স্বর্ণের দামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনা

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম আজ সব রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ও অকল্পনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন দর আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।
স্বর্ণের নতুন দরের বিস্তারিত তালিকা (প্রতি ভরি)
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা (পূর্বের চেয়ে ৪,১৯৯ টাকা বেশি)।
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা।
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির সোনা: ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে যে, স্বর্ণের এই নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (মেকিং চার্জ) যুক্ত করতে হবে। গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও বেশিও হতে পারে। ফলে এক ভরি ওজনের একটি অলঙ্কার কিনতে ক্রেতাকে এখন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ করতে হতে পারে।
রুপার দামেও নজিরবিহীন উল্লম্ফন স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দামের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। এক লাফে ভরিতে ৪০৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে রুপার দাম।
নতুন দর অনুযায়ী
২২ ক্যারেট রুপা: ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।
২১ ক্যারেট রুপা: ৫ হাজার ৭১৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট রুপা: ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।
বিয়ের ভরা মৌসুমে স্বর্ণ ও রুপার এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সংকটের কারণে দাম এভাবে বাড়তে বাধ্য হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অলঙ্কার শিল্পের জন্য এক বড় ধরণের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
রেমিট্যান্সে একের পর এক ম্যাজিক: গত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল জানুয়ারি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে ১৩৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২ কোটি ১৫ লাখ ডলার। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ৭৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার প্রবাসী আয়ের প্রবাহে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তথ্যমতে, কেবল ১১ জানুয়ারি একদিনেই প্রবাসীরা দেশে ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ আয়ের অন্যতম নজির। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিক প্রবাসী আয়ের হিসাব করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৭৬০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার ২১.৩ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল এই অর্থবছরের সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করায় প্রবাসীরা উৎসাহিত হচ্ছেন। রেমিট্যান্সের এই উর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং আমদানি দায় মেটানো সহজ হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রবাসীদের পাঠানো এই ডলারের প্রবাহ জানুয়ারি মাস জুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাদুর মতো কাজ করবে।
আজকের স্বর্ণের দাম: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
আজ সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬। বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী দেশের বাজারে স্বর্ণ এখন ইতিহাসের সবথেকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গত শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই কার্যকর হওয়া এই বর্ধিত মূল্যেই আজ দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে লেনদেন হচ্ছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এছাড়া সাধারণ মানুষের পছন্দের অন্যান্য ক্যারেটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, যা আগে কয়েক হাজার টাকা কম ছিল। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায়।
তবে স্বর্ণের এই উচ্চমূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের আরও কিছু বাড়তি খরচ যোগ করতে হবে। বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে এই মজুরি আরও বাড়তে পারে। ফলে এক ভরি গহনা কিনতে ক্রেতার প্রকৃত খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বর্ণের বাজারে উত্তাপ থাকলেও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে রুপার বাজার। গত ৮ জানুয়ারি রুপার দাম ভরিতে ৩৮৫ টাকা কমানো হয়েছিল, যা আজও বহাল রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৩০৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে স্বর্ণের দাম নিকট ভবিষ্যতে কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
লুটপাট ও দুর্নীতির ভয় কাটিয়ে ব্যাংকমুখী গ্রাহক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর মাসে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা কমেছে। সেপ্টেম্বরে যেখানে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা, সেখানে অক্টোবরে তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায়। একই সময়ে ছাপানো টাকা বা রিজার্ভ মানিও প্রায় ৭ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা কমেছে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নজিরবিহীন লুটপাট, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। আস্থার সংকটে পড়ে অনেক গ্রাহকই তাঁদের আমানত তুলে বাড়িতে রাখতে শুরু করেন, যার ফলে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে মানুষের হাতে থাকা টাকা ব্যাংকে ফিরে আসতে শুরু করেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ঘরে পড়ে থাকা টাকা অর্থনীতির কোনো উপকারে আসে না। এই টাকা যখন ব্যাংকে ফেরে, তখন তা শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।” তবে এই আস্থা ধরে রাখতে ব্যাংক খাতে অনিয়ম বন্ধ করা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি জোর দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, মানুষের ভয় এখন অনেকটাই কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে ব্যাংকগুলোকে সুশাসন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতির সঞ্চার হবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
আজ রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মুদ্রাবাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
আজকের বাজারে প্রতি মার্কিন ডলার কেনা হচ্ছে ১২২ টাকা ২৯ পয়সায় এবং বিক্রি করা হচ্ছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সায়।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী, যেখানে প্রতিটি ইউরো কিনতে গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ১৪৩ টাকা ৩১ পয়সা এবং বিক্রি হচ্ছে ১৪৩ টাকা ৩৫ পয়সায়।
যুক্তরাজ্যের মুদ্রা ব্রিটিশ পাউন্ডের দর আজ বেশ চড়া; এর কেনা দাম ১৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৪ টাকা ৬৬ পয়সা।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রার ক্ষেত্রে আজ কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতিটি ভারতীয় রুপি আজ ১ টাকা ৩৬ পয়সায় কেনা ও ১ টাকা ৩৬ পয়সাতেই বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রার মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের কেনা দাম ৯৫ টাকা ০৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার আজ কেনা হচ্ছে ৮১ টাকা ৮৫ পয়সায় এবং বিক্রি করা হচ্ছে ৮১ টাকা ৮৭ পয়সায়। প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে এই মুদ্রার দরগুলোর দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।
পূর্ব এশিয়ার মুদ্রাবাজারে আজ চীনা ইউয়ান কেনা হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৪ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৫ পয়সায়।
জাপানি ইয়েন আজ ০ টাকা ৭৮ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, মুদ্রার এই বিনিময় হার ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনার হিসাবটি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুদ্রাবাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আজকের স্বর্ণের দাম: ১১ জানুয়ারি ২০২৬
স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হবে। এর ফলে আজ ১১ জানুয়ারি থেকে সব থেকে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। বর্তমান এই দামটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ দরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বর্ণের দাম বাড়লেও স্বস্তির খবর হলো রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজুসের নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের প্রতি ভরির জন্য ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। উল্লেখ্য যে, স্বর্ণের এই বিক্রয়মূল্যের সাথে জুয়েলার্সদের নির্ধারিত মজুরি এবং সরকারি ভ্যাট যুক্ত হবে, যা চূড়ান্ত ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। বিশ্ববাজারে সোনার সরবরাহ এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন না আসায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন সাধারণ ক্রেতারা। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯২৫ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৬৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিয়ের মৌসুম চলায় স্বর্ণের এমন উচ্চমূল্য মধ্যবিত্ত পরিবারের গয়না কেনার বাজেটে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেজাবি স্বর্ণের মজুতের ওপর।
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হলেও মাত্র দুই দিনের মাথায় আবার তা বাড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায়। বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে গহনা বিক্রির সময় এই মূল্যের সঙ্গে সরকারকে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সংগঠন কর্তৃক নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির এই হার ভিন্ন হতে পারে যা ক্রেতাদের মাথায় রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়েছিল যা ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ৪৮ ঘণ্টাও স্থায়ী হয়নি। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সংকটের কারণে বাজুস ফের দাম বাড়ানোর পথে হেঁটেছে। বিয়ে বা অন্যান্য উৎসবের এই মৌসুমে স্বর্ণের এমন ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গহনা কেনাকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২.৭ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একাধিক অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এই ধীরগতির প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হার এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩.২ শতাংশ, যা বর্তমান পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি।
এ বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক ঝুঁকিও তীব্র করছে।
তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও সংস্থাটি সতর্ক করেছে, কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। তবে অঞ্চলভেদে প্রবৃদ্ধির গতি ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ১.৯ শতাংশে নেমে আসে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ থাকলেও আবাসন এবং বাণিজ্যিক নির্মাণ খাতে দুর্বলতা দেশটির প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করেছে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জাপানের অর্থনীতি চলতি বছরে ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের আনুমানিক ১.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কনীতি এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে জাপানের গাড়ি রপ্তানি বিশেষভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ১.৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা আবার বেড়ে ১.৬ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ এসব অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলকভাবে আশাব্যঞ্জক। ২০২৫ সালে এসব দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগের বছরের ৪.৯ শতাংশের চেয়ে কম। চীনের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে থাকবে।
আফ্রিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও উচ্চ ঋণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে থাকছে। অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশ থেকে ২০২৭ সালে ৪.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও ২০২৭ সালে তা আবার বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
-রফিক
রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
আন্তর্জাতিক অর্থবাজারের চলমান ওঠানামা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুদ্রার দরে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক ডলার প্রবাহ, সুদের হার, আমদানি ব্যয় এবং রেমিট্যান্স প্রবণতা মিলিয়ে বিনিময় হারে স্বল্পমেয়াদি তারতম্য তৈরি হচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত।
আজকের হালনাগাদ বিনিময় হার (বাংলাদেশি টাকায়)
শনিবারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো-
মার্কিন ডলার (USD): ১২২ টাকা ৩১ পয়সা
ইউরো (EUR): ১৪২ টাকা ৭৯ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP): ১৬৪ টাকা ৬১ পয়সা
ভারতীয় রুপি (INR): ১ টাকা ৩৬ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): ৩০ টাকা
সিঙ্গাপুরি ডলার (SGD): ৯৫ টাকা ৪২ পয়সা
সৌদি রিয়াল (SAR): ৩২ টাকা ৫৯ পয়সা
কুয়েতি দিনার (KWD): ৩৯৭ টাকা ৪৮ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): ৮২ টাকা ৭১ পয়সা
এই হারগুলো মূলত বৈদেশিক লেনদেন, রেমিট্যান্স হিসাব এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্বর্ণের পর রুপার দামেও বড় ছাড়! আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
টানা দুই দফায় মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে সারা দেশে সংশোধিত মূল্যে স্বর্ণ ও রুপা কেনাবেচা হবে। সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে এই দরপতন কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মানভেদে প্রতিটি ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামই কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা। এছাড়া যারা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ কিনতে চান, তাঁদের জন্য প্রতি ভরির দাম পড়বে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকা।
ভ্যাট ও মজুরির নতুন সমীকরণ বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঘোষিত মূল্যের সাথে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫ শতাংশ সরকারি ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি গয়না তৈরির জন্য নূন্যতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে, তবে অলংকারের নকশা ও কারুকার্যের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সাথে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি ক্রেতাদের আগেভাগেই মনে করিয়ে দিয়েছে।
রুপার দামে বড় পতন ও বাজার বিশ্লেষণ স্বর্ণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রুপার দামেও বড় ধরণের সমন্বয় সাধন করেছে বাজুস। প্রতি ভরিতে ৩৮৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা ভরিতে বিক্রি হবে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ দিনেই রুপার দাম তিনবার সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে দুইবারই দাম কমানোর ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালটি ছিল জুয়েলারি বাজারের জন্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ওই বছর মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বারই দাম বৃদ্ধির খবর শুনতে হয়েছিল ক্রেতাদের। বিপরীতে দাম কমার ঘটনা ঘটেছিল মাত্র তিনবার। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুতেই স্বর্ণ ও রুপার এই দরপতন বাজার স্থিতিশীল হওয়ার একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
পাঠকের মতামত:
- স্বর্ণের দামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনা
- শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
- পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
- আইসিসির ‘বার্তা’ নিয়ে বিভ্রান্তি: উপদেষ্টা ও উপ-প্রেস সচিবের ভিন্ন সুর
- রেমিট্যান্সে একের পর এক ম্যাজিক: গত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল জানুয়ারি
- স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
- যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে
- পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
- ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
- বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
- মুস্তাফিজকে দলে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ? আইসিসির অদ্ভুত শর্তে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
- পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রকল্পের নামে গণহারে বৃক্ষনিধন
- শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
- বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে বাংলাদেশ–আইসিসি টানাপোড়েন
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- বহুবিবাহ আইনে রিট খারিজ, আইনি বিধান কার্যকর
- ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পট নিউজ
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের Q2 প্রকাশ এবং সংশোধন
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ
- ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস : আতঙ্কে বিশ্ব
- নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব
- নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
- তেলহীন সয়া কাবাব ও টিক্কা তৈরির জাদুকরী রেসিপি জানুন
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
- জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ: তীব্র শীতে কর্মহীন হাজারো মানুষ
- লুটপাট ও দুর্নীতির ভয় কাটিয়ে ব্যাংকমুখী গ্রাহক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
- খেলা প্রেমীদের জন্য টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- লাশ আর গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিবেকের দরজায় ইরান
- জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
- প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
- মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট: বক্সিং থেকে নাচ—সবই করছে রোবট!
- দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
- শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব








