স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২০:১৩:২০
স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

স্তন ক্যানসার বর্তমানে নারীদের জন্য এক বিশাল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার ধরন যেমন অনিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন নামক একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত হয় যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যা সরাসরি স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রাত জাগার অভ্যাস কেবল হরমোনের ক্ষতিই করে না বরং এটি শরীরের ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করে।

শরীরের সামগ্রিক ওজনের চেয়েও পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ বা ভিসেরাল ফ্যাট স্তন ক্যানসারের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই বাড়তি মেদ থেকে এক ধরণের প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয় যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া পেটের মেদ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা হরমোনের ভারসাম্যকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর নারীদের শরীরে এই মেদ অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন তৈরি করে যা ক্যানসার কোষ সৃষ্টির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পেটের মেদ কমানোর ওপর বিশেষজ্ঞরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সুস্থ থাকতে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা নিয়মিত জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ও শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করা শরীরের জন্য সবথেকে জরুরি। এছাড়া খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা এবং পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জাদুর মতো কাজ করে। মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান বা ইয়োগা করা যেতে পারে। এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীরা ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।


স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:০৪:১৮
স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
ছবি : সংগৃহীত

লিভারের সবথেকে বড় শত্রু হিসেবে বর্তমানে চিহ্নিত হয়েছে ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ খাবার। ফ্রুক্টোজ হলো এক ধরণের চিনি যা সাধারণত ফল বা মধুতে থাকে। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন আমরা প্রক্রিয়াজাত খাবার বা মিষ্টি পানীয়র মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করি। আমাদের শরীরের গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয়। লিভার যখন এই বিশাল পরিমাণ চিনি ভাঙার চেষ্টা করে তখন সেটি দ্রুত চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে লিভারের কোষে চর্বি জমে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ তৈরি হয় যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডা ক্যান্ডি বা বাজারে পাওয়া বেকড পণ্যগুলো লিভারের এই স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

এরপরের বিপজ্জনক খাদ্য উপাদানটি হলো শিল্পজাত বীজ তেল। সূর্যমুখী সয়াবিন তুলা বীজ বা ভুট্টার মতো দানা থেকে যে তেল নিষ্কাশন করা হয় তাতে ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। যদিও ওমেগা ৬ শরীরের জন্য সামান্য প্রয়োজন কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণে তা লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই তেলগুলো রান্নার সময় উত্তাপের সংস্পর্শে এলে দ্রুত জারিত হয়ে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। ট্রান্স ফ্যাট বা লিপিড পারক্সাইড সরাসরি আমাদের ডিএনএ এবং প্রোটিনের ক্ষতি করে লিভার কোষকে অকেজো করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা রান্নার জন্য এই তেলের পরিবর্তে জলপাই তেল নারকেল তেল বা খাঁটি ঘি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন যা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল।

অনেকেই অবাক হতে পারেন যে ফলের রসও লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি ফলের রসে প্রাকৃতিক ফাইবার বা আঁশ থাকে না বললেই চলে। ফাইবার ছাড়া এই রস সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং লিভারকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে দেয়। পুরো আস্ত ফল খেলে তার ভেতরের ফাইবার চিনির শোষণকে ধীর করে দেয় কিন্তু জুস বা রস সেই সুযোগ দেয় না। ফলে লিভার দ্রুত সেই ফ্রুক্টোজকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। লিভার সুস্থ রাখতে তাই ফলের রসের চেয়ে সরাসরি আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা সবথেকে কার্যকর উপায়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা সোডা লিভারের প্রদাহ বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।


নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:৪৫:০৮
নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

শীতের এই সময়ে সর্দি বা নাক বন্ধ হওয়া এক সাধারণ সমস্যা। এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নাসাল স্প্রে ব্যবহার করি। তবে ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এক চরম সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল স্প্রেগুলো যদি ভুলভাবে বা একটানা অনেক দিন ব্যবহার করা হয়, তবে নাকের ভেতরের অংশে স্থায়ী এবং অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। দেখা গেছে যে, প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী এই স্প্রে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম বা এর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এই অজ্ঞতার কারণে অজান্তেই বহু মানুষ বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, এসব স্প্রেতে থাকা রাসায়নিক উপাদান নাকের ভেতরের সংবেদনশীল রক্তনালিগুলোতে তীব্র প্রভাব ফেলে। নিয়মবহির্ভূত ব্যবহারের ফলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ নামের একটি জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এতে স্প্রের প্রভাব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নাক বন্ধের সমস্যা আগের চেয়েও আরও ভয়াবহ আকারে ফিরে আসে। তখন রোগী বাধ্য হয়ে বার বার স্প্রে ব্যবহার করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে স্প্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা’। দীর্ঘদিন এমনটা চলতে থাকলে নাকের রক্তনালিগুলো ফুলে যায় এবং স্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাধারণ কোনো ওষুধে আর ভালো হয় না।

সবথেকে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ধরণের সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণ ওষুধ হিসেবে পরিচিত এই স্প্রেগুলো ভুলভাবে ব্যবহার করলে নাকের ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শ্বাসনালির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যেকোনো নাসাল স্প্রে ব্যবহারের আগে তার নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়া এবং টানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি ব্যবহার না করা। নাক বন্ধের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে স্প্রে না কিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি যাতে কোনো বড় ধরণের বিপদ এড়ানো যায়।


ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৭:৩০:১৫
ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
ছবি: ইত্তেফাক

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরনে উদ্বেগজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত এক সভায় জানিয়েছে, গত বছর (২০২৫) শনাক্ত হওয়া চারজন নিপাহ রোগীর প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ দেশে এখন এই ভাইরাসে মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় মৃত্যুর হারের (৭২%) চেয়েও অনেক বেশি। বিশেষ করে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় নিপাহর এই মরণকামড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হলো দেশে প্রথমবারের মতো ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’ শনাক্ত হওয়া। গত আগস্ট মাসে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশু নিপাহ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যা প্রচলিত শীতকালীন সংক্রমণের ধারণাকে বদলে দিয়েছে। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম ও আম), যা প্রমাণ করে যে নিপাহ ছড়ানোর জন্য শুধু খেজুরের রস দায়ী নয় বরং সারা বছরই যেকোনো দূষিত ফল থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে নিপাহর প্রকোপ সবথেকে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি তাঁর পরিবার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। নিপাহর কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আইইডিসিআর-এর নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কাঁচা খেজুরের রস ও পাখির আধা-খাওয়া ফল খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।


প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:৩৪:৩৬
প্রস্রাবের রং কি বদলে যাচ্ছে? কিডনি বিকল হওয়ার আগাম লক্ষণ জানুন
ছবি : সংগৃহীত

প্রস্রাবকে অনেকেই কেবল বর্জ্য মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে এটি কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। সুস্থ কিডনি রক্ত ছেঁকে যে প্রস্রাব তৈরি করে তার স্বাভাবিক রং হালকা হলুদ থেকে অ্যাম্বার বর্ণের হয়ে থাকে। এই রঙে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে তা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ বা শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রস্রাবের রঙের সাথে কিডনির সুস্থতার নিবিড় সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান যে ইউরোক্রোম নামের এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবকে হলুদ রং দেয়। তবে প্রস্রাব যদি চা বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য ছেঁকে বের করতে পারছে না। পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও যদি এই রং না বদলায় এবং সাথে ক্লান্তি বা শরীর ফোলার মতো উপসর্গ থাকে, তবে এটি কিডনি বিকলের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আবার লাল বা গোলাপি রঙের প্রস্রাব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হেমাটুরিয়া' বলা হয়, তা কিডনির ফিল্টার নষ্ট হওয়া, পাথর বা সংক্রমণের সংকেত দেয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দিলে তা 'প্রোটিনুরিয়া' বা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন লিক হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের একটি প্রধান সংকেত হিসেবে ধরা হয়। অন্যদিকে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব সাধারণত তীব্র পানিশূন্যতার ফল, যা দীর্ঘদিন বজায় থাকলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রঙ পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি জ্বর, পিঠে ব্যথা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া


শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১২:০২:৩৫
শীতের সাধারণ সর্দি-কাশি কি বড় বিপদের সংকেত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : সংগৃহীত

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ একে ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব না দিলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন গভীর উদ্বেগের চোখে। চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন এই সংক্রমণগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিশেষ করে সর্দি থেকে শুরু হওয়া সমস্যা কানের সংক্রমণ কিংবা হাঁপানির তীব্র আক্রমণে রূপ নিতে পারে।

গলা ব্যথার মতো সমস্যাকেও অনেকে ঠান্ডা বাতাসের ফল হিসেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা না হয়, তবে উচ্চমাত্রার জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথার পাশাপাশি বিরল ক্ষেত্রে বাতজ্বরের মতো জটিল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে অবহেলা করলে তা ব্রঙ্কাইটিস বা সরাসরি ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে নিরাময় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

শীতকালে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউটিআই (UTI)। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম পাওয়ায় মানুষ পানি পান কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রস্রাবের সংক্রমণ দ্রুত কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে গিয়ে সেখান দিয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামান্য ত্বকের সংক্রমণও শীতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু সম্পর্কে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তিকে কেবল সাধারণ জ্বর ভেবে বসে থাকা ঠিক হবে না। ফ্লু থেকে দ্রুত নিউমোনিয়া ও পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। তাই শীতকালীন যেকোনো অসুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা লক্ষণ বাড়তে থাকলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


শীতে গলার ব্যথায় ভুগছেন? টনসিলের ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১১:৫৬:৫১
শীতে গলার ব্যথায় ভুগছেন? টনসিলের ঝুঁকি এড়ানোর সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, টনসিল মূলত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ, যা নাক ও মুখ দিয়ে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ে। তবে এই টনসিলেই যখন জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টনসিলাইটিস’ বলা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শীতে টনসিলের সমস্যাকে কেবল সাধারণ ঠান্ডা মনে করে অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে।

টনসিলের সমস্যা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—অ্যাকিউট বা তীব্র এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাসজনিত কারণে এই সংক্রমণ হয়। তবে স্ট্রেপটোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে যদি টনসিল আক্রান্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে গলা ব্যথার সঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া এবং খাবার গিলতে মারাত্মক কষ্ট হতে পারে। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টনসিলের সংক্রমণ ছোঁয়াচে হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, লালা এমনকি একই পাত্রে খাবার খাওয়ার মাধ্যমেও এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়া (ফাইব্রোসিস) বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের মতো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই সংক্রমণের শুরুতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ঠান্ডা জাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম বা ফ্রিজের পানি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা জরুরি।

উপশমের জন্য চিকিৎসকরা কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন। দিনে অন্তত দুবার কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করলে গলার ফোলা ভাব দ্রুত কমে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করলে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে তা কাজ করে। মধু ও গ্রিন-টি পানের মাধ্যমেও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া সম্ভব। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


শীতে শরীর ভেতর থেকে গরম রাখবে যেসব খাবার

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৯:৩১:৩৭
শীতে শরীর ভেতর থেকে গরম রাখবে যেসব খাবার
ছবি : সংগৃহীত

শীতের আগমনে প্রকৃতিতে যেমন বদল আসে, তেমনি আমাদের শরীরেও দেখা দেয় নানা অস্বস্তি। হালকা কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের এই সময়ে সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো রোগগুলো যেন ঘরের কোণে ওত পেতে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের থালায়। সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে শরীর কেবল ভেতর থেকে উষ্ণই থাকে না, বরং এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তিও জোগায়।

শীতকালে শরীর গরম রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে শুষ্ক ফল ও বাদাম। কাজু, কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিস্ময়কর কাজ করে। বিশেষ করে খেজুরে থাকা আয়রন শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়। সকালে বা বিকেলে হালকা নাশতা হিসেবে এক মুঠো বাদাম বা কয়েকটি খেজুর আপনার শরীরে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দেবে। পাশাপাশি মধু হতে পারে আপনার শীতকালীন পরম বন্ধু। প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডার সমস্যা থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব।

তীব্র ঠান্ডায় এক বাটি গরম স্যুপ কেবল আরামই দেয় না, বরং সবজি ও ডালের পুষ্টি শরীরকে সতেজ রাখে। স্যুপে আদা, দারুচিনি বা জিরার মতো মসলা যোগ করলে তা রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরকে আরও উষ্ণ করে তোলে। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের অভাব মেটানোর পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। ওটস, গম বা যবের মতো সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

শীতকাল মানেই কেবল গরম কাপড় আর লেপের নিচে থাকা নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখাই আসল সুস্থতা। ঠান্ডা পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার এবং তিল, আটা ও গুড়ের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনি পুরো শীতজুড়ে থাকতে পারবেন প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, সঠিক পুষ্টিই হলো শীতকালীন সকল সাধারণ অসুখ থেকে আপনার সুরক্ষাকবচ।

সূত্র : Ganesh Diagnostic


শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২০:৪২:৪৩
শীতে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় জানুন
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালে অনেকের কাছেই মাথাব্যথা এক যন্ত্রণাদায়ক সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাস এবং ডিহাইড্রেশন বড় বিপদ ডেকে আনে। চিকিৎসকদের মতে শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ায় পানি পানের পরিমাণ কমে যায় যা শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে মাইগ্রেনকে ট্রিগার করে। এছাড়া শীতের দিন ছোট হওয়ায় সূর্যের আলো কম পাওয়া যায় যা শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের অভাব মাইগ্রেনের অন্যতম প্রধান কারণ।

মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো মাথা ও কান ঢেকে রাখা। বাইরে বের হলে মাফলার, টুপি কিংবা হুডি ব্যবহার করা জরুরি যাতে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস স্নায়ুতে আঘাত করতে না পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—বাদাম, পালংশাক ও কলা রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা বা কফি পানের অভ্যাস সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মাথাব্যথা বাড়াতে পারে। বিএসএমএমইউ-এর মতো বিশেষায়িত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা জানান যে শীতে বদ্ধ ঘরে রুম ফ্রেশনার বা ধূপের তীব্র সুগন্ধিও মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

ঘরোয়া উপায়ে স্বস্তি পেতে আদার রস বা আদার টুকরো পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। এছাড়া গরম পানিতে লবণ ও লেবুর রস বা মেন্থল দিয়ে ভাপ নিলে শ্বাসনালী পরিষ্কার হয় এবং মাথাব্যথা দ্রুত কমে। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম্পিউটার বা টিভির স্ক্রিনে কম সময় কাটানো মাইগ্রেন রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো খাবারে বা পরিবেশে ব্যথা বাড়ছে তা নিয়মিত ডায়েরিতে নোট করলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। তবে ব্যথা অসহনীয় হলে এবং ঘরোয়া উপায়ে না কমলে দ্রুত একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৫:৩০:৫৫
পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
ছবি: সংগৃহীত

পেটের আলসার এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধে, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে। এটি মূলত পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে সৃষ্ট একটি বেদনাদায়ক ক্ষত, যা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসিডের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে গভীরতর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, ফলে পরে রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

পাকস্থলীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিপাক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু যখন এই সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে যায়, তখন হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন সরাসরি টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। এর ফলেই পাকস্থলীতে তৈরি হয় খোলা ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার বলা হয়।

পেটের আলসার কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক

পেটের আলসার পেপটিক আলসারের একটি ধরন। এই শ্রেণির আলসারের মধ্যে খাদ্যনালীর আলসার ও ডুওডেনাল আলসারও অন্তর্ভুক্ত। পাকস্থলীর আস্তরণ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষত বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলসার গভীর হলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা রক্তাল্পতা বা হঠাৎ গুরুতর অবস্থার কারণ হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না

পেটের আলসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো পেটের মাঝখানে বা উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এই ব্যথা কুঁচকানো অনুভূতির মতো হয় এবং খাবার খেলে সাময়িকভাবে কমে আসে। আবার খালি পেটে বা গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়াও আলসারের একটি পরিচিত লক্ষণ।

এর পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য ও সার্বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে মাথা ঘোরা, অবসাদ ও শক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।

পেটের আলসারের প্রধান কারণ কী

একসময় ধারণা করা হতো যে মানসিক চাপ, ঝাল খাবার বা অনিয়মিত জীবনযাপনই পেটের আলসারের প্রধান কারণ। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগের পেছনে দুটি প্রধান জৈবিক কারণ দায়ী।

প্রথমত, এইচ পাইলোরি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু পাচনতন্ত্রে বাস করে এবং দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এই প্রদাহই আলসারের রূপ নেয়।

দ্বিতীয়ত, ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন ও নেপ্রোক্সেনের মতো NSAID দীর্ঘদিন সেবনে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনজনিত রোগ, গুরুতর শারীরিক চাপ, বড় অস্ত্রোপচার বা সংক্রমণের পরও পেটের আলসার দেখা দিতে পারে।

কীভাবে পেটের আলসার নির্ণয় করা হয়

পেটের আলসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, ব্যথার ধরন, ওষুধ সেবনের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এরপর রক্ত পরীক্ষা করে রক্তাল্পতা বা সংক্রমণের লক্ষণ খোঁজা হয়।

এইচ পাইলোরি শনাক্তের জন্য শ্বাস, রক্ত বা মলের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি পাকস্থলীর ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে ক্ষত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক হলে বায়োপসি নিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকিও যাচাই করা হয়।

পেটের আলসারের চিকিৎসা কীভাবে হয়

পেটের আলসারের চিকিৎসায় মূল লক্ষ্য হলো অ্যাসিডের ক্ষয় কমানো এবং পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করা। এজন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়, যা অ্যাসিড উৎপাদন কমায়।

যদি এইচ পাইলোরি সংক্রমণ ধরা পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বিত কোর্স দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোগীদের ক্যাফিন, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত মশলাদার ও অ্যাসিডিক খাবার এড়াতে বলা হয়।

ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ নিকোটিন আলসার নিরাময়কে বাধাগ্রস্ত করে। ব্যথানাশক হিসেবে NSAID এড়িয়ে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের দিকেও জোর দেওয়া হয়।

গুরুতর অবস্থায় কী হতে পারে

যদি আলসার থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা পাকস্থলীতে ছিদ্র তৈরি হয়, তাহলে রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে রক্তপাত বন্ধ করা বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি হলে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ঘরোয়া যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন

চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সহজপাচ্য ও কম অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, অল্প অল্প করে বারবার খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানো এতে সহায়ক।

ধ্যান, শ্বাস ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সাময়িকভাবে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলাও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

পেটের ব্যথা যদি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র থাকে, বমিতে বা পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, হঠাৎ অসহ্য ব্যথা শুরু হয় কিংবা মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

প্রতিরোধই সবচেয়ে নিরাপদ পথ

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার, ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন না খাওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পেটের আলসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পেটের আলসার একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলাযোগ্য নয় এমন রোগ। সময়মতো শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত