নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার: জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ

নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন সূচকের লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, পরিচয় বা আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার উন্মুক্ত হতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা লাভ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
ড. রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন বর্তমানে নতুন নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা বিশেষভাবে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর প্রভাব ফেলে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করছে।
উল্লেখ্য, নারীর অবস্থা বিষয়ক জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৯-১৯ মার্চ নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হলো সব নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
/আশিক
দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখে পড়ার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাকে কোনো কক্ষে আটকে রাখা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি স্পষ্ট করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে যে ধরনের কূটনৈতিক ও প্রটোকলগত আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, তা পাননি। ফলে আত্মসম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রশ্নে তিনি ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তার সফরের বিষয়টি গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের (Note Verbale) মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
এত আনুষ্ঠানিকতার পরও গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিকে নিজের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পরিপন্থী মনে করে তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং ভারতে প্রবেশ না করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভারতীয় কর্মকর্তারা একাধিকবার আন্তরিকতার সঙ্গে তাকে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
আজকের ব্রিফিংয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ‘হেনস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "ওখানে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বা জেরা করা হয়েছে—বিষয়টি একদম তেমন নয়। একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তাও বলব না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি।"
পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাননি উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমি সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি এবং সেই বার্তাও ওদের দিয়ে এসেছি। চাইলে আমরা আমাদের পুরো প্রতিনিধিদলকে সম্মেলন থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম, কিন্তু তা করা হয়নি। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আমি সেদিনই দেখিয়েছি।" তবে এই ঘটনার পরও ভবিষ্যতে ভারত সরকার যদি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমন্ত্রণ জানায়, তবে তিনি আবারও দেশটিতে যাবেন বলে জানান।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি কূটনৈতিক। তার মতে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। ঘটনাটি ইতোমধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিলেও এ বিষয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
/আশিক
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
জাতীয় সংসদে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজধানী ঢাকার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যুব সমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখার বিষয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।"
বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও এই একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজকের এই প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি করে 'পরিদর্শন কক্ষ' নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বাজেট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার পানি সংকটের চিত্র ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার বর্তমান দৈনিক পানি উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার। তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুসরণ করে অত্যাধুনিক কেমিক্যাল পিএসি অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে পানি পরিশোধন করা হয়। পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪০-৫০টি পানির নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে থাকে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানে করে বাসাবাড়ির বর্জ্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় আনার কাজ চলছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে ছোট ছোট কাভার্ড ভ্যানে সম্পূর্ণ পরিবেশসম্মত উপায়ে ময়লা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী একটি বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা সহজ করতে এবং জনভোগান্তি দূর করতে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সফটওয়্যার ভার্সন ২’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সিস্টেমে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ব্লক চেইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যার ফলে কোনো স্তরে তথ্য পরিবর্তন করা হলে তার লগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে এবং জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে।
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম এবং মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের যুবসমাজকে মোবাইল এবং মাদক আসক্তি থেকে রক্ষা করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কর্মশালা ও ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্পের ডিপিপি (DPP) প্রণয়ন করা হয়েছে, যার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (Feasibility Study) কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
/আশিক
দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাকে কোনো কক্ষে নিয়ে আটক রাখা হয়নি কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) তথ্য অধিদফতরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে কোনো ধরনের আটকাদেশের আওতায় রাখা হয়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিকভাবে দিল্লিতে প্রবেশের অনুরোধও জানানো হয়।
তবে তিনি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেননি। তার ভাষায়, ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি ভারত সফর বাতিল করে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তার কিছু অংশ বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তাকে কোনো কক্ষে নিয়ে আটক রাখা হয়েছে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এ ধরনের তথ্য সঠিক নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১৪ জুন) ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হন। কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখান থেকে বিকল্প রুটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে একটি আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া একজন উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
-রফিক
অসংখ্য গুমের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বেনজীর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অসংখ্য গুমের মামলার তদন্তের স্বার্থেই তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত আনা প্রয়োজন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, র্যাবের বিতর্কিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে সংঘটিত ভয়াবহ গুম, নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা সচল রয়েছে, যেখানে বেনজীর আহমেদ অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আসামি।
এছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের হওয়া স্পর্শকাতর মামলার তদন্তও এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি বহুল আলোচিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অসংখ্য গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এই আইজিপির সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাইরেও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি করা তিনটি পৃথক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মূল নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কূটনৈতিক ধাপে এই নথিগুলো ইন্টারপোলের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে তাকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সকল প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। দেশে ফিরিয়ে আনার পরপরই আইনি হেফাজতে নিয়ে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় অপরাধগুলোর পেছনের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং মামলার বিচারে তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি।
/আশিক
দলীয় লেজুড়বৃত্তি নয়, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রায় গণমাধ্যমকে অন্যতম প্রধান অংশীদার উল্লেখ করে দেশের সাংবাদিকদের সম্পূর্ণ স্বাধীন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। সচিবালয়ে দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
প্রেস সচিব সালেহ শিবলী স্পষ্ট করে বলেন, গণমাধ্যমের কাছ থেকে কোনো ধরনের দলীয় আনুগত্য, চাটুকারিতা বা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বর্তমান সরকার কোনোভাবেই প্রত্যাশা করে না; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সত্যিকারের বস্তুনিষ্ঠ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রায় সারাক্ষণ কেবল রাজনৈতিক খবরাখবর বা বিতর্ক নিয়ে পড়ে না থেকে, দেশের সাধারণ মানুষের বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আরও বেশি গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশনগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান বার্তা সম্পাদকরা জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁদের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করেছেন যে, অতীতের মতো কোনো দলীয় প্রচারযন্ত্র বা প্রোপাগান্ডা টুল হিসেবে নয়, বরং গণমাধ্যমকে তার নিজস্ব শক্তিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের একটি বড়ো সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে এই খাতকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রেস সচিব আরও জানান, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে আমূল পরিবর্তনের সূচনা সরকার করেছে, সেখানে গণমাধ্যমকে অন্যতম প্রধান অংশীদার মনে করা হয়। তাই এই জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কারযাত্রায় সংবাদমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বৈঠকে উপস্থিত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের নানাবিধ চলমান সংকট, নীতিগত সমস্যা ও দীর্ঘদিনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে সরাসরি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় নিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তাঁদের প্রতিটি সমস্যার কথা শোনেন এবং গণমাধ্যম যাতে কোনো রকম অদৃশ্য চাপ, ভয় বা আর্থিক সংকট ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জোরালো আশ্বাস দেন।
/আশিক
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির নানাবিধ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করে জাতীয় অর্থনীতিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
জাতীয় সংসদে সোমবার (১৫ জুন) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকারের সমাপনী বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সংসদে বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ও সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতের ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক স্তরে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিশেষ কার্যক্রমও সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নানাবিধ জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি কিছুটা সমন্বয় বা হ্রাস করতে হলেও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদানের মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আগের চেয়ে আরও বেশি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব গণমুখী কার্যক্রম সুচারুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই মূলত এবারের সম্পূরক বাজেটে সরকারি মোট ব্যয় ও ঘাটতির ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।
বাজেটের মূল অঙ্ক ও সংশোধনের বিবরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের মোট নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে জাতীয় নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি মাঠপর্যায়ে কিছুটা মন্থর বা ধীরগতির ছিল। এই বাস্তবতার কারণে সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮Target কোটি টাকা নির্ধারণ করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি দেশের আর্থিক খাতের ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে আরও জানান, এবারের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ঠিক ৩ দশমিক ৩ শতাংশের সমান।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের তারতম্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধিত বাজেটে দেশের মোট ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার সর্বমোট পরিমাণ হলো ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ব্যয়ের মিতব্যয়িতা নীতি অনুসরণ করে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে।
সম্পূরক বাজেটের ওপর সংসদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিরোধী দল ও সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা যে গুরুত্বপূর্ণ মতামত, সমালোচনা ও সুদূরপ্রসারী পরামর্শ দিয়েছেন, তা আগামী দিনে সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নিজের সমাপনী বক্তব্যের একদম শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সম্মানিত সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত আইনি দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের বিশেষ আহ্বান জানান।
/আশিক
ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়েকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডেকে পাঠানো হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অসন্তোষ ও কড়া প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে সে দেশে প্রবেশে আকস্মিক বাধা প্রদান করা হয়। মূলত বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণেই ভারতীয় দূতকে তলব করে জবাবদিহি চেয়েছে ঢাকা।
এদিকে, দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া অগ্রহণযোগ্য আচরণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে হওয়া পুরো আচরণকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলেও আখ্যা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে, গত রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় ভারতে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে এবং তাকে প্রবেশে বাধা দেয়। এমন প্রতিকূল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে তিনি আর দিল্লিতে প্রবেশ না করেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
/আশিক
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন নির্ধারন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি জুন মাসেই ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মৌখিক পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফল প্রকাশের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর বহুদিনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষার শেষ ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সুপারিশ তালিকা প্রস্তুত, তথ্য যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে জুন মাসের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে নতুন একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে পিএসসি। ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ নামে পরিচিত এই রোডম্যাপের আওতায় ভবিষ্যতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নীতিমালা পূর্ণাঙ্গভাবে ৫০তম বিসিএস থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ফলাফলে মোট ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে মে মাস থেকে ধাপে ধাপে তাদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়, যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এই বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৮৭টি পদ ক্যাডার এবং ২০১টি পদ নন-ক্যাডার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি মাসে ফলাফল প্রকাশিত হলে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে প্রবেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-রফিক
দিল্লিতে আড়াই ঘণ্টা আটকে থেকে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ভারত সফরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। পরবর্তীতে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ভারতে অবস্থান না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার (১৫ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, একটি সরকারি বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তার নাম একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় বা ওয়াচলিস্টে শনাক্ত হয়।
এরপরই তাকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়। তবে কী কারণে তার নাম ওই তালিকায় ছিল, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার (১৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে রোববার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছান ডা. জাহেদ উর রহমান। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।
এ বৈঠককে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আগেই প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। জানা গেছে, গত শুক্রবার দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তার সফর ও প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করেছিল।
তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়। এ সময় তাকে জানানো হয়নি তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন কি না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকার পর উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভারতে অবস্থান না করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে রোববার রাতেই তিনি দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার দুপুরের মধ্যেই তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, একটি আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিতে আসা একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনা স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রটোকলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পূর্বানুমোদন থাকার পরও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়। এতে ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সফর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াচলিস্টে নাম থাকার কারণ কিংবা ইমিগ্রেশন পর্যায়ে বিলম্বের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ নিয়ে কাজ করা আইওআরএ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে এমন ঘটনার প্রভাব কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
তারা বলছেন, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করা না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৩টি সদস্য রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক জোট, যেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
- সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ: আলজেরিয়া ম্যাচের আগে বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিলেন মেসি
- আমি না থাকলে ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত: ট্রাম্প
- চীনের কিনহাই প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
- জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
- প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, কার পাল্লা ভারী?
- দিল্লি বিমানবন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি আসলেই শান্তি ফিরবে নাকি নতুন সংকটের শুরু?
- ইইউর ‘রুশ সেনা প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবি প্রত্যাখ্যান করল চীন
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু? সংসদে পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল
- ১৬ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- দিল্লি ঘটনার ব্যাখ্যায় মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে ভারতের বিশেষ কমিটি গঠনের নেপথ্যে কী
- যুদ্ধ থামলেও হরমুজ আর আগের অবস্থায় ফিরবে না
- মহররমের গুরুত্ব কী? জানুন আশুরার ফজিলত
- আজ যদি স্বর্ণ কিনতে যান, আপনার অতিরিক্ত কত টাকা লাগবে জানেন?
- আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি
- চুক্তির মধ্যেও যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদারের ঘোষণা ইরানের
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে বড় সংকটে নেতানিয়াহু?
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত
- বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
- পবিত্র আশুরা কবে
- আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা
- রামিনের গোলে ম্যাচে ফিরল ইরান, জমে উঠল লড়াই
- ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা
- যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ৮ জনের
- টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!
- ডি-বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল, জাইমা রহমানের ফুটবল খেলার ভিডিও ভাইরাল!
- এই বিশ্বকাপেই সব সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে ভিনি: কিংবদন্তি রবের্তো কার্লোস
- সব হিসাব কষে এক দলের নাম জানাল ৪টি শীর্ষ এআই, চমকে গেছে ফুটবল বিশ্ব!
- অসংখ্য গুমের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বেনজীর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
- দলীয় লেজুড়বৃত্তি নয়, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- মার্কিন-ইরান চুক্তি ঠেকাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে: লেবাননের নেতা পলা ইয়াকুবিয়ান
- নতুন পে স্কেলে কার কত বাড়ছে? হিসাব জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা
- মার্কিন-ইরান চুক্তির মাঝেই লেবানন না ছাড়ার ঘোষণা ইসরায়েলের!
- মরক্কোর সাথে ড্রয়ে ব্রাজিলের হোঁচট, তবে আর্জেন্টিনার উদাহরণ টেনে আশাবাদী কাকা
- কার্বন ডাই-অক্সাইডে কোনো শিশু মরেনি, মন্ত্রীর পেছনে ঘুষ নিয়ে ঘুরিনি: আদ্-দ্বীনের প্রধান
- নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর মেরে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী
- অর্থনীতি পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার
- জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আয়োজক হচ্ছে পাকিস্তান
- ডা. জাহেদ ইস্যুতে ভারতীয় দূতকে ডেকে অসন্তোষ জানাল সরকার
- ১৫ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৫ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আবারও গ্রেফতার তৌহিদ আফ্রিদি
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, জেনে নিন বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পুরো সূচি
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কি মুখোমুখি হবে? দেখে নিন দুই দলের বিশ্বকাপ সূচি
- ট্রাম্পের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলল ইরান
- আজ ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জানুন কোথায়
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- ২১ বছরের খরা কাটল মিরপুরে: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!








