যেসব কারণে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র! নেপথ্যে বড় ৫ কারণ

ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তসমূহ তেহরান গ্রহণ না করায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো কার্যকর সমাধান ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ত্যাগ করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নিশ্ছিদ্র প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধি দল সেই শর্তে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়। ভ্যান্সের মতে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথ পরিহার করার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ‘রেড লাইন’ ছিল।
অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার জন্য পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করেছে তেহরান। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে অত্যন্ত ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ দাবি পেশ করেছে, যা চুক্তির পথ বন্ধ করে দেয়। ইরানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটন যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চেয়েছিল।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্তগুলো ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অচলাবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
/আশিক
হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলা অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন অপসারণ অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে ওই জলপথে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে মাইন থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি দূর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো জাহাজ বা নৌযান থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ও পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হবে। এ বিষয়ে ইরানকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই নীতি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা নৌযান চলাচলে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
/আশিক
ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেহরানের প্রায় ৬০টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পণ্যবাহী জাহাজ, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং ডিজিটাল সম্পদের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে ওয়াশিংটনের পক্ষে তেহরানকে দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা বেশ কঠিন। বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে ইরান মূলত এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুদৃঢ় বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। কাস্টমস তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরান প্রায় ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি এবং ৬৮.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় দুই ভরসা চীন ও প্রতিবেশী ইরাক। সমুদ্রপথে ইরানের রফতানি করা মোট অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে, যা ২০২৪ সালে প্রায় ১৪.৫৮ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিমা নজরদারি এড়াতে অনেক ক্ষেত্রে ছায়া-জাহাজের মাধ্যমে এই তেল সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে ইরাক তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও সরাসরি বিদ্যুৎ ছাড়াও খাদ্য ও নির্মাণসামগ্রী বাবদ ইরান থেকে ১১.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এতদিন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ট্রানজিট ও রি-রফতানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৭.১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চললেও, সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দুবাই অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তুরস্ক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল ও খাদ্য বাবদ ৬.১ বিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তান জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সামগ্রী বাবদ ২.৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ইরান থেকে আমদানি করে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে টিকে রয়েছে।
পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও ইরান সুনির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পূর্বে মোট আমদানির ৩০ শতাংশের বেশি (২১ বিলিয়ন ডলার) সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে পশ্চিমা বিশ্বের যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স আসত, যা পথ বন্ধ হওয়ার পর এখন মূলত চীনে স্থানান্তরিত হয়েছে। চীন থেকে যন্ত্রপাতি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও শিল্প সরঞ্জাম বাবদ ১৭.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে তেহরান। এছাড়া স্থলসীমান্তের সুবিধার কারণে তুরস্ক থেকে রাসায়নিক ও শিল্পপণ্যসহ ১১.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আসে।
সীমিত পরিসরে হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ৬.১ বিলিয়ন ডলারের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ভারত থেকে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের চাল, চা ও মৌলিক ওষুধ আমদানি করে থাকে ইরান। ফলে চীন, ইরাক ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদারদের ইরানের সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
/আশিক
ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প
ইরানে বর্তমানে নজিরবিহীন মানবিক সংকট চলছে দাবি করে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং দেশটি তাদের সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। একই সঙ্গে সরকার শুধু বিক্ষোভকারীদেরই নয়, যারা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে না এমন বহু সাধারণ মানুষকেও নজিরবিহীন মাত্রায় হত্যা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ধরনের মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছেন, তা পরিষ্কার করেননি। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় হওয়া হতাহতের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, নাকি নতুন কোনো অপ্রকাশিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়া বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদক্ষেপের দিকেও তিনি ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
সাত বছর পর ভারতে ফিরছেন শি, ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৪ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সম্মেলন আয়োজক কমিটির এক কর্মকর্তা।
সফরকে সামনে রেখে চীনা প্রতিনিধিদলের হোটেল নির্বাচন এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রটোকল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রায় সাত বছর পর ভারতে আসছেন শি জিনপিং; এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন তিনি। সেবারের তুলনায় এবার সফরসঙ্গীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি—প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার একটি বহর নিয়ে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
২০২০ সালের জুনে লাদাখ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে তিক্ততা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেইজিং সফরের মাধ্যমে দুই পরাশক্তির সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়।
অরুণাচল প্রদেশ ও লাদাখ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অমীমাংসিত ইস্যুগুলো থাকলেও, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বেইজিং। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফের বাড়ল তেলের দাম
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর আগে টানা দরপতনের পর নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে সরবরাহ নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার বাজারে আবার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আপাতত বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বা দামে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে—এমন আশঙ্কা বাজারে তৈরি হয়নি। কারণ, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোকে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সময় দিয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।
তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরান ৪৫টি তেলবাহী জাহাজের নাম প্রকাশ করে দাবি করেছে, এসব জাহাজ প্রণালির নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তেহরান এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে তেল জব্দ করার হুমকিও দিয়েছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার ওমানের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের সক্ষমতা হারিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশ নিজেদের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত আরও ৩৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। জ্বালানি সরবরাহ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
বিশ্ব বাণিজ্যে বহুল ব্যবহৃত ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কিছু চীনা রপ্তানিকারক তৃতীয় দেশের বন্দর ও বাণিজ্যিক হাব ব্যবহার করে পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করছে এবং এর মাধ্যমে উচ্চ মার্কিন শুল্ক এড়িয়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগের জেরে সিঙ্গাপুরসহ ৪০টির বেশি অর্থনীতির বাণিজ্য প্রবাহ এখন বাড়তি নজরদারির আওতায় এসেছে।
গত ১৩ আগস্ট হোয়াইট হাউসের অফিস অব ট্রেড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, চীনা পণ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক কার্যকর থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান কম শুল্কের তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠিয়ে সেখান থেকে নতুন উৎসদেশের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউস এই কথিত নেটওয়ার্কে ৪০টির বেশি দেশ ও অর্থনীতির ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। তবে প্রতিবেদনে ট্রান্সশিপমেন্টের বৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা উৎস ঘোষণা—দুটিকে একই বিষয় হিসেবে বিবেচনা না করার প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টে শুধু পণ্য এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে স্থানান্তর করা হয় না; কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন লেবেল লাগানো, সীমিত প্রক্রিয়াজাতকরণ বা পুনঃপ্যাকেজিংয়ের পর পণ্যের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উচ্চ শুল্কের পণ্য কম শুল্কের দেশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে মার্কিন রাজস্ব ও দেশীয় উৎপাদন উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হোয়াইট হাউসের হিসাবেও অনিশ্চয়তার পরিসর বেশ বড়। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এ ধরনের লেনদেনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর প্রায় ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্ব হারাতে পারে—এমন হিসাবও এসেছে। ফলে বিষয়টি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য প্রয়োগ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
শুল্ক ফাঁকি শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যের বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক রুট, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রপ্তানি, পণ্যের ঘোষিত উৎস এবং উৎপাদন উপাদানের সঙ্গে প্রকৃত বাণিজ্য প্রবাহের অসামঞ্জস্য শনাক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এই বিতর্কে সিঙ্গাপুর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম ট্রান্সশিপমেন্ট ও সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর একটি। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর বন্দরে রেকর্ড ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। একই বছর বন্দরে জাহাজ আগমনের মোট গ্রস টনেজও রেকর্ড ৩ দশমিক ২২ বিলিয়নে পৌঁছায়।
তবে ট্রান্সশিপমেন্ট নিজেই কোনো বেআইনি প্রক্রিয়া নয়। সিঙ্গাপুর কাস্টমসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা কোনো পণ্য যদি সিঙ্গাপুর হয়ে অন্য কোনো বিদেশি গন্তব্যে যায়, সেটি ট্রান্সশিপমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসব পণ্যের জন্য কাস্টমস পারমিট, নিয়ন্ত্রিত পণ্যের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন হয়।
পুনঃরপ্তানি বা ‘রি-এক্সপোর্ট’-এর ক্ষেত্রেও সিঙ্গাপুরের সংজ্ঞা স্পষ্ট। এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর বলছে, যে পণ্য আমদানির পর কোনো মৌলিক রূপান্তর ছাড়াই একই অবস্থায় আবার বিদেশে পাঠানো হয়, সেটি পুনঃরপ্তানি। শুধু পুনঃপ্যাকেজিং, বাছাই, গ্রেডিং, ছোট ভাগে বিভক্ত করা বা চিহ্নিত করার মতো কাজকে যথেষ্ট ‘রূপান্তর’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। বিপরীতে সিঙ্গাপুরে উৎপাদিত, সংযোজিত বা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যকে অভ্যন্তরীণ রপ্তানি হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই পার্থক্যই বর্তমান বিরোধের কেন্দ্রে। বৈধ ট্রান্সশিপমেন্টে পণ্যের প্রকৃত উৎসদেশ পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু তৃতীয় দেশে সামান্য কাজ করার পর যদি পণ্যটিকে সেই দেশের তৈরি বলে ভুলভাবে ঘোষণা করা হয়, তখন তা কাস্টমস জালিয়াতি বা উৎপত্তিস্থলসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর মার্কিন নজরদারি সিঙ্গাপুরের জন্য শুধু ঝুঁকি নয়, সুযোগও তৈরি করতে পারে। উন্নত কাস্টমস ব্যবস্থা, ডিজিটাল বাণিজ্য নথি, বন্দর প্রযুক্তি এবং নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার কারণে সিঙ্গাপুর আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে মে ব্যাংকের চুয়া হাক বিন বলেছেন, নতুন বাণিজ্য বিধি দ্রুত অনুসরণ এবং কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতায় সিঙ্গাপুর অনেক প্রতিযোগী কেন্দ্রের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দেশভেদে ভিন্ন শুল্কহার বিশ্বজুড়ে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রণোদনাও বাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের পর বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘চীন প্লাস ওয়ান’ কৌশল গ্রহণ করে চীনের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে উৎপাদন বা সংযোজন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। পরে এই কৌশল আরও বিস্তৃত হয়ে একাধিক বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্রভিত্তিক ‘চীন প্লাস এন’ মডেলের দিকে গেছে।
এই পরিবর্তনের বড় প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র-আসিয়ান বাণিজ্যের পরিসংখ্যান। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে আসিয়ান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি ছিল প্রায় ৪৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে আসিয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এই দ্রুত প্রবৃদ্ধিকে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য ট্রান্সশিপমেন্ট ঝুঁকির একটি সংকেত হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সব বাড়তি রপ্তানিকে চীনা পণ্যের ছদ্মবেশী পুনঃরপ্তানি ধরে নেওয়া যাবে না। বাস্তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন কারখানা, সরবরাহকারী ও চূড়ান্ত সংযোজন কার্যক্রমও দ্রুত বেড়েছে। ফলে কোন পণ্য সত্যিই নতুন দেশে যথেষ্ট রূপান্তরিত হয়েছে এবং কোনটি শুধু উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে ঘুরিয়ে পাঠানো হয়েছে এটি নির্ধারণ করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট শনাক্ত করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাধারণত আমদানি-রপ্তানি নথি, বিল অব লেডিং, কার্গো ম্যানিফেস্ট, উৎপাদন সক্ষমতা, মূল্য সংযোজন এবং বাণিজ্য প্রবাহের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে। তবে সিঙ্গাপুরের মতো বন্দরে বছরে কয়েক কোটি কনটেইনার চলাচল করায় প্রতিটি চালান হাতে পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণেই এআই ও ডেটা অ্যানালিটিকসকে ভবিষ্যৎ নজরদারির মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিঙ্গাপুরও ট্রান্সশিপমেন্টকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে দেয় না। দেশটির কাস্টমস আইন, রেগুলেশন অব ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস অ্যাক্ট এবং স্ট্র্যাটেজিক গুডস কন্ট্রোল ব্যবস্থার আওতায় পণ্যভেদে অনুমোদন ও নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কৌশলগত পণ্য, সামরিক বা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও প্রযোজ্য।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রান্সশিপমেন্টবিরোধী’ অভিযান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য নতুন ধরনের কমপ্লায়েন্স চাপ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে শুধু কোন দেশ থেকে পণ্য পাঠানো হয়েছে, সেটিই যথেষ্ট নাও হতে পারে; পণ্যটির উপাদান কোথা থেকে এসেছে, কোথায় কতটা উৎপাদন হয়েছে এবং যে দেশকে উৎস হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে সেখানে প্রকৃত মূল্য সংযোজন কতটুকু এসবও আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা হতে পারে।
-রাফসান
দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পদক্ষেপ নিতে ইরানকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন দেশটির আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস আইনি ফোরামের ফাঁকে ইরানের জুডিসিয়ারি বার অ্যাসোসিয়েশন সেন্টারের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনি প্রতিনিধিদলের প্রধান ম্যাকিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আইনি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে আবদোলিয়ানপুর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি নেতাদের বিচারের আওতায় আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের আইনি সহযোগিতা শুধু আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; বরং এটিকে বাস্তব ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিদলের প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি তার সরকারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ম্যাকিনি। বিশেষ করে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাকিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তেহরানের সঙ্গে কাজ করতে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সূত্র : আইআরএনএ
উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে এক বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নতুন আবিষ্কৃত এই গ্যাসক্ষেত্রে সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি গ্যাস মজুত রয়েছে।
ইরানের তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, খনিটিতে আনুমানিক ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরাসরি উত্তোলনযোগ্য। এই উত্তোলনের পরিমাণ ইরানের বিখ্যাত ‘সাউথ পার্স’ গ্যাস ফিল্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ফেইজ থেকে টানা ১৫ বছর প্রাপ্ত গ্যাসের সমপরিমাণ।
তেলমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এটি ‘সুইট গ্যাস’ বা কম সালফারযুক্ত গ্যাস হওয়ায় এর প্রক্রিয়াকরণ ও উত্তোলন তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া গ্যাসের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান গ্যাস কনডেনসেটের উপস্থিতিও রয়েছে, যা রফতানি করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নীতিমালা ও শর্তাবলি নিয়ে দ্বিমতের কারণে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে।
/আশিক
তেলের দামে পতন
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী নতুন ও আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (২৪ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই ১ শতাংশের বেশি কমে যায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া—দুই কারণই এ পতনে ভূমিকা রেখেছে।
রয়টার্সের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে ৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ২০ ডলার কমে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৮৬ ডলারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে দর পরিবর্তিত হওয়ায় প্রাথমিক এশীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ৯৩ দশমিক ৪৫ এবং ডব্লিউটিআই ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারের আশপাশেও লেনদেন হয়েছে।
তেলের এই দরপতন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, সোমবার থেকেই তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন আর্থিক চাপের অভিযান শুরু হবে। ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা শুধু ইরানের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের অবশিষ্ট অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করা। নতুন ব্যবস্থাগুলোর বিস্তারিত জানাতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতা কতটা বিস্তৃত হবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্রেতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেদিকে নজর রাখছেন জ্বালানি বাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
তবে বাজারের জন্য পরিস্থিতি একমুখী নয়। সাধারণভাবে ইরানের তেল রপ্তানি আরও সীমিত করার মতো নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সোমবার তেলের দামে তাৎক্ষণিক নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আগের সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শেষ করেছিল।
বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গা এখনো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত জলপথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতি বাস্তবে তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বোর্ডের নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- নরসিংদীতে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
- আবহাওয়ার বড় বার্তা: বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
- চীনের জে-১০সি কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
- ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প
- মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- বাইকারদের জন্য দারুণ খবর: বড় পরিবর্তনের পথে সরকার
- আমি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে বসেছি, কারো আত্মীয় হিসেবে নয়: পার্থ
- সাত বছর পর ভারতে ফিরছেন শি, ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক আগ্রহ
- নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ফের বাড়ল তেলের দাম
- তিন মাসের সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন: আইনমন্ত্রী
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- টস জিতে আগে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানে অলআউট করত বাংলাদেশ
- উজবেকিস্তান যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে কোচদের ধাক্কাধাক্কি
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
- নবম পে-স্কেলের অপেক্ষার অবসান, গেজেট নিয়ে নতুন আভাস
- থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
- দক্ষিণ আফ্রিকা-ইরান আইনি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
- দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
- চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
- মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
- পেটের যে ব্যথা অবহেলা করলেই বাড়তে পারে বিপদ
- সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
- দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি, ১৫টি বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
- প্রথম ছয় মাসেই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ হয়েছে: নাহিদ
- উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাস ক্ষেত্র পেল ইরান
- কলেরার টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া: জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
- স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
- গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
- সোনা-রুপার আজকের দাম, দেখে নিন একনজরে
- তেলের দামে পতন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- তিন ঘণ্টা মায়ের আকুতি, বাবার শেষ চেষ্টা তবুও মন গলেনি ছেলের
- ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়
- দুপুরের মধ্যেই ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- মেসির পাশে আবার ডি মারিয়া? মায়ামি নিয়ে নতুন গুঞ্জন
- ‘নতুন ধাপে’ যাচ্ছে ইরান যুদ্ধ, মিত্রদের চায় যুক্তরাষ্ট্র
- ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ছয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
- সরকারি অনুদানের চেক গ্রহণ করলেন রেসডোর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতি
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে ডোনাল্ডের মূল্যায়ন
- ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: রিজভী
- ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন
- অশ্রুসিক্ত বিদায়ী বক্তব্যে দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকার মির্জা ফখরুলের
- গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জনের মধ্যে কার্লোসের জন্য ড. ইয়াসির আদ-দোসারির দোয়া








