ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, যেন আঁকাবাঁকা কাব্য! ভারতের ব্রিজ দেখে চমকে উঠলেন সবাই

সরকারি প্রকল্পে অব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়—কিন্তু সেই গাফিলতির জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। ঠিক এমনই ব্যতিক্রম ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যের রাজধানী ভোপালে নির্মাণাধীন একটি রেলওভার ব্রিজে (আরওবি) অস্বাভাবিক ৯০ ডিগ্রির বাঁক ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওই ওভারব্রিজটি নির্মাণ করা হয় ভোপালের ঐশবাগ এলাকায়। কিন্তু নকশাগত একটি তীব্র বাঁক—যেটা গাড়ি চলাচলের জন্য বিপজ্জনক ও অনুপযুক্ত—দেখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়। শুরু হয় প্রশ্ন—এমন ডিজাইন অনুমোদন পায় কীভাবে? চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে রাজ্য প্রশাসনের ওপর।
প্রেক্ষিতে শনিবার (২৯ জুন) মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানান, ব্রিজ নির্মাণে অবহেলা ও নকশাগত ত্রুটি তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তদন্তে প্রকল্পে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হন আটজন প্রকৌশলী। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়—এদের মধ্যে দুজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। আর এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই নির্মাণ কাজে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইন পরামর্শদাতা সংস্থাকেও কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। এভাবে একযোগে প্রশাসনিক ও পেশাগত ব্যবস্থা গ্রহণ ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প জবাবদিহিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ব্রিজটির বিপজ্জনক বাঁক সংশোধন ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এর উদ্বোধন করা হবে না। তিনি এ ত্রুটির কারিগরি বিশ্লেষণ ও সমাধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছেন।
রাজনীতিক, প্রকৌশল মহল ও নাগরিক সমাজের অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্রিজ নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নে ভারতের আঞ্চলিক প্রশাসনের সামনে এক নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত আশা জাগায়—জনগণের দাবি ও সোচ্চার কণ্ঠে যদি সাড়া দেয় প্রশাসন, তবে গাফিলতিও শোধরানো সম্ভব।
তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
ডিজিটাল ও মিম কালচারের মাধ্যমে ভারতের মোদী সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া এবং মাত্র এক সপ্তাহে অবিশ্বাস্যভাবে ২ কোটি ২০ লাখ (২২ মিলিয়ন) ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের মেগা রেকর্ড গড়া ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র (CJP) অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি সম্পূর্ণ বন্ধ বা সেন্সর করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মূল প্রতিষ্ঠাতা ও পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সরাসরি দাবি করেছেন যে, ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের স্বৈরাচারী ও আগ্রাসী ডিজিটাল পদক্ষেপের কারণেই তাদের আইকনিক ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে পুরোপুরি ডাউন করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়েবসাইট বন্ধের এই মেগা ধাক্কার আগে, গত বৃহস্পতিবারই ভারত সরকারের বিশেষ অনুরোধে সিজেপি-র অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি দেশটিতে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ব্লক করে দেয় এক্স কর্তৃপক্ষ। এখানেই শেষ নয়, আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা মূল মাস্টারমাইন্ড অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ তুলেছেন যে, ভারত সরকারের আইটি সেলের পক্ষ থেকে বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বারবার হ্যাক করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তরুণদের ভাষা কেড়ে নিতে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নয়াদিল্লির তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বা মোদী সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করার বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষোভ থেকে এই প্যারোডি দলের জন্ম হলেও, বর্তমানে ভারতে চলমান মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (NEET) ব্যাপক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও তরুণদের চলমান গণবিক্ষোভ সিজেপি-র জনপ্রিয়তাকে দাবানলের মতো বাড়িয়ে দিয়েছে।
দীপকে দাবি করেছেন, গত মাত্র ৭ দিনে ভারতের প্রায় ১০ লাখ তরুণ বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে এই আন্দোলনে যুক্ত হতে অফিশিয়াল নিবন্ধন করেছেন এবং মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ভারতের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবিতে সিজেপি-র অনলাইন পিটিশনে মাত্র কয়েক দিনে রেকর্ড ৬ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
মাত্র ৯০ লাখ ফলোয়ার থাকা ভারতের মূল ধারার শাসক দল বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে ২ কোটি ২০ লাখ ফলোয়ার নিয়ে যোজন যোজন পেছনে ফেলে দেওয়া সিজেপি-র এই মেগা ডিজিটাল উত্থান এবং তার বিপরীতে সরকারের এই কঠোর সেন্সরশিপ ভারতের মোদী জমানায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার হননের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং দেশটির কোটি কোটি বেকার ও হতাশ জেন-জি (Gen-Z) তরুণের তীব্র ক্ষোভের ওপর ভর করে ওয়ান-ক্লিক ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অবিশ্বাস্য ও পৈশাচিক চরিত্র নিয়ে আবির্ভাব ঘটেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (CJP)।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন ফলোয়ারের মেগা মাইলফলক স্পর্শ করে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি খোদ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি-র (৮.৭ মিলিয়ন ফলোয়ার) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টকে একচেটিয়াভাবে টেক্কা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ব্যঙ্গবিদ্রূপের উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি ভারতের বর্তমান নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নমতাবলম্বী তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত ‘ডিজিটাল থিয়েটার আন্দোলন’। এই প্যারোডি দলের সদস্যপদের জন্য রসিকতায় মোড়ানো কিছু অদ্ভুত শর্ত দেওয়া হয়েছে; যেমন—আবেদনকারীকে অবশ্যই অলস, বেকার, সারাক্ষণ অনলাইনে সক্রিয় এবং যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে উচ্চস্বরে ঘ্যান ঘ্যান করা বা ‘র্যান্ট’ (Rant) করার ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে।
মূলত বোস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও সাবেক আম আদমি পার্টির (AAP) পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটিজিস্ট অভিজিৎ দীপকে সম্পূর্ণ মজার ছলে গুগল ফর্মের মাধ্যমে এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এটি জেন-জি তরুণদের মাঝে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #ম্যায়ভিককরোচ (#MeTooককরোচ) হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে রূপ নেয়।
এমনকি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতো ভারতের শীর্ষ বিরোধী নেতারাও এই প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিজেপি বনাম সিজেপি’ ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন। তবে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে এক ‘আইনি দাবির’ প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ২ লাখ ফলোয়ার থাকা সিজেপি-র মূল অ্যাকাউন্টটি স্থগিত বা সেন্সর করা হয়েছে।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে গত সপ্তাহে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের এক চরম অবমাননাকর মন্তব্য। দিল্লি হাইকোর্টের বিরুদ্ধে এক আইনজীবীর আদালত অবমাননার মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি তীব্র অসন্তুষ্ট হয়ে মন্তব্য করেন, “সমাজে কিছু যুবক আছেন যারা কর্মসংস্থানের অভাব এবং নিজেদের পেশায় জায়গা করে নিতে না পারার কারণে তেলাপোকার মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং সিস্টেমকে আক্রমণ করছে।”
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি এটি ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন বলে ব্যাখ্যা দিলেও ততক্ষণে ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে থাকা ৩০ বছরের নিচের প্রায় ৫০ শতাংশ অসন্তুষ্ট যুবসমাজের মাঝে এই ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যটি তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় সিজেপি, যারা নিজেদের ‘অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘জিরো স্পন্সরড’ বা স্বাধীন ঝাঁক হিসেবে দাবি করে।
বিবিসি তাদের বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা বাংলাদেশে ২০২৪-২০২৫ সালে তরুণদের হাত ধরে যেভাবে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন হয়েছে, ভারতের তরুণরা ঠিক সেই লাইনে না গিয়ে ২০২৬ সালের ডিজিটাল যুগে মিমস (Memes), পোকা-মাকড়ের ম্যাসকট এবং ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে এক অহিংস অথচ তীক্ষ্ণ ডিজিটাল ফ্রন্ট গড়ে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
পশ্চিমবঙ্গের সব মাদরাসায় এবার বাধ্যতামূলক হলো বন্দে মাতরম গান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর এবার রাজ্যের সমস্ত মাদরাসাগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদরাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে এই গানটি গাইতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে একই ধরনের একটি নির্দেশনা জারি করে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা সর্বশেষ আদেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্বীকৃত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি মাদরাসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রতিদিন সকালের প্রাক-ক্লাস সমাবেশ বা দৈনিক প্রার্থনার সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এই গানটি গাইতে হবে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব স্কুলের জন্য একই নিয়ম জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর একটি অনলাইন পোস্টে পূর্ববর্তী সমস্ত রাজ্য নির্দেশনা বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল স্বাধীনতাকামীদের অন্যতম প্রধান স্লোগান ও অনুপ্রেরণা, যা চলতি বছরের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে দেশটির মূল জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা প্রদান করে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্য স্তরেও বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাত্যহিক কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার এই প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সম্প্রতি ভারতের অন্যান্য রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু ও কেরালাতেও বিভিন্ন সরকারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এই ‘বন্দে মাতরম’ গানটি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হতে দেখা গেছে। চেন্নাইয়ের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মূল জাতীয় সংগীতের আগে পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমকে দলীয় মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল।
অন্য দিকে কেরালা রাজ্যে ভি ডি সাথিসান সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার কারণে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এর তীব্র সমালোচনা করে। তবে এই সমালোচনা ও বিতর্কের জবাবে কেরালা রাজ্য সরকার বা ইউডিএফ জোট নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে জানায়, উক্ত অনুষ্ঠানের সার্বিক সূচি নির্ধারণ করেছিল মূলত স্থানীয় রাজভবন বা রাজ্যপালের কার্যালয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিউনিস্টরা ‘ভারতীয় সংস্কৃতিকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে’ বলে পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ তোলে বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্র: এনডিটিভি
কোরবানির ঈদের মুখে বিজেপির নতুন নির্দেশিকায় বিপাকে হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন রাজ্য সরকারের জারি করা একটি বিতর্কিত নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, সামাজিক অস্থিরতা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের মহাধস নেমেছে। সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে হঠাৎ করেই গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার অফিশিয়াল সার্টিফিকেট ছাড়া উন্মুক্ত হাটে গরু কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলোতে এক ধরনের তীব্র আতঙ্ক ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) ঠিক আগ মুহূর্তে এই কঠোর নিয়ম জারি হওয়ায় হিন্দু খামারি ও মুসলিম ক্রেতা—উভয় পক্ষই চরম বিপাকে পড়েছেন। গত ৯ মে শপথ নেওয়ার মাত্র ৪ দিন পর, অর্থাৎ ১৩ মে বিজেপি সরকার এই নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে।
এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে তীব্র কোণঠাসা ও চিন্তায় পড়ে গেছে বলে স্বীকার করছেন খোদ দলেরই সংখ্যালঘু নেতারা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও সংখ্যালঘু সেলের সহসভাপতি ইউনুস আলী গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মূলত হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে ‘ঘোষ’ ও ‘দাস’ সমাজ গরু লালন-পালন ও দুগ্ধ ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।
গরুর বয়স বেড়ে গেলে বা জরুরি অর্থের প্রয়োজনে হিন্দু খামারিরা তা হাটে বিক্রি করেন এবং সাধারণত মুসলিমরা সেই গরু কেনেন। এই স্বাভাবিক অর্থনৈতিক চক্রটি বুঝতে সরকারের বড় ধরনের ভুল হয়েছে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, খামারিরা যদি লোকসানের মুখে গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে মিষ্টি, দই ও ছানার মতো দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে ধস নামবে, যা শিল্পে অনুন্নত পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেবে।
এদিকে এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক প্রশ্ন ও দ্বিমুখী নীতির (Double-Standard) তথ্য সামনে এনেছেন।
পার্লামেন্টের অফিশিয়াল প্রশ্নোত্তর উদ্ধৃত করে মহুয়া মৈত্র দেখান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারত বিশ্ববাজারে মাংস রপ্তানি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া মহিষের মাংস বিক্রির শীর্ষ ভারতীয় করপোরেট সংস্থা ‘অ্যালানা গ্রুপ’ খোদ বিজেপির কেন্দ্রীয় তহবিলে ৩০ কোটি টাকা অনুদান বা চাঁদা দিয়েছে। মহুয়ার মূল প্রশ্ন—করপোরেট থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান নেওয়া বা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করায় যদি বিজেপির বাধা না থাকে, তবে বাংলার সাধারণ গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা কেন?
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রামীণ খামারিদের যে করুণ চিত্র উঠে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে হিন্দু গোপালক পরিবারের নারীরা ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। খামারিদের বক্তব্য—বছরের এই কোরবানি ঈদের সময়ে একটি গরু ভালো দামে বিক্রি করে তাঁরা এককালীন মোটা টাকা রোজগার করেন, যা দিয়ে সারা বছরের কৃষিঋণ এবং বিভিন্ন মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্রঋণ) সংস্থা থেকে নেওয়া চড়া সুদের ধার মেটানো হয়। বিধিনিষেধ দ্রুত শিথিল করা না হলে খামারিদের অনেকেই প্রকাশ্য আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিজেপি নেতারা।
সংখ্যালঘু নেতা ইউনুস আলী অকপটে স্বীকার করেন, বিজেপি মূলত হিন্দুদের কট্টর ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তাই হিন্দু ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে তারা আবেগের বশে এমন একটা নির্দেশিকা জারি করতে চেয়েছিল; কিন্তু বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের ভোটারদেরই ক্ষতি করে বসেছে। তবে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আস্থা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ঈদুল আজহার আগেই সরকার আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত ও নমনীয় সমাধান সূত্র বের করবে।
/আশিক
ঈদের আগে মুসলিমদের গরু কেনা বন্ধ; পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের মাঝে হাহাকার
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন পশুরক্ষা ও কসাইখানা নীতিমালার জেরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে গরু কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী খামারি ও গরু ব্যবসায়ী।
কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ, সময় ও শ্রমে যেসব গরু তাঁরা লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছিলেন, বাজারে আকস্মিক ক্রেতাশূন্যতার কারণে সেগুলো বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের মধ্যে হাহাকার ও চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকারের এই বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি নিজে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় খুব তাড়াতাড়ি কোনো সুনির্দিষ্ট বিকল্প পরিকল্পনা বা প্যাকেজ গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার।
তবে পুরো বিষয়টির ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খুব দ্রুত বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।” উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ঐতিহ্য ছিল যে, কোরবানির ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক প্রান্তিক মানুষ ও খামারি বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজা করতেন এবং এর আগে কখনো তাঁদের বিপণনে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।
তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিশেষ সরকারি অনুমতি ছাড়া রাজ্যটিতে কেউ কোনো গরু বা মহিষ জবাই করতে পারবেন না।
একই সঙ্গে জবাইযোগ্য গরুর বয়স বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এই কঠোর আইনি জটিলতা এবং আইনি হয়রানির আশঙ্কায় এবার ঈদের হাটে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকছেন, যা সরাসরি আঘাত হেনেছে সনাতন ধর্মের খামারিদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
/আশিক
পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হচ্ছে ইমাম ও পুরোহিত ভাতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক কল্যাণ নীতিতে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। আজ সোমবার (১৮ মে) রাজ্য মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এতদিন চালু থাকা সমস্ত সরকারি সহায়তামূলক ও অনুদান প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। রাজ্যের নবগঠিত সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নবান্নে সাংবাদিকদের সামনে এই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি মে মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সুবিধা যথারীতি পাওয়া যাবে, তবে আগামী জুন মাস থেকে এগুলো আর কার্যকর থাকবে না। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে এতদিন যেসব অনুদান, বিশেষ ভাতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো, সেগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
এর ফলে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হওয়া ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের মাসিক ২ হাজার টাকা করে দেওয়া ‘ভাতা’ প্রকল্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পথে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত নির্দেশিকা (গাইডলাইন) প্রকাশ করবে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও সুশাসনের পাশাপাশি তোষণমুক্ত রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ফলে রাজ্যটিতে সরকার গঠনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এমন নীতিগত ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের এই ভাতা নীতিকে ‘পক্ষপাতমূলক’ এবং ‘রেউরি সংস্কৃতি’ বা স্রেফ ভোটের স্বার্থে সরকারি কোষাগারের অর্থ বিলানো বলে তীব্র সমালোচনা করে আসছিল।
বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে ইমাম-পুরোহিত ভাতার বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে আসছিলেন, যার প্রতিফলন এবার দেখা গেল নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মীয় মেরুকরণ কাটিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বদল
তামিলনাড়ুর সচিবালয়ে বহু দশকের পুরোনো এক ঔপনিবেশিক প্রথার ইতি টেনেছেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতার এই রেওয়াজকে ক্ষমতা ও আমলাতান্ত্রিক দূরত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। শুক্রবার (১৫ মে) এক প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের চেয়ার থেকে এই সাদা তোয়ালে সরিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত পরিবেশ ও সমাজকর্মী লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগামের একটি এক্স (টুইটার) পোস্ট থেকে। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, সরকারি অফিসের চেয়ারে সাদা তোয়ালে পাতা এখনো ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতীক। শুধু মন্ত্রীরা নন, অনেক উচ্চপদস্থ আমলাদের ঘরেও এই প্রথা চলছে। তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কাছে আবেদন জানান, এই রেওয়াজ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
এই পোস্টের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন চোখে পড়ে। ১৫ মে সচিবালয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বিজয়ের চেয়ারটি ছিল একদম সাধারণ—উপরে কোনো তোয়ালে বা বাড়তি কাপড় ছিল না।
১০ মে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনবান্ধব সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় রয়েছেন থালাপতি বিজয়। চেয়ার থেকে তোয়ালে সরানোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে নেটদুনিয়ায় এটাকে ‘প্রতীকী কিন্তু খুবই শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। লিসিপ্রিয়া কাঞ্জুগাম নিজেও বিজয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিশেষ মর্যাদা, আভিজাত্য ও আরামের জন্যই এই প্রথা চালু হয়েছিল। স্বাধীনতার এত বছর পরেও ভারতের প্রশাসনিক সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই মানসিকতা টিকে ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে থালাপতি বিজয়ের এই সিদ্ধান্তকে কেবল আসবাবের ভোলবদল নয়, বরং আমলাতন্ত্রের অহংকার ভাঙার একটি বড় রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ইসরায়েলকে পিতৃভূমি ও আমিরাতকে দ্বিতীয় বাড়ি বললেন মোদি
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অনন্য ও সুদূরপ্রসারী ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের নজির স্থাপন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি একদিকে ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ এবং অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই অবস্থান প্রমাণ করে যে ভারত নিজের জাতীয় ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় আরব ও ইসরায়েল—উভয় শিবিরের সঙ্গেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখছে।
পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম ধাপে শুক্রবার (১৫ মে) আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেখানে মোদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠককালে মোদি গভীর আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার দ্বিতীয় বাড়িতে এসেছি।
এই অনুভূতিটি আমার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক সংকটে আমিরাতের পাশে দাঁড়াতে ভারত বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। এই বৈঠক থেকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) সচল রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফরে গিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেটে’ দেওয়া এক বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, “ইসরায়েল আমাদের পিতৃভূমি, ভারত আমাদের মাতৃভূমি।” গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, সাইবার প্রযুক্তি, কৃষি ও জলব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। মোদি উল্লেখ করেন, ভারত ও ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক বন্ধন দীর্ঘদিনের।
মোদির এই ‘পিতৃভূমি’ সংক্রান্ত মন্তব্যের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলোর একাংশ তীব্র সমালোচনা করে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকে বলা হয়েছে এবং একে নিয়ে রাজনীতি করা অনুচিত।
আবুধাবির বৈঠকে মোদি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সংঘাত এখন আর আঞ্চলিক নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, নরেন্দ্র মোদির এই পাঁচ দেশীয় সফর এবং আরব-ইসরায়েলকে সমানভাবে আপন করে নেওয়ার নীতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকেই ফুটিয়ে তুলছে।
সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়া ডট কম
কোচিং বাণিজ্যের অবসান চান থালাপতি বিজয়: মেডিকেল ভর্তিতে নতুন প্রস্তাব
ভারতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) নিয়ে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় সরাসরি এই কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, একটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ওপর শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর না করে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তিতেই মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধূলিসাৎ করছে। তিনি বলেন, “কোচিং-নির্ভর এই ব্যবস্থা গ্রামীণ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিচ্ছে।” বিজয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ডেন্টিস্ট্রি ও আয়ুষসহ সব ধরনের মেডিকেল কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকের ধারাবাহিক ফলাফলই হওয়া উচিত প্রকৃত যোগ্যতার মানদণ্ড। তিনি মনে করেন, একদিনের তিন ঘণ্টার পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
তামিলনাড়ু সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, এই অভিন্ন পরীক্ষা ব্যবস্থা মূলত শহুরে ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেয়। এর ফলে আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনা করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা থেকে রাজ্যকে ছাড় দেওয়ার জন্য তামিলনাড়ু বিধানসভায় একটি বিল পাস করা হয়েছিল, যা বর্তমানে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে। তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে থালাপতি বিজয়ের এই কঠোর অবস্থান দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ২৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে পশুর হাট
- তথ্যের জগৎ আর প্রথাগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী
- আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান
- আগামীকাল থেকে নামছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন: রেলমন্ত্রী
- মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যায় ডিএনএ রিপোর্টে মিলল ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান
- রাজধানীতে আজ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা
- দেশের চার জেলায় দুপুর ১টার মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিসের মেগা অ্যালার্ট
- তেজাবি সোনার বাজারে ধস: ৩ দিন আগের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করলো বাজুস
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা
- কুমিল্লা সরানো হলো ১৩১ বছরের স্কুল আঙিনার কবরস্থানের সাইনবোর্ড
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জের: ফেঁসে গেলেন ২২ এনসিপি নেতা
- তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- এটাই এনসিপির মূল বসন্ত, মামলা খেয়ে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় অভিনন্দন
- আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর পরিবহন এবার মেগা চ্যালেঞ্জ: সেতুমন্ত্রী
- কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আগামীকাল টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না: মির্জা ফখরুল
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
- শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
- পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
- ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
- সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
- স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
- ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
- সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য কমাতে নতুন পে স্কেলে বড় উদ্যোগ
- দেশের অর্থনীতি সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য আজকের মুদ্রার দর
- নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
- কোরবানির ঈদের আগে জুয়েলারি পাড়ায় বড় ধস: নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- বৃষ্টির পরও কমেনি গরম; আজ সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা
- ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে, দিনের শুরুতেই একনজরে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- দূষণে আবারও বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় ঢাকা
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া








