রয়টার্স প্রতিবেদন

খামেনিকে হত্যার ইসরায়েলি পরিকল্পনা রুখে দিলেন ট্রাম্প: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৬ ০৮:১২:৪৪
খামেনিকে হত্যার ইসরায়েলি পরিকল্পনা রুখে দিলেন ট্রাম্প: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার একটি ইসরায়েলি পরিকল্পনা আটকে দেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।

এই খবর এমন সময় প্রকাশ পেল, যখন ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কর্মকর্তাকে হত্যা করে। একই হামলায় খামেনির একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাও নিহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়।

একজন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “ইরান কি এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে? না। তাই তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করার বিষয়ে আমরা আলোচনা পর্যন্ত করছি না।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার ফক্স নিউজ-কে বলেন, “অনেক সময় এমন সব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়, যেগুলো কখনো আলোচনা পর্যন্ত হয়নি। আমি এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই না।” ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’-এ নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আমরা যা করা দরকার, তাই করি।”

তিনি আরও বলেন, ইরানে ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণের একটি সম্ভাব্য ফল হতে পারে সরকার পরিবর্তন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় জানান, তেহরান থেকে আসা ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর করতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।

এদিকে এই সংঘাত বড় ধরনের আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি সহজে সমাধানযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “যদি ইরান কোনো আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে, যুদ্ধের আগুন ছড়ানোর মুহূর্তে নেতৃত্বের একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন বিশ্বের চোখ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ যুদ্ধ এবং শান্তির ব্যবধান নির্ধারণ করতে পারে।


ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:৩৩:১৫
ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাটি সফলভাবে ধ্বংস করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সরকারের আয়ের প্রধান উৎসগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অর্থের উৎসগুলো পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের ফলে ইরানের সামগ্রিক পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ৮৫ শতাংশেরও বেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইডিএফ আরও দাবি করেছে যে, ইরানের আসালুয়ে এলাকায় অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট স্থাপনা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ওই স্থাপনাটি ধ্বংস করার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েল।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র : বিবিসি


সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোজতবা খামেনি? ৩৯ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১১:১৩:০৮
সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোজতবা খামেনি? ৩৯ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গন ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিলেও দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন। এবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে অচেতন বা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কোম শহরে চিকিৎসাধীন আছেন।

কূটনৈতিক মেমোর বরাতে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটাপন্ন যে, তিনি ইরান সরকারের কোনো নীতিনির্ধারণী বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। এই প্রথমবারের মতো তাঁর সঠিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেল। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই স্পর্শকাতর নথিটি ইতিমধ্যে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) টানা ৩৯ দিনে পা রাখল। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির নতুন নেতৃত্ব সংকটের মুখে থাকায় প্রশাসনিক স্তরেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের ৩৯তম দিনে এসেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।

মোজতবা খামেনির এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং তাঁর অসুস্থতার খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। যদি টাইমস-এর এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং চলমান যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

/আশিক


কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে বাজছে বিপদের সাইরেন, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১০:২৭:৪২
কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে বাজছে বিপদের সাইরেন, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় পুরো দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক জরুরি বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন সরকার এই আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৮তম ধাপের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের হেলিকপ্টার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরাকের বাগদাদ ও উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাঁচটি অবস্থানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তেল আবিব, হাইফা, বেয়ার শেবা ও পেতাহ টিকভার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা আঘাত হেনেছে। নৌবাহিনীর অভিযানে একটি ইসরায়েলি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ট্রিপোলি'কে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবিও করেছে তেহরান। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসফাহান ও লোরেস্তান অঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনসহ একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।

/আশিক


হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:২১:৪২
হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফাতে ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় ভবনের নিচে চাপা পড়ে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকারী দল চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং এই এলাকার অন্য একটি হামলায় আরও চারজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা সোমবার ভোরের দিকে জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর নিখোঁজ চার ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুই জন ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ দম্পতি রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বাকি দুটি মরদেহের মধ্যে একজন ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং অন্যজন ৩৫ বছর বয়সী এক নারী। ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়, যা এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

এর আগে রোববার গভীর রাতে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছিলেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ভবনটি ধসে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অন্তত চারজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ভবনটির আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটি কেবল ধ্বংসই হয়নি, বরং আশপাশের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের জেরে হাইফা শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইরানের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এমন সরাসরি আঘাত বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ধারকারী দল তাদের কাজ শেষ করলেও পুরো এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনও চলছে।

/আশিক


সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস: ইসরায়েলের পারমাণবিক নকশা কি ইরানের হাতে?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:৪৭:১৫
সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস: ইসরায়েলের পারমাণবিক নকশা কি ইরানের হাতে?
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা 'ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র'-এর মানচিত্র বা ম্যাপ ইরানের মুজতবা খামেনির সামনে প্রদর্শিত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মতো দেখতে ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুজতবা খামেনি হেঁটে যাচ্ছেন এবং তাঁর সামনের পর্দায় ইসরায়েলের এই পারমাণবিক কেন্দ্রের বিস্তারিত মানচিত্র ভেসে উঠছে। এই ঘটনাটি ইরান ও ইসরায়েলের চলমান ছায়া যুদ্ধ ও গোয়েন্দা তৎপরতার এক নতুন এবং বিপজ্জনক দিক উন্মোচন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রটি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বর্তমান নাম ‘শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার’। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, এই কেন্দ্রে মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হয় এবং ধারণা করা হয় যে এখানে ৮০ থেকে ৪০০টি পারমাণবিক বোমা অত্যন্ত গোপন কোনো স্থানে সংরক্ষিত আছে। তবে এই বিশাল স্থাপনাটিতে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় না, যা এর সামরিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মুজতবা খামেনির সামনে এই মানচিত্রের প্রদর্শনী মূলত ইরানের উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতাকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এর মাধ্যমে তেহরান এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের যেকোনো অতি-সংবেদনশীল সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ম্যাপ প্রদর্শনের পর মুজতবা খামেনি যেকোনো সময় ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দিতে পারেন।

ইসরায়েলের মতো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা একটি দেশের এমন গোপন স্থাপনার নকশা ইরানের হাতে পৌঁছে যাওয়া দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ছিদ্র বা দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ফলে ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া


হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান 

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:৩৮:৪৬
হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান 
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের ফলে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। রবিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবেয়ী এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুলের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘নতুন আইনি কাঠামো’র মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।

একই সাথে তাবাতাবেয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে ‘চরম হতাশা ও ক্ষোভ’ থেকে উদ্ভূত ‘আজেবাজে কথা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই জলপথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অর্থনৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

এদিকে, ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিব্রতকর শব্দ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দিয়ে খোদ নিজ দেশেই তোপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী সিনেটররা ট্রাম্পের এই মানসিক অবস্থাকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক বার্তায় ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ার পর ইস্টার সানডের দিনে প্রেসিডেন্টের এমন প্রলাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এই যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে তিনি এই মুহূর্তে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করতেন। মারফির মতে, ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য ডন, দ্য ডেইলি সাবাহ


তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৪০:০৪
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোররাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি তেহরানের স্বনামধন্য শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পর তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে দেখা গেছে।

তেহরানের ৯ নম্বর জেলা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে আঘাত হানার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শরিফ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরকার ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও এই হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইরানের বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরেও ইরানের অন্যান্য শহরে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ভাহিদ অনলাইনের তথ্যমতে, রাত ১টার দিকে বোরোজের্দ শহরের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ছিল। এছাড়া সোমবার সকালে শিরাজ ও কওম শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কওম প্রদেশের নিরাপত্তা পরিচালক জানিয়েছেন, শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিঘ্ন না ঘটাতে তিনি সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না এলে ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

যদিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সাথে আলোচনা চলছে এবং সোমবারের মধ্যেই একটি রফা হতে পারে, তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ হচ্ছে না।

/আশিক


যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৩৪:০০
যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহত এই কর্মকর্তার নাম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল জারেই শাহিন শহরে অবস্থিত দেশটির সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কলেজের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যাপক প্রাণহানি ও হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরানও ব্যাপক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মূলত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের এই শক্ত অবস্থানের ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা বিদেশি সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির কৌশলও গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু


চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:১০:৪৮
চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কমান্ড রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না। আইআরজিসি জানায়, কৌশলগত কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিদেশি আধিপত্যের যুগ এখন শেষ।

ইরান একটি নতুন ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোই পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই অনড় অবস্থানের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান চুক্তিতে না এলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে আরও স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ (বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন) হবে। তিনি মঙ্গলবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টায় একযোগে এসব হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মার্কিন আল্টিমেটাম ও হুমকির মুখেও দমে যায়নি ইরান।

বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের এই লাইফলাইনটিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি তারা এখন এই প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ইরান ও আমেরিকার এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: