বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন, আইন চলবে নিজস্ব গতিতে: নুরুল হক নূর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আইনজীবী অধিকার পরিষদ ঢাকা বার ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, অতীতে আদালতের রায় গণভবন থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো বলে অভিযোগ ছিল, তবে বর্তমানে সেই যুগের অবসান ঘটেছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, নতুন বাংলাদেশে আইন এখন থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী নূর তাঁর বক্তব্যে এদিনকে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিগুলোতে নির্বাচনের নামে জোর-জবরদস্তি ও দখলের রাজনীতি চলেছে এবং বিচার বিভাগকে পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি আইনজীবীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
আইনসভাকে শক্তিশালী এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল হক নূর বলেন, আইনজীবীদের রাজনীতিতে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী দিনে আইনজীবী অধিকার পরিষদ আইনজীবীদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে। এছাড়া সারা বাংলাদেশের আইনজীবীদের সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন বারের নির্বাচনে এই পরিষদ অংশ নেবে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে আইনজীবী অধিকার পরিষদ ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক মো. মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান এবং উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাবিবুর রহমান এবং এতে আইনজীবী অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
যুদ্ধের শঙ্কা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ অঞ্চলটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশের বহু প্রবাসী শ্রমিকের সামনে ভিন্ন বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে। যুদ্ধের ঝুঁকি থাকলেও উপার্জনের প্রয়োজনেই তাদের অনেকেই আবারও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি এমনই আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে। বিদেশগামী শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলিঙ্গন ও কান্নাভেজা বিদায়ের মধ্য দিয়ে আবার কর্মস্থলের উদ্দেশে বিমানে উঠছেন।
২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাকিব তাদেরই একজন। তিনি সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইটে উঠছিলেন। নতুন বিয়ে করার পর পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন কাটানোর জন্য দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলেও কাজের প্রয়োজনে তাকে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।
বিদায়ের আগে তিনি বলেন, “ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। আবার ফিরে যেতে হচ্ছে বলে মন খারাপ লাগছে। কী ঘটতে পারে কেউ জানে না।”
সাকিব গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বিমানবন্দরে বিদায়ের সময় তার ছোট ভাই মোনিরুল ইসলাম তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগঘন বিদায় জানান।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক কর্মরত।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও অনেক শ্রমিক এখনো স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার ছায়া তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ভ্রমণ সংস্থা রহমান ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস–এর মালিক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। ফলে বহু শ্রমিক কয়েকদিন ধরে দেশে আটকে ছিলেন।
তার ভাষায়, “চার শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল এবং প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে তিনশ বা তার বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল। এখন ধীরে ধীরে কিছু ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকরা আবার বিদেশে যাওয়া শুরু করেছেন।”
তিনি আরও জানান, এখনো হাজার হাজার শ্রমিক গালফ অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে তাদের অনেকেই দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যেন সংসদ কলুষিত না করে: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এক তেজস্বী ও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে ইঙ্গিত করে স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন কোনোভাবেই সংসদ কলুষিত না হয়।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমরা এই সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এখানে বসার সুযোগ পেয়েছি। আপনার (স্পিকার) প্রতি নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যেন এই মহান সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে।” তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিগত সময়ের গুম-খুন, লুটপাট এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পিলখানা, শাপলা চত্বর, আবরার ফাহাদ এবং সীমান্তে নিহত ফেলানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিন এবং শিশু রিয়া গোপসহ নিহত সকল ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ এবং একটি বৈষম্যহীন, আধিপত্যবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন।
একই অধিবেশনে স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান, তখন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান (ওয়াকআউট করেন)।
/আশিক
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনবে না বিরোধী দল: প্রথম অধিবেশনেই সংসদের উত্তপ্ত চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ কক্ষ। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে অধিবেশন শুরু হলে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রতিবাদ জানায় বিরোধী জোট। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর প্রাক্কালে ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং উচ্চস্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংসদীয় রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা তাতে কর্ণপাত না করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন এবং একপর্যায়ে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই বিরোধী জোট বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বৈধতা এবং তাঁর পদে থাকা নিয়ে আগে থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারা সংসদে গ্রহণ করবে না। আজকের এই ওয়াকআউটের মাধ্যমে সেই আপত্তিরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল।
/আশিক
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্পিকারকে বললেন শফিকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে সংসদ পরিচালনায় তাদের সফলতা কামনা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সংসদ একটি বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, “আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ।” তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা বহন করছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। সংসদে সকল সদস্য যেন সমান সুযোগ পান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি সংসদে উপস্থিত তরুণ নেতাদের কথা উল্লেখ করে নিজেকেও সেই ধারার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদে ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ পরিচালনায় তিনি কেবল ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। বক্তব্য শেষ করার সময় তিনি ইংরেজিতে বলেন, “We want justice.”
-রফিক
খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শিয়া মুসলিমদের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি হোসেইনী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার স্মরণে একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা পরে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
অধিবেশনের শুরুতেই প্রয়াত এই নেতার কর্মময় জীবন, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে একটি বিস্তারিত শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়, খামেনির মৃত্যুতে বিশ্ব এক প্রভাবশালী ধর্মীয় চিন্তাবিদ, দূরদর্শী নেতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।
শোকপ্রস্তাবে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এই ক্ষতিকে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদে উপস্থাপিত শোকপ্রস্তাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের ঐতিহাসিক শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের জীবন শেষে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং চল্লিশ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।
শোকপ্রস্তাবে খামেনির শিক্ষাজীবনের কথাও তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফের বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রে উচ্চতর ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এই সময় তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে আসেন এবং ধীরে ধীরে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়। তবে এসব বাধা তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনে খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিপ্লব-পরবর্তী সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮০ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। তার নেতৃত্বে এই বাহিনী ধীরে ধীরে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে খামেনি নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন এবং দেশটির নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে গৃহীত এই শোকপ্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে ইরানের প্রয়াত নেতার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হবে।
-রাফসান
সংসদের প্রথম দিনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্পিকারের চেয়ার আপাতত খালি রেখে অধিবেশন শুরু করা হয়। সংসদের কার্যক্রম শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে পরিবেশকে ধর্মীয় আবহে উদ্বোধন করা হয়।
অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পর, বেলা প্রায় সোয়া ১১টার দিকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যের সূচনাতেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর সংসদ পরিচালনার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। তার এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রস্তাবের প্রতি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। এতে সংসদের শুরুতেই একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশের দর্শক গ্যালারি এবং স্পিকারের দুই পাশের ভিভিআইপি লাউঞ্জ আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ সচিবালয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিক এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
ভিভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
স্পিকারের ডান পাশের গ্যালারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দবানু, তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান, এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শামিলা রহমান সিঁথি।
এছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, এবং জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান বিন্দু।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
সংসদের বাম পাশের গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সেখানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ আরও কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি।
এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ ছাত্রনেতা গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদও বিশেষ অতিথি হিসেবে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি আন্দোলনের মানবিক দিক ও সাধারণ মানুষের ভূমিকার প্রতীক হিসেবে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
-রফিক
স্পিকার আর কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক
জাতীয় সংসদের স্পিকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন; বরং তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রমনা জনগণ আজ নতুন সংসদের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার ও সংসদ সদস্যরা সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে নতুন স্পিকারের উদ্দেশে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত ছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত ছিল। সেই সময়ে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল এবং জাতীয় সংসদ এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, যেখানে জনগণের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বহু সংসদ সদস্য নিজেদের এমপি পরিচয়ে পরিচিত হলেও তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন না। তবে বর্তমান সংসদ ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিফলন। এই সংসদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এবং এটি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ হলো যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও গঠনমূলক বিতর্ক। তিনি বলেন, অকারণ বিরোধিতার সংস্কৃতি নয়, বরং যৌক্তিক সমালোচনা, তথ্যভিত্তিক বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে চান তারা।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যকর বিতর্ক ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব স্পিকারের ওপরই বর্তায়।
জাতীয় সংসদের সদস্যদের পক্ষ থেকে স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকার যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সংসদ সদস্যরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।
বক্তব্যের শেষ অংশে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্পিকারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সংসদের সফলতা ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এটাই সবার প্রত্যাশা। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”
-রফিক
আসিফ নজরুলের বার্তা: এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে দর্শনার্থী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সংসদকে নিয়ে নিজের গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, "বহু বছর পর বাংলাদেশে একটি প্রকৃত সংসদের অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংসদের প্রতিনিধিরা প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ফলে এই সংসদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে এবং এটি একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সাবেক এই আইন উপদেষ্টা এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের সাক্ষী হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন, যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর মতে, এই সংসদই হবে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার ও টেকসই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
/আশিক
ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সভাপতি কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করার জন্য নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আহ্বান জানান। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সংসদ সদস্য আশরাফউদ্দিন। পরবর্তীতে প্রস্তাবটি সংসদ কক্ষে কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে সকল সংসদ সদস্যের সম্মতিতে ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি জয়যুক্ত হয় এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন, আইন চলবে নিজস্ব গতিতে: নুরুল হক নূর
- ইফতারের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত: বেলাইব্রিজে ঝরল ১৩ জনের তাজা প্রাণ
- টিকটক করতে গিয়ে বৃদ্ধকে অপমান; আদালতের কাঠগড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার
- ইসরায়েলে ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা: রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
- সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার, দেখুন সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ
- নিরাপদ মনে করা বৈরুতের এলাকাতেই ইসরাইলি হামলা
- ইরাকের ইরবিলে বিস্ফোরণ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আকাশ হামলা
- মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বিশ্ব তেলবাজারে নজিরবিহীন সংকট, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
- ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান রাশিয়ার
- ইফতারে ভিন্ন স্বাদ পেতে ঝটপট তৈরি করুন মুচমুচে চিকেন স্প্রিং রোল
- যুদ্ধ থামানোর ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- যুদ্ধের শঙ্কা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক
- রাষ্ট্রপতির ‘তিন অপরাধ’ ফাঁস করলেন জামায়াত আমির
- কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যেন সংসদ কলুষিত না করে: নাহিদ ইসলাম
- গোলাম পরওয়ারের পিটিশন গ্রহণ: খুলনা-৫ আসনের বিজয় কি তবে অনিশ্চিত?
- রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনবে না বিরোধী দল: প্রথম অধিবেশনেই সংসদের উত্তপ্ত চিত্র
- ১২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ১২ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- আল-আকসা ১২ দিন বন্ধ: মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ
- ইসরাইলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা ইরানের
- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্পিকারকে বললেন শফিকুর রহমান
- খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত
- সংসদের প্রথম দিনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
- স্পিকার আর কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক
- ইরানকে উৎখাত সহজ নয়, বলছে মার্কিন গোয়েন্দারা
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন
- বাড়িতেই হবে ফলের সমারোহ: আপনার বারান্দার টবে যে ৩টি ফল সহজে ফলবে
- কম্পিউটার স্ক্রিনে ক্লান্তি? চোখের আরাম পেতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ব্যায়াম
- ইরানের হামলার ৪০তম ধাপ শুরু! ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র
- আসিফ নজরুলের বার্তা: এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী
- ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
- জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই সংসদ: সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার
- সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার: প্রতিটি পরিবার হবে স্বনির্ভর
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী থেকে স্পিকারের চেয়ারে; নয়া ইতিহাসের সামনে মেজর হাফিজ
- হরমুজের পর নতুন সমুদ্রপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি! যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এলাকায় ফেরার দরকার নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ৪০ বারের সমন্বয়ে ২৬ বারই দাম বৃদ্ধি: স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা থামছেই না
- দেশের ১২ জেলায় কালবৈশাখীর হুঙ্কার! সন্ধ্যার মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- মাইন আতঙ্ক ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন: যুদ্ধের উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি
- মিত্রদের পতনে কেন চুপ পুতিন? খামেনির মৃত্যুতে ক্রেমলিনের রহস্যময় নীরবতা
- টিভিতে আজকের খেলা; ইউরোপা লিগের শেষ ষোলোর সূচি দেখে নিন
- সংসদ অধিবেশন আজ; যানজট এড়াতে ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ১২ মার্চ ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ আপডেট
- তারেক রহমানের সংসদ যাত্রা আজ: স্পিকারের আসনে বসবেন কে?
- যুদ্ধ কি শেষের পথে? ট্রাম্পের দাবি বনাম বিপ্লবী গার্ডের হুঙ্কার
- তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়ানোর হুঁশিয়ারি! বিশ্বকে চরম সতর্কবার্তা দিল ইরান
- ১৫ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে সংবাদ সম্মেলন; কালিগঞ্জে ব্যবসায়ী মহলে তোলপাড়
- না খেয়ে থাকা মানেই কি ওজন কমানো? ডায়েটের ভুল ধারণা ভাঙুন আজই
- মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেত; ভিনগ্রহের প্রাণী নাকি ডার্ক ম্যাটার?
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬
- ২৭ রমজানই কি কদরের রাত? মুসনাদে আহমাদ ও বুখারির হাদিস যা বলছে








