ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, যেন আঁকাবাঁকা কাব্য! ভারতের ব্রিজ দেখে চমকে উঠলেন সবাই

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৯ ১৮:২৪:৩২
ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, যেন আঁকাবাঁকা কাব্য! ভারতের ব্রিজ দেখে চমকে উঠলেন সবাই

সরকারি প্রকল্পে অব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়—কিন্তু সেই গাফিলতির জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ একটি বিরল ঘটনা। ঠিক এমনই ব্যতিক্রম ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যের রাজধানী ভোপালে নির্মাণাধীন একটি রেলওভার ব্রিজে (আরওবি) অস্বাভাবিক ৯০ ডিগ্রির বাঁক ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওই ওভারব্রিজটি নির্মাণ করা হয় ভোপালের ঐশবাগ এলাকায়। কিন্তু নকশাগত একটি তীব্র বাঁক—যেটা গাড়ি চলাচলের জন্য বিপজ্জনক ও অনুপযুক্ত—দেখে স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়। শুরু হয় প্রশ্ন—এমন ডিজাইন অনুমোদন পায় কীভাবে? চাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে রাজ্য প্রশাসনের ওপর।

প্রেক্ষিতে শনিবার (২৯ জুন) মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানান, ব্রিজ নির্মাণে অবহেলা ও নকশাগত ত্রুটি তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তদন্তে প্রকল্পে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হন আটজন প্রকৌশলী। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়—এদের মধ্যে দুজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারও রয়েছেন। আর এক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই নির্মাণ কাজে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইন পরামর্শদাতা সংস্থাকেও কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হয়েছে। এভাবে একযোগে প্রশাসনিক ও পেশাগত ব্যবস্থা গ্রহণ ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রকল্প জবাবদিহিতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ব্রিজটির বিপজ্জনক বাঁক সংশোধন ও পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এর উদ্বোধন করা হবে না। তিনি এ ত্রুটির কারিগরি বিশ্লেষণ ও সমাধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছেন।

রাজনীতিক, প্রকৌশল মহল ও নাগরিক সমাজের অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্রিজ নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্নে ভারতের আঞ্চলিক প্রশাসনের সামনে এক নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত আশা জাগায়—জনগণের দাবি ও সোচ্চার কণ্ঠে যদি সাড়া দেয় প্রশাসন, তবে গাফিলতিও শোধরানো সম্ভব।


নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৫৮:৩৫
নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের হটাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘নরম নীতি’র যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়নের ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘ কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করবেন না।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগে কাউকে বিদেশি সাব্যস্ত করা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই-বাছাইসহ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হওয়া মাত্রই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আসামের নিজস্ব ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পরিচয় রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, একটি অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আসাম ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত’ হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিচয় রক্ষার এই শাসননীতি আসামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


দিল্লি ও কলকাতায় উত্তাল বাংলাদেশ মিশন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১৮:৫৬:৩৮
দিল্লি ও কলকাতায় উত্তাল বাংলাদেশ মিশন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে উগ্র বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে উত্তেজিত স্লোগান দিতে শুরু করে। তারা পুলিশের তৈরি করা অন্তত দুটি নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনেও অনুরূপ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় যা সামলাতে কলকাতা পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল এই বিক্ষোভের ডাক দেয়। ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামক এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হলেও উত্তেজিত জনতা তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

মিশনগুলোতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে হাজির হন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে দিল্লি ও কলকাতাসহ ভারতের অন্যান্য স্থানে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দিল্লির প্রতি কড়া আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য যে গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এটি ভারতীয় হাইকমিশনারকে দ্বিতীয়বারের মতো তলবের ঘটনা যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এর আগে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতায় বাংলাদেশবিরোধী একটি বড় ধরণের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। গত ১৪ ডিসেম্বরও প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল ঢাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে হামলার এই চেষ্টা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নতুন করে ছায়া ফেলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভিয়েনা কনভেনশন মেনে কূটনীতিক ও মিশনগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের দায়িত্ব।


কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস থাকতে দেব না: শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২১:৩৯:৫৭
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস থাকতে দেব না: শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা ও বিজেপি ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে বিক্ষোভ চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনকে আর অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরাসরি মিশনটি তালাবদ্ধ করার ডাক দেন।

কলকাতার রাজপথে প্রায় ২ হাজার বিজেপি কর্মীকে নিয়ে আয়োজিত এই সভায় শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু দাস নামক এক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশে ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং এর প্রতিবাদে আগামী ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে হিন্দু সংগঠনগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ করবে। এছাড়া আগামী ২৬ ডিসেম্বর আরও ১০ হাজার মানুষ নিয়ে পুনরায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। শুভেন্দু অধিকারী তার বক্তব্যে পরিষ্কার করে বলেন যে বাংলাদেশে যদি এই ধরণের হামলা ও নির্যাতন বন্ধ না হয় তবে তারা কলকাতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেবেন না। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে ২৪ ডিসেম্বর সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টার প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে যাতে ওপার থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।

কলকাতার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বিজেপি কর্মীদের হার্ডলাইন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর আগে দিল্লির হাইকমিশন নিরাপত্তা জনিত কারণে তাদের সেবা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল যার রেশ এখন কলকাতায় আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং দূতাবাস বন্ধ করার হুমকি ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ২৬ ডিসেম্বরের বড় কর্মসূচির ঘোষণা নিয়ে এখন কলকাতায় বাড়তি উদ্বেগ ও সতর্কতা বিরাজ করছে।


হামলা ও বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বড় পদক্ষেপ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২১:২২:৩৪
হামলা ও বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বড় পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) হাইকমিশনের মূল ফটকে একটি জরুরি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সেবাগুলো বন্ধ থাকবে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর সামনে নজিরবিহীন বিক্ষোভ এবং ভিসা সেন্টারে হামলার ঘটনার পর কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ও উপদূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরণের সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর এবং কলকাতায় উপদূতাবাসের সামনে উগ্র বিক্ষোভের ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন যে কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বা ভিয়েনা কনভেনশন এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো এই ধরণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী যে ধরণের কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা দৃশ্যমান হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সেখানে দিপু চন্দ্র দাস নামে একজন পোশাক শ্রমিককে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আসাম এবং কলকাতায় বেশ কিছু সংগঠন নিয়মিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। সোমবারও কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। নিরাপত্তা ইস্যু প্রকট হওয়ায় দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লিতে কনস্যুলার সেবা বন্ধ হওয়ার ফলে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং যারা বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নিরসনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা জরুরি। অন্যথায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তা দিল্লির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে পুনরায় সেবা চালু করার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বাংলা দখল করতে এলে দিল্লি কেড়ে নেব: মমতা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২০:৫২:৫৬
বাংলা দখল করতে এলে দিল্লি কেড়ে নেব: মমতা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া এবং সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহি অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেন যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা এসআইআর-এর আড়ালে আসলে ‘বাংলা দখল’ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন যে বাংলা দখল করতে এলে তিনি উল্টো ‘দিল্লি দখল’ করার লড়াই শুরু করবেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ খসড়া তালিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমানে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত কোটি আট লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন। তবে এর বাইরে আরও প্রায় দেড় কোটি ভোটারকে নিয়ে কমিশন সন্দেহ প্রকাশ করেছে যাদের নাম তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে এটি মূলত বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার একটি নীল নকশা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন তোলেন যে ভোটার বাদ দিয়ে কি তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব? তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সাধারণ মানুষই শেষ পর্যন্ত বিজেপি ও কমিশনকে প্রত্যাখ্যাত করবে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল বাতলে দিয়ে তিনি তার কর্মীদের নির্দেশ দেন যাতে মাঠ পর্যায়ে লড়াই করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে দেওয়া হয়। মমতার ভাষায় বিজেপি নেতারা কেবল টিভির পর্দায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে কিন্তু তৃণমূলের শিকড় প্রোথিত রয়েছে সাধারণ মানুষের ‘খেয়ালে’ বা অন্তরে।

বক্তব্যের শেষ দিকে তৃণমূল নেত্রী তার কর্মীদের উদ্দেশে এক আবেগঘন ও রণংদেহি আহ্বান জানান। তিনি বলেন যে এই লড়াই কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয় বরং এটি টিকে থাকার লড়াই। বিজেপিকে রুখতে প্রয়োজনে প্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতি রাখার জন্য তিনি নেতা ও কর্মীদের উৎসাহিত করেন। মমতা বিশ্বাস করেন যে বড় বড় নেতাদের চেয়ে তৃণমূলের মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরাই এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মমতার এই অগ্নিঝরা বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ ও উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।


কোলের শিশু কেন ফর্সা? ভিক্ষুক নারীকে ঘিরে তুলকালাম

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২০ ২১:৩৪:১৫
কোলের শিশু কেন ফর্সা? ভিক্ষুক নারীকে ঘিরে তুলকালাম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় একটি কোলের শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করতে বেরিয়ে এক নারী চরম হেনস্তা ও জনরোষের শিকার হয়েছেন। ওই নারী ও তার কোলের শিশুর গায়ের রঙের মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য থাকার কারণে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। আগ্রার ব্যস্ততম সারাফা মার্কেটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতার অনেকেরই দাবি ছিল যে শিশুটি হয়তো চুরি করা বা পাচারকৃত কোনো পরিবারের সন্তান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পরনে সোয়েটার এবং কাপড়ে মুখ ঢাকা এক মলিন চেহারার নারীকে রাজপুত্রের মতো সুন্দর একটি শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। ওই নারীর গায়ের রং কিছুটা চাপা হলেও শিশুটি ছিল ফটিকের মতো ফর্সা ও অত্যন্ত সুন্দর। এই বৈপরীত্য দেখে মার্কেটে আসা ব্যক্তিরা ওই নারীকে ঘিরে ধরেন এবং শিশুটির পরিচয় নিয়ে জেরা শুরু করেন। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অনেকেরই বিশ্বাস ছিল যে মলিন পোশাকের ওই নারীর পক্ষে এত সুন্দর সন্তানের মা হওয়া অসম্ভব।

খবর পেয়ে আগ্রা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে যে ওই নারী একটি মেডিকেল কলেজের কাছে অস্থায়ী ঝুপড়িতে বসবাস করেন। তার স্বামী একজন দিনমজুর এবং তাদের সংসারে মোট চারটি সন্তান রয়েছে। জনরোষের মুখে পুলিশ ওই নারীর পরিচয় এবং শিশুটির মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত প্রমাণাদি তলব করে।

যাবতীয় তথ্য এবং জন্মসনদ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই শিশুটি ওই নারীরই গর্ভজাত সন্তান। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কেবল গায়ের রঙের অমিলের কারণে কোনো নাগরিককে এভাবে হেনস্তা করা আইনত দণ্ডনীয়। তদন্ত শেষে সত্য সামনে আসায় উত্তেজিত জনতা শান্ত হয় এবং শিশুটিকে নিয়ে ওই নারী তার গন্তব্যে ফিরে যান। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ণবৈষম্য এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


১৬ ডিসেম্বর শুধুই ভারতের জয় বললেন নরেন্দ্র মোদি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ১৬ ১১:০৫:১২
১৬ ডিসেম্বর শুধুই ভারতের জয় বললেন নরেন্দ্র মোদি
ছবি : সংগৃহীত

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিস্ময়করভাবে একবারের জন্যও বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেননি। ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী মিত্র হিসেবে যুক্ত হওয়ার কারণে ভারতও দিনটিকে তাদের ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। তবে মোদি তার পোস্টে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ভারতীয় সেনাদের দিয়ে লিখেছেন যে বিজয় দিবসে তারা সেই সাহসী সেনাদের স্মরণ করছেন যাদের অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ১৯৭১ সালে ভারতের এক ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল এবং তাদের এই বীরত্ব ভারতের বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সেনাদের দৃঢ় মনোবল ও নিঃস্বার্থ সেবা ভারতকে রক্ষা করেছে এবং তাদের ইতিহাসে একটি গৌরবান্বিত মুহূর্ত তৈরি করেছে যা তাদের সাহসকে সম্মান জানায়।

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন একপাক্ষিক বার্তার বিপরীতে দেশটির সেনাবাহিনী বিজয় দিবস উপলক্ষে যে পোস্ট দিয়েছে সেখানে তারা ঐতিহাসিক সত্যকে স্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ১৬ ডিসেম্বর বা বিজয় দিবস কেবল একটি তারিখ নয় বরং এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতীক যেখানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়েছে যে এই যৌথ সংগ্রামই বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র নতুন করে অঙ্কন করে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পুরো বাঙালি জাতির ওপর যে নজিরবিহীন নৃশংসতা ও নির্যাতন চালিয়েছিল এই যুদ্ধের মাধ্যমেই তার অবসান ঘটেছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে যা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন ও বাস্তবধর্মী।


ভারতে নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ০৯:০৩:৩৮
ভারতে নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর গোয়ায় একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে আগুন লেগে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০ জন যাদের উদ্ধার করে গোয়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত রবিবার ৭ ডিসেম্বর ভোরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে নিহতদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জন পর্যটক ছিলেন এবং বাকি ১৯ জনই ওই নাইটক্লাবটির কর্মী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে গোয়ার পুলিশ মহাপরিচালক বা ডিজিপি জানিয়েছেন পরিদর্শনের সময় সিলিন্ডারগুলো অক্ষত পাওয়া গেছে যা ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেন আজ গোয়ার সবার জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন কারণ আরপোরায় একটি বড় অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা দায়ী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রমোদ সাওয়ান্ত জানান তিনজন দগ্ধ হয়ে এবং বাকিরা ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল এবং আগুনে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হতাহতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের পরিবারকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।


ভারতে শেখ হাসিনা কতদিন থাকবেন তা তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ১৮:২৭:১২
ভারতে শেখ হাসিনা কতদিন থাকবেন তা তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও এবং এডিটর ইন চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।

যতদিন চান হাসিনা ভারতে থাকতে পারবেন কি না জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেন এটি ভিন্ন বিষয় এবং তিনি এখানে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসেছিলেন। তিনি মনে করেন সেই পরিস্থিতি স্পষ্টতই তাঁর সাথে যা ঘটে তার একটি কারণ। তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে এটি এমন একটি বিষয় যেখানে তাঁকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন ভারত তার প্রতিবেশী দেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেখতে চায়। তিনি বলেন বাংলাদেশে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন তারা অতীতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাই যদি সমস্যা নির্বাচন হয় তবে প্রথম কাজ হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

জয়শঙ্কর আরও বলেন ভারত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী এবং দুই দেশের সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই সবচেয়ে ভালো অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন যে তাঁরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত চায় জনগণের ইচ্ছা একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হোক।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত