লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:০৬:৫৯
লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
ছবি : সংগৃহীত

লিংকডইন প্রোফাইলকে বর্তমান সময়ে আপনার ব্যক্তিত্বের ডিজিটাল প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি পরিষ্কার ও হাসিখুশি প্রোফাইল ছবি এবং কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ব্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে শুরুতেই নিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোফাইলের হেডলাইন অংশটি। সেখানে শুধু বর্তমান পদবি না লিখে আপনি ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষ যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং বা পাবলিক স্পিকিং—সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। সামারি বা ‘অ্যাবাউট’ অংশে আপনার অভিজ্ঞতা ও বড় অর্জনগুলোকে একটি ছোট গল্পের মতো করে তুলে ধরলে তা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আপনাকে আলাদা করবে। এছাড়াও প্রোফাইলে আপনার কাজ সম্পর্কিত অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্কিল যোগ করা প্রয়োজন যা অ্যালগরিদমের নজরে আসতে সাহায্য করে।

সঠিক চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য লিংকডইনের অ্যাডভান্সড জব ফিল্টার ও অ্যালার্ট অপশনটি ব্যবহার করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। লোকেশন, বেতন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি আপনার পছন্দের পদের জন্য জব অ্যালার্ট চালু রাখতে পারেন। এতে নতুন কোনো সার্কুলার আসার সাথে সাথেই আপনার কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। তবে মনে রাখা জরুরি যে সরাসরি আবেদনের চেয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই বেশি থাকে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের সাথে আগে থেকেই যুক্ত হওয়া এবং কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় একটি ছোট ও মার্জিত বার্তা পাঠানো একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

লিংকডইনে শুধু যুক্ত থাকলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকা এবং নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা প্রয়োজন। অন্যদের পোস্টে গঠনমূলক মন্তব্য করলে লিংকডইনের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইলটি নিয়োগকারীদের ফিডে বেশি প্রদর্শন করবে। এছাড়াও পুরোনো চাকরির তথ্যের খোঁজ রাখা আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে বিগত বছরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ধরন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন তারা বছরের কোন সময়ে বা কী ধরণের যোগ্যতায় কর্মী নিয়োগ দেয়। অনেকের নিয়োগের অভিজ্ঞতা পড়ে আপনি ইন্টারভিউ সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ‘ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে। তবে আবেদনের সময় আপনার কাজ অনুযায়ী অন্তত চার ধরণের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি তৈরি করে রাখা উচিত যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক সিভিটি আপলোড করা যায়। আবেদনকৃত চাকরিগুলোর একটি স্প্রেডশিট বা তালিকা করে রাখলে আপনি আপনার প্রগতির ওপর নজর রাখতে পারবেন। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে লিংকডইনকে কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং একটি পেশাদার নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আপনার সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার।


রোজায় প্রশান্তি জোগাবে স্বাস্থ্যকর খরমুজের শরবত: জেনে নিন তৈরির সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৭:২৪:১০
রোজায় প্রশান্তি জোগাবে স্বাস্থ্যকর খরমুজের শরবত: জেনে নিন তৈরির সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার পর শরীরকে দ্রুত সতেজ ও চনমনে করতে ফলের শরবতের কোনো বিকল্প নেই। ইফতারের টেবিলে সহজে তৈরি করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর পানীয়গুলোর মধ্যে খরমুজের শরবত এখন অনেকেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। খরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ ও সি যা সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এই শরবতটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে দ্রুত শক্তি জোগাতেও বেশ সহায়ক। ঘরে থাকা সামান্য কিছু উপকরণ দিয়ে খুব অল্প সময়েই এই সুস্বাদু পানীয়টি প্রস্তুত করা সম্ভব যা ইফতারের আয়োজনে বাড়তি তৃপ্তি যোগাবে।

পুষ্টিকর এই শরবতটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে দুই কাপ ছোট টুকরো করা খরমুজ, দুই কাপ ঠাণ্ডা পানি, স্বাদমতো চিনি, মধু এবং গুঁড়া দুধ। প্রথমে খরমুজের খোসা ছাড়িয়ে এবং ভেতর থেকে বীজ ফেলে দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। এরপর একটি ব্লেন্ডার জারে পরিমাণমতো পানি, খরমুজের টুকরোগুলো, চিনি, গুঁড়া দুধ ও মধু একসাথে নিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। মিশ্রণটি একদম মসৃণ হয়ে এলে এটি গ্লাসে ঢেলে নিতে হবে।

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে পরিবেশনের সময় গ্লাসে পছন্দমতো আইস কিউব বা বরফ কুচি দিয়ে দিলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিবেশনের সৌন্দর্য বাড়াতে গ্লাসের ওপর খরমুজের ছোট টুকরো বা তাজা পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে যা শরবতটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সুঘ্রাণযুক্ত করে তুলবে। ইফতারের পাতে এমন একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় ক্লান্তি দূর করে রোজাদারকে প্রশান্তি দিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।

/আশিক


রোজায় পানিশূন্যতা বিদায় হবে নিমিষেই: সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই জাদুকরী নিয়ম

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১২:১৭:৫৮
রোজায় পানিশূন্যতা বিদায় হবে নিমিষেই: সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই জাদুকরী নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে শরীরে পানির অভাব বা পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ে সচেতন থাকলে খুব সহজেই এই শারীরিক অস্বস্তি এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। পানিশূন্যতা প্রতিরোধের প্রথম এবং প্রধান উপায় হলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে সেহরিতে অন্তত এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু ইফতারের সময় একবারে প্রচুর পানি পান না করে বরং ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত জেগে থাকা পুরো সময়টায় অল্প অল্প করে পানি পান করা বেশি কার্যকর। তবে খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা খাওয়ার মাঝখানে বেশি পানি পান না করাই ভালো কারণ এতে হজমে সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাই খাবার ও পানি পানের মাঝে অন্তত ২০ মিনিট বিরতি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

শরীরকে ভেতর থেকে সজীব রাখতে পানিসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন শসা, লেটুস এবং তরমুজ খাদ্যতালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি ইফতারে ডাবের পানি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিও জোগাবে এবং ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর শরবত, স্যুপ বা স্মুদি শরীরকে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করবে।

রোজার সময় কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলাও পানিশূন্যতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চা, কফি এবং কোমল পানীয় কম পান করাই শ্রেয় কারণ এগুলোতে থাকা ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এসব খাবার তৃষ্ণা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ইফতারে অনেকেরই খুব ঠান্ডা পানীয় পান করার প্রতি আগ্রহ থাকলেও শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের জন্য হালকা গরম পানি বেশি উপকারী। হালকা গরম পানি দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের কোষগুলো ঠান্ডা পানির তুলনায় এই তরল অনেক সহজে শোষণ করতে পারে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমিয়ে রমজানের ইবাদতগুলো অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে পালন করা সম্ভব হবে।

/আশিক


ওজন কমাতে চান না কি মেদ ঝরাতে? দই ও ঘোলের গুণাগুণ জেনে নিন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১২:০৭:৪৮
ওজন কমাতে চান না কি মেদ ঝরাতে? দই ও ঘোলের গুণাগুণ জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

পেট ভালো রাখতে দইয়ের কোনো বিকল্প নেই এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য দইয়ের প্রোবায়োটিক অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে পেট খারাপ হলে বা হজমের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকেরা অনেক সময় দইয়ের চেয়ে দইয়ের ঘোল খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে আসলে কোনটি বেশি সেরা।

টক দই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার যা সকালের নাশতায় হোক কিংবা দুপুরের খাবারের পর, এক বাটি খেলে হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক হলো মূলত কিছু ভালো ব্যাকটেরিয়া যা সরাসরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখে। তবে পুষ্টিগুণের বিচারে এবং হজম করার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দই ও ঘোলের উপকারিতা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন রকম হতে পারে।

সহজপাচ্য হওয়ার দিক থেকে দইয়ের ঘোলের অবস্থান দইয়ের চেয়েও ওপরে এবং যারা নিয়মিত অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য ঘোল বেশি উপকারী। দইয়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২ থাকে যা হাড় মজবুত করতে এবং পেশি গঠনে সহায়তা করে, তাই শিশুদের হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য দই বেশ কার্যকর। এছাড়া যারা ওজন কমাতে চাইছেন কিন্তু গ্যাস-অম্বলের সমস্যা নেই, তাদের জন্য দই খাওয়া বেশি লাভজনক।

অন্যদিকে বদহজম ও ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য দইয়ের বদলে ঘোলই বেশি যশোযোগ্য। ঘোলে ক্যালরি ও ফ্যাটের পরিমাণ দইয়ের চেয়ে কম থাকায় স্থূলত্ব বা অতিরিক্ত ওজনের মানুষের জন্য ঘোল নিয়মিত খেলে মেদ দ্রুত ঝরবে। বিশেষ করে যাদের ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য দইয়ের চেয়ে ঘোল অনেক বেশি নিরাপদ। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁপানি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের দই এড়িয়ে চলা উচিত কারণ দই শ্লেষ্মা বাড়িয়ে দিতে পারে, আর সেক্ষেত্রে দইয়ের বদলে ঘোল খেলে তারা বেশি উপকার পাবেন।

/আশিক


গ্যাসের গন্ধ পেলেই যা করবেন: সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এড়াতে জরুরি টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৯:৪৩:০৪
গ্যাসের গন্ধ পেলেই যা করবেন: সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এড়াতে জরুরি টিপস
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন রান্নাবান্নার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার। পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে। তবে যথাযথ সচেতনতার অভাবে প্রায়ই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে এবং নিয়মিত তদারকি করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষায় এলপিজি ব্যবহারের জরুরি কিছু সতর্কতা নিচে তুলে ধরা হলো

সিলিন্ডার কেনার সময় সতর্কতা

সব সময় অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করুন। ডেলিভারির সময় অবশ্যই সিলিন্ডারের সিল (Seal) ও সেফটি ক্যাপ পরীক্ষা করে নিন; সিল ভাঙা থাকলে তা গ্রহণ করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিলিন্ডারের গায়ে লেখা পরীক্ষার মেয়াদ (DFT) দেখে নেওয়া। মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সিলিন্ডার লাগানোর পর সাবানের ফেনা দিয়ে লিক পরীক্ষা করুন, কখনোই দিয়াশলাই বা আগুনের শিখা ব্যবহার করবেন না।

রান্নার সময় ও রক্ষণাবেক্ষণ

রান্নাঘর সব সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখুন। চুলার পাশে প্লাস্টিক, কাগজ বা কাপড়ের মতো দাহ্য বস্তু রাখা থেকে বিরত থাকুন। রান্নার সময় ঢিলেঢালা পোশাক এড়িয়ে চলা এবং রান্না শেষে রেগুলেটরের নব বন্ধ করা একটি ভালো অভ্যাস। এছাড়া প্রতিবছর চুলার পাইপ বা সুরক্ষা টিউব পরিবর্তন করা এবং উন্নত মানের (ISI সম্বলিত) রেগুলেটর ও চুলা ব্যবহার করা উচিত। মনে রাখবেন, সিলিন্ডার সব সময় সোজা অবস্থায় খোলা ও শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়

যদি ঘরে গ্যাসের গন্ধ পান, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত রেগুলেটর ও চুলার নব বন্ধ করে দিন। সব দরজা-জানালা খুলে দিন যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— গ্যাসের গন্ধ পাওয়া অবস্থায় বিদ্যুতের সুইচ, ফ্যান বা লাইট স্পর্শ করবেন না। কারণ ক্ষুদ্র একটি স্ফুলিঙ্গ থেকেও বড় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। প্রয়োজন হলে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে গিয়ে মেইন সুইচ বন্ধ করুন এবং দ্রুত ডিস্ট্রিবিউটর বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন।

/আশিক


রোজায় ওজন কমাতে চান? ইফতারে কলা খাওয়ার ৫টি দারুণ কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৭:২৫:৪৭
রোজায় ওজন কমাতে চান? ইফতারে কলা খাওয়ার ৫টি দারুণ কারণ
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় আমাদের শরীর থাকে পরিশ্রান্ত এবং পুষ্টির ক্ষুধায় কাতর। এই সময় পেট খালি থাকায় ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক ও হজমের সমস্যা অবধারিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে এবং পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সবথেকে সহজলভ্য ও কার্যকরী খাবার হলো কলা। আজ ৬ রমজান (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ইফতারের টেবিলে কেন নিয়মিত কলা রাখা জরুরি, তার বিশেষ কিছু কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. দ্রুত শক্তির সঞ্চার

সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে কলার বিকল্প নেই। কলায় থাকা মিনারেল ও ভিটামিন খুব দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শরীরে শক্তির জোগান দেয়।

২. হজম ও পেট পরিষ্কার

একটি মাঝারি মাপের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। যারা রোজায় অ্যাসিডিটিতে ভোগেন, তাদের জন্য কলা অত্যন্ত উপকারি।

৩. হাড় ও হার্টের সুরক্ষা

একটি কলায় প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের ক্ষয় রোধ করে হাড়কে মজবুত রাখতে সহায়তা করে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও রক্তের শর্করা

কলায় ক্যালোরি কম থাকে এবং এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যারা রোজায় ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ইফতারে কলা হতে পারে আদর্শ একটি ফল।

সহজলভ্য এই ফলটি প্রতিদিন ইফতারে রাখলে তা যেমন শরীরের পানিশূন্যতা ও খনিজ লবণের ঘাটতি মেটাবে, তেমনি আপনাকে রাখবে সারাদিন সতেজ ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: হেলথলাইন


ইফতারে প্রশান্তি! মাত্র কয়েক মিনিটে তৈরি করুন তরমুজের বিশেষ শরবত

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৭:১০:২০
ইফতারে প্রশান্তি! মাত্র কয়েক মিনিটে তৈরি করুন তরমুজের বিশেষ শরবত
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে বাজারে তরমুজ প্রায় সারাবছরই মিলছে। ইফতারের টেবিলে ভিন্নতা আর সতেজতা আনতে আপনি অনায়াসেই তৈরি করতে পারেন তরমুজের শরবত। রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তার দেওয়া সহজ এই রেসিপিটি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই ঘরে এটি প্রস্তুত করা সম্ভব।

উপকরণ

তরমুজ (বীচিসহ ২ কাপ), এক চিমটি বিট লবণ, এক চিমটি গোল মরিচ গুঁড়া, ২ চা চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ চিনি (স্বাদমতো), ৫-৬টি পুদিনা পাতা এবং প্রয়োজনমতো বরফ কুচি (আইস কিউব)।

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে তরমুজের খোসা ফেলে দিয়ে গ্রেট করে নিন এবং একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে রস আলাদা করুন। এবার এই রসের সাথে বিট লবণ, সাদা গোল মরিচ গুঁড়া, লেবুর রস, চিনি ও পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিন। স্বাদ আরও বাড়াতে ব্লেন্ডারে হালকা ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। সবশেষে গ্লাসে ঢেলে বরফ কুচি আর উপরে সতেজ পুদিনা পাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

তরমুজে থাকা প্রচুর পরিমাণ পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং লেবু ও পুদিনার মিশ্রণ নিমিষেই ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতারের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি হতে পারে সেরা অনুষঙ্গ।

/আশিক


ইফতারে ছোলার স্বাদ বাড়াতে চান? ট্রাই করুন এই বিশেষ সিক্রেট রেসিপি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:৩২:০১
ইফতারে ছোলার স্বাদ বাড়াতে চান? ট্রাই করুন এই বিশেষ সিক্রেট রেসিপি
ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাসে ইফতারের দস্তরখানে ছোলার উপস্থিতি অনেকটা অপরিহার্য। প্রতিদিনের একই স্বাদের ছোলা ভুনার বদলে সামান্য রান্নার কৌশলে বদল আনলে এটি হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি মুখরোচক। বিশেষ করে আলুর মাখা মাখা ভাব আর মশলার সঠিক সংমিশ্রণ ছোলাকে ইফতারের সেরা পদে পরিণত করে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ৬ রমজানে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মজাদার ছোলা ভুনার একটি সহজ রেসিপি নিচে তুলে ধরা হলো।

উপকরণ

পরিমাণমতো ছোলা (১ কাপ), একটি সিদ্ধ আলু, আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, আদা ও রসুন বাটা (১ চা-চামচ করে), হলুদ, মরিচ, ধনে ও জিরা গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ ও তেল।

প্রস্তুত প্রণালি

রান্নার অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা আগে ছোলা ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর একটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে আদা-রসুন বাটা দিন। রেসিপিটির আসল বিশেষত্ব হলো সিদ্ধ আলু চটকে মশলার সাথে কষিয়ে নেওয়া, যা ঝোলকে করবে ঘন ও মাখা মাখা। সব মশলা দিয়ে পানি যোগ করে কষানোর পর সিদ্ধ ছোলা দিয়ে ১০ মিনিট রান্না করুন। ঝোল কমে এলে নামিয়ে নিন। পরিবেশনের সময় উপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও ভাজা শুকনা মরিচ ছিটিয়ে দিলে এটি দেখতে যেমন চমৎকার হবে, খেতেও হবে অতুলনীয়।

সালাদ আর গরম মুড়ির সাথে এই ঘরোয়া ছোলা ভুনা যেমন পুষ্টিকর, তেমনি দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করতেও সহায়ক। সাধারণ রান্নায় একটু যত্ন যোগ করলেই ইফতারের টেবিল হয়ে ওঠে আনন্দময়।

/আশিক


সেহরি না কি ইফতার? রমজানে চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:২২:৩৪
সেহরি না কি ইফতার? রমজানে চিয়া সিড খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
ছবি : সংগৃহীত

রমজানে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরকে চনমনে রাখতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে চিয়া সিড হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, চিয়া সিড সেহরি এবং ইফতার—উভয় সময়েই খাওয়া যায়, তবে ইফতারে খাওয়াটা অধিকাংশ মানুষের জন্য বেশি কার্যকর। কারণ, ইফতারে এটি খেলে সারাদিনের পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দ্রুত পূরণ হয় এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাওয়ার ক্রেভিং কমিয়ে দেয়।

সেহরিতে চিয়া সিড

সেহরির অন্তত ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, যা রোজা রাখা সহজ করে। এছাড়া যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সেহরিতে এটি খুবই উপকারী। তবে মনে রাখতে হবে, চিয়া সিড কোনো পূর্ণাঙ্গ খাবার নয়। তাই সেহরিতে ডিম, ডাল বা ভাতের মতো সুষম খাবারের পাশাপাশি এটি রাখা উচিত।

ইফতারে চিয়া সিড

ইফতারে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশি। এটি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। লাচ্ছি, টক দই বা ফলের সালাদের সাথে অন্তত আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড মিশিয়ে খেলে ইফতারের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেড়ে যায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা ইফতারে চিয়া সিড খেলে পেট দ্রুত ভরে যায় বলে অন্যান্য ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে আসে। মোট কথা, সুস্থ থাকতে আপনার রমজানের ডায়েট চার্টে এই সুপারফুডটি অনায়াসেই যোগ করতে পারেন।

/আশিক


ইফতারের পর প্রথম টানই হতে পারে শেষ টান! জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:১৫:১৮
ইফতারের পর প্রথম টানই হতে পারে শেষ টান! জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজা রাখার পর এক গ্লাস শরবত বা খেজুর দিয়ে ইফতার না করে যারা প্রথমেই সিগারেটে টান দেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ বিপদ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে যখন পুষ্টি ও অক্সিজেনের তীব্র চাহিদা থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তে সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করলে তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতি করে। বিশেষ করে ইফতারের পরপরই ধূমপান করলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায় এবং রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে, যা সরাসরি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, খালি পেটে নিকোটিন গ্রহণ করলে হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া সিগারেটের কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে অক্সিজেন চলাচলে বাধা দেয়, ফলে শরীরের কোষগুলো প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। এতে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা সাময়িক চেতনা হারানোর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘নিকোটিন রাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়, ইফতারের পর ধূমপান পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও অম্বলের সমস্যা তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রমজান মাস হতে পারে ধূমপান ছাড়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ। ইফতারের পর শরীর যখন নিজেকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে, তখন বিষাক্ত নিকোটিন না দিয়ে পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। এবারের রমজানকে কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতির মাস নয়, বরং একটি সুস্থ ও ধূমপানমুক্ত জীবন শুরুর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: