ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার

ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া বিশেষ এক ভবিষ্যৎবাণীকে সরাসরি নাকচ ও উপহাস করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গালিবাফ ট্রাম্পের ‘তিন দিনে তেলকূপ বিস্ফোরণ’ হওয়ার দাবিকে স্রেফ হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন অবরোধের চাপে তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলকূপগুলো এক বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লিখেন, ‘ট্রাম্পের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তিন দিন পার হলো, কিন্তু ইরানের একটি তেলকূপও ফাটেনি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি লাইভস্ট্রিম করতে পারি।’
ইরানি স্পিকার আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ তত্ত্বের কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি ১৪০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমস্যাটি আসলে অবরোধের তত্ত্বে নয়, বরং মার্কিন প্রশাসনের মানসিকতায়। গালিবাফের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলেও বাস্তবে এটি বিশ্ব তেলের বাজারকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের তিন দিনের ‘বিস্ফোরণ’ তত্ত্ব এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক প্রকার হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি বিদ্রূপ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার দায় পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছে তেহরান।
/আশিক
ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ট্রাম্প: আত্মসমর্পণ না করলে উঠবে না অবরোধ
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, গত সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানের একটি নতুন রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, যেখানে মূলত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যতক্ষণ না তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগের চুক্তিতে সই করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটিকে ঘিরে রাখা নৌ-অবরোধ কোনোভাবেই তুলে নেওয়া হবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নৌ-অবরোধ ইরানের অর্থনীতির ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর মতে, অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের পাইপলাইন ও সংরক্ষণাগারগুলো এখন ‘বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে’ পৌঁছেছে। ট্রাম্প কার্যত তেহরানকে ‘আমরা আত্মসমর্পণ করছি’—এই কথাটি বলার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে তেহরানও তাদের সামরিক অবস্থান কঠোর করেছে। ইরানের শক্তিশালী বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে যে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফাভাবে ‘অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা শত্রু শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি আবারও কোনো প্রকার আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের ইরানের সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল এবং এমন প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইতিমধ্যেই ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে বলে জানা গেছে, যা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।
এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন কংগ্রেসে এক উত্তপ্ত শুনানিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কড়া সমালোচনা করেছেন। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই যুদ্ধ একটি ‘কৌশলগত ভুল’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চোরাবালিতে’ আটকে ফেলছে।
পেন্টাগনের আর্থিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় একটি অংশ খরচ হয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামতে। এই বিশাল ব্যয় এবং প্রাণহানি এখন মার্কিন রাজনীতির প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জাহাজগুলো প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেলেও বাস্তবে রুটটি এখন স্থবির।
এর আগে মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা বাতিল করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বীমা না থাকায় অনেক জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যাত্রা শুরু করতে পারছে না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যার অর্থ আগামী অর্ধেক বছর বিশ্ব তেল সরবরাহের এই প্রধান পথটি অনিরাপদই থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকবে, যা তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। যেহেতু বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস। এদিকে নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে যায়নি।
তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ওমান উপসাগরে আটক করা ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কার’ ২৮ জন নাবিকের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে বাকি ২২ জন নাবিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতার’ শামিল বলে অভিহিত করলেও কূটনৈতিক উপায়ে বাকি নাবিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আলজাজিরা
শত্রুরা এই অস্ত্রকে ভয় পায়, রহস্যময় সমরাস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের
ইরানের নৌবাহিনী খুব শিগগিরই এমন এক বিধ্বংসী ও রহস্যময় অস্ত্র উন্মোচন করতে যাচ্ছে, যা শত্রুপক্ষের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেসটিভি’কে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বিশেষ অস্ত্রটি ইতিমধ্যে শত্রুপক্ষের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং এর কার্যক্ষমতা শত্রুদের মনে গভীর ভীতি সৃষ্টি করবে। শাহরাম ইরানি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে দ্রুত বিজয় অর্জনের যে স্বপ্ন শত্রুরা দেখছে, বর্তমান সামরিক বাস্তবতায় তা এখন স্রেফ একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ইরানি কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'আব্রাহাম লিংকন' লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন।
এই হামলার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরী থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন ও সব ধরনের আকাশ অভিযান পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে শতাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ইরানের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি বা রণতরীতে হামলার দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। মূলত শাহরাম ইরানির এই নতুন অস্ত্রের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি সত্যিই কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা গোপন অস্ত্র সামনে আনে, তবে তা সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই নতুন অস্ত্রের উন্মোচন এবং সাগরে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলের সামরিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
/আশিক
নৌ-অবরোধ না তুললে নজিরবিহীন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া না হলে তেহরান অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘প্রেসটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলো ও হরমুজ প্রণালিতে এই অবরোধ বজায় রাখে, তবে এর কঠোর ও ভিন্নধর্মী জবাব দেওয়া হবে।
ওই সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে তারা আর কোনো নিষ্ক্রিয় বা সহজে অনুমানযোগ্য প্রতিপক্ষ নয়। তেহরান এখন পর্যন্ত কেবল কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতেই ধৈর্য ধারণ করেছে, যাতে ওয়াশিংটন ইরানের দেওয়া শর্তগুলো বিবেচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি একগুঁয়েমি নীতিতে অটল থাকে এবং শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তবে এই নৌ-অবরোধের বিরুদ্ধে ইরান এমন জবাব দেবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
অন্যদিকে এই হুমকির মুখে পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের মোজতবা খামেনি প্রশাসন যদি নতুন চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে হরমুজ প্রণালি ও দেশটির বন্দরগুলো ঘিরে এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প এই নৌ-অবরোধকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তেহরানকে কার্যত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা ও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান: জারি হলো নতুন আদেশ
আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য ইরানে পরিবহনের ঐতিহাসিক অনুমতি প্রদান করেছে। সম্প্রতি ‘ট্রানজিট অব গুডস অর্ডার ২০২৬’ জারির মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ২০০৮ সালের পাকিস্তান-ইরান সড়কপথ চুক্তির আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি জারি করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ট্রানজিট হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
এই আদেশের আওতায় তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আসা ইরানগামী পণ্য পাকিস্তানের নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। ট্রানজিট পণ্য পরিবহনের জন্য সরকার প্রধান রুট হিসেবে গোয়াদার ও করাচি সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্ত এলাকা তাফতানকে নির্ধারণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘ট্রানজিট’ বলতে কেবল সেই পণ্যগুলোকে বোঝানো হবে যা পাকিস্তানের বাইরে থেকে আসবে এবং অন্য কোনো দেশে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া কাস্টমস নিয়ম মেনে পণ্য এক কনটেইনার থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের জন্য ‘ক্রস-স্টাফিং’ সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালানের জন্য আর্থিক গ্যারান্টি প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে পাকিস্তান সরকার। পুরো প্রক্রিয়াটি ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো হবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
/আশিক
যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি! বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই এবার ইয়েমেনের ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের শূরা কাউন্সিলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বোরুজেরদি গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তেহরান এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের হাতে থাকা সব তাস এখনো খেলা হয়নি।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব হরমুজ প্রণালির চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এবং ইয়েমেনি যোদ্ধারা এই প্রণালি অবরোধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় ধাক্কা দেওয়ার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই পাল্টাপাল্টি শক্ত অবস্থান দাবি করছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রণালিতে বিশ্বাসযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ অবরোধ তৈরির সক্ষমতা এবং ইচ্ছা—দুটিই ইরানের রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
মূলত ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালে পৌঁছাতে এই বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করতে হয়। ইয়েমেন এবং আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু সমুদ্রপথটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি অবিচ্ছেদ্য সংযোগস্থল। ফলে এই পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সূত্র : বিবিসি
অর্থনৈতিক যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্প: ইরান কি পারবে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অবসানের পথে এখন আর পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বরং মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অর্থ’। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধংদেহী নীতি এবং তেহরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার চরম অনিচ্ছাই বর্তমানে আলোচনার টেবিলে এক বড় অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে নারাজ, যা যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতাকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ট্রাম্প দীর্ঘ এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে আর্থিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং ওবামা আমলে ইরানকে দেওয়া নগদ অর্থের কড়া সমালোচক হওয়ায় তিনি নিজে এখন কোনো বড় ছাড় দিতে পারছেন না। কারণ ইরান যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, তবে তা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ইমেজ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি দম্ভ করে বলেছেন যে, কোনো গুলি না ছুড়েই ইরানের মুদ্রার পতন ঘটানো তাদের জন্য এক বিশাল বিজয়।
অন্যদিকে, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে ভয়াবহ অর্থসংকটে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লেও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করতে তেহরানের জন্য বড় অংকের নগদ অর্থ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষক অ্যালান আইয়ারের মতে, পারমাণবিক বিষয়টি এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে; আসল বিষয় হলো ইরান আলোচনার টেবিল থেকে কী পাবে। তেহরান বর্তমানে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার অবসান চাইছে। একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল বা মাশুল আদায়ের বিষয়টি আলোচনায় এলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানকে ‘দ্বাররক্ষক’ হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
পরিশেষে, ট্রাম্প যদি ইরানকে কোনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দেন, তবে তাকে দেশের ভেতরে এবং মিত্র ইসরাইলের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে। ইসরাইল কোনোভাবেই ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষপাতি নয়। বিশেষজ্ঞ ট্রিতা পার্সির মতে, এটি হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের জন্য সবথেকে বড় লড়াই—যেখানে একদিকে থাকবে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান। শেষ পর্যন্ত অর্থ ও রাজনীতির এই মারপ্যাঁচে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
আলোচনার সময় শেষ! ইরানকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া বার্তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা করেছেন, ‘আর কোনো ভদ্রতা নয়!’ এই বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ধৈর্য এখন ফুরিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের এই বার্তায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের আলোচনার সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি তেহরানকে একটি সুষ্ঠু ও যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য ও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই আলোচনা বর্তমানে অত্যন্ত জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরান নতি স্বীকার করে আলোচনার জন্য নতুন পথ খুঁজছে, অন্যদিকে তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের দেওয়া অনেক বক্তব্যই মিথ্যা বলে নাকচ করে দিচ্ছে।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘নো মোর মিস্টার নাইস গাই’ বার্তাটি কেবল একটি রাজনৈতিক হুমকি নাকি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর কোনো সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস, তা আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
প্রথাগত কূটনৈতিক ভাষা এড়িয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের ইরান কৌশলকে আবারও সবার নজরে নিয়ে এসেছে। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: গালফ নিউজ।
যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে? ইরানি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্যে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা এবং নতুন প্রস্তাবের গুঞ্জন থাকলেও মাঠের চিত্র যে এখনও উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট করে দিলেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সামরিক বাহিনী যে এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্রাম নিচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিশ্রুতিতে যে তাদের ভরসা নেই—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়ার এই বক্তব্যে সেটিই ফুটে উঠেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও সেটিকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে মানতে নারাজ তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে মনে হয় না যুদ্ধ শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতিরোধের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইরান।
মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানের সামরিক কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও শিথিল করা হয়নি। বরং যুদ্ধকালীন সময়ের মতোই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে সেনাবাহিনী। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিরতির মধ্যেও সৈন্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জারি রাখা হয়েছে এবং সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের পরিকল্পনা করছেন, তখন ইরানি সেনাবাহিনীর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আকরামিনিয়ার বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, তেহরান কেবল আলোচনার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সামরিক শক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনমনীয় শর্ত এবং ইরানের এই শক্ত অবস্থান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইরানকে দমাতে গিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংস করছেন ট্রাম্প: ইরানি স্পিকার
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর: নাহিদ ইসলাম
- ৩০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৩০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ওজন অনুযায়ী প্রোটিন মেপে ডায়েট: সুস্থ থাকার সঠিক গাইডলাইন
- ইরানের শান্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ট্রাম্প: আত্মসমর্পণ না করলে উঠবে না অবরোধ
- চ্যাটজিপিটি কি অপরাধ শেখায়? সাম্প্রতিক বিতর্ক ও আসল সত্য জেনে নিন
- সারাদিন পারফিউমের সুগন্ধ ধরে রাখার জাদুকরী কৌশল
- ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা দিলেন আইনমন্ত্রী
- হরমুজে আটকা ২০ হাজার নাবিক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
- হজ পালনের উদ্দেশ্যে ৯৮টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৯ হাজারের বেশি হাজি
- সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ: নবম পে-স্কেল কার্যকর হচ্ছে শীঘ্রই
- শত্রুরা এই অস্ত্রকে ভয় পায়, রহস্যময় সমরাস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় কাঁপছে বিশ্ববাজার: টানা ৯ দিন বাড়ল তেলের দর
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ
- ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা: ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরকে সতর্ক করল আবহাওয়া অফিস
- টানা দুই দিনে বড় দরপতন: স্বর্ণের বাজারে বাজুসের বড় মূল্য সমন্বয়
- নৌ-অবরোধ না তুললে নজিরবিহীন পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- চট্টগ্রাম ও ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- এখন থেকে এনআইডি আবেদনে যা যা লাগবে: নতুন নির্দেশনা জারি করল ইসি
- এটা বড় ব্লান্ডার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস: এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে দর
- ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিল পাকিস্তান: জারি হলো নতুন আদেশ
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে বুড়িঘাট ইয়ুথ ক্লাবে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
- ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ৩৫ ট্রান্সফরমার নষ্ট, অন্ধকারে ২৭ হাজার গ্রাহক
- কুমিল্লায় প্রবেশমুখ এখন অনিরাপদ ও মরণফাঁদ
- মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের আল্টিমেটাম দিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য
- পুলিশ-সাংবাদিক সুসম্পর্ক গড়তে ইউনেস্কোর নতুন প্রশিক্ষণ প্রকল্প
- যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি! বিশ্ব বাণিজ্যে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
- অর্থনৈতিক যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্প: ইরান কি পারবে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে?
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করি না, ধারণ করি: শামা ওবায়েদ
- বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ নারী সংসদ সদস্য
- আলোচনার সময় শেষ! ইরানকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট
- বিশ্ববাজারের অজুহাতে সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
- ২৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত: ৩৭ হাজার পরিবার পাচ্ছে সরকারি নগদ সহায়তা
- কিডনিতে পাথর কেন হয়? প্রাণঘাতী এই ব্যথা থেকে বাঁচার ৫টি অব্যর্থ উপায়
- বৃষ্টির দিনে জম্পেশ আহার! জিভে জল আনা ‘আচারি মাংস খিচুড়ি’র সহজ রেসিপি
- দরুদ শরিফ কেন মুমিনের নিত্য আমল হওয়া উচিত?
- যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে? ইরানি জেনারেলের বিস্ফোরক মন্তব্যে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
- টানা ৮ দিন বাড়ছে তেলের দাম: ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তোলপাড়
- ঢাকায় নামছে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস! ক্লিন ও গ্রিন সিটির মেগা প্ল্যান জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- ৩ বছর জ্বালানি দেবে রাশিয়া: রূপপুর প্রকল্পে ইউরেনিয়াম নিয়ে চিন্তা নেই
- জানুন রিজিক বৃদ্ধির শক্তিশালী আমল
- হামলা নয়, অবরোধ! ইরানকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের ‘দীর্ঘমেয়াদী’ মাস্টারপ্ল্যান
- প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার
- সোনার বাজারে খুশির আমেজ; বাজুসের নতুন মূল্যে বড় ছাড়
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম ডিজিটাল অসভ্যতা: গণতান্ত্রিক সংহতি রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ
- আবারও সস্তা হলো সোনা: আজ থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর
- রেকর্ড দামের পর এবার কি কমছে স্বর্ণ? একনজরে আজকের বাজার দর
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ১ম টি-টোয়েন্টি: সময়সূচি ও সরাসরি দেখার উপায় একনজরে
- আজ থেকেই আদানির বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমতে পারে লোডশেডিং
- ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য বন্ধ হলো আমেরিকার দুয়ার: তালিকায় বাংলাদেশও
- ঢাকার যে ১১ পাম্পে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ফুয়েল পাস
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৬ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ত্বক ও চুলে অ্যালোভেরার অবিশ্বাস্য উপকারিতা
- তাপদাহের পর এবার ঝড়-বৃষ্টির বড় পূর্বাভাস
- ২৬ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজ নামাজের সময়সূচি দেখে নিন
- তাপপ্রবাহের মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টির নতুন সতর্কতা








