রয়টার্স প্রতিবেদন
খামেনিকে হত্যার ইসরায়েলি পরিকল্পনা রুখে দিলেন ট্রাম্প: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার একটি ইসরায়েলি পরিকল্পনা আটকে দেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এই খবর এমন সময় প্রকাশ পেল, যখন ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কর্মকর্তাকে হত্যা করে। একই হামলায় খামেনির একজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাও নিহত হন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়।
একজন মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “ইরান কি এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে? না। তাই তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করার বিষয়ে আমরা আলোচনা পর্যন্ত করছি না।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার ফক্স নিউজ-কে বলেন, “অনেক সময় এমন সব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়, যেগুলো কখনো আলোচনা পর্যন্ত হয়নি। আমি এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই না।” ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’-এ নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আমরা যা করা দরকার, তাই করি।”
তিনি আরও বলেন, ইরানে ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণের একটি সম্ভাব্য ফল হতে পারে সরকার পরিবর্তন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় জানান, তেহরান থেকে আসা ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর করতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সব কিছু করবে।
এদিকে এই সংঘাত বড় ধরনের আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি সহজে সমাধানযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “যদি ইরান কোনো আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে, যুদ্ধের আগুন ছড়ানোর মুহূর্তে নেতৃত্বের একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন বিশ্বের চোখ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ যুদ্ধ এবং শান্তির ব্যবধান নির্ধারণ করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা চললেও রণক্ষেত্রে এক বিরল ও শক্তিমত্তার মহড়া দেখাল ইরান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। কাকতালীয়ভাবে ঠিক একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানি দূতের বাসভবনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এক পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন। বিশ্ববাজারে তেলের মোট সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয় বিধায় ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্বনির্ধারিত সামরিক মহড়ার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই প্রণালি বন্ধ রাখা হয়। মহড়া চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সরাসরি তাজা ক্ষেপণাস্ত্র বা লাইভ মিসাইল নিক্ষেপ করে তাদের সক্ষমতার জানান দেয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, আশির দশকের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ বন্ধ করার মতো কঠোর ও দুঃসাহসী ঘোষণা দিল ইরান। মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতেই তেহরান এই কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, বিশ্বের শক্তিশালী সেনাবাহিনীগুলোও মাঝে মাঝে এমন চরম আঘাত বা ‘চড়’ খেতে পারে যে, তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে খামেনি আরও যোগ করেন, বিশাল যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বড় বিপদ হলো সেই সব আধুনিক অস্ত্র, যা নিমেষেই জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর এই মন্তব্যকে সরাসরি মার্কিন রণতরীগুলোর প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশারদগণ।
তবে রণক্ষেত্রের এই মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে কিছুটা নমনীয় ও আশাবাদী সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। জেনেভায় জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য এখন একটি নতুন সুযোগ বা ‘জানালা’ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। তবে তিনি এটিও পরিষ্কার করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা ইরান এখনো মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক বিশাল সামরিক বহর তৈরি হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হলেও আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এখন বিশ্ববাসীর নজর আগামী দুই সপ্তাহের দিকে, যখন ইরান এই অচলাবস্থা নিরসনে তাদের বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
/আশিক
সূত্র: এপি।
ইরানে মার্কিন হামলা হলে পাশে থাকবে তালেবান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ ইরানকে সহযোগিতার এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী তালেবান। তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাম্প্রতিক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে আফগান জনগণ ইরানের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রদান করবে। তবে এই সহযোগিতার বিষয়টি সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো কি না, তা নিয়ে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মুজাহিদ স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানদের সহমর্মিতা থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তালেবান যোদ্ধারা আগ বাড়িয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হবে।
সাক্ষাৎকারে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আরও উল্লেখ করেন যে, তালেবান সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতি এবং তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় কোনো যুদ্ধ দেখতে চায় না। বরং ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিরসনে তারা কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তালেবানের মতে, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে মুজাহিদ বলেন, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে ইরান অত্যন্ত সফলভাবে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে বলে তালেবান মনে করে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যদি কখনো ইরানের ওপর কোনো বহিঃশত্রুর হামলা হয়, তবে ইরান আগের মতোই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করতে সমর্থ হবে। তালেবানের এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রতি এক ধরনের নৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তালেবান ও ইরানের মধ্যে চরম মতাদর্শগত বিরোধ ও শত্রুতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ইরানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের মানবেতর জীবন ও তাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তালেবানের এই নমনীয় অবস্থান ও সহযোগিতার ইঙ্গিত প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বাড়তে থাকা নতুন ও উন্নত সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
/আশিক
হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার দক্ষিণ লেবাননের বেসলায়া, হুমিন আল-তাহতা ও দেইর আল-জাহরানসহ বেশ কিছু এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে মেইস আল-জাবাল এলাকায় একটি ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনের আঘাতে একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামেনি। ইউএনআইএফআইএল (UNIFIL)-এর শান্তিরক্ষী সদস্যরা জানিয়েছেন, চুক্তির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিরতির নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।
শান্তি চুক্তির তোয়াক্কা না করে বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও বাকা উপত্যকায় নিয়মিত ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলা চলমান থাকায় পুরো অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লেবানন সরকার এখনো এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই ইসরায়েল তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
যুদ্ধ কৌশল ফাঁস: বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে কি ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি তেহরান-ভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরাসরি সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা সম্ভব না হলেও, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী সংঘাতের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলতে সক্ষম ইরান।
প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই সমরকৌশল নতুন না হলেও এতে আত্মবিশ্বাসের মাত্রা লক্ষণীয়। তেহরানের লক্ষ্য সরাসরি সামরিক বিজয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধের ব্যয়ভারকে ‘অসহনীয়’ করে তোলা। ইরানের এই কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘সহনশীলতা ও বিঘ্ন সৃষ্টি’। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আঘাত সহ্য করেও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান রাষ্ট্রব্যবস্থার টিকে থাকাকেই ‘বিজয়’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুদ্ধলক্ষ্য সাধারণত প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক বিস্তার ঠেকানো। এই ভিন্নধর্মী মানদণ্ডের কারণে এমন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সামরিকভাবে পঙ্গু হয়েও অভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এ ধরনের ঘোষণার কোনো ভিত্তি থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমত এবং শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতেই ইরান এমন বয়ান তৈরি করছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইরানের প্রক্সি সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার ক্ষমতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এই সক্ষমতাই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে রেখেছে, যা গোটা বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি প্রবাসীদের দেশে ফেরা নিয়ে বড় সুখবর
প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে দেশে যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে একমুখী বিমানের টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা, যা দীর্ঘদিনের প্রবাসী ভোগান্তি লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত জানানো হয়। এতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা কম খরচে দেশে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এতদিন হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় অনেক একমুখী ফ্লাইট ফাঁকা অবস্থায় পরিচালিত হতো। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সেই ফাঁকা আসনগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী, মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে মদিনা–ঢাকা–মদিনা এবং জেদ্দা–ঢাকা–জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ধরা হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত। আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়কালে।
এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতির একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে এর জন্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করেন যে, প্রবাসীদের স্বার্থে নেওয়া অনেক ভালো উদ্যোগ সঠিক বাস্তবায়ন ও তদারকির অভাবে টেকসই হয়নি। তাই এই কর্মসূচি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে এবং ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
-রাফসান
দুবাইয়ের রাজপথে এবার সোনার চমক: তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম গোল্ড স্ট্রিট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর বরাবরই তার আকাশচুম্বী অট্টালিকা এবং কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের জন্য বিশ্বের মানচিত্রে অনন্য এক স্থান দখল করে আছে। তবে এবার তারা এমন এক প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে যা আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ দুবাই মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’-এ বিশ্বের প্রথম সোনায় মোড়ানো সড়ক বা ‘গোল্ড স্ট্রিট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইভিত্তিক প্রভাবশালী আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘ইথরা’র পক্ষ থেকে এই ঘোষণাটি দেওয়া হয় গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর। যদিও সড়কটির নির্মাণশৈলী এবং নকশা সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে আনা হবে। এই সড়কটি কেবল একটি যাতায়াতের পথ হিসেবে নয়, বরং পর্যটন শিল্পের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণ বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও জোরালো করতেই দুবাইয়ে এই অত্যাধুনিক গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। আরব আমিরাত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণের বাজার হিসেবে পরিচিত এবং এই নতুন ডিস্ট্রিক্টকে দেশটির ‘হোম অব গোল্ড’ বা স্বর্ণের নতুন ঘর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই বিশেষ অঞ্চলে স্বর্ণ ও গহনা সংশ্লিষ্ট পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে বৃহৎ বিনিয়োগের সব সুবিধা এক ছাতার নিচে পাওয়া যাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫ হাজার ৩৪১ কোটি মার্কিন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে যা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বর্তমানে আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্বর্ণ বাণিজ্যের এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুবাই এখন নিজেদের বিশ্বের প্রধান স্বর্ণ নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।
দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দুবাইয়ের ‘ডি৩৩’ বা ইকোনমিক এজেন্ডার একটি বড় অংশ যা শহরটির খুচরা বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ইথরা ডিরেক্টরদের মতে, গোল্ড স্ট্রিট পর্যটকদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হবে এবং এটি ধাপে ধাপে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হবে। ডিস্ট্রিক্টটিতে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ছয়টি হোটেলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং সোনায় মোড়ানো সড়কের পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, দুবাই কেবল তেলনির্ভর অর্থনীতি নয় বরং বিশ্বমানের বাণিজ্যিক এবং পর্যটন হাব হিসেবে নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে চায়। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এই নতুন পদক্ষেপ আরব আমিরাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর মধ্যপ্রাচ্যে
ওমানে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশির জন্য স্বস্তির খবর এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা আগামী দুই মাসের মধ্যেই পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ওমানের শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশের পথ খুলে যাবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট কনফারেন্স–এর পার্শ্ববৈঠকে এই অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বৈঠকে মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি বাংলাদেশের ড. আসিফ নজরুল–কে জানান, খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা পুনরায় কার্যকর করা হবে।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওমান সরকার ইতোমধ্যে তাদের শ্রমবাজার পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করেছে এবং সেই আলোকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন বন্ধ ছিল ওয়ার্ক ভিসা
বৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করতে ২০২৩ সাল থেকে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে জরিমানা ছাড়াই অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সম্পন্ন হওয়ায় আগামী দুই মাসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উচ্চদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান
আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল শুধু সাধারণ শ্রমিক নয়, বরং প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও নার্সসহ উচ্চদক্ষ পেশাজীবীদের ওমানের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের অনুরোধও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরা
বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নেওয়া অভিবাসন খাতের সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে আইনি সংস্কার, ডিজিটাল প্রক্রিয়ার সম্প্রসারণ এবং প্রবাসে যাওয়ার আগে ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শ্রম সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ
দুই দেশের শ্রমবাজারের সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করতে চলতি বছরের প্রথমার্ধে মাসকাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন ড. আসিফ নজরুল। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত স্বাক্ষরের অনুরোধও জানানো হয়।
এ সময় অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়াই বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ওমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা।
-শরিফুল
মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী দমন-পীড়নের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচশত জন ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালীন তথাকথিত সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয় এবং আন্দোলনকারীরা সরাসরি সরকার পতনের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে গত ৮ জানুয়ারি ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের দমনে মাঠে নামানো হয় বিশেষ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও লাশের সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালীন সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দিশ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই পাঁচ হাজার নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত চূড়ান্ত এবং এটি আর খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই বিপুল প্রাণহানির জন্য ইরান সরাসরি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইসরাইলসহ বেশ কিছু বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সরাসরি অর্থ ও মারণাস্ত্র সরবরাহ করে এই অস্থিরতা উসকে দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, দেশের মানুষের এই রক্তপাতের নেপথ্যে থাকা বিদেশি অপরাধীদের কোনোভাবেই বিনা শান্তিতে পার পেতে দেওয়া হবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা স্বীকার করার আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) তাদের নিজস্ব তদারকির ভিত্তিতে একটি হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছিল। শনিবার তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৩ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল যে, আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর খবর তাদের কাছে রয়েছে যা তারা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করে দেখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তুলনায় ইরানের সরকারি সূত্রের দেওয়া নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বড় এবং এটি আন্দোলনের সময়কার ব্যাপক সহিংসতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন ইরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভ্রমণ ও পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের নজিরবিহীন ভিড়ের কারণে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিড়ম্বনা এড়াতে এবং বাড়তি ব্যয় থেকে বাঁচতে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। এর ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থা এবং হোটেল আবাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওমরাহ প্যাকেজের মূল্যের ওপর।
পরিবহন ও প্যাকেজ মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ওমরাহ অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে যারা বাসে ওমরাহ করতে চান তাদের জন্য প্যাকেজ মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ দিরহাম। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই প্যাকেজের মূল্য বেড়ে ২ হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে।
অন্যদিকে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির হার আরও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম হলেও রমজান শুরু হওয়ার পর তা ৫ হাজার ২০০ দিরহাম থেকে শুরু হয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে যখন মুসল্লিদের ভিড় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, তখন খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
কেন বাড়ছে এই ব্যয়? পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মূলত হোটেল ভাড়াই এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর চাহিদা রমজানে চরমে থাকে। ফলে এই হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অনেক ওমরাহ যাত্রী শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় অপেক্ষা করেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় তারা উল্টো বেশি দাম গুণতে বাধ্য হন।
ভিসা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা হজের প্রস্তুতির সুবিধার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওমরাহ ভিসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ মার্চের পর নতুন করে ওমরাহ ভিসার আবেদন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ওমরাহ পালনের জন্য ২ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীদের দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাই পরামর্শ দিয়েছেন যে, ধর্মীয় ও আর্থিক—উভয় দিক বিবেচনা করে এখন থেকেই পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় শেষ মুহূর্তের বুকিং যাত্রীদের ওপর বিশাল এক আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
পাঠকের মতামত:
- ইতিহাসে প্রথম শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া প্রধানমন্ত্রীর
- রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল
- রোজায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? সমাধান মিলবে ঘরোয়া এই নিয়মেই
- দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতা একুশের চেতনার শত্রু: টিআইবি প্রধান
- সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির
- গণভোটের হ্যাঁঅটোমেটিক কার্যকর হবে, এটাই জুলাই সনদ: এ্যানি
- আজকের টাকার রেট কত? দেখে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ
- আজ শনিবার; রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা
- জেনে নিন রাজধানীতে আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ রাজধানীতে কোথায় কী কর্মসূচি: জেনে নিন সকালে বের হওয়ার আগে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- রমজানের তৃতীয় দিনের ইফতার ও নামাজের সময়সূচি
- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?
- আবারও স্বর্ণের বাজারে বড় উত্থান
- রমজানে অর্ধশত পরিবারের পাশে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- মুরাদনগরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- যমুনা ছাড়ছেন কবে ড. ইউনূস, কোথায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
- ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের
- শেয়ারবাজারে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু
- ২১ ফেব্রুয়ারিতে ডিএমপির সড়ক নির্দেশনা, কোন পথ এড়াবেন
- হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি হবে লক্ষ্যবস্তু: ইরান
- "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার: ২০ ফেব্রুয়ারি
- বের হওয়ার আগে জেনে নিন আজ যেসব মার্কেট বন্ধ
- এইচএসসি ২০২৬: ফরম পূরণের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নীতিমালা প্রকাশ
- শুক্রবারের পূর্ণ নামাজ সূচি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- রাজধানীতে আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- বাংলাদেশের ম্যাচসহ আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন
- এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান
- ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কমিটি: দায়িত্বে আছেন যারা
- সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা চাঁদা নয়: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
- স্বর্ণের বাজারে টানা উত্থান: বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর
- ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
- মহাকাশ বিজয়ে ইরান: সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো জাম-এ-জাম ১
- ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
- পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে
- ১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- রোজার প্রথম দিনেই মুরগি ও সবজির দামে লাগামহীন রাজধানীর বাজার
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে
- প্রথম রোজার ইফতারে চমক! ঘরেই তৈরি করুন মুচমুচে ও সুস্বাদু চিকেন পাকোড়া
- দুপুরের নির্জনতা ভেঙে হঠাৎ কেঁপে উঠল সিলেট: বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
- ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নতুন সরকারের প্রতি ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা: অভিনন্দন বার্তায় চাঞ্চল্য
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- রমজানে স্কুল খোলা নিয়ে হাইকোর্টের বড় রায়: বদলে গেল ছুটির পুরো ক্যালেন্ডার
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- প্রাথমিকে রোজার ছুটি নিয়ে নতুন তথ্য জানাল অধিদপ্তর
- অগ্নিমূল্য স্বর্ণের বাজার, ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম বাড়লো ২২১৬ টাকা
- বিশ্ববাজারের প্রভাব পড়ল দেশের স্বর্ণবাজারে: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের অংশবিশেষ
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিভাবক হলেন এহসানুল হক মিলন
- মঙ্গলবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ বিকেলেই শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?
- বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে স্বর্ণের হ্রাসকৃত মূল্য
- আকাশছোঁয়া স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি: আজ থেকেই দাম কমছে
- ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ








