বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই

দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনে এক শূন্যতা তৈরি করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর Square Hospital-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাহবুবুর রহমানের কর্মজীবন ছিল দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কাস্টমস ও এক্সাইজ ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচে সহকারী কমিশনার হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন তিনি। সেই শুরু থেকে ধাপে ধাপে দায়িত্ব পালন করে দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন। ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার এবং অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তাকে উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে যায়।
সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, কর্মঠ এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার বিচক্ষণতা এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
তার মৃত্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সেবায় দীর্ঘ সময় অবদান রেখে বিদায় নেওয়া এই কর্মকর্তা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন।
-রফিক
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন চীনা রাষ্ট্রদূত। বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ বৈঠকের বিস্তারিত নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণও জানান ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল ও বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অগ্রগতির সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদন এবং মোংলায় নতুন এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি এ সময় আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশা প্রকাশ করেন, অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার নতুন বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া আলোচনা সভায় তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ চালু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট টেকসইভাবে সমাধানে যৌথ সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। এ সময় অতীতে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন রাষ্ট্রদূত। উভয় পক্ষই আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
/আশিক
বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
স্বজন হারানোর শোক হয়তো সময়ের ব্যবধানে অশ্রুর মাধ্যমে কিছুটা হালকা হয়, কিন্তু একজন প্রিয় মানুষ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—তা না জেনে অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর গোনার চেয়ে বড় কোনো যন্ত্রণা হতে পারে না।
এই দীর্ঘ অপেক্ষা একদিকে যেমন গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করে, অন্যদিকে তা পরিবারগুলোর জন্য এক অনিশ্চিত ও দুর্বিষহ জীবনের নামান্তর। ৩০ আগস্টের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসটি কেবল বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি সেইসব অশ্রুসিক্ত মা, অপেক্ষমাণ স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তান এবং অন্ধকার দূর করার লড়াইয়ে থাকা পরিবারগুলোর নীরব আর্তনাদকে উপলব্ধি করার দিন।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে গুমের সংস্কৃতি নিয়মিত ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে।
কমিশনের কাছে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭টি ঘটনা ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ বা নিখোঁজের পর নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাস্তবতার নিরিখে প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত দৈনিক সমকালের তথ্য অনুযায়ী, বিগত শাসনামলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৩১২ জন নেতাকর্মী বলপূর্বক গুমের শিকার হন, যাঁদের মধ্যে ১০৭ জন আর কখনোই ফিরে আসেননি এবং ধারণা করা হয় যে তাঁদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতেই হত্যা করা হয়েছে।
তদন্ত কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৫টি ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ১৯৪টি, ২০১৮ সালে ১৯২টি, ২০১৯ সালে ১১৮টি, ২০২২ সালে ১১০টি এবং ২০২৩ সালে ৬৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়।
প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেখায় যে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুমের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে যেত; যার প্রমাণ মেলে রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত হওয়া ৯৪৮ জনের তালিকায়, যেখানে এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীর সংখ্যাই প্রায় ৬৮ শতাংশ।
২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের মতো শত শত পরিবারের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সরকার কীভাবে আশ্বাসের নামে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে স্বজনদের বিভ্রান্ত রেখেছিল। একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট খবর পেলেও অন্তত শোক প্রকাশের সুযোগ থাকে, কিন্তু নিখোঁজের অনিশ্চয়তা পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত নতুন করে মৃত্যুর সমান মানসিক যন্ত্রণা দেয়।
ভুক্তভোগীদের এই দীর্ঘ বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বজনদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণা শুনে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাবার হাত ধরে বিদ্যালয়ে না যেতে পারা কিংবা মাত্র দুই মাস বয়সে পিতৃহারা হয়ে জীবনে একবারের জন্যও ‘বাবা’ ডাকতে না পারার মতো সন্তানদের কান্না দেশের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দেয়।
প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং শেখ হাসিনাসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আবারও এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। তবে এই বিচার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়, বরং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতেই সম্পন্ন হতে হবে।
অতীতের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং স্থায়ী মানবাধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। এই আইনের মাধ্যমে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, জামিন-অযোগ্য, আমলযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে, যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র বা যেকোনো বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ চিরতরে রুদ্ধ হয়।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে যেন আর কাউকে বলপূর্বক নিখোঁজ হতে না হয় এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে সত্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার লাভ করে।
/আশিক
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এই সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে ইতিপূর্বে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে সারা দেশে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হলো। নতুন এই কাঠামোর অধীনে দেশের প্রায় দুই কোটি নারী পরিবার প্রধানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ‘জিটুপি’ (গভর্নমেন্ট টু পারসন) ডিজিটাল পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে ধারাবাহিক সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় আনতে ‘ওয়ান-আইডি’ ব্যবস্থাকে মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং অনুমোদিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনে তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
তবে নগদ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালায় একটি সুনির্দিষ্ট ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা অযোগ্যতার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অধীনে আট ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোরপ্রাপ্ত পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে না।
দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলে তিনি বিবেচিত হবেন না।
তৃতীয়ত, নারী প্রধান যদি নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসর সুবিধা ভোগ করেন, তবে তিনিও বাদ পড়বেন; যদিও প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকবে।
চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা মেয়াদি আমানত থাকলে সেই পরিবার অযোগ্য বলে গণ্য হবে।
পঞ্চমত, পরিবারের যেকোনো সদস্যের মালিকানায় সিএনজি, পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক, লরি কিংবা কাভার্ড ভ্যানের মতো বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কার্ড দেওয়া হবে না।
ষষ্ঠত, কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সযুক্ত ব্যবসা থাকলে সুবিধা মিলবে না।
সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়করদাতা হলে এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।
অষ্টমত, বসতভিটাসহ মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি বাজারমূল্যের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির মালিকানা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী, একই সঙ্গে একাধিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মনোনীত নারী প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন না।
ফলে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিডব্লিউবি কার্যক্রম কিংবা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো নগদ সুবিধা ভোগকারী নারী প্রধানদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধাগুলো স্থগিত বা বাতিল করা হবে। তবে মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া সংশ্লিষ্ট পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি ভাতা গ্রহণের সুবিধা বহাল রাখতে পারবেন।
/আশিক
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির তাঁর নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও সার্বিক প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবেন। রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক পরিপত্রে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী দুই প্রতিমন্ত্রীর কাছে অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বাবলির বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়ে যাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং দেশের বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ আগাম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড. খলিলুর রহমান।
এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালট ভোটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তিনি এই বৈশ্বিক দায়িত্বে নিযুক্ত থাকবেন। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাঁকে দীর্ঘ সময় নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে হবে। বাংলাদেশ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্বের পদ অর্জন করল।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয় এবং শামা ওবায়েদ ইসলামও নিজ পদে বহাল থাকেন। পরবর্তীতে ২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রণালয়ের কর্মবণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
সেই রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক, প্রবাসী বা অনাবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশিত অন্যান্য খাত দেখভালের পাশাপাশি তাঁর অনুপস্থিতিতে সার্বিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো।
/আশিক
বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কারও গুম হওয়ার সুযোগ দেবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিদ্যমান গুমবিরোধী আইনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশে মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত একের পর এক গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা বা অনুতাপ নেই। উল্টো জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চরম লজ্জাজনক বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষ আজ শেখ হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং অপরাধের দায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।
অতীতের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে একসময় জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছিলেন; ফলে ভুক্তভোগী হিসেবে গুমবিরোধী কোনো আইন দুর্বল হোক—তা তিনি কখনোই চাইতে পারেন না। বিএনপি সরকার অতীতে যেমন কাউকে গুমের মুখে ঠেলে দেয়নি, তেমনি ভবিষ্যতেও কাউকে এ ধরনের অপরাধের শিকার হতে দেবে না। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা আদালতে মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও বিরোধী দলের সংসদ কক্ষ ত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওয়াকআউট কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী প্রতিটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। কোনো বিষয় না শুনে বা নিজের বক্তব্য তুলে না ধরে এভাবে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের মূল্যবান মতামত জানা থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া জুলাই সনদের আলোকেই দেশের সংবিধান সংশোধন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধারার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।
/আশিক
জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর উত্তরাধিকার এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভর নীতি—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদকে রূপান্তর করার সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার অধীনে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, সরকারের উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাউন্ডেশনগুলোকে। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সমন্বিত পরিকল্পনায় তেমন ব্যর্থতার সুযোগ থাকবে না।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর আর কোনো সম্প্রসারণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে আজীবন মেয়াদি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে ড. তিতুমীর জানান, এর আওতায় দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরাসরি অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং এ খাতের বিকল্প অর্থায়নে জাকাতের তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম বিষয় হিসেবে বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব দায়িত্ব গ্রহণে অঙ্গীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর জানান, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো ইতোমধ্যে ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ঝুলে থাকা ৩০০টির বেশি নেট-মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাজেটে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল এবং বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ ও পিকেএসএফের সহযোগী এনজিওর মতো কোনো অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দেবে। এতে ঋণের সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তুলনামূলক ব্যয় বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশীয় গ্যাসে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৬৪ টাকা; ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সাশ্রয় হবে।
শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ বছরের করকাঠামোর ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ—বিনিয়োগকারীদের এই পাঁচটি প্রধান চাহিদাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছে, যার আওতায় ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং ঋণের সুদের পার্থক্যজনিত ব্যয় বহন করবে অর্থ বিভাগ।
২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভীষ্ট লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
/আশিক
রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
সড়কে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার কোচ চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
রাজধানীর সার্বিক যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক রূপ দেওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, প্রধান প্রধান সড়ক ও উড়ালসেতুতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান বাস টার্মিনালগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং কার্যকর পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উড়ালসেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সেবা নির্বিঘ্ন করতে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার উন্নয়নকাজ আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার ও এর সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের উপায় নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
ঢাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্থানান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী চার মাসের মধ্যেই ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এর পাশাপাশি গাবতলী বাস টার্মিনালের পরিধি সম্প্রসারণ, কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার (কিচেন মার্কেট) গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়া, সচিবালয় এলাকার আশপাশে সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং রাজধানীজুড়ে অটোরিকশা চলাচলের জন্য একটি আলাদা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
/আশিক
বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পিক আওয়ারে সারাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে এদিন সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৯৮ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পিক সময়ে ঢাকায় ৬৯৮ মেগাওয়াট ছাড়াও ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে ৩৫০ মেগাওয়াট করে এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ৩১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এছাড়া রাজশাহীতে ৩০০, রংপুরে ২৫০, চট্টগ্রামে ১৯০, সিলেটে ১৫০ এবং বরিশাল অঞ্চলে ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীর পর ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শনিবার সন্ধ্যায় দেশজুড়েই লোডশেডিংয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।
/আশিক
আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও গুম-খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে সরকার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আত্মত্যাগীদের মহান বিনিময়েই দেশের ২০ কোটি মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সরকারের এই সহায়তা কোনো করুণা নয়; বরং তাঁদের সীমাহীন ত্যাগই সরকারের পথচলার মূল শক্তি ও উদ্দীপনার উৎস।
অনুষ্ঠানে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
পাঠকের মতামত:
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- নতুন মৌসুমে স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা
- দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় দায়িত্বের মুখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস
- আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে স্থানীয় জুয়েলারি খাতে বড় পরিবর্তন
- বিএনপি কাউকে গুম করেনি, ভবিষ্যতেও কাউকে করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরো মুসলিম উম্মাহর শত্রু: মোজতবা খামেনি
- ভাষা পরীক্ষা ছাড়াই কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ই-৭-৪ ভিসা পাওয়ার সুযোগ
- নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়ল ট্রাম্পের মুখের ছাপযুক্ত বিপজ্জনক বড়ি
- ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা
- নেপালে বন্যায় ৬৬৯ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ
- ছয় মাসে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, লোডশেডিং ও বেকারত্ব বাড়ছে: চরমোনাই পীর
- জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
- সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
- মাঠে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
- বহু প্রতীক্ষিত উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হচ্ছে অ্যাপল, রয়েছে বড় চমক
- রয়্যাল রিসোর্টে আমাকে হত্যার নীলনকশা করেছিল আওয়ামী লীগ: মামুনুল হক
- মাত্র আধা ঘণ্টাতেই নিশ্চিহ্ন জনপদ, ভয়াবহ দুর্যোগের বিবরণ ত্রাণকর্মীদের
- রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
- নেপালে ১০ কর্মীকে উদ্ধারের পর নিখোঁজ বাকি ৯ জনের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া
- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য চূড়ান্ত হচ্ছে নতুন আর্থিক রূপরেখা
- আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতন: ধাক্কা খেল মূল্যবান ধাতুর বাজার
- বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় পরিবর্তন: ধাতুর বাজারে দরপতন
- সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ১০ দিনের নতুন আবহাওয়া বার্তা
- অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী








