লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতে আগুনের তাণ্ডব: পিছু হটছে ইউএসএস ফোর্ড!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৮ ১৭:১৯:৪৫
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরীতে আগুনের তাণ্ডব: পিছু হটছে ইউএসএস ফোর্ড!
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই আকস্মিক এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর লোহিত সাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড' বন্দর অভিমুখে রওনা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রণতরীটির লন্ড্রি অংশে ভয়াবহ আগুন লাগার ফলে অন্তত দুইজন নাবিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নাবিকদের দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়তে হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটিকে জরুরি মেরামতের জন্য লোহিত সাগর থেকে সরিয়ে গ্রিসের সৌদা বে বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রায় এক লাখ টন ওজনের এবং চার হাজারেরও বেশি নাবিকবাহী এই বিশালাকায় রণতরীটি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে লোহিত সাগরে পৌঁছানোর আগে একই বন্দরে যাত্রাবিরতি করেছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র রণতরীর বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি বা এর সাথে থাকা শক্তিশালী গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর অবস্থান নিয়ে বিশদ কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ফোর্ড স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো লোহিত সাগরে তাদের নির্ধারিত সামরিক কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত রাখবে। রণতরীটিকে বন্দর অভিমুখে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান স্পর্শকাতর যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মার্কিন নৌ ইনিস্টিটিউট


সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৪০:৪১
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে বড় আঘাত, জ্বালানি বিশ্বে অশনিসংকেত
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি তেল পাইপলাইন। ছবি: রয়টার্স

ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন দ্রুত সচল করা সম্ভব না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটির রপ্তানি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বর্তমান বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার শিকার হয়ে দেশটির ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের একটি প্রধান পাম্পিং স্টেশন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে পাম্পিং স্টেশনটির কিছু অংশ আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দীর্ঘ পাইপলাইনের সাহায্যে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আরব উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড পার করে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করত। বিগত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের জ্বালানি রপ্তানি চরমভাবে ব্যাহত হলেও এই বিকল্প পাইপলাইনটির ওপর ভর করেই সৌদি আরব তাদের আন্তর্জাতিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন চলার মতো তেলের মজুত অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র। একইভাবে মিশরের আইন সুখনা এবং সিদি কেরির বন্দরেও কয়েক দিনের সমপরিমাণ তেল মজুত থাকলেও তা সম্পূর্ণ পূর্ণ নয়, যার ফলে মূল পাইপলাইনটি অবিলম্বে চালু না হলে এসব বিকল্প মজুতও পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়বে। রয়টার্সকে দেওয়া সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যদিও জরুরি ভিত্তিতে আংশিক সরবরাহ সচল করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পাইপলাইনে আঘাতের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ মার্কিন ডলারে ঠেকেছে, যা বিগত মে মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও শুক্রবার ডিজেলের গড় মূল্য নতুন রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার অতিক্রম করেছে। ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহতভাবে সৌদি তেল অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানা এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকারী পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকট এক নতুন বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে; আর এই উত্তেজনার মধ্যেই ঐকমত্য সৃষ্টির স্বার্থে ওমানের মধ্যস্থতায় পূর্বনির্ধারিত একটি আঞ্চলিক শান্তি বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৭:৫৯:২২
সৌদি ভূখণ্ডে বড় ধরনের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই সামরিক তৎপরতার তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, ওই সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে, রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোঁড়া হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

হুতি মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক তীব্র বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। গোষ্ঠীটির অভিযোগ, বিগত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করেছে সৌদি যুদ্ধবিমান। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সৌদি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে হামলার প্রেক্ষিতে খামিস মুশাইত এলাকায় সাময়িকভাবে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা উল্লেখ করে এবং স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে দেশটির সংঘাত নিরসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৩৬:০৬
‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রুদের সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগের নীতিকে তেহরান বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ ইবনুর রেজা। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, সাম্প্রতিক মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ধারাবাহিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা অবস্থান একচুলও নড়চড় করা যাবে না; যারা এমনটি মনে করছেন তারা মারাত্মক কৌশলগত ভুলের মধ্যে রয়েছেন।

ইবনুর রেজা দাবি করেন, শত্রুপক্ষের বারবার হুমকি দেওয়ার প্রবণতা প্রমাণ করে তাদের মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গভীর অচলাবস্থায় পড়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েই তারা হুমকির মতো অকার্যকর রাজনৈতিক বিবৃতি দিচ্ছে, যার পেছনে বাস্তবসম্মত সামরিক সক্ষমতার ভিত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রক্তক্ষয়ী অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই সরাসরি দায়ী করে তিনি বলেন, এ সংকট তাদের ভুল হিসাব-নিকাশেরই পরিণতি। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান কখনোই তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিংবা এ অঞ্চলের সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

/আশিক


৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০৫:২২
৯/১১-র আগেই ভারতে হামলার ছক কষেছিল বিন লাদেন: সিআইএ-র গোপন নথিতে ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রকাশিত গোপন নথি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য প্রস্তুতকৃত ওই ৭১টি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ৯/১১ হামলার বহু আগে থেকেই আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ভারতসহ একাধিক রাষ্ট্রে বড় ধরনের নাশকতার সুদূরপ্রসারী ছক কষেছিলেন। ‘বিন লাদেনের জঙ্গি নেটওয়ার্ক এখনও বড় বিপদ’ শীর্ষক নথিতে উল্লেখ ছিল, ভারত ছাড়াও মিশর, পাকিস্তান, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ায় সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা চালাচ্ছিল জঙ্গিগোষ্ঠীটি; যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট কৌশল বা সময়সীমা সেখানে উল্লেখ ছিল না।

প্রকাশিত নথির সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। ১৯৯৮ সাল থেকেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিস্ফোরকভর্তি বিমান ব্যবহার করে হামলার ঝুঁকির ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দারা নিয়মিত সতর্ক করে আসছিলেন। এমনকি মূল হামলার মাত্র এক মাস আগে, ২০০১ সালের ৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট বুশকে দেওয়া বিশেষ ব্রিফিংয়ের শিরোনামই ছিল ‘আমেরিকায় আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর বিন লাদেন’। সেখানে মার্কিন ভূখণ্ডের ভেতরেই আল কায়েদার সক্রিয় নেটওয়ার্কের উপস্থিতির সুস্পষ্ট প্রমাণ দেওয়া হলেও তৎকালীন প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এত বড় বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে আড়াই দশক পর আবারও নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯:০০:১৬
একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চাই: ডাবলিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে তোলপাড় লন্ডন
ছবি : সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যভুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড ও স্বাধীন প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি একত্রিত হয়ে যায়, তবে তা হবে একটি চমৎকার ঘটনা এবং কোনো না কোনো দিন এমনটি ঘটবেই। তবে পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এমন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্তব্যের মুখে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেন আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মার্টিন।

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য অবস্থানে যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আয়ারল্যান্ড একীভূতকরণ প্রশ্নে লন্ডনের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সুস্পষ্ট সম্মতি বা পরিস্থিতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডে নতুন কোনো গণভোটের সুযোগ নেই। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ব্রিটিশপন্থী দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ওয়াশিংটন, লন্ডন বা ডাবলিন ঠিক করে দেবে না; এটি নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার স্থানীয় জনগণের।

সফরকালে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যিনি ২০১৯ সালে শ্যানন বিমানবন্দরে ট্রাম্পের সফরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের সফরকে কেন্দ্র করেও ডাবলিনের রাস্তায় যুদ্ধবিরোধী দল ও সাধারণ নাগরিকেরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা মূলত ট্রাম্পের বৈশ্বিক সামরিক আগ্রাসন নীতি, আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা খর্ব করার প্রয়াস, গাজায় ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নিঃশর্ত সমর্থন এবং সফরের নিরাপত্তায় বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সূত্র: আলজাজিরা


বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১২:১২:২৩
বাব আল-মান্দেবে হুথিদের থাবা ও হরমুজে ইরানের কড়া শর্ত: মহায়ুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্ট বাব আল-মান্দেব ও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, অন্যদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষযে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের একটি প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তবে এই চুক্তির অধীনে এখনই নৌপথটি খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে জানা গেছে, প্রণালীটি পুনরায় চালু হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

ইরান-ওমান সমঝোতা ও কড়া শর্ত

ইরানের সমঝোতা প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ওমানের সাথে এই বোঝাপড়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর তেহরানের একক সার্বভৌমত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যেকোনো নৌযানকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের তৈরি প্রটোকল বা নীতিমালা মেনে চলাচল করতে হবে। ওয়াশিংটন যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রুটটি উন্মুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল, সেই পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। সোমবার ওমানে উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশসমূহ ও ইরাকের সাথে ইরানের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও, এটি মূলত ইরান ও ওমানের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। অন্যান্য দেশগুলোকে কেবল নতুন ট্রানজিট প্রটোকল সম্পর্কে অবহিত করার জন্যই ডাকা হয়েছে।

বাব আল-মান্দেবে হুথিদের দাপট ও মানবিক বিপর্যয়

ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের জাজান প্রদেশের আল-তুয়াল এলাকায় হুথিদের প্রজেক্টাইল হামলায় দুজন আহত হন এবং বেশ কিছু অবকাঠামো ধ্বংস হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব তাদের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগর উপকূল থেকে পিছু হটলেও তারা মারিব এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য সুলতান আল-আরাদা। ভয়াবহ এই লড়াইয়ের কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১,৪০০ শরণার্থী সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে এবং গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ।

‘মক্কা চুক্তি’ ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি

এমতাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন যেন হস্তক্ষেপ না করে, তার জন্য হুথিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হুথিরা গাজায় কাসাম ব্রিগেডের কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে প্রতিরোধ জোরদারের ডাক দিয়েছে। সৌদি জ্বালানি খাত ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা বা ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে আঞ্চলিক এই যুদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক সামরিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৫১:৪৭
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং একতরফা বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী একপাক্ষিক চাপ বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতে হবে। অবাধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্মুক্ত অর্থনৈতিক ও পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী সামরিক সংঘাত নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং তা পুরো বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং সাধারণ নিরপরাধ মানুষের জীবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শীর্ষ এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। স্বাগতিক দেশ হিসেবে সম্মেলনের সূচনালগ্নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভূরাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র: এএফপি


বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২০:০২:৩১
বাব আল-মান্দেব প্রণালি দখল করল হুথিরা
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী আন্তর্জাতিক এই নৌপথ হুথিদের দখলে চলে যাওয়ায় বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহকারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের এই ধমনি রুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক তীব্র ধাক্কা লেগেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

/আশিক


লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৯:০৫:২৫
লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রণালি ঘিরে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান বিস্তৃত সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি সেনা অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়; তবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবে পেন্টাগন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যে মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদল রিয়াদ সফর করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার হলেও ওয়াশিংটন চায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব নিজেই নেতৃত্ব দিক। তবে হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালালে তেহরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার কারণে রিয়াদ একটি যৌথ আন্তর্জাতিক জোট গঠন ও মার্কিন নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে চাইছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ না নিলেও প্রয়োজনে তাদের সহায়তাব্যতীত একাই হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে সৌদি আরব।

২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ ও ২০১৫ সালে রাজধানী সানা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে পুরো অঞ্চল আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: