হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১১:৩৩:৫০
হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। সিরিক এলাকায় মার্কিন হামলার পর ইরানি সামরিক বাহিনীর এই প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আইআরজিসির নৌ কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারবে না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে যারা চুক্তি বা চলাচলের শর্ত ভঙ্গ করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আলাদা সামরিক বিবেচনার বিষয়। আইআরজিসির ভাষায়, এসব ঘাঁটি আগামী দিনগুলোতে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে।

এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করাই ছিল ওই অভিযানের উদ্দেশ্য।

মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ নষ্ট করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রাসনের জবাব।

কিছু প্রতিবেদনে কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব হামলায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কোথাও কোথাও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি বিবৃতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মূল্যায়ন ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর অন্যতম এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ভবিষ্যৎ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ের সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি পাল্টাপাল্টি হামলার পথ থেকে সরে না আসে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোও সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সূত্র: আল জাজিরা


ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২১:৩৬:২০
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বার্তা দিল চীন
ছবি : সংগৃহীত

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের তীব্র বিরোধিতা করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনায় সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র চীন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক যেকোনো সংকট, সীমানা বিরোধ বা কূটনৈতিক মতপার্থক্য কোনো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং কেবল শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতিরেকে এবং আন্তর্জাতিক আইনি নিয়মাবলী তোয়াক্কা না করে চালানো একতরফা সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। একই সাথে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সমতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্বের বৃহৎ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার উদাত্ত আহ্বান জানান এই শীর্ষ চীনা প্রতিনিধি।

বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হান ঝেং বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। চলমান যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের কারণে যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

দীর্ঘদিনের জটিল ফিলিস্তিন সংকট প্রসঙ্গে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, ‘ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই’—এই সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের সঠিক শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কালবিলম্ব না করে ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইউক্রেন ও কিউবা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে হান ঝেং জানান, ইউক্রেন সংকট নিরসনে চীন তার নিজস্ব মাধ্যমে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সর্বশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী সুষম ও মানবকেন্দ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে চীন।

/আশিক


লাখ লাখ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচিত: বিজ্ঞানীরা পেলেন নতুন তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৪৮:২৬
লাখ লাখ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচিত: বিজ্ঞানীরা পেলেন নতুন তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

বাদুড়ের উৎপত্তি এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা আমেরিকা মহাদেশে নয়, বরং ইউরোপের ভূখণ্ডে হয়েছিল। প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে ইউরোপ মহাদেশেই বাদুড়ের প্রথম পূর্বপুরুষের আবির্ভাব ঘটেছিল বলে বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ প্রকাশিত এক সর্বাধুনিক গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে। অর্থাৎ, গবেষণার তথ্যমতে ডাইনোসরদের বিলুপ্তির সময়কালেই পৃথিবীতে প্রথম প্রাচীন বাদুড়ের অস্তিত্ব রূপ পেয়েছিল।

সংবাদমাধ্যম ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই বিস্তৃত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ১০৩টি ভিন্ন প্রজাতির বাদুড়ের জিনগত বিন্যাস (জিনেটিক ডেটা) এবং ৪৪টি বিলুপ্ত জীবাশ্ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এটি বাদুড়ের বিবর্তন ও ইতিহাসের ওপর বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে সমৃদ্ধ গবেষণাগুলোর একটি। গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন যে, ইউরোপে জন্ম নেওয়া এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি প্রথমে আফ্রিকায় পাড়ি জমায় এবং পরবর্তী সময়ে প্রজাতি ভেদে এশিয়া, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

গবেষণার অন্যতম চমকপ্রদ তথ্য হলো, আকাশে ডানা মেলে ওড়া এবং অন্ধকারের বুকে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে দিক বা শিকার চেনার ক্ষমতা (ইকোলোকেশন) বিবর্তনের অনেক পরে অর্জিত হয়নি। বরং বাদুড়ের শুরুর দিকের প্রজাতিগুলোতেই এই অসাধারণ দুই ক্ষমতা বিদ্যমান ছিল। বৈজ্ঞানিক এই জিনগত বিশ্লেষণ থেকে বাদুড়ের অনন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বয়স বৃদ্ধিতে জিনগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার নেপথ্য কারণগুলোও পরিষ্কার হবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে প্রায় ১,৫০০ প্রজাতি ছড়িয়ে থাকা এই প্রাণীটি পরাগায়ন, বীজ বিস্তার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় নিধনে বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: ইউরো নিউজ


ইসরায়েলি মানচিত্রের ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:২৫:০৭
ইসরায়েলি মানচিত্রের ভুলে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ফাঁস
গাজার উত্তরে একটি ইসরায়েলি আর্টিলারি ঘাঁটি। ছবি: গভম্যাপ

যুদ্ধকালীন সময় সামরিক তথ্য এবং সংবেদনশীল কৌশলগত দৃশ্য চরম নিয়ন্ত্রণের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই এক বড় ভুল করে বসেছে ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র সেবা সংস্থা 'গভম্যাপ'। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের ওয়েবসাইটে উপত্যকার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে ফেলে তারা। যাতে গাজার উত্তরাঞ্চলের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি খোদ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অন্তত ১১টি গোপনীয় ও কৌশলগত স্থাপনার ছবিও জনসম্মুখে চলে আসে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়। ওই অ্যাকাউন্টটি মূলত উন্মুক্ত উৎসের ভূ-সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। ইসরায়েলি সেনার এই প্রযুক্তিগত ভুলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তড়িঘড়ি করে নিজেদের সরকারি পোর্টাল 'গভম্যাপ'-এ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও স্পর্শকাতর সেনাক্যাম্পের স্যাটেলাইট ভিজ্যুয়াল পুনরায় ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

অস সতর্কতাবশত প্রকাশ পাওয়া ছবিগুলো মূলত ২০২৫ সালের তোলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ের জন্য অনলাইনে দেখতে পাওয়া সেই উচ্চমাত্রার ছবিগুলোতে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরের ব্যাপক বিপর্যয়ের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে। এসব অঞ্চলে শত শত বহুতল ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। গাজা সিটির শুজাইয়া ও জেইতুন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের ফলে অধিকাংশ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানে জনজীবনের কোনো স্বাভাবিক অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

অন্যদিকে এই ছবিগুলোতে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় ছিল ইসরায়েল সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্ত বাফার জোন ও সীমান্ত ক্রসিংয়ে তৈরি করা সামরিক ঘাঁটিগুলো। কারনি ক্রসিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বে গাজার ভেতরে ইসরায়েলের একটি অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এছাড়া পূর্ব জাবালিয়া অঞ্চলে মাটির প্রকাণ্ড প্রাকার দিয়ে ঘেরা এলাকায় বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি সাঁজোয়া ও সামরিক যান মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। ছবিগুলোর কপি সংরক্ষণ করে অন্য একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেছে 'সোয়ার অ্যাটলাস'। স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষণ সংস্থা দিয়ে মিডল ইস্ট আই এসব ছবির সম্পূর্ণ সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও গাজায় ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হওয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর সাথে এই স্যাটেলাইট ছবির ব্যাপক মিল রয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই


যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, আদালতে: ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:১৫:১৫
যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, আদালতে: ইস্তাম্বুলে এরদোয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত স্থান জাতিসংঘের কোনো মঞ্চ নয়, বরং আদালতের কাঠগড়া বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণহত্যা চালায়, তাদের বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ২১তম মুসিয়াদ এক্সপো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও ২৯তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের স্থান কোনো বৈশ্বিক আলোচনা মঞ্চ হতে পারে না; তাদের সংঘটিত অপরাধ এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির জন্য আদালতের মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহি করতে হবে। বিচারিক প্রতিক্রিয়া না থাকলে এই ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

চলমান ফিলিস্তিন সংকটে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান। গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার ও সার্বভৌম অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণ একা কিংবা পরিত্যক্ত নন। আঙ্কারা তার সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ও প্রভাব প্রয়োগ করে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সত্য তুলে ধরা অব্যাহত রাখবে। বর্তমানে তুরস্ককে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলটি একটি বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা কার্যকারিতা হারিয়ে চরম অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি তুরস্কের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী নানা অস্থিরতার পরও টানা ২৪টি প্রান্তিকজুড়ে তুরস্ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ১৬তম এবং সমগ্র ইউরোপের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এরদোয়ান তথ্যের মাধ্যমে জানান যে, ২০০২ সালে যেখানে তাদের মোট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৩ হাজার, সেখানে ২০২৫ সালের তথ্যমতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজারে। ২০ দিন আগে ঘোষিত নতুন মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামীতে দেশটিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আঙ্কারা সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৫৮:০১
৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক কমাতে সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র: এআই নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সংলাপ
ছবি : সংগৃহীত

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা হ্রাসে ঐতিহাসিক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। দুই বিশ্ব পরাশক্তি ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পারস্পরিক বাণিজ্য শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত হওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির উদীয়মান ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন দ্বিপাক্ষিক সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে গৃহীত আট দফা শীর্ষ চুক্তির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করে নতুন একটি বাণিজ্য পরিষদ গঠন এবং ইতিপূর্বে কুয়ালালামপুরে হওয়া আলোচনার সিদ্ধান্তগুলোকে আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যকার ঘোষিত বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভাব্য বড় অর্থনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সেই সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একমত হন।

এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্র পুনর্গঠনে দুই দেশ একটি সমন্বিত আলোচনা কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা আগামী নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত সংকট বা সাইবার ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিরসনে একটি ডেডিকেটেড বা পৃথক যোগাযোগের চ্যানেল স্থাপনের বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফ্রন্টের বাইরেও এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) এবং জি-২০ (G20) সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে ওয়াশিংটন ও বেইজিং পরস্পরকে পূর্ণ সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়।

পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিচারেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দুই নেতাই স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। একই সাথে লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো দেশ বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর একতরফা ট্রানজিট টোল আরোপের ধারণাকে সরাসরি নাকচ করেন তারা। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব স্মরণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুই দেশের মিত্র শক্তির ভূমিকা পুনরুল্লেখের মধ্য দিয়ে তিন দিনের সফর শেষে চিনের প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স


মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৭:৩৪:১৬
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা প্রযুক্তি? সিএনএনের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন
ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই প্রযুক্তিগত ও সামরিক নির্ভুলতা বৃদ্ধির পেছনে চীনা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সরবরাহ করা উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি ও ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সম্প্রতি তৈরি একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনা স্যাটেলাইটের সরবরাহ করা সুনির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে গত জুলাই মাসে জর্ডানের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে হামলা চালায় ইরানি বাহিনী, যাতে তিন জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির বাইরের গোয়েন্দা সহায়তা ছাড়া এমন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানো ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী মার্কিন পাহারাদারি জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযান শনাক্ত করতেও ইরানি বাহিনীকে চীনা জিওস্প্যাশিয়াল ডেটা সাহায্য করছে। এর ফলে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার নিখুঁত সম্ভাবনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে আরও জানা গেছে, চীনা ভূ-স্থানিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাপ-অনুসরণকারী এক বিশেষ ধরনের ড্রোন কৌশলগতভাবে প্রয়োগ করছে, যা উড্ডয়নের পর মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পয়েন্টে (যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা 'নাকল' হিসেবে অভিহিত করেছেন) পৌঁছানোর সঠিক সময় হিসাব করে একসাথে বিপুল সংখ্যক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে, যা জাহাজের কাঠামো থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে আঘাত হানে।

সম্প্রতি লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের এক ডজনের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করলেও, চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে।

তবে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিপূর্বে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চীনের স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলোর ওপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলার দাবি করেছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরান সংঘাতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে চীনের কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।

তবুও দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ কারিগরি সহায়তায় ইরান যে তাদের ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক হামলা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে—সে বিষয়ে একমত মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : সিএনএন


হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ২১:২১:৫৮
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা মিসরের
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে দেশটির পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে মিসর। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশে সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

সাক্ষাৎকারে আবদেলাত্তি আরও বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ এবং যেকোনো সংকটে মিসর সবসময় রিয়াদের পাশেই অবস্থান করবে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়েও কায়রোর শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বদর আবদেলাত্তি জানান, গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে মিসর।

তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসার দাবিদার।

এছাড়া ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বা উচ্ছেদের যেকোনো চক্রান্তকে মিসরের জন্য একটি স্পষ্ট 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, কায়রো কখনোই ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হতে দেবে না।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:২১:০৩
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ভারত মহাসাগরে ছড়ানোর হুমকি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক আক্রমণ চালালে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সতর্কবার্তা ব্যক্ত করেন। আধা-সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, সংঘাত ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরান ও তার মিত্রদের পাল্টা জবাবে সংঘাতের পরিধি ভারত মহাসাগর এবং তারও বাইরের অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

সম্প্রতি সৌদি জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থান রাজনৈতিক ও সামিরকভাবে আরও শক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালিটি সুয়েজ খালের মাধ্যমে এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ। পশ্চিমাবিশ্ব ও আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান ইয়েমেনের হুতিদের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, যদিও তেহরান শুরু থেকেই এই সংঘাতে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে আসছে।

মার্কিন হামলা ঠেকাতে এর আগেও ইরানি প্রশাসনিক ও সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর বিস্তৃত করার হুমকি দিলেও, এবারই প্রথম সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগরের ভৌগোলিক অঞ্চলকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আওতাভুক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হলো। উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত কমানো ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ হিসেবে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিউইয়র্কে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়। উক্ত বৈঠকে অর্থনৈতিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করার শর্ত প্রদান করে তেহরান। এ দিকে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এই চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় ইয়েমেনের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টিও তাদের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে টেবিলে রাখা হয়েছে।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:০৫:৫১
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কৌশলগত জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উত্থাপিত পূর্বশর্ত মেনে নিতে পাঁচ দিনের সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রণালিটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধই থাকবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেরিকার সাথে কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে না তেহরান। পাকিস্তানের গণমাধ্যম সামা টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

মেজর জেনারেল রেজাই দাবি করেন, জাতিসংঘে চলমান আন্তর্জাতিক বৈঠকের সুযোগে আমেরিকার কাছে ইরানের শর্তাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। প্রণালি সচল করার প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বপ্রথমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে হরমুজ প্রণালি এখন কূটনৈতিক দরকষাকষির মূল হাতিয়ার ও কৌশলগত নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান আর অতীতের শিথিল কূটনৈতিক অবস্থানে ফিরে যাবে না এবং পূর্বে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক'-এর পুরনো শর্তসমূহ গ্রহণ করতে আর বাধ্য নয়। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল মৌখিক আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে কাজের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পাশাপাশি ইরানি আকাশসীমা ও বিমান চলাচলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তাকারী আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, যেসব দেশ ইরানি বেসামরিক বা বাণিজ্যিক বিমানকে নিজেদের বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেবে না, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সেসব দেশের বিমানবন্দরগুলো অচলাবস্থায় ফেলে দেবে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথটি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধস ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুত্র: রয়টার্স

পাঠকের মতামত: