বিশেষ প্রতিবেদন
বিশ্বশক্তির নজর এখন বাংলাদেশে: খনিজ ভাণ্ডারের নতুন মানচিত্র

বাংলাদেশের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক অজানা শক্তি আজ বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে। গাইবান্ধা জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর চরভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক কৃষক হয়তো জানেন না, তার পায়ের নিচে রয়েছে এমন কিছু, যা বদলে দিতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ। ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশে ও বালুচরে সম্প্রতি যেসব খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোরও নজর কাড়ছে।
এই খনিজ উপাদানগুলো হলো ইউরেনিয়াম, সামারিয়াম, গ্যাডলিনিয়াম, টারবিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়াম। এগুলো একসাথে পরিচিত রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস বা বিরল মৃত্তিকা মৌল হিসেবে। এগুলোর উপস্থিতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্বে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতিটি খাতে এগুলোর ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সামরিক ড্রোন, মিসাইল ও পারমাণবিক রিয়্যাক্টর—সবকিছুর পেছনে রয়েছে এই মৌলগুলোর অবদান।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিরল মৌলের সন্ধান মিলেছে। গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র চর ছাড়াও যমুনা, তিস্তা, ধরলা ও মেঘনা নদীর তলদেশে বালুতে পাওয়া গেছে ল্যান্থানাইড গ্রুপের মৌল। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি বালুতে ৬০ থেকে ১৭৬ মিলিগ্রাম পর্যন্ত এই মৌল বিদ্যমান। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পাহাড়ি অঞ্চলেও এই ধরণের খনিজের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই খনিজের আর্থিক মূল্যও বিপুল। শুধু ব্রহ্মপুত্র নদীর বালুচরেই প্রতি বর্গকিলোমিটারে ছয়টি মূল্যবান খনিজ পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩৬৩০ কোটি টাকা। কক্সবাজার, মহেশখালী ও সেন্ট মার্টিনের উপকূলে পাওয়া গেছে প্রায় ৫ মিলিয়ন টন ধাতব খনিজ ও তেজস্ক্রিয় উপাদান, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য হাজার কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলেও খনিজ সম্ভার পাওয়া গেছে। এখানে পাওয়া গেছে গ্যাস হাইড্রেট, যার পরিমাণ ০.১ থেকে ০.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট—এটি প্রায় ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের সমান। এছাড়া সাগরের গভীরে মিলেছে ২২০ প্রজাতির সিওয়েড, ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৫০০টিরও বেশি সামুদ্রিক প্রাণী—যা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে।
বিশ্বে এই খনিজ মৌলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ হলো চীন। চীনের হাতে রয়েছে রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস-এর প্রায় ৮০% বাজার। কিন্তু সম্প্রতি চীন এই মৌলের রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানও এই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। ভারত মহাসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ এখন চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন মেরুকরণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠছে।
তবে এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। দেশে নেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, নেই বড় আকারের বিনিয়োগ, এবং নেই সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ খনিজনীতি। জয়পুরহাটের চুনাপাথরের খনি কিংবা উত্তরবঙ্গের কয়লা খনি—সবই প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারোলজি অ্যান্ড মেটালজির মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকলে এসব সম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারতো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনিজ সম্পদকে ঘিরে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। অতীতে আফ্রিকার বহু দেশে খনিজ সম্পদ ঘিরে সংঘর্ষ, সামরিক অভ্যুত্থান ও বিদেশি হস্তক্ষেপ ঘটেছে। বাংলাদেশ সেই পথে যাবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ঢাকার নীতিনির্ধারক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে খনিজ নিরাপত্তা আইন, একটি বিশেষ মিনারেল প্রটেকশন ফোর্স গঠন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী বাছাইয়ের বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। আমরা কি এই খনিজ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জ্বালানিনির্ভরতা দূর করে নতুন যুগে প্রবেশ করবো, নাকি পিছিয়ে পড়ে বিশ্বের রাজনীতির খেলায় অন্যদের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেব? এক প্রবীণ কূটনীতিকের মতে, “বাংলাদেশ এখন কেবল একটি দেশের নাম নয়—এটি হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ মানচিত্র।”
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার সুবিধা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করবে ঢাকা। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলছে। ফলে যেকোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চ বা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই সৌদি আরব সফর করবেন বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
দীর্ঘদিন ধরে চলা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের জটিলতায় অবশেষে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে নতুন একটি এলএনজিবাহী কার্গো জাহাজ এসে ভিড়েছে। এর ফলে স্থানীয় দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ‘ফ্লেক্স কারেজেস’ নামের এলএনজিবাহী বিশেষায়িত জাহাজটি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে নোঙর করে। আন্তর্জাতিক খোলাবাজার বা স্পট মার্কেট থেকে সংগৃহীত এলএনজি বোঝাই করে জাহাজটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামেরন বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টার্মিনালে নতুন আসা এলএনজির সংযোগ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাস সংকট সাময়িকভাবে অনেকটাই প্রশমিত হবে।
তবে নতুন জাহাজের গ্যাস যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই শনিবার দুপুর থেকে টার্মিনালে আগে থেকে জমা থাকা তরল গ্যাস রূপান্তর করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। যার ফলে দুপুরের পর থেকেই দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
একই সময়ে মহেশখালীতে থাকা সামিট গ্রুপের অপর ভাসমান টার্মিনাল থেকেও প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সচল ছিল।
আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক মোট ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে শনিবার রাতের মধ্যেই এই সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই দেশে বড় ধরনের এলএনজি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর টার্মিনালটি মেরামত করে চালু করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে নতুন এলএনজির অভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়নি। একই সাথে জ্বালানি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনালটিও বন্ধ হয়ে পড়েছিল।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রবিবার থেকে দুটি টার্মিনাল তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যমান ঘাটতি অনেকটাই মিটে যাবে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস রূপান্তর ও সরবরাহের সর্বোচ্চ দৈনিক সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
/আশিক
অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই অবকাঠামোগত উদ্যোগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য অবহিত করেন।
তিনি জানান, ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর বরিশালের সরাসরি সড়ক সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সভায় তিনটি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা) রুটটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ভোলা জেলা সরাসরি মূল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।
উচ্চপর্যায়ের এই সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রসারে একটি সুসমন্বিত সড়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে ভোলাকে দ্রুততম সময়ে জাতীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই রুটে বিদ্যমান রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং একই সাথে তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হবে। পুরো প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বাস্তবতা দ্রুত যাচাই করে দেখা হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা, বরিশালসহ সারা দেশের সঙ্গে ভোলার সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের ঝামেলা দূর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চারপাশ নদী দিয়ে ঘেরা হওয়ায় ভোলার বাসিন্দাদের যাতায়াতে এতদিন নৌপথের ওপরই পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হতো। নতুন এই সড়ক সংযোগ চালু হলে সেই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নীতিনির্ধারকেরা উল্লেখ করেন, হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটের মূল সুবিধা হলো এর মাধ্যমে সড়কপথে দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় ও সার্বিক ব্যয়ের বড় ধরনের সাশ্রয় হবে। যার ফলে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
সারাদেশের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে একটি একক তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর অধীন নিয়ে আসতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরুতেই নির্দিষ্ট কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সভাপতিত্ব করেন।
উক্ত বৈঠকে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য পরিকাঠামো, পরিচালনা প্রক্রিয়া এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, দেশব্যাপী পুরোপুরি বাস্তবায়নের পূর্বে নির্বাচিত কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা, আর্থিক ব্যয় এবং সামগ্রিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেওয়া হবে।
পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শেষেই পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিধি সম্প্রসারণের পথরেখা নির্ধারণ করবে সরকার।
চিকিৎসাসেবায় প্রযুক্তির সময়োপযোগী ব্যবহারের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, পুরো পরিকাঠামো এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে এর সুফল লাভ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হয়।
বিশেষ করে রোগীর যাবতীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করে তা নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর তিনি বিশেষ তাগিদ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই ডিজিটাল কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিটি যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সেই সাথে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেই পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে একটি বিশদ তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরিত ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ৩বি(১) ও ৩বি(২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমমর্যাদা, নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং আনুসঙ্গিক সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।
/আশিক
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ৭ আগস্ট সংশ্লিষ্ট তিন দেশ এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসন চালানো হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়।
জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।
এর পাশাপাশি নিয়মিত কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিচ্ছে ঢাকা।
মাসে অনুষ্ঠিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা আল-মুকাররমা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরাসরি উপস্থিতিতে এই সমঝোতা চুক্তি সই হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সামগ্রিক সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার যৌথ অঙ্গীকারও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরদিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, কারিগরি দিক বিবেচনায় এই কাঠামোটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো হলেও এটি নির্দিষ্টভাবে ইরান বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিপক্ষে পরিচালিত নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা সুরক্ষাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোটটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে আগ্রহী এবং সেই প্রেক্ষাপটে মিসরকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর ইসহাক দার গত ৯ আগস্ট জানান, জোটের মৌলিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যই মক্কা চুক্তির পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেন যে, এটি মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাপনা, যা দেশগুলোর পূর্ববর্তী কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিকে বাতিল করে না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কার্যকর সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য এটি একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির মূল কাঠামোর সাথে এই পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং একটি নিরাপদ ও উন্নত ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
/আশিক
মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পৃথক বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর একইভাবে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানায় ব্রিটিশ হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এবং দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের বার্তায় আরও জানায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।
/আশিক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য। দেওয়া ৩৪৩টি ভোটই বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ফলাফল ঘোষণার সময় সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯টি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালটে ভোট পড়েছে এবং সবগুলো ভোটই বৈধ হয়েছে।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ভোটের ফল অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজনের বিষয়ে তথ্য জানা গেছে। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ কারণে তিনি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ফলে তিনিও ভোট দিতে পারেননি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারতেন। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।
এ ছাড়া ভোট না দেওয়া বাকি তিন সংসদ সদস্যের নাম এখনো জানা যায়নি।
/আশিক
অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
জাতীয় সংসদে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গণনা প্রক্রিয়া শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকাল ৫টার পর ভোট গণনা সমাপ্ত করে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলাফল প্রকাশের পরপরই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এই নির্বাচনে অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও ছয়জন সদস্য ভোট দেননি। এর মধ্যে পাঁচজন সংসদ সদস্য কেন্দ্রে আসেননি। তারা হলেন—ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা। এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- উপকূলে লঘুচাপের শঙ্কা: আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস
- কোরআনের আদর্শ বাস্তব জীবনে বাস্তবায়নেই মুক্তি মিলবে: জামায়াত আমির
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান, গুরুত্ব পাবে জাতীয় স্বার্থ
- রাজনীতি নিছক ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পথ: সাইদুর রহমান লিটল
- মেরামতকাজের কারণে রোববার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- ট্রাম্পের হালকা চালের বক্তব্য ও ইরানের কড়া জবাব: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
- টেস্টের প্রথম দিন শেষে লড়াইয়ে ফেরার প্রত্যয় বাংলাদেশি পেসারের
- বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ঘোষণা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- ভিসা বাতিলের ঝুঁকি: বিদেশি শিক্ষার্থীদের কড়া বার্তা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের
- তীব্র গ্যাস সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে দেশ
- অবসান হচ্ছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির: নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ
- আন্তর্জাতিক ফুটবলে দারুণ সুযোগ: বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ
- দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির বড় বিপ্লব: সরকারের নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ
- পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী স্বপন
- সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করল বাংলাদেশ
- ভোট না দিয়ে রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটা নির্বাচন নয়’
- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
- নতুন রাষ্ট্রপতিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান চরমোনাই পীরের
- মারাকানাকে ঘিরে বিশ্বকাপের বিরল রেকর্ড, সামনে নতুন অধ্যায়
- বিপিএল নিয়ে সব ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল বিসিবি
- স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিয়ে আবার কারাগারে দীপু মনি
- মির্জা ফখরুলের জয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দনবার্তা
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন রিজভী
- দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- জামায়াত সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: নুর
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি ছয় সংসদ সদস্য
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল, অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন শফিকুর রহমান
- অলি আহমদকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী মির্জা ফখরুল
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন
- গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
- ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনের মধ্যে কার্লোসের জন্য ড. ইয়াসির আদ-দোসারির দোয়া
- ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
- অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
- ট্রাম্প সীমা ছাড়লে রক্ষা পাবে না ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুও: তেহরানের বার্তা
- ১৮০ দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অ্যাপ্রুভাল রেটিং প্রকাশ
- চালকহীন পরিবহনে টেসলার নতুন পদক্ষেপ
- দুরেফিশানকে নিয়ে নেটপাড়ায় কটূক্তি, পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিলেন হানিয়া
- ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
- ফেডের সুদের হার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- ১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা
- জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের ব্যাপক উদ্যোগ
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- আইন পেশার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের বার্তা
- আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়া নিয়ে অধিদপ্তরের নতুন বার্তা
- বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যালোচনার আশ্বাস ভারতের
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ
- ভারত-পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বরেকর্ড
- নেতাদের জুয়ার মূল্য নগদে শোধ করছে মার্কিন পরিবারগুলো: ইরান
- অবিলম্বে সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করুক ইরান: ট্রাম্প
- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে রায়পুরা থানায় দুটি পুলিশ ভ্যান দিলেন এমপি বকুল
- সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে চরমোনাই পীরের ৬ দফা পরামর্শ
- ইরানকে পরমাণু অস্ত্রহীন রাখতে বাড়তি তেলের দামও মেনে নেওয়া যায়: ট্রাম্প
- কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
- মধ্যরাতের মধ্যে যেসব এলাকায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে
- ট্রাম্পের মেয়াদে আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন জরিপে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
- দুপুরের আকাশে জ্বলজ্বল করবে তারা: বিরল সূর্যগ্রহণে রেকর্ড গড়বে লুক্সর
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বরফ গলে নতুন রুট: সুয়েজ ও হরমুজকে কি টেক্কা দিতে পারবে চীন-রাশিয়া?








