প্রতিদিন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়লে মিলবে যে উপকার

ইসলামে ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। “আস্তাগফিরুল্লাহ” শব্দটির অর্থ, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।” দেখতে ছোট ও সহজ এই জিকিরের ফজিলত এতটাই বিস্তৃত যে কুরআন ও হাদিসে বারবার এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক উন্নতি, মানসিক প্রশান্তি, রিযিক বৃদ্ধি এবং পারিবারিক কল্যাণের অন্যতম চাবিকাঠি।
ইসলামি গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ যত বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, তার অন্তর তত বেশি পরিশুদ্ধ হবে। গুনাহ মানুষের হৃদয়কে ভারী করে তোলে, আত্মাকে দুর্বল করে এবং জীবনে অশান্তি তৈরি করে। ইস্তিগফার সেই অন্তরকে পরিষ্কার করে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরিয়ে আনে। এ কারণেই ইসলামি চিন্তাবিদরা ইস্তিগফারকে “আত্মার পরিশুদ্ধির ওষুধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
পবিত্র কুরআনে হজরত নূহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদীর ব্যবস্থা করবেন। আলেমদের মতে, এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ইস্তিগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়ার জীবনের বরকত ও সমৃদ্ধিরও অন্যতম মাধ্যম।
হাদিস শরিফেও ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলতের কথা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, সব সংকট থেকে উদ্ধার করেন এবং এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই হাদিস মানুষের জীবনে ইস্তিগফারের বাস্তব প্রভাবের একটি গভীর বার্তা বহন করে।
বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, হতাশা, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা মানুষের জীবনের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিজ্ঞানী ও ইসলামি স্কলারদের মতে, আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার মানুষের মানসিক স্থিরতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে, হতাশা কমায় এবং অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে। অনেকেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোতে ইস্তিগফার তাদের মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।
ইসলামে ইস্তিগফারের সঙ্গে রিযিক বৃদ্ধির সম্পর্কও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আলেমরা বলেন, অনেক সময় গুনাহ মানুষের রিযিক সংকুচিত করে দেয়। যখন মানুষ তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তার জন্য নতুন নতুন কল্যাণের দরজা খুলে দেন। ব্যবসা, চাকরি, পরিবার বা জীবনের অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে বরকত লাভের জন্য ইস্তিগফারকে অত্যন্ত কার্যকর আমল হিসেবে ধরা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন ইস্তিগফারের সর্বোত্তম উদাহরণ। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন। অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, এতে উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। যদি আল্লাহর রাসুল (সা.) এত বেশি ইস্তিগফার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা কতটা বেশি, তা সহজেই বোঝা যায়।
ইস্তিগফারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও গুনাহের পথ থেকে দূরে রাখে। নিয়মিত ইস্তিগফার করলে মানুষ নিজের ভুল সম্পর্কে সচেতন হয় এবং আল্লাহর ভয় ও দায়িত্ববোধ তার মধ্যে বৃদ্ধি পায়। ফলে গুনাহ থেকে ফিরে আসা সহজ হয় এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
ইসলামে “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” নামে একটি বিশেষ দোয়ার কথাও এসেছে, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল বা সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ে এবং এরপর মৃত্যু হয়, তবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া সবচেয়ে সহজ ইস্তিগফার হলো শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা। আর বহুল প্রচলিত পূর্ণাঙ্গ ইস্তিগফার হলো: “আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহ।”
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর, তাহাজ্জুদের সময়, জুমার দিন এবং যেকোনো অবসরে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অত্যন্ত উত্তম। বিশেষ করে যখন মানুষ বিপদে পড়ে, হতাশ হয় বা জীবনে অস্থিরতা অনুভব করে, তখন ইস্তিগফার তার অন্তরে নতুন আশা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
তারা আরও বলেন, ইস্তিগফার শুধু মুখের জিকির নয়; বরং এটি হৃদয়ের অনুশোচনা, গুনাহ থেকে ফিরে আসার অঙ্গীকার এবং আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি আত্মিক যাত্রা। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ কখনো তাকে নিরাশ করেন না।
শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?
ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। আর শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এদিন সাপ্তাহিক জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন।
ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। তাই ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত জীবন কিংবা দৈনন্দিন নানা দায়িত্বের মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে জুমার দিনে ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত এবং দরুদ শরিফ পাঠের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি। জুমার দিনের ইবাদতের প্রস্তুতি নিতে অনেকেই দিনের শুরুতেই নামাজের সময়সূচি জেনে নিতে চান। মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজকের গুরুত্বপূর্ণ নামাজের সময় নিচে তুলে ধরা হলো।
আজ রাজধানী ঢাকায় জুমার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১২টা ০২ মিনিটে। জুমার খুতবা ও জামাতের সময় মসজিদভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে এই সময় থেকে।
বিকেলের আসরের নামাজের সময় হবে ৪টা ৩৮ মিনিট। দিনের শেষ ভাগে আল্লাহর স্মরণে এই নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামী শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।
সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৫০ মিনিটে। রোজকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে স্বল্প সময়ের ওয়াক্ত হওয়ায় মুসল্লিদের সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাতের এশার নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ৮টা ১৬ মিনিটে। অনেক মুসল্লি এশার নামাজের সঙ্গে বিতরের নামাজও আদায় করে থাকেন।
অন্যদিকে আগামীকাল শনিবার (১৩ জুন) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। একই দিনে সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১০ মিনিটে।
আজকের সূর্যাস্তের সময় ধরা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট। সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে এবং মুসল্লিরা জামাতে অংশ নেবেন।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, জুমার দিনে আগে থেকেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এছাড়া এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আজকের নামাজের সময়সূচি: ফজর থেকে এশা একনজরে
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো সালাত বা নামাজ। একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনে নামাজ শুধু ইবাদতই নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার সময়মতো নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তা হলো নামাজ। তাই ব্যস্ততা, কর্মব্যস্ত জীবন কিংবা পার্থিব নানা দায়িত্বের মাঝেও ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ।
আজ বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৪ জিলহজ ১৪৪৭। দিনব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার জন্য আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। দুপুর ১২টা ২ মিনিটে জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করবে। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে। রাত ৮টা ১৫ মিনিটে এশার নামাজের সময় শুরু হবে।
আজ সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে। ইসলামী শরিয়তে নামাজের সময় নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ও মুসল্লিদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান এবং দ্রাঘিমাংশের পার্থক্যের কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে নামাজের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই ঢাকার সময়সূচির সঙ্গে সামান্য সময় যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মুসল্লিরা নিজ নিজ এলাকার নামাজের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের মুসল্লিদের জন্য ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগের জন্য ১ মিনিট যোগ করতে হবে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শুধু নামাজ আদায় করাই নয়, বরং প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়া অধিক ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও এশার জামাতে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি ফজর ও এশার নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে জানত, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে উপস্থিত হতো।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
একজন নারী কি একসঙ্গে দুই স্বামী রাখতে পারেন? জানুন ইসলামের নির্দেশনা
ইসলামী শরিয়তে বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় চুক্তি, যার মাধ্যমে পরিবার, বংশধারা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে বিবাহ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিধান কোরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন নারী একই সময়ে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারেন না। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন সম্পর্ক বৈধ নয় এবং এটি ইসলামী পারিবারিক বিধানের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে বিবাহের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আইনবিদরা এ আয়াত ও সংশ্লিষ্ট শরিয়াহ ব্যাখ্যার আলোকে একমত যে, একজন বিবাহিত নারী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তার পূর্ববর্তী বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই বিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো বংশপরিচয়ের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সময়ে একাধিক স্বামী থাকলে সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যা পরিবার, উত্তরাধিকার এবং সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইসলাম বংশধারা সংরক্ষণকে মানবসমাজের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে।
এছাড়া পারিবারিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা, উত্তরাধিকার বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও এ বিধানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী গবেষকরা। ইসলামে পরিবারকে সমাজের ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়, তাই পরিবারকেন্দ্রিক আইনগুলোও অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসলামে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একজন পুরুষকে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও তা কঠোর ন্যায়বিচার, দায়িত্ব পালন এবং আর্থিক সক্ষমতার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে একজন নারীর একাধিক স্বামী গ্রহণের কোনো বিধান ইসলামী শরিয়তে নেই।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিবাহ, তালাক এবং পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনির্ভরযোগ্য সূত্রের পরিবর্তে কোরআন, হাদিস এবং স্বীকৃত ইসলামী আলেমদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বিষয়গুলো জানা উচিত।
ইসলামী শিক্ষার মূল লক্ষ্য পরিবার, সমাজ ও মানবিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রেক্ষাপটে বিবাহসংক্রান্ত বিধানগুলোও মুসলিম সমাজে স্থিতিশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং বংশপরিচয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে।
বুধবারের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সময়মতো নামাজ আদায় শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং গুনাহ মাফ এবং জান্নাত লাভের অন্যতম পথ হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, যারা নামাজের প্রতি যত্নবান এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে নামাজের অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য ফেরেশতারাও রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া করেন।
হাদিস শরিফে নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় সতর্ক ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি আজান দেওয়া এবং প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত সম্পর্কে প্রকৃতভাবে জানতে পারত, তাহলে সেই মর্যাদা লাভের জন্য প্রয়োজন হলে লটারিও করত। একইভাবে জোহরের নামাজের সওয়াব সম্পর্কে অবগত হলে তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। আর ফজর ও এশার নামাজের প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করত। (সহিহ মুসলিম: ৮৬৭)
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবনেও নামাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া একজন মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। বিশেষ করে ফজরের নামাজ দিনের সূচনা এবং এশার নামাজ দিনের সমাপ্তিকে ইবাদতের মাধ্যমে আলোকিত করে। এ দুটি নামাজের প্রতি অবহেলা না করার বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ (২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের নামাজের সময় বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে। সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিট থেকে। এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ১২ মিনিটে।
পরবর্তী দিন বৃহস্পতিবার, ১১ জুনের জন্য ফজরের সময়ও নির্ধারিত হয়েছে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১১ মিনিটে। তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময়ও একই সময়সীমার কাছাকাছি হওয়ায় রোজাদারদের জন্য সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভাগীয় শহরগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সময়ের পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
সূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বৃষ্টি নামলেই কেন দোয়া করবেন? জানুন হাদিসের নির্দেশনা
বৃষ্টি মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক অনন্য নিয়ামত। কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানবজীবনের টিকে থাকার জন্য বৃষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে বৃষ্টি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মহান আল্লাহর অসীম রহমত, ক্ষমতা ও কুদরতের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে বৃষ্টিকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোথাও এটি আল্লাহর দয়া হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, কোথাও মৃত জমিনকে পুনর্জীবিত করার উপমা হিসেবে, আবার কোথাও মানুষের জন্য চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর সৃষ্টিশক্তি, প্রজ্ঞা এবং অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
কুরআনে বৃষ্টির তাৎপর্য
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কুরআনে বৃষ্টির আলোচনা শুধু আবহাওয়াগত বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর একত্ববাদ, পুনরুত্থান এবং রহমতের বার্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। শুষ্ক ও মৃত ভূমিতে বৃষ্টির পানি নেমে এসে যেমন নতুন প্রাণের সঞ্চার করে, তেমনি এটি মানুষের হৃদয়েও ঈমান, কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে অবতীর্ণ হয়। তাই মুসলমানদের জন্য বৃষ্টি শুধু উপভোগের বিষয় নয়, বরং চিন্তা, কৃতজ্ঞতা এবং ইবাদতেরও একটি বিশেষ উপলক্ষ।
বৃষ্টি দেখলে যে দোয়া পড়তেন রাসুল (সা.)
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বৃষ্টি শুরু হলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর কাছে কল্যাণকর বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন।
তিনি বলতেন:
اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়্যেবান নাফিআ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! এই বৃষ্টিকে আমাদের জন্য উপকারী করুন।”
সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, এটি বৃষ্টি দেখার সময় পাঠ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
ইসলামে বৃষ্টির সময়কে দোয়া কবুলের অন্যতম উত্তম মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাসুল (সা.)-এর হাদিসে উল্লেখ আছে যে, কিছু সময় এমন রয়েছে যখন দোয়া সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হয় না। বৃষ্টির সময় সেই বিশেষ মুহূর্তগুলোর একটি।
আলেমরা বলেন, আকাশ থেকে যখন আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়, তখন বান্দার উচিত নিজের প্রয়োজন, ক্ষমা, হেদায়েত, রিজিক, সুস্বাস্থ্য এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
ইসলাম মানুষকে শিক্ষা দেয়, বৃষ্টিকে কোনো নক্ষত্র, গ্রহ কিংবা কুসংস্কারের ফল হিসেবে নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর রহমত হিসেবে দেখতে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, বৃষ্টিকে অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।
তাই একজন মুমিনের উচিত বৃষ্টির জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
অতিবৃষ্টির সময়ও রয়েছে বিশেষ দোয়া
কখনো কখনো অতিবৃষ্টি মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতেও রাসুল (সা.) মুসলমানদের একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন।
তিনি দোয়া করতেন:
اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالآجَامِ وَالظِّرَابِ وَالأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল ঝিবালি ওয়াল আঝামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। পাহাড়, টিলা, উপত্যকা, বনভূমি ও বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন।”
এই দোয়া ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে, যেখানে মানুষ আল্লাহর রহমত কামনা করে, আবার ক্ষতি থেকে রক্ষাও প্রার্থনা করে।
বৃষ্টির সময় মুসলমানের করণীয়
ইসলামী শিক্ষার আলোকে বৃষ্টির সময় কয়েকটি আমল বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর প্রশংসা করা, সুন্নত দোয়া পাঠ করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কল্যাণের জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও বৃষ্টির মুহূর্তগুলো মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি মূল্যবান সুযোগ এনে দেয়।
বৃষ্টি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর প্রতিটি নিয়ামত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আকাশ থেকে নেমে আসা প্রতিটি বৃষ্টিধারা আমাদের জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, ফসল ফলায়, নদী-নালা পূর্ণ করে এবং প্রকৃতিকে নতুন প্রাণ দেয়।
তাই বৃষ্টির সময় শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করাই নয়, বরং আল্লাহর রহমতের কথা স্মরণ করা, দোয়া করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও একজন মুসলমানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আজকের নামাজের সময়সূচি, কখন কোন ওয়াক্ত?
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য প্রতিদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে।
আজ ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি। দিনের শুরুতে ফজরের আজান হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে। এরপর সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১০ মিনিটে। মধ্যাহ্নের জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে।
বিকেলে আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৩৭ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। আর রাতের ইশার নামাজ আদায়ের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১০ মিনিটে।
দেশের বিভিন্ন বিভাগের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের সময়েও কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। সে কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকার সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় যোগ বা বিয়োগ করে বিভাগীয় শহরগুলোর সময় নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছে।
চট্টগ্রামের মুসল্লিদের জন্য ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ এই দুই অঞ্চলে নামাজের সময় ঢাকার তুলনায় কিছুটা আগে শুরু হবে।
অন্যদিকে খুলনার ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, বরিশালের ক্ষেত্রে ১ মিনিট, রাজশাহীর ক্ষেত্রে ৭ মিনিট এবং রংপুরের ক্ষেত্রে ৮ মিনিট যোগ করতে হবে। ফলে এসব অঞ্চলে নামাজের সময় ঢাকার তুলনায় কিছুটা পরে হবে।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অংশ। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি সম্পর্কে অবগত থাকা এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মুসল্লির জন্য প্রয়োজনীয়।
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
আজ ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি, সোমবার (৮ জুন ২০২৬)। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সম্মানিত সুন্নি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক নির্ধারিত আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সর্বশেষ ও সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যানুযায়ী, আজ সোমবার ঢাকায় জোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে। আজ সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং পবিত্র এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ১৪ মিনিটে। অপরদিকে, আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে পবিত্র ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১১ মিনিটে। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও দূরত্বভেদে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সময় ১ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত কম-বেশি হতে পারে।
/আশিক
জেনে নিন আজকের ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
আজ রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ (২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/২০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় প্রকাশ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে।
আজ সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬টা ৪৮ মিনিটে এবং এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ১৪ মিনিটে।
পবিত্র রমজান ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফজরের নামাজের সময় আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে শুরু হবে।
এ ছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে।
নির্ভরযোগ্য এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে দৈনন্দিন ইবাদত সম্পন্ন করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক নির্ধারিত এই সময়সূচি অনুসরণের অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
আজ শনিবার (৬ জুন) ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে।
সন্ধ্যায় মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬টা ৪৭ মিনিটে। এরপর রাতের প্রধান জামাত অর্থাৎ এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ১৩ মিনিটে। অন্যদিকে, আগামী রোববার (৭ জুন) পবিত্র ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৬ মিনিটে।
আবহাওয়া ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল ভোরে সূর্যোদয় হবে ৫টা ১১ মিনিটে। দূরত্বের তারতম্যের কারণে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এই সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে নামাজ আদায় করতে হবে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
পাঠকের মতামত:
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- এক বিড়ালেই থমকে গেল মেট্রোরেলের সব চাকা, বন্ধ মেট্রোরেল চলাচল
- ঘরে বসেই বিশ্বকাপ, টিভি ও অ্যাপে দেখার সুযোগ, জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে কমলো যত টাকা
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়ায় কী আছে? জানালেন কূটনীতিক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- রূপপুর নিয়ে বড় ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
- উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: মির্জা ফখরুল
- জেডি ভ্যান্সের সফর জল্পনা, বাড়ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সম্ভাবনা
- ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল, ভাতা ও সুবিধা বেড়ে বেতন হচ্ছে যত
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- ১৫ টাকায় ৩০ কেজি চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার
- শিরোপা যুদ্ধ ও বিশ্বকাপ, আজকের ক্রীড়াসূচি এক নজরে
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামল? নতুন ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
- শুক্রবারের নামাজের সময় প্রকাশ, প্রস্তুত তো?
- স্বর্ণ কিনতে এটাই কি সেরা সময়? নতুন দর প্রকাশ
- শুক্রবার বন্ধ রাজধানীর যেসব মার্কেট, দেখে নিন তালিকা
- ৪১ বছর বয়সি রোনালদোর অফ-ফর্মে পর্তুগাল শিবিরে বড় দুশ্চিন্তার ভাঁজ
- ঐতিহাসিক গৌরবময় অর্জনের জন্য ক্রিকেটার, কোচ ও বিসিবিকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
- নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগ: বটতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
- ব্র্যাকের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের মাঝে ১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
- দেবিদ্বার-চান্দিনা-মুরাদনগর: হামের হটস্পট, অথচ অন্ধকারে স্বাস্থ্য বিভাগ
- পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের; আজ মেক্সিকো সিটিতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
- রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বড় উপহার; নতুন বাজেটে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা
- আজ রাতেই ইরানে 'খুব কঠোর' হামলার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সমন্বিত মেগা অপারেশন
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: ব্যাংকে টাকা রাখায় কমছে সাধারণ মানুষের করের বোঝা
- বাজেটে মেগা ঘোষণা: নির্মিত হচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতু
- স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
- ১১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন
- মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- বাজেটে স্বস্তি ও চাপ দুটোই, কোন পণ্যে কী পরিবর্তন?
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটে কী থাকছে সাধারণের জন্য
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর আসছে
- প্রথম বাজেটেই বড় চমক দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার
- সোনার বাজারে রেকর্ড পতন, ১ লাখ ৮২ হাজারে মিলবে এক ভরি
- ৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
- ফুটবল-ক্রিকেটে জমজমাট বৃহস্পতিবার, জানুন সূচী
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়








