সাও পাওলো গভর্নর থেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী? আলোচনায় তার্সিসিও

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ১০:৫৪:৪১
সাও পাওলো গভর্নর থেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী? আলোচনায় তার্সিসিও
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাজিলের রাজনীতিতে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পর ডানপন্থীদের নেতৃত্ব কে দেবেন? একদিকে বলসোনারো ২৭ বছরের সাজা বাতিলের জন্য আপিল নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ব্রাজিলের বৃহৎ রক্ষণশীল ভোটারগোষ্ঠী খুঁজছে নতুন মুখ। আর বারবার আলোচনায় উঠে আসছে এক নাম—সাও পাওলোর গভর্নর তার্সিসিও দে ফ্রেইতাস।

ফ্রেইতাস যদিও নিজেকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, তবুও জনমত জরিপ বলছে তিনি বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। ৪৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার সাও পাওলো ব্রাজিলের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন, যার জিডিপি বেলজিয়াম বা সুইডেনের সমান। সেই রাজ্যের দায়িত্বে আছেন ফ্রেইতাস—একজন প্রাক্তন সেনা প্রকৌশলী, যিনি ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে কখনো কোনো পদে নির্বাচন করেননি।

রাজনীতিতে নতুন হলেও ফ্রেইতাসকে বলা হয় কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ ও দক্ষ টেকনোক্র্যাট। বলসোনারোর মন্ত্রিসভায় অবকাঠামো মন্ত্রী হিসেবে কাজ করে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে বর্ণনা করেন এক বাস্তববাদী নেতা হিসেবে—যিনি ‘দ্রুত সমাধানে বিশ্বাসী’। ফ্রেইতাসও সে পরিচয়ে আপত্তি করেন না। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি বাস্তববাদী মানে মানুষের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়, তবে আমি অবশ্যই তাই।”

৫০ বছর বয়সী ফ্রেইতাস জনসমক্ষে সহজপ্রাপ্য মনে হলেও মঞ্চে উঠে পরিণত নেতার মতো তীব্র বক্তৃতা দেন। পরিসংখ্যান ঝরঝর করে শোনাতে পারার দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে তুলে। তিনি বলসোনারোর মতো অগ্নিমূর্তি নন, কিন্তু রাজনৈতিক মুহূর্তে সঠিক সুর ধরতে জানেন। সম্প্রতি বলসোনারোর রায়ের আগেই তিনি সুপ্রিম কোর্টকে “স্বৈরাচারী” আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

ফ্রেইতাসের অবস্থান স্পষ্ট—তিনি সংসদের বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা প্রস্তাবের পক্ষে, যা শত শত অভ্যুত্থান-সম্পর্কিত মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি দেবে, এমনকি বলসোনারোকেও। তাঁর ভাষায়, “ক্ষমা দেশকে শান্ত করতে সাহায্য করবে, ব্রাজিলকে এগিয়ে যেতে হবে।”

রিও ডি জেনেইরোতে জন্ম নেওয়া ফ্রেইতাস অল্প বয়সেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ৩৩ বছর বয়সে ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। দিলমা রুসেফের বামপন্থী সরকারের অধীনে জাতীয় পরিবহন ও অবকাঠামো বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি। দক্ষতা ও সুনামের কারণেই বলসোনারো তাঁকে ২০১৯ সালে অবকাঠামো মন্ত্রী করেন এবং পরবর্তীতে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সমর্থন দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফ্রেইতাস প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক মহলের কাছে এক কার্যকর নেতা—যিনি বলসোনারোর মতো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়াবেন না। তবে বলসোনারোর কট্টর সমর্থক শ্রেণি এখনো অটুট। তাই ফ্রেইতাসকে তাদের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর প্রশাসনের পুলিশি নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সাও পাওলোতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৬১ শতাংশ—যখন জাতীয় গড় ৩ শতাংশ কমেছে। দুটি এনজিও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে অভিযোগ জমা দিয়ে ফ্রেইতাসের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে নীরবে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এ প্রসঙ্গে গভর্নরের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, “আমি পাত্তা দিচ্ছি না।”

তবুও সমর্থকদের কাছে ফ্রেইতাস কঠোর কিন্তু কার্যকর নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর অবস্থান অর্থনৈতিক দক্ষতা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে। তিনি বলেন, “সামাজিক ন্যায়বিচার তখনই সম্ভব, যখন আর্থিক শৃঙ্খলা থাকে।”

সব মিলিয়ে, বলসোনারো আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় ফ্রেইতাসের দিকে তাকিয়ে আছে ব্রাজিলের রক্ষণশীল রাজনীতি। তিনি সত্যিই কি বলসোনারোর উত্তরসূরি হবেন, নাকি নতুন এক রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করবেন—সেটাই এখন ব্রাজিলীয় রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

-আলমগীর হোসেন


পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি ইরান: দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৬ ১০:১৫:৫১
পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি ইরান: দাবি ট্রাম্পের
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ‘শতভাগ নিশ্চিতভাবে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে ট্রাম্পের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এই অবস্থান থেকেই ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, তেহরান এখন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা তিনি রেকর্ড পরিমাণ বলে উল্লেখ করেন। যদিও এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জন্য অবমুক্ত কিছু অর্থ মানবিক ও কৃষিখাতে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ওই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়তা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

অন্যদিকে, সংঘাতের পর ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রতিবেদনকে ট্রাম্প সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এসব তথ্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

-রফিক


ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৫ ১৮:৩০:৩৬
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিজের দল রিপাবলিকানের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গেই এক উত্তপ্ত ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র বাদানুবাদ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নাটকীয় বৈঠকের পরপরই যুদ্ধের যাবতীয় ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলারের বিশাল এক অতিরিক্ত বাজেট দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার ওয়াশিংটনে এই উত্তপ্ত ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের ভেতরে উপস্থিত থাকা একাধিক রিপাবলিকান সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলোচনার একপর্যায়ে সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চেঁচামেচি ও বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। ক্যাসিডি যুক্তি দেখান যে, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন যে বিতর্কিত রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই চুক্তিতে ইরানকে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আদতে যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা পূরণে এই প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বৈঠক শেষে ক্যাসিডি সাংবাদিকদের স্পষ্ট বলেন, প্রশাসন বর্তমানে আমাদের যা জানাচ্ছে, মার্কিন জনগণের আসলে তার চেয়েও অনেক বেশি তথ্য জানা দরকার। কারণ শুরুতে আমাদের যেভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছিল এবং যুদ্ধ যেভাবে চলার কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই সেভাবে চলছে বলে মনে হচ্ছে না।

এই উত্তপ্ত বাদানুবাদের পর পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট ও শান্ত করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকান সিনেট নেতারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের একটি বিশেষ প্রস্তাব আটকে দিতে গভীর রাতে আকস্মিক এক ভোটাভুটির আয়োজন করেন। মে মাসে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ওই যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৭ ভোটের ব্যবধানে সিনেটে আটকে দিতে সক্ষম হন রিপাবলিকানরা।

এই ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই ভোট ইরানকে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিল। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, এই ভোটের ফলাফল আগের কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্তের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলবে না। মূলত আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এক বিশাল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।

এই উত্তপ্ত ও ঝোড়ো বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের খরচ বাবদ জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল এক তহবিল দাবি করে বসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেটকে আরও আকাশচুম্বী করে তুলবে। উল্লেখ্য, বুধবার রাতের ওই ভোটাভুটিতে তীব্র সমালোচনা করা ক্যাসিডি শেষ পর্যন্ত দলীয় লাইন মেনে প্রস্তাবের বিপক্ষেই ভোট দেন। অন্যদিকে, কেনটাকির বিখ্যাত রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল এই ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন।

রিপাবলিকান দলের মেইন প্রদেশের সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার লিসা মুরকোভস্কি নামের দুই সিনেটর দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। এর বিপরীতে পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট সিনেটর, যিনি নিজের দলের বাইরে গিয়ে ট্রাম্পের অনূকূলে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। এছাড়া মিচ ম্যাককনেল এবং মাইকেল বেনেট এই ভোটাভুটিতে অংশ নেননি। অবশ্য পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক নতুন পোস্টে সিনেটর ক্যাসিডি জানান, বিকেলে ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ও সুক্ষ্ম ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এত দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রদানকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

/আশিক


২৫ লাখ কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে গ্রহাণু, বাইনোকুলারে দেখার সুযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ২১:৪০:২০
২৫ লাখ কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে গ্রহাণু, বাইনোকুলারে দেখার সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

আগামী শনিবার মহাশূন্যে পৃথিবীর বেশ কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে যাচ্ছে বিশাল আকৃতির একটি গ্রহাণু। তবে এই মহাজাগতিক ঘটনার কারণে পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের বিপদ বা ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে বিজ্ঞানীদের দল। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) জানিয়েছে, স্থানীয় আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সাধারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা একটি ভালো মানের দূরবীক্ষণ যন্ত্র (টেলিস্কোপ) কিংবা শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যেই আকাশে এই গ্রহাণুটির গতিপথ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির হিসাব ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় আগামী শনিবার সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে ‘(১৫২৬৩৭) ১৯৯৭ এনসি১’ নামের এই গ্রহাণুটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে তার কক্ষপথ অতিক্রম করবে। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাশূন্যের এই দূরত্বটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার পারস্পরিক গড় দূরত্বের তুলনায় অন্তত ছয় গুণেরও বেশি। আর এই বিশাল নিরাপদ দূরত্বের কারণেই গ্রহাণুটির সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ধরনের আকস্মিক সংঘর্ষ বা সংঘাতের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হওয়া এই গ্রহাণুটির সম্ভাব্য ব্যাস বা প্রস্থ প্রায় ৭৫০ মিটার থেকে শুরু করে ১ হাজার ৬৫০ মিটারের মধ্যে হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত গ্রহাণুটির গা থেকে সূর্যালোক প্রতিফলনের সামগ্রিক মাত্রা সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই আকারের অনুমান করেছেন। অবশ্য ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ এটিও জানিয়েছে যে, অন্য কিছু গাণিতিক হিসাব ও পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরলে এর প্রকৃত আকার এই অনুমানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ছোটও হতে পারে।

মহাকাশে ভ্রমণের সময় এই গ্রহাণুটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ কিলোমিটারের এক দুর্দান্ত গতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। ইএসএর প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা হুয়ান লুইস কানো এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, মহাকাশে এ ধরনের বিশাল আকারের কোনো বাহ্যিক বস্তু পৃথিবীর এত কাছাকাছি দূরত্বের পরিধিতে আসার ঘটনা সাধারণত কয়েক বছর পরপর একবার ঘটে থাকে। তবে এবার গ্রহাণুটি অতিক্রম করার সময়ে আকাশে উজ্জ্বল চাঁদের উপস্থিতি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের এটি খালি চোখে বা লেন্সের মাধ্যমে দেখতে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পৃথিবীর দিকে অগ্রসর হওয়ার শুরুর দিকে এই গ্রহাণুটি মূলত উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এরপর এটি যখন নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী বিন্দুতে এসে পৌঁছাবে, তখন বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল থেকেই এটি কমবেশি দৃশ্যমান হবে। পরবর্তী সময়ে এটি আমাদের গ্রহ থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যেতে শুরু করলে তা মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে হেলে পড়বে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দৃশ্যপটে থাকবে। তবে গ্রহাণুটি দেখার পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং রাতের আকাশের স্বচ্ছতার ওপর। রাতের আকাশ মেঘমুক্ত, পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত অন্ধকার থাকলে এটি দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নিচ্ছে না ইরান:  ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:৩৫:১৩
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নিচ্ছে না ইরান:  ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কোনো বাণিজ্যিক বা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ইরান কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আদায় করছে না বলে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের দেওয়া এই আশ্বাস যদি কোনোভাবে মিথ্যা বা কাল্পনিক প্রমাণিত হয়, তবে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নিজের পোস্টে সম্পূর্ণ বড় হাতের অক্ষরে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় কোনো জাহাজের কাছ থেকেই ইরান কোনো ধরনের টোল, বিমা খরচ কিংবা অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত চার্জ দাবি করছে না এবং গ্রহণও করছে না। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কোনো ধরনের গোপন বা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি বা তাদের কোনো অর্থ নতুন করে অবমুক্তও করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করা তহবিলের কিছু অংশ মার্কিন কৃষক ও খামারিদের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এই নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের মতো বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের শেষ অংশে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানে বর্তমানে খাদ্যের তীব্র সংকট ও জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আর সেই মানবিক কারণেই দেশটির অবরুদ্ধ অর্থের একটি অংশ দিয়ে এই খাদ্যসামগ্রী কেনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই খাদ্যশস্য একচেটিয়াভাবে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেই কেনা হবে বলে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।

সূত্র: আল-জাজিরা।


খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:২৬:১৭
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইরানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতীয় গণমাধ্যম উইয়ন নিউজ (WION News) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তেহরানের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেবেন কি না, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে গিয়েছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি। সেখানে তিনি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

নয়াদিল্লি সর্বদা ইরানকে তাদের বর্ধিত প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক ৪০ দিনব্যাপী চলাকালীন সংঘাতের সময়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যেই ব্রিকস (BRICS) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লি সফর করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই সফরকালে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

/আশিক


ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করল সিনেট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ০৯:১৮:১৩
ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করল সিনেট
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি সীমিত করতে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিলটি অনুমোদন পায়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই একই প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হয়েছিল। ফলে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সমর্থন লাভ করল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু একটি আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টা নয়; বরং এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে নিজ দলের ভেতরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনেরও প্রতিফলন।

সিনেটে রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও দলের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যে রয়েছেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র‍্যান্ড পল। অন্যদিকে, অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।

তবে কেনটাকির সাবেক সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে অংশ নেননি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মূলত কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টরা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।

ইরান ইস্যুতে সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যাপ্ত কংগ্রেসীয় অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যা সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

তবে বিলটি পাস হলেও সেটি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলে ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন।

যদি ট্রাম্প ভেটো দেন, তাহলে বিলটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনমতও দ্রুত বদলাচ্ছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: আলজাজিরা


ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:৪২:৫৮
ইরানের বুকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে মার্কিন পাইলটের রহস্যময় দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের আকাশসীমায় গত এপ্রিল মাসে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক পাইলট উদ্ধার হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি আকাশে একসঙ্গে সুবিন্যস্ত অবস্থায় একাধিক ইরানি ড্রোন উড়তে দেখেছিলেন, যার সামগ্রিক অবয়ব বা বিন্যাস দেখতে অনেকটা সমুদ্রের ‘জেলিফিশ’-এর মতো ছিল।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পাইলট মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে এই জেলিফিশ-সদৃশ ড্রোন নেটওয়ার্কের বিবরণ দেওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

পাইলটের বিবরণ অনুযায়ী, আকাশে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট জ্যামিতিক বিন্যাসে ড্রোনগুলো অবস্থান করছিল। সেখানে বড় আকৃতির ড্রোনগুলোর ঠিক নিচে ছোট ড্রোনগুলো এমন নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ ছিল, যেন দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি জেলিফিশের পা বা শুঁড়গুলো ঝুলছে। শুধু তাই নয়, পুরো গঠনটি একটি একক সত্তার মতো অত্যন্ত সমন্বিতভাবে একসঙ্গে দিক পরিবর্তন ও চলাচল করছিল। ঘটনার বিষয়ে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সিএনএনকে জানায়, ড্রোনগুলো পরস্পরের সঙ্গে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল এবং বড় ড্রোনের নিচে ছোটগুলো যেভাবে ঝুলছিল, তা দেখতে অবিশ্বাস্য লাগছিল। এছাড়া পাইলট আকাশে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ বা ফাঁদ দেখার কথাও উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের এই অত্যাধুনিক ড্রোন নেটওয়ার্ক কোনোভাবে তাদের স্থলভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই সমন্বিত প্রযুক্তির সাহায্যেই মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করা হয়। উল্লেখ্য, ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন আরোহী ছিলেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মূল পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, অপর ক্রু সদস্য প্রায় একদিনের বেশি সময় ধরে ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর উদ্ধার হন। তবে ওই দ্বিতীয় ক্রু সদস্যও আকাশে একই দৃশ্য দেখেছিলেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া ওই একই উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ইরানের গোলার আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল, তবে তার পাইলট নিরাপদে ইরানের আকাশসীমার বাইরে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাইলট আকাশে যে প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন, সামরিক পরিভাষায় তাকে 'ওয়ান-টু-ম্যানি মেশড নেটওয়ার্কিং' (One-to-Many Meshed Networking) বলা হয়। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মাত্র অপারেটর বা একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড স্টেশন থেকে একই সময়ে শত শত ড্রোনের ঝাঁক নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ড্রোনগুলো জিপিএস বা স্যাটেলাইট ছাড়াই নিজেদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে নিখুঁতভাবে হামলা বা প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী কোনো মূল্যায়নেই ইরানের কাছে এমন স্বয়ংক্রিয় ‘সোয়ার্ম ড্রোন’ বা মেশড নেটওয়ার্কিং সক্ষমতা থাকার কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের দাবি, ড্রোন প্রযুক্তির এই অভাবনীয় উন্নয়নে ইরান মূলত চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে বড় ধরনের কারিগরি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলটের এই দাবি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এক নজিরবিহীন ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

অবশ্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এই ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর তত্ত্বটি এখনই শতভাগ মেনে নিতে রাজি নন। তারা বিষয়টিকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার সময় পাইলট মাথায় বেশ গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালীন এর আগেও তিনি একবার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলা) এর শিকার হয়ে বিমান থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। ফলে তিনি বাস্তবে আসলেই ইরানের কোনো গোপন ও পরীক্ষামূলক ড্রোন প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন, নাকি তীব্র মানসিক চাপ ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে এটি তার কোনো চাক্ষুষ বিভ্রম (Hallucination) ছিল—তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় তীব্র মতভেদ ও বিতর্ক রয়েই গেছে।

/আশিক


ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:১৪:২৬
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরানি প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট: মধ্যপ্রাচ্য শান্তিতে নতুন সংকট
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া বহুল আলোচিত শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া ও হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাস্থল সাময়িকভাবে ত্যাগ করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যখন দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি তার মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে লজিস্টিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে ওয়াশিংটন। এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর কিছুক্ষণ পরেই আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াকআউট করেন ইরানি প্রতিনিধিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এই নাটকীয় খবরটি নিশ্চিত করেছে।

আইআরএনএ-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক শেষ করার পরপরই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার মূল ভেন্যু ছেড়ে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে আরেকটি পোস্ট করেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মহলের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখনই এই শান্তি আলোচনা পুরোপুরি বয়কট বা বন্ধ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা জারি রেখেছে; তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ ত্যাগের কোনো চূড়ান্ত ইঙ্গিত দেয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের নিজেদের বক্তব্যের বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং প্রয়োজন হলে সামরিক উপায়ে ভিন্নভাবে জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তারা বাইরে যা-ই বলুক না কেন, মাঠের কাজ ইরান নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে শুরু হওয়া এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল হলে, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে কয়েক যুগের অমীমাংসিত পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বড় বড় ইস্যুগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত ও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এই অগ্রগতির পথে এখনো লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরই মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ দমনে ইসরায়েলি সেনারা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন অবস্থান করবে এবং তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। অপরদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার দীর্ঘ আলোচনার শুরুর ৮০ মিনিটে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি টেবিল জুড়েই আসেনি। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং লেবাননের জ্বলন্ত পরিস্থিতিই ছিল দুই পক্ষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

এই সংলাপকে অত্যন্ত ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কিছু কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে কি দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার অবসান ঘটে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক কি চিরতরে বদলে দেওয়া সম্ভব, নাকি পরিস্থিতি আবার পুরোনো সংঘাতের পথেই ফিরে যাবে? বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধ যখন পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, ঠিক তখনই এই মার্কিন-ইরান সংলাপ চলছে। তবে তেহরান ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবানন সীমান্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব।

সূত্র: দ্য স্ট্রেট টাইমস, দ্য হিন্দু


চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১১:০২:০৩
চুক্তি ভাঙলে ব্যবস্থা, ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং চুক্তি বাস্তবায়ন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক শর্ত নিয়ে নতুন করে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দ্বিধা করবে না।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইরানের আচরণই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা করা তেহরানের দায়িত্ব। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরানের জন্য যেসব অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো মূলত খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির মতো মানবিক খাতে ব্যয় করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে ফিরে আসবে, কারণ ইরান এখনও নিজস্ব খাদ্য চাহিদা পূরণে পুরোপুরি সক্ষম নয়।

ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইরানের খাদ্য নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই অবমুক্ত অর্থ খাদ্য আমদানিতে ব্যবহৃত হলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, ইরান নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে এবং অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো একক শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।

এদিকে সংঘাত-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও শক্ত অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশে ফিরে ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এটি আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।

গালিবাফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই কৌশলগত জলপথের তত্ত্বাবধান অব্যাহত রাখবে। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: