গোপন মিশনে রাশিয়ায় খামেনি পুত্র: রুশ বিমানে মস্কো যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:০৪:১৭
গোপন মিশনে রাশিয়ায় খামেনি পুত্র: রুশ বিমানে মস্কো যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা ও রহস্য। কুয়েতি সংবাদমাধ্যম ‘আল জারিদা’র এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনিকে পায়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ উদ্যোগে একটি রুশ সামরিক বিমানে করে তাঁকে রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র শুরুতেই মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি মেইল’ ও ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি সম্ভবত কোমায় আছেন এবং তাঁর একটি বা দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে (অঙ্গহানি)। এমনকি তাঁর যকৃৎ ও পাকস্থলীও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুতিনের একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং সেখানে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সংবাদ সম্মেলনে মোজতবা খামেনির গুরুতর আহত হওয়া ও অঙ্গহানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে নেই এবং যুদ্ধের ওপর তাঁর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। অধিকাংশ সামরিক কমান্ডারও তাঁদের নতুন নেতার বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন। বর্তমানে ইরানের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও নেতার জীবন-মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে গুঞ্জন বেড়েই চলেছে।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় ২৪ অভিযান! মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৮:৫৫:২৫
২৪ ঘণ্টায় ২৪ অভিযান! মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। রোববার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ২৪টি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযানগুলোতে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তেহরানে চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ঘটনার পর ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইরানের এই পাল্টা আঘাতের ঢেউ এখন জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতেও অনুভূত হচ্ছে। একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইআরআই-এর এই ব্যাপক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং তা আরও নতুন নতুন ফ্রন্টের দিকে মোড় নিচ্ছে।

/আশিক


ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৭:২১:০৩
ইরানি হামলার আগুনে জ্বলছে ইসরায়েল: পশ্চিম তীরে বিশাল অগ্নিকাণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। হামলার পরপরই বেশ কিছু স্থাপনায় বিশাল অগ্নিকাণ্ড এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে, যা পুরো এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলে।

তেল আবিবকে লক্ষ্য করে চালানো এই নতুন দফার হামলায় ইসরায়েল দাবি করেছে যে, তারা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভগ্নাংশের আঘাতে অন্তত তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্টার নিদা ইব্রাহিম অধিকৃত পশ্চিম তীরের হুয়ারা থেকে জানান, হামলার আগে সেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছিল এবং পরে আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যায়। এরপরই স্থানীয় বেশ কিছু স্থাপনা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা প্রায় প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৫১:৫২
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বড় বিস্তার: এবার সৌদি আরব ও আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ডালপালা এবার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে উভয় দেশই দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে ইরানের ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আল-খার্জ এলাকার আকাশে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো অবস্থিত, সেখানেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা রুখে দিয়েছে সৌদি বাহিনী।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দুবাইয়ের মারিনা এবং আল-সুফৌহ এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরান প্রথমবারের মতো আমিরাতের তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার আল্টিমেটাম দিয়েছে, যা কোনো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের ওপর সরাসরি বড় হুমকি। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে, যাতে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

সূত্র: আরব নিউজ


ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা আরাঘচির, আলোচনায় যা ছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৯:৪৮
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা আরাঘচির, আলোচনায় যা ছিল
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে পুরো অঞ্চলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়েছে, আরাঘচি আলোচনার সময় বলেন যে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির প্রধান কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ। তার মতে, এই আগ্রাসী কার্যক্রমই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। আরাঘচি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয় যা বর্তমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত বা বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তেহরান তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী কেবলমাত্র সেইসব সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যেগুলোকে তারা আগ্রাসী পক্ষের অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে।

আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, এসব হামলাকে আঞ্চলিক অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক অভিযান মূলত আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

আলোচনায় লেবাননের পরিস্থিতিও উঠে আসে। আরাঘচি বলেন, লেবাননে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, লেবাননের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪৪:২৬
তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড! সংঘাত কি তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ কাটার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আহ্বান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সাহায্য ও সমন্বয় করবে।” তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংবিধান অনুযায়ী জাপানের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অন্যদিকে, চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ট্রাম্পের অনুরোধে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে নীরবতা পালন করছে। ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফ্রান্স চাইছে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে একটি নিরাপত্তা জোট গঠন করতে, আর যুক্তরাজ্য মিত্রদের সাথে বিকল্প পথ নিয়ে আলোচনা করছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়াতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আরও কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। এদিকে রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি আরব জানিয়েছে তারা ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে ইরান সেই ড্রোনগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন যুদ্ধ ভুলে না যায়: জেলেনস্কি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৪১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউক্রেন যুদ্ধ ভুলে না যায়: জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের মনোযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, কিয়েভ চায় না যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাতে চায় না। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ব্যস্ত থাকলেও ইউক্রেন আশা করছে ওয়াশিংটন রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রশ্নে তাদের পাশে থাকবে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সহায়তা করার ক্ষেত্রেও আগ্রহী। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে কিয়েভ ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশটি ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেছে। সেই প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অংশীদারদের কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখবে না। তার মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আল জাজিরা


ওমরাহ যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদির যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মিলবে হার্টের দ্রুত চিকিৎসা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৩১:০৯
ওমরাহ যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদির যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মিলবে হার্টের দ্রুত চিকিৎসা
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কায় আগত ওমরাহ যাত্রী ও মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এলাকায় হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের তাৎক্ষণিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দিতে চালু করা হয়েছে ‘সেফ হার্ট জোন’। মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের এই বিশেষ উদ্যোগটি সরাসরি পরিচালনা করছে কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটি। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্র্যান্ড মসজিদের মতো জনবহুল এলাকায় হৃদ্‌রোগজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া। বিশেষ করে পবিত্র রমজান ও আসন্ন হজ মৌসুমে যখন লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, তখন রোগীদের দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই জোনের আওতায় ১০টি কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে এবং ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর একটি দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রকল্পটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো হারাম হাসপাতালের মাধ্যমে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব ব্যবহার করে ‘ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি’ সেবা প্রদান করা। এছাড়া গুরুতর রোগীদের জন্য ইসিএমও (ECMO)-এর মতো উন্নত জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি, হার্টের স্টেন্ট এবং বিশেষায়িত ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হয়েছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর স্বাস্থ্যখাত রূপান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, যা পবিত্র নগরীতে আগত দর্শনার্থীদের জন্য এক নিশ্ছিদ্র স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে।

/আশিক


ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:৩০:৫৪
ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ স্থাপনায় ড্রোন হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী সকালে ইসরায়েলের কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিত ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট “লাহাভ ৪৩৩”-এর সদরদপ্তর এবং গিলাত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিরক্ষা উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র। এই দুই স্থাপনাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলাকে “শক্তিশালী ও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে লক্ষ্যবস্তু স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ফলাফল, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা হামলার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা


সৌদি ও আমিরাতে ইরানি মিসাইল হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১৬:২১:৪১
সৌদি ও আমিরাতে ইরানি মিসাইল হামলা
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে উপসাগরীয় এই দুই দেশ জানিয়েছে, হামলার অধিকাংশ অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার রাতে ইরানের নিক্ষেপ করা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৪টি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত আল-খার্জ এলাকায় প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির আকাশে নিক্ষিপ্ত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আকাশেও বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এই অঞ্চলে সৌদি আরবের প্রধান তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো অবস্থিত।

একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার মুখোমুখি হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রবিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, দুবাইয়ের মারিনা ও আল-সুফৌহ অঞ্চলের আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত কাজ করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি নতুন কৌশল হতে পারে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের আকাশসীমায় মোট ২৯৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১,৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: