'১৪,' ১৮ ও' ২৪ এর নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যে কারণে মামলা করবে বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২২ ০৮:৫৪:৫০
'১৪,' ১৮ ও' ২৪ এর নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যে কারণে মামলা করবে বিএনপি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। বিগত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনার ও কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

রোববার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলার আবেদন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সঙ্গে থাকবেন দলের আরও তিন নেতা।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান শনিবার সাংবাদিকদের জানান, “মামলার আগে সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে একটি প্রতিলিপি জমা দেওয়া হবে। এরপরই থানায় অভিযোগপত্র জমা দেবে বিএনপি।”

বিএনপির দাবি, এই তিনটি নির্বাচন ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ।

দলের অভিযোগ, “ভোটারবিহীন নির্বাচন, রাতের আঁধারে ব্যালট ভর্তি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার, ইভিএম কারচুপি, এবং নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মে সরাসরি যুক্ত ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।”

এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে সদ্য গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশন) সাম্প্রতিক বৈঠক।

গত ১৬ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, “তিনটি জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কার কী ভূমিকা ছিল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। এ জন্য অবিলম্বে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিএনপি মামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিএনপির জন্য কেবল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ নয় বরং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু হওয়া আইনি লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মঞ্জুর রহমান খান বলেন, “এ ধরনের মামলা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে যদি তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। তবে একে রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমেও ব্যবহার করা হতে পারে এটা নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক কৌশলের ওপর।”

বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ককেও সামনে আনছে নির্বাচনের ব্যর্থতার দায় কার? এবং সেই দায় কি শুধুই রাজনৈতিক, নাকি আইনি জবাবদিহিও থাকা উচিত?

বিএনপির এই মামলা শুধু একটি রাজনীতিক দলীয় উদ্যোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নে একটি বড় প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারে।

-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক


সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ১১:২৯:৫৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেবে না বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণ করলেও এখনই 'সংবিধান সংস্কার পরিষদে'র সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির কেউ শপথ নেয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান বা প্রক্রিয়া এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিএনপির কোনো সদস্য এই পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হননি বলে তিনি জানান।

সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে সেটিকে প্রথমে সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে এই পরিষদের সদস্যদের কে বা কারা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান তৈরি করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো শপথে তারা অংশ নেবেন না এবং বিএনপি সব সময় সংবিধান মেনেই রাজনীতি করে আসছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যা দলটির জন্য ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের এক অনন্য মাইলফলক।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব নেওয়া প্রায় নিশ্চিত। একদিকে নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দেশের সংসদীয় রাজনীতি এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে বিএনপির এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৯:৫৪:৪৯
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। নবনির্বাচিত এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত। সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে জোটের শীর্ষ নেতারা এখন গুরুত্বপূর্ণ পদবন্টন এবং দেশে প্রথমবারের মতো ‘ছায়া সংসদ’ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জোটের শরিক এনসিপি ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৭৭টি আসন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলনের একজন এবং সাতজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও বিরোধী দলের সারিতে বসবেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি দলটির সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে। অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, আসন সংখ্যায় বড় ব্যবধান থাকলেও জোটের শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে দায়িত্ব দিয়ে একীভূত নেতৃত্বের নজির গড়তে চায় দলটি। তবে জোটের অন্দরে কিছু ভিন্নমতও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এনসিপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ের পর জোট থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়ার জন্য দলের ভেতরে কিছুটা চাপ রয়েছে। তবে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জোট বজায় রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কোনো কারণে এনসিপি জোটে না থাকলে জামায়াত তাদের নির্বাচিত তিন নায়েবে আমিরের মধ্য থেকে একজনকে উপনেতা নির্বাচিত করতে পারে। এই তালিকায় আছেন রাজশাহী-৫ থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১-এর ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের এবং রংপুর-২-এর এটিএম আজহারুল ইসলাম।

সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদ নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চিফ হুইপ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া হুইপ পদে কুমিল্লা-৪ থেকে নির্বাচিত এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

এই সংসদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হতে যাচ্ছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠনের প্রস্তাবনা। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে এই ছায়া সরকার গঠিত হবে, যা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের একেকজন সদস্য নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর নজর রাখবেন এবং সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে গঠনমূলক বিকল্প প্রস্তাব পেশ করবেন। এই উদ্ভাবনী ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ০৯:২১:৪২
একই পরিবারের তিন সরকার প্রধান: বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নজির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য নজির স্থাপন করে আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই তিনি দেশের পরবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

তারেক রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার পরিবারে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমসেবে কেউ সরকার প্র একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিধানের পদে আসীন হচ্ছেন। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের তিন সদস্যের পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদে আরোহণের এমন ঘটনা এ দেশে এর আগে আর কখনও ঘটেনি।

বিএনপির দাপ্তরিক তথ্যানুসারে, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েমের পদত্যাগের পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি নিজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এবার নিয়ে মোট চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া।

বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন একজন সাধারণ গৃহিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর দল ও দেশের চরম সংকটে তিনি রাজপথে নেমে আসেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্যিয়তা অর্জন করেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে তিনি আরও দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনোটিতেই পরাজিত না হওয়ার এক অনন্য ব্যক্তিগত রেকর্ডও রয়েছে তার ঝুলিতে।

উল্লেখ্য যে, গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আজ শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাবা ও মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে যাচ্ছেন।

/আশিক


সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২১:৩৪:৩১
সংসদীয় রাজনীতির নবযুগের অপেক্ষায় দেশ: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় নিয়ে দেশবাসীকে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের আমির উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথাকে ধারণ করেই দেশের রাজনীতি এক নতুন পথে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। তিনি লেখেন, জুলাই অভ্যুত্থানের লাল রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আগামীকাল থেকে সংসদীয় রাজনীতির যে নবযুগের সূচনা হতে যাচ্ছে, তার স্বরূপ দেখার জন্য সমগ্র জাতি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। তার এই বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।

এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানান। তিনি মনে করেন, জনগণের এই অংশগ্রহণ আসলে তাদের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের একটি বড় ধাপ। আমিরের মতে, এবারের লড়াই মূলত জনগণের লুণ্ঠিত ভোটাধিকার এবং মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে আনার লড়াই।

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের সব স্তরের মানুষকে দেশ গড়ার কাজে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তার পোস্টে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, "চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।" তার এই আহ্বান নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সব পক্ষকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করলেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৮:৩৮:৩৪
বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করলেন তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া-৬ আসনটি ছাড়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসাথে বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ সোমবার বিকেলে জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ত্যাগ করেছেন এবং ঢাকা-১৭ আসন বজায় রেখেছেন। নির্বাচন কমিশন তার এ সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেছে।

নির্বাচন আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। বাকি আসনগুলো খালি হয়, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

/আশিক


বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বয়সে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৮:০৪:৩৬
বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বয়সে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দলটির নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে এভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৬০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাওয়ায় তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সে তুলনায় তার এই অভিষেক একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

স্বাধীনতার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দায়িত্ব নেন ৪৬ বছর বয়সে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ৫২ বছর বয়সে। নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন ৪৬ বছর বয়সে। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন ৪৯ বছর বয়সে।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছেন, যা তাকে এক ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করেছে। তারা মনে করছেন, এই দীর্ঘ সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও পরিণত করেছে।

নির্বাচনের পর দেশের পুঁজিবাজার ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন নতুন সরকারের দিকে। বিশেষ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় তার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


হান্নান, আসিফ ও সাদিকদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৪:৪০:৩৮
হান্নান, আসিফ ও সাদিকদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে
ছবি: নিউজ ২৪

নোয়াখালীর হাতিয়া সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নাছির উদ্দীন নাছির, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছেন। সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত এমপি হান্নান মাসউদ, এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম–সহ সংশ্লিষ্টদের জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

নাছিরের দাবি, হাতিয়া সম্পর্কিত যে অভিযোগটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে তা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের শামিল।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ২৮ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। একই সময়ে অন্যত্র গিয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ যুক্তির পরিপন্থী। হাতিয়া থেকে জেলা সদর হাসপাতালে যাতায়াতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে—এমন পরিস্থিতিতে একই সময়ে দুই স্থানে উপস্থিত থাকার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি স্থগিত করেছেন, যা ঘটনাটির ভিন্ন মাত্রা নির্দেশ করে।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করে অপপ্রচারের দায় স্বীকার করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর অভিযোগ ঘিরে দ্রুত তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা না এলে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রভাব রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যাখ্যার প্রতীক্ষা চলছে।

-রাফসান


তারেক রহমান জামায়াত আমিরকে দিলেন নির্দিষ্ট ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১২:১৬:০৭
তারেক রহমান জামায়াত আমিরকে দিলেন নির্দিষ্ট ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী’র আমির ড. শফিকুর রহমান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় যান তারেক রহমান। সাক্ষাতের পর ড. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, “তারেক রহমানের এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

জামায়াত আমির আরও বলেন, “আমি তার আগমনকে স্বাগত জানাই। সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সাক্ষাতের সময় আলোচনার বিষয় নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “তারেক রহমান আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা প্রতিরোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমরা এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই।”

ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচিত সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা দেব, কিন্তু আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনেও আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন থাকবে, তবে যেখানে জবাবদিহি প্রয়োজন, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, সংশোধন; বাধা নয়, পর্যবেক্ষণ।”

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, এবং জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের শুরুতে তারেক রহমান জামায়াত আমিরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

/আশিক


নির্বাচনের ফলাফল গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ০৯:৫১:০৭
নির্বাচনের ফলাফল গণমাধ্যমে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমে খণ্ডিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনায় হতাশ বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভোট প্রাপ্তির পরিসংখ্যান এক শক্তিশালী জনরায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে প্রদত্ত প্রায় ৭ কোটি ভোটের মধ্যে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট ৩৮.৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাগরিক এই জোটের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা স্থাপন করেছেন। জামায়াত আমির এটিকে একটি ‘বিশাল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জনরায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন থেকে আজ কোটি কোটি মানুষের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

তিনি আরও লেখেন যে, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার সংস্কার, জবাবদিহিতা ও নীতিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনের কর্মীদের প্রতি শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখানোর আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন লক্ষ্য হলো সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। ত্যাগের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক পথচলা নিশ্চয়ই পরিপূর্ণ বিজয় বয়ে আনবে।

পাঠকের মতামত: