২৪ ঘণ্টায় ২৪ অভিযান! মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বড় হামলা

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। রোববার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ২৪টি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযানগুলোতে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তেহরানে চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ঘটনার পর ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই পাল্টা আঘাতের ঢেউ এখন জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতেও অনুভূত হচ্ছে। একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইআরআই-এর এই ব্যাপক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংঘাত খুব শীঘ্রই থামার কোনো লক্ষণ নেই, বরং তা আরও নতুন নতুন ফ্রন্টের দিকে মোড় নিচ্ছে।
/আশিক
ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর জের ধরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। পূর্ববর্তী সব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরায়েল এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতে হামলার পর আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তাঁর সংশ্লিষ্ট সব ফিল্ড কমান্ডারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। সামরিক বাহিনীর বর্তমান গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আইডিএফ সম্ভাব্য সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও পাল্টা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থা বজায় রেখেছে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের দিকে যেকোনো ধরনের বহিরাগত গোলাবর্ষণ বা হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে পর্যালোচনার পর আইডিএফ-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশব্যাপী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, দেশজুড়ে যেকোনো ধরনের জনসমাগম সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে লেবানন সীমান্তবর্তী উত্তর অঞ্চলের জন্য পূর্বের কঠোর নির্দেশিকাই বহাল রাখা হয়েছে; যা অনুযায়ী সেখানে খোলা জায়গায় সর্বোচ্চ ১০০ জন এবং ঘরের ভেতরে ৪০০ জনের বেশি মানুষ একত্রে সমবেত হতে পারবেন না। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও আপাতত দেশের সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সই হওয়ার জোর গুঞ্জন ও জোরালো সম্ভাবনার মাঝেই বৈরুতের শহরতলিতে এই বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রবিবারের এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে একই ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তখন ইরান তার দেওয়া পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরাসরি ইসরায়েলের মাটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই সময় ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ বেশ কিছু সামরিক অবকাঠামোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল।
এদিকে বৈরুতে রবিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে লেবাননের কোনো অংশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো উচিত হবে না। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লেখেন, বৈরুতের ওপর রোববারের এই হামলাটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত ছিল না; বিশেষ করে এমন একটি অত্যন্ত বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনে যখন ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির একেবারেই দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। তবে এদিন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি চূড়ান্তভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, যেকোনো ধরনের বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবশ্যই আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার আছে। কিন্তু হিজবুল্লাহর যে হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইসরায়েল বৈরুতে এই বড় ধরনের বিমান হামলা চালাল, হিজবুল্লাহর সেই পূর্ববর্তী হামলাটি ছিল অত্যন্ত ছোট ও অর্থহীন; যাতে কেউ আহত বা নিহতও হয়নি। তাই এমন একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা ইসরায়েলের কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরায়েল প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বাড়াবাড়ি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে।
/আশিক
ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
ইরানের অন্তত চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রধান ব্যাংকে সীমিত পরিসরে একটি বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট সাইবার আক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন ও ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হলেও সাধারণ গ্রাহকদের কোনো গোপনীয় তথ্য চুরি বা খোয়া যায়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ। রোববার (১৪ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে।
ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হ্যাকাররা মূলত ব্যাংকগুলোর একটি অভ্যন্তরীণ যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে লক্ষ্য করে এই সাইবার হামলাটি পরিচালনা করে। সাইবার হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশটির শীর্ষ চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক সাদোরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান।
নেটওয়ার্কে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাইবার আক্রমণের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় আইটি ও কারিগরি দলগুলো দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার ফলে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলেও সাময়িকভাবে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবা ও অনলাইন লেনদেন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ বা ব্যাহত হয়ে পড়ে।
তবে ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের ওই বিবৃতিতে দেশের গ্রাহকদের পূর্ণ আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, এই সুনির্দিষ্ট হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ব্যাংকে থাকা গ্রাহকদের কোনো ব্যক্তিগত, আর্থিক বা অত্যন্ত আকর্ষণীয় গোপনীয় তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার (অ্যাক্সেস) পায়নি। এমনকি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করাও হ্যাকারদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর সার্বিক অনলাইন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তেহরান সফর করেছেন কাতারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা। রবিবার (১৪ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কর্মরত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট ওই দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ও মার্কিন প্রশাসন চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতেই কাতারের মধ্যস্থতাকারী দলটির এই জরুরি তেহরান সফর। কৌশলগত কারণে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরান অবশেষে এমন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার এক যৌথ বাণীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি রবিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মুহূর্তেই হরমুজ প্রণালি সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইতিবাচক আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হতে পারে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিটি কোনো ধরনের সশরীরে উপস্থিতির জমকালো অনুষ্ঠান ছাড়াই সম্পূর্ণ আধুনিক ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময় বা এটি ঠিক কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে তারা জানিয়েছেন। তাঁদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কার্যকর হলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করতে সক্ষম হবে।
কর্মকর্তারা এই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পরিচালনায় পাকিস্তানের দীর্ঘ এক মাসব্যাপী পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জানান, এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষকে মূল আলোচনা কক্ষে টিকিয়ে রাখতে এবং আলোচনার টেবিল ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের তীব্র সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি এই প্রক্রিয়াকালীন একাধিকবার আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মতো চরম পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচিত তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রাথমিক খসড়া থেকে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি শক্তি বা আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করার যে মূল লক্ষ্য ছিল, তা পূরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে এই বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান কীভাবে করা হবে, বা এগুলো আদৌ মূল সমঝোতার অংশ হিসেবে থাকবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।
এদিকে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি থেকে বিপজ্জনক মাইন অপসারণের প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই জলপথটি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রাসায়নিক সারের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে বড় ধরনের মন্দা ও ধাক্কা লেগেছে।
উল্লেখ্য, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পরেই এই চুক্তির নাটকীয় অগ্রগতি সামনে এলো। সাম্প্রতিক ওই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাটি পূর্ববর্তী ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আবারও একটি পুরোদস্তুর ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার তীব্র হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এর আগে গত ৭ এপ্রিল থেকে অঞ্চলটিতে একটি অত্যন্ত নাজুক ও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
/আশিক
‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাবে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনার পথ তৈরি করবে। তবে বিরোধীরা মনে করছেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করছে, তা স্পষ্ট নয়।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের সমাপ্তির কথা বলছেন, তবে অতীত অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
শিফ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণ নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতির বড় বড় ঘোষণা দেওয়া হলেও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল আসেনি।
অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান সেথ মল্টন সম্ভাব্য চুক্তিটির আরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘কূটনৈতিক বিজয়’ নয়, বরং ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে মল্টন বলেন, দীর্ঘ সংঘাত, বিপুল সামরিক ব্যয় এবং প্রাণহানির পর এমন একটি সমঝোতা সামনে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি পরিস্থিতিই ফিরিয়ে আনছে। তার প্রশ্ন, যদি শেষ পর্যন্ত আগের অবস্থায় ফিরে যেতেই হয়, তাহলে এত বড় মূল্য দেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?
মল্টনের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং বহু মার্কিন সেনা ও নাগরিক এর মূল্য দিয়েছেন। ফলে শুধু যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা হ্রাসকে সাফল্য হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি আড়াল হয়ে যাবে।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের মতে, কোনো চুক্তির সফলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক শান্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত লাভ-ক্ষতির বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান এবং নিষেধাজ্ঞা নীতির ভবিষ্যৎ সবকিছুই এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণ করবে। ফলে সমঝোতার প্রকৃত মূল্যায়ন এখনই করা কঠিন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য দাবি করছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা কমাতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো সামরিক সমাধানের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং ব্যয় সাশ্রয়ী।
তবে সমালোচকরা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, যদি চুক্তির বিনিময়ে ইরান বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত জনসম্মুখে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।
-রাফসান
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফের তেল আবিবে বিক্ষোভ, রাস্তায় ইসরায়েলিরা
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবে বিক্ষোভে নেমেছেন শত শত মানুষ। বিক্ষোভকারীরা হামলার আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার তেল আবিবের কেন্দ্রস্থল হাবিমা স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। নিহত ও জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এখনো আইন অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে অনাগ্রহী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ছিল ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বিপর্যয়গুলোর একটি। এমন ঘটনার পরও ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত না হওয়া এবং দায় নির্ধারণে বিলম্ব জনমনে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে।
গাজায় বন্দি অবস্থায় নিহত হওয়া ৮০ বছর বয়সী ইয়োরাম মেটজগারের পরিবারের সদস্য আয়ালা মেটজগার বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশনই প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে সক্ষম। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যে তদন্ত কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে, তা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
আয়ালার মতে, সরকারের প্রস্তাবিত তদন্ত ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকলেও বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলে পুরো প্রক্রিয়া কার্যত ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নোভা সঙ্গীত উৎসবে নিহত তরুণী ওরিয়া লিটম্যানের বাবা এরান লিটম্যানও। তিনি বলেন, তার মেয়ের মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক। নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকার কারণেই বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এরান লিটম্যান আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশের সব নাগরিকের সমান দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন। তিনি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুধু অতীতের ভুল খুঁজে বের করার জন্য নয়, ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকানোর জন্যও জরুরি। তাদের মতে, জবাবদিহিহীনতা অব্যাহত থাকলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।
এদিকে সমাবেশ চলাকালে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। সরকারপন্থি কর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাদার মুখতার ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষকে সংক্ষিপ্ত জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনাটি ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
-রাফসান
গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানকে তিনি ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় দেশটির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
ফ্রান্স সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে লুলা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি বহাল রয়েছে। ফলে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, বক্তব্য ও বাস্তব নীতির মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে।
সম্প্রতি ব্রাজিল সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান কিছু চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা খাতের অংশীদারিত্ব নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কূটনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
আমোরিমের মতে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইসরায়েলে অবস্থানরত ব্রাজিলীয় নাগরিকদের জন্য নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুক্তিকে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করছেন না।
সাও পাওলোর পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ব্রুনো হুবারম্যান মনে করেন, ইসরায়েলে বসবাসকারী ব্রাজিলীয়দের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তার মতে, রামাল্লাহ ও পূর্ব জেরুজালেমে ব্রাজিলের কূটনৈতিক উপস্থিতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। ফলে শুধুমাত্র কনস্যুলার সেবার যুক্তিতে সম্পর্ক বহাল রাখার বিষয়টি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রুনো লিমা রোচা মনে করেন, ব্রাজিল সরকারের সতর্ক অবস্থানের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রাখছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংসদে বর্তমানে ইসরায়েলপন্থী এবং ইভানজেলিক্যাল মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রতিনিধিদের প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে সরকার চাইলে সহজে কঠোর অবস্থানে যেতে পারছে না।
রোচা বলেন, অতীতের আরব-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ব্রাজিলের রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন ছিল না। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারকে অনেক হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, লুলার বক্তব্য যদি সত্যিই মানবাধিকারভিত্তিক নীতির প্রতিফলন হয়, তাহলে অন্তত সাময়িকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করা উচিত। তাদের মতে, বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব নীতির মিল না থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এদিকে ব্রাজিলের নাগরিক সমাজও সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মীরা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ এবং ইসরায়েলি পণ্যের বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছেন।
গত ১৫ জুন দেশটির বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্রাজিল সরকারের কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ব্রাজিল। একই বছরে ব্রাজিল ইসরায়েলে প্রায় ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিলের আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানির তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জ্বালানি তেল, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ। এরপর রয়েছে গরুর মাংস এবং সয়াবিন। বিপরীতে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিল প্রধানত কীটনাশক, রাসায়নিক সার, প্রযুক্তি ও বিমানসংক্রান্ত পণ্য আমদানি করে।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ব্রাজিল ইসরায়েলে প্রায় ২১৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও আমদানি করেছে ৫২৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ব্রাজিলের জন্য ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ হলেও অপরিহার্য নয়। কারণ দেশটির মোট রপ্তানির মাত্র শূন্য দশমিক চার শতাংশ যায় ইসরায়েলে।
অর্থনীতিবিদ ডায়ানা শাইবের মতে, ব্রাজিল তুলনামূলক সহজেই বিকল্প বাজার খুঁজে নিতে পারবে। কিন্তু খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের জন্য ব্রাজিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাই সম্পর্কের অবনতি হলে ইসরায়েলও চাপের মুখে পড়তে পারে।
এদিকে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক গভীর। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আমলে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে ব্রাজিল ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। লুলা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে তেল আবিব তাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ব্রাজিলও তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।
-রাফসান
ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের মাঝেই এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থাৎ মোট ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি) রাষ্ট্রীয় সম্পদ সম্পূর্ণ মুক্ত বা অবমুক্ত করে দিতে গোপনে সম্মত হয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন এই বিশাল পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ (Fars News Agency) গতকাল শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক তথ্যটি বিশ্বমঞ্চে প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত সিনিয়র ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি (Mohsen Rezaei) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহাসিক শহর দেজফুলে একটি বিশেষ সামরিক স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আমেরিকার এই পিছু হটার দাবি করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সাথে মুখোমুখি হওয়া সামরিক সংঘাতগুলো বিশ্বমঞ্চে ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী ও অপরাজেয় করেছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) এখন এমন এক অপ্রতিরোধ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—যাকে আমরা ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ বলতাম, সেই ট্রাম্প এখন তেহরানের সাথে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা আলোচনা করতেও রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন।"
নিজের দীর্ঘ বক্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে মহসেন রেজায়ি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে এবং বহুলাংশে মার্কিন মুলুকের শক্তিশালী ইসরাইলি লবিং গ্রুপ বা জায়নবাদী লবিস্টদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই লবিস্টদের অতিরিক্ত ও অনৈতিক প্রভাবের কারণে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এখন ‘জায়নবাদী ইসরাইলি শাসনের’ একটি ক্রীড়নক বা ‘উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে বলেও তিনি চরম বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
তবে মহসেন রেজায়ির এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের ঠিক আগেই গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অত্যন্ত ইতিবাচক এক কূটনীতির ইঙ্গিত দিয়ে জানান, পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ‘সমঝোতা স্মারক প্রস্তাব’ (MoU) এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তেহরানের আশা—এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলে লেবানন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে চলমান বিধ্বংসী প্রক্সি সংঘাতের একটি স্থায়ী ও আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে এবং একই সঙ্গে ইরানের ওপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চেপে থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মূল আলোচনার পথ পুরোপুরি সুগম হবে।
এদিকে তেহরানের এই দাবির সমান্তরালে খোদ ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্পষ্ট সংকেত মিলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক অত্যন্ত ঊর্ধ্বতন ও নীতি-নির্ধারক কর্মকর্তা শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে—সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানের একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জোরালো আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই চুক্তি ও ২৪ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ ফান্ড ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে একটি কঠিন ও প্রধান শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে; আর তা হলো—ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি (Nuclear Program) চিরদিনের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিতে হবে বা স্তিমিত করতে হবে। দুই চিরশত্রু দেশের এই গোপন ও প্রকাশ্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে সম্পূর্ণ নতুন এক মোড় এনে দিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝেই ইসরাইলকে তীব্র আক্রমণ করে হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই পুরো বিশ্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের বিশাল বিজয় এবং তাদের গড়ে তোলা ‘প্রতিরোধ শক্তির’ (Axis of Resistance) চূড়ান্ত সাফল্যের প্রতিধ্বনি স্বচক্ষে দেখতে পাবে।
একই সঙ্গে তিনি ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলকে একটি ‘আগ্রাসী ও লোভী শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম প্রেস টিভির (Press TV) এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার হুশিয়ারি বার্তাটি আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের প্রয়াত দুই শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব মেজর জেনারেল গোলামআলি রশিদ এবং আমিন আব্বাস রশিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এসব তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন। তিনি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, জেনারেল রশিদ ও তাঁর সুযোগ্য পুত্রের আকস্মিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে ইরানের সামরিক খাত এবং পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অপূরণীয় ক্ষতি ছিল; তবে একই সঙ্গে এই আত্মত্যাগ বিশ্বমঞ্চে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধক্ষমতা, ইস্পাতকঠিন মনোবল ও জাতীয় শক্তির এক অনন্য প্রমাণ দিয়েছে।
শত্রুপক্ষের গুপ্তহত্যা নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি তাঁর ভাষ্যে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই দুর্বল ও লোভী শত্রু (ইসরাইল) ভেবেছিল যে, ইরানের প্রধান সামরিক কৌশলবিদদের শারীরিকভাবে হত্যা বা নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে বুঝি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মূল প্রতিরক্ষা-সংকল্পে বড় ধরনের ফাটল ধরানো যাবে। কিন্তু ধূর্ত শত্রুরা এটা বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যে—শহীদ রশিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য যুদ্ধবিদ্যা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং নিখুঁত কৌশলগত চিন্তার একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অবিনশ্বর উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।"
জেনারেল আবদুল্লাহি আরও দাবি করেন, শহীদ রশিদের দেখিয়ে যাওয়া সেই আধুনিক কৌশলগত পথ ও গাইডলাইন নিখুঁতভাবে অনুসরণ করেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখনও শত্রুপক্ষের তথাকথিত ‘জটিল হাইব্রিড যুদ্ধ এবং জ্ঞানগত বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ (Cognitive Warfare) অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। তেহরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মারমুখী বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে ইসরাইল ও মার্কিন জোটের বিরুদ্ধে ইরান তাদের সামরিক ও প্রক্সি ফ্রন্টগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক করে তুলছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি
ফুটবল বিশ্বকাপের আবহের মধ্যেই নতুন এক সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর ড্রোন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি তথ্যের অ্যাক্সেস ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তারা পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উগ্রপন্থী ও সাইবার গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হান্দালা’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী নিজেদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোনে অত্যাধুনিক মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং যানবাহনের নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যুক্ত ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোনগুলো সন্ত্রাসবিরোধী নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো এবং তারা এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য দেখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বিবৃতিতে হান্দালা সতর্কতামূলক ভাষায় উল্লেখ করেছে যে আয়োজকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই জোরদার করুক না কেন, আকাশপথের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে ড্রোন প্রযুক্তি এখন সর্বত্র উপস্থিত এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে হ্যাকারদের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। সংস্থাটি বলছে, হান্দালা যে ভিডিও ও ছবিগুলো প্রকাশ করেছে তার কিছু উপাদান আগেই জনসমক্ষে ব্যবহৃত হয়েছিল। বিশেষ করে একটি ভিডিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক উপস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
সাইটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভিডিওটির একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুলিশ বিভাগের টর্নেডো-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ডেমোনস্ট্রেশন ছিল। ফলে হান্দালার প্রকাশিত সব উপকরণ যে এফবিআইয়ের হ্যাক হওয়া ড্রোন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজক শহর ও স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআই, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো উন্নত ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টেডিয়াম এলাকা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানস্থলের আকাশসীমায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ক্রীড়া আসরগুলোতে ড্রোন-ভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কারণ ছোট আকারের ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পেছনে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেহরানকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্ভাব্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলোতে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।
হান্দালা নামটি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। গত মার্চে গোষ্ঠীটি দাবি করেছিল যে তারা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে। পরে অনলাইনে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়, যদিও সেসব দাবির পূর্ণ সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ এই গোষ্ঠীকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। হান্দালার সদস্যদের শনাক্ত করতে সহায়ক তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র গোষ্ঠীটিকে সম্ভাব্য সাইবার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- গত দুই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ব্যর্থতা ভুলে আজ নতুন মিশন শুরু করছে জার্মানরা
- শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
- ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক, ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আইডিএফ-এর যুদ্ধপ্রস্তুতি
- ডলার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, রিজার্ভে বড় লাফ
- বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারে পরীমণির ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস
- পুরনো ছন্দে ফিরেছেন মেসি, আলজেরিয়া ম্যাচের আগে উৎকণ্ঠা কাটল ভক্তদের
- আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন
- রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় জানালেন মন্ত্রী
- অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ হাতছাড়া বাংলাদেশের
- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার
- ইরানের ৪ প্রধান ব্যাংকে সাইবার হামলা, ব্যাহত ডিজিটাল সেবা
- কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
- দুবাই বিমানবন্দরের আধুনিক এআই প্রযুক্তির জালে ধরা পড়লেন বেনজীর
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অসম্মতি: শিক্ষামন্ত্রী
- বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
- দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত শতাধিক
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
- ১৪ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- বিশ্বকাপ দেখবেন কোথায়? জেনে নিন সব মাধ্যম
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- দানিলোর স্বীকারোক্তি: ‘প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি’
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফের তেল আবিবে বিক্ষোভ, রাস্তায় ইসরায়েলিরা
- গাজা ইস্যুতে ‘গণহত্যা’ বলেও কেন ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ব্রাজিলের
- একদিনে ৬ বিশ্বকাপ ম্যাচ, ব্যস্ত ক্রীড়াসূচি
- রোববার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব মার্কেট
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- অবসরভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ স্বর্ণবাজারে বড় উল্লম্ফন
- ইতিহাসে প্রথমবার বাজেট পাসের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি: প্রধানমন্ত্রী
- পরিচয় দেওয়ার পরও থানায় সম্মান পাইনি, গলা চেপে ধরা হয়েছিল: নাঈম হাসান
- বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৮৮ বছরের অপরাজেয় উদ্বোধনী রেকর্ডের সামনে এবার মরক্কো
- আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়বদ্ধতা: কৃষিমন্ত্রী
- নিখোঁজ নাটক ফাঁস! উদ্ধারের পরই শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা
- সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
- অর্থনীতিতে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও অলিগার্কদের ধ্বংস করাই সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
- সরকারকে বেশি দিন সময় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
- আমরা কাউকে ভয় পাই না, ব্রাজিলকে হারিয়েই মাঠ ছাড়ব: হাকিমি
- বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী
- ভোরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান: নেইমার কি থাকছেন শেষ পর্যন্ত?
- ইরানের অবরুদ্ধ ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দিতে সম্মত ডোনাল্ড ট্রাম্প!
- ইরান ও প্রতিরোধ শক্তির চূড়ান্ত বিজয় দেখবে বিশ্ব
- ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে দূষণমুক্ত পরিষ্কার বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
- বাংলাদেশের ব্রাজিল উন্মাদনা এবার লাতিন আমেরিকায়: মুগ্ধতা ছড়াল বিখ্যাত ‘জি গ্লোবো’
- ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অপরাধে দুই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- চার দফা পতনের পর হঠাৎ লাফ দিল সোনার দাম
- বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে মিলবে রেকর্ড প্রাইজমানি, কত সেই টাকা
- টিভি ও মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখার পূর্ণ গাইড
- বিশ্বকাপ জিতলে চ্যাম্পিয়ন পাবে কত টাকা? জানুন প্রাইজমানির অঙ্ক
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, সম্পদের পরিমান কত
- মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন? জেনে নিন সেরা ৪ প্ল্যাটফর্ম, খরচ কত
- সোনা কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন দর
- মেগা করছাড়ের বাজেট, কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম
- আজকের খেলার সূচি, কখন কোথায় দেখবেন?
- নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
- ডলারের নতুন দর কত? আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- স্বর্ণবাজারে বড় ধস, ৯ দিনে ভরিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা কমেছে সোনার দাম
- বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ৯ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার








