জাতি শুমারি: মোদীর ‘সম্মান রাজনীতি’ না কি ভোটের অঙ্কের চালাকি?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১২ ১৩:০৪:১১
জাতি শুমারি: মোদীর ‘সম্মান রাজনীতি’ না কি ভোটের অঙ্কের চালাকি?

২০২৫ সালে ভারতের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে এক উল্লেখযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, আগামী জনগণনায় জাতিগত (caste-based) উপাত্ত সংগ্রহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ এবং সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পুরোপুরি বিপরীত।

আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত শুমারির বিরোধিতা করে আসছে এই যুক্তিতে যে, এটি হিন্দু সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করবে। এমনকি, ২০২৩ সালের নির্বাচনী প্রচারে মোদী নিজেই জাতি-ভিত্তিক রাজনীতিকে ‘দেশ ভাগের’ চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেখান থেকে মোদী সরকারের এই রীতিবিরুদ্ধ ইউটার্ন এখন বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু।

?️ বিহার: রাজনীতির ল্যাবরেটরি ও জাতিভিত্তিক ভোটের ব্যারোমিটারএই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রথম ও প্রধান কারণ হলো বিহার রাজ্য। বহু দশক ধরে এখানে ভোট রাজনীতিতে জাতপাত একটি নির্ধারক ফ্যাক্টর। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ২০২২ সালেই একটি রাজ্যভিত্তিক জাতিগত সমীক্ষা চালান, যা বিপুল আলোড়ন তোলে। তাঁর দল জেডিইউ এনডিএ-র অংশ, ফলে মোদী সরকার এই জাতীয় দাবি অস্বীকার করতে পারছিল না।

একই সঙ্গে, কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট যদি বিহারে জাতিগত রাজনীতি জোরদার করে, তাহলে বিজেপি বিপাকে পড়বে। তাই জাতি শুমারির অনুমোদন এখন কৌশলগত চাল—যা প্রতিপক্ষের হাত থেকে একটি কার্যকর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার উপায়ও বটে।

? উচ্চবর্ণের রাজনৈতিক ভিত দুর্বল, নতুন ‘নিম্নবর্ণ’ শ্রেণির উত্থানবিজেপির মূল সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি এখন অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব ও সুযোগ সীমাবদ্ধতায় ভুগছে। যদিও ‘ইকনমিক্যালি উইকার সেকশন (EWS)’ নামে উচ্চবর্ণ দরিদ্রদের জন্য কোটা চালু করা হয়েছে, বাস্তবে সরকারি চাকরির সুযোগ কমে এসেছে।

তাই মোদী সরকার এখন ‘নিও-মিডল ক্লাস’ অর্থাৎ নিম্নবর্ণ থেকে উঠে আসা নবাগত মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আকৃষ্ট করতে চায়। জাতি শুমারির মাধ্যমে এই শ্রেণির সংখ্যাগত ভিত্তি নিশ্চিত করা যাবে, যা ভবিষ্যৎ ‘targeted policy’-এর জন্য কার্যকর হবে।

?‍? সম্মান ও কল্যাণের রাজনীতি: গরিব ভোটারের মন জয়লোকনীতি-সিএসডিএস জরিপ অনুযায়ী, গরিব ভোটারদের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা ২০০৯ সালের ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ৩৭ শতাংশে। মোদী এই গরিব শ্রেণিকে টানার জন্য ব্যবহার করেছেন ‘সম্মানের রাজনীতি’ নিজের দরিদ্র, শ্রমজীবী পটভূমিকে তুলে ধরে, ‘উজ্জ্বলা’, ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’সহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

জরিপ বলছে, যেসব মানুষ এই প্রকল্পগুলোর সুবিধা পেয়েছে, তাদের মধ্যে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার হার অনেক বেশি। জাতিগত শুমারি সেই শ্রেণির জন্য ‘স্মারক মর্যাদা’ রাষ্ট্র তাঁদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছ।

বিজেপির দীর্ঘদিনের অস্ত্র ধর্মীয় মেরুকরণ বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, ‘নিম্নবর্ণ’ হিন্দুদের মধ্যেও মুসলিমবিরোধী মনোভাব উচ্চবর্ণের মতোই প্রবল। এই মনোভাবের সুযোগ নিয়েই বিজেপি হিন্দুত্বের ছায়ায় সব শ্রেণির ভোটারকে টেনে আনতে চেয়েছে।

কিন্তু জাতীয় স্তরে জাতি ভিত্তিক দাবি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, শুধু ধর্ম দিয়ে আর ভোট ধরে রাখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ওবিসি (অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি) ভোটারদের মধ্যে বিরোধীরা আবার সক্রিয়। সমাজবাদী পার্টির মতো দল ‘নিম্ন ওবিসি’ গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

২০২৪ সালে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীদের ৩১ শতাংশ ছিল উচ্চবর্ণ, যেখানে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটে এটি ১৯ শতাংশ। জাতি শুমারি বাস্তবায়নের পর যদি বিজেপিকে ‘নিম্নবর্ণ’ প্রার্থী বাড়াতে হয়, তাহলে দলীয় অভ্যন্তরে উচ্চবর্ণ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে। এটি দলের ঐতিহ্যবাহী সমর্থকদের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করতে পারে।

তাছাড়া, জাতিগত তথ্য প্রকাশের পর ‘জনসংখ্যার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব’-এর দাবিও বাড়বে, যেমন সংরক্ষণের হার, বাজেট বরাদ্দ ইত্যাদি। বিজেপির জন্য এটি একটি দ্বিধাজনক পরিস্থিতি তারা কি বাস্তবতা মেনে সামঞ্জস্য আনবে, নাকি দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপেই পিছু হটবে?

মোদী সরকারের জাতিগত শুমারির অনুমোদন কোনো একক কারণের ফল নয়। এটি রাজনৈতিক চাপে নেওয়া সিদ্ধান্ত, সামাজিক বাস্তবতা থেকে পালিয়ে না গিয়ে তা ব্যবস্থাপনার চেষ্টা। এতে রাজনৈতিক ঝুঁকি যেমন আছে, তেমনি সম্ভাবনাও আছে বিশেষ করে মোদী সরকারের নতুন সামাজিক ভিত্তি নির্মাণের কৌশল সফল হলে।

তবে এটাও ঠিক, এই সিদ্ধান্ত বিজেপির ঐতিহ্যবাহী অবস্থানের একটি মৌলিক পরিবর্তন যা দেখায়, ভারতের ভোটার সমাজ বদলাচ্ছে, আর রাজনৈতিক দলগুলোর সে পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে হচ্ছে।

-শরিফুল, নিজস্ব প্রতিবেদক


ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৯:৫৭:৪১
ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে এবার সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মিত্র দেশগুলোকে শক্তি প্রয়োগের যে আহ্বান ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অবাস্তবসম্মত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ইরান হরমুজ প্রণালিকে ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর’ জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটিকে ‘মুক্ত’ করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কোনো মিত্র দেশই এতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প একপর্যায়ে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো।’

এর জবাবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার ধারণা পুরোপুরি অবাস্তব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সামরিক শক্তির বদলে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি জরুরি।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান বিরোধী এই সংঘাতে ফ্রান্স অংশ নেবে না, কারণ এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিচালিত একটি অভিযান। তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহের সীমিত সামরিক অভিযান দিয়ে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক ইস্যুর সমাধান সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের অস্থির নীতির সমালোচনা করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে সিরিয়াস হতে চাই, তখন প্রতিদিন আগের দিনের কথার বিপরীত কথা বলা চলে না।” ম্যাক্রোঁর এই শক্ত অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের একঘেয়েমি নীতির বিরুদ্ধে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৮:০৯:১৮
ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তোলে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারটি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জলপথগুলো এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে।

চীনের এই আহ্বান মূলত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান, যা সংঘাত নিরসনে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে বাস্তবতা হলো, মাঠের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রাফসান


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৪:২৪:২০
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, যেখানে এবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের আড়ালে থাকা একটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও এই দাবি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কৌশলগতভাবে জর্ডান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির আকাশপথ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে হামলা চালানো ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একাধিক ঘাঁটি এই হামলার আওতায় এসেছে।

এর মধ্যে গত ২৭ মার্চের একটি হামলায় একটি মার্কিন নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগেও জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমান ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যা এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

-রাফসান


ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৩:০৫:৫৪
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যেখানে স্থল অভিযানের জবাবে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের গভীরে এবং সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে হাইফার নিকটবর্তী কিরিয়াত আতা এলাকায় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় আকারের রকেট বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধকৌশল হিসেবে ড্রোন স্বার্ম ব্যবহার করে ইভেন মেনাখেম বসতিতেও আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকাটি সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা প্রায় ৬০টি সফল সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংসের দাবি, সামরিক বিমানের বিরুদ্ধে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং দীর্ঘপাল্লার ট্যাকটিক্যাল মিসাইল হামলা।

এই হামলার বিস্তার শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; গাজার নিকটবর্তী আশদোদ শহর পর্যন্ত হামলার প্রভাব পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, যেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই মালকিয়া, মেতুলা এবং আইনাতা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে জেনায়জেল ও ঘদামতা উচ্চভূমিতে সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গোলন্দাজ আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন–এর বরাতে জানা যায়, এসব হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সংঘর্ষের তীব্রতা স্বীকার করেছে।

সূত্র: আল মায়াদিন


বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৫২:০৮
বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর ইরানও পাল্টা ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরাজয় এবং নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে। তারা আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, গত চার সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের নৌ, বিমান ও ড্রোন সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

অন্যদিকে, ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার জবাবে আরও বড় আকারের পাল্টা আঘাত হানবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত এবং যুদ্ধ শেষের পথে, কিন্তু ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৪৭:৩৪
৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো বাগদাদের কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

এই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিক, কূটনৈতিক স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এক মার্কিন সাংবাদিক অপহরণের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার আর্টেমিস-II মিশনের সফল উৎক্ষেপণের প্রশংসা করেন। এরপর ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক মাসের লড়াইয়ে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন নগণ্য।

ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাদের হাতে আটকের ঘটনাকে তিনি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ এবং এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা এখন অনেক বেশি নিরাপদ।

/আশিক


বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৪০:০৬
বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির রাজধানী বুজুমবুরার উপকণ্ঠে মুসাগা এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (AP) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘাঁটির একটি গোলাবারুদের গুদামে আগুন লাগার পর এই বিপর্যয় ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গ্যাসপার্ড বারুতোজা জানান, গুদামে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যার শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা বহুদূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোলাবারুদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যান। আহতদের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্য রয়েছেন, তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালোইস এনডাইকেঙ্গুরুকিয়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, কেউ যেন ছড়িয়ে পড়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানায়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয় বরং একটি দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের আপাতত বোহাঙ্গা ক্যাথোলিক প্যারিসে রাখা হয়েছে এবং অভিভাবকদের সেখানে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:২৮:৩১
যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দখলদার ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। হামলার পরপরই তেল আবিবসহ শেফেলা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে এবং কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলাকে ‘বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি


ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:০৭:৩৪
ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অচিরেই ‘আমেরিকার মূল ভূখণ্ড, ইউরোপ এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে’ আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে নেই।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত মাসে উপকূল থেকে ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা তাদের বর্ধিত সামরিক সক্ষমতারই বড় প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যতটা সম্ভব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চেয়েছিল এবং তাদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র ছিল যা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি। আমরা সেগুলো সব ধ্বংস করে দিয়েছি।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানাচ্ছে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যদিও ইরানের কাছে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি, কিন্তু ৬ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের এখনো তৈরি হয়নি।

এমনকি ২০২৫ সালের একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের এই সক্ষমতা অর্জন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রাম্পের এই দাবি তাই তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: