ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, যেন আঁকাবাঁকা কাব্য! ভারতের ব্রিজ দেখে চমকে উঠলেন সবাই

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৯ ১৮:২৪:৩২
ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, যেন আঁকাবাঁকা কাব্য! ভারতের ব্রিজ দেখে চমকে উঠলেন সবাই

সরকারি প্রকল্পে অব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়—কিন্তু সেই গাফিলতির জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। ঠিক এমনই ব্যতিক্রম ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যের রাজধানী ভোপালে নির্মাণাধীন একটি রেলওভার ব্রিজে (আরওবি) অস্বাভাবিক ৯০ ডিগ্রির বাঁক ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওই ওভারব্রিজটি নির্মাণ করা হয় ভোপালের ঐশবাগ এলাকায়। কিন্তু নকশাগত একটি তীব্র বাঁক—যেটা গাড়ি চলাচলের জন্য বিপজ্জনক ও অনুপযুক্ত—দেখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়। শুরু হয় প্রশ্ন—এমন ডিজাইন অনুমোদন পায় কীভাবে? চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে রাজ্য প্রশাসনের ওপর।

প্রেক্ষিতে শনিবার (২৯ জুন) মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানান, ব্রিজ নির্মাণে অবহেলা ও নকশাগত ত্রুটি তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তদন্তে প্রকল্পে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হন আটজন প্রকৌশলী। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়—এদের মধ্যে দুজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। আর এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই নির্মাণ কাজে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইন পরামর্শদাতা সংস্থাকেও কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। এভাবে একযোগে প্রশাসনিক ও পেশাগত ব্যবস্থা গ্রহণ ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প জবাবদিহিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ব্রিজটির বিপজ্জনক বাঁক সংশোধন ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এর উদ্বোধন করা হবে না। তিনি এ ত্রুটির কারিগরি বিশ্লেষণ ও সমাধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছেন।

রাজনীতিক, প্রকৌশল মহল ও নাগরিক সমাজের অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্রিজ নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নে ভারতের আঞ্চলিক প্রশাসনের সামনে এক নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত আশা জাগায়—জনগণের দাবি ও সোচ্চার কণ্ঠে যদি সাড়া দেয় প্রশাসন, তবে গাফিলতিও শোধরানো সম্ভব।


বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২২ ২০:১৫:২৫
বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় আবেদন করা শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে অমিত শাহ স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব লাভ করবেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্থানীয় রাজ্য প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিএএ-এর অধীনে জমা পড়া যোগ্য আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা সংগ্রাহকদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে আবেদনকারী সকল শরণার্থীকে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রদানের নিশ্চয়তা দেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা সংগ্রাহকদের সিএএ সংক্রান্ত বিচারাধীন আবেদনগুলো সরাসরি যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কর্তৃত্ব প্রদান করে। পূর্বে এই আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের শুমারি বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের অবস্থানের সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, অতীতে যখন এই আইন আনা হয়েছিল, তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বাস্তবায়ন হতে না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিরোধিতার কারণে তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার দায়িত্বে রয়েছে। এর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্য থেকে সব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২১:৩৯:৪৫
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সফর ছাড়াও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে বর্তমানে নতুন কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই এবং কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া চিঠি এবং অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদার আবেদন ভারত খতিয়ে দেখছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ডিজেল সরবরাহের বিদ্যমান চুক্তিটি অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে অতিরিক্ত সরবরাহের বিষয়টি ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা, তেল শোধন সক্ষমতা এবং সার্বিক প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সফরের জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি, যা ভারতকে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফরের অনুকূল পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে বলে ঢাকা মনে করে। ফলে সফরের পরবর্তী পদক্ষেপে পারস্পরিক আস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার চর্চা না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মেনে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখবে সরকার। প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/আশিক


বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৯:৫২:৫৫
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়া দিল্লির ইতিবাচক পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠায় দিল্লি। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় আগামী সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্য তাকে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যকার বৈঠককে গঠনমূলক ও ইতিবাচক অভিহিত করে জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিকসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণের অংশ হিসেবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানান। গত ১৪ জুলাই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তরিত হয়।

/আশিক


হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:২৫:০৯
হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপ, প্রাণরক্ষার দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার হালিশহর এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ইট ও পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া দলীয় এক কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে যাচ্ছিলেন তিনি।

হালিশহরে পৌঁছানোর পর বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় গাড়িতে কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতা ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মমতা বলেন, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ইট ও পাথরের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে মারাত্মক অঘটন ঘটতে পারত। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বাইরে থেকে আসা কিছু সমাজবিরোধী উপাদান তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে এবং পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাড়িতে থাকা তৃণমূলের লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের সহায়তায় বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।

তবে এই হামলার ঘটনায় দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তাঁদের দল এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নয়। একই সঙ্গে ঘটনাটির তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি


ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২০:২৭:১৪
ভারত সরকারের আলটিমেটামের মুখে নতিস্বীকার, ভুল স্বীকার করল মেটা
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট প্রচার ও অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির দায়ে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বুধবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করে।

সংবাদটির তথ্যমতে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে মুছে দেয় মেটা। এই ঘটনার পরপরই মেটা কর্তৃপক্ষকে জরুরি তলব করে ভারত সরকার। সরকারের এই তলবের পেক্ষিতে মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধি দল ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে জাকারবার্গের ক্ষমা প্রার্থনার বার্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত বৈঠকে মেটা প্রতিনিধি দলকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কিছু কঠোর দিক মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানায় যে, মেটা কেবল একটি 'মধ্যস্থতাকারী' (Intermediary) প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না, কারণ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কোন কনটেন্ট কে দেখবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেই কারণে তারা আইটি আইনের 'সেইফ হারবার' বা আইনি সুরক্ষার সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।

আলোচনাকালে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, বেশ কিছু বিতর্কিত ও নির্দিষ্ট কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে প্রমোশন বা বুস্টিংয়ের কাজে বিপুল অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেআইনি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট প্রচারে নিজেদের গাফিলতি ও ভুল প্রকাশ্যে মেনে নিয়েছে মেটা।

তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে পুনরায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রের খবর। এর পূর্বে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও মুছে ফেলার ইস্যুতে জাকারবার্গকে তিন দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ভারত সরকার; এবং ওই সময়ের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া অথবা দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

/আশিক


শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৮:২১:০০
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল
ছবি : সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বেসরকারি সংগঠন ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া)-এর একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রদান প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিল্লিতে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, উক্ত ফোরামে ব্যক্ত করা কোনো মতামত বা রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।

অন্যদিকে, একই দিনে সকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মেনে কোনো দেশীয় গণমাধ্যম যেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো গণমাধ্যম যদি শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগাম প্রচার বা পরবর্তীতে অডিও-ভিডিও সম্প্রচার করে, তবে তা আদালতের অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, বিচারালয়ের রায় বা নির্দেশনা কার্যকর রাখা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কোনো পক্ষ যদি আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে; তবে স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় তা অমান্য করার সুযোগ নেই।

/আশিক


প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ২০:৩৫:১১
প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে সহিংসতার পেছনে জামায়াত ও বিদেশি শক্তির হাত: শুভেন্দু অধিকারী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বড় অংশই কোনো শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী চক্রের সদস্য। এসব নাশকতাকারীর পেছনে কোনো প্রভাবশালী বিদেশি শক্তির সমর্থন বা অর্থায়ন ছিল কি না, তা দেশটির তদন্তকারী সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কোনোভাবেই শিক্ষার্থী নন, তারা মূলত জামায়াতি মৌলবাদী। তাদের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।”

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিতর্কিত 'নিট' (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের পর সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সদ্য প্রণীত কঠোর ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা রাজপথে এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও আজীবন মনে রাখবে।”

এর আগে বিধানসভার অধিবেশনেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, সহিংস বিক্ষোভস্থল থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জন ব্যক্তির কেউই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী মূল আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্র নেই।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন জোরদার করা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা উসকে দিয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করা হয়েছিল এবং এমনকি তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ছাত্র অসন্তোষের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এই প্রস্তাবিত আইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতির দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রতিটি রাজ্যে ডেডিকেটেড ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ আদালত গঠন, নির্ধারিত দুই মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা এবং দোষীদের ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

সরকার পক্ষ জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই এই আইনি সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলন পরিচালনাকারী দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার তাদের টানা ৩৬ দিনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রদান এবং তাদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার কারণেই তারা আন্দোলন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া


শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:৫১:৫৭
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর এবার দিল্লিতে সরকার পতনের ডাক
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে চলমান পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশটির নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার সময় এসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বিক্ষোভের তোপের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে ১০ জনপথের নিজস্ব বাসভবনে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সংবিধান, গণতন্ত্র ও নিজেদের ক্যারিয়ার সুরক্ষায় রাজপথে নামা সব তরুণ শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানান। রাহুলের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক বিশাল সাফল্য।

শিক্ষামন্ত্রী সরে দাঁড়ালেও মূল আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি দাবি করে রাহুল গান্ধী জানান, তাদের প্রধান দুটি দাবি এখনো অপূরণীয়। প্রথমত, দেশটির সার্বিক ভবিষ্যৎ ও ছাত্রসমাজের সম্মানার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের সহিংসতা চালানো হয়েছে, তাতে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমাজের অবহেলিত কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্তদের উদ্দেশে তিনি সংবিধানে দেওয়া অধিকারে অটল থাকার আহ্বান জানান এবং বর্তমান সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে উল্লেখ করে কাউকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন।

অন্য দিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং যন্তর মন্তরের বিদ্যমান উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যাতে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিনই পদত্যাগের এই ঘোষণা এল।

শিক্ষামন্ত্রীর বিদায়ের পর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা থেকেই এই গণআন্দোলনের সূচনা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছিলেন যে তার বক্তব্যটি ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল এবং গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৫ ১৯:৫১:৩৮
জয়ী ছাত্র আন্দোলন: যন্তর মন্তর ছেড়ে ঘরে ফেরার ডাক দিল সিজেপি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উত্থাপিত সমস্ত দাবি পরিশেষে মেনে নিয়েছে দেশটির সরকার। দাবি আদায়ের পর চলমান আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার তথ্যটি নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাংকা ঘোষণা করেন, তাদের সংগঠনের প্রতিটি দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ফলে বিদ্যমান বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

আশুতোষ রাংকা আরও জানান, আন্দোলন স্থগিত হলেও তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আন্দোলনের এই সফলতায় যৌথ সংহতি জানিয়ে আন্দোলনকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্যতম শীর্ষ মুখ সোনম ওয়াংচুক। শুরু থেকেই যারা এই দাবি তুলে মাঠের লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

অন্য এক বক্তব্যে আশুতোষ রাংকা জোর দিয়ে বলেন, সিজেপির উত্থাপিত শর্তগুলো কখনোই চরমপন্থী বা অযৌক্তিক ছিল না; বরং তা ছিল সাধারণ ও মৌলিক অধিকারের দাবি। সরকারের সব দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তেই সেটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: