রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আগে, ইউক্রেনকে অপেক্ষায় রাখলো ওয়াশিংটন

রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধে লড়াইরত ইউক্রেনের জন্য বড় একটি ধাক্কা এসে গেলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাইডেন প্রশাসনের প্রতিশ্রুত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহ হঠাৎ করেই স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস, যা ইউক্রেনের জন্য এক গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক সংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এক ইমেইল বার্তায় বলেন, “এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (ডিওডি) একটি পর্যালোচনার ভিত্তিতে বৈশ্বিক সামরিক সহায়তা পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র এখন তার সামরিক সহায়তার পুনর্বিন্যাস করছে—যেখানে ইউক্রেনের প্রতি পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতিও আপাতত আটকে যাচ্ছে।
এই অস্ত্র সহায়তা স্থগিতের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ইউক্রেন রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতির মুখে দাঁড়িয়ে নতুন করে পশ্চিমা সহায়তার আশায় ছিল। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা ও অস্ত্রের ঘাটতি এবং জনমত বিভাজনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনার এই প্রক্রিয়া ইউক্রেনকে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে নয়, ভবিষ্যতেও চাপে ফেলতে পারে। আগামী মার্কিন নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ বাজেট সংকটের ছায়ায় বাইডেন প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ একদিকে যেমন সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও এক কঠিন বার্তা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বিশ্বের অন্যান্য ভূরাজনৈতিক সংকটেও নিজের ভূমিকা কমিয়ে আনার দিকে এগোচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো এই অস্ত্র সহায়তা স্থগিতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
এই ঘটনার পর পশ্চিমা সহযোগিতা নিয়ে ইউক্রেনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রাশিয়া কি এই কৌশলগত শূন্যতাকে কাজে লাগাবে, নাকি ইউক্রেন নতুন সমর্থনের জন্য অন্যান্য উৎসের দিকে ঝুঁকবে—সেটি সময়ই বলবে।
-হাসানুজ্জামান, নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গমনকারী এবং বর্তমানে সেখানে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নজরদারি ও সতর্কবার্তা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আমেরিকার যেকোনো আইন ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হতে পারে। নির্দেশিকায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো অপরাধের কারণে গ্রেফতার হওয়া বা আইন লঙ্ঘন করা শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এতে কেবল বর্তমান ভিসাই বাতিল হবে না, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে যাতে তিনি আর কোনো মার্কিন ভিসা না পান, সেই বার্তাও দিয়েছে প্রশাসন।
মার্কিন দূতাবাসের এই নির্দেশিকাটি এমন এক সময়ে এল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করেছেন। নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন ভিসা পাওয়া কোনো নাগরিক অধিকার নয়, এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত একটি বিশেষ সুবিধা মাত্র। নিয়ম মেনে না চললে বা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে সেই সুবিধা যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক লাখ ভারতীয় শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রতিটি নিয়ম আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তবে এবারের নির্দেশিকাটি সরাসরি আইনি পরিণতির কথা উল্লেখ করে বড় ধরণের রেড সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা স্থানীয় সকল নিয়ম মেনে চলেন এবং কোনো ধরণের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়েন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ছোটখাটো ট্রাফিক আইন বা সাধারণ শৃঙ্খলা ভঙ্গও এখন স্টুডেন্ট ভিসার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমানকে ঘিরে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই বৈঠকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে তার এই বহুমুখী যুদ্ধবিমানটি বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে, তাতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান বাংলাদেশকে কেবল যুদ্ধবিমান নয়, বরং ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমানের দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণের বিষয়েও দুই দেশের প্রধানদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যদিও জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি, তবে বাংলাদেশ এই যুদ্ধবিমানের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর জোর দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।
জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানটি মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ‘মাল্টি-রোল’ বা বহুমুখী যুদ্ধবিমান, যা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে আক্রমণ চালাতে সক্ষম। পাকিস্তান বিমানবাহিনী গত বছরের মে মাসে ভারতের সাথে আকাশ যুদ্ধের সাফল্যে এই বিমানটির কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী তাদের ফ্লিট আধুনিকায়নের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, সেখানে জেএফ-১৭ একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক নীতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'তেমন একটা খুশি নন'। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতিকে সহায়তা করার অভিযোগে ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্কের ফলেই ভারত সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি চমকপ্রদ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে মোদি সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। মোদি তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে আক্ষেপ জানিয়েছিলেন যে, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েও পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে। ট্রাম্প মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতার কথা স্বীকার করলেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও বাণিজ্য নীতির প্রশ্নে তিনি কোনো ছাড় দেবেন না। শুল্কের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, এই ট্যাক্সের কারণে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি লাভবান হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প কেবল শুল্ক নিয়ে কথা বলেই থামেননি; তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের উৎপাদন গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এফ-৩৫ ফাইটার জেট কিংবা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, যা কাম্য নয়। ওয়াশিংটন সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভারত যদি রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর না করে, তবে আগামীতে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। মোদি-ট্রাম্পের এই 'বন্ধুত্ব বনাম বাণিজ্য' যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি
আকাশের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সাথে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ‘সম্ভাব্য ক্রয়’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সফরকালে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে পাক বিমান প্রধান সিধু বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে মৌলিক ও উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাংলাদেশের অর্ডার দেওয়া সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানগুলো দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকনিক্যাল সাপোর্টের আশ্বাসও দেন তিনি।
বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গৌরবময় পরিচালনাগত অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম একীভূতকরণে পাকিস্তানের কারিগরি সহায়তা চান। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান পুরোনো যুদ্ধবিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা করছে আইএসপিআর। প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি ও কারিগরি স্থাপনাও পরিদর্শন করেছে।
সূত্র: ডন
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্পের নতুন টার্গেটে ৫ দেশ
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ১৮২৩ সালের ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে তিনি নিজের নতুন দর্শন ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine) ঘোষণা করেছেন। এই নীতির লক্ষ্য হলো পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নিশ্চিত করা। এই নীতির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পর এখন বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড ও কলম্বিয়া তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে বলেছেন, মাদক পাচারে সহায়তার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরান, মেক্সিকো ও কিউবা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে ইরান। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হামলা চালানো হলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী মেক্সিকো সীমান্তে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। সবশেষে কিউবার ওপরও নজর রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা হালকাভাবে না নেয়। ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের বাড়িতে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ব্যক্তিগত বাসভবনে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতের পর ওহাইও অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে এই হামলা চালানো হয় বলে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভ্যান্সের বাসভবনের জানলাসহ সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, হামলার সময় জেডি ভ্যান্স বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য ওই বাড়িতে ছিলেন না। একটি হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার কিছু সময় আগেই ভ্যান্স পরিবার ওহাইও শহর ত্যাগ করেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের জানলাগুলো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগেলমি জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, সিনসিনাটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিস সমন্বিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা না হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ আনার বিষয়ে কাজ চলছে। এক ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই ব্যক্তি সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের ওপর এমন হামলা মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ওহাইওসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার পর এবার কি ইরান? ট্রাম্পের ‘শক্ত আঘাত’ হানার হুঁশিয়ারি
ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন যদি আর কোনো প্রতিবাদকারী নিহত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর ‘খুব শক্ত আঘাত’ হানবে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এই অস্থিরতার তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল রবিবার রাতে তাঁর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্সে ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমরা ইরানের পরিস্থিতির ওপর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে নজর রাখছি। তারা যদি আগের মতো নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা খুব শক্ত আঘাত পাবে।” এর আগে শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন যে, তাঁর দেশ ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় যেকোনো সময় হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সকালে এক বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থি কর্মকর্তা ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য মূলত সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জায়নবাদী সত্তা (ইসরায়েল) আমাদের জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিদেশি শত্রুরা অর্থনৈতিক অসন্তোষকে পুঁজি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ইরানে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদাররা ধর্মঘট শুরু করেন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই আন্দোলন রাজনৈতিক রূপ নিয়ে তেহরানসহ পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, বিক্ষোভে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর ইরানের ওপর ট্রাম্পের এই নতুন চাপ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক সংকট ঘিরে আবারও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি ‘সমাধানে’ যুক্তরাষ্ট্র যে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে, তাতে সহযোগিতা না করলে ভেনেজুয়েলার ওপর দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না। এই বক্তব্য নতুন করে লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং সামরিক বিকল্পও আলোচনার বাইরে নয়।
ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, যদি ভেনেজুয়েলা সরকার সহযোগিতা না করে, তাহলে দ্বিতীয় দফা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, একই বক্তব্যে ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া ও মেক্সিকো–র বিরুদ্ধেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। যদিও এসব হুমকির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি, তবুও মন্তব্যগুলো লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে ট্রাম্প কিউবা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, কিউবা–র কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ চাপে ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।
তবে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে অবস্থিত কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দূতাবাস থেকে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
-রফিক
এয়ার ফোর্সে ওয়ান থেকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: বিপাকে পড়তে পারে ভারতীয় পণ্য
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে ভারতের ওপর আবারও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে তাঁর বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্সে ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নয়া দিল্লি যদি রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর খুব দ্রুতই আরও বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘খুব ভালো মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন চমৎকার মানুষ, তিনি জানতেন যে রুশ তেল আমদানির বিষয়ে আমি মোটেও খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” ট্রাম্পের দাবি, তাঁর চাপের মুখেই ভারত ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত এই আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করুক।
মার্কিন এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর বিশ্ব তেলের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকা ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতকে রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে অন্য বাজার খুঁজে নিতে বাধ্য করছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরও রুশ তেল কেনার দায়ে ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত যদি রাশিয়ার অর্থনীতি সচল রাখতে সাহায্য করা বন্ধ না করে, তবে মার্কিন বাজারে ভারতীয় চাল, টেক্সটাইল ও কেমিক্যাল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক দ্রুত কার্যকর হবে। এই ঘোষণার ফলে ২০২৬ সালের শুরুতে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
পাঠকের মতামত:
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- রেকর্ড ডেটের আগে ও দিনে বন্ধ যে বন্ড
- রেকর্ড ডেট শেষে ফের লেনদেনে ফিরছে দুই সরকারি বন্ড
- সমতা লেদারের বার্ষিক নিরীক্ষায় উদ্বেগের বিষয়গুলো
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ব্যবসায়ীদের টাকা নয়, সততার রাজনীতিতে জনগণের সহায়তা চান হান্নান মাসউদ
- কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ ইসুবগুল, পেট পরিষ্কার রাখার জাদুকরী উপায় জানুন
- রোজ সকালে যে পানি খেলে ওজন কমবে ঝড়ের গতিতে
- হাড়কাঁপানো শীতে গরম পিঠার স্বাদ: ঘরেই তৈরি করুন মজাদার দুধপুলি
- স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, সফল হতে এই ৫টি অভ্যাস আজই শুরু করুন
- এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি
- ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
- ভোররাতে বিকট শব্দে কাঁপল শরীয়তপুর: আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল যুবকের
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার
- কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর
- চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
- ব্যালটে সিল মারা পুলিশের কাজ নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়
- শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?
- সদরপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার
- ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে
- তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে
- সুস্থ থাকতে চায়ের সঙ্গে এই ৫ খাবারের বিচ্ছেদ জরুরি: আজই সতর্ক হোন
- বিচার না করে নির্বাচনে গেলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: রিফাত
- স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
- ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড়: আসিফ নজরুল
- ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
- উত্তরবঙ্গে তারেক রহমানের ৪ দিনের ‘মেগা সফর’: রুট ম্যাপ দেখে নিন
- গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে: খসরু
- জকসু নির্বাচনে বোটানিতে ফল প্রকাশ, ভোটে চমক
- বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা
- ৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি
- জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির দোয়া ও রাজনৈতিক বার্তা
- অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট
- সূচক বাড়ছে, ভলিউম ৯ কোটির বেশি, কী বোঝায়
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের ৫ সেরা জায়গা: ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা








