নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্ন‌য়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান ক‌রে‌ছে নানিয়ারচর জোন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৮:২১:০২
নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের উন্ন‌য়নে চেয়ার-টেবিল প্রদান ক‌রে‌ছে নানিয়ারচর জোন

সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প এর আওতায় নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের মান উন্নয়নের জন্য উন্নতমা‌নের চেয়ার-টেবিল প্রদান করা হ‌য়ে‌ছে।

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক 'সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প' এর আওতায় নানিয়ারচর জোনের আওতাধীন নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র (টেবিল ও চেয়ার) প্রদান করা হয়।

পূর্বে জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোন কর্তৃক নানিয়ারচর উপজেলা পরিদর্শনকালে প্রেস ক্লাবটিতে চেয়ার ও টেবিলের অপ্রতুলতা পরিলক্ষিত হলে ক্লাবটির মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত আশ্বাসেরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জোন কমান্ডার, নানিয়ারচর জোন, বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি কর্তৃক নানিয়ারচর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মেহেদী ইমাম ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুকের নিকট উক্ত আসবাবপত্র (চেয়ার ও টেবিল) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

এসময় জোন উপ-অধিনায়ক, নানিয়ারচর জোন, বিএ-৮২২০ মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম উপস্থিত ছিলেন। উক্ত জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনসাধারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, অত্র এলাকার জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নিঃস্বার্থ সহযোগিতায় অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অত্র এলাকার জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ক‌রে‌ছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২০:২৪:৪৮
বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ক‌রে‌ছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
ছবি : সংগৃহীত

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ ১০ জানুয়ারি, শনিবার, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলাধীন শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের খরণদ্বীপে বদিউল আলম কোম্পানির বাড়িতে স্থানীয় দুঃস্থ, অসহায় ও এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপ‌তি মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও সাংবাদিক স ম জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যুগ্ম মহাসচিব ফারহানা আফরোজ, সাংবাদিক নজিব চৌধুরী, গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের বৈজ্ঞানিক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইমরান, মোঃ মুজিবুর রহমান, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের সদস্য ইয়াছমিন আক্তার, প্রিয়া বেগম, নিলুফার ইয়াছমিন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, মানুষ মানু‌ষের জন‌্য মান‌বিক সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন এবং ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন ফাউন্ডেশন বোয়ালখালীর সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের মানবিক কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

এর ধারাবাহিকতায় আজ বোয়ালখালীর খরণদ্বীপে শীতার্ত, দুঃস্থ, অসহায় ও এতিমদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংগঠনের আয়োজনের শীতার্ত শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রম বোয়ালখালীর বিভিন্ন অঞ্চলেও চলমান থাকবে বলে প্রত্যাশা রাখেন।

এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ব‌লেন, লন্ড‌নের বি‌শিষ্ট আইনজীবী, বোয়ালখালী কধুরখীলের কৃ‌তি সন্তান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন প্রবাসে বাস করেও দেশের এই শীত মৌসুমে গরিব-দুঃখী মানুষের কথা স্মরণ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:০৯:৩৪
চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
শিশু মোস্তফা রোহান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে খতনা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মোস্তফা রোহান নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। পরবর্তীতে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, শিশু মোস্তফার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি বা ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ ছিল, যার জন্য খতনা ও একটি ছোট অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাসিমুখে ছবিও তুলেছিল শিশুটি। কিন্তু অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শিশুটির বাবা আবু মুসা অভিযোগ করেছেন যে, অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের আগে ছেলেটির খুব খিদে পেয়েছিল কিন্তু চিকিৎসকের বারণ থাকায় তাকে কিছুই খাওয়ানো হয়নি। মা সুমি আক্তার এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন যে, খতনার সময় সাধারণত জটিলতা খুব কম হয়, তবে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অ্যানেস্থেসিয়া বা অন্য কোনো কারণে কী ঘটেছিল তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে শিশুটির পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী চিকিৎসকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু চট্টগ্রাম জুড়ে চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও অবহেলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


২৮ বছরের প্রাপ্তি না কি বঞ্চনা: পার্বত্য চুক্তির আমূল পরিবর্তনে ৫ দফা দাবি

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১৮:০১:৪৯
২৮ বছরের প্রাপ্তি না কি বঞ্চনা: পার্বত্য চুক্তির আমূল পরিবর্তনে ৫ দফা দাবি
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তিতে আজ এই চুক্তির প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে। ‘পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেল’-এর পরিচালনা সদস্য ওমর ফারুক এক পর্যালোচনায় দাবি করেছেন, ১৯৯৭ সালের এই চুক্তিটি আসলে একটি অসম ও অসাংবিধানিক রাজনৈতিক আপস, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশের এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে নিজ ভূখণ্ডেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে একটি অঞ্চলকে ‘উপজাতীয় অধ্যুষিত’ ঘোষণা করা সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা দেশের ৬১টি জেলা থেকে এই অঞ্চলকে আলাদা করে ফেলেছে। চুক্তির পর থেকে পাহাড়ে জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং কেএনএফের মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, গুম ও হত্যার মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু বিতর্কিত সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক তহবিল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যেখানে পাহাড়ের ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকাংশরাই বঞ্চনার শিকার।

গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বহু ধারা সংবিধানের ১, ৫৯, ৮০ ও ১২২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একটি অনির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করছে এবং সার্কেল চিফরা নাগরিকত্ব ও ভূমির মালিকানা নির্ধারণের মতো ক্ষমতা লাভ করেছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নজিরবিহীন। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদ রক্ষায় তাই ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সকল অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক ধারা অবিলম্বে পুনর্গঠন বা বাতিল করতে হবে।

২. অনির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ ও তার অবৈধ ক্ষমতার অবসান ঘটাতে হবে।

৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য সমান ভূমি, ভোট ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্যে প্রত্যাহাকৃত ২৪৬ টি সেনাক্যাম্প পুনরায় স্থাপন করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো আলাদা রাষ্ট্র নয়, কোনো পরীক্ষাগার নয়, কোনো গোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তিও নয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষার্থে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম একজন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ শহিদ হয়েছেন এবং তার সমাধি রয়েছে রাঙ্গামাটি নানিয়াচরে। এটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানকার প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়—ভিক্ষা নয়, ন্যায্য অধিকার।


বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে চট্টগ্রামে ভিন্ন নামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব ও আতঙ্ক

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ১০:৫৬:২১
বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে চট্টগ্রামে ভিন্ন নামে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব ও আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

খবর চট্টগ্রাম নগরীতে নতুন নতুন নামে কিশোর গ্যাং গ্রুপ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি চালাচ্ছে তাণ্ডব। চাঁদাবাজি ও ছিনতাই থেকে শুরু করে দখলবাজি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তারা। কোনো এলাকায় নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হলে ভবন মালিক কিংবা ঠিকাদারের কাছে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এমনকি গ্রুপিং দ্বন্দ্বে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঘটছে খুনখারাবির ঘটনা।

অভিযোগ রয়েছে বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে নতুন করে ভিন্ন নামে বিভিন্ন গ্রুপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। একাধিক সূত্রে জানা যায় গ্রুপ ঠিক থাকলেও নাম ও নেতৃত্বের বদল হয়েছে। এক সময়কার নেতৃত্বদানকারীরা এখন লাপাত্তা হওয়ায় অন্য বড় ভাইয়েরা হাল ধরেছে। এই চক্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ যারা মূলত মাদক সেবনের টাকা জোগাতে এ পথে আসছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযানে কিশোর সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও অধরা থেকে যান মূল হোতা বা বড় ভাইয়েরা। তারা বরং সদস্যদের ছাড়াতে থানায় তদবির করেন এবং আদালতে আইনজীবী নিয়োগ করে জামিনের ব্যবস্থা করেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক জরিপে দেখা গেছে নগরে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এসব গ্রুপ বিঙ্গো কমার্ড আয়রন পেটন ও এমবিবিএস সহ নানা অদ্ভুত নামে পরিচিত। গত ছয় বছরে ৫৪৮টি অপরাধের ঘটনায় কিশোর গ্যাং জড়িত ছিল এবং তাদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ৬৪ জন বড় ভাই রয়েছেন। গত ১৬ মে হালিশহরের নয়াবাজারে দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে ওয়াহিদুল নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে দন্তচিকিৎসক কোরবান আলীর মৃত্যুর ঘটনাটি কিশোর গ্যাংয়ের নিষ্ঠুরতার এক বড় উদাহরণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে চট্টগ্রামের স্কুলগুলোয় অনুপস্থিত থাকা ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশই এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোররা পর্নোগ্রাফি সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধে জড়াচ্ছে এবং এর জন্য তারা মূলত স্কুলের সময়টাকেই বেছে নেয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। হামজারবাগ এলাকার ভাড়াটিয়া মো. সাদিক হোসেন জানান কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় টেনশনে থাকতে হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন নগরীতে কিশোর গ্যাং থানাভিত্তিক এবং সিএমপির প্রতিটি থানায় এই গ্রুপগুলোর তালিকা আছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমন ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে কোনো দলের ব্যানারে তারা সক্রিয় হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক নেতারা মিছিল মিটিংয়ে শিশু কিশোরদের ব্যবহার করলেও পুলিশ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।

সূত্র:কালবেলা


চট্টগ্রাম ১ আসনে বিএনপির নুরুল আমিন নাকি জামায়াতের সাইফুর রহমান কার পাল্লা ভারী

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৮:৪২:৫৬
চট্টগ্রাম ১ আসনে বিএনপির নুরুল আমিন নাকি জামায়াতের সাইফুর রহমান কার পাল্লা ভারী
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ১ বা মীরসরাই আসনে ভোটের রাজনীতি এখন তুঙ্গে। এই আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই দুই নেতার লড়াই মীরসরাইয়ের নির্বাচনী মাঠকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

মাঠের রাজনীতিতে নুরুল আমিন বেশ পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কাজ এবং তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বেশ গভীর। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন নুরুল আমিনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা সহজেই এই আসনে জয় ঘরে তুলতে পারবেন। বিশেষ করে ধানের শীষের বিশাল ভোটব্যাংক এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ভোটারদের টানতে সহায়ক হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমানও ছেড়ে কথা বলছেন না। পেশায় আইনজীবী সাইফুর রহমান ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী এবং নিজস্ব ভোটব্যাংকের পাশাপাশি তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন নুরুল আমিন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও সাইফুর রহমানের কৌশলী প্রচারণায় ভোটের মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

মীরসরাইয়ের সাধারণ ভোটাররা এই লড়াইকে বিএনপি বনাম জামায়াতের মর্যাদার লড়াই হিসেবেই দেখছেন। একদিকে নুরুল আমিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দলের সাংগঠনিক শক্তি অন্যদিকে সাইফুর রহমানের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জামায়াতের নীরব ভোট বিপ্লবের কৌশল এই দুইয়ের মধ্যে কে শেষ হাসি হাসবেন তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে পুরো চট্টগ্রামবাসী। কার্যত নৌকা না থাকায় মীরসরাইয়ের ভোটের মাঠ এখন পুরোপুরি নুরুল আমিন বনাম সাইফুর রহমানের দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে।


মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরই হামলা; চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৫ ২০:০৯:১৬
মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরই হামলা; চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ
হামজারবাগে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন একজন। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ-বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগ চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যার দিকে নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ ছাড়াও সারোয়ার বাবলাসহ আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ আহত এরশাদ উল্লাহকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (এভারকেয়ার হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। আহত বাকি দুজনকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে গুলিবিদ্ধ আরেকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা সরওয়ার বাবলা নামের একজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ, সরওয়ার বাবলাসহ মোট তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন নিশ্চিত করেন, এরশাদ উল্লাহ বায়েজিদ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন, এই সময় দুর্বৃত্তরা এসে গুলি করে।

ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, "এরশাদ উল্লাহসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি।"

এদিকে আজ সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে, চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা চালায় এবং পায়ে গুলি করে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত সোমবার নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরপরই বুধবার সন্ধ্যার দিকে তিনি হামজারবাগ এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকায় বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী বাদ পড়েছেন এবং বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গত সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারা দেশের ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেন।


বিএনপি অফিসে ‘জয় বাংলা’ লিখে পালাল দুই যুবক

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ২৮ ২১:৪৫:৫৪
বিএনপি অফিসে ‘জয় বাংলা’ লিখে পালাল দুই যুবক
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় গভীর রাতে হেলমেট পরা দুই যুবক উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা’ লিখে পালিয়ে গেছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পৌর সদরের কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত বিএনপি অফিসে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক অফিসের সামনে এসে এই স্লোগানগুলো দ্রুত লিখে পালিয়ে যান।

রাজনৈতিক উসকানি ও ভিডিও ফুটেজ

শনাক্তকরণ: মুখ হেলমেটে ঢাকা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দুই যুবক মোটরসাইকেল থামিয়ে দ্রুতগতিতে অফিসের দেয়ালে স্লোগান লিখছেন—তা দেখা যায়।

বিএনপির অভিযোগ: পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, “হেলমেট পরে দুই যুবক বিএনপির কার্যালয়ের সিঁড়ির দেয়ালসহ কয়েকজন নেতার বাড়ির দেয়ালেও ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা’ লিখে গেছেন। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।” তিনি মনে করেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা।

পুলিশের তৎপরতা

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”


চট্টগ্রাম সিইপিজেডের কারখানায় আগুনে ১০৫০ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করল অ্যালার্ম!

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৬ ২১:১৬:১৯
চট্টগ্রাম সিইপিজেডের কারখানায় আগুনে ১০৫০ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করল অ্যালার্ম!
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপ নামের একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই কারখানা থেকে ১০৫০ জন শ্রমিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জাগো নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার কাজ

সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাডামস ক্যাপে ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং শ্রমিকরা দ্রুত ভবনটি থেকে বেরিয়ে যান।

নিরাপত্তা: অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক বলেন, “আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগার কারণে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে বের হয়ে যান। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে এবং আশপাশের ভবনগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, সিইপিজেডের অভ্যন্তরের পুকুর থেকে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

উৎপাদিত পণ্য: কারখানাটিতে ক্যাপ, তোয়ালে ও মেডিকেল গাউন তৈরি হতো।


সিইপিজেডে আগুন: ৬ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বাড়ছে ঝুঁকি

চট্টগ্রাম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৬ ২০:৪৪:০৫
সিইপিজেডে আগুন: ৬ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বাড়ছে ঝুঁকি
ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ইউনিট। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

আগুন ও উদ্ধার অভিযান

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নগরীর সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের মোট ১৫টি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া নৌবাহিনীর ৪টি ইউনিট এবং ইপিজেড, সিইপিজেডে নিয়মিত সেনাবাহিনীর দল আগুনকবলিত এলাকায় উপস্থিত রয়েছে।

উদ্ধার: আগুনকবলিত কারখানা থেকে অন্তত ২০-২৫ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। কারখানায় মোট ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন।

ছড়িয়ে পড়া: চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আটতলা ভবনটির ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি এবং ভেতরে ঢোকা কঠিন।

দাহ্য বস্তু: ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, কারখানায় প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু থাকতে পারে। আগুন লাগার সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

উদ্বেগ ও নিরাপত্তা

সিইপিজেড সূত্র জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কারো হতাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন কালো ধোঁয়া। আগুনকবলিত ভবনটির চারপাশ ঘিরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন, যাতে অহেতুক লোকজন ভিড় না করে।

জি হং মেডিকেল কোম্পানির শ্রমিক মোছাম্মত শিপা বলেন, “যে জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে সাধারণত নারীদের যাওয়া নিষেধ।” তিনি দুপুরে খাওয়ার পর ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার শুনে নিচে নেমে আসেন। ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া বলেন, হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে, তবে গুরুতর কেউ আহত হননি।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত