ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং তথ্যযুদ্ধের মধ্যে এই চিঠি শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠিতে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে কখনো আগ্রাসন, সম্প্রসারণবাদ বা উপনিবেশ স্থাপনের পথ অনুসরণ করেনি। তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং বরাবরই আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে প্রচলিত সেই ধারণার বিরোধিতা করেন, যেখানে ইরানকে একটি আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে ইরানকে একটি প্রাচীন, ধারাবাহিক ও সভ্যতাগতভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দেশটির পরিচয় কোনো সামরিক আগ্রাসনের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তার মতে, ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা একটি রাজনৈতিক নির্মাণ, যার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার মাধ্যমে কিছু শক্তিধর দেশ নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৈধতা দিতে, অস্ত্রশিল্পকে সক্রিয় রাখতে এবং কৌশলগত বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তার ভাষায়, একটি ‘কৃত্রিম শত্রু’ তৈরি করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
এই চিঠি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক কেবল সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং জানায়, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, বাস্তব যুদ্ধের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল তথ্য ও বয়ানযুদ্ধও চলছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজেদের অবস্থানকে বৈধতা দিতে চেষ্টা করছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে “বয়ানযুদ্ধ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন যেখানে নিজেদের কৌশলগত সাফল্য তুলে ধরতে চায়, সেখানে ইরান নিজেকে একটি আক্রান্ত রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই দ্বিমুখী বয়ান আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেজেশকিয়ানের চিঠিতে এই বয়ানযুদ্ধের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি একদিকে আত্মরক্ষার অধিকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে মার্কিন জনগণের প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে বোঝাতে চান যে, ইরানের বিরোধিতা কোনো জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং নির্দিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে। এই ধরনের বার্তা সাধারণত জনমত বিভাজনের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে কূটনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করা হয়।
চিঠির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের প্রভাব বা প্ররোচনায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে আসছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে। এই অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বহুল আলোচিত একটি বিষয়, যেখানে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে, এটি একটি বৃহত্তর কৌশল, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাতের দায় অন্যদিকে স্থানান্তর করা হয় এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে তার সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পেজেশকিয়ানের এই খোলা চিঠি একটি কৌশলগত যোগাযোগ প্রচেষ্টা, যা কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। একদিকে যখন সামরিক সংঘর্ষ তীব্রতর হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের বয়ানযুদ্ধ সংঘাতের চরিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কেবল অস্ত্রের লড়াই নয়, বরং ধারণা, ব্যাখ্যা এবং বৈধতার লড়াইতেও পরিণত হয়েছে। এই দ্বিমাত্রিক সংঘাতের ফলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং সমাধানের পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা
আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোববার (১৭ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে ‘বিরাট অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাবটি মূলত ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ নামক একটি বিশেষ ভাইরাসজনিত স্ট্রেইন, যার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও এই ভাইরাসটি পৌঁছে গেছে, যেখানে ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুসহ দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবাধ মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যের কারণে ডিআর কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে দ্রুত ‘জরুরি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা এবং ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি টেস্টের ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত অবমুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে সাফ জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই প্রথম শনাক্ত হওয়া বাদুড়বাহিত এই ভাইরাসের এটি দেশটির ১৭তম প্রাদুর্ভাব, যাতে গড়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।
/আশিক
চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের প্রথম লাইন পড়েই তা ছুড়ে ফেলে দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে দেশে ফিরে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি দ্রুত সমঝোতায় না আসে তবে তাদের সামনে "খুব খারাপ সময়" অপেক্ষা করছে। পশ্চিম এশিয়ায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে মেগা হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নতুন হুঙ্কার সংঘাতের আবহকে আরও উসকে দিল।
সাক্ষাৎকারে ইরানের সাথে কোনো চুক্তি আসন্ন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, "আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যদি ওরা সমঝোতা না করে, ওদের খুব খারাপ সময় দেখতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, চুক্তিতে আসার পেছনে খোদ ইরানেরই বড় স্বার্থ রয়েছে—যা মূলত হামলা হলে তেহরানের অপূরণীয় অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক শেষে ফেরার পথেই ট্রাম্প ইরান নিয়ে তাঁর এই তীব্র অসন্তোষের কথা জানান।
ইরান সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে একটি লিখিত সমঝোতার প্রস্তাব পাঠালেও তা পুরোপুরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রথম লাইন পড়েই ট্রাম্প বাতিল করে দেন। অন্যদিকে, কৌশলগত মিত্র হলেও হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিংও সংকটের সমাধান চায়; তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প জিনপিংকে কোনো চাপ দেওয়ার আবদার করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পেন্টাগন ও ইসরায়েলি বাহিনী ধরে নিয়েছে যুদ্ধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওয়াশিংটন থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হতে পারে। অবশ্য গত মাসেই ইরানের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খামখেয়ালিপনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাধারে যুদ্ধবিরতি ও নতুন হামলার পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়ে পুরো বিষয়টিকে তামাশায় পরিণত করছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক শান্তি আলোচনা পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে যৌথ সামরিক হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশই তাদের ব্লুপ্রিন্ট সাজিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এই বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখন অত্যাসন্ন এবং তারা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার ইরানের ওপর আগের চেয়েও বহুগুণ তীব্র ও নজিরবিহীন বোমাবর্ষণ করা হবে। এবারের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) হবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান লাইফলাইন ‘খার্গ দ্বীপ’ সামরিকভাবে দখল করার ছক তৈরি করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
একই সঙ্গে আরও একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ গোপন অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; যার অধীনে ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী পাঠিয়ে তাদের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম জব্দ করে নিয়ে আসা হবে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানটি হবে অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী, কারণ কমান্ডোদের সহায়তায় কয়েক হাজার সেনার ব্যাকআপ রাখতে হবে—যাদের সাথে ইরানি বাহিনীর সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ বেঁধে গিয়ে বিপুল সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, "আমেরিকানরা এখন পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসবে না। আমরা আগামী কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।" অবশ্য এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের ‘চিরজীবনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের’ কড়া শর্ত থেকে কিছুটা নরম সুরে ফিরে এসেছেন। চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি লিখিতভাবে সত্যিকার অর্থে আগামী ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তিনি সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান: ভারতের সেনাপ্রধান
সীমান্তে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যকলাপ অব্যাহত রাখলে পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শনিবার (১৬ মে) দিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘ইউনিফর্ম আনভেইলড’ আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে তিনি পাকিস্তানকে এই চরম হুমকি ও সতর্কবার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে ভারতের সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। জবাবে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটিকে ঠিক করতে হবে তারা ভূগোলের অংশ থাকবে, নাকি ইতিহাস হয়ে যাবে।” ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া সেনাপ্রধানের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু আক্রমণাত্মক বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানে ভারতের কঠোর মনোভাবই পুনরুল্লেখ হয়েছে।
ভারতের এই নতুন হুমকির নেপথ্যে রয়েছে বিগত বছরের এক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত। গত বছরের ৭ মে কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি প্রাণঘাতী হামলার জবাবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক নিখুঁত ও আকস্মিক বিমান ও সামরিক হামলা চালায় নয়াদিল্লি।
এর পরপরই পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা বিমান ও সামরিক অভিযান শুরু করে। দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে প্রায় ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র সামরিক সংঘাত চলার পর ১০ মে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যুদ্ধবিরতির এক বছর পার হতেই ভারতের সেনাপ্রধানের মুখ থেকে পাকিস্তানকে ‘ইতিহাস বানিয়ে দেওয়ার’ এমন নজিরবিহীন সামরিক হুঁশিয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আবারও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
/আশিক
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও চলমান তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপত্তার কাঠামোর আওতায় এই নতুন নৌ চলাচল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত রুটের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ইব্রাহিম আজিজি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা পক্ষগুলোই এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে। পাশাপাশি, এই রুটে বিশেষ সেবা দেওয়ার বিপরীতে জাহাজগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি বা মাশুলও আদায় করবে তেহরান।
সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো, ইরানি এই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ‘তথাকথিত স্বাধীনতা প্রকল্পের’ পরিচালনাকারীদের জন্য এই রুট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্বাধীনতা প্রকল্প’ বলতে ইরান মূলত লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নৌ অভিযান ও সামরিক উপস্থিতির দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করেছে।
ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন ‘চোকপয়েন্ট’। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথটি দিয়েই পারাপার হয়। ফলে, এই প্রণালিতে ইরানের যেকোনো ধরনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ বা সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
/আশিক
গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আদ-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবারের (১৫ মে) এই হামলায় তাঁর নিহত হওয়ার খবরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করার পর, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী হামাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও তা নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার জামির এই অভিযানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ছিলেন এই হাদ্দাদ।
২০২৫ সালের মে মাসে ইসরায়েলি হামলায় মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হাদ্দাদ গাজায় হামাসের সামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ইসরায়েলের দাবি, তিনি হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও সেনা হত্যা এবং অপহরণের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। মুক্ত হওয়া জিম্মিদের দেওয়া তথ্যে বারবার হাদ্দাদের নাম উঠে এসেছিল।
হামাস সূত্রে জানা গেছে, ‘ভূত’ নামে পরিচিত হাদ্দাদ এর আগেও ইসরায়েলের একাধিক সুনির্দিষ্ট গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১৯৮০-এর দশকে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির সাথে যুক্ত ছিলেন। হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, সংগঠনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার মধ্য গাজার আল আকসা শহীদ মসজিদে হাদ্দাদ, তাঁর স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী মেয়ের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তবে হাদ্দাদের স্ত্রী ও সন্তান একই বিমান হামলায় নাকি ভিন্ন কোনো উপায়ে মারা গেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় তিন নারী ও এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, আইডিএফ এই সুনির্দিষ্ট হামাস নেতাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করেই বিমান হামলাটি চালিয়েছিল এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা সফল হয়েছে।
হাদ্দাদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গাজায় হামাসের সামরিক চেইন অব কমান্ড বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন যুদ্ধ বিশ্লেষকরা।
/আশিক
২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি
ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় ও বিপজ্জনক মায়ন আগ্নেয়গিরিতে নতুন করে তীব্র অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্নেয়গিরিটির অভ্যন্তরে কয়েক ডজন শক্তিশালী ভূমিকম্প ও কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের (ফিভলক্স) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গত এক দিনে মায়ন আগ্নেয়গিরিতে ৫১টি আগ্নেয় ভূমিকম্প, ৩০টি আগ্নেয় কম্পন, শত শত শিলা ধস এবং ৬টি পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহের (উত্তপ্ত গ্যাস ও পাথরের দ্রুততম প্রবাহ) সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির মূল গহ্বর থেকে অনবরত জ্বলন্ত লাভা বের হচ্ছে এবং লাভার এই প্রবাহ বাসুদ, বংগা ও মি-ইসি এলাকার দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে গহ্বর থেকে লাভার উঁচুতর ফোয়ারাও দেখা যাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, শুক্রবার আগ্নেয়গিরিটি থেকে রেকর্ড ১ হাজার ৪৮২ টন সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ বাতাসের গতিপথে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, যা ওই অঞ্চলের বাতাস ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির চারপাশের ৬ কিলোমিটার এলাকাকে ‘স্থায়ী বিপৎসীমা’ (Permanent Danger Zone) ঘোষণা করে জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফিভলক্স আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এবং ঢালে বসবাসকারী হাজার হাজার বাসিন্দাদের লাভা প্রবাহ, আকস্মিক শিলা ধস, মাঝারি মাত্রার বিস্ফোরণ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ‘লাহার’ বা বিপজ্জনক কাদাপ্রবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
/আশিক
চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীন সফর শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখাই সবার জন্য মঙ্গলজনক।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না তাইওয়ান স্বাধীনতা ঘোষণা করে বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করুক। তাঁর ভাষায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও তাইওয়ানে কোনো যুদ্ধ বা স্বাধীনতা আন্দোলন দেখতে চান না। তবে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে (লাই চিং) আগেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তাইওয়ানের আলাদা করে নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তারা নিজেদের আগে থেকেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক অভিনব বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, “যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ বাঁধে, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে লড়াই করতে হবে, যা আমি কোনোভাবেই চাই না।” মূলত দূরবর্তী কোনো ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে ট্রাম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষেই নিজের অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সবসময় কৌশলী ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি চীনের রেড লাইন বা সর্বোচ্চ সংবেদনশীল বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। চীন বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও তারা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেবে।
যদিও ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ (One China Policy) মেনে চলার এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তবুও পর্দার আড়ালের সামরিক সমীকরণ ভিন্ন। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাইওয়ানের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে আধুনিক রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার কথা দ্বীপ রাষ্ট্রটির। বেইজিং এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা পুরোপুরি এগিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর প্রশাসন খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (এটিজি) বড় ধরনের সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। পাসওয়ার্ডহীন ও ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা এই সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকাররা জ্বালানির প্রদর্শিত তথ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রবল সন্দেহ, এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা জড়িত।
তদন্তকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা গ্যাস স্টেশনগুলোর ‘অটোমেটিক ট্যাংক গেজ’ (এটিজি) সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। এই অনুপ্রবেশে কোনো শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হ্যাকাররা যদি এই সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তবে গ্যাস লিকের মতো বিপজ্জনক ঘটনাও তারা গোপন রাখতে পারবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তেহরান সাইবার যুদ্ধকে বিকল্প কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতেও ইরান মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করায় দেশটিকে প্রধান সন্দেহভাজন ভাবা হচ্ছে। তবে অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণের অভাবে চূড়ান্তভাবে দায়ী পক্ষকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই সাইবার হামলা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরান যুদ্ধ তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সাইবার আতঙ্ক হ্যারিস বা ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
২০২১ সালে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভ্যন্তরীণ গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, গ্যাস স্টেশনের এটিজি সিস্টেমকে তারা ভবিষ্যৎ সাইবার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তেল, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে।
এমনকি এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ফাঁসের ঘটনাতেও ইরানি হ্যাকারদের নাম জড়িয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার অধিদফতরের প্রধান ইয়োসি কারাদি জানান, ইরানি হ্যাকাররা এখন সাইবার হামলার পাশাপাশি সমন্বিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণাও চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কেবল অবকাঠামো নয়, আমেরিকার আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ইরান বড় ধরনের তথ্যযুদ্ধ চালাতে পারে। ২০২০ ও ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনেও ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে হ্যাকিং এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করার পেছনে ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল। সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবস সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সহায়তায় এখন খুব কম খরচে এবং দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি।
সূত্র: সিএনএন
পাঠকের মতামত:
- টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা পাকিস্তান: সিলেট টেস্টের রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় দিন
- ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন
- কুমিল্লায় সুজনের সভা: গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা
- চীন সফর শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কার: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য
- নীতি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মান ছাড়া চামড়া শিল্পের টেকসই বিকাশ অসম্ভব: শিল্পমন্ত্রী
- রবিবার রাত ১১টায় বন্ধ হচ্ছে সংযোগ, সোমবার বিকেলের আগে আসবে না গ্যাস
- ঈদযাত্রার শেষ দিন ২৭ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ
- সন্ধ্যার আগেই দেশের ৭ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- মধ্যপ্রাচ্যে মেগা যুদ্ধের কাউন্টডাউন, ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
- সড়কে বের হওয়ার আগে জেনে নিন রাজধানীর আজকের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
- ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম, রুপার ভরিতেও স্বস্তির আভাস
- রোববার ঢাকার যেসব এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ নারীদের জন্য সেফগার্ড: নুরুল হক নুর
- সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান: ভারতের সেনাপ্রধান
- আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল: ২০২৬-২৭ বাজেটে মিলবে প্রাথমিক রূপরেখা
- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নৌ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কাঁপন
- কোরবানির হাটে ঝড় তোলা নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে বিক্রি!
- ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বদল
- আওয়ামী লীগের মতোই মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি: সারজিস আলম
- দেবিদ্দার পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের পিটুনিতে বাবা নিহত, এলাকায় শোক
- ভারতকে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
- মেসি-রোনালদোর ওয়ান লাস্ট ড্যান্স: ফুটবল বিশ্বে মহাকাব্যিক শেষের কাউন্টডাউন
- আওয়ামী লীগ ফিরলে প্রথম গুলিটি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন
- গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী বিমান হামলা: হামাসের সামরিক প্রধান হাদ্দাদ নিহত
- ২৪ ঘণ্টায় অর্ধশতাধিক ভূমিকম্প: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের মায়ন আগ্নেয়গিরি
- ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভুগছে ভারতও, ব্যারাজ ভাঙার দাবি খোদ সে দেশে: রিজভী
- আমরা কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- কুমিল্লার মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল: এক বছরে ঝরল শত শত প্রাণ, আহত সহস্রাধিক
- ইসরায়েলকে পিতৃভূমি ও আমিরাতকে দ্বিতীয় বাড়ি বললেন মোদি
- আজকের টাকার রেট: ১৬ মে ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- চীন সফর শেষে তাইওয়ান ইস্যুতে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
- লিভার ফেইলিউরের সাথে লড়ে হেরে গেলেন অভিনেত্রী কারিনা কায়সার
- শরীয়তপুরে নৃশংসতা: প্রবাসীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে রাখলেন স্ত্রী
- যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির মাঝেই গ্যাস স্টেশনে হ্যাকিং: অস্বস্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন
- স্থায়ী বন্ধের জেদ থেকে পিছু হটার ইঙ্গিত: ইরান ইস্যুতে অবশেষে সুর নরম করলেন ট্রাম্প
- স্বর্ণের বাজারে বড় পতন: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- আসছে সুপার এল নিনো: বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কৃষিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা
- মেগা সফরে চাঁদপুর গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সড়কপথে যাত্রা শুরু
- শনিবারের ঢাকার ছুটির তালিকা: আজ বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও এলাকা
- সবুজ উইকেটে পাকিস্তান পেসারদের তোপ: শুরুতেই চরম উইকেট বিপর্যয়ে বাংলাদেশ
- আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পুর্নাংগ বিশ্লেষণ
- ইরান প্রশ্নে বেইজিংয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত বার্তা পেল না ওয়াশিংটন
- হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
- শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
- কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সোনার বাজারে আগুনের হল্কা: নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে ২২ ক্যারেট
- ১৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পুর্নাংগ বিশ্লেষণ
- শনিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- হরমুজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরল ঐকমত্য
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- নবম পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে
- আকাশচুম্বী দামে থমকে আছে স্বর্ণ: সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে অলঙ্কার
- হেক্সা জয়ের লক্ষ্যে ব্রাজিলের ৫৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা
- পুঁথিগত বিদ্যা নয়, নজর দিন উদ্ভাবনে: ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন
- নির্মিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু: সেতু মন্ত্রী
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ সুবিধা, জানাল সরকার








