ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১১:৪৬:০২
ইরানের ইতিহাসে ভয়াবহতম দিন: এক রাতেই তছনছ রাজধানী তেহরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানজুড়ে স্মরণকালের ভয়াবহতম তাণ্ডব চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ৭০১টি শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। বিবিসি এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (HRANA) তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক হামলার ঘটনা এটিই প্রথম।

এই বিধ্বংসী হামলার প্রায় ৭৪ শতাংশই পরিচালিত হয়েছে রাজধানী তেহরানকে লক্ষ্য করে। ফলে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির শিকার হয়েছে এই শহরটি। এইচআরএএনএ-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর মাত্র এক মাসে নিহত বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫১ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ২৩৬ জনই নিষ্পাপ শিশু। তেহরানের আকাশজুড়ে এখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং ধ্বংসস্তূপের চিত্র এই যুদ্ধের নির্মমতাকে ফুটিয়ে তুলছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনি পরিস্থিতিতে নতুন ঘি ঢেলেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তারা দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক মহাযুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হুথিরা যদি লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। অন্যদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ জন সাংবাদিক নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যদিও ইসরায়েলের দাবি, নিহতদের একজন হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন।

/আশিক


ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৫২:৫৭
ইসরায়েলে হুথিদের মিসাইল রেইন: ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় দফায় কাঁপল তেল আবিব
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। ইরানি বাহিনীর পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হুথিদের এই দ্বিতীয় দফার আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইয়াহিয়া সারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ‘আগ্রাসন ও হামলা’ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইয়েমেনের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তারা ইসরায়েলের বেশ কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে আধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করেছে।

মূলত লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই ড্রোন ও মিসাইল রেইন চালানো হয়েছে। হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, "দখলকৃত পশ্চিম তীরেও আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি। যদি অন্য কেউ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ নেয়, তবে আমাদের আঙুল সবসময় বন্দুকের ট্রিগারেই থাকবে।"

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের অ্যারো-ডিফেন্স সিস্টেম এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই বিধ্বংসী যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর ইয়েমেনের সরাসরি অংশগ্রহণ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলছে। লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এখন হুথিদের এই ‘ট্রিগার হ্যাপি’ মনোভাব বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

/আশিক


সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৪৮:২২
সৌদি যুবরাজ এখন আমার পেছনে ঘুরছেন: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের প্রভাবশালী ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এখন যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে ঘুরছেন এবং ওয়াশিংটনের প্রতি নমনীয় আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার মিয়ামিতে সৌদি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বার্ষিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, ৯০ বছর বয়সী সৌদি বাদশাহ তাঁকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সুর ছিল কিছুটা আক্রমণাত্মক।

ট্রাম্প দাবি করেন, এক বছর আগে যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মৃতপ্রায় দেশ’ বলে মনে করলেও এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, "তিনি (এমবিএস) ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হবো এবং দেশ রসাতলে যাবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো, তাই তাঁকে আমার সাথে ভালো আচরণ করতেই হচ্ছে।"

এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং একে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্পও যুবরাজকে একজন ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে তিনি আমেরিকার পাশেই আছেন।

তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। রিয়াদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে আসছে। ট্রাম্পের এমন দম্ভোক্তি এবং রিয়াদের অস্বীকার—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পর্দার আড়ালের সম্পর্ক এখন বিশ্ব রাজনীতির টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আরটি


আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১০:৩৮:০৯
আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা: তছনছ মার্কিন স্বার্থের দুই কারখানা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি বিশাল অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় এক ভয়াবহ সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) এক বিবৃতিতে তারা এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইমারেটস অ্যালুমিনিয়াম (ইমাল)’ এবং বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা)’ কারখানায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই হামলা পরিচালনা করে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন-জায়োনিস্ট শত্রুরা পারস্য উপসাগরের উপকূলীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করে ইরানের শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এর কঠোর জবাব দিতেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাল কারখানাটি বিশ্বের দীর্ঘতম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন লাইনের অধিকারী এবং আলবা কারখানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগ ও শেয়ার রয়েছে। এই কারখানা দুটি মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক-শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করেছে ইরান।

এই হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইআরজিসি এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে বর্ণনা করলেও, এখন পর্যন্ত ইমাল বা আলবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের এই সরাসরি হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


আমেরিকার রাজপথে লাখো মানুষের গর্জন: কাঁপছে হোয়াইট হাউস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ০৯:৩১:৪২
আমেরিকার রাজপথে লাখো মানুষের গর্জন: কাঁপছে হোয়াইট হাউস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ (No Kings) আন্দোলনের তৃতীয় দফার এই কর্মসূচিতে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) রাজপথে নামেন লাখ লাখ বিক্ষোভকারী।

আন্দোলনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসির পাশাপাশি এবার রোম, প্যারিস এবং বার্লিনের মতো বিশ্বসেরা শহরগুলোতেও সমান্তরাল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এবারের আন্দোলনের মূল বিশেষত্ব ছিল রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা। তবে সবচেয়ে বিশাল জনসমাবেশ দেখা গেছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, শনিবারের সমাবেশে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

এই সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না।” রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জোয়ান বায়েজ তাঁদের সংগীতের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের বীরত্বকে স্যালুট জানান।

ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়াল এলাকায় জমায়েত হওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লেখা প্ল্যাকার্ড। ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরের পর এটিই ছিল ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শো-ডাউন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই গণবিক্ষোভ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামাতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

/আশিক


ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক তথ্য: ইরানে শুরু হচ্ছে যুদ্ধের নতুন ধাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ০৯:১৩:০৮
ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক তথ্য: ইরানে শুরু হচ্ছে যুদ্ধের নতুন ধাপ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ওপর টানা কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনাকে জড়ো করা হয়েছে, যাদের মূল লক্ষ্য হবে ইরানের ভেতরে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো। তবে এই হামলা প্রথাগত যুদ্ধের মতো হবে না; বরং এটি হবে স্পেশাল ফোর্স এবং কামান সেনাদের সমন্বয়ে তৈরি এক বিশেষ ‘রেইড’ বা ঝটিকা অভিযান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই নতুন ধাপটি মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে সেনাদের ড্রোন, মিসাইল এবং সরাসরি ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ বিষয়ে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে রাখে যাতে কমান্ডার ইন চিফ (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনই চূড়ান্ত স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

কোথায় হতে পারে হামলা?

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটি থেকেই ইরান তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটিকেই প্রধান টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করছে। এই স্থল হামলার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।

/আশিক


যুদ্ধের মাঝে বড় ধামাকা: রহস্যময় উপহারে সুর নরম করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ২১:৫৫:৪৩
যুদ্ধের মাঝে বড় ধামাকা: রহস্যময় উপহারে সুর নরম করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবসানের ইঙ্গিত দিয়ে এক নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প এই ঘটনাকে তেহরানের পক্ষ থেকে আসা একটি ‘রহস্যময় উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান প্রথমে আটটি তেলবাহী জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানায় এবং পরবর্তীতে আরও দুটি জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। তাঁর মতে, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী অস্তিত্ব এবং আলোচনার টেবিলে তাদের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে চায়। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, জাহাজগুলো সম্ভবত পাকিস্তানের পতাকাবাহী এবং তারা একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আলোচনায় নমনীয় হওয়ার সংকেত দিয়েছে। যদিও মেরিন গোয়েন্দা সংস্থা 'ক্লেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে বেশ কিছু ট্যাংকার উপসাগর অতিক্রম করেছে, তবে সেগুলোই ট্রাম্পের উল্লিখিত জাহাজ কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মজার ব্যাপার হলো, ট্র্যাকিং তথ্য বলছে—যে জাহাজগুলো চলাচল করছে তার মধ্যে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ও দুটি গ্যাসবাহী জাহাজ বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এসব জাহাজের গন্তব্য মূলত চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারত। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের এই প্রবাহ বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


বিপদে ইরানের পাশে রাশিয়া: জরুরি সহায়তা নিয়ে তেহরানে রুশ বিমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ২১:২৬:১৯
বিপদে ইরানের পাশে রাশিয়া: জরুরি সহায়তা নিয়ে তেহরানে রুশ বিমান
সার্গেই ল্যাভরভ ও আব্বাস আরাঘচি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সামরিক ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এর কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল ইরানে রাশিয়ার পাঠানো মানবিক সহায়তার বিষয়টি। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইতিপূর্বে ৩১৩ টন চিকিৎসা সামগ্রীর একটি বিশাল চালান তেহরানে পাঠানো হয়েছে। ল্যাভরভ তাঁর ইরানি সমকক্ষকে অবহিত করেন যে, এটি চিকিৎসা সরঞ্জামের দ্বিতীয় বড় চালান এবং রাশিয়া সংকটকালীন সময়ে ইরানের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানও এর পাল্টা জবাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।

ল্যাভরভ ও আরাঘচি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বৈধ স্বার্থ বিবেচনা করে এই সংঘাতকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার এই মানবিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১৯:১৭:০০
ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরায়েল
লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদাইদাহ বন্দর নগরীতে কুচকাওয়াজ করছেন হুতি বাহিনীর সদস্যরাছবি: হুতি মিলিটারি মিডিয়া/রয়টার্স

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের ওপর হুতিদের বিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কৌশলী আক্রমণ তেল আবিবের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েলি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে একটি হুতি ড্রোন সরাসরি তেল আবিবের আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনাটি হুতিদের সক্ষমতার এক নতুন বার্তা দিচ্ছে, যা ইসরায়েলের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ।

তবে সামরিক চ্যালেঞ্জের চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য নতুন হামলা। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো এই তেলের জাহাজগুলো ইয়েমেনের উপকূল ঘেঁষেই দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। ফলে হুতিরা যদি পুনরায় এই রুটে হামলা শুরু করে, তবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব হবে নাটকীয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫-এর শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। এই ক্রমাগত অস্থিরতার ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে এই রুটটি পুনরায় সচল হলেও হুতিদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার হুমকি বিশ্ব বাণিজ্য ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা বলয়কে আবারও খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


জেট ইঞ্জিন ও এআই প্রযুক্তির মিশেল: ইরানের হাতে এখন রাশিয়ার সুপার ড্রোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১৭:৫৭:১৭
জেট ইঞ্জিন ও এআই প্রযুক্তির মিশেল: ইরানের হাতে এখন রাশিয়ার সুপার ড্রোন
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানি শাহেদ ড্রোনের প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী ও উন্নত সংস্করণ এখন খোদ তেহরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি (AP) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই ড্রোনগুলোতে রুশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করত রাশিয়া। তবে এখন সেগুলোতে রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং এমনকি স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইসও যুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এই উন্নত ড্রোনগুলো আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকে করে ইরানে পাঠানো হচ্ছে। তবে এই চালানের সঠিক পরিমাণ বা সরবরাহের ধরন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য দেশ ইরানকে যতই উন্নত প্রযুক্তি দিক না কেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই খবরকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের হাতে পৌঁছালে তা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: