ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা–পশ্চিম তীর রণক্ষেত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৬ ০৯:১৯:৫৯
ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা–পশ্চিম তীর রণক্ষেত্র

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও স্থল অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৭৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০০ জন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকতে পারে—ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে অবরুদ্ধ অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতির কারণে।

অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও রক্তক্ষয়ী হামলা অব্যাহত রয়েছে। রামাল্লার কাফর মালেক গ্রামে ইসরায়েলি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সশস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এই হামলার নেপথ্যে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় হামাস। সেই হামলায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক এবং হামাস যোদ্ধারা প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় সেদিন থেকেই গাজা উপত্যকায় শুরু হয় ইসরায়েলি প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান, যা এখনও থামেনি।

প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সামরিক অভিযানে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৬ হাজার ১৫৬ জন মানুষ। এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের সামিল’ বলে বর্ণনা করেছে।

এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখনো কার্যকর যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ, শান্তি পরিকল্পনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চললেও গাজা উপত্যকা রয়ে গেছে মৃত্যুর উপত্যকা হিসেবেই।


ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১১:৩৪:৩৯
ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এক চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন সামনে এনেছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গিওরা আইল্যান্ড। ইসরায়েলের প্রভাবশালী টিভি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এই সামরিক সংঘর্ষে ইসরায়েল নয়, বরং জয়ী হয়েছে ইরান। তাঁর মতে, চলমান পরিস্থিতি ও এর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান কেবল সফলই হয়নি, বরং তারা এই যুদ্ধের পরিণামে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট।

মেজর জেনারেল আইল্যান্ড তাঁর বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, সামরিক অভিযানের তীব্রতা ও পাল্টা হামলার পরেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটুট ও অক্ষত রয়েছে। বিপরীতে, এই সংঘাতের ফলে ইসরায়েল বর্তমানে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের এই ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রও এখন একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।

সাবেক এই জেনারেলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ওয়াশিংটন বর্তমানে তাদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে এসে কেবল সংঘাত বন্ধের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করতে চাইত। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মার্কিন প্রশাসন এখন কেবল হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো সহজ ও নমনীয় পন্থায় ফিরে যেতে চাইছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ইরান কঠোর পাল্টা জবাব দেয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, গিওরা আইল্যান্ডের এই মন্তব্য ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১০:০৭:৫৫
১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি-সুরক্ষিত ও সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র হোয়াইট হাউসের (White House) প্রধান নিরাপত্তা চৌকির সামনে এক বন্দুকধারীর আকস্মিক আত্মঘাতী হামলা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে লাইভ গোলাগুলির ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে চরম আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের (Secret Service) তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী পাল্টা গুলিতে ওই হামলাকারী স্পটেই নিহত হয়েছে এবং এ সময় ক্রসফায়ারে পড়ে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ (CBC News)-এর সাম্প্রতিক এক মেগা প্রতিবেদনে এই নাটকীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিবিসি নিউজের অফিশিয়াল নথিমতে, রক্তক্ষয়ী এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ওভাল অফিসে অবস্থান করছিলেন এবং সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর বেষ্টনীতে তিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর ১৭ নম্বর স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলের একটি মেগা সিকিউরিটি চেকপোস্টের দিকে এক সন্দেহভাজন শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি ব্যাগ হাতে এগিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে তার ব্যক্তিগত ব্যাগের ভেতর অত্যন্ত সংবেদনশীল অটোমেটিক আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে এনেছিল।

চেকপোস্টের কাছাকাছি পৌঁছেই ওই ব্যক্তি আকস্মিক ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিস অফিসারদের বুক লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কাউন্টার-অ্যাসাল্ট টিম (CAT) পাল্টা ভারী গুলি বর্ষণ করলে হামলাকারী বুক ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই আকস্মিক মেগা হামলার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ এবং নর্থ লন (North Lawn) এলাকায় যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ঘটনার সময় লনে থাকা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকর্মীরা চিৎকার করে ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে দ্রুত ব্রিফিং রুমে লকডাউন (Lockdown) করে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI)-এর নবনিযুক্ত পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, এফবিআই-এর বিশেষ ক্রাইম সিন ইউনিট ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিক্রেট সার্ভিসকে ঘটনার নেপথ্যের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খুঁজতে মেগা ব্যাকআপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

তবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং আজ সকালে স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প এই হামলায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন এবং রাত ৮টাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবে তাঁর দাপ্তরিক মেগা দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে এবং মে মাসের ৪ তারিখে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পর—মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এটি ট্রাম্পের ওপর তৃতীয় মেগা জীবননাশের হামলা, যা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে বিশ্বমঞ্চে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।

/আশিক


ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:১৮:৫২
ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী ও ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অত্যাধুনিক চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) বহরে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটেছে। পেন্টাগনের যুদ্ধপূর্ববর্তী মোট রিপার ড্রোন মজুদের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশই ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে তেহরান। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ (Bloomberg)-এর সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye) আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) এই মেগা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্যটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ইরান এ পর্যন্ত আকাশ ও মাটিতে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের মোট ৩০টি সংবেদনশীল এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে উড্ডয়নরত অবস্থায় ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে, আর বাকিগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।

মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর চলতি মাসের শুরুর দিকের ডেটার (২৪টি ড্রোন) চেয়েও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যাটি অনেক বেশি। মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গোপন তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মোট মার্কিন সামরিক ব্যয় ইতিমধ্যেই রেকর্ড ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

হোয়াইট হাউসে বসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘বিধ্বস্ত’ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও, একের পর এক রিপার ড্রোন এবং গত এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল (F-15E Strike Eagle) ফাইটার জেট ভূপাতিত করে তেহরান প্রমাণ করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কতটা শক্তিশালী।

নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা সম্ভবত ওই অঞ্চলে মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানগুলোর নিয়মিত ওড়ার পথ বা ‘ফ্লাইট প্যাটার্ন’ (Flight Pattern) নিখুঁতভাবে ম্যাপ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জটিল প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে ক্রেমলিনের প্রত্যক্ষ ভূ-রাজনৈতিক হাত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কারণ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে ব্যাকআপ দিচ্ছে।

মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মারাত্মক মিশ্রণ (Hybrid Air Defense) ব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে এই পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই মেগা হামলার পরেই চীন ইরানকে তাদের অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করে, যা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য পারস্য উপসাগরে এক বড় কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।


আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১২:৫৬:১৮
আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
ছবি : সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে কঠোর শরিয়া আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক অবিবাহিত নারী ও তাঁর পুরুষ সঙ্গীকে একটি মঞ্চে প্রকাশ্যে ১০০ বার করে বেত্রাঘাত করার মধ্যযুগীয় বর্বর শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।

শাস্তি কার্যকরের একপর্যায়ে তীব্র যন্ত্রণায় ওই নারী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহের একটি মসজিদের সামনে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই মেগা শাস্তি কার্যকর করে স্থানীয় ইসলামিক ধর্মীয় পুলিশ।

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ অবিবাহিত অবস্থায় একই ছাদের নিচে একসঙ্গে বসবাস ও রাত কাটানোর (লিভ-ইন টুগেদার) অপরাধে এই যুগলকে শরিয়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শাস্তি কার্যকরের সময় ওই যুগলের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পুরো শরীর ঢাকা বাদামি ওভ্যারল পোশাক ও সাদা মুখোশ পরা একজন পেশাদার জল্লাদ (শরিয়া এনফোর্সার) বেতের লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকলে পুরুষটিকেও তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হতে দেখা যায়। একই দিনে আচেহ প্রদেশে অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানো এবং জুয়া খেলার অপরাধে আরও বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে ২৫ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত বেত্রাঘাতের পৃথক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৪ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র আচেহ প্রদেশেই সরকারি ও আইনি পর্যায়ে স্বাধীনভাবে নিজস্ব শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে; যেখানে সমকামিতা, মদ্যপান ও অবিবাহিত নারী-পুরুষের ডেটিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১২:১৫:২২
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা, নীতিহীন পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান দ্বিপাক্ষিক শান্তিসংলাপে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শুধু তা-ই নয়, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার টেবিলে কূটনীতির ভণ্ডামি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক তেহরানের এই কড়া ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

টেলিফোনে আলাপকালে আব্বাস আরাগচি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার লিখিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা এবং আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধের মতো অবাস্তব শর্ত তোলাই বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মূল কারণ।

ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের গভীর ও ঐতিহাসিক অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ইরান একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত সমাধানে পৌঁছাতে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে বলে তিনি জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেন। এর জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যেকোনো স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে কূটনৈতিক উপায়ে এই আঞ্চলিক সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

এদিকে একই দিন শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি টেলিভিশনে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে চলমান সংলাপে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। তবে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তেহরান সফরের পর আলোচনাটি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র : প্রেস টিভি


যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১১:৪৭:১৩
যুক্তরাষ্ট্র হাউসে নাটকীয় মোড়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচাতে ইরান সংক্রান্ত ভোট বাতিল
ছবি : সংগৃহীত

ভোটাভুটিতে নিশ্চিত হারের আশঙ্কা এবং নিজের দলের আইনপ্রণেতাদের বড় ধরণের অনুপস্থিতির মুখে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে (House of Representatives) ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি অতি সংবেদনশীল ভোট মাঝপথেই আকস্মিক বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান সংঘাত বন্ধে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস মেম্বাররা। একই সাথে এই প্রস্তাবে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাসূচক মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত পরশু বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) মেমোরিয়াল ডে-র ছুটির ঠিক আগে মার্কিন হাউসে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।

হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসে এই বিশেষ ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছিলেন নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক হাউস কমিটির শীর্ষ সদস্য গ্রেগরি মিকস। ভোট চলাকালীন রিপাবলিকান পার্টির অন্তত ১০ জন সদস্য অনুপস্থিত থাকায় এবং ডেমোক্র্যাটদের সাথে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য যোগ দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এই ভরাডুবি এড়াতে ট্রাম্প অনুগামী ও হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতারা তড়িঘড়ি করে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে হাউসের তিন শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা—সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাস চেয়ার পিট অ্যাগুইলার একটি কড়া যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তাঁরা রিপাবলিকান নেতৃত্বকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (Wholly-owned subsidiary) মতো আচরণ করে চলেছে।” তবে হাউস মেজরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস দাবি করেছেন, অনুপস্থিত সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিলম্ব। অন্যদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেও আগামী জুন মাসের শুরুতে ছুটির পর হাউস পুনরায় বসলে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের পরমাণু ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পেন্টাগন (Pentagon) ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু করেছিল। ১৯৭৩ সালের মার্কিন যুদ্ধ ক্ষমতা আইন (War Powers Act) অনুযায়ী, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন (এবং সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন) তা চালিয়ে যেতে পারেন; যার সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে।

গত ৫ মে সামরিক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ইরানে বড় ধরণের হামলার গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পেন্টাগন সূত্রে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে। তবে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানেরBrian Fitzpatrick এবং Thomas Massie-র মতো শীর্ষ আইনপ্রণেতারাও এখন এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে ভোট দেওয়ায় হোয়াইট হাউস এখন বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার


নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:৫৪:৪৩
নারায়ণগঞ্জের গোলাপি মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনাম
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাটে শত শত মেগা গরুর চিরাচরিত আকর্ষণকে এক নিমেষেই ম্লান করে দিয়ে দেশজুড়ে এখন টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এক অবিশ্বাস্য ও ব্যতিক্রমী গোলাপি মহিষ। রেকর্ড ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল মহিষটির অদ্ভুত রাজকীয় চেহারা এবং কপালে ঝুলে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো সোনালি-লালচে চুলের কারণে শখ করে তার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

শুধু দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, নিজের বিচিত্র নামকরণের জোরে এই মহিষটি এখন বিশ্বের বাঘা বাঘা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মূল পাতায়ও জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই মহিষটিকে নিয়ে একটি বিশেষ এক্সক্লুসিভ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ছিল— “বাংলাদেশের বিরল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঈদের সেনসেশন।”

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কুচকুচে কালো রঙের মহিষ দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এই বিশেষ ‘অ্যালবিনো’ (Albino) জাতের মহিষটির গায়ের রং সম্পূর্ণ আলাদা—হালকা গোলাপি বা ক্রিমের মতো। মহিষটির সবচেয়ে চোখ ধাঁধানো আকর্ষণ হলো তার কপালে থাকা একগুচ্ছ সোনালি চুলের স্টাইল, যা দেখতে হুবহু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার হেয়ারস্টাইলের অবিকল নকল। এই অদ্ভুত ও নিখুঁত মিল দেখেই খামারিরা মজার ছলে মহিষটির নাম ট্রাম্পের নামে নামকরণ করেন। মহিষটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’।

খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছোট ভাই প্রথমে শখের বশে মহিষটির চুলের কাটিং দেখে ট্রাম্পের নাম দেন; কিন্তু পরবর্তীতে এটি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হবে তা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি। বর্তমানে রয়টার্স ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, দ্য টেলিগ্রাফ, ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস ও নিউজ এইট্টিনসহ বিশ্বের অন্তত ডজনখানেক মেগা মিডিয়া এই ‘গোলাপি ট্রাম্প’কে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করেছে, যার ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ খামারে ভিড় করছেন স্রেফ একটি সেলফি তোলার জন্য।

/আশিক


আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১০:১৬:৪৬
আমেরিকায় গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় কড়াকড়ি: সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ছাড়ার তাগিদ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট বা বিজনেসসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বা সাময়িক ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) আবেদন করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বর্তমান বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন। গত পরশু শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (USCIS) এই সংক্রান্ত একটি কড়া নতুন নির্দেশনা বা পলিসি গাইডলাইন জারি করেছে।

নতুন এই পরিমার্জিত নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে সাময়িক ভিসা বদলে স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন (Adjustment of Status) করা কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনি অধিকার নয়, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার বিষয়।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অফিশিয়ালি জানিয়েছে, “যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন ও গ্রিন কার্ড চান, তাঁদের আবেদনের জন্য নিজ দেশে অবশ্যই ফিরতে হবে।” তবে অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে (Case-by-Case) মূল্যায়ন করবেন।

আবেদন মূল্যায়নকালে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় থাকা (Overstay), অনুমতি ছাড়া চাকরি করা কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার মতো বিষয়গুলো কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তবে ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ বা দ্বৈত উদ্দেশ্য অনুমোদিত (যেমন- এইচ-১বি বা এল-১) কিছু নির্দিষ্ট ভিসার ক্যাটাগরিকে এই নিয়মের বাইরে ব্যতিক্রম হিসেবে রাখা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম কট্টর অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকার মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো। শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ (HIAS) সতর্ক করে বলেছে, এই অমানবিক নিয়মের কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে এবং তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন কঠোর করা এবং দেশটিতে বিদেশিদের দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ সীমিত করার যে মাস্টারপ্ল্যান চলছে, এই নির্দেশনা তারই সর্বশেষ বড় ধাক্কা। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছিল যে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড ১ লাখেরও বেশি বিদেশির মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১১:৫১:৩৯
ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ড্রোন বহরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বহু অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান।

সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে তেহরান। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মোট এমকিউ-৯ রিপার বহরের প্রায় ২০ শতাংশের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সংখ্যাগত ক্ষতি নয়; বরং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। কারণ এমকিউ-৯ রিপারকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কার্যকর নজরদারি ও আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

MQ-9 Reaper ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক সেন্সর, হাই-রেজুলেশন ক্যামেরা এবং দূরপাল্লার নজরদারি সক্ষমতায় সমৃদ্ধ। এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেডিএএমের মতো নির্ভুল নিশানার বোমা বহন করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট ট্র্যাকিং এবং নির্ভুল হামলায় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একেকটি রিপার ড্রোন নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। ফলে ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে বাতিল করা ড্রোনগুলোও হিসাবের মধ্যে আনলে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় ৩০-এ পৌঁছাতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা এবং মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক মার্কিন ড্রোন অভিযানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম উচ্চতায় উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও মার্কিন ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে পেন্টাগনকে।

সূত্র: তাস

পাঠকের মতামত: