পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক

অনেকেই ভাজাপোড়া খাবার বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলছেন কিন্তু ওজন কমার বদলে মেদ বাড়ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক বিশাল খুরানার মতে এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে উচ্চমাত্রার কর্টিসল হরমোন। অ্যাড্রিনালিন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এই হরমোন মূলত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় সক্রিয় হয় বলে একে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। যদি আপনার কর্টিসলের মাত্রা প্রতিনিয়ত বেশি থাকে তবে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি মেজাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মন শান্ত না রাখলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না এবং পেটে বাড়তি মেদ জমার প্রবণতা অনেক গুণ বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদদের মতে আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস যেমন দুর্ঘটনার নেতিবাচক খবর পড়া অথবা ঘুমের অভাব নিঃশব্দে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি সম্পর্কের টানাপোড়েন অথবা অতিরিক্ত শরীরচর্চাও এই হরমোনের ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কর্টিসল যখন বেড়ে যায় তখন এটি পেশির ক্ষতি করতে শুরু করে এবং শরীরে দীর্ঘমেয়াদী চর্বি জমার প্রক্রিয়া সহজ করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে ডায়েটে প্রোটিন ও ফাইবারের সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। ওটস ও ব্রাউন রাইসের মতো আঁশযুক্ত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রেখে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়তা করে।
তাটকা সবজি এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল দুশ্চিন্তা কমাতে এবং হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পেশির ক্ষয় রোধে ডাল এবং পনির বা ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। এছাড়া আখরোট ও কাঠবাদামের মতো বাদামে থাকা ম্যাগনেশিয়াম মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে যা পরোক্ষভাবে কর্টিসলের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফিন বা চিনি এড়িয়ে চললে হরমোনের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ডায়েটের সাথে মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে পারলে মেদ কমানোর যাত্রা সফল হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
আজকের ব্যস্ত জীবনে বায়ুদূষণ এবং ভেজাল প্রসাধনীর ভিড়ে ত্বকের সজীবতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘরোয়া উপাদানের সঠিক ব্যবহার এই সমস্যা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হতে পারে। বিশেষ করে উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য বেসন এবং হলুদের মিশ্রণ প্রাচীনকাল থেকেই কার্যকর প্রমাণিত। দুই চা চামচ বেসন এবং সামান্য হলুদের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে তৈরি ঘন পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখলে ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়। এটি শুধু ত্বককে উজ্জ্বলই করে না বরং ব্রণের পুরনো দাগ হালকা করতেও সাহায্য করে। হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়ার পর ত্বকের পরিবর্তনটি স্পষ্ট বোঝা যায়।
যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং মাঝেমধ্যেই ব্রণের উপদ্রব দেখা দেয় তাঁদের জন্য মুলতানি মাটি একটি অপরিহার্য উপাদান। দুই চা চামচ মুলতানি মাটির সাথে প্রয়োজনমতো গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে। এই প্যাকটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং মুখকে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও সতেজ করে তোলে। এছাড়া চন্দন ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণটি রুক্ষ ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আধা চা চামচ চন্দন গুঁড়োর সাথে দুই চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক নরম ও মসৃণ হয় যা ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ব্রণের স্থায়ী সমাধান এবং পরিষ্কার ত্বক পেতে নিম পাতার বিকল্প নেই। নিম পাতা পিষে তার সাথে টক দই মিশিয়ে তৈরি প্যাকটি মুখে লাগালে ত্বকের জীবাণু ধ্বংস হয় এবং ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায়। নিয়মিত এই ভেষজ প্যাকগুলো ব্যবহারে ত্বক শুধু প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর হয় না বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতাও নিশ্চিত করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া এই সমাধানগুলো ব্যবহার করলে দামী পার্লারের খরচ যেমন বাঁচে তেমনি রাসায়নিকের ভয় থেকেও নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
শীতকালে ঠোঁটের চামড়া অত্যন্ত পাতলা হয়ে যায়, ফলে খুব দ্রুত তা ফেটে যায় এবং উজ্জ্বলতা হারায়। সাধারণ লিপবাম অনেক সময় ঠোঁটের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছাতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, নারকেল তেলের প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ঠোঁটকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। তবে ভালো ফল পেতে নারকেল তেলের সঙ্গে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
১. শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। নারকেল তেলের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস অথবা ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে ঠোঁটে হালকা মালিশ করুন। এটি ঠোঁটের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঠোঁটকে রাখে সজীব ও কোমল।
২.বাজারের কেমিক্যালযুক্ত লিপবাম ছেড়ে ঘরেই তৈরি করতে পারেন প্রাকৃতিক লিপবাম। এক চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে দুই চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে একটি ছোট পাত্রে ভরে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এটি জমার পর চমৎকার লিপবাম হিসেবে কাজ করবে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে শুধু ঠোঁট ফাটা রোধ হয় না, বরং ঠোঁটের জন্মগত কালচে ভাব দূর হয়ে যায়।
৩.যাঁদের ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক এবং চামড়া ওঠার সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য শিয়া বাটার ও নারকেল তেলের মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর। এক চামচ শিয়া বাটারের সঙ্গে এক চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে অল্প আঁচে হালকা গরম করে মিশ্রণটি গলিয়ে নিন। এটি ঠোঁট ও তার আশেপাশের চামড়ায় নিয়মিত মাখলে দ্রুত কোমলতা ফিরে আসে।
বিশেষ টিপস
যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার ত্বক সেটির প্রতি সংবেদনশীল নয়। নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার আপনার ঠোঁটকে রাখবে নরম ও আকর্ষণীয়।
লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
লিংকডইন প্রোফাইলকে বর্তমান সময়ে আপনার ব্যক্তিত্বের ডিজিটাল প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি পরিষ্কার ও হাসিখুশি প্রোফাইল ছবি এবং কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ব্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে শুরুতেই নিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোফাইলের হেডলাইন অংশটি। সেখানে শুধু বর্তমান পদবি না লিখে আপনি ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষ যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং বা পাবলিক স্পিকিং—সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। সামারি বা ‘অ্যাবাউট’ অংশে আপনার অভিজ্ঞতা ও বড় অর্জনগুলোকে একটি ছোট গল্পের মতো করে তুলে ধরলে তা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আপনাকে আলাদা করবে। এছাড়াও প্রোফাইলে আপনার কাজ সম্পর্কিত অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্কিল যোগ করা প্রয়োজন যা অ্যালগরিদমের নজরে আসতে সাহায্য করে।
সঠিক চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য লিংকডইনের অ্যাডভান্সড জব ফিল্টার ও অ্যালার্ট অপশনটি ব্যবহার করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। লোকেশন, বেতন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি আপনার পছন্দের পদের জন্য জব অ্যালার্ট চালু রাখতে পারেন। এতে নতুন কোনো সার্কুলার আসার সাথে সাথেই আপনার কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। তবে মনে রাখা জরুরি যে সরাসরি আবেদনের চেয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই বেশি থাকে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের সাথে আগে থেকেই যুক্ত হওয়া এবং কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় একটি ছোট ও মার্জিত বার্তা পাঠানো একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
লিংকডইনে শুধু যুক্ত থাকলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকা এবং নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা প্রয়োজন। অন্যদের পোস্টে গঠনমূলক মন্তব্য করলে লিংকডইনের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইলটি নিয়োগকারীদের ফিডে বেশি প্রদর্শন করবে। এছাড়াও পুরোনো চাকরির তথ্যের খোঁজ রাখা আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে বিগত বছরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ধরন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন তারা বছরের কোন সময়ে বা কী ধরণের যোগ্যতায় কর্মী নিয়োগ দেয়। অনেকের নিয়োগের অভিজ্ঞতা পড়ে আপনি ইন্টারভিউ সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ‘ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে। তবে আবেদনের সময় আপনার কাজ অনুযায়ী অন্তত চার ধরণের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি তৈরি করে রাখা উচিত যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক সিভিটি আপলোড করা যায়। আবেদনকৃত চাকরিগুলোর একটি স্প্রেডশিট বা তালিকা করে রাখলে আপনি আপনার প্রগতির ওপর নজর রাখতে পারবেন। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে লিংকডইনকে কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং একটি পেশাদার নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আপনার সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার।
সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
সুস্থ থাকার জন্য কেবল বিশুদ্ধ পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই পানি যে পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেটিও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য স্টিলের বোতল সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সাধারণত পানির সাথে কোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না এবং পানির স্বাভাবিক স্বাদ বা গন্ধও পরিবর্তন করে না। এটি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি এতে চা বা কফির মতো গরম পানীয় রাখা যায় বিধায় অফিস বা ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ। স্টিলের বোতল সহজে পরিষ্কার করা যায় বলে এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।
অন্যদিকে হালকা ও সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই অ্যালুমিনিয়ামের বোতল ব্যবহার করেন যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে অ্যালুমিনিয়াম বিশেষ করে গরম বা ঠান্ডা তরলের সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে পানি পান করলে এই ধাতুর কণা শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা তৈরি করার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়ামের বোতল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সংস্কৃতিতে তামা বা মাটির পাত্রে পানি রাখার প্রচলন ছিল এবং বর্তমানে চিকিৎসকরাও তামার বোতলে পানি রাখার কিছু চমৎকার উপকারিতার কথা বলছেন। তামার প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পানিকে প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তবে তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা হলো এতে কেবল সাধারণ পানি রাখা উচিত। লেবু পানি বা অন্য কোনো অ্যাসিডযুক্ত পানীয় তামার সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পানির বোতল কেনার সময় সেটি অবশ্যই ‘ফুড গ্রেড’ কি না তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ধাতব বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি কারণ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে বোতলের ভেতরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার স্তর জমে যেতে পারে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যে প্রতিদিনের ব্যবহারের পর বোতলটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া উচিত যাতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সঠিক পাত্রে পানি পান করা কেবল তৃষ্ণা মেটানো নয় বরং এটি রোগমুক্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ শরীর নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার।
ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
শীতের শুরু থেকেই কমবেশি সবাই খুকখুকে কাশির সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ওষুধ খেয়েও স্বস্তি মেলে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে কাশি কেবল ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় না। বর্তমানের ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ এই শুষ্ক কাশির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন পরিবেশের বিষাক্ত ধূলিকণা ও ধোঁয়া সরাসরি নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তা শ্বাসনালিতে তীব্র জ্বালা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসনালির লিগামেন্ট ও টিস্যুগুলোতে প্রদাহ দেখা দেয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হলো দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক কাশি। এই ধরণের কাশিতে সচরাচর কফ থাকে না, তবে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকে জ্বালাপোড়া করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ভাইরাসজনিত কাশি অর্থাৎ সর্দি বা ফ্লুর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ভাইরাসের সংক্রমণে কাশির পাশাপাশি সাধারণত গলাব্যথা, জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শারীরিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। এই ধরণের কাশিতে প্রায়ই কফ বা শ্লেষ্মা জমতে দেখা যায়। ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি শুরুতে হালকা থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সংক্রমণ কমে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই তা উপশম হয়। তবে বিপত্তি ঘটে তখন, যখন পরিবেশে দূষণের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত থাকে। কারণ দূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং যতক্ষণ পরিবেশে বিষাক্ত বাতাস থাকবে ততক্ষণ এই কাশি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে।
"বায়ুদূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি নিরাময়ে কেবল ওষুধ যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশের সুরক্ষা ও মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব অনেক বেশি।" — বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
কাশি কত দিন স্থায়ী হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদি আপনার কাশি টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে কাশি থাকলে তা নিমোনিয়ার লক্ষণও হতে পারে। ২০২৬ সালের এই বৈরি জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে বাইরে বের হওয়ার সময় নিয়মিত উন্নতমানের মাস্ক ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা আপনার ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলেই বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
পুষ্টিবিদদের মতে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন মূলত তাঁর শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ নিয়মে প্রতি কেজি ওজনের জন্য শূন্য দশমিক আট গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির ওজন যদি সত্তর কেজি হয়, তবে তাঁর জন্য দিনে পঞ্চান্ন থেকে ছাপ্পান্ন গ্রাম প্রোটিনই পর্যাপ্ত। অথচ অনেকে ফিটনেসের দোহাই দিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। এই বাড়তি প্রোটিন শরীর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, ফলে তা কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে খাবারের পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন কারণ তাদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। চার থেকে আট বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন বিশ থেকে পঁচিশ গ্রাম এবং নয় থেকে তেরো বছর বয়সীদের জন্য ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। কৈশোরে অর্থাৎ চৌদ্দ থেকে আঠারো বছর বয়সে ছেলেদের জন্য পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন গ্রাম এবং মেয়েদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের বদলে ডিম, দুধ, ডাল ও মাছের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত যা হাড় ও পেশির গঠনে সঠিক ভূমিকা রাখে।
২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষদের ক্ষেত্রে কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারিত হয়। সাধারণত পুরুষদের জন্য দিনে গড়ে পঞ্চান্ন থেকে ষাট গ্রাম এবং নারীদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। তবে যারা নিয়মিত ভারি ব্যায়াম বা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চাহিদা কিছুটা বেশি হতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের গঠন ও শিশুর পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখা আবশ্যক। বয়স ষাট পেরোনোর পর শরীরের পেশি ক্ষয় হতে শুরু করে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের প্রতি কেজিতে এক থেকে এক দশমিক দুই গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন যাতে তাঁরা শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে কর্মক্ষম থাকতে পারেন।
প্রোটিনের আদর্শ উৎস হিসেবে ডিম, মাছ, মুরগির মাংসের পাশাপাশি উদ্ভিদজাত উৎস যেমন ডাল, ছোলা, সয়াবিন ও বিভিন্ন ধরণের বাদাম অত্যন্ত কার্যকর। আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে মনে রাখা প্রয়োজন যে 'বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা'—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব বিপাকীয় ক্ষমতা ও চাহিদা ভিন্ন। তাই নিজের বয়স, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরণ বুঝে পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিত প্রোটিন গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার চাবিকাঠি।
ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে
আঁচিল (Wart) মূলত ত্বকের একটি ভাইরাসজনিত সমস্যা, যা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) দ্বারা সৃষ্ট। এই ভাইরাস ত্বকের উপরের স্তরে সংক্রমণ ঘটিয়ে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির মাধ্যমে ছোট, শক্ত বা খসখসে গুটি তৈরি করে। সাধারণত হাত-পা, আঙুল, পায়ের তলা, হাঁটু কিংবা মুখমণ্ডলে আঁচিল বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আঁচিল ব্যথাহীন হলেও এটি দৃষ্টিকটু, চুলকানিযুক্ত বা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, আঁচিল সংক্রামক হতে পারে। অর্থাৎ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বা একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যদি ত্বকে ক্ষত বা কাটা অংশ থাকে।
ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করার প্রবণতা কেন বাড়ছে
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার আগে অনেকেই প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া উপায় বেছে নেন। এর প্রধান কারণ হলো সহজলভ্যতা, কম খরচ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত লোকজ বিশ্বাস। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সব আঁচিলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
আপেল সিডার ভিনেগার: সবচেয়ে জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত উপায়
আপেল সিডার ভিনেগারকে আঁচিল দূর করার সবচেয়ে আলোচিত ঘরোয়া উপায় হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যাসিড আঁচিলের কোষকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত আঁচিল শুকিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা হলো, দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত ঘনত্বে ব্যবহার করলে ত্বকের সুস্থ অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বা মুখের মতো সংবেদনশীল স্থানে এটি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।
কলার খোসা: ধীরগতির কিন্তু তুলনামূলক নিরাপদ
কলার খোসার ভেতরের অংশে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান আঁচিলকে ধীরে ধীরে নরম করতে পারে। এটি কোনো অ্যাসিডিক বিক্রিয়া তৈরি না করায় ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি কম। তবে ফল পেতে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার প্রয়োজন, যা অনেকের ধৈর্যের পরীক্ষাও নেয়।
রসুন: অ্যান্টিভাইরাল হলেও ঝুঁকিপূর্ণ
রসুনের অ্যান্টিভাইরাল গুণের কারণে এটি আঁচিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুন ভাইরাসের কার্যক্ষমতা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাঁচা রসুন সরাসরি ত্বকে লাগালে রাসায়নিক পোড়া (chemical burn) হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, রসুন ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতা স্থায়ী দাগ বা ক্ষতের কারণ হতে পারে।
অ্যালোভেরা ও ভিটামিন ই: আরাম ও পুনর্গঠনের সহায়ক
অ্যালোভেরা জেল ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এটি আঁচিল পুরোপুরি তুলে ফেলতে না পারলেও চুলকানি, জ্বালা ও ব্যথা কমাতে কার্যকর।
অন্যদিকে ভিটামিন ই ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে আঁচিলের চারপাশের ত্বক সুস্থ থাকে, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।
স্যালিসিলিক অ্যাসিড: ঘরোয়া হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত
স্যালিসিলিক অ্যাসিড হলো এমন একটি উপাদান, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে আঁচিল দূর করতে বহুল ব্যবহৃত। এটি আঁচিলের উপরিভাগের মৃত কোষ ধীরে ধীরে তুলে দেয়। অনেক ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধেও এটি থাকে।
ঘরোয়া বিকল্প হিসেবে অ্যাস্পিরিন গুঁড়ো করে ব্যবহার করার প্রচলন থাকলেও চিকিৎসকেরা এটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
আঁচিল কি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে আঁচিল কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এর কারণ হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে সব আঁচিল এমনভাবে সেরে যায় না।
কখন ঘরোয়া উপায় বাদ দিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পরিস্থিতিতে ঘরোয়া চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—
আঁচিল যদি দ্রুত বড় হয়
ব্যথা, রক্তপাত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়
মুখ, চোখ, যৌনাঙ্গ বা পায়ের তলায় আঁচিল হয়
ডায়াবেটিস বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কোনো ফল না পেলে
চিকিৎসকদের চূড়ান্ত পরামর্শ
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, আঁচিল দূর করার ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় কখনোই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প নয়। এগুলো সর্বোচ্চ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মেডিকেল চিকিৎসাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত পথ।
সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল
সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ সাশ্রয় করার প্রথম এবং প্রধান ধাপ শুরু হয় চুলা জ্বালানোর অনেক আগেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চুলা জ্বালিয়ে রেখে গৃহিণীরা সবজি কাটা বা মসলা বাটার কাজ করেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি অভ্যাস। বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো রান্নার যাবতীয় উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা। সবজি কাটা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় মসলা হাতের কাছে থাকলে রান্নার সময় অনেকটা কমে আসে এবং গ্যাসের অহেতুক অপচয় রোধ হয়। একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে ঠিক কোনটির পর কোনটি রান্না হবে তা আগে থেকেই ঠিক করা যায়, যা চুলার কার্যকর ব্যবহারের সময়কে সংকুচিত করে।
রান্নার সময় আগুনের আঁচ বা ফ্লেম নিয়ন্ত্রণ করা গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। অনেকেই মনে করেন উচ্চ তাপে রান্না করলে কাজ দ্রুত হবে, কিন্তু বাস্তবে উচ্চ তাপ খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে এবং আগুনের একটি বড় অংশ পাত্রের চারপাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়। তাই মাঝারি আঁচে রান্না করলে তাপশক্তি পাত্রের নিচে সরাসরি কাজ করে এবং জ্বালানি খরচ অনেকাংশে কমে যায়। এর পাশাপাশি রান্নার পাত্রটি চুলার বার্নারের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। বার্নারের চেয়ে পাত্র ছোট হলে আগুনের শিখা বাইরে চলে যায়, যা সরাসরি জ্বালানি অপচয়ের নামান্তর।
বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কেবল রান্নার গতি বাড়ায় না, বরং গ্যাসের দহন প্রক্রিয়াকেও নির্ভুল রাখে। যদি চুলার আগুন নীল না হয়ে লালচে বা হলুদ রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে বার্নারে ময়লা জমেছে এবং গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সামান্য গরম পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করলে আগুনের তীব্রতা সঠিক থাকে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রান্নার পাত্রটি চুলায় দেওয়ার আগে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া। ভেজা হাঁড়ি বা পাতিল চুলায় রাখলে সেই পানি বাষ্পীভূত করতেই অনেকটা গ্যাস খরচ হয়ে যায়, যা শুকনো পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই এড়ানো সম্ভব।
আধুনিক রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার এবং ঢেকে রাখার পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর। ডাল বা মাংসের মতো সময়সাপেক্ষ খাবারে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে অর্ধেকেরও কম সময়ে রান্না শেষ করা যায়। এছাড়া খোলা পাত্রে রান্না করলে ভেতরের তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করা উচিত। ঢাকনা ব্যবহারের ফলে পাত্রের ভেতরের আর্দ্রতা ও তাপ অটুট থাকে, যা রান্নার গতিকে ত্বরান্বিত করে। ঐতিহ্যবাহী একটি পদ্ধতি হিসেবে ভারী তলার পাত্রের নিচে তাপ ধরে রাখার জন্য পাথর বসানোর কৌশলটিও অনেকে ব্যবহার করেন, যা অল্প গ্যাসে দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো মাস শেষে আপনার সিলিন্ডার গ্যাসের স্থায়িত্ব অনেক দিন বাড়িয়ে দেবে।
সূত্র: দ্য বেটার ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া
গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়
পানির ট্যাংককে বাইরের শীতল হাওয়া থেকে বাঁচাতে বাড়িতে পড়ে থাকা প্যাকেজিং বাবল র্যাপ দারুণ একটি প্রাকৃতিক হিটার হিসেবে কাজ করতে পারে। বাবল র্যাপের ভেতরের ছোট ছোট বাতাসের বুদবুদগুলো ট্যাংককে বাইরের শীতল পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে। অন্তত দুই বা তিন স্তরে ট্যাংকটি শক্ত করে মুড়িয়ে রাখলে রাতের শিশির বা উত্তুরে বাতাস ট্যাংকের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে পৌঁছাতে পারে না। এছাড়া খোলা ছাদে অবস্থিত ট্যাংকগুলোকে একটি টারপলিন, কাঠের শেড কিংবা ছোট টিনের চাল দিয়ে ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামাঞ্চলে অনেক সচেতন মানুষ তাঁদের ট্যাংকগুলোকে পুরনো চটের বস্তা বা মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন, যা রাতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা থেকে পানিকে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পানির তাপমাত্রা প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়াতে আরও একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো রঙের ব্যবহার। পানির ট্যাংকটি যদি কালো, গাঢ় নীল বা গাঢ় বাদামি রঙে রাঙানো হয়, তবে তা দ্রুত সূর্যের তাপ শোষণ করতে সাহায্য করে। গাঢ় রং দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় সারা দিন প্রখর সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ট্যাংকের পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর জন্য কোনো বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ বা কৃত্রিম সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া ছাদের যে অংশে দিনের সবচেয়ে বেশি সময় রোদ থাকে, ট্যাংকটি সেই নির্দিষ্ট দিকে স্থাপন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সূর্যের এই প্রাকৃতিক উত্তাপ পানির তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় যা সকালে গোসলের কষ্ট অনেকাংশে কমিয়ে আনে।
দিনের বেলা শোষিত এই প্রাকৃতিক তাপ যাতে রাতে বেরিয়ে না যায়, তার জন্য সূর্যাস্তের পর ট্যাংকটি পুনরায় কোনো মোটা কাপড় বা পুরনো কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভ্যাসটি গড়ে তোলা জরুরি। এই পদ্ধতিটি যেমন সস্তা তেমনি দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব। শীতের তীব্রতা থেকে মুক্তি পেতে এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করতে এই ছোট ছোট ঘরোয়া কৌশলগুলো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হতে পারে। সামান্য সচেতনতা আর দুই মিনিটের এই পরিশ্রম সারা দিনের জন্য আপনার ব্যবহৃত পানিকে ব্যবহারযোগ্য ও আরামদায়ক উষ্ণতায় ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
সূত্র : নিউজ ১৮
পাঠকের মতামত:
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
- জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ: তীব্র শীতে কর্মহীন হাজারো মানুষ
- লুটপাট ও দুর্নীতির ভয় কাটিয়ে ব্যাংকমুখী গ্রাহক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
- খেলা প্রেমীদের জন্য টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- লাশ আর গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিবেকের দরজায় ইরান
- জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
- প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
- মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট: বক্সিং থেকে নাচ—সবই করছে রোবট!
- দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
- শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঁচাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করুন: চরমোনাই পীর
- একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি
- আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা জারি
- আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর? বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে বড় খবর
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব
- বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি
- আইসিসিকে নতুন শর্ত দিয়েছে বিসিবি: বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- প্রধান বোর্ডে আজ লেনদেন ও ট্রেডের পূর্ণ চিত্র প্রকাশ
- জুলাই বিপ্লব ইস্যুতে ইবিতে আবারও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু
- বিগ ব্যাশে রিশাদের দাপট, প্লে-অফে হোবার্ট
- এবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের
- ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু নাগরিকের জামায়াতে যোগদান
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১১ জানুয়ারি ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বাগেরহাটে এনসিপির শীর্ষ ১২ নেতার একযোগে পদত্যাগ
- উৎপাদন বন্ধ একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির, ডিএসইর পরিদর্শন
- ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর হালনাগাদ এনএভি বিশ্লেষণ
- দুই ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে কুপন রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- আগের দিনের উত্থান মুছে দিল আজকের দরপতন
- বোমার বিস্ফোরণে কাঁপছে সীমান্ত: বাসিন্দাদের কান্নায় ভারী বাতাস
- রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
- নাসাল স্প্রে কি নাকের বারোটা বাজাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কতা
- বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন তাহসান
- শীতের সবজিতে নাস্তায় বৈচিত্র্য: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল ললিপপ
- লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ, বাজারে প্রতিক্রিয়া
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- দুপুরের বাজার চিত্র, এগিয়ে কারা পিছিয়ে কারা
- এপেক্স ফুটওয়্যারের ডিভিডেন্ড আপডেট
- যেসব এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- সরকারি সিকিউরিটিজে লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা








