জ্বালানি নয়, এবার লক্ষ্যবস্তু ইন্টারনেট কেবল! ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১২:০৮:৪২
জ্বালানি নয়, এবার লক্ষ্যবস্তু ইন্টারনেট কেবল! ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল এবং ক্লাউড অবকাঠামো এখন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সরাসরি একটি ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে দেখছেন। বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের হাতে এখন এই অঞ্চলের ডিজিটাল লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেবল জ্বালানি বা তেল পরিবহনের পথ নয়, এটি বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগের অন্যতম প্রধান করিডর। এই জলপথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়। তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য পুরোপুরি সমুদ্রের তলদেশের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মানচিত্র প্রকাশ করার মূল উদ্দেশ্য হলো আরব দেশগুলো ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একটি কৌশলগত বার্তা দেওয়া। এতে সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে স্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনের ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর কোনো হামলা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মুহূর্তেই পঙ্গু করে দিতে পারে।

ইতোমধ্যেই ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপর হামলার কিছু খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত আমাজন ওয়েব সার্ভিসের (AWS) স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘটনা বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক শক্তি বা সমুদ্রপথের পাশাপাশি এখন ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ এই সংঘাতের নতুন ও ভয়ংকর হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

/আশিক


বড় সংঘাতের দোরগোড়ায় বিশ্ব? ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:৫৭:৪৭
বড় সংঘাতের দোরগোড়ায় বিশ্ব? ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাময়িক শান্তির বাতাস কি তবে ফুরিয়ে আসছে? ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ (KAN)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে এই সময়সীমার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ইস্তাম্বুল থেকে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো অনির্দিষ্টকালের আলোচনায় রাজি নন। তিনি দ্রুত একটি চূড়ান্ত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চান। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী রোববারের মধ্যে বড় ধরনের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

বর্তমান এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যেই তীব্র ‘বিভ্রান্তি’ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ট্রাম্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁরা আগে থেকে কিছু জানতে পারছেন না; বরং গণমাধ্যম বা ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখেই তাঁদের তথ্য নিতে হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে শর্ত ছিল তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ পেশ করতে হবে। বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, এই বিরতি ৩ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। এখন ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মেজাজ ও সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপ চললেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও আস্থার সংকট প্রকট।

বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের মধ্যে যদি ইরান ট্রাম্পের মনমতো কোনো প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বা বিমান হামলা শুরু হয়ে যেতে পারে। এখন পুরো বিশ্বের নজর রোববারের সেই অন্তিম সময়সীমার দিকে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


রেকর্ড নেই কোথায় আছে মাইন! ইরানের চালে চরম সংকটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:৪৭:৫৫
রেকর্ড নেই কোথায় আছে মাইন! ইরানের চালে চরম সংকটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি এখন এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেন্টাগন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। মার্কিন বার্তাসংস্থা 'এপি'-র বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক গোপন বৈঠকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এই আশঙ্কার কথা জানান। বৈঠকে আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধের ব্যয়, রণকৌশল এবং লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুর দিকে একটি স্কুল প্রাঙ্গণে হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, যদিও এসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে এক ডজনেরও বেশি মাইন ছড়ানো আছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আইআরজিসি এসব মাইন ঠিক কোথায় কোথায় পেতেছে, তার কোনো সঠিক রেকর্ড রাখেনি। ফলে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও এখন মাইন শনাক্ত ও অপসারণ করা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘ সময় প্রণালিটি কার্যত অচল থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেল সরবরাহে চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

/আশিক


ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১১:২৬:৪৯
ভারত মহাসাগরে মার্কিন হানা! তেলসহ ইরানের ৩টি জাহাজ জব্দ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মাঝে ভারত মহাসাগরে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পতাকাবাহী তিনটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে।

জব্দকৃত ৩টি জাহাজের বিস্তারিত

১. ডিপ সি (Deep Sea): এটি ইরানের একটি সুপারট্যাংকার। জব্দ করার সময় এটি আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। গত সপ্তাহে এটিকে মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গিয়েছিল।

২. সেভিন (Sevin): এই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল হলেও জব্দের সময় এতে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল ছিল। এক মাস আগে এটিকে মালয়েশিয়ার জলসীমায় দেখা গেছে।

৩. দোরেনা (Dorena): এটি একটি বিশাল সুপারট্যাংকার যা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে সম্পূর্ণ লোডেড অবস্থায় ছিল। তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এটিকে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজের পাহাড়ায় জব্দ করা হয়।

অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরে অবরোধ জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেন্টকোম-এর বিবৃতি অনুযায়ী, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে জোরপূর্বক বন্দরে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বর্তমানে জব্দকৃত 'দোরেনা' জাহাজটি ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় রয়েছে। অন্যদিকে, এর পাল্টা জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।

/আশিক


আল্টিমেটাম শুধুই নাটকে সীমাবদ্ধ! ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৩ ১০:১৪:০৩
আল্টিমেটাম শুধুই নাটকে সীমাবদ্ধ! ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে হাসাহাসি
ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঙ্কার আর বারবার সময়সীমা (Deadline) বেঁধে দেওয়ার কৌশল এখন খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যমেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সিএনএন-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প একের পর এক ‘রেড লাইন’ টানলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়ায় তাঁর ‘ফাঁকা হুমকি’র বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করছে ট্রাম্প ফাঁকা হুমকি দেন না, কিন্তু গত পাঁচ সপ্তাহের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ট্রাম্প অন্তত পাঁচবার শর্ত মানার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কখনও ৪৮ ঘণ্টা, কখনও ৫ দিন, আবার কখনও ‘সব ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দিলেও প্রতিবারই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ২১ মার্চ তিনি প্রথম ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন হরমুজ প্রণালি না খুললে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হবে।

কিন্তু ২৩ মার্চ আসার আগেই সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২৮ মার্চ করা হয়। এরপর ২৬ মার্চ আবারও সময় বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয় এবং সবশেষে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ইরান কোনো শর্তই পূরণ করেনি।

সর্বশেষ ২১ এপ্রিল তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য সময় বাড়িয়েছেন এই যুক্তি দিয়ে যে, ইরানের সরকার ‘অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল’। তবে সিএনএন মনে করিয়ে দিচ্ছে, ট্রাম্প নিজেই এক সময় বারাক ওবামার ‘রেড লাইন’ নীতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছিলেন কারণ ওবামা হুমকি দিয়েও সিরিয়া ইস্যুতে তা কার্যকর করেননি।

২০১৭ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, “হুমকি দিয়ে তা কার্যকর না করলে দেশের ক্ষতি হয়।” এখন বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বারবার পিছিয়ে আসা ইরানকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে—ট্রাম্প আসলে বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক।

/আশিক


আগামী ৭২ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ! ট্রাম্পের কথায় কিসের ইঙ্গিত?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:৫৪:২৯
আগামী ৭২ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ! ট্রাম্পের কথায় কিসের ইঙ্গিত?
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা প্রশমনে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক আশার আলো দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'নিউইয়র্ক পোস্ট'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সম্ভাবনার কথা জানান।

তবে আলোচনার এই প্রস্তুতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে রণংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুমোদন ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে তিনটি কার্গো জাহাজে গুলিবর্ষণের পর দুটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসি-র বিবৃতিতে জানানো হয়, জব্দকৃত জাহাজ দুটির নাম ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্ডাস’। এর মধ্যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটি সরাসরি ইসরায়েলি সরকারের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজ দুটি বারবার নৌ-চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করছিল এবং গোপনে প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। একদিকে ইসলামাবাদে শান্তির আলোচনা, অন্যদিকে সাগরে যুদ্ধংদেহী মনোভাব—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কাণ্ডারি পাকিস্তান? ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বড় চমক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ২১:৩৩:৪৬
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কাণ্ডারি পাকিস্তান? ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বড় চমক
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মূলত ইসলামাবাদের অব্যাহত অনুরোধ ও কার্যকর মধ্যস্থতার কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদই বাড়াননি, বরং একে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কূটনীতির জন্য বাড়তি সময় দিতে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি কোনো আকস্মিক চেষ্টা ছিল না; বরং শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির শুরু থেকেই দুই পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান এখানে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি খসড়া রূপরেখা তারা ইরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে আলোচনার দরজা পুরোপুরি খোলা রেখেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বল এখন অনেকটাই ইরানের কোর্টে। পাকিস্তান যে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে তেহরান সাড়া দিলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ইরান যদি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানি জাহাজে চীনের ‘উপহার’! ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল বিশ্বরাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৯:৩০:৩৬
ইরানি জাহাজে চীনের ‘উপহার’! ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল বিশ্বরাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জব্দ হওয়া ওই জাহাজে ইরানকে পাঠানো চীনের বিশেষ ‘উপহার’ ছিল। তবে বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেইজিং এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জানান যে, ইরানি পতাকাবাহী ওই জাহাজে চীনের পাঠানো সামগ্রী পাওয়া গেছে যা মোটেও সুখকর কোনো বিষয় নয়। একই সুরে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালি সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, চীন থেকে রওনা দেওয়া ওই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক ছিল।

তবে বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এটি একটি সাধারণ বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এবং এর সঙ্গে চীনকে জড়িয়ে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে ইরানে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু রোববারের এই ঘটনার পর ট্রাম্প কিছুটা অবাক হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে তিন দফায় গুলি চালিয়ে তারা ‘তুসকা’ জাহাজটি জব্দ করে।

গোয়েন্দা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, জাহাজটিতে ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম রয়েছে, যা শিল্প কারখানার পাশাপাশি সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

তথ্য বিশ্লেষণের সংস্থা ‘সিনম্যাক্স’ জাহাজের গতিবিধি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, জাহাজটি গত ২৫ মার্চ চীনের সাংহাইয়ের তাইকাং বন্দর থেকে রওনা দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও মালয়েশিয়া হয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছায়।

এদিকে তেহরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে নাবিকদের মুক্তি দাবি করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই ঘটনার পরবর্তী সব পরিণতির জন্য ওয়াশিংটন দায়ী থাকবে।

/আশিক


ন্যাটোতে ট্রাম্পের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! অবাধ্য মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৯:১৩:০৭
ন্যাটোতে ট্রাম্পের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! অবাধ্য মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটো জোটের ভেতরে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। যেসব সদস্য রাষ্ট্র ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস।

বিশেষ করে চলমান ইরান যুদ্ধে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের জন্য একটি ‘ভালো-মন্দের’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর যেসব দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ খরচ করে না, তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন এবং এবারের এই তালিকা সেই হুমকিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত করা এই তালিকায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সামরিক অবদান এবং আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই বিভাজনকে হাতিয়ার করে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কৌশল গ্রহণ করছে যা ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সংহতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলোর মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিচ্ছে, তারা বিশেষ আনুকূল্য পাবে। অন্যদিকে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নামে যারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন যে ওয়াশিংটন এই তালিকা ব্যবহার করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের পুরো চিত্র বদলে দিতে পারে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তথাকথিত মিত্রদের অনুপস্থিতি তারা মনে রাখবে।

এক্ষেত্রে জার্মানি বা অন্য দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পোল্যান্ড বর্তমানে তাদের দেশে থাকা মার্কিন সেনাদের প্রায় পুরো খরচ বহন করছে যা ট্রাম্পের অত্যন্ত পছন্দ। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধে নিজেদের বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় রোমানিয়াও এখন ট্রাম্পের বিশেষ নজরে রয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নির্ধারণ করা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রাটিই এই তালিকার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে যে তারা এখন থেকে শুধুমাত্র সেইসব ‘মডেল অ্যালই’ বা আদর্শ মিত্রদের সাথে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেবে যারা নিজেদের ভাগের অর্থ ও শ্রম দিচ্ছে।

এর ফলে যারা ট্রাম্পের নীতিতে সায় দিচ্ছে না, তাদের জন্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বা যৌথ মহড়ার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধে পাশে থাকা এবং হরমুজ প্রণালীতে সহায়তা করাকে বড় মানদণ্ড ধরা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলো যখন মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিতে কালক্ষেপণ করেছে, তখন রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলো লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন করেছে। স্পেনের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরোধিতা করায় দেশটি ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছে।

তবে মিত্রদের এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টি নিয়ে খোদ মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশও উদ্বিগ্ন। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার সতর্ক করে বলেছেন যে মিত্রদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা মোটেও গঠনমূলক কাজ নয়। সব মিলিয়ে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো


ইরানের উপকূলে বন্দি দুই জাহাজ! হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৮:৪৭:৫৬
ইরানের উপকূলে বন্দি দুই জাহাজ! হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের চরম উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার পারদ এবার চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইরানের বেঁধে দেওয়া ‘লাল রেখা’ বা রেড লাইন অতিক্রম করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে দুটি বিশাল কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দিনভর বিভিন্ন সময়ে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে ইরানি বাহিনী।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জব্দ করা জাহাজ দুটিকে বর্তমানে ইরানের উপকূলীয় বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জাহাজগুলো ঠিক কোন দেশের মালিকানাধীন কিংবা তাতে কী ধরনের পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা ইরানের কাছে একটি ‘রেড লাইন’। এই সীমা যারা অতিক্রম করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকের আগে জাহাজ দুটির একটি ইরানের উপকূলের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্যটি ওমান উপকূলের কাছে আক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র ও যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার আরও তিনটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের শিকার হওয়া জাহাজগুলো বর্তমানে কোনোমতে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

সাগরের এই সংঘাত ও জাহাজ জব্দের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার মাঝেই এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: