৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৩৪:৫৩
৯ম পে স্কেলের সবুজ সংকেত: জেনে নিন কোন গ্রেডের মূল বেতন কত
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন ‘নবম জাতীয় পে স্কেল’। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। এই লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোতে বর্তমানের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে বৈষম্য কমাতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:৯.০৭৬ থেকে কমিয়ে ১:৮ করা হয়েছে। সব পর্যায়ে মূল বেতন দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন কর্মচারী বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মাসিক মোট ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা বেতন পাবেন।

কমিশনের আলোচনায় দুটি মূল বিকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে: প্রথমত, অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সরাসরি দ্বিগুণ করা। এর ফলে চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষ, ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক, সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক, নবম গ্রেডের প্রভাষক, ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারী এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের মূল বেতনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নতুন পে স্কেলের আরেকটি আলোচিত দিক হলো পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন। বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ এই পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হতে পারে। তবে গেজেট যখনই হোক, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা কার্যকর করা হবে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পে স্কেলে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১০:২৯:২৩
সোনার দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, রুপার বাজারেও পরিবর্তন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও উচ্চমূল্যের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকারও বেশি দামে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ফলে কয়েক মাস আগের তুলনায় স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুধু উন্নতমানের স্বর্ণই নয়, অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকায়। একই সময়ে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা।

অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও দেড় লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ জুন সকাল ১০টা থেকে এই মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত একই মূল্য বহাল থাকবে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। বর্তমানে উন্নতমানের প্রতি ভরি রুপা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং কাঁচা স্বর্ণের দামের ওঠানামা দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ে এবং তার প্রভাব দ্রুত স্থানীয় বাজারেও এসে পড়ে।

এদিকে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ব্যক্তিদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে ক্রেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু চার্জ যুক্ত হয়। সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।

-রাফসান


ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ০৮:৫৯:২৫
ডলার ও ইউরোর দাম স্থিতিশীল, প্রবাসী আয়ে স্বস্তি

দেশের ব্যাংকিং খাত ও খোলা বাজারে আজ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান আজ ১২২.৭৫ টাকাতে অবস্থান করছে। ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরোর দাম আজ বাজারে ১৪১.৫০ থেকে ১৪২.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দর আজ ১৬৩.৫০ থেকে ১৬৪.৫০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের দাম আজ ৩২.৭০ থেকে ৩২.৮০ টাকা এবং আমিরাতি দিরহাম ৩৩.০০ থেকে ৩৩.৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এশিয়ান অঞ্চলের মুদ্রাগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০.৩০ থেকে ৩০.৫০ টাকা, সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫.৩০ থেকে ৯৫.৫০ টাকা এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি আজ ১.২৯ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় জুনের মাঝামাঝিতে এসে মুদ্রাবাজারে বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে আমদানিকারকদের জন্য এলসি (LC) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে এই দরে সামান্য তারতম্য হতে পারে।


আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১০:০৯:০৪
আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাপে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও এক ধাপ ঊর্ধ্বমুখী হলো।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, একই দিন সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে এবং মঙ্গলবার (১৬ জুন) সারাদেশের অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিও দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকায়।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর মাত্র দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১৩ জুনও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সে সময় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য যারা স্বর্ণ কিনে থাকেন, তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়ছেন।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের অস্থিরতা দেশের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩৬ বার কমানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণবাজার ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছরে মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি করা হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।

-রাফসান


নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৫৮:৩৭
নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আগামী জুলাই মাস থেকে বাস্তবায়নের নীতিগত পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বা বেসিক বেতনের ওপর ভিত্তি করে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাব পেশের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই এই উদ্যোগের কথা স্পষ্ট করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নতুন কোনো পে স্কেল দেওয়া হয়নি, অথচ এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের এই চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বেতন বৃদ্ধির গড় হার হবে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।

এর মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল বা কাঠামোটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হলে এই অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ আর্থিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি বাতিল করা হবে।

নতুন এই বেতন বিন্যাসের হিসাব অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর মোট বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত হার দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ শতাংশে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সকল সমন্বয় শেষে এই নিট বেতন বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার আসবে, তবে জাতীয় অর্থনীতির ওপর হঠাৎ বড় চাপ এড়াতে এটি ধাপে ধাপে দেশের মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে।

/আশিক


দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১২:০৮:৫৫
দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুন বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছিল। সে সময় প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আরও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি যোগ হলো।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছর স্বর্ণের দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৭৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও স্বর্ণবাজার ছিল অত্যন্ত অস্থির। ওই বছর মোট ৯৩ বার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি করা হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

-রাফসান


এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন দর?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ০৮:৩০:৫৬
এক লাফে বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন দর?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা চার দফা মূল্যহ্রাসের পর আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক লাফে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেড়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

মাত্র দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ১১ জুন বাজুস সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় করেছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সেই নিম্নমুখী ধারা স্থায়ী হয়নি।

জুন মাসজুড়ে স্বর্ণবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২ জুন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এরপর ৬ জুন আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ১০ জুন ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমানো হয়। সর্বশেষ ১১ জুনও দাম কমানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ পরিস্থিতি সরাসরি দেশের স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দামের বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বাজুস ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনাও দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

তবে গহনার নকশা, কারুকাজ, ওজন এবং মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে বাস্তবে ক্রেতাদের গহনা কিনতে ঘোষিত মূল্যের চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

-রফিক


ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৪৪:৫৪
ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বড় অঙ্কের বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। এই বৈদেশিক ঋণের অর্থ যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে এবং তা সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রোস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করে হিসাব করলে বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগে গত ১০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গিয়েছিল, দেশের মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী তা ছিল ৩০ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার। এডিবির বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড়ের পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রিজার্ভের এই সূচক ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত সময়ে তীব্র ডলার সংকটের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল এবং একপর্যায়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ কমে ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি ঘটেছে এবং দেশে এখন প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে আমদানি ব্যয় বা দায় পরিশোধ ধরা হলে, এই মজুতকৃত রিজার্ভ দিয়ে দেশের সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় অনায়াসে মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও অর্থনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের জন্য অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত থাকাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের সার্বিক রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। তৎকালীন সময়ে আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক অর্থায়ন ও ঋণ সহায়তার ফলে দেশের অর্থনীতির এই অন্যতম প্রধান সূচকটি আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে।

/আশিক


চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১০:৫৬:৪১
চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা চার দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এক বৈঠক শেষে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই দিন সকাল ১০টা থেকে সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায়।

এর আগে চলতি মাসের ২ জুন, ৬ জুন, ১০ জুন এবং ১১ জুন—এই চার দফায় ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা হ্রাস পেয়েছিল। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই ধারা ভেঙে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বাজার।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়লে স্থানীয় বাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্য সংশোধন হলেও বর্তমানে কাঁচা স্বর্ণের সংগ্রহমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প ছিল না। তবে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করবে স্বর্ণের মূল্য কোন দিকে যাবে।

-রাফসান


বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ১৮:৩২:৩৭
বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‌‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে নতুন অর্থবছরকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এবারের বাজেটকে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য কল্যাণমুখী ও সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের প্রতিটি বিষয়ই মূলত এক একটি প্রত্যক্ষ নীতি এবং আমরা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, দেশের সব নাগরিকের জন্য আমরা কীভাবে সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করব, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রী নিজের একটি ব্যক্তিগত ও রসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমার এক বন্ধু আমাকে কিছুটা বামপন্থি-ঘেঁষা নীতির অনুসারী বলে আখ্যা দিয়েছিল, কারণ আমরা এবার বাজেটে প্রচুর সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। তবে তাঁর মতে, এটি কোনো তত্ত্বের বিষয় নয়, বাস্তব সত্য হলো দেশের যে মানুষগুলো দীর্ঘকাল ধরে অর্থনৈতিক নীতির বাইরে বা অবহেলিত ছিলেন, তাদের মূল স্রোতে আনা সরকারের প্রধান কর্তব্য।

দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সবসময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল, তা হলো কীভাবে এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়। আর ঠিক এখানেই 'সৃজনশীল অর্থনীতি'র ধারণাটি চলে আসে, যার মাধ্যমে দেশের সব নাগরিককে অর্থনীতির আওতার মধ্যে আনা সম্ভব হবে।

এই সৃজনশীল অর্থনীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী দেশের গ্রামীণ কারিগর, নাট্যশিল্পী, গায়ক, ডিজাইনার বা চিত্রশিল্পীদের উদাহরণ টেনে বলেন, সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গ্রামীণ কারিগরদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আছে, কিন্তু তাদের কখনোই অর্থনীতির মূল স্রোতে আনা হয়নি এবং তাদের পণ্যগুলো থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো টেকসই ব্যবস্থাও ছিল না।

অথচ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা যায়, তবে দেখা যাবে যে বিশ্বের এমন অনেক উন্নত দেশ আছে যারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতি থেকেই প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করছে। উদাহরণস্বরূপ আশির দশকে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না, কিন্তু তারা শুধু এই সৃজনশীল অর্থনীতিতে সফলভাবে প্রবেশ করেই নিজেদের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে ফেলেছিল। বাংলাদেশও সেই একই মডেলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার স্বপ্ন দেখছে।

তবে অর্থমন্ত্রী বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কল্যাণমুখী বলে যতই আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করুন না কেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই নীতিগত রূপরেখাকে বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে আনা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির বাজারে এই বিশাল কল্যাণমূলক তহবিলের জোগান দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে প্রকৃত প্রান্তিক মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে না। শুধু নীতি গ্রহণ বা কাগজের সুন্দর প্রকল্পই যথেষ্ট নয়, বরং থাইল্যান্ডের মতো বৈশ্বিক বাজার সংযোগ নিশ্চিত না করতে পারলে গ্রামীণ কারিগরদের মূল স্রোতে আনার এই সৃজনশীল অর্থনীতির ধারণাটি কেবল একটি তাত্ত্বিক বিলাসিতা হিসেবেই থেকে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: