সাও পাওলো গভর্নর থেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী? আলোচনায় তার্সিসিও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:৫৪:৪১
সাও পাওলো গভর্নর থেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী? আলোচনায় তার্সিসিও
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাজিলের রাজনীতিতে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পর ডানপন্থীদের নেতৃত্ব কে দেবেন? একদিকে বলসোনারো ২৭ বছরের সাজা বাতিলের জন্য আপিল নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ব্রাজিলের বৃহৎ রক্ষণশীল ভোটারগোষ্ঠী খুঁজছে নতুন মুখ। আর বারবার আলোচনায় উঠে আসছে এক নাম—সাও পাওলোর গভর্নর তার্সিসিও দে ফ্রেইতাস।

ফ্রেইতাস যদিও নিজেকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, তবুও জনমত জরিপ বলছে তিনি বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। ৪৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার সাও পাওলো ব্রাজিলের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন, যার জিডিপি বেলজিয়াম বা সুইডেনের সমান। সেই রাজ্যের দায়িত্বে আছেন ফ্রেইতাস—একজন প্রাক্তন সেনা প্রকৌশলী, যিনি ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে কখনো কোনো পদে নির্বাচন করেননি।

রাজনীতিতে নতুন হলেও ফ্রেইতাসকে বলা হয় কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ ও দক্ষ টেকনোক্র্যাট। বলসোনারোর মন্ত্রিসভায় অবকাঠামো মন্ত্রী হিসেবে কাজ করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে বর্ণনা করেন এক বাস্তববাদী নেতা হিসেবে—যিনি ‘দ্রুত সমাধানে বিশ্বাসী’। ফ্রেইতাসও সে পরিচয়ে আপত্তি করেন না। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি বাস্তববাদী মানে মানুষের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়, তবে আমি অবশ্যই তাই।”

৫০ বছর বয়সী ফ্রেইতাস জনসমক্ষে সহজপ্রাপ্য মনে হলেও মঞ্চে উঠে পরিণত নেতার মতো তীব্র বক্তৃতা দেন। পরিসংখ্যান ঝরঝর করে শোনাতে পারার দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে তুলে। তিনি বলসোনারোর মতো অগ্নিমূর্তি নন, কিন্তু রাজনৈতিক মুহূর্তে সঠিক সুর ধরতে জানেন। সম্প্রতি বলসোনারোর রায়ের আগেই তিনি সুপ্রিম কোর্টকে “স্বৈরাচারী” আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

ফ্রেইতাসের অবস্থান স্পষ্ট—তিনি সংসদের বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা প্রস্তাবের পক্ষে, যা শত শত অভ্যুত্থান-সম্পর্কিত মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি দেবে, এমনকি বলসোনারোকেও। তাঁর ভাষায়, “ক্ষমা দেশকে শান্ত করতে সাহায্য করবে, ব্রাজিলকে এগিয়ে যেতে হবে।”

রিও ডি জেনেইরোতে জন্ম নেওয়া ফ্রেইতাস অল্প বয়সেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৩৩ বছর বয়সে ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। দিলমা রুসেফের বামপন্থী সরকারের অধীনে জাতীয় পরিবহন ও অবকাঠামো বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি। দক্ষতা ও সুনামের কারণেই বলসোনারো তাঁকে ২০১৯ সালে অবকাঠামো মন্ত্রী করেন এবং পরবর্তীতে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সমর্থন দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফ্রেইতাস প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের কাছে এক কার্যকর নেতা—যিনি বলসোনারোর মতো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়াবেন না। তবে বলসোনারোর কট্টর সমর্থক শ্রেণি এখনো অটুট। তাই ফ্রেইতাসকে তাদের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর প্রশাসনের পুলিশি নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সাও পাওলোতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬১ শতাংশ—যখন জাতীয় গড় ৩ শতাংশ কমেছে। দুটি এনজিও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে অভিযোগ জমা দিয়ে ফ্রেইতাসের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এ প্রসঙ্গে গভর্নরের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, “আমি পাত্তা দিচ্ছি না।”

তবুও সমর্থকদের কাছে ফ্রেইতাস কঠোর কিন্তু কার্যকর নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর অবস্থান অর্থনৈতিক দক্ষতা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে। তিনি বলেন, “সামাজিক ন্যায়বিচার তখনই সম্ভব, যখন আর্থিক শৃঙ্খলা থাকে।”

সব মিলিয়ে, বলসোনারো আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় ফ্রেইতাসের দিকে তাকিয়ে আছে ব্রাজিলের রক্ষণশীল রাজনীতি। তিনি সত্যিই কি বলসোনারোর উত্তরসূরি হবেন, নাকি নতুন এক রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করবেন—সেটাই এখন ব্রাজিলীয় রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

-আলমগীর হোসেন


এপস্টেইন মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন: সাবেক প্রেমিকার চাঞ্চল্যকর দাবি!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৯:৪৩:৫৪
এপস্টেইন মারা যাননি, তিনি বেঁচে আছেন: সাবেক প্রেমিকার চাঞ্চল্যকর দাবি!
ছবি : সংগৃহীত

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন মারা যাননি বরং তিনি এখনো জীবিত আছেন—এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাবেক প্রেমিকা লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস গত শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয় যে এলবিসি রেডিওর উপস্থাপক টম সোয়ারব্রিকের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে লেডি ভিক্টোরিয়া এই বিস্ফোরক দাবি করেন। ভিক্টোরিয়া তাঁর বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন যে এপস্টেইন এখনো জীবিত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তিনি দাবি করেন যে এপস্টেইনকে একটি বিশেষ ‘ট্রিপ ভ্যান’-এ করে কারাগার থেকে অত্যন্ত গোপনে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন যে তিনি কখনোই বিশ্বাস করেননি এপস্টেইন মারা গেছেন বা তিনি আত্মহত্যা করেছেন; বরং তাঁর জোরালো ধারণা এপস্টেইন বর্তমানে ইসরায়েলে আত্মগোপন করে আছেন।

উল্লেখ্য যে ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি উচ্চ নিরাপত্তা সম্পন্ন কারাগারে জেফরি এপস্টেইনকে তাঁর কারাকক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে সময় মার্কিন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর ধরন এবং সেই সময় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার রহস্যজনক ত্রুটি নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ফরেনসিক প্রতিবেদনে তাঁর ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার তথ্য উঠে আসায় তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি অনেকের কাছেই সন্দেহজনক ছিল।

এপস্টেইনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তৎপরতার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেফরি এপস্টেইন ইস্যুটি এখন আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত কয়েক মাসে এপস্টেইন-সংক্রান্ত যৌন পাচার তদন্তের বিপুল পরিমাণ গোপন নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটিদের নাম ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে আসায় সারা বিশ্বে নতুন করে আলোচনার ঝড় বইছে। লেডি ভিক্টোরিয়ার এই নতুন দাবি সেই বিতর্কের আগুনে যেন ঘি ঢেলে দিয়েছে।


ট্রাম্পকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি কুখ্যাত এপস্টেইনের; ফাঁস হলো গোপন নথি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১০:০০:২৫
ট্রাম্পকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি কুখ্যাত এপস্টেইনের; ফাঁস হলো গোপন নথি
ছবি : সংগৃহীত

যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে গত দুই মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত লাখ লাখ চাঞ্চল্যকর নথি বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত এসব নথিতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির গোপন তথ্যের পাশাপাশি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও আচরণ নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদে ছিলেন, তখন তাঁর মানসিক অবস্থা বা ‘ডিমেনশিয়া’ নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে বেশ উদ্বেগ ছিল। প্রকাশিত ইমেইল বার্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সেই সময়ে ট্রাম্প তাঁর অনেক পুরনো বন্ধুদেরও চিনতে পারছিলেন না, যা অনেকের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল।

২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বরের একটি ইমেইল বার্তায় দাবি করা হয়েছে যে, ট্রাম্প সেই সময় চেহারার ত্রুটি ঢাকতে প্রচুর পরিমাণে মেকআপ ব্যবহার করতেন। হলিউড রিপোর্টার ও ইউএসএ টুডের প্রখ্যাত সাংবাদিক মাইকেল উলফের সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের কথোপকথনের মেইলে এসব ব্যক্তিগত ও বিতর্কিত তথ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নতুন নথিপত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম কয়েক শ বার এসেছে। যদিও ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে এক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল, তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, বহু বছর আগেই সেই সম্পর্ক চুকে গেছে। এপস্টেইনের যৌন অপরাধ বা পাচারচক্র বিষয়েও তাঁর কোনো ধারণা ছিল না বলে তিনি একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, নতুন প্রকাশিত এই বিশাল নথির স্তূপ ট্রাম্পের অতীত ও তাঁর প্রথম মেয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও নতুন বিতর্কের খোরাক জোগাচ্ছে।


৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ২১:৩৪:৪২
৩৬ বছর পর জাপানে শীতকালীন ভোট: বিরূপ আবহাওয়ায় তাকাইচির ওপর ভরসা জাপানিদের 
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির রাজনৈতিক বাজি সফল হতে চলেছে। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাপানে অনুষ্ঠিত আকস্মিক জাতীয় নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল)। এই সম্ভাব্য বিজয় এলডিপিকে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেওয়ার পাশাপাশি তাকাইচির নেতৃত্বের ওপর জনগণের শক্তিশালী আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাস পর নির্বাচনে গিয়ে সানায়ে তাকাইচি এক প্রকার চমক সৃষ্টি করেছেন। এর আগে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও মূল্যস্ফীতির কারণে এলডিপি যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল, তাকাইচির ব্যক্তিগত ইমেজ ও জনতাবাদী নীতি তা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের (NHK) বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ৩২৮টি আসনের মধ্যে তাকাইচির এলডিপি পেতে পারে ২৭৪টি আসন। অর্থাৎ, মাত্র ৫৪টি আসন পেতে পারে সব বিরোধী দল মিলে।

৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম শীতের তীব্র তুষারপাতের মধ্যে জাপানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। টোকিওসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল তুষারপাত সত্ত্বেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাকাইচির জাতীয়তাবাদী বক্তব্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের উজ্জীবিত করেছে। তবে তাঁর কর কমানোর প্রতিশ্রুতি এবং অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ঋণে জর্জরিত জাপানি অর্থনীতিতে এই নীতি শ্রমিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাকাইচির এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকাইচিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যা কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এলডিপির দীর্ঘদিনের মিত্র কোমেইতো পার্টি এবার বিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েও তাকাইচির জয়রথ থামাতে পারছে না বলেই জরিপে দেখা যাচ্ছে।


চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:০২:৪০
চাঁদ দেখা নিয়ে কাটছে ধোঁয়াশা; ২০২৬-এর ঈদ কি হবে বিশ্বজুড়ে একদিনে?
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মতভেদ দেখা দিলেও, পবিত্র ঈদুল ফিতর বা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি প্রায় অধিকাংশ দেশে একই দিনে হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য এবং এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের (হিজরি ১৪৪৭) পবিত্র রমজান মাস শুরুর ক্ষেত্রে গাণিতিক গণনা এবং খালি চোখে চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে দেশভেদে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। অনেক দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার কোনো কোনো দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রমজান শেষে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময়টি প্রায় সব দেশে অভিন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই গণনা অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের দিকে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।

এ বছর রোজার সময়সীমা নিয়ে জানানো হয়েছে যে, সর্বোচ্চ রোজার দৈর্ঘ্য হতে পারে ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, খোরফাক্কানে সবচেয়ে আগে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় আল সিলা এলাকায় সবচেয়ে দেরিতে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছরই রোজার সময়সীমা এবং শুরুর তারিখে এমন তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। তবে ঈদুল ফিতর একই দিনে হওয়ার এই পূর্বাভাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে একযোগে উৎসব উদযাপনের নতুন আশা সঞ্চার করেছে।


ইতালির সংবিধানে আটকা পড়লেন ট্রাম্প: বোর্ড অব পিস নিয়ে নতুন জটিলতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১০:০৫:১৬
ইতালির সংবিধানে আটকা পড়লেন ট্রাম্প: বোর্ড অব পিস নিয়ে নতুন জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) বড় ধরনের কূটনৈতিক হোঁচট খেল। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পর এবার ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দেশ ইতালি এই বোর্ডে যোগ দিতে তাদের অক্ষমতার কথা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইতালির এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশটির সংবিধানের সাথে প্রস্তাবিত এই শান্তি বোর্ডের সনদের মৌলিক বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ইতালীয় সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমান অধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা ছাড়া ইতালি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশ নিতে পারে না। অন্যদিকে, বোর্ড অব পিসের সনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চেয়ারম্যান’ এবং ‘চূড়ান্ত ব্যাখ্যাকারী’ হিসেবে রাখা হয়েছে, যা ইতালির সমতার শর্ত পূরণ করে না।

ইতালির এই অস্বীকৃতি ট্রাম্পের এই স্বঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সংস্থা’র গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কড়া সমালোচকরা এই বোর্ডকে জাতিসংঘের একটি ‘পে-টু-প্লে’ (অর্থ দিয়ে সদস্যপদ গ্রহণ) সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ স্থায়ী সদস্যপদের জন্য প্রতিটি দেশের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক একদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। গত মাসে ট্রাম্প ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানালেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬টি দেশ এই বোর্ডে নাম লিখিয়েছে, যার মধ্যে গাজা মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসরও রয়েছে।


সন্ধ্যাবেলায় বড় ধাক্কা! ৪ দেশ মিলিয়ে এক কম্পনে জনমনে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ২১:৩২:৩৫
সন্ধ্যাবেলায় বড় ধাক্কা! ৪ দেশ মিলিয়ে এক কম্পনে জনমনে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী ভারতের সিকিম রাজ্যে মাঝারি মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই কম্পনে সিকিম ছাড়াও নেপাল, চীন ও ভুটানের কিছু অংশ কেঁপে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভলকানো ডিসকভারি’ এই খবর নিশ্চিত করেছে।

রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৬। ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিম সিকিমে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এই কেন্দ্রস্থলটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ৫৫ মাইল বা ৮৮ কিলোমিটার দূরে। গভীরতা কম হওয়ায় উৎপত্তিস্থলের আশপাশে বেশ জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে।

হিমালয় সংলগ্ন হওয়ার কারণে সিকিম ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১টি কম্পন অনুভূতির (Reports) তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে কেন্দ্রস্থলের খুব কাছে জনবসতি কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেপাল, চীন ও ভুটানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও এই কম্পন স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়েছিল। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বড় কোনো প্রভাবের তথ্য মেলেনি।


এপস্টেইন-বারাক গোপন অডিও: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৪৩:২৯
এপস্টেইন-বারাক গোপন অডিও: ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ষড়যন্ত্র ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি গোপন অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অডিওতে ইসরাইলের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে ফেলার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের চিত্র ফুটে উঠেছে।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে এহুদ বারাককে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে এবং ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা সুসংহত করতে ১০ লাখ রাশিয়ান অভিবাসী আনার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা গেছে। বারাক জানান, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন আরও ১০ লাখ রাশিয়ানকে ইসরাইলে পাঠানো হয়। বারাকের মতে, এই বিশাল সংখ্যক অভিবাসী ইসরাইলে এলে দেশটির জনতাত্ত্বিক চিত্রে এক ‘বৈপ্লবিক ও নাটকীয়’ পরিবর্তন আসবে, যা ইসরাইল সহজেই সামলে নিতে পারবে।

কথোপকথনে বারাক অভিবাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম বর্ণবাদী ও বাছাইপ্রবণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অতীতে আরব ও মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা ইহুদিদের অবজ্ঞা করে দাবি করেন যে, এখন তাদের ‘গুণগত মান’ বজায় রাখার সময় এসেছে। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি আধিপত্য বজায় রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রভাব চিরতরে খর্ব করাই ছিল বারাকের এই জনতাত্ত্বিক প্রকৌশলের মূল লক্ষ্য।

এই গোপন রেকর্ড ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মস্কোর সাবেক প্রধান রাব্বি পিনচাস গোল্ডস্মিড এই উদ্যোগকে একটি ‘উদ্ভট পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জেফরি এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর সঙ্গে বারাকের এই ধরনের রাষ্ট্রীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা ইসরাইলের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের নৈতিকতা ও ফিলিস্তিনবিরোধী পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


রাশিয়ান তেল না কি ট্রাম্পের বন্ধুত্ব? বড় বাজি ধরলেন মোদি!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১১:৩৫:০৫
রাশিয়ান তেল না কি ট্রাম্পের বন্ধুত্ব? বড় বাজি ধরলেন মোদি!
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে ঘোষিত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘ কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার অবসান ঘটল। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিনিময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য ক্রয় করবে এবং আগামী ১০ বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরিতে সম্মত হয়েছে। শুল্ক প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানি করবে। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

গত বছরের শেষ দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা এখন বড় আকারে হ্রাস পেল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার জানান, ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পাবেন, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। এই পদক্ষেপের ফলে ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ০৯:০৫:২০
যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তেহরান-ভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলতে সক্ষম ইরান।

প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সমরকৌশল নতুন না হলেও এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা লক্ষণীয়। তেহরানের লক্ষ্য সরাসরি সামরিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের ব্যয়ভারকে ‘অসহনীয়’ করে তোলা। ইরানের এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আঘাত সহ্য করেও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই ‘বিজয়’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুদ্ধলক্ষ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। এই ভিন্নধর্মী মানদণ্ডের কারণে এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সামরিকভাবে পঙ্গু হয়েও অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার কোনো ভিত্তি থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত এবং শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতেই ইরান এমন বয়ান তৈরি করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইরানের প্রক্সি সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই সক্ষমতাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে রেখেছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত: