কিউবা দখলের হুঙ্কার ট্রাম্পের! প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১১:৪৪:৪৬
কিউবা দখলের হুঙ্কার ট্রাম্পের! প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র নিয়ে হোয়াইট হাউসে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার কয়েক দশকের শীতল সম্পর্ক এখন চরম উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা নিয়ে তাঁর আগ্রাসী পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে জানান। তিনি দাবি করেন, কিউবা এখন একটি অত্যন্ত দুর্বল রাষ্ট্র এবং তিনি চাইলে দেশটির ওপর ‘যা খুশি’ করতে পারেন। এমনকি ভবিষ্যতে কিউবাকে ‘দখলে নেওয়ার’ (Takeover) সম্ভাবনা নিয়েও তিনি খোলামেলা মন্তব্য করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন কিউবা তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর তেল অবরোধের ফলে গত সোমবার দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ অন্ধকারে ডুবে যায়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কিউবাকে নিজের আয়ত্তে নেওয়ার সম্মান আমার হবে। আমি এটি মুক্ত করি বা দখল করি—আমি যা খুশি তাই করতে পারি।”

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তবে কিউবান কর্মকর্তাদের কাছে এটি কোনো ‘আল্টিমেটাম’ হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল গত শুক্রবার এক ভাষণে জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি, তবে তা অবশ্যই সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। ভেনেজুয়েলার মিত্র সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য এখন ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধ শেষের শর্ত কী? ট্রাম্প, খামেনি ও নেতানিয়াহুর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ০৯:৫৮:১৭
ইরান যুদ্ধ শেষের শর্ত কী? ট্রাম্প, খামেনি ও নেতানিয়াহুর ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ ১৬ দিন পার করলেও এর অবসানের পথ নিয়ে বিশ্বশক্তির মধ্যে রয়েছে চরম মতভেদ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, প্রতিটি পক্ষই নিজেদের স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থানের ভিত্তিতে যুদ্ধের সমাপ্তি চাইছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল করতে চান, অন্যদিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতেও দ্বিধান্বিত। তবে ১৬ দিনের নিখুঁত বোমা হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরান এখনও অবাধ্য। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ন্যাটোর অনীহার কারণে ট্রাম্পের ওপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও তেহরানের পতন ছাড়া এই যুদ্ধ শেষ করা তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।

অন্যদিকে, ইরান চায় সসম্মানে যুদ্ধের সমাপ্তি। তারা জানে ভৌগোলিক অবস্থান ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে বড় অস্ত্র। ওয়াশিংটনের সব দাবি না মেনে কেবল টিকে থাকতে পারলেই একে ‘বিজয়’ হিসেবে প্রচার করার সুযোগ রয়েছে আইআরজিসি-র কাছে। তবে ইসরায়েল এই সুযোগ দিতে নারাজ। তারা চায় ইরানের মিসাইল সক্ষমতা ও পারমাণবিক অবকাঠামো এমনভাবে গুঁড়িয়ে দিতে যাতে আগামী কয়েক দশকে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। এদিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়ে তেহরানের ওপর থেকে সব ধরনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও বিষিয়ে তুলেছে।

/আশিক


কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ০৯:৫০:১০
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা! ৪০০ প্রাণহানির দাবি তালেবানের
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে কাবুলের ‘ওমিদ’ নামক ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন তালেবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হামলায় হাসপাতালটির বড় একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা সোমবার রাতে কাবুল ও নানগারহারে বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং জঙ্গি আস্তানা ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলার বিষয়টি তারা সাফ অস্বীকার করেছে।

প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গত মাস থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান সরকার তাদের দেশে হামলাকারী জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। সোমবারের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স


১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৯:৪৬:১২
১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণের লক্ষ্যে সৌদি আরবে আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৬ মার্চ) এক সরকারি বিবৃতিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বুধবার হচ্ছে ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান মাসের ২৯তম দিন।

সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণা অনুযায়ী, যদি বুধবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি ওই দিন চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ পালিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো নাগরিক খালি চোখে বা দূরবীন ব্যবহার করে চাঁদ দেখতে পেলে তাকে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চাঁদ দেখার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর সহায়তাও নেওয়া যাবে। যারা চাঁদ দেখার সক্ষমতা রাখেন, তাদের এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে অংশ নিতে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সূর্যাস্তের সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি চাঁদ দেখা কমিটিগুলো বৈঠকে বসবে। প্রাপ্ত সব সাক্ষ্য যাচাই-বাছাই শেষে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতর শুরুর ঘোষণা দেবে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ইরানের ৩ শহরে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৯:০৭:২৩
ইরানের ৩ শহরে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন ও চরম ভয়াবহ মোড়ে পৌঁছেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে ইরানের তিনটি বড় শহরে একযোগে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান, শিরাজ এবং তাবরিজ শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা বিস্তৃত পরিসরে এই অভিযান পরিচালনা করছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রাজধানী তেহরানকে, যা দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পসমৃদ্ধ শহর শিরাজ এবং উত্তর-পশ্চিমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবরিজ শহরকেও টার্গেট করা হয়েছে। তাবরিজ তুরস্ক ও আজারবাইজান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

তবে এই হামলায় ঠিক কী ধরনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই বিমান হামলা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল।

/আশিক


উত্তর ইসরায়েলে ‘বিশেষ হামলা’ চালানোর দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৯:০৩:০০
উত্তর ইসরায়েলে ‘বিশেষ হামলা’ চালানোর দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহর কিরিয়াত শমোনাকে লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। সোমবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই সীমান্ত শহরে রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে তারা নতুন করে হামলা পরিচালনা করেছে।

হিজবুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি “গুণগত বা বিশেষ ধরনের আক্রমণ”, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লেগেছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, সোমবার একই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো কিরিয়াত শমোনা শহরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। উত্তর ইসরায়েলের এই সীমান্ত শহরটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে আল জাজিরা আরবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময় দক্ষিণ লেবাননের সাজদ (Sajd) শহরের পার্বত্য এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছে। সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রভাব লেবানন সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ছে।

-রফিক


নেতানিয়াহুর ভিডিওটি ‘ডিপফেক’! এআই চ্যাটবটের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৮:৫০:১৩
নেতানিয়াহুর ভিডিওটি ‘ডিপফেক’! এআই চ্যাটবটের দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জীবন-মৃত্যু নিয়ে চলমান রহস্য এখন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। রোববার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে কফি পানের একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি সুস্থতার প্রমাণ দিতে চাইলেও, খোদ এক্স-এর নিজস্ব এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) দাবি করেছে যে ভিডিওটি একটি 'ডিপফেক' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে সোমবার (১৬ মার্চ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, নেতানিয়াহু জেরুজালেমের ‘দ্য সাটাফ’ ক্যাফেতে বসে কফি পান করছেন এবং তাঁর হাতের আঙুল নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়ে হাস্যরস করছেন। কিন্তু ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। গ্রোক-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ধরন বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছেন, ভিডিওতে কফির কাপের নড়াচড়া এবং নেতানিয়াহুর মুখের আকৃতি মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিকভাবে বদলে যাচ্ছে, যা সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে দেখা যায়।

তবে এই বিতর্কের মধ্যেই ‘দ্য সাটাফ’ ক্যাফে কর্তৃপক্ষ তাদের ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ছবি পোস্ট করে জানিয়েছে যে, নেতানিয়াহু সশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এসব গুঞ্জনকে ‘ভুয়া ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাসত্ত্বেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং আইআরজিসি-র সরাসরি হত্যার হুমকির মুখে নেতানিয়াহুর প্রকৃত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা এখনো কাটছে না।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র; সাহায্যের আবেদন ফিরিয়ে দিল ন্যাটো মিত্ররা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৭:৩৩:০৩
ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র; সাহায্যের আবেদন ফিরিয়ে দিল ন্যাটো মিত্ররা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক জটিল ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আগ্রাসন শুরু করে এক প্রকার ‘ডুবোচরে’ আটকা পড়েছেন। তিনি এখন যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজলেও তেহরান কোনোভাবেই নমনীয় হচ্ছে না; বরং নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোও (NATO) সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের মূল করিডোরখ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ট্রাম্প ন্যাটোর সাতটি মিত্র দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন এবং হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে। কিন্তু সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে ন্যাটোর কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই। এটি ট্রাম্পের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর। আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে কূটনৈতিক একাকীত্ব, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন তীব্র চাপের মুখে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


ইরান হামলার পেছনে সৌদির চাপ, নতুন তথ্য প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৪:০০:০৬
ইরান হামলার পেছনে সৌদির চাপ, নতুন তথ্য প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে পৌঁছেছে এই যৌথ সামরিক কার্যক্রম, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আঞ্চলিক এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণও বাড়ছে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরবের চাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ধরনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় যুবরাজ ভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই আলোচনায় তিনি নাকি ট্রাম্পকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার একাধিক ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এসব আলোচনায় যুবরাজ ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার এবং সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলে সৌদি নেতৃত্ব মনে করে।

এছাড়া ওয়াশিংটনে আলোচনার সময় সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর একটি পুরোনো পরামর্শও আলোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেই পরামর্শে বলা হয়েছিল, আঞ্চলিক সংঘাতে শত্রুর মূল নেতৃত্ব বা শক্তির উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যায়।

-রফিক


শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:৩৫:১৭
শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে এক নতুন ও বিধ্বংসী মাত্রা যোগ করেছে শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুতগতির ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো এই কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রটি তার পাল্লা এবং গতির কারণে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। এটি প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো এর গতি; এটি শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি দ্রুত (হাইপারসনিক গতির কাছাকাছি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, যা বর্তমান বিশ্বের অনেক আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে শনাক্ত বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে, বিখ্যাত সামরিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ দাবি করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। এটি এখন কেবল ইসরায়েল নয়, বরং ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে যেকোনো শত্রু ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। প্রথমবারের মতো অপারেশনাল এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ মোড় নিল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: