ খুনের রোমহর্ষক কাহিনী
- বিকেলের নাস্তায় নতুন চমক: ঘরেই তৈরি করুন লাল টুকটুকে টার্কিশ ডিলাইট
- আমাকে স্বাধীনভাবে বাঁচতে দিন: ক্যামেরা ও গ্ল্যামার থেকে কেন দূরে সরছেন নেহা?
- নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করবে জামায়াত: ডা. শফিক
- ২০ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন
- ইসবগুল না কি চিয়া সিড? ফাইবারের ঘাটতি মেটাতে কোনটি বেশি কার্যকর?
- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন; পুড়ে ছাই তিন শতাধিক ঘর
- লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?
- কুচক্রী মহল থেকে সাবধান: ফেসবুক পোস্টে জরুরি বার্তা দিলেন আজহারি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- নামাজের সময়সূচি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর: বৈশাখী ভাতায় বড় চমক দিচ্ছে পে কমিশন
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
- পাহাড় খেকোদের প্রতিরোধে প্রাণ দিলেন র্যাব কর্মকর্তা
- ভোটে বাধা দিলে আপনি শেখ হাসিনা হয়ে যাবেন: আসিফ নজরুল
- এই প্রথম! উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া চর্মচক্ষে দেখল মানুষ
- এলপিজি সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ; রান্নায় গ্যাস বাঁচানোর উপায়
- গুড়ে মিশছে চিনি ও ক্ষতিকর রং; ভেজাল এড়িয়ে চলবেন যেভাবে
- নদী ভাঙন ও মানুষের দুর্ভোগ; তিস্তা প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখছে চীন
- পে স্কেল নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
- নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন জরুরি? জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে স্বর্ণের দাম: মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- জেফার বললেন ‘জানি না’, অথচ আমিনবাজারে চলছে বিয়ের রাজকীয় প্রস্তুতি!








