ইসরায়েলে ইরানি মিসাইলের তাণ্ডব; লারিজানি হত্যার বদলায় জ্বলছে তেল আবিব

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইসরায়েলজুড়ে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে তেহরান। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতভর চালানো এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো শক্তিশালী 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' যুক্ত মিসাইল ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এই বিধ্বংসী অভিযানে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে এবং অনেক এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও দেশটির প্রাণকেন্দ্র রামাত গানে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা এই শহরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৬ মার্চ) ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজানিসহ ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধান এবং আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান এই ‘কঠিন প্রতিশোধের’ হুমকি দিয়ে আসছিল। বুধবারের এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
/আশিক
আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও নিজের ব্যক্তিগত ভূমিকা না থাকলে অনেক আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি নিজে না থাকলে দেশটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। চলমান জি-৭ (G7) সম্মেলনের সাইডলাইনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ট্রাম্প এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করলে অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সুরক্ষায় তার মতো এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাতেন না। ট্রাম্পের মতে, তিনি মধ্যস্থতা না করলে অনেক আগেই ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত।
ইসরায়েলের প্রতি নিজের এই একচ্ছত্র সমর্থনের কথা জানানোর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের তীব্র অসন্তোষের কথাও লুকাননি ট্রাম্প। লেবানন ইস্যুতে তিনি নেতানিয়াহুকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের ঘন ঘন ও অনবরত সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
কথোপকথনে লেবাননের গৌরবময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবানন একসময় মধ্যপ্রাচ্যের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ ছিল। এটি মূলত পরিচিত ছিল বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেশ হিসেবে। মেধাবী ও সুশিক্ষিত মানুষের এক বড় কেন্দ্র ছিল লেবানন। কিন্তু চলমান যুদ্ধবিগ্রহের কারণে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এর আগে গত রবিবার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য ও গোপনে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিনহাই প্রদেশে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১ জন নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিং সময় বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে প্রদেশের হাইশি অঞ্চলে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূগর্ভের কম গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় আশেপাশের এলাকায় বেশ ভালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর ওই অঞ্চলে একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি আফটারশকের তীব্রতা রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ মাত্রা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
বন্দুকের গুলি থামলেও কাটছে না মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: নতুন বাস্তবতায় ইরান ও বৈশ্বিক রাজনীতিমধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই চুক্তি বন্দুকের গুলি থামিয়ে দিলেও, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনীতিক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের মতে, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটালেও সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য এবং নিরাপত্তা কাঠামোকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের কৌশলগত ব্যর্থতা ও তেহরানের আত্মবিশ্বাস
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের জন্য এই চুক্তি মূলত একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত থেকে সম্মানজনক ‘প্রস্থানপথ’ বা এক্সিট রুট। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো ইরান রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং অপরাজিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখেও তারা নিজেদের কাঠামো ধরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথ ও জ্বালানি প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলার মতো কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সংকট ও নতুন সমীকরণ
এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ধাক্কা খেয়েছে সুন্নি আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা এখন কার্যত ভেঙে পড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে যে ইরানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা উৎখাত করার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—কারোই নেই। ফলে ইরানকে একটি ‘স্থায়ী আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের অস্তিত্ব ও স্থিতিশীলতার জন্য পশ্চিমাদের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে, এখন উপসাগরীয় রাজধানীগুলো তেহরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকছে।
ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্বেগ ও ক্ষোভ
ইসরায়েলের জন্য এই চুক্তি একটি বড় কূটনৈতিক আঘাত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিধিনিষেধের মতো ইসরায়েলের মূল দাবিগুলো এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে। ইসরায়েল মনে করছে, আলোচনার শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব এখন নামমাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন ফ্রন্টেও ইসরায়েলের ওপর একই ধরনের ‘চুক্তি মেনে নেওয়ার’ আন্তর্জাতিক চাপ আসতে পারে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ: শান্তির বার্তা নাকি কেবলই ‘আলোচনার টিকিট’?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যা স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে তা কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়, বরং সংঘাত সাময়িক স্তিমিত করার একটি প্রাথমিক কাঠামো মাত্র। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণের মতো মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের ভাষায়, "এটি কোনো সমাধান নয়, বরং কেবল ‘আলোচনার টিকিট’।" সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য এমন এক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভঙ্গুর।
/আশিক
ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
ইউক্রেন যুদ্ধে লিপ্ত রুশ সেনাদের চীনা সামরিক বাহিনী প্রশিক্ষণ দিচ্ছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এমন গুরুতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন' ও 'মানহানিকর' উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান ইইউর এই দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের দাবির কোনো বাস্তব বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি চীনের বিরুদ্ধে অপবাদ এবং মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানোর শামিল।" চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে।
এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিবেদন ইইউর হাতে এসেছে। গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া এই প্রতিবেদনগুলো তারা গুরুত্বের সাথে যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।
বৈঠক শেষে কাজা কালাস আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাশিয়ার সামরিক খাতকে পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে বৈঠকে উপস্থিত ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত রূপরেখা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার প্রতি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নমনীয় অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই যুদ্ধে নিজেদের সম্পূর্ণ 'নিরপেক্ষ' দাবি করে আসছে এবং শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।
/আশিক
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বড় বড় মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি মূল্যায়নে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। এ লক্ষ্যে বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী এক বছরের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ প্যানেল অভিবাসন প্রবণতা, জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি, সামাজিক পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৬ মে এই কমিটি গঠন করে। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লায় দেওয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারত সরকার এই বিষয়টিকে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে না। বরং তারা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কমিটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে এবং বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক মাসে সদস্যরা বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সরাসরি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে যাবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জন্মহার, মৃত্যুহার, কর্মসংস্থান, নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঘটে থাকে। তবে ভারত সরকারের মূল উদ্বেগ অবৈধ অনুপ্রবেশ, অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশ এবং অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির উৎস শনাক্ত করা।
কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের পরিবর্তন সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিক সেবাব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এই তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন জেলা। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত আলোচনা চলছে।
মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি জাতীয় আদমশুমারি, ভোটার তালিকা, অভিবাসন তথ্য এবং সরকারি ডেটাবেস বিশ্লেষণ করা হবে।
সীমান্ত অঞ্চলের বাইরে ভারতের বড় বড় মহানগর ও শিল্পাঞ্চলও এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়ডা, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ এবং পুনের মতো শহরগুলো প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে আকৃষ্ট করে।
ভারত সরকার মনে করছে, দ্রুত নগরায়ণের ফলে এসব এলাকায় জনসংখ্যার চাপ বেড়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র তৈরি, ভোটার তালিকায় অননুমোদিত নাম অন্তর্ভুক্তি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, এসব কার্যক্রমের মূল কারণ শনাক্ত করে সময়মতো নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ, নগর জনসংখ্যার চাপ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ, কর্মসংস্থান, সাংস্কৃতিক ভারসাম্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-রফিক
যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে যাবে।
ইরানের মার্চেন্ট মেরিন ইউনিয়নের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের (আইটিএফ) অধিভুক্ত ইরানি মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের মহাসচিব সামান রেজায়েই বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করিডোর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ সেই প্রতিষ্ঠিত কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংঘাত কেবল সামরিক উত্তেজনাই সৃষ্টি করেনি, বরং সমুদ্রপথে আস্থার সংকটও তৈরি করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরও স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
রেজায়েইর মতে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তে উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নতুন একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক শিপিং শিল্পের অধিকাংশ অংশীজন মনে করছে, হরমুজকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। বরং এটি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং অনিশ্চিত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা, সামরিক হুমকি দৃশ্যমানভাবে কমে যাওয়া এবং কোনো ধরনের নতুন সংঘাত ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে একাধিক নিরাপদ জাহাজ চলাচল সম্পন্ন হওয়া।
ইরানের এই নৌ-বিশেষজ্ঞ জানান, যুদ্ধ চলাকালে বিপুলসংখ্যক জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করায় এখন সমুদ্রপথে জাহাজের বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বহু নাবিকের শিফট পরিবর্তন এবং ক্রু রোটেশনের প্রয়োজনীয়তাও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে আশাবাদী হিসাবেও অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরের উভয় তীরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থার বেশ কিছু অংশ যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করতে বিপুল অর্থ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সময়ের প্রয়োজন হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতার পথে হাঁটছে না ইরান। বরং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা কার্যকর হলেও তা ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য আনবে না।
সামরিক মুখপাত্র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখবে। একই সঙ্গে স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও অব্যাহত থাকবে।
তার ভাষায়, কূটনৈতিক সমঝোতা কখনোই জাতীয় নিরাপত্তার বিকল্প হতে পারে না। তাই আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কার্যক্রম সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো পক্ষ যদি শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন বা বিচ্যুতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “যদি শত্রুপক্ষ এই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা দ্রুত ও শক্ত অবস্থানে ফিরে যাব এবং আঞ্চলিক সামরিক বাস্তবতা আগের পর্যায়ে পুনঃস্থাপন করব।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান এখন ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা দুই পথে সমান্তরাল অগ্রসর হওয়ার’ কৌশল গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ আলোচনার টেবিলে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে ইরান তার প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে দুর্বল করার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি, লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখাকে তেহরান কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অভিঘাত পড়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যে তিনটি কৌশলগত ভিত্তির ওপর তার রাজনৈতিক অবস্থান দাঁড়িয়ে ছিল, সাম্প্রতিক এই সমঝোতার ফলে সেগুলো এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার প্রকাশ্যেই তার কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে লেবাননের বৈরুতে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে এমন হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করেছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সমালোচনা নেতানিয়াহুর জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি নিজেকে ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই পরিচয়কেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা সিমা শাইন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের ফলে লেবাননে ইরানের প্রভাব পরোক্ষভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এর ফলে হিজবুল্লাহ দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে টিকে থাকতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ, লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান আরও সুসংহত হলে উত্তর সীমান্তে ইসরায়েলের কৌশলগত চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সামনে এখন দুটি কঠিন বিকল্প রয়েছে। একদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়ানোর ঝুঁকি, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে আপস করার সম্ভাবনা।
চাপ শুধু বিরোধী দল থেকেই আসছে না, বরং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এই চুক্তি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং দেশটির নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তার এই মন্তব্য ইসরায়েলি রাজনীতির ভেতরে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নেতানিয়াহুর নীরবতা। সাধারণত বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সামরিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও এবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা তার কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক দ্বিধারই প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ঘটত, তাহলে নেতানিয়াহুর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারত। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পরিবেশ তার জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে হবে, নয়তো নিজস্ব নিরাপত্তা নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন মোকাবিলা করতে হবে।
তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশল কোন দিকে এগোবে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করবে, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক প্রভাব ও নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কিনা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা তাকে নতুন সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য করবে।
-রাফসান
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে বিধ্বস্ত স্থানের চারপাশে ঘন ধোঁয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতার কারণে আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে সামরিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি, ফ্লাইট কন্ট্রোল সিস্টেমের সমস্যা কিংবা উড্ডয়নের সময় কোনো প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।
বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান হিসেবে পরিচিত। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশাল আকৃতির কারণে এই বিমানের ডাকনাম ‘দ্য বাফ’ (The BUFF), যার পূর্ণরূপ ‘বিগ আগলি ফ্যাট ফেলো’। যদিও নামটি অনানুষ্ঠানিক, তবুও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে এটি ব্যাপকভাবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-৫২ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর বোমারু প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি। এটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।
এই বিমান প্রায় ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সমরাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। এতে শতাধিক প্রচলিত বোমা বহনের পাশাপাশি ৩২টি পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা যায়।
বি-৫২-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থাতেই এতে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে একবার উড্ডয়ন করলে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো অঞ্চলে বিরতিহীনভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা অর্জন করে বিমানটি।
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও এই বিমান ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানে বি-৫২ ব্যবহারের খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বা পারমাণবিক সুরক্ষা বলয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
- সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
- আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
- চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
- জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
- প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
- দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
- ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
- ১৬ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী
- যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
- মহররমের গুরুত্ব কী? জানুন আশুরার ফজিলত
- আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?
- আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি
- চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত
- বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
- পবিত্র আশুরা কবে
- আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা
- রামিনের গোলে ম্যাচে ফিরল ইরান, জমে উঠল লড়াই
- ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
- যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের
- টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!
- ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!
- এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস
- সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!
- অসংখ্য গুমের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বেনজীর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
- দলীয় লেজুড়বৃত্তি নয়, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- মার্কিন-ইরান চুক্তি ঠেকাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে: লেবাননের নেতা পলা ইয়াকুবিয়ান
- নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা
- মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!
- মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা
- কার্বন ডাই-অক্সাইডে কোনো শিশু মরেনি, মন্ত্রীর পেছনে ঘুষ নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের প্রধান
- নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী
- অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার
- জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান
- ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার
- ১৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আবারও গ্রেফতার তৌহিদ আফ্রিদি
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- ২১ বছরের খরা কাটল মিরপুরে: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!








