লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:০৬:৫৯
লিংকডইনে শুধু চাকরি নয়, ক্যারিয়ার গড়তে আরও যা করবেন
ছবি : সংগৃহীত

লিংকডইন প্রোফাইলকে বর্তমান সময়ে আপনার ব্যক্তিত্বের ডিজিটাল প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয়। একটি পরিষ্কার ও হাসিখুশি প্রোফাইল ছবি এবং কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি ব্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে শুরুতেই নিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোফাইলের হেডলাইন অংশটি। সেখানে শুধু বর্তমান পদবি না লিখে আপনি ঠিক কোন কোন বিষয়ে দক্ষ যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং বা পাবলিক স্পিকিং—সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। সামারি বা ‘অ্যাবাউট’ অংশে আপনার অভিজ্ঞতা ও বড় অর্জনগুলোকে একটি ছোট গল্পের মতো করে তুলে ধরলে তা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আপনাকে আলাদা করবে। এছাড়াও প্রোফাইলে আপনার কাজ সম্পর্কিত অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্কিল যোগ করা প্রয়োজন যা অ্যালগরিদমের নজরে আসতে সাহায্য করে।

সঠিক চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য লিংকডইনের অ্যাডভান্সড জব ফিল্টার ও অ্যালার্ট অপশনটি ব্যবহার করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। লোকেশন, বেতন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি আপনার পছন্দের পদের জন্য জব অ্যালার্ট চালু রাখতে পারেন। এতে নতুন কোনো সার্কুলার আসার সাথে সাথেই আপনার কাছে নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। তবে মনে রাখা জরুরি যে সরাসরি আবেদনের চেয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই বেশি থাকে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী সেখানকার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের সাথে আগে থেকেই যুক্ত হওয়া এবং কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় একটি ছোট ও মার্জিত বার্তা পাঠানো একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

লিংকডইনে শুধু যুক্ত থাকলেই হবে না, সেখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকা এবং নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করা প্রয়োজন। অন্যদের পোস্টে গঠনমূলক মন্তব্য করলে লিংকডইনের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইলটি নিয়োগকারীদের ফিডে বেশি প্রদর্শন করবে। এছাড়াও পুরোনো চাকরির তথ্যের খোঁজ রাখা আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে বিগত বছরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ধরন দেখে আপনি বুঝতে পারবেন তারা বছরের কোন সময়ে বা কী ধরণের যোগ্যতায় কর্মী নিয়োগ দেয়। অনেকের নিয়োগের অভিজ্ঞতা পড়ে আপনি ইন্টারভিউ সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাসহ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ‘ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে। তবে আবেদনের সময় আপনার কাজ অনুযায়ী অন্তত চার ধরণের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি তৈরি করে রাখা উচিত যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক সিভিটি আপলোড করা যায়। আবেদনকৃত চাকরিগুলোর একটি স্প্রেডশিট বা তালিকা করে রাখলে আপনি আপনার প্রগতির ওপর নজর রাখতে পারবেন। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে লিংকডইনকে কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং একটি পেশাদার নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আপনার সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার।


সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১১:০১:৪৮
সুস্থ থাকতে পানির পাত্র নির্বাচনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
ছবি : সংগৃহীত

সুস্থ থাকার জন্য কেবল বিশুদ্ধ পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই পানি যে পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেটিও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য স্টিলের বোতল সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। স্টেইনলেস স্টিলের বোতল সাধারণত পানির সাথে কোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না এবং পানির স্বাভাবিক স্বাদ বা গন্ধও পরিবর্তন করে না। এটি টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি এতে চা বা কফির মতো গরম পানীয় রাখা যায় বিধায় অফিস বা ভ্রমণের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ। স্টিলের বোতল সহজে পরিষ্কার করা যায় বলে এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কম থাকে।

অন্যদিকে হালকা ও সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই অ্যালুমিনিয়ামের বোতল ব্যবহার করেন যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে অ্যালুমিনিয়াম বিশেষ করে গরম বা ঠান্ডা তরলের সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়া ঘটাতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে পানি পান করলে এই ধাতুর কণা শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যা তৈরি করার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়ামের বোতল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সংস্কৃতিতে তামা বা মাটির পাত্রে পানি রাখার প্রচলন ছিল এবং বর্তমানে চিকিৎসকরাও তামার বোতলে পানি রাখার কিছু চমৎকার উপকারিতার কথা বলছেন। তামার প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পানিকে প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তবে তামার বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা হলো এতে কেবল সাধারণ পানি রাখা উচিত। লেবু পানি বা অন্য কোনো অ্যাসিডযুক্ত পানীয় তামার সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

পানির বোতল কেনার সময় সেটি অবশ্যই ‘ফুড গ্রেড’ কি না তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ধাতব বোতল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি কারণ দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে বোতলের ভেতরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার স্তর জমে যেতে পারে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন যে প্রতিদিনের ব্যবহারের পর বোতলটি ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া উচিত যাতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। সঠিক পাত্রে পানি পান করা কেবল তৃষ্ণা মেটানো নয় বরং এটি রোগমুক্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ শরীর নিশ্চিত করতে আমাদের সচেতনতাই প্রধান হাতিয়ার।


ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:০৪:৩১
ঠান্ডা না কি বিষাক্ত বাতাস? শীতকালীন কাশির নেপথ্যের কারণ
ছবি : সংগৃহীত

শীতের শুরু থেকেই কমবেশি সবাই খুকখুকে কাশির সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ওষুধ খেয়েও স্বস্তি মেলে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে যে কাশি কেবল ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় না। বর্তমানের ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ এই শুষ্ক কাশির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন পরিবেশের বিষাক্ত ধূলিকণা ও ধোঁয়া সরাসরি নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন তা শ্বাসনালিতে তীব্র জ্বালা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসনালির লিগামেন্ট ও টিস্যুগুলোতে প্রদাহ দেখা দেয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হলো দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক কাশি। এই ধরণের কাশিতে সচরাচর কফ থাকে না, তবে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকে জ্বালাপোড়া করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে ভাইরাসজনিত কাশি অর্থাৎ সর্দি বা ফ্লুর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। ভাইরাসের সংক্রমণে কাশির পাশাপাশি সাধারণত গলাব্যথা, জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শারীরিক ক্লান্তি অনুভূত হয়। এই ধরণের কাশিতে প্রায়ই কফ বা শ্লেষ্মা জমতে দেখা যায়। ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি শুরুতে হালকা থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সংক্রমণ কমে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই তা উপশম হয়। তবে বিপত্তি ঘটে তখন, যখন পরিবেশে দূষণের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত থাকে। কারণ দূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং যতক্ষণ পরিবেশে বিষাক্ত বাতাস থাকবে ততক্ষণ এই কাশি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে পারে।

"বায়ুদূষণের প্রভাবে হওয়া কাশি নিরাময়ে কেবল ওষুধ যথেষ্ট নয়, বরং পরিবেশের সুরক্ষা ও মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব অনেক বেশি।" — বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ

কাশি কত দিন স্থায়ী হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদি আপনার কাশি টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং এর সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে কাশি থাকলে তা নিমোনিয়ার লক্ষণও হতে পারে। ২০২৬ সালের এই বৈরি জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে বাইরে বের হওয়ার সময় নিয়মিত উন্নতমানের মাস্ক ব্যবহার এবং প্রচুর পরিমাণে কুসুম কুসুম গরম পানি পান করা আপনার ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলেই বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।


বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:০০:১৬
বয়স অনুযায়ী কার কতটা প্রোটিন দরকার? সঠিক তথ্য জানুন
ছবি : সংগৃহীত

পুষ্টিবিদদের মতে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন মূলত তাঁর শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণ নিয়মে প্রতি কেজি ওজনের জন্য শূন্য দশমিক আট গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির ওজন যদি সত্তর কেজি হয়, তবে তাঁর জন্য দিনে পঞ্চান্ন থেকে ছাপ্পান্ন গ্রাম প্রোটিনই পর্যাপ্ত। অথচ অনেকে ফিটনেসের দোহাই দিয়ে এর চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। এই বাড়তি প্রোটিন শরীর সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না, ফলে তা কিডনির ছাঁকন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে খাবারের পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের চাহিদা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন কারণ তাদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে। চার থেকে আট বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন বিশ থেকে পঁচিশ গ্রাম এবং নয় থেকে তেরো বছর বয়সীদের জন্য ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। কৈশোরে অর্থাৎ চৌদ্দ থেকে আঠারো বছর বয়সে ছেলেদের জন্য পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন গ্রাম এবং মেয়েদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সময়ে কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের বদলে ডিম, দুধ, ডাল ও মাছের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত যা হাড় ও পেশির গঠনে সঠিক ভূমিকা রাখে।

২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষদের ক্ষেত্রে কাজের ধরণ অনুযায়ী প্রোটিনের চাহিদা নির্ধারিত হয়। সাধারণত পুরুষদের জন্য দিনে গড়ে পঞ্চান্ন থেকে ষাট গ্রাম এবং নারীদের জন্য পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। তবে যারা নিয়মিত ভারি ব্যায়াম বা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চাহিদা কিছুটা বেশি হতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের গঠন ও শিশুর পুষ্টির কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখা আবশ্যক। বয়স ষাট পেরোনোর পর শরীরের পেশি ক্ষয় হতে শুরু করে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরের প্রতি কেজিতে এক থেকে এক দশমিক দুই গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন যাতে তাঁরা শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে কর্মক্ষম থাকতে পারেন।

প্রোটিনের আদর্শ উৎস হিসেবে ডিম, মাছ, মুরগির মাংসের পাশাপাশি উদ্ভিদজাত উৎস যেমন ডাল, ছোলা, সয়াবিন ও বিভিন্ন ধরণের বাদাম অত্যন্ত কার্যকর। আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতনতার যুগে মনে রাখা প্রয়োজন যে 'বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা'—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব বিপাকীয় ক্ষমতা ও চাহিদা ভিন্ন। তাই নিজের বয়স, ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরণ বুঝে পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিত প্রোটিন গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার চাবিকাঠি।


ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১২:৪৬:১৫
ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

আঁচিল (Wart) মূলত ত্বকের একটি ভাইরাসজনিত সমস্যা, যা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) দ্বারা সৃষ্ট। এই ভাইরাস ত্বকের উপরের স্তরে সংক্রমণ ঘটিয়ে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির মাধ্যমে ছোট, শক্ত বা খসখসে গুটি তৈরি করে। সাধারণত হাত-পা, আঙুল, পায়ের তলা, হাঁটু কিংবা মুখমণ্ডলে আঁচিল বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আঁচিল ব্যথাহীন হলেও এটি দৃষ্টিকটু, চুলকানিযুক্ত বা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, আঁচিল সংক্রামক হতে পারে। অর্থাৎ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বা একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে যদি ত্বকে ক্ষত বা কাটা অংশ থাকে।

ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করার প্রবণতা কেন বাড়ছে

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার আগে অনেকেই প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া উপায় বেছে নেন। এর প্রধান কারণ হলো সহজলভ্যতা, কম খরচ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত লোকজ বিশ্বাস। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সব আঁচিলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

আপেল সিডার ভিনেগার: সবচেয়ে জনপ্রিয় কিন্তু বিতর্কিত উপায়

আপেল সিডার ভিনেগারকে আঁচিল দূর করার সবচেয়ে আলোচিত ঘরোয়া উপায় হিসেবে ধরা হয়। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যাসিড আঁচিলের কোষকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত আঁচিল শুকিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে।

তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা হলো, দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত ঘনত্বে ব্যবহার করলে ত্বকের সুস্থ অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বা মুখের মতো সংবেদনশীল স্থানে এটি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।

কলার খোসা: ধীরগতির কিন্তু তুলনামূলক নিরাপদ

কলার খোসার ভেতরের অংশে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান আঁচিলকে ধীরে ধীরে নরম করতে পারে। এটি কোনো অ্যাসিডিক বিক্রিয়া তৈরি না করায় ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি কম। তবে ফল পেতে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার প্রয়োজন, যা অনেকের ধৈর্যের পরীক্ষাও নেয়।

রসুন: অ্যান্টিভাইরাল হলেও ঝুঁকিপূর্ণ

রসুনের অ্যান্টিভাইরাল গুণের কারণে এটি আঁচিলের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুন ভাইরাসের কার্যক্ষমতা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাঁচা রসুন সরাসরি ত্বকে লাগালে রাসায়নিক পোড়া (chemical burn) হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, রসুন ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতা স্থায়ী দাগ বা ক্ষতের কারণ হতে পারে।

অ্যালোভেরা ও ভিটামিন ই: আরাম ও পুনর্গঠনের সহায়ক

অ্যালোভেরা জেল ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এটি আঁচিল পুরোপুরি তুলে ফেলতে না পারলেও চুলকানি, জ্বালা ও ব্যথা কমাতে কার্যকর।

অন্যদিকে ভিটামিন ই ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে আঁচিলের চারপাশের ত্বক সুস্থ থাকে, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

স্যালিসিলিক অ্যাসিড: ঘরোয়া হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত

স্যালিসিলিক অ্যাসিড হলো এমন একটি উপাদান, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে আঁচিল দূর করতে বহুল ব্যবহৃত। এটি আঁচিলের উপরিভাগের মৃত কোষ ধীরে ধীরে তুলে দেয়। অনেক ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধেও এটি থাকে।

ঘরোয়া বিকল্প হিসেবে অ্যাস্পিরিন গুঁড়ো করে ব্যবহার করার প্রচলন থাকলেও চিকিৎসকেরা এটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

আঁচিল কি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে আঁচিল কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এর কারণ হলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে সব আঁচিল এমনভাবে সেরে যায় না।

কখন ঘরোয়া উপায় বাদ দিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পরিস্থিতিতে ঘরোয়া চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—

আঁচিল যদি দ্রুত বড় হয়

ব্যথা, রক্তপাত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়

মুখ, চোখ, যৌনাঙ্গ বা পায়ের তলায় আঁচিল হয়

ডায়াবেটিস বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে

দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কোনো ফল না পেলে

চিকিৎসকদের চূড়ান্ত পরামর্শ

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, আঁচিল দূর করার ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় কখনোই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প নয়। এগুলো সর্বোচ্চ সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মেডিকেল চিকিৎসাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত পথ।


সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১১:৪৫:১৮
সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ সাশ্রয় করার প্রথম এবং প্রধান ধাপ শুরু হয় চুলা জ্বালানোর অনেক আগেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চুলা জ্বালিয়ে রেখে গৃহিণীরা সবজি কাটা বা মসলা বাটার কাজ করেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি অভ্যাস। বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো রান্নার যাবতীয় উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা। সবজি কাটা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় মসলা হাতের কাছে থাকলে রান্নার সময় অনেকটা কমে আসে এবং গ্যাসের অহেতুক অপচয় রোধ হয়। একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে ঠিক কোনটির পর কোনটি রান্না হবে তা আগে থেকেই ঠিক করা যায়, যা চুলার কার্যকর ব্যবহারের সময়কে সংকুচিত করে।

রান্নার সময় আগুনের আঁচ বা ফ্লেম নিয়ন্ত্রণ করা গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। অনেকেই মনে করেন উচ্চ তাপে রান্না করলে কাজ দ্রুত হবে, কিন্তু বাস্তবে উচ্চ তাপ খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট করে এবং আগুনের একটি বড় অংশ পাত্রের চারপাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়। তাই মাঝারি আঁচে রান্না করলে তাপশক্তি পাত্রের নিচে সরাসরি কাজ করে এবং জ্বালানি খরচ অনেকাংশে কমে যায়। এর পাশাপাশি রান্নার পাত্রটি চুলার বার্নারের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। বার্নারের চেয়ে পাত্র ছোট হলে আগুনের শিখা বাইরে চলে যায়, যা সরাসরি জ্বালানি অপচয়ের নামান্তর।

বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কেবল রান্নার গতি বাড়ায় না, বরং গ্যাসের দহন প্রক্রিয়াকেও নির্ভুল রাখে। যদি চুলার আগুন নীল না হয়ে লালচে বা হলুদ রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে বার্নারে ময়লা জমেছে এবং গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সামান্য গরম পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করলে আগুনের তীব্রতা সঠিক থাকে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রান্নার পাত্রটি চুলায় দেওয়ার আগে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া। ভেজা হাঁড়ি বা পাতিল চুলায় রাখলে সেই পানি বাষ্পীভূত করতেই অনেকটা গ্যাস খরচ হয়ে যায়, যা শুকনো পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই এড়ানো সম্ভব।

আধুনিক রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার এবং ঢেকে রাখার পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর। ডাল বা মাংসের মতো সময়সাপেক্ষ খাবারে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে অর্ধেকেরও কম সময়ে রান্না শেষ করা যায়। এছাড়া খোলা পাত্রে রান্না করলে ভেতরের তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়, তাই সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করা উচিত। ঢাকনা ব্যবহারের ফলে পাত্রের ভেতরের আর্দ্রতা ও তাপ অটুট থাকে, যা রান্নার গতিকে ত্বরান্বিত করে। ঐতিহ্যবাহী একটি পদ্ধতি হিসেবে ভারী তলার পাত্রের নিচে তাপ ধরে রাখার জন্য পাথর বসানোর কৌশলটিও অনেকে ব্যবহার করেন, যা অল্প গ্যাসে দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো মাস শেষে আপনার সিলিন্ডার গ্যাসের স্থায়িত্ব অনেক দিন বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: দ্য বেটার ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া


গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১১:৩৭:০৩
গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়
ছবি : সংগৃহীত

পানির ট্যাংককে বাইরের শীতল হাওয়া থেকে বাঁচাতে বাড়িতে পড়ে থাকা প্যাকেজিং বাবল র‍্যাপ দারুণ একটি প্রাকৃতিক হিটার হিসেবে কাজ করতে পারে। বাবল র‍্যাপের ভেতরের ছোট ছোট বাতাসের বুদবুদগুলো ট্যাংককে বাইরের শীতল পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে। অন্তত দুই বা তিন স্তরে ট্যাংকটি শক্ত করে মুড়িয়ে রাখলে রাতের শিশির বা উত্তুরে বাতাস ট্যাংকের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে পৌঁছাতে পারে না। এছাড়া খোলা ছাদে অবস্থিত ট্যাংকগুলোকে একটি টারপলিন, কাঠের শেড কিংবা ছোট টিনের চাল দিয়ে ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামাঞ্চলে অনেক সচেতন মানুষ তাঁদের ট্যাংকগুলোকে পুরনো চটের বস্তা বা মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন, যা রাতের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা থেকে পানিকে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

পানির তাপমাত্রা প্রাকৃতিক উপায়ে বাড়াতে আরও একটি চমৎকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো রঙের ব্যবহার। পানির ট্যাংকটি যদি কালো, গাঢ় নীল বা গাঢ় বাদামি রঙে রাঙানো হয়, তবে তা দ্রুত সূর্যের তাপ শোষণ করতে সাহায্য করে। গাঢ় রং দীর্ঘক্ষণ তাপ ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় সারা দিন প্রখর সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ট্যাংকের পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর জন্য কোনো বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ বা কৃত্রিম সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া ছাদের যে অংশে দিনের সবচেয়ে বেশি সময় রোদ থাকে, ট্যাংকটি সেই নির্দিষ্ট দিকে স্থাপন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সূর্যের এই প্রাকৃতিক উত্তাপ পানির তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয় যা সকালে গোসলের কষ্ট অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

দিনের বেলা শোষিত এই প্রাকৃতিক তাপ যাতে রাতে বেরিয়ে না যায়, তার জন্য সূর্যাস্তের পর ট্যাংকটি পুনরায় কোনো মোটা কাপড় বা পুরনো কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভ্যাসটি গড়ে তোলা জরুরি। এই পদ্ধতিটি যেমন সস্তা তেমনি দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব। শীতের তীব্রতা থেকে মুক্তি পেতে এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করতে এই ছোট ছোট ঘরোয়া কৌশলগুলো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হতে পারে। সামান্য সচেতনতা আর দুই মিনিটের এই পরিশ্রম সারা দিনের জন্য আপনার ব্যবহৃত পানিকে ব্যবহারযোগ্য ও আরামদায়ক উষ্ণতায় ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

সূত্র : নিউজ ১৮


জীবন বদলাতে ১০ মিনিটই যথেষ্ট! সকাল ১০টার আগের বিশেষ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১১:১১:১৮
জীবন বদলাতে ১০ মিনিটই যথেষ্ট! সকাল ১০টার আগের বিশেষ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

সকালের শুরুটা আমাদের সারা দিনের মানসিক অবস্থা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কাজের গতির ওপর এক বিশাল প্রভাব ফেলে। অথচ বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে ঘুম ভাঙার পর অধিকাংশ মানুষই মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অথবা তাড়াহুড়ো করে দিনের কাজ শুরু করেন। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, সকাল 10 টার আগেই নিজের জন্য মাত্র দশটি মিনিট বরাদ্দ রাখলে তা দীর্ঘমেয়াদে জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কৃতজ্ঞতার চর্চা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে ভাবলে শুধু সেই দিনটিই ভালো কাটে না, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে মস্তিষ্কের এক চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি গ্রহণক্ষম অবস্থায় থাকে এবং এই সময়েই আপনি যেভাবে চিন্তা করেন, তা সরাসরি মস্তিষ্কের নিউরোপাথওয়েতে প্রভাব ফেলে। ইতিবাচক চিন্তা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি মস্তিষ্ককে দিনভর একই মানসিক ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে জটিল পরিস্থিতিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়, মানসিক চাপ কমে এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মূলত সকালের এই প্রশান্তি সারা দিনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

এই বৈজ্ঞানিক রূপান্তরের জন্য প্রতিদিন সকাল 10টার আগেই দশ মিনিট সময় নিয়ে চুপচাপ বসে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় লিখে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেগুলোর জন্য আপনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এরপর নিজের ডায়েরিতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য লিখে রাখতে হবে যা আপনি আজ বা ভবিষ্যতে অর্জন করতে চান। এই ছোট চর্চার মাধ্যমে আপনি প্রতিদিন আপনার অবচেতন মনকে ইতিবাচকভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার আচরণ ও জীবনযাত্রায় বড় ধরণের প্রতিফলন ঘটায়। এই প্রক্রিয়াটি আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

বিশ্বের সফলতম উদ্যোক্তা, শিল্পী এবং প্রথিতযশা ক্রীড়াবিদদের দৈনন্দিন রুটিন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তাঁরা প্রায় সবাই দিনের শুরুতে এই মানসিক স্থিরতা ও ফোকাস ধরে রাখার অভ্যাসটি মেনে চলেন। তাঁদের কাছে এই সময়টি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। আজ থেকেই কোনো দেরি না করে একটি খাতা বা নোটবুক নিয়ে বসে আপনার তিনটি কৃতজ্ঞতার কথা এবং একটি লক্ষ্য লিখে ফেলার মাধ্যমে এই অভ্যাসটি শুরু করতে পারেন। বিজ্ঞান এটিই বলছে যে, বড় কোনো পরিবর্তনের জন্য বিশাল কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই, বরং সঠিক সময়ে নেওয়া ছোট ছোট অভ্যাসই জীবনের আমূল পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট।


রোগ প্রতিরোধে ডালিম পাতার যাদুকরী ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:৪৯:৫৪
রোগ প্রতিরোধে ডালিম পাতার যাদুকরী ব্যবহার
ছবি: সংগৃহীত

ডালিম মূলত একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এর পাতা দীর্ঘদিন ধরে লোকজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক গবেষণায় ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ডালিম পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও ট্যানিন মানবদেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাতাগুলো রোগ প্রতিরোধ, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

হজমতন্ত্রে ডালিম পাতার কার্যকারিতা

ডালিম পাতার সবচেয়ে পুরোনো ও পরিচিত ব্যবহার হলো হজমজনিত সমস্যায়। পাতার চা বা ক্বাথ পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি প্রশমিত করতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়। এতে থাকা ট্যানিন অন্ত্রের ভেতরে অতিরিক্ত তরল নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হওয়ায় ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে উপকার পেতে পারেন অনেকেই। একই সঙ্গে এটি গ্যাস, পেটব্যথা ও অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

প্রদাহনাশক গুণ ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ব্যবস্থাপনা

ডালিম পাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রদাহনাশক ক্ষমতা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পাতায় থাকা জৈব সক্রিয় যৌগ শরীরের প্রদাহজনিত রাসায়নিক প্রতিক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। ফলে বাতজনিত ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট পেইন এবং কিছু চর্মরোগে এটি সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে একজিমা বা ত্বকের লালচে প্রদাহে পাতার নির্যাস ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সম্ভাব্য ভূমিকা

ডালিম পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে কোষের ক্ষয় ধীর হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। লোকজ চিকিৎসায় ঠান্ডা, কাশি, গলা ব্যথা ও মৌখিক সংক্রমণে ডালিম পাতার ক্বাথ ব্যবহারের নজির রয়েছে। মুখের ঘা বা মাড়ির সমস্যায় কুলকুচি করলে জীবাণুর বিস্তার কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

অনিদ্রা ও মানসিক চাপ কমাতে ডালিম পাতা

মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় ডালিম পাতার চা স্নায়ুকে প্রশমিত করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। নিয়মিত ও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করলে এটি অনিদ্রা কমাতে এবং ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও আধুনিক ক্লিনিক্যাল গবেষণা এখনও সীমিত, তবু লোকজ অভিজ্ঞতায় এর ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়।

ত্বকের যত্নে ডালিম পাতার ব্যবহার

ত্বক সুস্থ রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডালিম পাতার নির্যাস ত্বকের কোষকে পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ব্রণ, ফুসকুড়ি ও ত্বকের অসমান রঙ কমাতে পাতার পেস্ট বা ধোয়া পানি ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। এতে ত্বক তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও সতেজ থাকতে পারে।

চুল ও মাথার ত্বকে সম্ভাব্য উপকারিতা

চুল পড়া ও দুর্বল চুলের সমস্যায় ডালিম পাতার ব্যবহারও লোকজ চিকিৎসায় দেখা যায়। পাতার নির্যাস মাথার ত্বকে প্রয়োগ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়তে পারে, যা চুলের গোড়া সক্রিয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এটি কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নয়, তবু প্রাকৃতিক চুলের যত্নে এটি সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

হৃদ্‌যন্ত্র ও লিভার স্বাস্থ্যে সম্ভাবনা

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ডালিম পাতার নির্যাস কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

ব্যবহার পদ্ধতি: কীভাবে ডালিম পাতা ব্যবহার করা হয়

ডালিম পাতা সাধারণত তিনভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রথমত, তাজা বা শুকনো পাতা পানিতে ফুটিয়ে চা বা ক্বাথ হিসেবে পান করা হয়। দ্বিতীয়ত, ঘন ক্বাথ মুখের ঘা বা ত্বকের সমস্যায় বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তৃতীয়ত, পাতার নির্যাস বা রস পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা হয়। অনেক সময় কাশির ক্ষেত্রে তুলসী পাতার সঙ্গে ডালিম পাতা মিশিয়ে ব্যব

হার করা হয়।

সতর্কতা ও চিকিৎসা পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডালিম পাতা কখনোই আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প নয়। এটি একটি সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান মাত্র। গুরুতর রোগ, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা বা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে ডালিম পাতা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


প্রতিদিন কমলা খাওয়ার স্বাস্থ্যগত সুফল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:৪০:১৭
প্রতিদিন কমলা খাওয়ার স্বাস্থ্যগত সুফল
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন একটি পুরো কমলা খাওয়ার অভ্যাস মানবদেহের জন্য বহুমাত্রিক উপকার বয়ে আনতে পারে। ভিটামিন, খাদ্যআঁশ (ফাইবার) ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই ফলটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, পরিপাকতন্ত্র ও ত্বকের সুরক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত সুফল পাওয়া যায়।

কমলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপাদান হলো ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের কমলাই দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর প্রায় সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এই ভিটামিন শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ায়, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কমলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ফ্ল্যাভোনয়েড জাতীয় উপাদান বিশেষ করে হেসপেরিডিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সাইট্রাস ফল গ্রহণ করলে ইস্কেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের জন্য কমলা একটি উপকারী ফল। এর উচ্চ ফাইবার ও পানি উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বাড়ায়। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক।

ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতেও কমলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বকের দৃঢ়তা ও তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

যদিও কমলা আয়রনের বড় উৎস নয়, তবে এতে থাকা ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে এটি আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

স্নায়বিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কমলার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। কমলায় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে, যা সাময়িকভাবে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া কমলায় থাকা সাইট্রেট কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি প্রস্রাবের অম্লতা কমিয়ে খনিজ স্ফটিক জমাট বাঁধা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও কমলা একটি আদর্শ ফল। কম ক্যালোরি, বেশি পানি ও ফাইবার থাকার কারণে এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কার্যকর।

সর্বোচ্চ উপকার পেতে কমলার রসের পরিবর্তে পুরো ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ রস তৈরির সময় অধিকাংশ ফাইবার নষ্ট হয়ে যায় এবং রস দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তবে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কমলা খাওয়া উপসর্গ বাড়াতে পারে, তাই পরিমিত গ্রহণই উত্তম।

সূত্রঃ গুগল

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত