ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ০৯:০২:৩৪
ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি- সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং তথ্যযুদ্ধের মধ্যে এই চিঠি শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠিতে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে কখনো আগ্রাসন, সম্প্রসারণবাদ বা উপনিবেশ স্থাপনের পথ অনুসরণ করেনি। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং বরাবরই আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত সেই ধারণার বিরোধিতা করেন, যেখানে ইরানকে একটি আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে ইরানকে একটি প্রাচীন, ধারাবাহিক ও সভ্যতাগতভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশটির পরিচয় কোনো সামরিক আগ্রাসনের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার মতে, ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি রাজনৈতিক নির্মাণ, যার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার মাধ্যমে কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৈধতা দিতে, অস্ত্রশিল্পকে সক্রিয় রাখতে এবং কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তার ভাষায়, একটি ‘কৃত্রিম শত্রু’ তৈরি করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এই চিঠি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক কেবল সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বাস্তব যুদ্ধের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল তথ্য ও বয়ানযুদ্ধও চলছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থানকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে “বয়ানযুদ্ধ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন যেখানে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য তুলে ধরতে চায়, সেখানে ইরান নিজেকে একটি আক্রান্ত রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই দ্বিমুখী বয়ান আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পেজেশকিয়ানের চিঠিতে এই বয়ানযুদ্ধের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি একদিকে আত্মরক্ষার অধিকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে মার্কিন জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে বোঝাতে চান যে, ইরানের বিরোধিতা কোনো জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্দিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে। এই ধরনের বার্তা সাধারণত জনমত বিভাজনের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে কূটনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করা হয়।

চিঠির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের প্রভাব বা প্ররোচনায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে আসছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে। এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি বিষয়, যেখানে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, এটি একটি বৃহত্তর কৌশল, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের দায় অন্যদিকে স্থানান্তর করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে তার সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পেজেশকিয়ানের এই খোলা চিঠি একটি কৌশলগত যোগাযোগ প্রচেষ্টা, যা কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। একদিকে যখন সামরিক সংঘর্ষ তীব্রতর হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের বয়ানযুদ্ধ সংঘাতের চরিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে।

বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং ধারণা, ব্যাখ্যা এবং বৈধতার লড়াইতেও পরিণত হয়েছে। এই দ্বিমাত্রিক সংঘাতের ফলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং সমাধানের পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।


১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ২০:২৭:১১
১৯৫৩ সালের পর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি? উত্তর কোরিয়ার কোর্টে বল ঠেলল দক্ষিণ কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। ১৯৫৩ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামলেও, কৌশলগত ও কাগজে-কলমে উভয় দেশ এখনও যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি দিবসের ভাষণে এই ঐতিহাসিক আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, দুই দেশের অসামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় (ডিএমজেড) যেকোনো ধরনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত রোধে নতুন নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সরাসরি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তার প্রশাসন চায় উভয় দেশই পারস্পরিক ক্ষতিসাধনের মনোভাব ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে ফিরে আসুক।

গত বছর সিউলের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন লি জে-মিয়ং। ২০২২ সালে পিয়ংইয়ং নিজেদেরকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং কোনো অবস্থাতেই নিরস্ত্রীকরণে যাবে না বলে কঠোর অবস্থানে থাকে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট লি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার মতো বাস্তবসম্মত চুক্তিতে তার সরকার সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এই শান্তি প্রস্তাবের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং প্রস্তাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সমুদ্র অভিমুখে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া, যা চলতি বছরে তাদের পরিচালিত ১১তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

সূত্র: বিবিসি।


সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৯:২৪:৫৯
সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা: ক্ষোভে ফুঁসছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকরা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর বেশ কয়েকজন নাবিক ও মেরিন সেনা সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় রণতরীটিতে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার সামরিক সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেভি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক সদস্যের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বন্দর বিরতি ছাড়াই সদস্যরা টানা ২৫০ দিন ধরে সাগরে অবস্থান করছেন, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘতম একটানা মোতায়েন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সম্প্রতি সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রায় দুই শতাধিক নাবিকের স্বজনরা এই দীর্ঘমেয়াদী মিশন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানান।

এক নাবিকের স্ত্রী জানান, মানসিক অবসাদে তার স্বামী তাকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন যে তিনি সম্ভবত পরদিন আর নাও বাঁচতে পারেন। আরেকজন পরিবার সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, চরম মানসিক চাপের মুখে তাঁর স্বামী সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ মোতায়েনের পাশাপাশি রণতরীর অভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা মাইক লেভিন। তিনি উল্লেখ করেন, রণতরীটিতে নষ্ট শৌচাগার, ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, দীর্ঘ সময় ধরে লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল থাকা এবং পর্যাপ্ত গরম পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এছাড়াও খাবারের মান ও সরবরাহে ঘাটতির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। শুরুর দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের কারণে রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত মে মাসে এই দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হয়।

যদিও এর আগে জাহাজের সার্বিক দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলোকে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে নতুন করে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামনে আসায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আবারও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র: পার্সটুডে


ক্ষমতার পাঁচ বছর: নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তালেবান, চরম সংকটে আফগান অর্থনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৫ ১৮:১৩:১৬
ক্ষমতার পাঁচ বছর: নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে তালেবান, চরম সংকটে আফগান অর্থনীতি
ছবি: মিডল ইস্ট আই

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ করল তালেবান। দীর্ঘ এই সময়ে আফগানিস্তানে বিদেশি সেনার উপস্থিতি নেই এবং বড় ধরনের কোনো সামরিক প্রতিরোধও গড়ে ওঠেনি, যার মাধ্যমে দেশটিজুড়ে নিজেদের শাসন সুসংহত করেছে শাসকগোষ্ঠীটি। তবে অভ্যন্তরীণ এই স্থিতিশীলতার বিপরীতে অর্থনৈতিক দৈন্য, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং কঠোর দমননীতির কারণে আফগানিস্তান ক্রমশ এক সংকটাপন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপ করা লাগাতার বিধিনিষেধ বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিন্যাসে রাজধানী কাবুলে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মূল কর্তৃত্ব রয়েছে কান্দাহারে। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কান্দাহার থেকেই রাষ্ট্রীয় নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো প্রভাবশালী পদগুলোতে কান্দাহারভিত্তিক কট্টরপন্থি নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে কাবুলে অবস্থান করে মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, মাওলভি ইয়াকুব ও আমির খান মুত্তাকির মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রশাসন, অর্থনীতি ও বহির্বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন; যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কান্দাহারের আধিপত্যই বজায় থাকে। আনুগত্য ধরে রাখতে সামরিক শক্তির পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা, রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ধর্মীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই মারাত্মক আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত রয়েছে আফগান অর্থনীতি। পূর্বে যেখানে সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ বিদেশি অনুদান থেকে নির্বাহ হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা দেশটির প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়। নিজস্ব উদ্যোগে শুল্ক ও খনিজ খাত থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হলেও সাধারণ নাগরিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি; এখনও দেশটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অর্জিত ২.৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। উপরন্তু, ইরান ও পাকিস্তান থেকে ২০২৩ সালের পর ৫০ লাখের বেশি আফগানকে ফেরত পাঠানোয় দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তালেবান সরকারের সবচেয়ে সমালোচিত দিক হলো নারীদের অধিকার হরণ। নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বন্ধ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা, স্বাধীনভাবে চলাচল, চাকরি এবং জনপরিসরে অংশগ্রহণে জারি করা হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নারীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের মূল্যায়নে, নারীদের কর্মসংস্থান থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ফলে আফগানিস্তান বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা জাতীয় জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।

একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সাথেও তালেবানের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ইসলামাবাদভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দুই দেশের সীমান্তে নিয়মিত উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২৬ লাখের বেশি আফগানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে এবং সীমান্তে বাণিজ্যিক পথ বন্ধের পাশাপাশি আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলাও চালিয়েছে। টিটিপির সঙ্গে আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া তালেবানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের জন্যও একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে দেশটির ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী শিয়া ও হাজারা জনগোষ্ঠী তীব্র বৈষম্য ও বাধার মুখে রয়েছে। শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও আইনি অধিকার খর্ব করার পাশাপাশি তাদের শীর্ষ আলেমদের প্রাদেশিক কাউন্সিল থেকে দূরে রাখা হয়েছে এবং সালাফি মতাবলম্বীদের ওপরও দমনপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।

সামরিক দিক থেকে তালেবানের বিরুদ্ধে কোনো সুসংগঠিত সশস্ত্র বিরোধী জোট বা বিদেশি সমর্থনপুষ্ট বিকল্প শক্তি না থাকলেও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দল এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। চীন, রাশিয়া কিংবা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাস্তবমুখী কিছু বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় থাকলেও পশ্চিমা দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া দেশটির স্থায়ী অর্থনৈতিক ও মানবিক উত্তরণ অনিশ্চিত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই


ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ২১:৩৯:৫৩
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ টেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হলে তা প্রয়োজনভেদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি এমনই এক কঠোর কৌশলগত বার্তা দিয়েছেন।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেনারেল নাকদি জানান, লড়াই বা সংঘাতের সময় যত বাড়বে, আইআরজিসি তথা ইরান বাস্তব যুদ্ধের কৌশল ও অভিজ্ঞতা তৈরিতে ততটাই সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর নতুন করে যেকোনো ধরণের হামলা চালানোর আগে তা যে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে—সেই বার্তাই প্রতিপক্ষ ওয়াশিংটনকে দিতে চায় তেহরান।

সাক্ষাৎকারে নাকদি স্বীকার করে নেন যে, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই পরিচালনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আগে ইরানের ছিল না, যা তারা বিগত কয়েক মাসের পরিস্থিতি ও সংঘাত থেকে রপ্ত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুরো মেয়াদজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তেহরানের চূড়ান্ত কৌশল কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের বিপরীতে নাকদি স্পষ্ট করেন যে, তাদের আসল লক্ষ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষয় করা। এর মাধ্যমে এমন এক অনমনীয় প্রতিরোধ ও জবাবের সক্ষমতা দাঁড় করানোই লক্ষ্য, যেন ভবিষ্যতে কেউ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করার সাহস না পায়।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। তিনি মন্তব্য করেন, সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন যদি এমন ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হবে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের সকল সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলবে। অবশ্য ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক বোমা তৈরির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তেহরানের ক্ষমতার আসল উৎস জনগণ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ, পারমাণবিক বোমার দিকে যাওয়ার প্রয়োজন তাদের নেই।

নিজের দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরে নাকদি জানান, বর্তমানে ইরান প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, তা সংঘাতের ব্যবহৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তাই সামরিক হামলা ও যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরেও চলে, তাহলেও শেষ দিন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যেতে সক্ষম থাকবে তেহরান।

এদিকে মার্কিন ও ইরানি কর্তৃপক্ষের সামরিক উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক বলয়ে মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ দাবি করে দু দেশই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা না এলে এবং এই সামরিক অচল অবস্থা প্রলম্বিত হলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যদস্তু হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

/আশিক


সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ সামরিক জোট: তৈরি হচ্ছে অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৮:২৯:৪৭
সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ সামরিক জোট: তৈরি হচ্ছে অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো
ছবি : সংগৃহীত

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এবার একটি সর্বজনীন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও সামরিক সুবিধাসমূহ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই নতুন যৌথ কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে নিয়মিত নীতিগত সমন্বয় ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হবে।

রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজন, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দেশ তিনটি।

সামরিক সহযোগিতার এই নতুন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগকে নিয়মিত করবে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকটে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

এই চুক্তির একটি বড় দিক হলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয়। তুরস্কের দ্রুত বিকাশমান প্রতিরক্ষা শিল্প, পাকিস্তানের কৌশলগত সামরিক প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাজেটের মেলবন্ধন এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ উদ্যোগে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। ভবিষ্যতের এই সম্ভাব্য সহযোগিতায় ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক যানবাহন ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যৌথ উৎপাদনের বিষয়গুলো স্থান পেতে পারে।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার এই তিন প্রভাবশালী মুসলিম প্রধান দেশের সামরিক ঐক্য নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তুরস্কের ন্যাটো সদস্যপদ ও আঞ্চলিক সামরিক প্রভাব, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও বৃহৎ সেনাবাহিনী এবং সৌদি আরবের ভূরাজনৈতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে এই সমন্বিত সামরিক কাঠামো আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে গভীর প্রভাব ফেলবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের পুরোনো প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিস্তৃত করে এবং পরবর্তীতে তুরস্ক এতে যুক্ত হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায় গঠনের মাধ্যমে চুক্তিটিকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

তবে এই নতুন প্রতিরক্ষা জোট কেবল নিজেদের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, নাকি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী দিনে এই যৌথ সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রকল্পগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


তুরস্ক সফরে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ইরানের হাতে, উড়োজাহাজে হামলার চক্রান্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ২১:৪৯:৫৮
তুরস্ক সফরে ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ইরানের হাতে, উড়োজাহাজে হামলার চক্রান্ত
ছবি : সংগৃহীত

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, এমনকি তিনি হোটেলের কোন তলায় ছিলেন—সে সংক্রান্ত তথ্য ইরানের কাছে ছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হামলার তথ্য আগেই পান যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ওই তথ্যে ট্রাম্পের বিশেষ বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাটো সম্মেলনস্থলের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়েও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিল।

আঙ্কারায় তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মার্কিন প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে মূল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটিকে একটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল বা ডামি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে জনসমক্ষে দৃশ্যমান ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশ করলেও, পরবর্তীতে তাকে গোপনে একটি ভিন্ন সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সফরসঙ্গী সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তখন পর্যন্ত জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট ওই বিমানে ছিলেন না।

পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ের সত্যতা ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরামর্শক্রমেই তাকে বিকল্প বিমানে ভ্রমণ করতে হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক ছিল।

কোন বিমানে ঝুঁকি বেশি ছিল—সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি পরবর্তীতে যে বিকল্প বিমানে উঠেছিলেন সেটিই হয়তো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কারণ সম্ভাব্য হামলাকারীরা সেটাকেই মূল লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত।

নিজের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, সেখানে একটি বাস্তব হুমকি ছিল বলেই ধারণা করা যায়। তবে ঘটনাটি নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি। এ ধরনের হুমকি তাকে প্রায়শই পেতে হয়, যার অনেক খবরই জনসমক্ষে আসে না।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


আকাশে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে পৃথিবীর যেসব প্রান্ত থেকে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ২০:০৩:৪৪
আকাশে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে পৃথিবীর যেসব প্রান্ত থেকে
ছবি : সংগৃহীত

বিশাল মহাজাগতিক দৃশ্য রূপ নিতে যাচ্ছে ইউরোপ ও সংলগ্ন অঞ্চলে। বুধবার (১২ আগস্ট) ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল, পর্তুগালের কিছু অংশ, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড থেকে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করবেন লাখ লাখ মানুষ।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং উত্তর ইতালির বাসিন্দারা প্রত্যক্ষ করবেন আংশিক সূর্যগ্রহণ। লন্ডনে স্থানীয় সময় বিকেল ৬টা ১৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে রাত ৮টা ৬ মিনিটে শেষ হবে, যেখানে সূর্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে। ১৯৯৯ সালের পর যুক্তরাজ্যে আর পূর্ণগ্রাস দেখা যায়নি এবং ২০৯০ সালের আগে তা আর দেখার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে পুরো সূর্যালোককে অবরুদ্ধ করে, তখনই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল (করোনা) স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, যা সূর্যের সৌরচক্র ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ এনে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খালি চোখে বা সাধারণ সানগ্লাস পরে সূর্যগ্রহণ দেখা মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি দেখতে বিশেষ সৌর-চশমা বা পিনহোল প্রজেক্টর ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রহণের দিনে ১২-১৩ আগস্ট রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় প্রত্যাশিত থাকায় রাতের আকাশেও আরেকটি মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

সূত্র: গার্ডিয়ান


সংঘাতের পর পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উধাও, দাবি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১২ ১৮:৪১:২৭
সংঘাতের পর পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ উধাও, দাবি ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক সংঘাতের আগের পরিস্থিতির তুলনা টেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি দাবি করেছেন যে, ইতিপূর্বে যেখানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকত, বর্তমানে সেখানে আমেরিকার একটি যুদ্ধজাহাজও অবস্থান করছে না।

ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে এই সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। কমান্ডার মোহেব্বি সতর্ক বার্তা দিয়ে জানান, ইরানের নিরাপত্তা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যদি পুনরায় কোনো ধরনের হুমকি আসে, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মাইল দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, মার্কিন ও অ-মার্কিন সামরিক রূপরেখা এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক কাঠামোর বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইআরজিসি মুখপাত্র উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক কৌশল সাধারণত একই সঙ্গে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ পরিচালনার নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তবে ইরানের সঙ্গে সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার কারণে তাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরঞ্জাম ঘাটতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত হুমকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সূত্র পার্সটুডে


ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:৩৭:২২
ইরানের হামলার শঙ্কায় অভিনব কৌশলে দেশে ফেরেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের হামলার আশঙ্কায় গত জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার সময় এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প সবার সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তাকে খুব সতর্কতার সাথে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবার সরবরাহের ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে গোপন একটি ছোট সামরিক বিমানে তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে যে বড় বিমানে ট্রাম্প প্রথমে উঠেছিলেন, সেটিকেই মূলত ‘ফাঁদ’ বা ‘ডেকয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাংবাদিক এবং অনেক কর্মকর্তা জানতেন না যে ট্রাম্প আসল বিমান ছেড়ে অন্য বিমানে উঠে গেছেন; সবাই ভেবেছিলেন ট্রাম্প ওই বড় বিমানটিতেই আছেন। এমনকি যাত্রার সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা পর্যন্ত নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে গোপন সেই সামরিক বিমানটি প্রথমে ব্রিটেনের একটি ঘাঁটিতে নামে এবং সেখান থেকে ট্রাম্প নিরাপদে ওয়াশিংটনে ফেরেন।

মূলত ইরানের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি পাওয়ার কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় এমন নজিরবিহীন ও গোপন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: