আলি লারিজানি কি বেঁচে আছেন? হত্যার দাবির মাঝেই এক্স-এ হাতে লেখা চিরকুট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:৪০:১৮
আলি লারিজানি কি বেঁচে আছেন? হত্যার দাবির মাঝেই এক্স-এ হাতে লেখা চিরকুট
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিকে হত্যার দাবি করা হলেও, রহস্যজনকভাবে তাঁর নিজস্ব 'এক্স' (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তাঁর হাতে লেখা একটি নতুন চিরকুট প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো লারিজানির এই হাতে লেখা বার্তাটি প্রচার করে, যা তাঁর মৃত্যুর দাবিকে ঘিরে নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

চিরকুটটি মূলত শ্রীলঙ্কার কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে লেখা। তাঁদের জানাজা উপলক্ষে শোকবার্তায় লারিজানি লিখেছেন, “এই শাহাদাত বহু বছর সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোর মধ্যে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।” মঙ্গলবার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই বার্তা প্রকাশকে অনেকেই কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, এর কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছিলেন যে, বিমান হামলায় লারিজানি ও বাসিজ মিলিশিয়া প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন।

আলি লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব এবং বর্তমান সংঘাতের মূল কৌশল নির্ধারক হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করায় এবং এর মাঝেই লারিজানির ‘হ্যান্ড রাইটিং’ নোট প্রকাশ পাওয়ায় ইসরায়েলি দাবির সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি কি ইরানের কোনো পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক চাল, নাকি লারিজানি আসলেই জীবিত আছেন—সেই রহস্য এখন চরমে।

/আশিক


আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা, তবুও অব্যাহত পাল্টাঘাত: ইরান কি এখন ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে এগোচ্ছে?

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২৫:২০
আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সক্ষমতা, তবুও অব্যাহত পাল্টাঘাত: ইরান কি এখন ক্ষয়যুদ্ধের কৌশলে এগোচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে, এমন মূল্যায়ন সামনে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে। তবে একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, ইরান এখনো এমন সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। এই বিশ্লেষণটি মূলত আল জাজিরা-এর একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনের আলোকে উপস্থাপিত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, চলমান অভিযানের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনীও যুদ্ধক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আকাশসীমায় প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদন অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কমেছে হামলার তীব্রতা, কিন্তু থামেনি সংঘাত

সংঘাতের সূচনালগ্নে ইরান যে মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, তা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অথচ সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে হাতে গোনা কয়েকটিতে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। শুরুতে ব্যাপক পরিসরের হামলার পর বর্তমানে আক্রমণের সংখ্যা কমে এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নব্বই শতাংশ এবং ড্রোন হামলা আশি শতাংশেরও বেশি কমে এসেছে।

তবুও এই হ্রাসমান প্রবণতা যুদ্ধের অবসান নির্দেশ করে না। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে এখনো সতর্কতা জারি রয়েছে। আবুধাবিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজনের প্রাণহানির ঘটনাও এই সংঘাতের অব্যাহত ঝুঁকিরই ইঙ্গিত দেয়।

আংশিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও বড় ভাণ্ডার

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যমান। বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা যায়, যুদ্ধের পূর্বে ইরানের হাতে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। যৌথ অভিযানের ফলে এই ভাণ্ডার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম কৌশল ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ইরানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উৎক্ষেপণযন্ত্র অকার্যকর করা হয়েছে। তবে ইরানের বিস্তৃত ভূখণ্ড, গোপন স্থাপনা এবং পূর্বপ্রস্তুত সুরক্ষিত ঘাঁটির কারণে এই সক্ষমতাকে পুরোপুরি নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

কৌশলগত পরিবর্তন: ক্ষয়যুদ্ধের পথে অগ্রসরতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বড় আকারের সমন্বিত হামলার পরিবর্তে এখন ছোট আকারের ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে তোলার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

এই ধরনের আক্রমণকে অনেক বিশেষজ্ঞ ক্ষয়সৃষ্টিকারী হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর লক্ষ্য কেবল সামরিক ক্ষতি নয়; বরং প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক স্থিতি দুর্বল করা, সতর্কতা ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বল্পব্যয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার

ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছে এবং চলমান অবস্থায় স্থান পরিবর্তনযোগ্য উৎক্ষেপণযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। ফলে এগুলো শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একই সঙ্গে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য ড্রোন ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ড্রোন তুলনামূলক ধীরগতির হলেও একাধিক ড্রোন একসঙ্গে নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই কৌশল আংশিকভাবে সফল হচ্ছে।

জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ

এই সংঘাতের প্রভাব সামরিক ক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত করতে পারে, তবে তা প্রতিপক্ষের ওপর সরাসরি সামরিক আঘাতের চেয়েও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

সার্বিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়নি। বরং সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, যেখানে সরাসরি সামরিক শক্তির পাশাপাশি সময়, অর্থনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপই হয়ে উঠছে প্রধান নিয়ামক। এই বাস্তবতায় যুদ্ধ ক্রমশ এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে, যার ফলাফল নির্ধারিত হবে পক্ষগুলোর স্থায়িত্ব, কৌশলগত ধৈর্য এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর।


আল-আকসা মসজিদের নিচে গোপন বাঙ্কারে নেতানিয়াহু!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:২০:২০
আল-আকসা মসজিদের নিচে গোপন বাঙ্কারে নেতানিয়াহু!
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইরানি সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেল আবিব দাবি করছে তিনি জীবিত আছেন। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি বলে প্রমাণ হওয়ায় এই রহস্য নতুন মোড় নিয়েছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মিসরের সাবেক রাষ্ট্রদূত আতিফ সালেম। মিসরীয় সংবাদমাধ্যম 'সাদা এল-বালাদ'-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যদি জীবিতও থাকেন, তবে তিনি জেরুজালেমের কোনো অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন। সালেমের অনুমান অনুযায়ী, এই বাঙ্কারটি সম্ভবত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের নিচে অবস্থিত। চরম নিরাপত্তা সংকটের সময় ইসরায়েলি নেতৃত্বের এ ধরনের গোপন স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ সালেও নেতানিয়াহু ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছিলেন।

সালেম আরও পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ইসরায়েলের ভেতর সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ এবং ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপর শাস্তিমূলক বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত তথ্য আড়ালে রয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় ইসরায়েলি শহরগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তথ্যশূন্যতার এই সুযোগে ছড়িয়ে পড়া পরস্পরবিরোধী খবরগুলো এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এজিপ্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ফেরাল তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:১৩:০৫
ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ফেরাল তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে মহাপ্রলয় শুরু?
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। তেহরানের ওপর ক্রমাগত মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা একটি 'যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব' সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক অধিবেশনে মোজতবা খামেনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) তাদের নতুন নেতার প্রতি ‘আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো আদেশ পালনে সদা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, যুদ্ধের ময়দান থেকে আসছে একের পর এক গুমোট খবর। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, তাদের বিমান হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার খবরেও লারিজানি নিহতের দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেনি। নেতার মৃত্যু না কি নতুন কৌশলী অবস্থান—ইরানের এই নীরবতা পুরো অঞ্চলে এক রহস্যময় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি! চাঞ্চল্যকর দাবি কাৎজের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৭:২৫:২৯
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতা আলি লারিজানি! চাঞ্চল্যকর দাবি কাৎজের
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কেন্দ্রস্থলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি অনুযায়ী, অন্তত একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের অত্যন্ত কাছে আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) চালানো এই আকস্মিক ও বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর আকাশে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যাচ্ছে। বিশেষ করে আল-কুদস (জেরুজালেম) এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার আগেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ইসরায়েলি কিছু সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ছোড়া এই ঝাঁক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ বা প্রাণহানির তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন চরম উদ্বেগ কাজ করছে।

/আশিক


ইরানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ লারিজানি কি আর নেই? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৬:২৫:০১
ইরানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ লারিজানি কি আর নেই? ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী এবং বাস্তববাদী নেতা আলি লারিজানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। সোমবার (১৭ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল বর্তমানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালাচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের একে একে নির্মূল করা হচ্ছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষে শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আলি লারিজানির মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

কে ছিলেন এই আলি লারিজানি?

আলি লারিজানি ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক অভিজাত ও শক্তিশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পরিবারকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই তাঁর পরিবার ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাধর।

লারিজানির একাডেমিক জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পাশ্চাত্য দর্শনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি পুনরায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমান যুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণে প্রধান কুশলী হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর মতো নেতার নিহতের খবরটি সত্যি হলে তা ইরানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা হতে পারে।

/আশিক


দুবাই বিমানবন্দরে আগুনের লেলিহান শিখা: ড্রোন হামলায় অচল আকাশপথ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১২:২৬:২৬
দুবাই বিমানবন্দরে আগুনের লেলিহান শিখা: ড্রোন হামলায় অচল আকাশপথ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের রণাঙ্গন এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দোরগোড়ায়। গত ১৬ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে ইরান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে আমিরাতের ওপর। মূলত দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করাই ইরানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র।

সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অতি সন্নিকটে ড্রোন হামলার ফলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যার ফলে নিরাপত্তার খাতিরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই দিনে আমিরাতের অন্যতম প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে শহরটির মিডিয়া অফিস। যুদ্ধের শুরু থেকে দুবাই বিমানবন্দর বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা ও বিলম্ব দেখা দিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলার পর থেকেই আমিরাতের পর্যটন ও অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিবিসির সংবাদদাতা তাঁর এক পডকাস্টে বিশ্লেষণ করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। ইরানের কৌশল হলো আমিরাতকে চাপে রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা, কিন্তু আমিরাতি কর্মকর্তারা এতে নতি স্বীকার না করে বরং চরম ক্ষুব্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

/আশিক


হরমুজ প্রণালিতে নতুন আতঙ্ক: আরব আমিরাতের তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ আঘাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১১:৫৪:৪২
হরমুজ প্রণালিতে নতুন আতঙ্ক: আরব আমিরাতের তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ওমান উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা সমুদ্রবন্দরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরের দিকে এই হামলাটি চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন’ (ইউকেএমটো)। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউকেএমটো-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফুজাইরা বন্দর থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ওমান উপসাগরে নোঙর করা অবস্থায় ট্যাংকারটিতে একটি বিস্ফোরক বস্তু আঘাত হানে। তবে এটি ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র না কি অন্য কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্যাংকারটির বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের মধ্যে কেউ হতাহত হননি।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থানে থাকা ফুজাইরা বন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার খাতিরে বন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে সরাসরি তেলবাহী জাহাজে এই হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি


কিউবা দখলের হুঙ্কার ট্রাম্পের! প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১১:৪৪:৪৬
কিউবা দখলের হুঙ্কার ট্রাম্পের! প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার কয়েক দশকের শীতল সম্পর্ক এখন চরম উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা নিয়ে তাঁর আগ্রাসী পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে জানান। তিনি দাবি করেন, কিউবা এখন একটি অত্যন্ত দুর্বল রাষ্ট্র এবং তিনি চাইলে দেশটির ওপর ‘যা খুশি’ করতে পারেন। এমনকি ভবিষ্যতে কিউবাকে ‘দখলে নেওয়ার’ (Takeover) সম্ভাবনা নিয়েও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন কিউবা তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধের ফলে গত সোমবার দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কিউবাকে নিজের আয়ত্তে নেওয়ার সম্মান আমার হবে। আমি এটি মুক্ত করি বা দখল করি—আমি যা খুশি তাই করতে পারি।”

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তবে কিউবান কর্মকর্তাদের কাছে এটি কোনো ‘আল্টিমেটাম’ হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল গত শুক্রবার এক ভাষণে জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি, তবে তা অবশ্যই সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। ভেনেজুয়েলার মিত্র সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য এখন ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধ শেষের শর্ত কী? ট্রাম্প, খামেনি ও নেতানিয়াহুর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ০৯:৫৮:১৭
ইরান যুদ্ধ শেষের শর্ত কী? ট্রাম্প, খামেনি ও নেতানিয়াহুর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ ১৬ দিন পার করলেও এর অবসানের পথ নিয়ে বিশ্বশক্তির মধ্যে রয়েছে চরম মতভেদ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, প্রতিটি পক্ষই নিজেদের স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থানের ভিত্তিতে যুদ্ধের সমাপ্তি চাইছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল করতে চান, অন্যদিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতেও দ্বিধান্বিত। তবে ১৬ দিনের নিখুঁত বোমা হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরান এখনও অবাধ্য। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ন্যাটোর অনীহার কারণে ট্রাম্পের ওপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও তেহরানের পতন ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ করা তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, ইরান চায় সসম্মানে যুদ্ধের সমাপ্তি। তারা জানে ভৌগোলিক অবস্থান ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে বড় অস্ত্র। ওয়াশিংটনের সব দাবি না মেনে কেবল টিকে থাকতে পারলেই একে ‘বিজয়’ হিসেবে প্রচার করার সুযোগ রয়েছে আইআরজিসি-র কাছে। তবে ইসরায়েল এই সুযোগ দিতে নারাজ। তারা চায় ইরানের মিসাইল সক্ষমতা ও পারমাণবিক অবকাঠামো এমনভাবে গুঁড়িয়ে দিতে যাতে আগামী কয়েক দশকে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। এদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়ে তেহরানের ওপর থেকে সব ধরনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও বিষিয়ে তুলেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: