বিশেষ প্রতিবেদন
শুধু অভিযোগ নয়, গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি: ডাকসু-জাকসুর তীব্র আহ্বান, দেশের বিবেক জাগুক

ঢাকা — গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রকাশিত তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্রের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) থেকে কড়া আবেদনে সাড়া পড়েছে: অভিযুক্ত হিসেবে ইতোমধ্যে নাম ওঠা ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। ডাকসুর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম সরাসরি বলেছেন, “যে কোনো পরিচয়ের খুনি, ধর্ষক বা গুমকারী—তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা উচ্চ সামরিক পদমর্যাদা হলেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে”—এমনই একটি সিদ্ধান্ত না হলে ছাত্রসমাজ নিরব থাকবে না।
সাদিক কায়েম তাঁর ফেসবুক পেজে গুম কমিশনের রিপোর্ট ও প্রামাণ্যচিত্র শেয়ার করে অভিযোগ তুলেছেন যে, গত পনেরো বছরে রাষ্ট্রক্ষমতার বিভিন্ন স্তর ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং সেই বিচার প্রক্রিয়ায় এখনো নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কিছু উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাসহ সামরিক নেতৃত্বের নাম—তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “অপরাধীরা যদি নিঃশর্তভাবে দণ্ডিত না হন, তবে আমরা ইনসাফ চাইবেই।”
আপাতত ডাকসু–জাকসু–সহ প্রগতিশীল শিক্ষার্থীবর্গের আভ্যন্তরীন আয়োজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সাড়া দেখা যাচ্ছে। জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেকর্ড ও জনপ্রতিবেদনগুলোতে যেসব নাম উঠে এসেছে, তাদের গ্রেফতার না করে বিচারের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যাবে না।” বিবৃতিটি আরও যোগ করেছে, “যতদিন এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, ততদিন প্রতিবাদ ও জবাবদিহিতার দাবি জারি থাকবে।”
রাজনৈতিক-আইনি পরিভাষায় এই দাবি পুরোদমে অভিযুক্তদের ‘ইনকোন্নভিকা’ (in-custody presentation) এবং স্বাধীন তদন্তের ওপর দাঁড়ায়—তাই অনেকেই প্রশ্ন করছেন: আদৌ কীভাবে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব? বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে উপযুক্ত আইনি প্রস্তুতি, প্রমাণের ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া বাধ্যতামূলক। আবার পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকে বলছেন—বহু বছরের অপেক্ষার পরে ন্যায়ের বিষয়ে নাড়ি না কেঁপে গেলে কল্পনাও করা যায় না।
দুর্ভেদ্য বাস্তবতা হলো—আদেশ, পরোয়ানা কিংবা আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইচ্ছা, অনুসন্ধানকেন্দ্রিক সক্ষমতা ও সুরক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ কাজ করে। সাদিক কায়েম এই প্রেক্ষিতটিকেই লক্ষ্য করে বলেন, “কারাগারে না থাকা কোনো আসামি ‘বিচার’ থেকে পালাতে পারে—তাই দ্রুত গ্রেপ্তার জরুরি। যারা অপরাধের সাথে যুক্ত, তাদের রাজনৈতিক বা সামরিক পরিচয় বিচার-প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”
অন্যদিকে, আইনী পরামর্শকরা বলে থাকেন—নিশ্চিত এবং টেকসই বিচারের জন্য প্রয়োজন বৈধ প্রমাণ-উপাত্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড। তারা আরও বলেন, দ্রুত গ্রেপ্তার অর্থে আদালত-বহির্ভূত বিচার বা জনরোষে ভাঙচুর সহ অরাজকতা হওয়া উচিত নয়; বরং আইনের ফাঁড়া বেঁধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্থির প্রক্রিয়া বজায় রেখে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া উত্তম। এ প্রসঙ্গে অনেকেই আর্জি করেন—দুর্নীতির তদন্তবাহিনী ও স্বাধীন তত্ত্বাবধায়করা যদি মিশে কাজ করে, তবে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।
প্রতিবাদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে একটি বিস্তৃত সামাজিক দাবি—নিয়ম-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে একদিকে ছাত্রসমাজ চাপ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে আইন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়গুলো নজরে রাখছে। পরিবারগুলোর ক্লান্ত আর্তচিৎকার আর সমাজের সংবেদনশীলতা দুটোই এখন প্রভাব ফেলতে পারে স্বরাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে—কিন্তু চূড়ান্ত সড়কটি নিরাপদ হবে কেবল যখন বিচারবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রদর্শনযোগ্য শাস্তি কার্যকর করা হবে।
অবশেষে, ছাত্রনেতা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এ পর্যায়ে একটি সুস্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে: কোনো দুর্নীতি বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ছত্রছায়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ অনুকম্পায় ক্ষমা নয়—তারা দাবী করছে যে, ন্যায়বিচার হবে এমন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের বিচারব্যবস্থা ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও অপব্যবহারের শিকার হবে। এই দাবির মধ্যে এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়—কোনো সরকার বা প্রশাসন কি তৎপরতা দেখাবে, নাকি বাস্তবে ক্ষমতা ও নীতিগত জটিলতায় বিষয়টি বারবার টলমল করবে? উত্তরটা সময়ই বলবে; ততদিন জনতার চোখ থাকবে, আর ছাত্রসমাজের অনড় চাপ রাজনৈতিক ও বিচারিক স্তরে ভূমিকা রাখবে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ এবং গভীরতম পাঠ।
পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র উপহার দিতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণভোট মানেই হলো জনগণের সরাসরি মতামত এবং এটি একটি জনগণ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। তাঁর মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা মানেই হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন যে, আজকের এই ভোটই হতে পারে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার।
জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমেই এই সনদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা সম্ভব এবং এটি পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সমান। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যারা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এই গণভোট এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি দেশের মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতি এখন ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই ভোটের মাধ্যমেই অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দল-মত নির্বিশেষে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় শরিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন যে, একটি একক ভোটও ন্যায়ের পথে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ার লক্ষে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত আমিরের এই আহ্বান আসন্ন গণভোটে জনমত গঠনে একটি বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রূপ দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান: জি এম কাদের
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই শূন্য পদ পূরণ করা হয়েছে। তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তারেক রহমান তাঁর মেধা, যোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় অনন্য ভূমিকা রাখবেন।
জি এম কাদের তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে তারেক রহমান এমন এক সময়ে দলের শীর্ষ পদের দায়িত্ব নিলেন যখন দেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সময়ে জাতীয় ঐক্য এবং সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি মনে করেন তারেক রহমান তাঁর মরহুম পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত মাতা বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির এই নতুন নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং এরপর দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার ঘটনাটি বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই তারেক রহমানকে ঘিরে রাজপথে জনস্রোত তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের অভিনন্দন বার্তাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য বা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে জি এম কাদের তাঁর বার্তায় দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
এক গুলশানেই তিন শক্তি! তারেক রহমানের সাথে কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
শনিবার সন্ধ্যাবেলা ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে তারেক রহমানের এই বৈঠকটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধির এই সফর এমন এক সময়ে ঘটল যখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ চলছে। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রণয় ভার্মার এই সৌজন্য সাক্ষাৎ মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বড় দলগুলোর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার বিকেলেই তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক শেষে বিকেল ৪টার একটু আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল কার্যালয় থেকে বের হয়ে যায়। এই বৈঠকে মূলত নির্বাচনের পরিবেশ, ভোট পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের এই সফর প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এবারের নির্বাচন কতটা গুরুত্ব বহন করছে।
কূটনৈতিক এই ব্যস্ততা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকেই। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। প্রায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পর পর তিন শক্তি—ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পাকিস্তান এবং ভারতের প্রতিনিধির সঙ্গে তারেক রহমানের এই বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এক ধরণের রাজনৈতিক সমঝোতা বা অবস্থান পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ঘিরে বিদেশি শক্তির এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢাকা-৯ আসনে বড় চমক! যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাসনিম
নির্বাচন কমিশনের আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর ডা. তাসনিম জারা নির্বাচনি লড়াইয়ে ফেরার সংবাদটি দেশজুড়ে তাঁর সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন তিনি। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল নম্বর ১ থেকে ৭০-এর শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন তাঁর যুক্তি গ্রহণ করে এবং প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ডা. জারা পুনরায় নির্বাচনি মাঠে নামার আইনি অধিকার ফিরে পেলেন।
নির্বাচন ভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডা. তাসনিম জারা জানান যে মনোনয়ন বাতিলের পরের দিনগুলো তাঁর জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। এই কঠিন সময়ে দেশ ও বিদেশের বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দোয়া করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে তিনি নির্বাচনি মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে তাঁর পছন্দের প্রতীক ‘ফুটবল’ বরাদ্দের জন্য তিনি কমিশনের কাছে আবেদন করবেন। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
"নির্বাচন কমিশনে করা আপিল মঞ্জুর হয়েছে এবং আমার মনোনয়ন আবারও গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আমাকে এই লড়াইয়ে ফেরার শক্তি দিয়েছে। আমি ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে নামতে চাই।" — ডা. তাসনিম জারা
বর্তমানে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি চলছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট আপিল নম্বরের ওপর শুনানি হবে। শুনানির ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন ভবনের মনিটরে প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং রায়ের পিডিএফ কপি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ই-মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির শুনানির রায়গুলো আগামী ১২ জানুয়ারি এবং পরবর্তী ধাপের রায়গুলো নির্ধারিত সময়ে বিতরণ করা হবে। আগারগাঁওয়ের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও প্রার্থীরা সরাসরি রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ আর কখনোই ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সম্পাদক ও কর্মীদের সাথে আয়োজিত এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় অতীতের ট্র্যাজেডি এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন যে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অতীতের অন্ধকার পথে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের কিছু বেদনাদায়ক অধ্যায়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেন। তিনি ১৯৮১ সালের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি ঘটনার জানাজার কথা উল্লেখ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন যে একদিকে যেমন শোকের ইতিহাস রয়েছে, অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এটি শুধু তাঁর একার জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য এক বিশাল শিক্ষা। বিএনপি যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করার সুযোগ পায়, তবে তারা জাতিকে একটি সঠিক ও ন্যায়ভিত্তিক পথে পরিচালিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন।
প্রতিহিংসার রাজনীতির করুণ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন যে হিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতি একটি দল বা ব্যক্তির জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ৫ আগস্টের ঘটনায় দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার অনুরোধ জানান। তারেক রহমানের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ; কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই জাতীয় বিভেদে পরিণত না হয়। বিভেদের রাজনীতি কীভাবে একটি জাতিকে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে অনেকের মনে হতাশা থাকলেও তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে আশার কথা শোনান। তিনি বলেন যে বিএনপির কাছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট চিন্তা ও পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে জাতিকে বিভক্ত না করে আলোচনার মাধ্যমে যদি মতপার্থক্য নিরসন করা যায়, তবেই একটি সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আ’লীগের ভোট কার বাক্সে? শুরু হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নীরব লড়াই
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলেও দলটির কয়েক দশকের তৈরি হওয়া সমর্থক গোষ্ঠী নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের ভোট প্রাপ্তির হার ৩০ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। যদিও বর্তমানে গণহত্যার দায়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব পলাতক বা কারাবন্দি, তবুও এই বিশাল নীরব ভোটার গোষ্ঠীকে কেন্দ্রে এনে নিজের পক্ষে রাখাটাই এখন বিএনপি ও জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের ‘ভোট শিকার’ কৌশল
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলার হাত থেকে বাঁচার বা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেই বুঝে দেশপ্রেমিক ভোটাররা বিএনপির পতাকাতলে আসবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রথাগত সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ভাঙার কৌশল নিয়েছে। খুলনা-১ আসনে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করা এবং বাগেরহাটে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া এর উজ্জ্বল উদাহরণ।
সংখ্যালঘু ভোট ও জামায়াতের ভোলবদল
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের ‘নিশ্চিত ভোট ব্যাংক’ হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ভাবমূর্তি বদলে সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন ও মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটাধিকার থাকা উচিত এবং তারা এবার ‘সুবিবেচনাপ্রসূত’ হয়েই ভোট দেবেন। এই কৌশলটি সফল হলে তা দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ছক আমূল বদলে দিতে পারে।
এনসিপি-র সমালোচনা ও আওয়ামী লীগের অনড় অবস্থান
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই ভোট সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ‘জুলাই গণহত্যার সঙ্গে আপস’ হিসেবে দেখছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের মতে, ভোটের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে যে—‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’। এই ‘নো বোট, নো ভোট’ প্রচারণা কার্যকর হলে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে, যা বড় দলগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের এই ‘সাইলেন্ট ভোটার’রা কার দিকে ঝুঁকবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। রাজনৈতিক দলগুলো এখন শুধু আদর্শ নয়, বরং সংখ্যার লড়াইয়ে নেমেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের ভোটই হতে যাচ্ছে তুরুপের তাস।
কেন ৯১-এর পর বদলে গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা? জানুন খালেদা জিয়ার সাহসী ভূমিকা
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি দেশের অস্তিত্ব রক্ষার এক কঠিন লড়াই। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ও আইপিসিসি (IPCC)-এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা ১ শতাংশেরও কম, তবুও এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনাহীন। এই দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আজ দৃশ্যমান, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার শাসনকালে (১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬)।
৯১-এর ট্রমা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম এক জাতীয় ট্রমা, যেখানে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক এক মাসের মাথায় এই ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই বিপর্যয় রাষ্ট্রকে নতুন করে উপলব্ধি করায় যে, কেবল ত্রাণ বিতরণ করে দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো’। এর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল ‘প্রতিক্রিয়াভিত্তিক’ ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ‘ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক’ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীকালে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
নীতিগত সংস্কার ও পরিবেশ শাসনব্যবস্থা
নব্বইয়ের দশকে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রথম জাতীয় পরিবেশনীতি প্রণয়ন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে আসে ঐতিহাসিক ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন’। এই আইনের মাধ্যমে শিল্পকারখানার জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়। একই সাথে 'ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান' (NEMAP) প্রণয়নের মাধ্যমে মাটি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে সমন্বিত রূপ দেওয়া হয়।
উপকূলীয় সুরক্ষা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি
দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতিতে খালেদা জিয়ার সরকার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP)-কে আধুনিক ও বিস্তৃত করে।
নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং সতর্কবার্তার সক্ষমতা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত উন্নীত করা হয়।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এক হাজারের বেশি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়, যা আজও দুর্যোগের সময় জীবন রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
উপকূলীয় অঞ্চলে ৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি বাঁধ মেরামত ও ‘গ্রিন বেল্ট’ বা সবুজ বেষ্টনী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের মতো পরিপক্ব বন জলোচ্ছ্বাসের শক্তি ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম।
এর ফলাফল ছিল অভূতপূর্ব। ১৯৭০ সালের তুলনায় পরবর্তী বড় ঘূর্ণিঝড়গুলোতে প্রাণহানির সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে আসে, যা বাংলাদেশকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও সাহসী পরিবেশবাদী সিদ্ধান্ত
জলবায়ু পরিবর্তন কেবল দুর্যোগ নয়, বরং এটি দারিদ্র্য ও খাদ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত। বেগম জিয়ার আমলে দারিদ্র্যের হার ৫৬ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। ২০০৫ সালে তাঁর সরকারই বাংলাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা (NAPA) প্রণয়ন করে।
নগর পরিবেশ সুরক্ষায় তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত
২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ, জলাবদ্ধতা ও নদীদূষণ রোধে এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ।
২০০৩ সালে ঢাকায় টু-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার বন্ধ করে বায়ুদূষণ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতি ও ন্যায়বিচার
আন্তর্জাতিক ফোরামে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম সারির নেতা হিসেবে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা Climate Justice-এর দাবি তোলেন। ১৯৯২ সালের রিও আর্থ সামিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন বৈশ্বিক মঞ্চে তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার। ২০০২ সালে তিনি বলেছিলেন, “কিছু দেশের জন্য এটি জীবনযাত্রার হুমকি হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি বেঁচে থাকার প্রশ্ন।”
যদিও প্রশাসনিক দুর্বলতা বা দুর্নীতির মতো চ্যালেঞ্জ কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নকে ব্যাহত করেছে, তবুও ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা আজকের যে আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ দাবি—তার অনেকগুলোর বীজ রোপিত হয়েছিল সেই নব্বইয়ের দশকেই। অতীতের এই অভিজ্ঞতা আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এই অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে আমাদের সঠিক পথ দেখায়।
লেখক : অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যন, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট
ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ, বললেন আমীর খসরু
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের যে আদর্শিক মশাল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেই আলোকবর্তিকা নিয়েই এগিয়ে চলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরের দক্ষিণ মধ্য হালিশহর, গোসাইলডাঙ্গা ও মুনিরনগর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসনের রুহের মাগফেরাত কামনায়।
আমীর খসরু বলেন, তারেক রহমান ভবিষ্যতে রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা বা গোপনীয়তা রাখেননি। তিনি জনগণের সামনে একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রদর্শন উপস্থাপন করেছেন, যেখানে রাষ্ট্রক্ষমতার সুফল কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সরকারের সুবিধা ও ন্যায়বিচার ভোগ করতে পারে, সেই কাঠামোই গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের ভোট ও মতামতের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
আলোচনায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে পুরো জাতি গভীরভাবে শোকাহত। দীর্ঘ সময় ধরে যিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যিনি কর্মীদের সাহস ও দৃঢ়তা জুগিয়েছেন, তিনি ছিলেন আপসহীন রাজনীতির প্রতীক।
তার ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সুযোগ-সুবিধা বা চিকিৎসার বিনিময়ে আপস করার পথ তার সামনে খোলা থাকলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আপসহীনতাই বিএনপির রাজনীতির মূল শক্তি।
আমীর খসরু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে গণতান্ত্রিক আদর্শের মশাল বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই মশালই আজ তারেক রহমান বহন করছেন। এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর, মোহাম্মদ মুসা, হাজী জাহিদুল হাসান, ছাত্রদলের মহানগর আহ্বায়ক সাইফুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তানভীরসহ আরও অনেক সিনিয়র নেতা।
সভাপতিত্ব করেন মুনিরনগর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সেলিম উদ্দিন শাহিন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু ও হারুনুর রশিদ।
-রাফসান
নির্বাচনবিরোধীরাই মোসাব্বির হত্যায় জড়িত: সালাহউদ্দিন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ড নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা নির্বাচন চায় না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে আগ্রহী, তারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে মোসাব্বিরের বাসায় গিয়ে তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
তার ভাষায়, পরিকল্পিতভাবে মোসাব্বিরকে টার্গেট করা হয়েছে এবং এর পেছনে নির্বাচনবিরোধী শক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার ধারাবাহিক অপচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়, সেই জাতীয় অপশক্তিরাই এ ধরনের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এসব ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা সহিংসতা সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তার মতে, এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
হত্যাকাণ্ডে নিহত মোসাব্বিরের পরিবারকে দলীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মোসাব্বিরের স্ত্রী ও সন্তানদের জীবনের সব প্রয়োজন বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে দেখবে। পরিবারটি যেন কোনোভাবেই অসহায় অবস্থায় না পড়ে, সে বিষয়ে দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আজিজুর রহমান মোসাব্বির। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেদিন রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তেজতুরী বাজার এলাকায় স্টার কাবাবের পেছনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন: জামায়াত আমির
- বাংলাদেশ ইস্যুতে আজ ভারত-আইসিসি বৈঠকে যা থাকছে
- টানা ২৬ দিন বন্ধ থাকবে কলেজ! ২০২৬ সালের বড় ছুটির তালিকা জানুন
- আইএসের ওপর মার্কিন বাহিনীর বড় হামলা
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১১ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- তেহরানে ড্রেনে পড়ে আছে লাশ! ৪৮ ঘণ্টায় ভয়াবহতম রক্তপাত ইরানে
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা
- মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় বিপাকে আইসিসি: জয় শাহর জরুরি বৈঠক
- জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
- বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
- পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
- টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান: জি এম কাদের
- এক গুলশানেই তিন শক্তি! তারেক রহমানের সাথে কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- ভাঙছে তাহসান খানের দ্বিতীয় সংসার
- খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?
- প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল কবে, যা বলছে অধিদপ্তর
- ঢাকা-৯ আসনে বড় চমক! যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাসনিম
- ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
- বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান
- অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
- ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে
- রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
- শৈত্যপ্রবাহের কবলে পঞ্চগড়: সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
- আ’লীগের ভোট কার বাক্সে? শুরু হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নীরব লড়াই
- হাতিয়ায় মাটির নিচ থেকে বের হচ্ছে আগুন! গ্যাস রহস্যে তোলপাড় এলাকা
- সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল
- গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়
- চালের গুঁড়া ছাড়াই ঝটপট পাটিসাপটা তৈরির সহজ গোপন টিপস
- জীবন বদলাতে ১০ মিনিটই যথেষ্ট! সকাল ১০টার আগের বিশেষ টিপস
- খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
- রোগ প্রতিরোধে ডালিম পাতার যাদুকরী ব্যবহার
- প্রতিদিন কমলা খাওয়ার স্বাস্থ্যগত সুফল
- গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
- ডিএসইতে সরকারি বন্ড সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- কেন ৯১-এর পর বদলে গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা? জানুন খালেদা জিয়ার সাহসী ভূমিকা
- অডিট আপত্তি ও গুরুত্বের বিষয়, তিন প্রতিষ্ঠানের হিসাব
- ডিএসইতে মির সিকিউরিটিজের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৪২৯ কোটি টাকার লেনদেন
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ, বাজারে প্রতিক্রিয়া
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার








