নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৮ ১১:৩৩:১২
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সেফ এক্সিট’ বিতর্ক
ছবিঃ ডেইলি সান

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন থেকে মাত্র তিন মাস দূরে। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আয়োজন বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি। একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন—নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন, জনসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন।

এই সংবেদনশীল সময়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক মন্তব্যে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তারা এখন নিজেদের নিরাপদ প্রস্থানের কথা ভাবছেন।”তার এই বক্তব্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। টেলিভিশন টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় উত্তপ্ত আলোচনা। এমনকি সরকার ঘনিষ্ঠ মহলেও বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলাম সরকারের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন, যদিও তিনি এখন সরকারে নেই। তাই তার এমন মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়—এটি এক ধরনের বার্তাও বহন করে যে, সরকারের ভেতরেই এখন অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস বাড়ছে।

সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “উপদেষ্টারা যদি বিশ্বাস করতেন যে তাদের নিয়োগের উৎস ছিল গণঅভ্যুত্থানের শক্তি—সেই সাধারণ মানুষ যারা রাস্তায় নেমে প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন—তাহলে আজ এই বিচ্যুতি ঘটত না। তারা সেই শক্তির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন।”

পরদিন উত্তরাঞ্চলের এনসিপি প্রধান সংগঠক সারজিস আলম আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “কিছু উপদেষ্টা কেবল নিজেদের সুরক্ষার কথা ভাবছেন, দায়িত্ব পালন করছেন অর্ধেক মনোযোগে। কিন্তু যারা গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের এ ধরনের মনোভাব চলতে পারে না। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলে তাদের নিরাপদ প্রস্থান বলে কিছু থাকবে না—যেখানেই যান না কেন, বাংলাদেশিরা তাদের খুঁজে নেবে।”

এনসিপি অভিযোগ করেছে যে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এই হতাশা থেকেই ‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গটি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো কয়েকটি রাজনৈতিক দলও উপদেষ্টাদের কিছু বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ—কিছু উপদেষ্টা ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে চেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী মনে করেন, “ইউনুস সরকার বেশ কিছু গুরুতর ভুল করেছে। এর ফলেই জনগণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফল ভোগ করতে পারেনি। তাই এখন উপদেষ্টাদের নিরাপদ প্রস্থানের আলোচনা জোরালো হচ্ছে।”তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্ত না করা। তিনি এনজিও ও বিশ্বব্যাংক ঘরানার ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশাসন সাজিয়েছেন, যাদের দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় বিদেশমুখী ও স্বার্থকেন্দ্রিক। এটি জনগণের সরকার হিসেবে প্রত্যাশিত ছিল না।”

এ প্রসঙ্গে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন বলেন, “এই সরকার গণঅভ্যুত্থানের ফসল, তাই এটি মূলত জনগণের সরকার। উপদেষ্টাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল—তারা সংস্কার, ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু নির্বাচন রোডম্যাপ ঘোষণার পর প্রশাসনে যেন এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উপদেষ্টারা অনুৎসাহী হয়ে পড়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।”

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “উপদেষ্টাদের কিছু অসংলগ্ন মন্তব্য থেকেই ‘সেফ এক্সিট’ ইস্যুটি সামনে এসেছে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রথম এই ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দেন। আমি মনে করি, নাহিদ ইসলামের মতো ব্যক্তিরা আশা করেছিলেন কিছু উপদেষ্টা সংস্কারমূলক ভূমিকা নেবেন, কিন্তু তা হয়নি। শুরুতে এনসিপি ও সরকারের মধ্যে ভালো সমন্বয় থাকলেও পরে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সরকার যদি নিরপেক্ষতা হারায়, তাহলে আসন্ন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা কমবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা। কারণ, আগামী নির্বাচনের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে সেই আস্থার ওপর।

-সুত্রঃ ডেইলি সান


অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে আসছে সম্পূর্ণ নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২০:২৬:৪১
অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে আসছে সম্পূর্ণ নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক আমলের পুরনো জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক একটি আইন প্রণয়নের কাজ সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনি কাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রে এটিকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া এবং বেটিং মহামারি আকার ধারণ করেছে। তাই দেড়শ বছরেরও বেশি পুরনো মান্ধাতা আমলের আইনটি দিয়ে এই আধুনিক অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। তিনি নিশ্চিত করেন, নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ প্রায় শেষ এবং আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই এটি পাসের জন্য বিল আকারে পেশ করা হবে। এছাড়া, দেশের আদালতগুলোতে মাদকের মামলার বিশাল জট নিরসন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ 'মাদক ট্রাইব্যুনাল' গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

সংলাপ অনুষ্ঠানে পাসপোর্ট থেকে একটি বিতর্কিত শব্দগুচ্ছ বাদ পড়া এবং তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশের আসন্ন নতুন পাসপোর্টগুলোতে পূর্বের নিয়ম বহাল রেখে পুনরায় ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ (Except Israel) শব্দগুচ্ছটি সুনির্দিষ্টভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলকে বর্জন করার এই নীতি দেশের সর্বস্তরের জনগণের একটি দীর্ঘদিনের আবেগ ও প্রাণের দাবি, যা সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

/আশিক


শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরুর দিন ধার্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১৮:২৮:৩২
শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরুর দিন ধার্য
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) করার বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়ে এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে আজ রবিবার দুপুরের দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সেই চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির লক্ষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিকেলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ চূড়ান্ত করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষের খাটের নিচ থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতর থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে প্রতিবেশী সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে এবং পরবর্তীতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গত বুধবার (২০ মে) মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শিশু রামিসাকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে নিজের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক রোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেন।

/আশিক


তথ্যের জগৎ আর প্রথাগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১২:৪৮:৩১
তথ্যের জগৎ আর প্রথাগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রচারের ধারা পুরোপুরি বদলে গেছে এবং তথ্যের জগৎ এখন আর প্রথাগত কোনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ পেশাদার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারি কর্মকর্তা ও দপ্তরের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সবাই মিলে একযোগে কাজ করলে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্বের পরিধি বাড়াতে আধুনিক ‘ইনফরমেশন ইকোসিস্টেম’ বা তথ্য-বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও গভীর ধারণা রাখার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী সেবাগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ছাড়া আধুনিক ও কার্যকর জনসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন একেবারেই অসম্ভব। তাই প্রতিটি সরকারি তথ্য কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতার তথ্য উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, তথ্য ক্যাডারে বর্তমানে তিন শতাধিক কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তিনি বর্তমান সময়ের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা এখন পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা জনধারণা ব্যবস্থাপনার এক ধরনের প্রচ্ছন্ন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি জনসংযোগ কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক সাইকোগ্রাফি’ বা জনমানসের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণ বিশ্লেষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

একই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন) সফলভাবে মোকাবিলা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে সাইবার স্পেসে ছড়িয়ে পড়া গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রমে এই আধুনিক প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো সঠিক নিয়মে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা জনসংযোগ কর্মকর্তাদের মূল দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ও নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে প্রতিটি কর্মকর্তার নিখুঁত ধারণা থাকা আবশ্যক।

/আশিক


আগামীকাল থেকে নামছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন: রেলমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১২:২৮:২৩
আগামীকাল থেকে নামছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন: রেলমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে এবং ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে রেলওয়েতে নতুন করে পাঁচ জোড়া অর্থাৎ অতিরিক্ত ১০টি বিশেষ ট্রেন বা স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হচ্ছে। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদ যাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেল সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী দেশের সীমিত সক্ষমতার কথা স্বীকার করে বলেন, চাহিদার তুলনায় রেলের লোকোমোটিভ, বগি ও লাইনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। প্রতিদিন যেখানে লাখ লাখ মানুষ ট্রেনে বাড়ি ফিরতে চান, সেখানে রেলওয়ে মাত্র ৩২ হাজার যাত্রীকে আন্তঃনগর ট্রেনে আসন দিতে পারে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আরও চার হাজার আসন বাড়ানো সম্ভব হলেও বিশাল জনবাহিনির চাপ সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্রেনের শিডিউল সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, লাইনের ওপর খড় থাকার কারণে চাকা পিছলে বা হুইল স্লিপ করে একটি ট্রেনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় সকাল থেকে দুটি কিংবা তিনটি ট্রেনের সামান্য বিলম্ব হয়েছে। রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে দ্রুত সেটি সচল করা সম্ভব হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কারণে ট্রেনগুলো ২০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়েছে।

ভৌত অবকাঠামোগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক রেলস্টেশন এখনো পুরোপুরি নিরাপদ বা সুরক্ষিত করা যায়নি এবং সব জায়গায় সাধারণ মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই রেলের দুর্ঘটনাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ কারিগরি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।

এছাড়া ঈদযাত্রাকে আরও নির্বিঘ্ন করতে বহরে নতুন ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কালোবাজারির সুযোগ দেওয়া হয়নি দাবি করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে আগে আবেদনকারীদের টিকিট দেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীরাও সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

/আশিক


মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যায় ডিএনএ রিপোর্টে মিলল ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১২:০৬:৫৯
মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যায় ডিএনএ রিপোর্টে মিলল ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যা করার মামলায় ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে মৃত্যুর পূর্বে শিশুটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক ডিএনএ প্রোফাইলিং পরীক্ষার মাধ্যমে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট এবং রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার এই দুটি পৃথক প্রতিবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দেওয়া এই দুই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিশু রামিসাকে প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ইতিপূর্বেই আদালতে হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান যে, ঘটনার পূর্বে তিনি নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা সেবন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে অবুঝ শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। অন্যদিকে, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করা এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

/আশিক


চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না:  মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:৩৪:৪৪
চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না:  মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মহান আত্মত্যাগ ও রক্তের ঋণ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং ভুল করলে এবার জাতি কাউকে রেহাই দেবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় (LGRD) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত মেগা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিইডি (LGED) থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কোনো কাজই হয়নি। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (IEB)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশ করেন।

আইইবি (IEB) মিলনায়তনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশের শীর্ষ প্রকৌশলীদের একটি বৈষম্যহীন এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার মূল কারিগর হওয়ার আহ্বান জানান এলজিইডি মন্ত্রী। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের ওপর পুরো জাতির অনেক আশা ও ভরসা রয়েছে। তাই দেশের উন্নয়ন বাজেট ও প্রকল্পগুলোর সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের লুটপাটের উদাহরণ টেনে তিনি প্রকৌশলীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, পিরোজপুরের মতো হাজার হাজার কোটি টাকার এই প্রাতিষ্ঠানিক হরিলুট ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট বন্ধে এখন থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। নতুন বাংলাদেশের এই পুনর্গঠন পর্বে পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা কোনো ধরণের আর্থিক অনিয়ম ও ভুল করলে জাতি এবার কাউকে ক্ষমা করবে না বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন।

/আশিক


রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:২৩:১৫
রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পাষণ্ড সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ‘মৃত্যুদণ্ড’ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে দেশবাসীকে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকার শিশু ও নারী নির্যাতনের যেকোনো ঘটনায় সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ বা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি যাতে এভাবে নারী বা শিশুর ওপর হাত তোলার সাহস না পায়, তা এই দ্রুততম বিচারের মাধ্যমেই প্রমাণ করা হবে।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেগা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, দেশের প্রচলিত ও নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই দ্রুততম সময়ে এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, আজ দুপুরে ত্রিশালের বইলরে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যার বিচার নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর, বিকেলে মূল নজরুল জয়ন্তীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিচার কার্যকরের সুনির্দিষ্ট ‘এক মাসের’ ডেডলাইন (Deadline) ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও যোগ করেন, একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও সরকার আইনের শাসন বজায় রেখে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে শতভাগ বদ্ধপরিকর।

/আশিক


শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৮:৪২:০৯
শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
ছবি : সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অফিশিয়াল নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী কায়দায় বেক্সিমকো এভিয়েশনকে সুকৌশলে ‘আকিজ-বশির এভিয়েশন’ নামে রূপান্তর এবং রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের আগেই বিমানবন্দরের ভিআইপি হ্যাঙ্গার অবৈধভাবে দখল করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক বেসামরিক বিমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে রাতারাতি বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার ব্যবসার লাইসেন্স (AOC) হাতিয়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উন্মোচন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই নজিরবিহীন জালিয়াতির মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক এবং আকিজ-বশির এভিয়েশনের বর্তমান সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো এভিয়েশন চাপে পড়লে, ক্যাপ্টেন গুলজার মালিকপক্ষের দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দেন।

তবে তৎকালীন ডিএফও ক্যাপ্টেন জাহিদুর রহমানসহ একাধিক পাইলট দাবি করেছেন, সিইও গুলজার সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বেক্সিমকোর এওসি (Air Operator Certificate) বাতিল করিয়ে আকিজ-বশির এভিয়েশনকে লাইসেন্স পাইয়ে দিতে কর্মচারীদের জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করেন।

২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিরেক্টর ফ্লাই অপারেশনসকে না জানিয়েই একটি ভিআইপি ফ্লাইটে তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে নিয়ে ওড়েন ক্যাপ্টেন গুলজার। এই গোপন ফ্লাইটের পরই ২০২৫ সালের ৪ মার্চ বেক্সিমকোর এওসি সারেন্ডার করা হয় এবং মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেই একই সিইও আকিজ-বশির এভিয়েশনের পক্ষে নতুন লাইসেন্সের আবেদন করেন।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত বেক্সিমকো এভিয়েশনের নামে হ্যাঙ্গার বরাদ্দ থাকলেও মার্চ মাস থেকেই তা আকিজ-বশির এভিয়েশনের অলিখিত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, অথচ সিভিল এভিয়েশন তাদের নামে অফিশিয়াল বরাদ্দ দেয় আরও তিন মাস পর ৪ জুন।

আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশিরউদ্দীন এই দখলদারিত্বের বিষয় এবং বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার রাখার তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার জোনে অনুসন্ধানী দল সরেজমিনে গিয়ে শেখ বশিরউদ্দীনের সচল হেলিকপ্টারটির পাশেই বেক্সিমকো এভিয়েশনের রেজিস্ট্রেশনধারী দুটি হেলিকপ্টার জব্দ অবস্থায় দেখতে পায়।

উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজেই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের চেয়ারম্যান হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়া শেখ বশিরউদ্দীনের এই লাইসেন্স কেলেঙ্কারি ও বেবিচকের তথ্য গোপনের বিষয়টি এভিয়েশন সেক্টরে এক মেগা দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে পুনরায় সামনে এনেছে।

তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ


পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৮:২২:৫৮
পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

৫ আগস্টের পতিত স্বৈরাচারী শক্তির গভীর ষড়যন্ত্র এবং দেশের ভেতরের একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের গোপন আঁতাতের তীব্র সমালোচনা করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বৈরাচারের দোসরেরা বর্তমানে দেশে নানা অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়কে কৃত্রিম ইস্যু বানিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ঐতিহাসিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মেগা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দেন।

ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিশুদের স্কুল ব্যাগ-পোশাক ও মসজিদের ইমামদের জন্য বিশেষ ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া আলোচিত ‘রামিসা হত্যা’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর; তবে আইনি নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাউকে অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, দুপুর ২টায় তীব্র বৃষ্টির মাঝে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ছাতা ছাড়াই নিজে খালে নেমে শ্রমিকদের সঙ্গে মাটি কেটে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ধরার খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী, যা উপস্থিত হাজারো জনতার মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: